Brand logo light

সরকারি দুর্নীতি

বরিশাল সিটি করপোরেশন-দুদক
বরিশাল সিটি করপোরেশনে দুর্নীতির জাল: দুদকের অনুসন্ধানে ফেঁসে যাচ্ছেন ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর অনুসন্ধানে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে ফেঁসে যাচ্ছেন বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেলসহ অন্তত ১০ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। টেন্ডার কারসাজি, জাল-জালিয়াতি, অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। বরিশাল সিটি করপোরেশন—স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যার ওপর নির্ভর করে নগরবাসীর দৈনন্দিন নাগরিক সেবা। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানই যদি দুর্নীতি, অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়—এটি জনআস্থার গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর এক অনুসন্ধানে  বিসিসির ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রায় ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক। এছাড়া জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তালিকায় রয়েছেন প্রায় ৬ জন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানের রিপোর্ট অনুমোদন হলে শিঘ্রই মামলা হতে পারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।চার্জশিট হলেই বিসিসির চাকুরী থেকে বরখাস্ত হবেন তারা। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে এ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন দায়িত্ব গ্রহনের পরই সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষনা দিয়েছেন।তিনি বিসিসিতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য সোচ্চার রয়েছেন।ফলে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রয়েছেন সতর্ক অবস্থানে। দুদকের এই অনুসন্ধান শুধু একটি বিচ্ছিন্ন দুর্নীতির ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রশাসনিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব, এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার অভাবের একটি প্রতিচ্ছবি।   অভিযোগের স্তর জমেছিল বহুদিন বিসিসিকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। নগর উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার প্রক্রিয়া, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং সরঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বহুদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগগুলো ধীরে ধীরে এতটাই বিস্তৃত হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নজরে আসে দুদকের। দুদকের বরিশাল সমন্বিত কার্যালয় গত কয়েক মাস ধরে একটি বিস্তৃত অনুসন্ধান পরিচালনা করে। অনুসন্ধানে উঠে আসে— উন্নয়নকাজের দরপত্রে অনিয়ম জাল নথি ব্যবহার করে সম্পদ বণ্টন সরকারি অর্থের অপচয় ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনে ক্ষমতার অপব্যবহার এই অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তলব করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা ও সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়।   তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ: আতঙ্কের শুরু ২০২৫ সালের ৯ ও ১০ জুলাই অভিযুক্তদের দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। ধাপে ধাপে তারা হাজির হয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং সম্পদের বিবরণ দাখিল করেন। তবে অনুসন্ধান সূত্র বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই তাদের প্রদত্ত তথ্য ও বাস্তব অবস্থার মধ্যে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সম্পদের উৎস নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এই তলবের পর থেকেই বিসিসির অভ্যন্তরে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক—কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে।   কারা আছেন অভিযোগের তালিকায় দুদকের অনুসন্ধানে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তালিকায় উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন— তৎকালীন সচিব মাসুমা আক্তার প্রধান প্রকৌশলী (সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) হুমায়ুন কবির সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মশিউর রহমান জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান শাকিল উপসহকারী প্রকৌশলী এইচ এম কামাল সাইফুল ইসলাম মুরাদ সার্ভেয়ার সাইদুর রহমান প্ল্যান শাখার সহকারী খায়রুল হাসান কম্পিউটার অপারেটর ফিরোজ হোসেনসহ ১৮ জন।   কী ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বহুমাত্রিক দুর্নীতির চিত্র। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো— ১. টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজি উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্রে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দিতে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের পরিবর্তে পূর্বনির্ধারিতভাবে কাজ বণ্টনের প্রমাণ মিলেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ২. সরকারি সম্পদ বণ্টনে অনিয়ম বিসিসির সম্পত্তি বরাদ্দে স্বজনপ্রীতি এবং ঘুষের অভিযোগ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জাল নথি ব্যবহার করে সম্পত্তি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। ৩. ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ল্যাপটপ, ড্রোন, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনায় অতিরিক্ত মূল্য দেখানো এবং নিম্নমানের পণ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। ৪. উৎসব ব্যয়ে অস্বচ্ছতা ঈদ উপলক্ষে মেয়রের শুভেচ্ছা ফেস্টুন স্থাপনে প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়েছে। এই ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ৫. পুনঃনিয়োগে অনিয়ম পূর্বে চাকরিচ্যুত কিছু ব্যক্তি কীভাবে পুনরায় নিয়োগ পেয়েছেন—এই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে।   জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ: বড় ধরনের অভিযোগ অনুসন্ধানে অন্তত ৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন আইনের অধীনে এটি একটি গুরুতর অপরাধ। যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো ব্যক্তি তার বৈধ আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন করেছেন, তাহলে তা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।   আইনি দিক: কী হতে পারে পরিণতি আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে অনুসন্ধান রিপোর্ট অনুমোদন এবং পরবর্তী চার্জশিটের ওপর। বরিশাল বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহে আলম জানিয়েছেন— কোন ব্যক্তি অসাধু উপায়ে এমন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন যা তার বৈধ আয়ের উৎসের সাথে অসংগতিপূর্ণ তাহলে তিনি দুদক আইনের ২৭ ধারা লঙন করেছেন।অভিযোগ প্রমানিত হলে সর্বনিম্ন ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে। এছাড়া ওই অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তযোগ্য হবে । তিনি বলেন,বিসিসির কারো বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতি প্রমান হলে তিনি ধারা ৪০৯ লঙন করেছেন। এটি দুদকের তদন্তাধীন সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর একটি। তিনি বলেন,দুর্নীতির মামলায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে গৃহীত হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এবং সাময়িক বরখাস্ত আইনের ধারা ৩৯(২) অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক অভিযোগপত্র (চার্জশিট ) গৃহীত হলে কর্তৃপক্ষ তাকে ওই তারিখ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারে । দুর্নীতির মামলার ক্ষেত্রে এটি সাধারণত আবশ্যিকভাবে পালন করা হয়। এছাড়া চার্জশিট হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা- কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণ করা হতে পারে। তিনি আরো বলেন,কোনো কর্মকর্তা -কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক ১ বছর বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তিনি রায় প্রদানের তারিখ থেকে চাকরি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হবেন ।   চার্জশিট ও চাকরি: কী বলছে আইন সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী— কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট গৃহীত হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা যেতে পারে, দুর্নীতির মামলায় এটি সাধারণত বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করা হয়। পরবর্তীতে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে অপসারণ করা হতে পারে। এছাড়া, যদি কোনো কর্মকর্তা ১ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তার চাকরি বাতিল হয়ে যাবে।   দুদকের অবস্থান: কঠোর বার্তা অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. আবুল কাইউম হাওলাদার জানিয়েছেন, তিনি তার অনুসন্ধান সম্পন্ন করে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। যদিও তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন, তবে দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে— যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, তারা কোনোভাবেই রেহাই পাবেন না। এতে স্পষ্ট যে, দুদক এই মামলাকে একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।    অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পর থেকে বিসিসির অভ্যন্তরে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুদকের অনুসন্ধানে যাদের নাম উঠে এসেছে সে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক কার্যক্রমে ধীরগতি সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনিশ্চয়তা একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং কেউ কেউ আইনি প্রস্তুতিও শুরু করেছেন।   স্থানীয় সরকারে দুর্নীতির চিত্র এই ঘটনা শুধু বরিশালেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় একই ধরনের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন— টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রাজনৈতিক প্রভাব জবাবদিহিতার দুর্বলতা এসব কারণেই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতির ঝুঁকিতে থাকে।   গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, রিপোর্ট অনুমোদন বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো দুদকের প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্ট অনুমোদন। এরপর— মামলা দায়ের  চার্জশিট প্রস্তুত আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু এই পুরো প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হলেও, এটি বিসিসির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামোকে প্রভাবিত করতে পারে।   একটি পরীক্ষার মুখে বিসিসি বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই ঘটনা একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে— জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান কতটা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক? দুদকের এই অনুসন্ধান যদি শেষ পর্যন্ত কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে পারে, তবে এটি শুধু বিসিসি নয়, দেশের অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একটি শক্ত বার্তা হবে। এখন নজর সবার—রিপোর্ট অনুমোদনের পর কী পদক্ষেপ নেয়া হয়, এবং অভিযুক্তরা সত্যিই আইনের আওতায় আসে কিনা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
জনপ্রশাসন প্রশাসন মন্ত্রণালয়
বরিশাল সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা পেলেন শাস্তি : দুই বছর বেতন বাড়বে না

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার দায়ে রুম্পা সিকদার নামে এক জ্যেষ্ঠ সিনিয়র সহকারী সচিবকে শাস্তি দিয়েছে জনপ্রশাসন প্রশাসন মন্ত্রণালয়। লঘুদণ্ড হিসেবে তাঁর বেতন বৃদ্ধি দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। রুম্পা সিকদার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকার সময় এই অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল। পরে তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করেন। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তির কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুম্পা সিকদার ২০১৯ সালের ৮ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নলছিটির ইউএনও থাকার সময় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ের ৩০২টি ঘরের মধ্যে মাটিভাঙ্গা (চর ষাটপাকিয়া) এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পান। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও মো. নজরুল ইসলামের সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ১২৮টি ঘরের মধ্যে ৫৫টি ঘর নির্মাণই করা হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অনির্মিত ঘরগুলো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সে অনুযায়ী ঘর প্রতি ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা হারে ও পরিবহন ব্যয়সহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার তাঁকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী বিজন কৃষ্ণ খরাতী টাকা জমা দেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, রুম্পা সিকদার তাঁর দায়িত্বকালে অনির্মিত ৫৫টি ঘর নির্মাণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে বিজন কৃষ্ণ খরাতীর প্রস্তাবে পুরো অর্থের চেকে স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া ‘গৃহ প্রদান নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী ঘর নির্মাণের কথা থাকলেও সভাপতি হিসেবে সে অনুযায়ী গুণগত মান নিশ্চিত না করে তিনি কাজে চরম অবহেলা দেখান। এটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় বিভাগীয় মামলা করা হয়। এতে ওই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত শুনানির বক্তব্য সন্তোষজনক হয়নি। এরপর বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, রুম্পা সিকদার ও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর যৌথ স্বাক্ষরে ঘর নির্মাণের টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। কিন্তু ৫৫টি ঘর নির্মাণ না হলেও রুম্পা সিকদার নলছিটি থেকে বদলির সময় এই টাকা সম্পর্কে কোনো তথ্য বিবরণী কাগজে লিপিবদ্ধ করেননি। একজন ইউএনও হিসেবে কত টাকার চেকে তিনি স্বাক্ষর করেছেন এবং সেই টাকা কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়েছে, তার প্রমাণ ও তা দাপ্তরিক নথিপত্রে লিপিবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। এখানে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার অভাব ও কর্তব্যে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সব বিষয় বিবেচনায় রুম্পা সিকদারকে দুই বছরের বেতন স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ফারুক ওয়াসিফ
পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ভুয়া সেমিনারের নামে বিল-ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)–এ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫ সালের “তারুণ্যের উৎসব” উপলক্ষে দেখানো দুটি সেমিনার বাস্তবে অনুষ্ঠিতই হয়নি। অথচ সেই সেমিনারের নামে কয়েক লাখ টাকার বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছে।   আরও পড়ুন: পিআইবিতে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ   এই অভিযোগের সূত্র ধরে টানা তিন দিন পিআইবির কার্যালয়ে গিয়ে অনুসন্ধান চালায় কালের কণ্ঠ অনুসন্ধানী টিম। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে একের পর এক অসঙ্গতি, অস্বীকার এবং পরে আংশিক স্বীকারোক্তি। সেমিনারের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন পিআইবির পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার–কে প্রথমে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিতই এমন সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ভুয়া বিল-ভাউচারের বিষয়টি সামনে আনা হলে তিনি ও উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী দুজনেই সেমিনার অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। বিল-ভাউচারে তাঁদের স্বাক্ষর দেখানো হলে তাঁরা স্বাক্ষর নিজেদের বলে স্বীকার করলেও কাগজপত্রের বৈধতা অস্বীকার করেন। তৌহিদুল আনোয়ার বলেন— “স্বাক্ষর আমারই, কিন্তু এই কাগজে আমি দিয়েছি কি না জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।” অন্যদিকে নাছির উদ্দীন চৌধুরী দাবি করেন— “ওই সময় কোনো সেমিনার হয়নি। এটা একটা রিউমার। প্রযুক্তির যুগে স্বাক্ষর নকল করা অসম্ভব কিছু না।” সন্দেহজনক ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বিল অনুসন্ধানী টিম ১৯ ফেব্রুয়ারির ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকার একটি বিল সামনে আনলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিলে নিজের স্বাক্ষর দেখে পরিচালক তৌহিদুল আনোয়ার প্রথমে বিস্মিত হয়ে বলেন— “স্বাক্ষরটা তো আমারই, কিন্তু বিলটা তো ফেক।” অন্যদিকে দাবি করা হয়, ওই দুই সেমিনারে প্রায় ৪০০ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই সাংবাদিক। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কেউই এমন কোনো সেমিনারের কথা জানেন না। অনুসন্ধানে ভেঙে পড়লেন সমন্বয়কারী এই অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন পিআইবির সিনিয়র প্রশিক্ষক ও অনুষ্ঠান সমন্বয়কারী গোলাম মুর্শেদ। প্রথমে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিলে থাকা স্বাক্ষরকেও তিনি “ডিজিটালি বসানো” বলে দাবি করেন। কিন্তু যখন অনুসন্ধানী টিম সরেজমিনে যাচাইয়ের তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করে, তখন এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন— “বিলগুলো সাজানো। গত বছর ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারির সেমিনার দুটি আসলে হয়নি।” তিনি আরও দাবি করেন, এসব ভুয়া বিল তৈরি করা হয়েছিল পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ–এর নির্দেশে। গোলাম মুর্শেদের ভাষায়— “ডিজি সাহেব বলছিলেন, একটা প্রোগ্রাম দেখায়ে টাকাটা সমন্বয় করে দিতে।” মন্ত্রণালয়ের টাকার সমন্বয়? গোলাম মুর্শেদের দাবি, মন্ত্রণালয় থেকে আসা বিশেষ বরাদ্দের টাকা সমন্বয়ের জন্যই এসব ভুয়া বিল তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন— “মন্ত্রণালয়ের কিছু কাজের টাকা খরচ দেখানোর জন্য আমাদের বলা হয়েছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত টাকার একটি অংশও অন্য খাতে ব্যয় দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ডিজির বক্তব্য: সবই মিথ্যা এ বিষয়ে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন— “এ ধরনের একটি বিল পিআইবির একটি দুষ্টচক্র তৈরি করেছিল, কিন্তু আমি সেটিকে অনুমোদন দিইনি।” তিনি আরও দাবি করেন, পরে বিষয়টি সামনে এলে তিনি সেই বিল বাতিল করে দেন। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—যদি অনুমোদন না দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তাঁরসহ ছয়জন কর্মকর্তার স্বাক্ষরসংবলিত বিল তৈরি হলো কীভাবে এবং ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন হলো কেন। নতুন প্রশ্নের জন্ম এই ঘটনার পর পিআইবির অভ্যন্তরে দুর্নীতি, ভুয়া বিল এবং প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে— ভুয়া সেমিনারের নামে বিল তৈরি হলো কীভাবে ছয়জন কর্মকর্তার স্বাক্ষর এল কোথা থেকে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন হলো কার নির্দেশে মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের অর্থ অন্য খাতে ব্যবহারের অভিযোগ কতটা সত্য এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৫, ২০২৬ 0
আনোয়ারুল ইসলাম
এলজিইডির শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও বহাল তবিয়তে

মামুনুর রশীদ নোমানী: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামকে ঘিরে আবারও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মামলা মাথায় নিয়েও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে নিয়মিত অফিস করছেন আনোয়ারুল ইসলাম। এ নিয়ে সহকর্মীদের মাঝেও নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।  স্বৈরশাসক হাসিনা পালালেও তার দোসর এলজিইডির লুটেরা, মাফিয়া ডন মিরাজ-মহারাজের বিশ্বস্ত সহযোগী  শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। হাসিনার পতনের পর হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম কিছু দিনের জন্য আত্মগোপনে গেলেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ম্যানেজ করে আবার নিয়মিত অফিস করছেন। আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জন্মস্থান ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। ময়মনসিংহ শহর ও তার মামার বাড়ী ঈশ্বরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন উক্ত আনোয়ার। পিরোজপুরের আলোচিত সমালোচিত মিরাজ মহারাজের ঘনিষ্ট। সহোচর আনোয়ার হোসেন কি ভাবে এলজিইডিতে এখনও কর্মরত আছেন এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সহকর্মীরে মাঝে।আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জন্মস্থান ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। ময়মনসিংহ শহর ও তার মামার বাড়ী ঈশ্বরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন  আনোয়ার। পিরোজপুরের আলোচিত সমালোচিত মিরাজ মহারাজের ঘনিষ্ট সহোচর আনোয়ার হোসেন কি ভাবে এলজিইডিতে এখনও কর্মরত আছেন এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল । বিপুল সম্পদের অভিযোগ সূত্র মতে, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জেলা ময়মনসিংহ শহর ও ঈশ্বরগঞ্জ এলাকায় নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে— স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্ল্যাট ক্রয় ময়মনসিংহ শহরে আনুমানিক ৫ কোটি টাকার জমি একটি বহুতল ভবনে উল্লেখযোগ্য শেয়ার রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় প্রায় ১৫ শতাংশ মূল্যবান জমি ব্যক্তিগত দামী গাড়ি ব্যবহার স্বল্প বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তার জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। দুদকের মামলা ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা চলমান থাকলেও তা থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নামও অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে। সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর হবে। আত্মগোপন ও সম্পদ পাচারের আশঙ্কা ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আনোয়ারুল ইসলাম মিরপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা পরিবর্তন করে গোপনে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন বলে জানা গেছে।এছাড়া, সম্প্রতি তার বড় ছেলেকে উচ্চ অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অবৈধ সম্পদ বিদেশে পাচারের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সচেতন মহলের দাবি সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে তা স্পষ্টভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী
গণপূর্ত অধিদপ্তরে ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’ বিতর্ক: নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রীকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ

সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তর-এর ভেতরে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে এক নির্বাহী প্রকৌশলীকে কেন্দ্র করে। নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসী-এর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ এখন প্রশাসনিক মহল ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে প্রশাসনিক প্রভাব? দপ্তরের একাধিক সূত্রের দাবি, একই বিভাগে দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে সমীরণ মিস্ত্রী ও সিফাত ওয়াসীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এই সম্পর্কের কারণে একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়, যা দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।  সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করতেও রাজি হননি। জাতীয় সংসদ ভবনের ই/এম বিভাগে দায়িত্বকাল নিয়ে প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় সংসদ ভবন-এর ইলেকট্রোমেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগের দায়িত্বকালকে কেন্দ্র করে। ই/এম সার্কেল–৩-এর অধীনে ই/এম বিভাগ–৭-এ প্রায় সাত বছর দায়িত্ব পালন করেন সমীরণ মিস্ত্রী। কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় তিনি বিভাগে অত্যন্ত প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন। অনানুষ্ঠানিকভাবে কেউ কেউ তাকে ‘টাকাখেকো ইঞ্জিন’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এ ধরনের মন্তব্যের কোনো প্রমাণিত নথি বা লিখিত অভিযোগ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’—উন্নয়ন না অর্থ আত্মসাত? অনুসন্ধানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো তথাকথিত ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’। অভিযোগ অনুযায়ী, সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে ছোট ছোট অঙ্গভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প দেখিয়ে ৩০ থেকে ৪০টির মতো পৃথক দরপত্র আহ্বান করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি— প্রকল্পগুলো কাগজে-কলমে উন্নয়নমূলক হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তব কাজের পরিমাণ ছিল সীমিত; কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো যন্ত্রাংশ নতুন হিসেবে দেখানো হয়েছে; অপ্রয়োজনীয় সংস্কার কাজের নামে বড় অঙ্কের ব্যয় দেখানো হয়েছে; বিল উত্তোলন হয়েছে পূর্ণাঙ্গ অঙ্কে, যদিও কাজ ছিল আংশিক। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা, দরপত্র অনুমোদন এবং কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো নিরপেক্ষ অডিট বা তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি। বদলি—প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নাকি কৌশল? গত ১ সেপ্টেম্বর সমীরণ মিস্ত্রীকে ই/এম বিভাগ–৭ থেকে পিএন্ডডি বিভাগ–১-এ বদলি করা হয়। একই সময় সিফাত ওয়াসীকেও একই বিভাগে বদলি করা হয়। এই একসঙ্গে বদলিকে ঘিরে দপ্তরের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল, নাকি অভিযোগের চাপ সামাল দেওয়ার একটি কৌশল? এ বিষয়ে দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রশাসনিক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন এত গুরুতর অভিযোগের পরও দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তাদের মতে— নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন জরুরি প্রকল্পভিত্তিক আর্থিক অডিট হওয়া প্রয়োজন সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই অভিযোগগুলো গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভাবমূর্তিকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য সমীরণ মিস্ত্রী ও সিফাত ওয়াসীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।    রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি হবে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের ঘটনা; আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুনাম রক্ষায়ও প্রয়োজন পরিষ্কার তদন্ত ফলাফল।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

আলতাফ হোসেন

ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুককে পাঠানো হলো ছুটিতে , ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সবুজের সমারোহ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ৯ হাজার হেক্টরে বোরো চাষ, সবুজে ছেয়ে গেছে কৃষি মাঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0