Brand logo light

সংরক্ষিত নারী আসন

মনিরা শারমিন
মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিল: ইসির সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ নয়—হাইকোর্টের রুল

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। এর আগে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষ হয়। এ বিষয়ে আদেশের জন্য বুধবার দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান, সঙ্গে ছিলেন মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাসেদুল ইসলাম জনি। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন শুনানির কার্যতালিকা (কজলিস্ট) থেকে বাদ দেন হাইকোর্ট। মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে করা রিট শুনতে হাইকোর্ট অপারগতা প্রকাশ করেছেন বলে জানান রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ৪ মে হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং আবেদনকারী মনিরা শারমিনের বাড়ি একই সংসদীয় আসনে (নির্বাচনি এলাকা) হওয়ায় নৈতিক কারণে বিচারপতি এই মামলাটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। আবেদনটি আউট অব লিস্ট করা হয়। এরপর আবেদনটি শুনানির জন্য বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে নেওয়া হয়। সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মনিরা শারমিন ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন। ২৩ এপ্রিল রিটার্নিং কর্মকর্তা এনসিপি নেত্রীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য নন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মনিরা শারমিন ২৬ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে শুনানির পর ইসি আবেদন খারিজ করে। এরপর তিনি রিট করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
নুসরাত তাবাসসুম
সংরক্ষিত নারী আসনে নুসরাত তাবাসসুম এমপি, গেজেট প্রকাশ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের একটি আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমকে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৪ মে) রাতে গেজেটটি প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছেন ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক। তবে একই আসনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনের দায়ের করা রিট আবেদন এখনো বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের শুনানিতে ভিন্ন কোনো নির্দেশনা এলে ইসি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে কমিশন। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি। আগে আদালতের নির্দেশে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে তাকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, আইন অনুযায়ী বৈধতা পাওয়ার পর একদিন অপেক্ষার বিধান থাকলেও কমিশন দুই দিন অপেক্ষা করেছে। “যদি আদালত ভিন্ন কোনো নির্দেশনা দেন, আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব,” যোগ করেন তিনি। প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা মনিরা শারমিনের ক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংক থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে—এমন আলোচনা শুরু হয় মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ২১ এপ্রিল। সেদিন নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টার ১৯ মিনিট পর জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলে, সময়োত্তীর্ণ হওয়ায় তা প্রথমে গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরবর্তীতে ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাইয়ে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়। এর পর নুসরাত তাবাসসুম হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশনার পর ২ মে রিটার্নিং কর্মকর্তা পুনরায় যাচাই করে নুসরাতের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। ৩ মে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ভোটের সম্ভাবনা আছে কি? ইসি কর্মকর্তাদের মতে, মনিরা শারমিনের রিটের শুনানি শেষে আদালত যদি তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেয়, তাহলে ওই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে জামায়াত জোটের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা ভোট দিয়ে একজনকে নির্বাচিত করবেন। আসন বণ্টন ও বর্তমান অবস্থা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টনে নির্বাচন কমিশন বিএনপি জোটকে ৩৬টি, জামায়াত জোটকে ১৩টি এবং স্বতন্ত্র জোটকে একটি আসন দেয়। নুসরাত-মনিরার আসনটি ছাড়া বাকি ৪৯টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এবং ইতোমধ্যে শপথও নিয়েছেন। আদালত থেকে ভিন্ন কোনো নির্দেশনা না এলে, আপাতত নুসরাত তাবাসসুমকেই সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০তম সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
নুসরাত তাবাসসুম
হাইকোর্টের নির্দেশে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন গ্রহণ, সংরক্ষিত নারী আসনে একটি পদ এখনো শূন্য

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : হাইকোর্টের নির্দেশের পর সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রিটার্নিং অফিসার ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মনোনয়নপত্রের বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২ মে। এর আগে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগে গত ২২ এপ্রিল নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা বাতিল করে ইসি। পরে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। শুনানি শেষে ২৭ এপ্রিল হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। এদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে শূন্য আসনের বিপরীতে প্রার্থীর সংখ্যা সমান হওয়ায় বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোটের একজন প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছে ইসি। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত এসব সদস্যের নাম গেজেট আকারে প্রকাশের পর তা সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে। পরে তারা শপথ গ্রহণ করে সংসদের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। অন্যদিকে, নির্বাচনে জামায়াত জোট মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র সরকারি চাকরি ছাড়ার নির্ধারিত সময়সীমা পূরণ না করায় বাতিল করা হয়। সব মিলিয়ে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টির মধ্যে এখনো একটি আসন শূন্য রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
মাহমুদা মিতু
এনসিপি নেত্রী মাহমুদা মিতুর সম্পদ আছে ৩১ লাখ টাকার, স্বর্ণালংকার ৩০ ভরি,নেই বাড়ি-জমি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মাহমুদা আলমের (মিতু) ৩১ লাখ ২৮ হাজার ৭৩৫ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। এর বাইরে ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে তাঁর। গাড়ি, বাড়ি, জমিসহ কোনো স্থাবর সম্পদ তাঁর নেই। সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মাহমুদা আলমের জমা দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। হলফনামার তথ্য বলছে, ৩৭ বছর বয়সী মাহমুদা আলম এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন। তাঁর বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকা। তিনি এই অর্থ আয় করেন চিকিৎসাপেশা থেকে। হলফনামার তথ্যানুযায়ী, মাহমুদা আলমের ৩১ লাখ ২৮ হাজার ৭৩৫ টাকার (অর্জনকালীন মূল্য) অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে নগদ অর্থ আছে ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩৫ টাকা। তাঁর ইলেকট্রনিক পণ্য আছে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার। এর বাইরে ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার থাকার কথা উল্লেখ করেছেন মাহমুদা। মাহমুদা আলম মিতুর স্বামী মো. মাহবুবুর রহমানও পেশায় চিকিৎসক। হলফনামার তথ্যানুযায়ী, মাহবুবুর রহমানের অস্থাবর সম্পদ আছে ৬১ লাখ ৬ হাজার ২১৩ টাকার। এর মধ্যে নগদ অর্থ ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ২৪ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৮৯ টাকা। এ ছাড়া ১ লাখ ১২ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আসবাব রয়েছে মাহবুবুর রহমানের। মাহমুদা আলমের মতো তাঁর স্বামীরও কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। অর্থাৎ তাঁদের কোনো কৃষি বা অকৃষিজমি, বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা ভবন নেই। মাহমুদা আলম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় চিকিৎসকদের মধ্যে একজন। রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বেসরকারি সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজের সাবেক এই ছাত্রী বর্তমানে চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠকের পাশাপাশি দলের নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির সদস্যসচিব হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমে ঝালকাঠি-১ আসনে এনসিপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন মাহমুদা আলম। কিন্তু পরে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আওতায় সমঝোতার কারণে এনসিপিকে আসনটি ছেড়ে দিতে হয়। ফলে মাহমুদা আলম আর নির্বাচন করেননি। এবার সেই আসন (ঝালকাঠি-১) থেকেই তিনি সংসদে যাচ্ছেন, তবে সংরক্ষিত আসনের সদস্য হিসেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
মনিরা শারমিন
সংসদে যাওয়া হচ্ছে না মনিরা শারমিনের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এই সিদ্ধান্ত জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় মনিরা শারমিনের দাখিল করা কিছু কাগজপত্রে ঘাটতি পাওয়া যায়। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলো জমা দেওয়া হলেও সংরক্ষিত নারী আসন সংক্রান্ত আইন এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর প্রাসঙ্গিক ধারা পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি একটি স্ট্যাটিউটরি পাবলিক অথরিটি—কৃষি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। আরপিও অনুযায়ী, এমন প্রতিষ্ঠানে চাকরি ছাড়ার বা অবসরের পর নির্বাচনে অংশ নিতে কমপক্ষে তিন বছর অতিবাহিত হতে হয়। কিন্তু মনিরা শারমিনের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা পূরণ হয়নি বলে জানায় ইসি। এ কারণেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন মনিরা শারমিন। উল্লেখ্য, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর কৃষি ব্যাংকে যোগ দেন এবং রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। আইন অনুযায়ী, সরকারি বা স্ট্যাটিউটরি প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হলে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে অযোগ্য বিবেচিত হন। এদিকে এই সিদ্ধান্তের ফলে জামায়াত জোটের সংরক্ষিত নারী আসনের একটি আসন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ওই আসনটি নতুন বণ্টনে উন্মুক্ত হিসেবে গণ্য হলে তা বিএনপি জোটের দিকে যেতে পারে। দুই দিনের বাছাই শেষে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র মোর্চার একজনসহ মোট ৪৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
জেবা আমিনা
সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন: জেবা আমিনার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও সম্পদ গোপনের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী জেবা আমিনা আল গাজী'র বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব, হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন এবং একাধিক ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২ অনুবিভাগের যুগ্মসচিব ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, জেবা আমিনা আল গাজী বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। অভিযোগকারীর মতে, সংবিধানের ৬৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। সম্পদ গোপনের অভিযোগ: অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রার্থী তার নির্বাচনী হলফনামায় স্থাবর সম্পদের পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেননি। অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, রাজধানীর গুলশান এলাকায় ১০৮ নং রোডের একটি ভবনে তার নামে সাতটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ফ্ল্যাটের হোল্ডিং ট্যাক্স দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩২ লাখ টাকার বেশি। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব সম্পদের তথ্য হলফনামায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। দ্বৈত নাগরিকত্ব তথ্য: অভিযোগ পত্রের সাথে সংযুক্ত নথিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি কোম্পানির রেকর্ড উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে জেবা আমিনাকে পরিচালক হিসেবে দেখানো হয়। কোম্পানিটি পরবর্তীতে বিলুপ্ত হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তার জাতীয়তা, বসবাস এবং ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একাধিক মামলা ও অভিযোগ: অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জেবা আমিনা খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জালিয়াতি, পারিবারিক বিরোধ, সন্তানের অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত মামলা এবং সশস্ত্র হামলার অভিযোগ। তবে এসব মামলার কোনোটিরই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বা রায়ের বিষয়ে অভিযোগপত্রে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশনে তদন্তের দাবি: অভিযোগকারী নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
মনোনয়ন পেলেন না যেসব নেত্রী-তারকা
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় থেকেও মনোনয়ন পেলেন না যেসব নেত্রী-তারকা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে এতে মনোনয়ন পাননি আলোচিত অনেক প্রার্থী। এর মধ্যে রয়েছেন– সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, কনকচাঁপা, বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন, মেঘনা আলম, ফারজানা সিঁথি, প্রয়াত নাসির উদ্দীন পুন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে অপর্ণা রায়, সালাহ উদ্দিন আহমদ এর স্ত্রী হাসিনা আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলের স্ত্রী নাঈমা খন্দকার, মহিলা দলের সহ-সভাপতি বেবী মওদুদ, বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন,সামিরা তাজরিন ও মাহরীন খান। পরিচিত মুখ হিসেবে এই কয়েকজন মোটামুটি আলোচনায় ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বাছাইয়ে তারা বাদ পড়েছেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তাদের ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হতে পারে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে মোট ১ হাজার ২৫টি। তবে, জমা দিয়েছেন প্রায় ৯০০ জন। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার টাকা এবং মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়। গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সুবর্ণা সিকদার
যদি আ.লীগ নেত্রীকেই বিএনপি এমপি করে,আমাদের বোনদের কী লাভ হলো

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। সোমবার (২০ এপ্রিল) এ তালিকা ঘোষণা করা হয়। মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে এক নেত্রীকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তিনি হলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর)। তিনি দল করেন আওয়ামী লীগ, কিন্তু সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হয়ে যাচ্ছেন বিএনপি থেকে— এমন ঘটনা যদি ঘটে, তাহলে সেটি তো কম বিস্ময়ের নয়। এমনটাই ঘটেছে সুবর্ণা সিকদার এর বেলায়। বিএনপি থেকে প্রকাশিত ৩৬ জন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপির তালিকায় তার নাম রয়েছে ২৩ নম্বরে। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর শ্রিধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য ও কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা সিকদারের (ঠাকুর) বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় জেলাব্যাপী চলছে তুমুল বিতর্ক। একদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিস্ময়, ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এ ধরনের মনোনয়নকে উল্লেখ করেছেন বিএনপির দেউলিয়াত্ব হিসেবে। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িতরা করছেন নানা ধরনের মন্তব্য এবং সেইসঙ্গে বিভিন্ন ছবি দিয়ে ছুড়ছেন নানা প্রশ্ন। গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক মাধ্যমে হতাশা ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রশ্ন করেছেন, ‘আমি হতাশ! দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আমাদের বোনদের কী লাভ হলো, যদি আওয়ামী লীগের নেত্রীকেই সংরক্ষিত আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়?’ ‘তিনি কি আদৌও আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন অথবা বিএনপির সদস্য হয়েছেন’— এমন প্রশ্ন যোগ করেছেন রোমান। টিটো বৈদ্য নামে আরেকজন অভিযোগ করে লিখেছেন, ‘অফিসিয়ালি কোনও জায়গায় তিনি পদত্যাগ করেননি। আর আওয়ামী লীগের পোস্টধারী নেত্রীর কোনও ত্যাগ, শ্রম ছাড়া দুই দিনেই যদি এমপি বনে যাওয়া যায়, তাহলে এটিকে বিএনপির দৈন্য ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।’ কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১ জানুয়ারি কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই তালিকার ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য মনোনয়নপ্রাপ্ত সুবর্ণা সিকদারের (ঠাকুর) মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। সুবর্ণা ‘মতুয়া সম্প্রদায়ের’ একজন নারী। তিনি ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও পেশায় একজন শিক্ষক। এলাকাবাসীর দাবি, আলোচিত সুবর্ণা ঠাকুর গোপালঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি কীভাবে বিএনপি থেকে এমপি হবেন? যদি এমনটা হয় তাহলে বুঝতে হবে, দেশের জনগণের সঙ্গে বিএনপি তামাশা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল পুনর্গঠনের এই সময়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ বাড়লে নির্বাচনি কার্যক্রমে এর নেতিবাচক প্রতিফলন দেখা দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
বাম থেকে সৈয়দা নাখলু আক্তার ও নাদিয়া পাঠান পাপন।
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে নাদিয়া পাঠান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম। তবে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট এক নেতার ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ৩৬ জন মনোনীত প্রার্থীর তালিকায় নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম রয়েছে ৩২ নম্বরে। নাদিয়া বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মরহুম আনোয়ার হোসেন এবং জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে। শিক্ষাজীবনে তিনি দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকার বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। রাজনৈতিকভাবে নাদিয়া পাঠান পাপন ২০০০ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কলেজে পড়াকালীন তিনি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য। দলীয় সূত্র বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার পুলিশি অভিযান ও হামলার মুখে পড়েন। এদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা তার ফেসবুক পোস্টে নাদিয়ার মনোনয়নকে “রাজনীতিতে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের উদাহরণ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি নাদিয়ার মায়ের দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার কথা তুলে ধরে লিখেছেন, ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান সত্ত্বেও বিজয়নগরের সন্তান হিসেবে নাদিয়াকে অভিনন্দন জানানো উচিত। স্থানীয় পর্যায়ে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে অনেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে নানা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, কিন্তু তখন এসব প্রশ্ন তোলা হয়নি। তার দাবি, দলীয় নেতৃত্ব যাচাই-বাছাই করেই তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখন তার লক্ষ্য দলের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
রুকাইয়া জাহান চমক।
আমার রাজনীতির পথচলা শুরু-অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কুষ্টিয়া থেকে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। কিন্তু বিএনপির ঘোষিত ৩৬ জনের তালিকায় জায়গা পাননি তিনি। সেই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন ফরিদা ইয়াসমিন। এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়েছেন চমক। রোববার (২০ এপ্রিল) বেলা ৩টা ১৩ মিনিটে দেওয়া ওই পোস্টে চমক লিখেছেন, ‘কুষ্টিয়া থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত হওয়ার জন্য ফরিদা ইয়াসমিন আপাকে জানাই অনেক অনেক অভিনন্দন। আমি রাজনীতিতে একেবারেই নতুন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমার রাজনীতির পথচলা শুরু। দল থেকে যে অসামান্য সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।’তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য দেশ ও দশের সেবা করা। আমি কুষ্টিয়ার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই এবং আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চাই। আমার রাজনীতির এই নতুন পথচলায় আপনাদের সবার দোয়া ও ভালোবাসা প্রত্যাশা করছি।’

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসস
বিএনপির মনোনয়ন পাননি আফরোজা আব্বাসসহ হেভিওয়েট অনেকে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জাতীয় কমিটির সদস্যরা দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর মনোনয়ন বোর্ড এই তালিকা চূড়ান্ত করেছে। তালিকায় নতুন কিছু মুখ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় যেমন চমক তৈরি হয়েছে, তেমনি বাদ পড়েছেন দলের কয়েকজন পরিচিত ও প্রভাবশালী নেত্রী। সংরক্ষিত আসনের এই তালিকায় স্থান পাননি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস। একইভাবে সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া-ও মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আলোচনায় থাকা জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা শেষ পর্যন্ত তালিকায় জায়গা পাননি। এছাড়া মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সেলিনা হাফিজ এবং প্রয়াত নেতা মওদুদ আহমদ-এর স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদও বাদ পড়েছেন। সম্প্রতি দলে যোগ দেওয়া অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান-কে ঘিরে আলোচনা থাকলেও তিনিও তালিকায় স্থান পাননি। একইভাবে কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন-ও মনোনয়ন পাননি। অন্যদিকে, মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তালিকা দলটির অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য, নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি এবং রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত বহন করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
ফারজানা সিঁথি
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন না ফারজানা সিঁথি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য যে ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে আলোচিত তরুণ মুখ ফারজানা সিঁথির নাম নেই। ফলে তার সংসদ সদস্য হওয়ার আশা আপাতত পূরণ হয়নি। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশিত তালিকায় এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। এর আগে ১১ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন সিঁথি, যা ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। মনোনয়ন ফরম তোলার সময় তিনি বলেছিলেন, নড়াইল-২ আসন থেকে তিনি ফরম নিয়েছেন এবং চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকায় সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি। মনোনয়ন না পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ব্রিফিং করবেন এবং সেখানে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরবেন। ফারজানা সিঁথি ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শাহবাগ এলাকায় সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে আলোচনায় আসেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। পরে সমালোচনার মুখে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। যশোরের বাসিন্দা সিঁথি গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থী। তিনি এর আগে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট, বাংলাদেশ’-এর বরগুনা সদর শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
নিপুণ রায় চৌধুরী।
সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপির মনোনয়ন পেলেন নিপুণ রায় চৌধুরী, একই পরিবারে তিন এমপি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে যাওয়ার পথে রয়েছেন। দলটির পক্ষ থেকে ঘোষিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেন। ওই তালিকায় স্থান পান নিপুণ রায় চৌধুরী। এই মনোনয়নের ফলে একই পরিবারের তিনজন সদস্য জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নিপুণ রায়ের বাবা নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরা-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় চৌধুরী ঢাকা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। নিপুণ রায় চৌধুরী নিজে এবারের সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও বাবার ও শ্বশুরের নির্বাচনি এলাকায় সক্রিয় প্রচারণা চালান। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই নেত্রী বিগত সরকারের সময় একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। দলীয় সূত্র বলছে, মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের এই তালিকায় বিএনপির বেশ কয়েকজন পরিচিত ও আলোচিত নারী নেত্রী শেষ পর্যন্ত স্থান পাননি। তাদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, নাজমুন নাহার বেবী, হাসনা মওদুদ, হাসিনা আহমদ, নাঈমা খন্দকার এবং নাসিমা আক্তার কল্পনা। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের স্ত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়াও মনোনয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তবে দলীয় সূত্রের দাবি, চূড়ান্ত তালিকায় না থাকলেও এসব নেত্রীদের ভবিষ্যতে অন্যভাবে মূল্যায়ন করা হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ প্রার্থী চূড়ান্ত
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ প্রার্থী চূড়ান্ত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শেষে এই মনোনয়ন নিশ্চিত করা হয়। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানান। রিজভী বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় কমিটির সদস্যরা দুই দিন ধরে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন। সাক্ষাৎকার শেষে মনোনয়ন বোর্ড ৩৬ জনকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করে। মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন: সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা এবং নাদিয়া পাঠান পাপন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
সুবর্ণা ঠাকুর
বিএনপির এমপি হচ্ছেন আ.লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি তাদের ৩৬ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই তালিকা ঘোষণা করেন। তবে এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক ও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন গোপালগঞ্জের সুবর্ণা ঠাকুর। আওয়ামী লীগের কাশিয়ানী উপজেলার বর্তমান পদে থেকেও বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়।যদিও সুবর্ণা ঠাকুরের দাবি, তাকে না জানিয়ে আওয়ামী লীগে পদ দেওয়া হয়েছে। তিনি পদত্যাগও করেছেন। কোনোদিন কোনো মিছিল মিটিংয়ে যাননি আওয়ামী লীগের পক্ষে।  অবশ্য কবে পদত্যাগ করেছেন তা জানাতে পারেননি বিএনপির টিকিটে এমপি হতে যাওয়া এই শিক্ষক।জানা গেছে, সুবর্ণা ঠাকুর বর্তমানে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও পেশায় একজন শিক্ষক।  তবে আওয়ামী লীগের পদধারী হয়েও বিএনপির প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তার ব্যাখ্যা ভিন্ন।  তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগে তাকে যে পদ দেওয়া হয়েছে, তা তাকে না জানিয়েই দেওয়া হয়েছে। তিনি কোনোদিন দলটির কোনো মিছিল বা মিটিংয়ে অংশ নেননি।’ উল্টো নিজেকে বিএনপির লোক পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৯২ সাল থেকেই তার পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তারা নিয়মিত শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন। বেগম খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনা করেছেন। একসময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও দেখা করেছেন। মাতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করেছেন।’ বিএনপির মনোনয়ন কেনার আগেই কি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পদত্যাগ করেছি। তবে কবে করলাম সেটার তারিখ এখন মনে নেই।’ আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেত্রী হিসেবে পরিচিত সুবর্ণা ঠাকুরের নাম বিএনপির চূড়ান্ত তালিকায় আসায় দলের ভেতরে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, তারা এই সিদ্ধান্তকে ‘হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মতে, দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের মূল্যায়ন না করে এভাবে অন্য দলের পদধারী নেত্রীকে সরাসরি মনোনয়ন দেওয়া দলের আদর্শিক অবস্থানের পরিপন্থী। তারা একে ‘অনুপ্রবেশ’ হিসেবেও দেখছেন। এদিকে বিএনপির কোনো পদে না থেকেও হঠাৎ সংসদ সদস্য হতে যাওয়া সুবর্ণা ঠাকুর নিজেকে একজন যোগ্য প্রার্থী মনে করেন।  তিনি বলেন, ঠাকুর পরিবারের সদস্য হিসেবে এবং শিক্ষক হিসেবে মানুষের পাশে থাকার কারণেই তিনি এই পর্যায়ে এসেছেন। বিএনপির হাইকমান্ড তাকে বেছে নেওয়ার পেছনে তার জনসম্পৃক্ততা সুবিধা করেছে বলে মনে করেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান একাধিকবার ফোন করলেও কথা সম্ভব হয়নি। আর কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা মোল্লাকে ফোন করলে তিনি  বলেন, ‘২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তার পদ আছে। বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। পদত্যাগ করেছেন কী করেননি সেটা তিনি বলতে পারবেন না ।’ ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও মাদারীপুর-২ আসনের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য আক্ষেপ জানিয়ে লিখেছেন, কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদিকা শ্রীমতী সুবর্ণা ঠাকুরকে বিএনপি’র সংরক্ষিত নারী এমপি মনোনীত করায় মনোনয়ন বোর্ডের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। অভিনন্দন শ্রীমতি সুবর্ণা ঠাকুর।’    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার দৌঁড়ে বরিশালের  নারী নেত্রী
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার দৌঁড়ে বরিশালের নারী প্রার্থী যারা

বরিশাল অফিস :    জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়নপত্র সংগ্রহে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ফরম বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০০টি মনোনয়নপত্র  জমা পড়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রিকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নারী নেত্রীর পাশাপাশি শিক্ষক, আইনজীবী ও শিল্পীসহ নানা পেশার নারীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী নারী নেত্রীরা জানিয়েছেন, গত দেড় যুগ ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকে যারা গ্রেফতার, নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করেছেন, দল তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন। নির্বাচিত হলে তারা সংসদে নারীর অধিকার, গণতন্ত্র ও জনগণের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশাল জেলায় মনোনয়ন পেতে মাঠে আছেন ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেত্রী ডা. জাহানারা লাইজু। তার বাবা মোশাররফ হোসেন মঙ্গু বিএনপির হয়ে বরিশাল-৩ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনায় এগিয়ে আছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন। আরও আছেন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফাতেমা রহমান। ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হলে নিজের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী আফরোজা নাসরিন। তিনি বলেন, ‘আমি ৯ বার জেল খেটেছি। ৫৫টি মামলা ছিল। সাড়ে ৪ বছর আমি জেলে ছিলাম। আমার নেতৃত্বে প্রতিদিন একটা মশাল মিছিল বের করেছি। পুরো দেশে আমার মতো কোনো মেয়ে রাজপথে এভাবে আন্দোলন করেনি।’   ঝালকাঠি ঝালকাঠি জেলায় আলোচনায় আছেন দলের কেন্দ্রীয় নেত্রীদের একজন।এ জেলায় মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জীবা আমিনা খান ও বিএনপি নেত্রী মমতাজ বেগম নয়ন ।   ভোলা ভোলা থেকে এক সদস্য মনোনয়ন চাইছেন ।সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমের বোন খালেদা খানম দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী।   এ ছাড়া আছেন জেলা, উপজেলা পর্যায়ের নেত্রী এবং আইনজীবী। তারা হলেন, জেলা মহিলা দল নেত্রী সাজেদা বেগম, বোরহানউদ্দিন উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান বনি এবং নূরজাহান বেগম বিউটি।   জানতে চাইলে খালেদা খানম বলেন, ‘দলের জন্য অনেক শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছি। আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। দলের জন্য যে কাজ করেছি, দল সেটার মূল্যায়ন করবে।’   বরগুনা অন্তত চার আইনজীবী, এক শিক্ষক এবং তিন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে চান বরগুনা থেকে। এর মধ্যে আছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক আসমা আজিজ, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী শারমিন সুলতানা আসমা ।   এছাড়াও আছেন সাবেক কলেজ শিক্ষিক নূর শাহানা হক এবং আইনজীবী রঞ্জুয়ারা শিপু, মেহবুবা আক্তার জুঁই, মারজিয়া হিরা ও মীরা খান।   পিরোজপুর দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী, ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতিসহ অন্তত তিনজন পিরোজপুর জেলা থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হতে চান। তারা হলেন—বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামান, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রহিমা আক্তার হাসি এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই।   পটুয়াখালী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-২ আসন থেকে লড়ে হেরে যান সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার। এবার তার স্ত্রী সালমা আলম লিলি সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে শামিল হয়েছেন।   এ জেলায় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরও আছেন জেলা মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা বেগম সীমা, সাধারণ সম্পাদক ফারজানা রুমা, জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি লায়লা ইয়াসমিন এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সাজিয়া মাহমুদ লিনা।   দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল বিভাগ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র যারা সংগ্রহ করেছেন তারা সকলেই দলীয় মনোনয়ন পেতে জোড় তৎপরতা চালাচ্ছেন। অনেকে অতীতের আন্দোলনে ভূমিকা, দলীয় আনুগত্য ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রোফাইল (জীবনবৃত্তান্ত) তৈরি করে নীতিনির্ধারণী নেতাদের কাছে পাঠাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ জ্যেষ্ঠ নেতা ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ করে মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।   এ হিসেবে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের বিপরীতে ৩টি সংরক্ষিত নারী আসন থাকতে পারে। তবে বরিশাল  বিভাগ থেকে কারা বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন তা চূড়ান্ত হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল। ২৬ এপ্রিল আপিল আবেদনের শেষ সময়। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ হবে ৩০ এপ্রিল। আর ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
রিজিয়া পারভীন
সংগীতশিল্পী রিজিয়া পারভীনের রাজনীতিতে যাত্রা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতের জগতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে আসছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীন। এবার তিনি সংগীতের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবেশ করতে চলেছেন রাজনীতির অঙ্গনে। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এই গুণী শিল্পী। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, তার মূল লক্ষ্য দেশের মানুষের সেবা করা এবং বিশেষ করে নারীদের অধিকার ও সংস্কৃতি বিকাশে কাজ করা। রিজিয়া পারভীন বলেন, “আমার বাড়ি কিশোরগঞ্জ। সেখান থেকেই আমি আবেদন করেছি এবং সেখান থেকেই নির্বাচিত হতে চাই। আমি অবশ্যই নারীদের জন্য কাজ করতে চাই, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।” তিনি আরও জানান, একজন শিল্পী হিসেবে তিনি সংস্কৃতি অঙ্গনেও অবদান রাখতে চান। তার ভাষায়, “আমি যেহেতু একজন শিল্পী, সংস্কৃতি নিয়েও কাজ করতে চাই। এরই মধ্যে এলাকায় অনেক কাজ করেছি। প্রথমবার মনোনয়ন পেলে আমার অগ্রাধিকার থাকবে নারী উন্নয়ন ও সংস্কৃতি।” সংগীতশিল্পী হিসেবে নব্বইয়ের দশক থেকে আজ পর্যন্ত অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন রিজিয়া পারভীন। এবার তিনি মনে করছেন, সংসদে গিয়ে সরাসরি জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ পাবেন। তার এই রাজনৈতিক যাত্রা ঘিরে ইতোমধ্যে ভক্ত ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
বিএনপির সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন: ত্যাগ, পরিচিতি না নতুন মুখ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের পথে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে। দলীয় হাইকমান্ডের টেবিলে ইতোমধ্যেই একটি খসড়া তালিকা পৌঁছেছে, তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন আগামী ৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে, আর ভোটগ্রহণ নির্ধারিত হয়েছে ১২ মে। সংসদে আসনসংখ্যার অনুপাতে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি সংরক্ষিত আসন। মনোনয়ন নিয়ে কৌশল ও অনিশ্চয়তা দলের ভেতরে এখনো একটি বড় প্রশ্ন—এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া কতটা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হবে। কারণ সরাসরি নির্বাচিত ৩০০ আসনের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে সংরক্ষিত আসনের জন্য নতুন করে সাক্ষাৎকার আয়োজন করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্র বলছে, তফসিল ঘোষণার পর আগ্রহী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হতে পারে। এরপরই প্রকাশ পাবে বহুল প্রতীক্ষিত চূড়ান্ত তালিকা। আলোচনায় শীর্ষ নামগুলো মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন দলটির মহিলা শাখা ও কেন্দ্রীয় রাজনীতির পরিচিত কয়েকজন মুখ। তাদের মধ্যে রয়েছেন আফরোজা আব্বাস, নিলোফার চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আক্তার এবং রেহানা আক্তার রানু। এছাড়া সাম্প্রতিক নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত কয়েকজন নেত্রীও সক্রিয় লবিং করছেন—ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি ও নাদিরা চৌধুরী তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। পরিবার ও পরিচয়ের প্রভাব রাজনীতির পুরোনো পরিবারগুলোর উত্তরাধিকারও এই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রয়াত নেতাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ, ব্যারিস্টার সালিমা বেগম অরুনি, মাহারীন খান, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, ফারহানা চৌধুরী বেবী, সাবরিনা খান ও খাদিজাতুল কোবরা সুমাইয়ার নাম ঘুরছে জোরালোভাবে। মাঠের রাজনীতি বনাম “হাইব্রিড” বিতর্ক দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ চাইছেন, দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা ত্যাগী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। ঢাকা মহানগরের এক নেত্রী আরিফা সুলতানা রুমার ভাষায়—দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে যারা ছিলেন, তারাই যেন মূল্যায়িত হন। অন্যদিকে “হাইব্রিড” বা হঠাৎ উঠে আসা নতুন মুখদের নিয়ে রয়েছে অসন্তোষ। অনেকেই মনে করছেন, এতে প্রকৃত ত্যাগীদের মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বহুমাত্রিক বিবেচনা মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় শুধু রাজনৈতিক অবদান নয়, আরও কিছু বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে: শিক্ষাগত যোগ্যতা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সক্ষমতা সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মনে করছেন, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া নারীদেরও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। শেষ মুহূর্তের চমক? দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত—বর্তমান আলোচিত তালিকার বাইরেও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে কয়েকজন নতুন মুখ যুক্ত হতে পারেন। ফলে শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের চমক থাকতেই পারে। সব মিলিয়ে, বিএনপির এই ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন শুধু একটি মনোনয়ন তালিকা নয়—এটি হয়ে উঠেছে ত্যাগ বনাম প্রভাব, অভিজ্ঞতা বনাম নতুনত্ব এবং রাজনীতি বনাম পরিচয়ের এক জটিল সমীকরণ। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কারা পান কাঙ্ক্ষিত সেই টিকিট।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
মমতাজ ও জিবা আমিনা আল গাজী
ঝালকাঠিতে মমতাজ ও জিবা আমিনা আলোচনায়, সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ১২ মে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর থেকে অদ্যবধী ঝালকাঠিতে সংরক্ষিত নারী এমপি হয়নি কেউ। তবে এবার বরিশাল অঞ্চলে যারা আলোচনায় আছেন তাদের মধ্যে ঝালকাঠিতেই রয়েছেন দু'জন। এবার রাজাপুরের কৃতি সন্তান বিএনপি নেত্রী মমতাজ বেগম নয়ন আলোচনায় রয়েছেন। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা ত্যাগী নেত্রী হিসেবে হাইকমান্ডে তার অনেকটা সাড়াও রয়েছে। সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সু-দৃষ্টিতেই ছিলেন এই নেত্রী। ছাত্রদল করাবস্থায় রাজধানী ঢাকায় বিএনপি দলীয় সকল কর্মসূচিতে মমতাজ ছিলো প্রথম সাড়িতে। পুলিশের লাঠিচার্জ, বিরোধী দলীয় ক্যডারদের হামলা, রাজনৈনিক মামলা ছিলো তার নিত্যসঙ্গী। তিনি বরিশাল বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, বিমানবন্দর ও সিটি কর্পোরেশন গঠনে  বিভিন্ন দাবিদাওয়ার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। "পদ্মা সেতু মাওয়ায় চাই" আন্দোলন স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। অপরদিকে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ সভাপতি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিবা আমিনা আল গাজী ঢাকায় তবীর করছেন বলেও জানাগেছে। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাকে ঝালকাঠি ২ আসন থেকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছিলো। তিনি আমির হোসেন আমুর সাথে পরাজিত হন। জিবা আমিনা আল গাজীর বাবা মরহুম ব্যারিস্টার আক্তার উদ্দীন আহমেদের পারিবারিক ঐতিহ্য রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।  এদিকে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান জনতা ব্যংকে চাকুরী করাবস্থায় তিনি জনতা ব্যাংক জাতীয়তাবাদী অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও জাতীয়তাবাদী পেশাজীবি পরিষদের নির্বাহী সদস্য, জিয়া পরিষদ জনতা ব্যাংক শাখার সমাজ কল্যাণ সম্পাদক, জাসাস জনতা ব্যাংক প্রতিষ্ঠানিক ইউনিটের মহিলা বিষয়ক সম্পাদ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে চাকুরী হারানোর ভয় না করা এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম জিযার সান্নিধ্যে থেকে কাজ করা মমতাজ এবার তার ত্যাগের মুল্যায়ন পবে বলে আশাবাদী ঝালকাঠি জেলার মানুষ। সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন প্রসঙ্গে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, বিএনপি ও তাদের জোটের জন্য ৩৬টি আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট পাবে ১৩টি আসন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে ১টি আসন। সব মিলিয়ে মোট আসন সংখ্যা ৫০টি। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করা এই দুই নেত্রীর মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পান, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
রুমিন ফারহানা
সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন: জোটে যাচ্ছেন না স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা

সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের আসন্ন নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে সোমবার (৩০ মার্চ) এ তথ্য জানা গেছে। ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠিতে দলগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়—তারা জোটগতভাবে নাকি স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী দেবে। এর জবাবে রুমিন ফারহানা কমিশনকে জানিয়েছেন, তিনি কোনো জোটে যোগ দেবেন না। ফলে এই নির্বাচনে তিনি কেবল একজন ভোটার হিসেবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কোনো দল বা জোটের পক্ষে প্রার্থী মনোনয়নে তার ভূমিকা থাকবে না। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। বিদ্যমান আইনে সংসদে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী, যেসব দলের সংসদে সদস্য সংখ্যা বেশি, তারা বেশি সংখ্যক সংরক্ষিত আসন পায়। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন আনুপাতিক হার নির্ধারণ এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা চাইলে কোনো জোটে যোগ দিয়ে তাদের ভোট জোটের অনুকূলে দিতে পারেন, যা সংশ্লিষ্ট জোটের আসন সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তবে রুমিন ফারহানা সেই সুযোগ গ্রহণ না করে স্বতন্ত্র অবস্থানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
মমতাজ বেগম নয়ন
সংরক্ষিত আসনে সংসদে যেতে চান নারীনেত্রী মমতাজ বেগম নয়ন

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু। সম্ভাব্য সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে অনেক নেত্রীই সংসদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ দৌড়ে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপির সক্রিয় নেত্রী মমতাজ বেগম নয়ন। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে তিনি মনোনয়ন পেতে পারেন—এমন গুঞ্জন এখন দক্ষিণাঞ্চলসহ ঝালকাঠি জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।   মমতাজ বেগম নয়ন ঝালকাঠি -১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।তিনি ছাত্রদলের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা,জনতা ব্যাংক জাতীয়তাবাদী অফিসার্স কল্যান সমিতির সাবেক সহ সভাপতি,জাতীয়তাবাদী পেশাজীবি পরিষদের সাবেক নির্বাহী সদস্য,জাসাস জনতা ব্যাংকের সাবেক মহিলা সম্পাদিকা ছিলেন।সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও সমাজ সেবায় দেশ ও বিদেশে বিশেষ অবদান রেখেছেন তিনি।স্বর্নপদক প্রাপ্ত মমতাজ বেগম নয়ন সংরক্ষিত আসনে সংসদে যেতে পারলে দেশের উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখবেন বলে জানান বিএনপির নেতা -কর্মীরা     বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সক্রিয় এ নেত্রী ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার  বাসিন্দা।মমতাজ বেগম নয়ন দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির পাশাপাশি ব্যাংকিং পেশায় জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বিগত ফ্যাসিসরট সরকারের সময়ে আন্দোলন -সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন।  তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে দক্ষিনাঞ্চলবাসীর কাছে বেশ পরিচিত নাম মমতাজ বেগম নয়ন।   স্থানীয়রা জানান, তিনি দীর্ঘ বছর যাবৎ পদ্মায় মাওয়া সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলন,মানবাধিকার,বরিশাল বিভাগ বাস্তবায়ন,বরিশাল বিমানবন্দর বাস্তবায়ন,বরিশাল শিক্ষা বোর্ড,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন আন্দোলন করেছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হন ছাত্রবস্থায়।দল যখন যে দ্বায়িত্ব দিযেছেন তা সফলতার সাথে  পালন করেছেন।   এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। রাজনৈতিক অবস্থান :  ১. সাবেক ছাত্রদল নেত্রী। (মহিলা সম্পাদিকা)। ২. সাবেক সহ সভাপতি। জনতা ব্যাংক জাতীয়তাবাদী অফিসার্স কল্যাণ সমিতি, ঢাকা। ৩. সাবেক নিবাহী সদস্য। জাতীয়তাবাদী পেশাজীবি পরিষদ ঢাকা। ৪. সাবেক সমাজ কল্যাণ সম্পাদিকা। জিয়া পরিষদ জনতা ব্যাংক শাখা, ঢাকা। ৫. সাবেক মহিলা সম্পাদিকা। জাসাস জনতা ব্যাংক প্রতিষ্ঠানিক ইউনিট। * বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা। সামাজিক অবস্থান :  ১. পদ্মা মাওয়া সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলনের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য। ২. ঢাকাস্থ বরিশাল বিভাগ সমিতির সহ সভাপতি। ৩. শেরেবাংলা গবেষনা পরিষদের উপদেষ্টা। বরিশাল বিভাগীয় প্রদান। ৪. সাবেক ২নং শুক্তাগড় ইউনিয়ন পরিষদের উপদেষ্টা। রাজাপুর, ঝালকাঠি। ৫. ঝালকাঠি জেলা যুব পরিষদের মহিলা সম্পাদিকা ৬. ঢাকাস্থ বরিশাল বিভাগীয় যুব সমিতির নির্বাহী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ৭. সিনিয়র সহ সভাপতি। মানবাধিকান নির্যাতন সোসাইটি (এম এন সিএ) ৮. মহিলা সম্পাদক। বরিশাল বিভাগ অফিসার্স এসোসিয়েশন (বিবিওএ) ৯. বরিশাল বিভাগ বাস্তবায়ন কমিটির সক্রিয় কার্যকরি সদস্য। ১০. বরিশাল বিমান বন্দর বাস্তবায়ন কমিটির সক্রিয় সদস্য। ১১. বরিশাল শিক্ষা বোর্ড স্থাপনে সক্রিয় ভূমিকা। ১২. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সক্রিয় ভূমিকা। ১৩. দূর্যোগকালীন সময়ে ত্রান বিতরন এ সক্রিয় অংশ গ্রহন। প্রাপ্ত পুরস্কার :  ১. আন্তজাতিক মাতৃভাষা স্বর্ণপদক। ঢাকা প্রেস ক্লাব। ২. মাদার তেরেসা গোল্ড মেডেল-২০০৯ মাদার তেরেসা রিসার্চ কাউন্সিল, ঢাকা। ৩. মহানগরী গোল্ডমেডেল-২০১২ ৪. অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক-২০১২ অতীশ দীপঙ্কর গবেষণা পরিষদ, ঢাকা। ৫. মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড-২০১৩ মহাত্মা গান্ধী পরিষদ, ঢাকা। ৬. বিশ্ব পরিবেশ সম্মাননা-২০১৩ ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ল্ড, কলকাতা, ভারত। ৭. মাদার তেরেসা এ্যাওয়ার্ড-২০১৪ শেরে বাংলা একে ফজলুল হক গবেষনা পরিষদ। ৮. হিউম্যান রাইটস শাইনিং পার্সোনালিটি এ্যাওয়ার্ড-২০১৯ বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষন সংস্থা। ৯. মহাত্মা গান্ধী কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড-২০১৯ ও বেঙ্গল এ্যাডুকেশন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। কলকাতা, ভারত। ১০. মাদার তেরেশা শাইনিং পার্সোনালিটি এ্যাওয়ার্ড-২০২২ বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষন সংস্থা। ১১. আন্তর্জাতিক জলঙ্গী বাংলা কবিতা উৎসব-২০২২ জলঙ্গী সাংস্কৃতিক মঞ্চ কলকাতা, ভারত। ১২. জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব শান্তি দিবস উপলক্ষে ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড-২০২৩ বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষন সংস্থা। ১৩. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ স্মৃতি পদক-২০২৩ বিশ্ব বিনা কবিতা ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ। ১৪. নেপাল ইন্টারন্যাশনাল এক্সসেলেন্স এ্যাওয়ার্ড-২০২৪ ১৫. নেপাল-বাংলাদেশ ফেন্ডশীপ এসোসিয়েশন (এনবিএফএ)। এছাড়া সমাজ সেবায় দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক অসংখ্য স্বর্ণ পদকে ভূষিত হোন তিনি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) হতে নারী আসনে ২০০৫ সালে সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রার্থী এবং ঝালকাঠি-১ আসনে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল হতে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। বিগত দিনে আন্দোলন- সংগ্রামের সক্রিয় ভূমিকা এবং জুলাই/ ২৪ আন্দোলনে অংশ গ্রহন করেন। মমতাজ বেগম নযন সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তিনি অবসর গ্রহণের পর এখন পুরোপুরি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।  তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে পৌঁছে দিতে দিনরাত কাজ করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মামলা-হামলা, হয়রানি ও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বহুবার। আর্থিকভাবে হয়েছেন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। এর ফলে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার রাজনৈতিক, সামাজিক দায়িত্ব পালন, গ্রহণযোগ্যতা ও সামাজিক অবদানের কারণে দলমত নির্বিশেষে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত। তার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তাকে সংরক্ষিত আসনে নারী সংসদ সদস্য পদে দেখতে চান বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে দেখতে চান দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ।তাদের আশা, তিনি সংসদে যেতে পারলে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন এবং নারী সমাজের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।   মনোনয়ন প্রত্যাশী মমতাজ বেগম নয়ন জানান,  জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী আসন ১৯০, ঢাকা -১৭ এর গুলশান থানার প্রচার উপ-কমিটি ও  নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য  হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এসময় তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে  পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দলীয় ৩১ দফার বার্তা পৌঁছে দেন। জনগণের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। এসময় স্থানীয়দের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বেড়েছে। তার দাবি, তাকে মনোনীত করা হলে ঝালকাঠির উন্নয়ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবেন তিনি। মমতাজ বেগম নয়ন একজন মানবিক সমাজ সেবক।তিনি সংসদে যেতে পারলে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ সর্বশ্রেনীর মানুষের। একটি সমৃদ্ধশালী, আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠন এবং নারী সমাজের উন্নয়নে  নিজেকে সারা জীবন সম্পৃক্ত রাখাই  তার জীবনের মহান  ব্রত বলে জানান মমতাজ বেগম।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0