Brand logo light

সৌদি আরব

সৌদি আরবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান,নিহত- ৪০

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :  মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সৌদি আরব ও লেবাননকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক ঘটনাবলীতে। সৌদি আরবের আকাশসীমায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুপুরের দিকে আকাশে চারটি অজ্ঞাত উড়োজাহাজ, কয়েকটি ড্রোন এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। একজন মুখপাত্র জানান, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সবগুলো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে একই সময়ে লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় জল, স্থল ও আকাশপথে সমন্বিত হামলায় ৪০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে স্থলবাহিনী অভিযান চালিয়ে হিজবুল্লাহর কয়েকটি সেল ধ্বংস করেছে। এছাড়া নৌবাহিনীও একটি অস্ত্র গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ, ইরানের ড্রোন হামলার দাবি ঘিরে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলার পেছনে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্টতার দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৩টি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে। বিশেষ করে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিক ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত, সেখানকার শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থাও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের সদর দপ্তরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে আসছে ইরান। তাদের মতে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এসব দাবি বারবারই অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, ইরানের এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অতিরঞ্জিত। এদিকে সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ও জল্পনা-কল্পনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলার খবর সত্য হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
কুয়েত বিমানবন্দরে আগুন জ্বলছে
কুয়েতে ড্রোন হামলা, উপসাগরে উত্তেজনা তুঙ্গে—যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনায়। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংকে ইরানের ছোড়া দুটি ড্রোন আঘাত হানার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত (বুধবার দিবাগত রাত) আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষের নিরলস প্রচেষ্টা চলছিল। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও যদি একটি বা দুটি ড্রোনও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে অত্যন্ত মারাত্মক। এই ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে। এদিকে, ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের কোনো অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে তার জবাব হবে “ধ্বংসাত্মক”। তার ভাষায়, “চোখের বদলে চোখ নয়, চোখের বদলে মাথা নেওয়া হবে এবং শত্রুদের পারস্য উপসাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হবে।” বর্তমানে ইরানের নীতি-নির্ধারণী পরিষদের সদস্য রেজায়ি মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে তার ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি আরও জানান, ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সংঘাত চলতে পারে। রেজায়ি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে শিগগিরই বড় ধরনের মতবিরোধ দেখা দিতে পারে। তার মতে, সামরিক পরিকল্পনায় ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্র বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইনের মুহাররাক এলাকায় একটি স্থাপনায় আগুন লাগলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, যা সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লক্ষ্য করে ছোড়া ১০টির বেশি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলো এই অঞ্চলে অবস্থিত। সামগ্রিকভাবে, এই ধারাবাহিক হামলা ও পাল্টা হুমকির ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে এবং সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর শুক্রবার
সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর শুক্রবার

সৌদি আরবে  বুধবার ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এর ফলে বৃহস্পতিবার রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। আগামী শুক্রবার সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে। এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলমানরা ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করেন। এটি সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত সৌদি আরবের এক দিন পর বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করা হয়। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৯ বা ৩০ দিনে মাস হয়ে থাকে। ২৯ রমজান শেষে যদি চাঁদ দেখা যায়, তাহলে পরদিন ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়। আর চাঁদ দেখা না গেলে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয় ৩০ রমজান শেষে। গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, তুরস্ক ও সিঙ্গাপুর চাঁদ দেখা নয়, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের আলোকে ইসলামি মাস নির্ধারণ করে। তার ভিত্তিতে এই দুই দেশ পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে। তুরস্ক শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করবে। আর সিঙ্গাপুরে ঈদ উদ্‌যাপন করা হবে শনিবার। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে উন্মুক্ত স্থানে ঈদুল ফিতরের জামাত হচ্ছে না। নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই দুই দেশে এবার শুধু মসজিদেই ঈদের নামাজ আদায় করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
সৌদি
সৌদিতে ইরানের মিসাইল হামলায় বাংলাদেশিসহ দুজন নিহত

সৌদি আরবে ইরানের ছোড়া মিসাইলের আঘাতে এক বাংলাদেশি ও এক ভারতীয়সহ দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। আহতদের সবাই বাংলাদেশি। রোববার বার্তাসংস্থা রয়টার্স দেশটির সিভিল ডিফেন্সের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, সৌদির আল-কারজ শহরে রোববার এ হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি আবাসিক এলাকায় মিসাইল আছড়ে পড়ে। জানা গেছে, মিসাইলটি আঘাত হেনেছে একটি মেইনটেনেন্স এবং ক্লিনিং কোম্পানির ভবনে। সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে বলেছে, নিহত দুজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, অপরজন ভারতীয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সূত্র: রয়টার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
ইরানে এক রাতে ২৩০টি বোমা-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র,লেবাননে নিহত ১২:তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। একই সময়ে লেবাননেও ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা শনিবার (৭ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে ইসরাইলের ৮০টির বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং তারা মোট ২৩০টি বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণ রাতভর ইরানের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে রাজধানী তেহরানে একাধিক বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে— ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি সামরিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অবকাঠামোর একটি গুদাম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎপাদনের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা তবে এসব স্থাপনার সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলি বাহিনী বিস্তারিত কিছু জানায়নি। লেবাননে হামলায় নিহত ১২ এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকার নাবি শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন। এই হামলার ফলে ওই এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। গত এক সপ্তাহ ধরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবানন এবং রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে বড় ধরনের উচ্ছেদ আদেশ জারি করায় হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে এ পর্যন্ত ২০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৯৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, অব্যাহত বোমাবর্ষণ এবং ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুত মানুষের কারণে লেবাননের মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে। সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত অন্যদিকে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তবে সেগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই ধ্বংস করা হয়। এর আগে শনিবারই সৌদি বাহিনী দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন এবং একই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করে। তবে এসব হামলার জন্য কে দায়ী— সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পাকিস্তানের সামনে নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। অন্যদিকে সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার ঘটলে ইসলামাবাদের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান কোন অবস্থান নেবে— তা নিয়ে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

* হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিতে: ইরান সংঘাতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা সাজানো ভূ-রাজনীতি আজ এক গভীর খাদের কিনারায়। ইরানের নজিরবিহীন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও এমন এক যুদ্ধের ভেতরে টেনে এনেছে, যা তারা যেকোনও মূল্যে এড়াতে চেয়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এখন সরাসরি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে যুদ্ধে জড়ানোর মুখে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান ছাড়াই ইরানবিরোধী একটি আরব-ইসরায়েল অক্ষ তৈরি করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই কাঙ্ক্ষিত জোট যখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, তখনই পুরো অঞ্চল এক ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসির এক বিশ্লেষণে এমন পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে। গত তিন বছরে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে আপস ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সংঘাত তা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। অথচ একসময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেই ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালে সৌদি তেল শোধনাগারে ইরানের নিখুঁত হামলা এবং পরবর্তীতে আবুধাবিতে ড্রোন হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলো রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। তারা বুঝতে পারে, বিপদের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় যথেষ্ট নয়। ফলে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি-ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়, যা ছায়া যুদ্ধের উত্তাপ কমিয়েছিল।   কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানে ক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক হামলার ছক কষেছে, তখন ইরানও পিছু হটার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ওমানি মধ্যস্থতাকারীরা যখন দেখলেন ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনার কোনও সদিচ্ছাই দেখাচ্ছে না, তখন যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে। উপসাগরীয় দেশগুলো আশা করেছিল যুদ্ধ সংক্ষিপ্ত হবে এবং ইরানের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর কোনও বাস্তববাদী স্বৈরশাসক আসবে। কিন্তু তেহরান সেই চিত্রনাট্য প্রত্যাখ্যান করে সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি প্রতিবেশীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।   মিডিয়াতে ইরানের হামলাকে ‘বিচ্ছিন্ন সহিংসতা’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি গভীর সুচিন্তিত কৌশল। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনকে মূল লক্ষ্য বানালেও কাতার, ওমান এমনকি সৌদি আরবও ইরানের হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রাণকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ইরান তাদের জনগণকে এই বার্তা দিচ্ছে যে তারা কতটা অরক্ষিত। স্থানীয় শপিং মল বা জনসমাগমস্থলে রাষ্ট্রপ্রধানদের সশরীরে উপস্থিতি প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষের মনে কতটা আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ইরানের এই রণকৌশলের মূল লক্ষ্য বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্রুত আঘাত হেনে যুদ্ধবিরতির চাপ তৈরি করা। কোনও বিশেষ প্রচেষ্টা ছাড়াই কেবল হুমকির মুখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গেছে। প্রত্যক্ষ হামলা ছাড়াই সৌদি তেল শোধনাগার এবং কাতারের এলএনজি উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। আকাশছোঁয়া জ্বালানি তেলের দামের মুখে যুক্তরাষ্ট্রও আজ দিশেহারা। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, শাহেদ ড্রোন ও সস্তা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরান পশ্চিমের ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। প্রাথমিক সফলতায় ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র উল্লাস করলেও ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে গেলে আসল বিপর্যয় শুরু হবে।   উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হলো ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর তাদের অগাধ বিশ্বাসের প্রতিফলন না ঘটা। এই দেশগুলো ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক আগ্রহ এবং স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রতি মুগ্ধ ছিল। কিন্তু এখন তারা বুঝতে পারছে, তাদের টিকে থাকার জন্য জরুরি এমন এক যুদ্ধ শুরু করার আগে ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে কোনও কার্যকর পরামর্শই করেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার যে মার্কিন-ইসরায়েলি পরিকল্পনা, তার ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া থেকে এই আরব দেশগুলো মুক্ত থাকতে পারবে না। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন তাদের জন্য নিরাপত্তার বদলে উল্টো বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দুবাই বা রিয়াদের মতো আধুনিক শহরগুলোর বাসিন্দারা ভাবতেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা কেবল সিরিয়া, সুদান বা ইয়েমেনিদের জন্য, তাদের জন্য নয়। কিন্তু ইরান সেই বিভ্রম ভেঙে দিয়েছে। ইরান যদি এই যুদ্ধে টিকে যায়, তবে তারা এই জবরদস্তিমূলক শক্তির কথা মনে রাখবে। আর যদি ইরানের পতন ঘটে, তবে শরণার্থী স্রোত, উগ্রবাদ আর অস্থিতিশীলতায় পুরো উপসাগর অস্থির থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের এই আক্রমণ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে। আস্তিত্বের সংকটে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এক কাতারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ আরব দেশগুলোকে আতঙ্কিত করছে। তারা ভাবছে, আজ ইরান হলে কাল হয়তো তাদেরই পালা। আর এই গভীর নিরাপত্তাহীনতাই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের সাজানো সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে হামলা
সৌদি আরবে হামলা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ-এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।  রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলে জানা গেছে। পাল্টা হামলায় নতুন করে উত্তেজনা এদিকে ইসরায়েল-এ হামলার জবাবে এবার বাহরাইন, কুয়েত এবং আবুধাবি-তে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এজেন্সি ফ্রান্স প্রেস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর যৌথ হামলার জবাব দিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। এরইমধ্যে বাহরাইন, কুয়েত ও আবুধাবিতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বাহরাইন নিশ্চিত করেছে, দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দফতর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। খামেনিকে লক্ষ্য করে হামলা এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর অফিস লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর সূত্রে জানা গেছে, খামেনি ইতোমধ্যেই তেহরান ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তার বর্তমান অবস্থান সরকারিভাবে গোপন রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা গেছে। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা করলেও কোনো সমাধানের পথ খুঁজে পায়নি। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এ মুহূর্তে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এ উত্তেজনা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল; নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা হালনাগাদ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0