ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের গণপূর্ত অধিদপ্তরকে ঘিরে আবারও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং তারা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শহীদুল আলম। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার, নিয়োগ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনার ধারাবিবরণী একটি জটিল চিত্র তুলে ধরছে। বিতর্কিত বদলি ও জনরোষ ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. শহীদুল আলমকে প্রেষণ থেকে ফিরিয়ে এনে স্বাস্থ্য উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগকে ঘিরে সমালোচনা তৈরি হয়, কারণ এর আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে জনসমক্ষে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ১৮ নভেম্বর রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একদল শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেন। তাদের অভিযোগ, জুলাই মাসের সহিংস ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে—যদিও এই অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সমালোচকদের দাবি, তাকে সাময়িকভাবে একটি প্রকল্পে সরিয়ে রাখা হলেও পরে আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ২০২৩ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডের ১৬৯টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের কিছু নথি নিখোঁজ হয় এবং পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেন হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা চলছে। ই-জিপি টেন্ডার ও ওটিএম অনিয়ম ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালের বিভিন্ন দরপত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে ‘ওটিএম’ (ওপেন টেন্ডার মেথড) ব্যবহার করা হয়েছে। শহীদুল আলমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শেরে বাংলা নগর-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান (বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতা) এবং শহীদুল আলম মিলে রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে ওটিএম-এর (OTM) মহোৎসব চালিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী ওটিএম ২০% হওয়ার কথা থাকলেও তারা শতভাগ ওটিএম করেছেন। নিচে উল্লেখিত ইজিপি দরপত্র আইডিগুলো এই দুর্নীতির সাক্ষ্য দেয়: ৯২২৪৪৩, ৯২২৪৩৪, ৯৯৯৪৩৯, ৯২২৪৪০, ৯২২৪১৮, ৯২২৪৩০, ৯২৫১০৬, ৯২২৪৪১, ৯২২৪৩১, ৯২২৪৩৭, ৯২২৪৩৮, ৯২২৪৩৬, ৯২২৪৪৭, ৯২৫১০৯, ৯২২৪৩২, ৯২২৪২৯, ৯২২৪২৩, ৯২২৪২৪, ৯২২৪২৫, ৯২২৪২৬, ৯২২৪২৭, ৯২২৪২৮, ৯২২৪১৯, ৯২২৪২০, ৯২২৪২১, ৯২২৪২২, ৯২২৪১৭, ৯২২৪১৪, ৯২২৪১৫, ৯২২৪১৬, ৯২২৪১০, ৯২২৪১২, ৯২২৪১৩, ৯২২৪০৭, ৯২২৪০৮, ৯২২৩৯৯, ৯১৭৯৪৫, ৯১৭৯৩০, ৯১৭৯৮১, ৯১৭৯৪৭, ৯১৭৩২৪, ৯১৭৯৩১, ৯১৭৯৩৫, ৯১৭৯৩৯, ৯২০০৪৫, ৯১৭৯৪৪, ৯১৭৯৪৯, ৯১৭৯৫০, ৯১৭৯৪৬, ৯১৭৯৪১, ৯১৭৯৬৫, ৯১৭৯৬৬, ৯১৭৯৬৭, ৯৪৮১৭৩, ৯৪৮১৭৫, ৯৪৪৪beg, ৯৪১৩৬৮, ৯৪১৩৪৭, ৯৪১৩৪৬, ৯৪১২০৫, ৯৪১১৮৪, ৯৪৩৯০৩, ৯৪৪৪৬০, ৯৪৪৪৬২, ৯৪৪৪৬১, ৯৪৪৪৫৮, ৯৪১৩৭৯, ৯৪১৩৭৩, ৯৪১৩৬৪, ৯৪১৩৪২, ৯৪১২০১, ৯৪১১৯৯, ৯৪১৩৭৫, ৯৪১১৯৬, ৯৪১৩৮৯, ৯৪১৩৮২, ৯৪১১৯৩, ৯৪১৩৯১, ৯৪৩৯২২, ৯৪১১৮০, ৯৪১১৭৬, ৯৪৩৯১২, ৯৪১১৭০, ৯৪১৩৯২, ৯৪১৩৯৩, ৯৪৩৯১০, ৯৪৩৯১১, ৯৪৩৮৮৯, ৯৪১৩৯৪, ৯৪১৩৯৫, ৯৪১৩৯৬, ৯৪১৩৯৭, ৯৪১৩৯৮, ৯৪১১৮১, ৯৪০২৯১, ৯৪১৫৪১, ৯৪২৮১৭, ৯৪৪৪৪২, ৯৪৪৪৫৩, ৯৪৪৪৫৬, ৯৪৪৪৫৫, ৯৪৪৪৫৯, ৯৪৪৪৬৭, ৯৪১০২৩ এবং ৯৪০৯৬৬। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও, কিছু ক্ষেত্রে তা অতিক্রম করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একাধিক টেন্ডার আইডি ঘিরে এই অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যা একটি বৃহৎ প্যাটার্নের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিদেশ সফর ও সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন মো. শহীদুল আলমের একাধিক বিদেশ সফর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের সঙ্গে এসব সফরের সম্পর্ক থাকতে পারে। শহীদুল আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক বছরে সাত বার বিদেশ সফর করেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে দুবাই আন্তর্জাতিক এক্সপোতে গিয়ে তিনি সেখানে ব্যক্তিগত ভিলা কিনেছেন এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ ও আজিজ পরিবারের সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করানোর নামে ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন, যার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে তার সম্পদ থাকার দাবি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক বিদেশ সফরে চিকিৎসা ব্যয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রভাব ও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের অভিযোগ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। সমালোচকদের মতে, কিছু কর্মকর্তা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে নতুন ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছেন। মো. শহীদুল আলমের ক্ষেত্রেও এমন অভিযোজনের অভিযোগ রয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ভোল পাল্টে ‘জিন্নাহ টুপি’ ও প্রতি-বিপ্লবের ষড়যন্ত্র ৫ আগস্টের পর শহীদুল আলম তার খোলস পাল্টে ফেলেছেন। মুজিব কোট ছেড়ে এখন জিন্নাহ টুপি পরে বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন। তার আসল উদ্দেশ্য হলো প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার দখল করা এবং তার অনুগত ছাত্রলীগ ক্যাডার কর্মকর্তাদের (সানাউল্লাহ, মইনুল, মাসুদ রানা, আজমুল হক মুন) গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এখনও তার বিশাল অর্থভাণ্ডার ব্যবহার করে অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। অমীমাংসিত প্রশ্ন গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থাকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। কোথাও তদন্ত চলছে, কোথাও অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, আবার কোথাও নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই ঘটনাগুলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্পষ্ট অবস্থান ছাড়া এই বিতর্কের অবসান সম্ভব নয়। সম্পাদকীয় নোট এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব অভিযোগ ও তথ্য বিভিন্ন সূত্রের দাবি ও অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের ভোজ্যতেল বাজারে সয়াবিন তেলকে কেন্দ্র করে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুত থাকার পরও সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৩৪ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ভোক্তারা চরম চাপের মধ্যে পড়েছেন। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর নেতারা দাবি করেছেন, দেশের কয়েকটি বড় কোম্পানি বাজারের অধিকাংশ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে থাকে এবং পরবর্তীতে দাম বাড়ানোর চাপ সৃষ্টি করে। এদিকে ভোজ্যতেল মিল মালিকদের সংগঠন সরকারকে বোতলজাত ও খোলা তেলের নতুন মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের তেলের দাম বর্তমান নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সরকার অনুমোদনের আগেই বাজারে নতুন দামের প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মুদি দোকানিরা বলছেন, সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ২০ কার্টন তেল পাওয়া যেত, সেখানে এখন মাত্র ২ থেকে ৪ কার্টন সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে চাহিদা পূরণ করতে না পারায় খুচরা বাজারেও সংকট তৈরি হয়েছে। একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদেরও সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে খুচরা পর্যায়ে লাভ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে কোম্পানি পর্যায়ের একাংশের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন। তাদের মতে, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম পুনর্নির্ধারণ না করলে লোকসানের ঝুঁকি তৈরি হবে। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত ভোজ্যতেলের মজুত রয়েছে এবং অতিরিক্ত সরবরাহও পাইপলাইনে রয়েছে। তাই আপাতত বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই বলে দাবি করছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাজার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভোক্তা স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ অবস্থায় বাজারে তেল সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, আর নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
তুষার কান্তি হালদার,কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক ভিক্ষুকের কাছে কম দামে ওষুধ বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি ফার্মেসি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘প্রগতি মেডিকেল হল’ নামের একটি ফার্মেসিকে শুক্রবার সকাল থেকে বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়। সংশ্লিষ্ট সমিতি—কলাপাড়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশন—এমন নির্দেশনা দিয়েছে বলে দাবি দোকানটির পরিচালকের। প্রগতি মেডিকেল হলের পরিচালক সুদীপ্ত জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে এক অসহায় ভিক্ষুক তার দোকানে একটি ভিটামিন সিরাপ কিনতে আসেন। ওষুধটির নির্ধারিত মূল্য ৩৫০ টাকা হলেও ওই ব্যক্তির কাছে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় মানবিক কারণে তিনি সেটি ১০০ টাকায় বিক্রি করেন। তার অভিযোগ, এই ঘটনার পর সমিতির নেতারা ক্ষিপ্ত হয়ে এক দিনের জন্য দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। নির্দেশ অমান্য করলে বড় অঙ্কের জরিমানার হুমকিও দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলাপাড়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল দুলাল। তিনি বলেন, “দোকান বন্ধ করতে সমিতি কোনো নির্দেশ দেয়নি। ভেজাল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে প্রগতি মেডিকেল হল নিজ দায় স্বীকার করে এক দিনের জন্য দোকান বন্ধ রেখেছে।” তিনি আরও বলেন, “যদি কাউকে সাহায্য করতে হয়, তাহলে পুরোপুরি বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া উচিত। আংশিক অর্থ নেওয়া ঠিক নয়।” এদিকে, ফাতেমা মেডিকেল হলের মালিক মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, এর আগেও কম দামে ওষুধ বিক্রির কারণে তার কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তার ভাষ্য, “ওষুধের গায়ে লেখা এমআরপির চেয়ে কম দামে বিক্রির সুযোগ চেয়ে আমরা বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু সমিতি কোনোভাবেই এতে রাজি হয়নি।” আরও কয়েকজন ফার্মেসি মালিক অভিযোগ করেছেন, সমিতির মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সমিতির নির্দেশনা অমান্য করলেই বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, মানবিক কারণে সহায়তা করলে যদি শাস্তি পেতে হয়, তবে ভবিষ্যতে কেউ এমন উদ্যোগ নিতে নিরুৎসাহিত হবে। এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, “কোনো সমিতি বা সংগঠনের প্রতিষ্ঠান সিলগালা বা জরিমানা করার ক্ষমতা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া : রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো একটি অতি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে বিতর্কিত একাধিক কর্মকর্তা বহাল থাকায় প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ ও প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে—সাবেক শাসনামলে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এখনও মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিনিয়র সচিবের দপ্তরকে ঘিরে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। এই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা প্রশাসনিক তথ্য নিয়ন্ত্রণ, তদবির বাণিজ্য, এবং প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা অর্জনের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগের কেন্দ্রে যারা সংশ্লিষ্ট সূত্রে উঠে এসেছে কয়েকজন কর্মকর্তার নাম, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে: ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা বি এম সাইফুল ইসলাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইয়াসিন ফিরদৌস প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল কামার অভিযোগ রয়েছে, এদের অনেকেই ছাত্ররাজনীতি সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে চাকরিতে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশে সচিবালয়ে পদায়ন পান। সাবেক সচিবদের সঙ্গে যোগসূত্র অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে অতীতে দায়িত্ব পালনকারী একাধিক সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে নানা অভিযোগে তদন্তাধীন বা কারাবন্দী। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে প্রশাসনের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন। তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ভীতি মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এই সিন্ডিকেট শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমেই নয়, তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণেও সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে— গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রুপে বার্তা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ‘ম্যানেজ’ করে অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেকেই ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শুধুমাত্র এই সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে।” দুবাই মিশন নিয়ে প্রশ্ন সম্প্রতি জারি হওয়া একটি সরকারি আদেশে (GO) কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজে পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় থাকা কয়েকজনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিযোগ উঠেছে— এক যুগ্ম সচিবের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এই মিশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন নিয়োগ ও সুযোগপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে এছাড়া, সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট অভিযোগের কারণে একজন সিনিয়র ব্যক্তিগত কর্মকর্তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও প্রভাব কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতীতে রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ছায়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতীতের কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েকজন কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, “এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশাসনিক তথ্য ফাঁস হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে।” অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও হতাশা মন্ত্রণালয়ের ভেতরে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা এই পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি বিতর্কিত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন, তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ইতোমধ্যে মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। প্রশ্নের মুখে প্রশাসন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন— ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও কীভাবে এই কর্মকর্তারা এখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল স্থানে বহাল রয়েছেন? বিশ্লেষকদের মতে, “এই ধরনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট যদি দ্রুত ভেঙে দেওয়া না হয়, তবে তা শুধু প্রশাসনের ভাবমূর্তিই নয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডি প্রকৌশলী তাকসিম এ খান এবং তার ঘনিষ্ঠ সহোচর, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা জুনায়েদ আবু ইয়াসিরের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতির গভীর দিক উন্মোচন করেছে। জানাযাচ্ছে, জুনায়েদ আবু ইয়াসির দীর্ঘদিন ঢাকা ওয়াসার প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলী এবং মডস্ জোন-৯-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার সময় প্রকল্পকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আউটসোর্সিং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য পরিচালনা করেছেন। সম্পদ ও আয়কর ফাঁকি সম্পদ ধরণ অবস্থান / বিবরণ মন্তব্য ফ্ল্যাট খিলগাঁও, সেবা হোল্ডিং ৫ তলা (২টি) অবৈধ ও বৈধ উভয়ভাবে দখল ফ্ল্যাট মোহাম্মদপুর (১টি) দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ প্লট রাজধানী ও গ্রামের বাড়ি উচ্চমূল্যবান ভূমি প্রাইভেট কার ঢাকার বিভিন্ন এলাকা অসংখ্য গাড়ি ব্যাংক এফডিআর নিজের ও পরিবারের নামে কোটি টাকা আয়কর ফাঁকি জুনায়েদ আবু ইয়াসির তার সম্পদের তথ্য গোপন করে সরকারকে নিয়মিত আয়কর ফাঁকি দিচ্ছেন। সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক প্রভাব জুনায়েদ আবু ইয়াসিরের সিন্ডিকেট কাঠামো (ভিজ্যুয়াল চার্টের জন্য প্রস্তুত): জুনায়েদ আবু ইয়াসির (নির্বাহী প্রকৌশলী, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ) ↳ তাকসিম এ খানের সহচর ও সিন্ডিকেটের ডান হাত ↳ আউটসোর্সিং নিয়োগ ও বদলি-বাণিজ্য ↳ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে আন্দোলন দমন ও অর্থায়ন ↳ ঢাকা ওয়াসার প্রকল্পে অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে: আউটসোর্সিং নিয়োগে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য রাজনৈতিক দাপটের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয় অব্যাহত প্রকল্প ও দুর্নীতি ঢাকা এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পে জুনায়েদ আবু ইয়াসিরের ভূমিকা: প্রকল্প পদ সময়কাল কর্মকাণ্ড মন্তব্য সহকারী প্রকৌশলী - প্রকল্পে যোগদান রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পদোন্নতি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী - দায়িত্ব পালন অনিয়ম-দুর্নীতির শুরু নির্বাহী প্রকৌশলী - প্রকল্প পরিচালনা দুর্নীতির আখড়া, সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দু প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা লোপাট ও ক্ষমতার অপব্যবহার, জনসেবায় বাধা। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক প্রভাব জুনায়েদ আবু ইয়াসির তাকসিম এ খানের দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের প্রধান সহযোগী। বিএনপি-বিরোধী রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ছাত্র আন্দোলন দমন। রাজনৈতিক ক্ষমতা বজায় রাখতে সরকারি প্রকল্পের সম্পদ ব্যবহার। পদত্যাগের পরও প্রভাবশালী অবস্থানে বহাল তবিয়তে। জুনায়েদ আবু ইয়াসির ও তাকসিম এ খানের সিন্ডিকেট শুধু ঢাকা ওয়াসা নয়, বাংলাদেশের সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির প্রতীক। কোটি কোটি টাকার লোপাট, আউটসোর্সিং বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব এই প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে। “ডাকো পানি সাপ্লাইয়ের নামের আড়ালে কোটি কোটি টাকার লোপাট, সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক প্রভাব! কোন কর্মকর্তা জবাব দেবে?” জুনায়েদ আবু ইয়াসিরের সম্পদ ও দুর্নীতি সম্পদ ধরণ পরিমাণ / অবস্থান মন্তব্য ফ্ল্যাট খিলগাঁও ৫ তলা (২টি) অবৈধ ও বৈধ মিলিত ফ্ল্যাট মোহাম্মদপুর (১টি) সেবা হোল্ডিং ৫ তলা প্লট ঢাকার বিভিন্ন এলাকা + গ্রামের বাড়ি উচ্চমূল্যবান ভূমি প্রাইভেট কার ঢাকার বিভিন্ন এলাকা বহু গাড়ি ব্যাংক এফডিআর নিজের ও পরিবারের নামে কোটি টাকা আয়কর ফাঁকি জুনায়েদ আবু ইয়াসির ঢাকা ওয়াসার সবচেয়ে বড় প্রকল্প তথা ঢাকা এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি তাকে ঢাকা ওয়াসার মডস্ জোন-৯ এ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আওয়ামী রাজনৈতিক প্রভাব বলয়ে থেকে ঢাকা ওয়াসার এত বড় প্রকল্পে সহকারি প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করার পর পদোন্নতি পেয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও পরে নির্বাহী প্রকৌশলী হয়ে একই জায়গায় দীর্ঘ সময় কর্মরত ছিলেন। তাকসিমের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকল্পকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিলেন।
ঢাকা: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক বার আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। নতুন সরকারের আগমন ও অফিসিয়াল বদলির আদেশ বাতিলের দ্রুত ঘটনাচক্রে সন্দেহ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, বিআরটিএর উপ-পরিচালক (প্রশাসন) তানভীর আহমেদ সিদ্দিক ৭ মার্চ স্বাক্ষরিত আদেশে মো. রফিকুল ইসলামকে চট্টগ্রাম ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেল থেকে রাজশাহীর বিভাগীয় অফিসে বদলি করেছিলেন। তবে কেবল একদিন পরেই, বিআরটিএর আরেক উপ-পরিচালক হেমায়েত উদ্দিন স্বাক্ষরিত নতুন আদেশে বদলি বাতিল করা হয়। কর্মচারীদের প্রশ্ন, কীভাবে একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অন্য একজন কর্মকর্তার আদেশ এত দ্রুত উল্টো যায়। ঘুষ ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বদলি বাণিজ্য, রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি এবং ঘুষ আদায়ে জড়িত। তার কথিত চাচার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকায় তার “শাহাবাস্তি বিজনেস সেন্টার” নামের অফিসটি সিন্ডিকেটের হেডকোয়ার্টার হিসেবে পরিচিত। সূত্র জানায়, এই অফিস থেকে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সরকারি সেবার স্বাভাবিক স্রোত ব্যাহত করছে। রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় রয়েছে: সিএনজি অটো-রিকশা রেজিস্ট্রেশনের নামে বড় অংকের ঘুষ আদায়। মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জালিয়াতি। সিন্ডিকেট গঠন ও দালাল চক্রের মাধ্যমে নিয়মিত অবৈধ আয়। আত্মীয়-স্বজনের নামে বিপুল সম্পত্তি অর্জন। ঘটনার সময়রেখা: তারিখ ঘটনা স্বাক্ষরকারী উপ-পরিচালক ৭ মার্চ ২০২৬ রফিকুল ইসলামকে চট্টগ্রাম ঢাকা মেট্রো-৪ থেকে রাজশাহী বদলি তানভীর আহমেদ সিদ্দিক ৯ মার্চ ২০২৬ বদলি আদেশ বাতিল হেমায়েত উদ্দিন সময়ের রেখা ও প্রমাণ ২০১৫: চট্টগ্রাম মেট্রো-১ এ সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উত্তরা মোটরসের ডিলারের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ। ২০১৬: ঢাকা জেলা সার্কেলে সহকারী পরিচালক হিসেবে সিএনজি রেজিস্ট্রেশনের নামে বড় ধরনের অনিয়ম শুরু। ২০১৯ পর্যন্ত: প্রায় ৫ হাজার সিএনজি রেজিস্ট্রেশন, যেখানে অধিকাংশ মালিক ভুয়া ঠিকানার মাধ্যমে নিবন্ধন। ২০২৪: ঢাকা মেট্রো-১ থেকে বরিশাল বিভাগীয় অফিসে বদলি, এরপর বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে সিন্ডিকেট পরিচালনা। প্রশাসনিক ব্যর্থতা কেন একটি উপ-পরিচালকের আদেশ অন্য একজন উপ-পরিচালকের স্বাক্ষরে বাতিল হতে পারলো? রফিকুল ইসলামকে শুধু বদলি করা যথেষ্ট নয়, তার সিন্ডিকেট ও সম্পদের উত্থানও তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও জনসেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি। রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি বিভাগ প্রক্রিয়া প্রায় ঘুষের পরিমাণ মন্তব্য সিএনজি রেজিস্ট্রেশন ঢাকার নামে ভুয়া ঠিকানা ১ লাখ টাকা প্রতি রেজিস্ট্রেশন প্রায় ৫ হাজার রেজিস্ট্রেশন ২০১৬–২০১৯ মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন আর.এম মোটরস & ইন্টারন্যাশনাল শোরুম অজানা, কোটি টাকা প্রায় আত্মীয়-স্বজনের নামে সম্পত্তি অর্জন ফিটনেস সার্টিফিকেট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আলাদা হিসাব নেই সরকারি নিয়মের চরম লঙ্ঘন নিরাপত্তা ও আইনি প্রয়োজনীয়তা তদন্ত কমিটি গঠন, সিন্ডিকেটের উচ্ছেদ, এবং অবৈধ সম্পত্তির অনুসন্ধান জরুরি। শুধুমাত্র বদলি আদেশের মাধ্যমে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রশাসনিক প্রভাব ও প্রশ্ন কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু বদলি করে দুর্নীতি বন্ধ হবে না। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও তদন্ত ছাড়া সরকারি সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি ক্ষোভ বাড়বে। বিআরটিএর উচ্চপর্যায় থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের সিন্ডিকেট ও ঘুষ-বাণিজ্য চক্র সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়ম ও শৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি। তদন্ত প্রয়োজনীয়তা সিন্ডিকেটের অবৈধ সম্পত্তি ও অর্থের উৎসের তদন্ত। ঘুষ-বাণিজ্য ও রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতির সম্পূর্ণ রিপোর্ট। কঠোর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।
ঢাকা, ২৫ মার্চ: সিন্ডিকেটের হুমকি ও চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কম দামে পাঞ্জাবি-পায়জামা বিক্রি করে আলোচনায় আসা ‘নবীন ফ্যাশন’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন (নবীন হাশেমি)। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বিদেশে পাড়ি জমান তিনি। বিষয়টি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিশ্চিত করেন। বিমানবন্দর থেকে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “সিংহের মতো বাঁচতে চাই, কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না। তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন ফিরব, ইনশাআল্লাহ।” এর আগে একই দিন বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। দোকান বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। নবীন হাশেমির অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন নম্বর থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাকে জানানো হয়—তার কাছে থাকা কিছু ভিডিও মুছে ফেলতে হবে, অন্যথায় তার সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে একটি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রবাস জীবন শেষে করোনার সময় দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল কম দামে ভালো মানের পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। প্রতিষ্ঠানের আয়ের একটি অংশ গরিব ও অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হতো। নবীন হাশেমি জানান, তার প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হিজড়া সম্প্রদায় এবং মাদকাসক্তি থেকে ফিরে আসা মানুষ কাজ করেন। ফলে সরবরাহকারীরাও কম দামে পণ্য দিতেন এবং তারা মাত্র ৩০০ টাকায় পাঞ্জাবি ও পায়জামা বিক্রি করতে সক্ষম হন। তার অভিযোগ, পাশের দোকান ‘প্রিন্স’-এর মালিক মাইকেলসহ একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তাদের দোকান বন্ধ করে দেয় এবং ক্রেতাদের হয়রানি করে। সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়—এই মার্কেটে ৪ হাজার ৫০০ টাকার কমে পাঞ্জাবি এবং ১ হাজার ৫০০ টাকার কমে পায়জামা বিক্রি করা যাবে না। সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, নানা বাধা ও হুমকির মধ্যেও ব্যবসা পরিচালনা করলেও কখনো কোনো সহায়তা পাননি। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে গেলেই ভয়ভীতি ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।