Brand logo light

স্বেচ্ছাসেবক দল

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিল্টন
বরিশালে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিল্টনের বিরুদ্ধে ‘অপহরণ নাটক ’সাজিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা

বরিশাল অফিস :    বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের  সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. রিয়াজ মাহমুদ খান মিল্টন অভিযোগ করেছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের একটি ‘বানোয়াট গল্প’ তৈরি করে সংবাদমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত আসন্ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে—এমনটাই দাবি মিল্টনের। তার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন একই সংগঠনের আরেক নেতা তারিক সুলাইমান, যার সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অভিযোগের কাঠামো: ‘অপহরণ’ থেকে ‘সংবাদ’ মিল্টনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি শুরু হয় একটি মামলাকে ঘিরে, যেখানে তার ছেলেকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে থানায় তদ্বির করেছিলেন তারিক সুলাইমান।  গত ৬ এপ্রিল তারিকের ছেলে সুনানের সঙ্গে তার সরাসরি দেখা হয়। মিল্টনের বক্তব্য অনুযায়ী,  সুনান বলে কাকা আপনার ছেলে জড়িত নয়। তবে যা হয়েছে সে বিষয়ে আমার বাবাই ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।। এরপর সুনান চলে যায়। কিন্তু এই কথোপকথনের কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে সুনানের মা এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তাও পৌঁছান। সবাই সুনানের অবস্থান জানতে চাইলে মিল্টন একই উত্তর দেন—সুনান ওই দিকেই চলে গেছে। মিল্টনের দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতেই সুনানের মা ফোন করে নিশ্চিত হন যে, সুনান নিজ বাসায় ফিরে গেছে এবং সে অপহৃত হয়নি। পুলিশের বক্তব্য: অভিযোগ এসেছিল, কিন্তু অপহরণ নয় ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে যাওয়া কাউনিয়া থানার এএসআই কামরুল আহসান বলেন, থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ আসার পর তারা সেখানে যান। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুনানের মায়ের কাছ থেকেই জানতে পারেন, তার ছেলে বাসায় ফিরে গেছে এবং কোনো অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে ওসিকেও একই তথ্য জানানো হয় এবং পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। দুই দিন পর ‘অপহরণ’ সংবাদ! ঘটনার দুই দিন পর কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, মিল্টন নাকি সুনানকে অপহরণ করেছেন এবং পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। এই সংবাদকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন মিল্টন। তার প্রশ্ন—যে ঘটনায় ঘটনাস্থলেই অপহরণ অস্বীকার করা হয়েছে, সেটি কীভাবে পরবর্তীতে ‘অপহরণ’ হিসেবে সংবাদে আসে? ‘১০ মিনিটে সাজানো নাটক?’ মিল্টনের দাবি, পুরো ঘটনাটি ঘটেছে সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের মধ্যে—তার সঙ্গে সুনানের কথা বলা, সুনানের চলে যাওয়া, পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি এবং পুলিশের আগমন—সবই খুব দ্রুত ঘটে। তার ভাষায়, “এটা যদি পূর্ব পরিকল্পিত না হয়, তাহলে এত কম সময়ের মধ্যে এত কিছু কীভাবে সম্ভব?” তিনি আরও জানান, সুনানের সঙ্গে তার কথোপকথনের ভিডিও তার মোবাইলে সংরক্ষিত রয়েছে, যা পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। রিয়াজ খান মিল্টন বলেন,তারিক সুলাইমানের সাথে আমার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমাকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করতে সে এই ঘৃন্য পথ বেছে নিয়েছে। অথচ তার ছেলে সুনানের বিরূদ্ধেই অপহরণের অভিযোগে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দ্বন্দ্ব, তথ্যযুদ্ধ এবং মিডিয়ার ভূমিকা ঘটনাটি কেবল ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং রাজনৈতিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই কতটা তীব্র হতে পারে, তারও ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—যাচাই ছাড়া সংবেদনশীল অভিযোগ কীভাবে সংবাদে প্রকাশ পেল? একদিকে  মিল্টনের বিরুদ্ধে ‘সাজানো নাটক’ অভিযোগ, অন্যদিকে প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের তৎপরতা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি রাখে। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য, প্রমাণ এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক নথি যাচাই ছাড়া এই বিতর্কের চূড়ান্ত সত্য উদঘাটন কঠিন—তবে এটুকু নিশ্চিত, বরিশালের এই ঘটনাটি এখন শুধুই একটি অভিযোগ নয়, বরং রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও তুলে দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি
ময়মনসিংহে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর ভাই। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করছেন অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা। তার দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে হেয় করার জন্য এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। অভিযোগ উঠা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার নাম মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন (৪৭)। তিনি গফরগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শনিবার (৭ মার্চ) রাতে মো. আরিফুজ্জামান খান বাদী হয়ে পাঁচজনের নামে গফরগাঁও থানায় অভিযোগ করেন। এতে আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতকে অভিযুক্ত করা হয়।  অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. আরিফুজ্জামানের ভাই মো. নুরুজ্জামান রানা একজন ব্যবসায়ী। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তার ১৮টি পরচুলার ব্যবসা রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, খারাপ প্রকৃতি মানুষ ও পাশের গ্রামের বাসিন্দা। রানার বসতবাড়ির পাশে নিজস্ব জায়গায় আব্দুর রহমান ইসলামিয়া মাদরাসা এবং পি-বাড়ীয়া গ্রুপ হেয়ার কোট ফ্যাক্টরি রয়েছে। মাদরাসায় অনুমানিক দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। আর পি-বাড়ীয়া গ্রুপ হেয়ার কোট ফ্যাক্টরিতে ২৫০ জনের অধিক কর্মচারী আছে।   আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে মীর মোজাম্মেল হোসেন মননের নেতৃত্বে অন্যান্য অভিযুক্তরা নুরুজ্জামান রানার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরবর্তীতে এ ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ফ্যাক্টরি ও মাদরাসা বন্ধ করে দেবে বলে হুমকি দেয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দু’দিন পর থেকে মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন আবারও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবি করা চাঁদা দিলে আর কোনও ঝামেলা করবে না বলে জানান তিনি। ফের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা রানাকে প্রাণনাশের ভয়ভীতিসহ বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকে। এমতাবস্থায় গত ৬ মার্চ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মাদরাসার ছাত্র ও পি-বাড়ীয়া গ্রুপ হেয়ার কোট ফ্যাক্টরির কর্মীদের নিয়ে মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গণে ইফতারের আয়োজন করা হয়। ইফতার মাহফিল উপলক্ষে ব্যবসায়ী রানা দেড় বছর পর ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে সেখানে যান ও আয়োজনের বিভিন্ন কাজে তদারকি করেন।  ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেন মনন, মীর রাসেল, মীর টুইংকেল, বিটু, সুমনসহ অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জন ৯টি মোটরসাইকেল ও তিনটি অটোরিকশাযোগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদরাসার সামনে আসে। ওই সময় অভিযুক্তরা রানাকে ডেকে নিয়ে তাৎক্ষণাক ১০ লাখ টাকার দাবি করে। বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। আরিফুজ্জামান বলেন, “শনিবার রাতে অভিযোগ করার পর আমাকে কয়েকজন সন্ত্রাসী রাস্তায় দাঁড় করিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেন। বাড়ি না ছাড়লে আমার ও পরিবারের ক্ষতি করবে জানায়।” অভিযোগ অস্বীকার করে মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন বলেন, “রানা ও তার সহযোগীরা ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের দোসর। যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিলো তখন তারা আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করেছিলো। পূর্ব থেকে তার সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলে আসছে। যে কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।” এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, “লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ
কুয়াকাটায় চাঁদার দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ

চাঁদার দাবিতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে দোকানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে ২২ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন তারা।   বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দুপুরে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের ‘তানিসা আচার ঘর’ নামের ওই দোকানের মালিক মনিরুল হাওলাদার মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে কুয়াকাটার হুইসেন পাড়া মহল্লার মাকসুদ আকন, শাহীন মুসল্লী, আবদুর রহিমসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয় জন এ ঘটনায় জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা কুয়াকাটা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।   দোকানের মালিক মনিরুল হাওলাদার বলেন, ‌‘চাঁদার দাবিতে লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে হঠাৎ দোকানে ঢুকে ভাঙচুর চালান স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় দোকানের কর্মচারী হাসানকে পেটানো হয়। একপর্যায়ে মাকসুদ আকন দোকানের ভেতরে ঢুকে গালাগাল করেন। পরে দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে ২২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পালিয়ে যান তারা। এ বিষয়ে জানতে মাকসুদ আকনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।   কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘অভিযুক্তরা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী-সমর্থক। দলে তাদের কোনও পদ-পদবি নেই। ওই দোকানের মালিকানা নিয়ে বিরোধ আছে। তারপরও কারও দোকানে হামলা-ভাঙচুর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখবো। এ ছাড়া দলের নেতাদের জানানো হবে। কোনও অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’   মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
কলাপাড়ায় স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আটক
কলাপাড়ায় ব্যাগভর্তি ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরে নির্বাচনের উত্তপ্ত মুহূর্তে ব্যাগভর্তি বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা থেকে অন্তত ৫০ লাখ টাকাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। আটক ব্যক্তির নাম রেজাউল করিম ওরফে কাজল মৃধা (৪০)। তিনি নিজেকে কলাপাড়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে পরিচয় দিয়েছেন। প্রশাসনিক সূত্র জানায়, তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে গুছানো অবস্থায় বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা পাওয়া গেছে, যার পরিমাণ প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে বিএনপি নেতা বলে উল্লেখ করে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠতে থাকে। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রের এত কাছ থেকে রাতের বেলায় এত বিপুল নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সন্দেহ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে কাজল মৃধার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি নিজেকে কলাপাড়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। যদিও এ ঘটনার সঙ্গে দলীয় কোনো সম্পর্ক নেই বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না। অন্যদিকে আটক কাজল মৃধা দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া টাকা তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বহন করা হচ্ছিল। তবে কী প্রয়োজনে, কোথা থেকে এই টাকা এসেছে এবং কেন ভোটকেন্দ্রের আশপাশে তিনি অবস্থান করছিলেন—এসব প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়টি আমরা জেনেছি। এখনো পর্যন্ত আটক ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। কোস্টগার্ড প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ভোটকেন্দ্রসংলগ্ন এলাকা থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা ভোট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থ ভোট প্রভাবিত করা, ভোটার প্রলুব্ধকরণ কিংবা সংঘাত উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়দের অনেকেই দ্রুত তদন্ত করে টাকার উৎস, উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কারা জড়িত—তা প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনী পরিবেশ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এ ঘটনায় কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের ভূমিকা যেমন প্রশংসা পাচ্ছে, তেমনি প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় অঙ্কের টাকা কীভাবে নজরদারির বাইরে থেকে ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি পৌঁছাল? ঘটনার তদন্ত এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হয়—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো কলাপাড়া।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

অগ্রণী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) আবুল বাশার

অগ্রণী ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে বদলি-নিয়োগ,পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সবুজের সমারোহ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ৯ হাজার হেক্টরে বোরো চাষ, সবুজে ছেয়ে গেছে কৃষি মাঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0