ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন ১৯তম গ্রেডের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সেলিম মাহমুদ, যিনি স্থানীয়ভাবে “সানি” নামে পরিচিত, সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিলাসবহুল ব্যবসা ও একাধিক সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরে ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পদে যোগ দেন সেলিম মাহমুদ। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের বালিয়াটি ইউনিয়নের কুষ্টিয়া গ্রামে। এলাকাবাসীর দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই দ্রুত বদলে যেতে থাকে তার জীবনযাত্রা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ শহরের কাজল কমপ্লেক্সে “দ্য জেন্টলম্যান” নামে একটি অভিজাত সেলুন পরিচালিত হচ্ছে, যার সঙ্গে সেলিম মাহমুদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে একটি কসমেটিকস ব্যবসাও পরিচালিত হচ্ছে। ব্যবসাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তার স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে এসব প্রতিষ্ঠানে আরও কয়েকজন অংশীদার থাকলেও সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন সেলিম মাহমুদ। সম্প্রতি প্রায় ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে এক অংশীদারের শেয়ার কিনে নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা, ঘুষ গ্রহণ, প্রভাব খাটানো এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছরের ব্যবধানে সেলিম মাহমুদ প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা বাড়ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেলিম মাহমুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদারীপুর জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. হেলাল উদ্দিন। সরকারি চাকরির নবম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা হিসেবে বেতন ও ভাতা মিলিয়ে তার মাসিক আয় প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। কিন্তু অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই আয়ের বাইরে তিনি ও তার পরিবারের নামে গড়ে উঠেছে কয়েক ডজন কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ। রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, তেজগাঁও ও কেরানীগঞ্জে জমি ও ফ্ল্যাটসহ তার মোট সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫৯ কোটি টাকা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিন অনুসন্ধান, জমির নথিপত্র, ব্যাংক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে। আগারগাঁওয়ে কর্মরত থাকাকালেই সম্পদের বিস্তার হেলাল উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাষানচরে। স্ত্রী শাহিনা পারভীনও একই জেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তারা ঢাকার আদাবরের ইবনে সিনা হাউজিং সোসাইটিতে বসবাস করেন। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, পৈতৃকভাবে তাদের প্রায় ১০৪ শতাংশ জমি রয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজধানীতে তার বিপুল সম্পদের বড় অংশ গড়ে ওঠে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকালে। পরে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর তাকে মাদারীপুরে বদলি করা হয়। জমির পাশাপাশি তার পরিবারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। ঢাকার ছয় এলাকায় জমি নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, হেলাল উদ্দিন নিজের নামে এবং স্ত্রী ও শ্যালকের নামে মোট ৩৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ জমি কিনেছেন। নিজের নামে গুলশান-ভাটারা এলাকায় ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ আবাসিক জমি মোহাম্মদপুরে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি বাড্ডায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ জমি শুধু গুলশানের জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা। এছাড়া মোহাম্মদপুর ও বাড্ডার জমির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা। স্ত্রীর নামে ধানমন্ডির রামচন্দ্রপুর-১ মৌজায় ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ জমি রয়েছে স্ত্রী শাহিনা পারভীনের নামে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই জমির বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। যৌথ মালিকানায় তেজগাঁওয়ের গজারিয়া-১ মৌজায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ জমি কিনেছেন হেলাল উদ্দিন। এর বর্তমান মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কেরানীগঞ্জের তারানগর মৌজায় শ্যালক হাসিবুল ইসলামের সঙ্গে যৌথ নামে রয়েছে আরও ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ জমি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পদের অভিযোগ জমির বাইরে আদাবরের ইবনে সিনা হাউজিং সোসাইটিতে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে হেলাল উদ্দিনের পরিবারের নামে। স্থানীয় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটির মূল্য এক কোটি টাকার বেশি। এছাড়া রাজধানীতে আরও কয়েকটি ফ্ল্যাট ও একাধিক মার্কেটে দোকান থাকার অভিযোগও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। যদিও এসব সম্পদের পূর্ণাঙ্গ নথি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। সাত ব্যাংক ও ১০ মোবাইল আর্থিক অ্যাকাউন্টে লেনদেন হেলাল উদ্দিন ও তার পরিবারের আর্থিক লেনদেন হয়েছে অন্তত সাতটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। নিজের নামে রয়েছে: ইসলামী ব্যাংক মার্কেন্টাইল ব্যাংক সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক প্রাইম ব্যাংক সিটি ব্যাংক স্ত্রী শাহিনা পারভীনের নামে রয়েছে: পূবালী ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্ট আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেডে একটি অ্যাকাউন্ট এছাড়া নগদ ও বিকাশের অন্তত ১০টি মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। ‘ঢাকায় আমার এত টাকা নেই’ বেতন কাঠামোর সঙ্গে বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া কথা বলা মানা। ঢাকা শহরে আমার এত টাকা নেই। যা আছে, তার ভ্যাট-ট্যাক্স সব দেওয়া আছে। এর বাইরে কেউ কিছু বললে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” মুখ খুলছে না অধিদপ্তর বিষয়টি নিয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সাংবাদিকদের দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ৪৫ হাজার টাকার চাকরি, রাজধানীতে ৫৯ কোটির সম্পদের পাহাড় পাসপোর্ট কর্মকর্তার নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ গুলশান-ধানমন্ডিতে জমি, ব্যাংকে লেনদেন: প্রশ্নের মুখে পাসপোর্ট কর্মকর্তা সরকারি চাকরি, বিলাসবহুল সম্পদ: কীভাবে গড়ে উঠলো হেলাল উদ্দিনের সাম্রাজ্য? সাত ব্যাংক, ১০ মোবাইল অ্যাকাউন্ট, কোটি টাকার সম্পদ—তদন্তের দাবি
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নেসকো’র নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচি । বরাজশাহী ভিত্তিক বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো)-এর নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন ও মানব সম্পদ উন্নয়ন) আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব এ. জে. এম. এরশাদ আহসান হাবিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা এক অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নেসকোতে চলমান বিভিন্ন নিয়োগ ও বদলি কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের সাব-স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অর্থ লেনদেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, লিখিত পরীক্ষার মাত্র এক দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করে ২১৭ জনকে ভাইভার জন্য ডাকা হয়, যা নিয়ে নিয়োগপ্রত্যাশীদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার চুক্তি করা হয়েছে। এছাড়াও বদলি বাণিজ্য, পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা এবং অপছন্দের কর্মকর্তাদের দূরবর্তী এলাকায় বদলির অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, উৎকোচের বিনিময়ে পদায়ন ও বদলির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে আসছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজ নিয়মিত দরপত্র ছাড়াই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তার ঘনিষ্ঠজনদের ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। এছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বলা হয়, রাজশাহীতে বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট ও জমিসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহ। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প ও উন্নয়ন খাত থেকে অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চলমান সাব-স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার কর অঞ্চলে কর্মরত মো: জুলহাস উদ্দিন আহমেদকে ঘিরে ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের অভিযোগ উঠেছে বলে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলহাস উদ্দিন আহমেদ ১৯৯৩ সালে কর বিভাগে নৈশ প্রহরী হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি অফিস সহায়ক (পিয়ন) এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে “অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক” পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি কর অঞ্চল–৩, সার্কেল–৫৯, পুরানা পল্টন, ঢাকায় কর্মরত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুয়া ঠিকানা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ অনুসন্ধান প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করেছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মানিকগঞ্জ জেলাকে স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে চাকরি গ্রহণ ও পরবর্তীতে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টে অনিয়মের মাধ্যমে তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে বিভ্রান্তির দাবি প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, তার স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে বিভিন্ন নথিতে অসামঞ্জস্য রয়েছে। একদিকে মানিকগঞ্জ এবং অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঠিকানার উল্লেখ পাওয়া যায় বলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কর ও টিআইএন সংক্রান্ত অভিযোগ আয়কর রিটার্ন ও টিআইএন নিবন্ধন ব্যবস্থায় কর অঞ্চল নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিয়ম উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ আনা হয়। একই ব্যক্তির একাধিক টিআইএন ও ঠিকানা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তার আয়ের তুলনায় জীবনযাপন ব্যয়বহুল। ঢাকায় ফ্ল্যাট ক্রয়, গ্রামের বাড়িতে সম্পদ, এবং পরিবারের সদস্যদের বিদেশে পড়াশোনা ও অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব সম্পদ বৈধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত কিনা—সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। সামাজিক কার্যক্রম প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি নিজ এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অনুদান প্রদান এবং উপস্থিত থাকার মাধ্যমে সামাজিক পরিচিতি বজায় রাখেন। প্রতিক্রিয়া প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছু অভিযোগ স্বীকার করে “ভুল হয়েছে” বলে মন্তব্য করেন এবং কিছু বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ⚖️ উপসংহার সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ ধরনের অভিযোগ যদি সত্য হয় তবে তা প্রশাসনিকভাবে গুরুত্ব সহকারে তদন্তের দাবি রাখে। তবে একই সঙ্গে এসব অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই এবং আনুষ্ঠানিক তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বস্ত্র অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি লাভ, পদোন্নতি এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বর্তমানে সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে লালমনিরহাট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ পদেও রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখিত তথ্য এবং পিতার নামে দাখিল করা মুক্তিযোদ্ধা সনদের তথ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি রয়েছে, যা প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পিএসসি নিয়োগে জটিলতা জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল সুপারিনটেনডেন্ট (ষষ্ঠ গ্রেড) পদে নিয়োগ পান রেজাউল করিম। তবে এর আগে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) তার নথিপত্র জমা দেওয়ার পরই জটিলতা দেখা দেয়। ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পিএসসির এক স্মারকে তার ফলাফল “প্রশাসনিক ও তথ্য বিভ্রাটজনিত কারণে” স্থগিত করা হয়। পরে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর প্রায় এক বছর পর তার ফলাফল সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সেই সুপারিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, পরবর্তীতে কোনো ধরনের অসঙ্গতি, জালিয়াতি বা ভুয়া তথ্য প্রমাণিত হলে সুপারিশ বাতিল এবং প্রয়োজন হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যোগদানের সময়ও অনিয়মের অভিযোগ চূড়ান্ত যোগদানের সময়ও কাগজপত্র জমা দিতে গিয়ে রেজাউল করিম জটিলতায় পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় ছয় মাস বিলম্বে তিনি নথি জমা দেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। পরিচয়পত্র ও সনদে অসঙ্গতি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে তার পিতার পরিচয় নিয়ে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তার পিতার নাম মো. ছানাউল ইসলাম এবং ঠিকানা বগুড়া সদর এলাকার। কিন্তু দাখিল করা মুক্তিযোদ্ধা সনদে ভিন্ন নাম ও ঠিকানা পাওয়া গেছে। একটি সনদে পিতার নাম এ কে এম সানাউল ইসলাম উল্লেখ থাকলেও সেটি পরবর্তীতে গেজেট থেকে বাতিল করা হয়েছে। পরে আরেকটি সনদ দাখিল করা হয়, যেখানে নাম দেওয়া হয়েছে এ কে এম সানাউল ইসলাম মণ্ডল এবং ঠিকানাও ভিন্ন—সারিয়াকান্দি উপজেলার। এই অসঙ্গতিগুলো নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে রেজাউল করিম লালমনিরহাট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্ব পান। সেখানে দায়িত্ব পালনের সময়ও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তার ক্ষেত্রে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া গত ১৬ এপ্রিল মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে রেজাউল করিম এ বিষয়ে পরে কথা বলার আশ্বাস দেন। তবে নির্ধারিত দিনে তার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও তিনি সরাসরি কথা বলেননি। পরে ফোনে জানান, বিষয়টি জানতে হলে লালমনিরহাটে গিয়ে দেখা করতে হবে। কর্তৃপক্ষের অবস্থান বস্ত্র অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আরিফুর রহমান খান বলেন, “সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। কেউ দুর্নীতির আশ্রয় নিলে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিশেষজ্ঞ মত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার শামিল এবং এটি একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। তারা বলছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বাড়তে পারে।
বরিশাল অফিস : বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মচারীকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাদক সেবনের দায়ে আদালতের সাজা ভোগ করার পরও সেই তথ্য গোপন রেখে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাকরিতে বহাল আছেন—এমন দাবি স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত নথিপত্রের। অভিযুক্ত তানভীর আহমেদ (৪০) নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটিখানা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের হিসাব শাখায় কর্মরত বলে জানা গেছে। কী ঘটেছিল ২০১৯ সালে? মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর বরিশাল শহরের ‘হোটেল এরিনা’ থেকে মাদক সেবনরত অবস্থায় তানভীর আহমেদকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আদালত তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১,০০০ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ দিনের কারাদণ্ডের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে তিনি সাজা ভোগ করেন—এমন তথ্য নথিতে উল্লেখ থাকলেও, অভিযোগ হলো এই দণ্ডপ্রাপ্তির বিষয়টি তিনি চাকরির ক্ষেত্রে গোপন রেখেছেন। অভিযোগ: তথ্য গোপন করে চাকরি অভিযোগ অনুযায়ী, দণ্ডিত হওয়ার পরও তানভীর আহমেদ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে চাকরিতে বহাল থাকেন অথবা পরবর্তীতে যোগদানের সময় তথ্যটি গোপন করেন। এভাবে তিনি প্রায় সাত বছর ধরে সরকারি চাকরি করে আসছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, নিয়োগের সময় তথ্য গোপন করা বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত হওয়া গুরুতর অসদাচরণ। এমন ক্ষেত্রে চাকরিচ্যুতি ছাড়াও ফৌজদারি অভিযোগ আনা হতে পারে। ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ এ ঘটনায় আরেকটি অভিযোগ উঠেছে সিটি কর্পোরেশনের এক জনসংযোগ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে তথ্য জানতে চাওয়া হলে, সেই চিঠি ফাঁস করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই কর্মকর্তার সহযোগিতায় অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন বিষয়টি আড়াল করে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। মুখোমুখি হলে কী বললেন তানভীর? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তানভীর আহমেদ প্রথমে নিজের পরিচয় অস্বীকার করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন এবং পূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত করতে অনীহা প্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এক পর্যায়ে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন । কর্তৃপক্ষের অবস্থান বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিবেদক। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে এবং তথ্য যাচাই করে সত্যতা মিললে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনমনে প্রশ্ন স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—একজন দণ্ডিত ব্যক্তি কীভাবে সরকারি দায়িত্বে বহাল থাকেন? নিয়োগ ও তদারকি প্রক্রিয়ায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি চাকরির কাঠামোতে “সহকারী প্রোগ্রামার” পদটি সাধারণত মাঝারি পর্যায়ের একটি প্রযুক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এই তুলনামূলক নিম্নপদস্থ অবস্থান থেকেই যদি কেউ বিশাল আর্থিক অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্য করার মতো গুরুতর অভিযোগের কেন্দ্রে চলে আসে, তাহলে তা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়—কীভাবে এবং কার আশ্রয়ে? তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের (ডিওআইসিটি) সহকারী প্রোগ্রামার আনজুম রিয়াসাতকে ঘিরে ঠিক এমনই এক জটিল চিত্র সামনে এসেছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকার আত্মসাত, টেন্ডার কারসাজি, তথ্য ফাঁস এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার—এসব অভিযোগে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছেন তিনি। কিন্তু অভিযোগের গুরুত্ব সত্ত্বেও, প্রশাসনিক বদলি আদেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীতে অবস্থান এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বহাল তবিয়তে থাকার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। চাকরিজীবনের সূচনা ও পরিচয়ের কৌশল ২০১৯ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরে সহকারী প্রোগ্রামার পদে যোগ দেন আনজুম রিয়াসাত। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পর থেকেই নিজের পরিচয় নির্মাণে তিনি একটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেন—নিজেকে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের এক শীর্ষ নেতার ‘ভাগিনা’ হিসেবে উপস্থাপন করা। যদিও বাস্তবে সেই সম্পর্ক ছিল দূরবর্তী—তার মা এবং ওই নেতার মধ্যে ছিল সহপাঠীর সম্পর্ক—তবুও এই “ভাগিনা” পরিচয় দ্রুতই তাকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে আলাদা সুবিধা এনে দেয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এই পরিচয় ব্যবহার করেই তিনি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে সক্ষম হন। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলে তিনি দ্রুত নিজের অবস্থান শক্তিশালী করে তোলেন। এতে করে চাকরির শুরুর দিকেই তিনি এমন কিছু দায়িত্ব ও সুযোগ পান, যা সাধারণত এই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বিরল। প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের সূত্রপাত প্রাথমিক পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে করতেই আনজুম যুক্ত হন বিভিন্ন প্রকল্পে, বিশেষ করে ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পে অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর তার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সময় থেকেই তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা প্রদান এবং আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—টেন্ডার ডকুমেন্ট নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী তৈরি করা এবং গোপন দরপত্র তথ্য আগেই নির্দিষ্ট পক্ষকে সরবরাহ করা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলার লঙ্ঘন নয়, বরং সরাসরি দুর্নীতির আওতায় পড়ে। এই সময়েই তার বিরুদ্ধে প্রথম দফায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে এবং তাকে মূল কর্মস্থল চাঁদপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বদলি করা হয়। বদলি—কাগজে-কলমে, বাস্তবে নয় ২০২৩ সালের আগস্টে আনজুমকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হলেও, বাস্তবে তিনি খুব বেশি দিন রাজধানীর বাইরে থাকেননি। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি আবার ঢাকায় ফিরে আসেন। একাধিক সূত্র জানায়, এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক তদবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও একই বছরের জুলাই মাসে আবারও তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়—দেশব্যাপী উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তার ঘাটতি পূরণের অংশ হিসেবে—তবুও সেই নির্দেশও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, আনজুম নিয়মিতভাবে বদলি আদেশ উপেক্ষা করে ঢাকাতেই অবস্থান করেছেন। মাঝে মাঝে কর্মস্থলে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ফিরে আসা—এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক নজরদারি এড়িয়ে গেছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নতুন সুযোগ ২০২৪ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আনজুমের বিশ্ববিদ্যালয়-সংযোগের এক জুনিয়র গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত হন। এই সংযোগকে কাজে লাগিয়ে আনজুম আবারও ঢাকায় সংযুক্তিতে বদলি হন—এইবার জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে। এই পদায়নের মাধ্যমে তিনি আবারও রাজধানীকেন্দ্রিক প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে প্রবেশ করেন। শুধু তাই নয়, তার ঘনিষ্ঠ আরও কয়েকজন সহকর্মীকেও একইভাবে ঢাকায় আনার অভিযোগ রয়েছে। নেটওয়ার্ক গঠন ও প্রভাব বিস্তার ঢাকায় অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর আনজুম দ্রুতই একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ স্থাপন করে তিনি নিজেকে একটি “কেন্দ্রীয় ব্যক্তি” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজেকে বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের “মেন্টর” হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি আইসিটি অধিদপ্তরের বিভিন্ন ক্রয় কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো সামনে আসে, তার মধ্যে রয়েছে: টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া গোপন দরপত্র তথ্য ফাঁস প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এই কার্যক্রমগুলোতে তিনি একাধিক সহযোগীর সহায়তা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ ও দুদকের অনুসন্ধান ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আনজুম রিয়াসাতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়—তিনি বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ২০০ কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাত করেছেন, পাশাপাশি তথ্য পাচার এবং সীমাহীন দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে ১২টি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়। তবে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সেই তথ্য এখনও দুদককে সরবরাহ করা হয়নি। এতে করে তদন্ত প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক সুরক্ষা ও অভিযোগ ধামাচাপা এই পুরো প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো—আনজুমকে রক্ষা করতে অধিদপ্তরের ভেতর থেকেই চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে অর্থ ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী: দুদকের চিঠির জবাব বিলম্বিত করা প্রশাসনিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখা বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা এই কর্মকাণ্ডগুলো শুধু একজন ব্যক্তিকে রক্ষা করা নয়, বরং পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বদলি এড়ানোর কৌশল দুদকের তদন্তের মুখে আনজুমকে আবার চাঁদপুরে বদলি করা হলেও, বাস্তবে তিনি সেখানে যোগ দেননি। বরং রাজধানীতেই অবস্থান করে বিভিন্ন মাধ্যমে আবার ঢাকায় স্থায়ীভাবে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজনৈতিক পরিচয় বদলের কৌশলও গ্রহণ করেছেন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। এই প্রক্রিয়ায় তার সহযোগী হিসেবে কয়েকজন সহকর্মীর নামও উঠে এসেছে, যারা প্রশাসনিকভাবে তাকে সহায়তা করছেন। সামগ্রিক বিশ্লেষণ আনজুম রিয়াসাতের ঘটনাটি একটি বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিফলন—যেখানে প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক একত্রে কাজ করে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে। এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে: কীভাবে একটি মাঝারি পর্যায়ের কর্মকর্তা এত বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়মে জড়াতে পারেন? কেন বারবার বদলি আদেশ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি? প্রশাসনের ভেতরে কে বা কারা তাকে সুরক্ষা দিচ্ছেন? তদন্ত প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পেছনে কী কারণ? দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্য এবং প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক—এই তিনটি উপাদান একত্রে আনজুম রিয়াসাতকে একটি আলোচিত ও বিতর্কিত চরিত্রে পরিণত করেছে। এই ঘটনা শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়; এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়—দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান কতটা নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে এগোয়, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত দুর্নীতির ঘটনা নয়, বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হবে। আর যদি যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তা ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
রাজাপুর: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের ক্যাশিয়ার ও অফিস সহায়ক পদের দুই কর্মচারী সাত বছর অনুপস্থিত থেকে প্রক্সি নিয়োগ করে বেতন তুলছেন নিয়মিত। তাদের পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে প্রক্সির মাধ্যমে দপ্তরের কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্যাশিয়ার আব্দুর রব ও অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. আনোয়ার হোসেন সাত বছর ধরে অফিসে আসেন না। তাদের হয়ে প্রক্সি দিচ্ছেন ঝুমুর নামে এক নারী ও ইসা নামে এক যুবক। মাসে সাত হাজার টাকায় তাদের প্রক্সি নিয়োগ করা হয়।সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রক্সি লোক দিয়ে অফিসের কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না। সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কাজ । এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানান তারা।অভিযোগ অস্বীকার করে ক্যাশিয়ার আব্দুর রব বলেন, “কর্তৃপক্ষের অনুরোধেই অফিসে যাই না।” কম্পিউটার অপারেটর আনোয়ার হোসেন অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন চলাফেরা করতে পারছেন না। তবে তিনি এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগ করেন।উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।উপপরিচালক মো. আলাউদ্দিন বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে; প্রক্সির কোনো বিধান নেই।
বরিশাল অফিস : বরিশাল: শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মো. সোহাগ নামে এক কর্মচারী দীর্ঘ ১২ বছর ধরে অফিস সহায়ক পদে চাকরি করছেন—যা একটি জাল সনদপত্রের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে। সোহাগ বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মগড়পাড়া গ্রামের মো. আবদুল মহিন আকন ও রহিমা খাতুনের ছেলে। সূত্র জানায়, তিনি লাকুটিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৮ম শ্রেণি পাসের সনদপত্র জমা দিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে কোনো প্রক্রিয়া বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই তিনি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, যখন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ একটি দাপ্তরিক প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেন, মো. সোহাগ কখনোই মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেননি। নথিপত্র বা রেজিস্টারও তার ছাত্রত্বের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “একজন ভুয়া সনদধারীর দীর্ঘকাল সরকারি চাকরিতে থাকা প্রশাসনিক চরম অবহেলার পরিচয়। এটি শুধু ব্যক্তিগত জালিয়াতি নয়, সরকারি ব্যবস্থার এক গভীর ফাঁক।” হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নীরবতা এবং যাচাই ব্যবস্থার ত্রুটি এই ধরনের ঘটনা জন্ম দেয়। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “ভুয়া সনদ ও দীর্ঘকাল চাকরিতে থাকার ঘটনা শুধু বরিশাল নয়, সারাদেশে সরকারি নিয়োগে সম্ভাব্য দুর্নীতির প্রতীক। সমন্বিত যাচাই-বাছাই, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ছাড়া এই ধরনের জালিয়াতি বন্ধ করা যাবে না।” এই ঘটনায় স্থানীয় সমাজে ক্ষোভের স্রোত তৈরি হয়েছে। বহু নাগরিক মনে করছেন, শুধু অভিযুক্তকে বরখাস্ত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রশাসনিক দায়িত্ব ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুনঃমূল্যায়ন জরুরি। জাল সনদ ও দীর্ঘকাল চাকরিতে থাকার এই কাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি দাবি করছে।
ঢাকা : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন করে ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রোববার (২৯ মার্চ) মন্ত্রণালয় থেকে এর অধীন দপ্তর-সংস্থা, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছিল। তবে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যত্যয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে পূর্বের নির্দেশনাগুলো পুনরায় গুরুত্ব দিয়ে ১১টি নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রতিপালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কী আছে ১১ নির্দেশনায়? নির্দেশনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিস কক্ষে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় প্রয়োজন অনুযায়ী লাইট, ফ্যান ও এসি ব্যবহার এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৫ ডিগ্রি রাখা কক্ষ ত্যাগের সময় সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখা করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমে অপ্রয়োজনীয় আলো বন্ধ রাখা অফিস শেষে সব ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ নিশ্চিত করা অনুমতি ছাড়া আলোকসজ্জা পরিহার জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া অফিসের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভিজিল্যান্স টিম গঠন কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি পর্যায়ে এই ধরনের উদ্যোগ সামগ্রিক জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।