ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার চরফ্যাসনে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), পৌরসভা ও এডিবি অর্থায়নের বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া, কাজ না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা, মডেল মসজিদের সীমানাপ্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। স্থানীয় সূত্র ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পরিচালিত সিটিসিআরপি প্রকল্পের আওতায় চরফ্যাসন পৌরসভায় বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের একটি সড়ক উন্নয়নকাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদারকে চাপ দিয়ে নিজের বাড়ির প্রবেশপথ ও উঠান পাকা করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে।পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া মালতিয়াবাড়ি সড়ক ও স্টেডিয়ামসংলগ্ন সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কাজ অসমাপ্ত রেখেই ব্যক্তিগত কাজে ওই প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এখনো সড়ক দুটি সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকাবাসী।পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামিম হাসান বলেন, “কাজ না করে বিল নেওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপি নেতার বাড়ির যে অংশ পাকা করা হয়েছে, সেটির কোনো টেন্ডার হয়নি। ঠিকাদারকে চাপ প্রয়োগ করে কাজ করানো হয়েছে।” ওই কাজের ঠিকাদার কাজী মান্নান হোসেন বলেন, “স্টেডিয়ামের পেছনের সড়কের কাজের ঠিকাদার ছিলাম আমি। কিন্তু আলমগীর মালতিয়া সড়কের কাজ বন্ধ রেখে জোর করে তাঁর বাড়ির দরজা ও উঠান পাকা করিয়েছেন। এ কারণে আমি এখনো কাজের বিল পাইনি।” এলজিইডির বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আরেকটি কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।সাবেক ইউএনও রাশনা শারমিন মিথি বলেন, “তিনি বিভিন্ন কাজ হাতিয়ে নিয়ে কাজ না করেই বিল তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি কোনো বিলে স্বাক্ষর করিনি। পরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।” এদিকে চরফ্যাসন মডেল মসজিদের সীমানাপ্রাচীরের গ্রিল অপসারণ করে নিজের ভবন নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, এতে মসজিদের প্রাচীর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।আলমগীর মালতিয়ার ছেলে আরাফাত রহমানের বিরুদ্ধেও চরফ্যাসন মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঠিকাদারকে পাশ কাটিয়ে নিজেই প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চরফ্যাসনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে আলমগীর মালতিয়া ও তাঁর অনুসারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। দখল, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে তখন এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে কেন্দ্রীয় বিএনপি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান। কমিটির সদস্যরা চরফ্যাসনে সরেজমিন তদন্ত করে আলমগীর মালতিয়া ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যের অভিযোগের সত্যতা পান বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চরফ্যাসন উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে পদ হারানোর পরও তাঁর তৎপরতা থেমে থাকেনি বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। তাঁদের দাবি, ২০২৫ সালে চরফ্যাসনের বিভিন্ন হাটবাজারের ইজারা নিয়েও আলমগীর মালতিয়া ও তাঁর অনুসারীরা নানা অনিয়ম ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। এসব অভিযোগ নিয়েও পরে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। উপজেলা যুবদল নেতা সায়েম মালতিয়া বলেন, “১৯৯৩ সালের উপনির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়নি।” উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মনজুর হোসেন বলেন, “বিএনপি কোনো নেতাকর্মীর অপকর্মের দায় নেয় না। মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া বর্তমানে উপজেলা বিএনপির কেউ নন। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।” বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমনা আফরোজ বলেন, “আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আব্দুল কাইয়ুম আরজু : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পৌর যুবদলের নবগঠিত ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পৌর এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদকসহ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা “পকেট কমিটি মানি না, মানবো না” স্লোগান দেন এবং বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের দাবি জানান। সমাবেশে বক্তব্য দেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, পৌর যুবদল নেতা হারুন মুসুল্লি, আবুবকরসহ আরও অনেকে। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে গঠিত এই কমিটি দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক নীতিমালার পরিপন্থী। তাদের দাবি, নতুন কমিটিতে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সংগঠনের জন্য বিব্রতকর ও প্রশ্নবিদ্ধ। ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রলীগের পদে থাকা শাকিব নামের একজনসহ বহিষ্কৃত অন্তত তিনজনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, শাকিব পূর্বে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং জেলা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিকে পৌর ছাত্রদলের রানিং আহ্বায়ক জুবায়ের আহমেদ রিয়াজকে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আহমেদ বলেন, সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একাধিক সংগঠনে দায়িত্বে থাকতে পারেন। তবে দল চাইলে যেকোনো একটি পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিতে পারে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ ফারুক মীর। তিনি বলেন, ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেই ৭১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সবাইকে পদ দেওয়া সম্ভব নয়। যারা পদ পাননি, তাদের অনেকেই ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন। উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি কুয়াকাটা পৌর যুবদলের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন। সংগঠনের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। নতুন কমিটিতে সৈয়দ মো. ফারুককে সভাপতি এবং মো. জহিরুল ইসলাম মিরনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলের মাধ্যমে একটি আংশিক (সুপার ফাইভ) কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যা প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, দাবি মানা না হলে তারা কমিটি থেকে পদত্যাগসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। কুয়াকাটা পৌর যুবদলের নতুন কমিটি ঘিরে সৃষ্ট এই বিতর্ক এখন স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তৃণমূলের ক্ষোভ এবং নেতৃত্বের অবস্থানের মধ্যে তৈরি এই দূরত্ব কত দ্রুত কমে—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল নগরীতে আবারও আলোচনায় আয়নাঘরের জনক,গুম-খুনের মাস্টারমাইন্ড বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের ব্যবসায়িক পার্টনার রুপাতলী হাউজিং এলাকার এমদাদুল হক সুরুজ মোল্লা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে আটক হওয়ার পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তির পরপরই বরিশাল মেরিন একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৫ একর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এমদাদুল হক সুরুজ মোল্লা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা এবং তিনি দলটির বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থদাতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা, বিশেষ করে কারাগারে থাকা নেতাদের জামিন প্রক্রিয়ায় অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথাও স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— সরকারি জমি দখল, জমি কেনাবেচায় দালালি, একই জমি একাধিকবার বিক্রি, বায়না দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রি করে পরে বুঝিয়ে না দেওয়া। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগে তার সক্রিয়তার পাশাপাশি নির্বাচনী অংশগ্রহণের ইতিহাসও রয়েছে। চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদ উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। তবে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকারি জমি দখল, জমি কেনাবেচায় দালালি, বায়না দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রি করে পরবর্তীতে বুঝিয়ে না দেওয়া—এমন একাধিক অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে। জুয়ার আসরের অভিযোগ এছাড়া বিপুল অর্থ ব্যয়ে রুপাতলী হাউজিং এলাকায় জমি কিনে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। তার সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো, তার বাসায় নিয়মিত জুয়ার আসর বসে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যার ফলে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। কে এই সুরুজ মোল্লা: পুরো নাম মোঃ এমদাদুল হক সুরুজ মোল্লা।সুরুজ মোল্লা নামে পরিচিত। কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড ও কনফিডেন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করীমের বিরুদ্ধে বরিশালে মামলা করে আলোচনায় আসেন এই সুরুজ মোল্লা। জিয়াউল আহসানের থেকে টাকা নিয়ে জমি,বালুর ব্যবসা করে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। জিয়াউল আহসানের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমি দখল,একই জমি একাধিকবার বিক্রিসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন সুরুজ মোল্লা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ বরিশালের মেরিন একাডেমী এলাকায় সুরুজ গংএর থেকে ১৩ শতাংশ জমি দলিলমুলে ক্রয় করলেও পরে সুরুজ মোল্লা দলিল গ্রহিতা বাকেরগঞ্জের মিজানুর রহমান মল্লিক ও বানারীপাড়ার জালিস মাহমুদের ৮ শতাংশ জমি দখল করে।টাকাও ফেরৎ পায়নি, এমনকি জমিও ফেরৎ পায়নি তারা সুরুজ মোল্লার কাছে থেকে।এ নিয়ে মিজানুর রহমান মল্লিক ও জালিস মাহমুদ সাংবাদিক সম্মেলনও করেছিল। প্রভাব ও সম্পর্কের অভিযোগ জমি বা টাকা ফেরৎ চাইলে সুরুজ মোল্লা তাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে। অবৈধ টাকা ও জিয়াউল আহসানের ক্ষমতার প্রভাবে সুরুজ মোল্লা বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের উপ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোটর সসাইকেল প্রতীতে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। সুরুজ মোল্লা আ’লীগের সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক গ্রুপের লোক ছিল।বসবাস করেন বরিশাল নগরীর রুপাতলী হাউজিং এলাকায়। পারিবারিক অভিযোগও রয়েছে সুরুজ মোল্লার বিরুদ্ধে তার আপন ফুফুদের জমি আত্মসাৎ,কর্নকাঠি,চরকাউয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অসহায়,নিরীহ মানুষের জমি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ ও দখলের অভিযোগ রয়েছে। রুপাতলী হাউজিং এলাকার বাসিন্দা আকরাম জানান,সুরুজ মোল্লা একজন চিন্থিত ভুসিদস্যু।তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই।পাশাপাশি আয়নাঘরের মাস্টারমাইন্ড জিয়াউল আহসানের সঙ্গে ব্যবসায় জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া গেছে। প্রশাসনের অবস্থান এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি, যাতে সত্যতা উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। উল্লেখ্য, আয়নাঘরের জনক,গুম-খুনের মাস্টারমাইন্ড বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের ব্যবসায়িক পার্টনার মোঃ এমদাদুল হক সুরুজ মোল্লাকে ঢাকার পুলিশ বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার সহযোগীতায় ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর আটক করে ।
ঝালকাঠি: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। তবে এরই মধ্যে এলাকায় শুরু হয়েছে আগাম নির্বাচনী আলোচনা, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। স্থানীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে সাবেক বিএনপি নেতা ও দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি সৈয়দ আবদুল কাইউমের নাম। তিনি শৌলজালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৩ সাল থেকে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে টানা চারবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাইউম দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয়। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত হন। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ব্যক্তিগত স্বার্থের বাইরে গিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন। মানুষের সুখ-দুঃখে অংশ নেওয়াকে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা হয়। আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সৈয়দ আবদুল কাইউম। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান। তিনি বলেন, “আমি শুধু আমার ওয়ার্ড নয়, পুরো শৌলজালিয়া ইউনিয়নের মানুষের সেবা করে আসছি দীর্ঘদিন। ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল ভাইয়ের সমর্থন পেলে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করব, ইনশাআল্লাহ।” এদিকে সম্ভাব্য এই প্রার্থিতাকে ঘিরে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ তার প্রতি সমর্থন ও শুভকামনা জানাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
মো. আমিনুল ইসলাম,ইত্তেহাদ নিউজ: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক বিএনপি নেতা আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার হেতালবুনিয়া গ্রামে মো. শাহজাহান মাষ্টারের সঙ্গে মো. সিদ্দিক উকিল ও ফুল মিয়া উকিলের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিরোধীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিল প্রতিপক্ষ। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। সর্বশেষ ২১ এপ্রিল চূড়ান্ত মীমাংসার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তার আগেই নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল সকালে শাহজাহান মাষ্টার নিজ বাগান থেকে কলা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন। তাকে রক্ষা করতে গেলে কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মৃধা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা আসাদুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। শালিশের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বারবার সহিংসতা ঘটানো হচ্ছে।” কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে এবং শালিশ প্রক্রিয়া চলমান। এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাসের রায়হান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. আমিনুল ইসলাম, কাঁঠালিয়া : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় এক প্রবাসীর জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত নেতা অভিযোগটি ‘অপপ্রচার’ বলে অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে প্রবাসী রিয়াজ তালুকদারের স্ত্রী হনুফা বেগম প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বিষয়টি সামনে আনেন। অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ তালুকদার বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তিনি আড়াই একর জমি ক্রয় করে এর একটি অংশে পাকা ভবন নির্মাণ করেন। অবশিষ্ট জমি ফাঁকা থাকায় একই এলাকার জাকির ও ছগির হোসেন পাশের জমি কেনার পর একটি দাগ থেকে দখলের চেষ্টা চালান। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে হনুফা বেগম ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে বিরোধপূর্ণ জমিতে নিষেধাজ্ঞার নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে বর্তমান অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করে জাকির ও ছগির দলবল নিয়ে সেখানে কাজ করতে যান। প্রবাসে অবস্থান করায় রিয়াজ তালুকদারের অনুপস্থিতির সুযোগে তাদের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদ জমি দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। বাধা দিলে হনুফা বেগমকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মামুনুর রশীদ বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাসের রায়হান জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জমিতে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন বা চাঁদাবাজির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঝালকাঠি : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ৫ নম্বর বড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মোঃ আবুল বাশারকে ঘিরে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে সমর্থন ও দোয়া প্রত্যাশী তিনি। ইতোমধ্যে তিনি প্রার্থীতা জানান দিয়ে ইউনিয়নের সকল শ্রেনী-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করছেন। আবুল বাশার রাজাপুর উপজেলার ৫ নং বড়ইয়া ইউনিয়ন বাসির সকলের কাছে সমর্থন ও দোয়া প্রার্থনা করছেন। একটি সুখী- সুন্দর দেশ ও সমাজ বিনির্মানে সর্বপ্রথম ইউনিয়ন পর্যায়ে উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন আবুল বাশার। সেজন্য তিনি ইউনিয়নের সকল লোকদের পাশে থাকার জন্য ও অবহেলিত ৫ নং বড়ইয়া ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রার্থী হবেন বলে জানান। বড়ইয়া ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি চেয়ারম্যান পদে সমর্থন দেওয়ার আহবান জানান। সমাজের উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে ও সুখে দুঃখে মানুষের পাশে দাঁড়াতেই আসন্ন ৫ নং বড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন মোঃ আবুল বাশার। তিনি আধুনিক ইউনিয়ন গড়তে চান বলে জানান। এদিকে ইউনিয়নের প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে ধর্ম, বর্ণ, দল, মত নির্বিশেষে সর্ব মহলে জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত লাভ করেছেন। রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকরা তার পাশে থাকবেন বলে প্রত্যাশা আবুল বাশারের। ইতিমধ্যে আড্ডা ও চায়ের কাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বচনের আলোচনার ঝড় উঠেছে। যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে ঘাটে চায়ের আড্ডায় আলোচনায় রয়েছেন এবং মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেন আবুল বাশার। তিনি বলেন, আমার কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবীর প্রয়োজন নেই। আমি ইউনিয়নের মানুষের সাথে থাকতে চাই। তাদের সুখে দুঃখে সব সময় পাশে থাকতে চাই। আমার যতটুকু সামর্থ্য আছে তা দিয়ে সকলের উপকার করতে চাই। আমাদের বড়ইয়া ইউনিয়নের মা, মাটি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সবকিছু পেছনে ফেলে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বিশিষ্ঠ সমাজ সেবক,শিক্ষানুরাগী,ব্যবসায়ী,মেধাবী পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি মোঃ আবুল বাশার তৃণমুলেও পছন্দের শীর্ষে রয়েছে তিনি। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতার ইচ্ছে প্রকাশ করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপি পরিবারের সন্তান হিসেবে বড়ইয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়ন,শিক্ষা প্রতিষ্ঠা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক খেলাধুলা ও সমাজ সেবামূলক কর্মকান্ডে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। বড়ইয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ ও মেধাবী নেতৃত্ব হিসেবে তাঁর একটা নিজস্ব ব্যক্তি ইমেজ রয়েছে। ইউনিয়নের সাধারন মানুষ মোঃ আবুল বাশারকে বড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এ দিকে বড়ইয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেছেন বড়ইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বাহাউদ্দীন বাচ্চু। তিনি জানান, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মধ্য দিয়ে তিনি সবসময় এলাকার উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন,জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, এলাকা থেকে অন্যায়-অনিয়ম মুক্ত ও ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে আশা করছি। এছাড়াও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আতিকুল ইসলাম আতিকের নামও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আবুল বাশার ও বাহাউদ্দীন বাচ্চু। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বড়ইয়া ইউনিয়নের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। ৫নং বড়ইয়া ইউনিয়ন পরিচিতি: বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক এলাকা ।প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত এই ইউনিয়নটি রাজাপুর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ।কালের স্বাক্ষী বহনকারী বিশখালিও জাংগালিয়া নদির তীরে গড়ে উঠা বড়ইয়া ইউনিয়ন শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, খেলাধুলা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার নিজস্ব স্বকীয়তা আজও সমুজ্জ্বল। ইউনিয়নের সাধারণ তথ্য বিভাগ: বরিশাল । জেলা: ঝালকাঠি । উপজেলা: রাজাপুর । ইউনিয়ন কোড: ১০ ৪২ ৮৪ ১৩ । মোট আয়তন: ১৪.৭০ (বর্গ কিঃ মিঃ)। নাম – ৫নং বড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদ। লোকসংখ্যা – ২৫,২৫২ জন (প্রায়) গ্রামের সংখ্যা – ১৪ টি। মৌজার সংখ্যা – ৫ টি। হাট/বাজার সংখ্যা -২ টি। শিক্ষার হার – ৪৯%। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়- ৮টি, বে-সরকারী রেজিঃ প্রাঃ বিদ্যালয়- ৩টি, উচ্চ বিদ্যালয়ঃ ৭টি, মাদ্রাসা- ৭টি। কলেজ-২টি। ইউনিয়ন পরিষদ জনবল – ইউনিয়ন পরিষদ সচিব – ১ জন। ইউনিয়ন গ্রাম পুলিশ – ১২ জন।
বরিশাল সদরের চন্দ্রমোহন বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির স্থায়ী কার্যালয় দখল করে সেখানে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র ও বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাজারের খাস জমিতে নির্মিত ওই কার্যালয়ে বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সেখানে দলীয় সাইনবোর্ডও টানানো হয়েছে। জানা গেছে, ২০০৬ সালে বাজারের খাস জমির ওপর পাকা ভবন নির্মাণ করে চন্দ্রমোহন বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করা হয়। বাজারের প্রায় দেড়শ ব্যবসায়ী এই কমিটির সদস্য এবং বাজার পরিচালনা ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এ সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভবনটি দখলে নিয়ে সেখানে বিএনপির কার্যক্রম চালানো শুরু হয়। সম্প্রতি ভবনের সামনে চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন বিএনপির সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। এ ঘটনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী ফিরোজ আলম—এমন অভিযোগও উঠেছে। চন্দ্রমোহন বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তারিন ঢালী বলেন, প্রায় এক বছর আগে গঠিত কমিটিতে তিনি সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। তবে তার আগ থেকেই কার্যালয়টি ব্যবহার করা হচ্ছিল না। তিনি বলেন, “বিএনপি নেতারা চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে ভবনটি ব্যবহার করছেন কিনা, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।” এদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই বলেন, “বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অফিসটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। সভাপতি ফিরোজ আলম সংস্কার করে সেখানে তাঁর লোকজন নিয়ে বসেন। তবে আমি এ কাজটি পছন্দ করিনি, তাই সেখানে যাই না।” অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাজী ফিরোজ আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হাওলাদার বলেন, “খাস জমিতে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি পাকা ভবন কার্যালয় রয়েছে। তবে বহু বছর ধরে সেটি ব্যবহার করা হয় না। আমি সাধারণত একটি ফার্মেসিতে বসে সভা করি। সেখানে বিএনপির সাইনবোর্ড আছে কিনা, সেটি আমার জানা নেই।”vএ ঘটনার পর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার সবজি ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস (৪৫) হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১১টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা কার্যালয় থেকে উপজেলা আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রশাসন মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মৌলভী মাহবুবুল আলম, সদস্য সচিব মাওলানা মনিরুল ইসলামসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সভায় বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের জেরে একজন নিরীহ মানুষকে মারধর করে হত্যা করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। নিহত ইদ্রিসকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মী দাবি করে উপজেলা আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নিহত ইদ্রিস ঈদের সময় ছেলে-মেয়ে ও পরিবার নিয়ে বাড়িতে আসার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ফিরেছেন লাশ হয়ে। ভালো ও সৎ মানুষ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত না হওয়ায় সমাজে গুম, খুন ও সহিংসতা বেড়েছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষ জনপ্রতিনিধিদের হাতেই নিরাপদ নয়।” এদিকে ইদ্রিসের মৃত্যুর ঘটনায় নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে ইদ্রিস খান ফেসবুকে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পোস্ট ও মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পাখিমারা বাজার থেকে তাকে স্থানীয় যুবদল কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে পানির জগ ছুড়ে মারা হয় এবং পরে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরে সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। মঙ্গলবার সকালে নিহতের স্বজনরা মরদেহ কলাপাড়া থানায় নিয়ে আসেন। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। পরে তার মরদেহ নিজ গ্রাম দক্ষিণ দৌলতপুরের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বজন আবু বকর খান বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জহিরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে আরও ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫–৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় চিকিৎসাসেবায় জড়িত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন মুফতি আমির হামজা। তিনি বলেন, “সবাই ওপরের জনকে দোষ দেয়। ওপরওয়ালা কুষ্টিয়ায় কেউ নেই, ওপরওয়ালা এখন আমি। কেউ যদি দুই নম্বর কিছু করতে চায়, তাহলে আমার কথা বলবেন। এত ক্ষমতা নিয়ে কে চলে কুষ্টিয়ায়, আমি তা দেখব।” বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মুফতি আমির হামজা বলেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা তাদের আবেগ ও অগ্রাধিকার। তিনি জানান, বর্তমানে কয়েকটি বিভাগ চালু থাকলেও পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচির ভেতরে প্রত্যেকটি সরকারি অফিস-আদালতকে জনবান্ধব করার চেষ্টা করব। বিশেষ করে মানুষ ডিসি, এসপি, ইউএনও অফিস ও থানায় যেতে ভয় পান। সিভিল সার্জন, এলজিইডির মতো অফিসগুলোতেও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করতে চাই।” দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসা খাতে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সভায় হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, জনবল সংকট নিরসন এবং চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।