Brand logo light

সরকারি ক্রয়

প্রাণ-আরএফএলের বিরুদ্ধে প্রভাব, ভ্যাট ফাঁকি
প্রাণ-আরএফএলের বিরুদ্ধে প্রভাব, ভ্যাট ফাঁকি ও একচেটিয়া কাজ বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ

ই-জিপিতে দ্বৈত পরিচয়ে হাজার কোটি টাকার সরকারি কাজের অভিযোগ রংপুর মেটালকে ঘিরে প্রভাব, কর ফাঁকি ও সমন্বিত দরপত্র কারসাজির বিস্তৃত তথ্য সামনে...............   ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চালু হওয়া ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পদ্ধতিকে ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানের দুটি ভিন্ন পরিচয়ে শত শত কোটি টাকার সরকারি কাজ নেওয়ার অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত “Rangpur Metal Industries Limited” এবং “Rangpur Metal Industries Ltd.” নামে পরিচালিত দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করা, ভ্যাট-ট্যাক্স গোপন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অস্বচ্ছ সম্পর্কের গুরুতর অভিযোগ। দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র, ই-জিপি রেকর্ড, সরকারি নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় এক দশক ধরে একই মালিকানাধীন এই দুই পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২১৩টি সরকারি কাজ, প্রায় ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার কার্যাদেশ অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটি অন্তত ২১৩টি সরকারি কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে— “Rangpur Metal Industries Limited” নামে প্রায় ২৮৮ কোটি টাকার কাজ “Rangpur Metal Industries Ltd.” নামে প্রায় ৭৭১ কোটি টাকার কাজ সব মিলিয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার কার্যাদেশ নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, দুটি প্রতিষ্ঠান কার্যত একই নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হলেও ভিন্ন পরিচয়ে দরপত্রে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার একটি কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ‘Limited’ বনাম ‘Ltd.’: সামান্য পার্থক্যে আলাদা পরিচয় সরকারি নথিতে দেখা গেছে, “Limited” এবং “Ltd.” শব্দ ব্যবহারের সামান্য পার্থক্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটি ই-জিপি প্ল্যাটফর্মে পৃথক সত্তা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। তবে তাদের— ব্যবসায়িক কার্যক্রম অফিস ঠিকানা পরিচালনা কাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতা আর্থিক নথি বিশ্লেষণ করলে একই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাদের অভিযোগ, এই দ্বৈত পরিচয় মূলত সরকারি কাজ ভাগিয়ে নেওয়া এবং আর্থিক হিসাবকে জটিল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। ভ্যাট সনদে অসঙ্গতির অভিযোগ একাধিক নথিতে দেখা গেছে, একটি প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র জমা দেওয়া হলেও সেখানে অন্য প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সনদ ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে টেন্ডার আইডি ১০৬৩৬৯৯ এবং ১০৬০৬৯৯ সংক্রান্ত নথিতে এই অসঙ্গতির অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, “Rangpur Metal Industries Ltd.”-এর ভ্যাট সনদ ব্যবহার করে “Rangpur Metal Industries Limited” নামে দরপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এর মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক হিসাব গোপন করে সরকারের কাছে কম কাজ দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন সরকারি ক্রয়বিধি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ইউনিক e-GP Registration ID থাকার কথা। একই নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের একাধিক পরিচয় ব্যবহার করা হলে তা Public Procurement Rules (PPR 2008)-এর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে— Rule 127: প্রতারণামূলক অংশগ্রহণ Rule 128(1): বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান —এর আওতায় বিষয়টি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ই-জিপি সিস্টেম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে একটি প্রতিষ্ঠানকে ইউনিকভাবে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু কিছু বড় প্রতিষ্ঠান নামের সামান্য পরিবর্তন, আলাদা BIN বা ভিন্ন কাগজপত্র ব্যবহার করে সিস্টেমকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে।” তার ভাষায়, “এখানে শুধু সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা নয়, ভেতরের সহযোগিতার বিষয়ও থাকতে পারে।” প্রভাব বিস্তার ও ‘পূর্বনির্ধারিত’ টেন্ডারের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠান দুটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থায় প্রভাব বিস্তার করে এসেছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে তারা কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে রয়েছে— বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকা ওয়াসা শিক্ষা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বিশেষ করে লিফট সরবরাহ ও স্থাপনের বড় প্রকল্পগুলোতে প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদাররা। একজন ঠিকাদারের ভাষ্য, “অনেক সময় টেন্ডারের শর্তই এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ যোগ্য না হয়। আবার কোথাও একই প্রতিষ্ঠানের দুই নাম অংশ নেয়। বাইরে থেকে প্রতিযোগিতা দেখালেও ভেতরে ভেতরে কাজ আগেই নির্ধারিত থাকে।” ‘Collusive Bidding’-এর আশঙ্কা ই-জিপি বিশ্লেষকদের মতে, একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে দরপত্রে অংশ নেওয়া হলে সেটি “Collusive Bidding” বা সমন্বিত দরপত্র কারসাজির পর্যায়ে পড়তে পারে। এ ধরনের কারসাজিতে— প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয় বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দামে কাজ কেনার ঝুঁকি তৈরি হয় সরকারি অর্থের অপচয় বাড়ে একজন সাবেক প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ বলেন, “ই-জিপি চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবিক হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রতিযোগিতা বাড়ানো। কিন্তু একই প্রতিষ্ঠান যদি ভিন্ন নামে অংশ নেয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।” কর ফাঁকির সম্ভাবনা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, “Rangpur Metal Industries Ltd.” এবং “Rangpur Metal Industries Limited” নামে ব্যবহৃত BIN, ভ্যাট নথি এবং আর্থিক হিসাবের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। কিছু নথিতে “RFL Regal” নামও উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের মতে, এটি আর্থিক লেনদেনকে জটিল করার কৌশল হতে পারে। এক কর বিশেষজ্ঞ বলেন, “যদি কোনো প্রতিষ্ঠান আলাদা নামে কাজ করে কিন্তু আর্থিক হিসাব একত্রে না দেখায়, তাহলে ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি হয়। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।” দুদক, BPPA ও RJSC-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তর তথ্য চেয়েছে। কিছু নথি পাঠানো হয়েছে দুদক, BPPA এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথোরিটির (BPPA) একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে RJSC-এর ভূমিকা নিয়েও। কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে, “Limited” এবং “Ltd.” মূলত একই অর্থ বহন করে। ফলে একই ধরনের নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো, সেটিও তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। আইনজীবীদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি প্রশাসনিক অনিয়মের বাইরে গিয়ে জালিয়াতি, তথ্য গোপন এবং প্রতারণার পর্যায়েও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে— কোম্পানির নিবন্ধন বাতিল কালো তালিকাভুক্তি আর্থিক জরিমানা ফৌজদারি মামলা —এসব পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ‘ব্যবস্থাগত দুর্বলতা’র বড় প্রশ্ন অভিযোগকারীদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার মালিকানা যাচাই ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি সংগঠিত প্রক্রিয়া। তাদের ভাষায়, “প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা থাকলেও প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের ঘাটতি কাজে লাগিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান পুরো ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।” দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে— BIN ও TIN তথ্য RJSC নিবন্ধন ব্যাংক লেনদেন ভ্যাট রিটার্ন e-GP কার্যক্রম গত এক দশকের ওয়ার্ক অর্ডার —বিশ্লেষণের প্রস্তাব উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার অন্যতম বড় অনিয়মের ঘটনায় পরিণত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (রবিবার) দাখিল করা ওই অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নীতিমালা উপেক্ষা করে আর্থিক অনিয়ম করেছেন। সরকারি ক্রয়ে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আসবাবপত্র, কম্পিউটার, প্রশিক্ষণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাকাটায় বাজারদরের তুলনায় বেশি মূল্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বাজারে যেখানে কম্পিউটার টেবিলের দাম ২,৫০০ থেকে ২,৮০০ টাকা এবং চেয়ারের দাম ৪,০০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা, সেখানে যথাক্রমে ৬,৫০০ ও ৮,৫০০ টাকা দরে ক্রয় দেখানো হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, কম্পিউটার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ঘোষিত কনফিগারেশনের তুলনায় নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ নেওয়া হয়েছে। কোটেশন ও ঠিকাদার নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত কোটেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ঘনিষ্ঠ বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিষ্ঠানকে কোটেশনে দেখিয়ে ভিন্ন উৎস থেকে মালামাল সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে। ভবন পরিদর্শন কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বরের একটি স্মারকের ভিত্তিতে ১৬ তলা ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র সংক্রান্ত পরিদর্শন কমিটি গঠনের সময় নিয়ম ভেঙে সদস্য সচিবকে বাদ দিয়ে নিজের পছন্দমতো ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে। নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী গ্রহণে চাপের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত উন্নতমানের মসুর ডাল সরবরাহ না হলেও তা গ্রহণে চাপ দেওয়া হয়। গ্রহণ কমিটির সদস্য সচিব আপত্তি জানালেও তাকে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পারিবারিক অনুষ্ঠানে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার মেয়ের বিয়েতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ ও উপহার সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন কর্মকর্তার কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং প্রায় ২ ভরি সোনার গহনা উপহার হিসেবে নেওয়া হয়। সরকারি গাড়ি ব্যবহারে অনিয়ম অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মার্চ ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৮৭৮ কিলোমিটার সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয় এবং প্রায় ১৯৫ লিটার জ্বালানি অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ২ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৬ ঘণ্টা অননুমোদিতভাবে গাড়ি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পদ অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ২০২১ সালে একটি মাইক্রোবাস ক্রয় এবং সাভার ও ডেমরা এলাকায় জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণের তথ্য উল্লেখ করে অভিযোগে অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রশাসনিক পদ শূন্যতা ও অতিরিক্ত দায়িত্ব অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে উপ-পরিচালক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়। এ সুযোগে সহকারী পরিচালককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি নিজেকে “ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক” হিসেবে উপস্থাপন করে প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গালিগালাজ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড সরকারি আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। মাঠ পর্যায়ে এসে দেখেন। আমি অভিযোগকারীকে চিনি না। আমার কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে এসব করা হচ্ছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0