Brand logo light

শ্রমিক অধিকার

উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে
মে দিবস: আলাদা কোনো তাৎপর্য নেই উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের কাছে

  ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বহু জেলের কাছে মে দিবসের কোনো আলাদা তাৎপর্য নেই। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন সমুদ্রে ছুটে চলা এসব শ্রমজীবী মানুষ অধিকাংশ সময়ই ব্যস্ত থাকেন মাছ ধরার কাজে। ফলে দিবসটির ইতিহাস বা গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের মধ্যে সচেতনতা খুবই সীমিত। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা—পশ্চিমে সুন্দরবনসংলগ্ন বলেশ্বর নদী, পূর্বে বিষখালী নদী এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর—এই অঞ্চলজুড়ে হাজারো মানুষের জীবিকা নির্ভর করে মৎস্য পেশার ওপর। স্থানীয়ভাবে তারা পরিচিত জেলে শ্রমিক হিসেবে। তবে প্রতিনিয়ত রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করলেও তাদের অনেকেই মনে করেন, তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে “শ্রমিক” হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। “আমাদের কোনো দিবস নেই, আমরা শুধু কাজ করে খাই”—এভাবেই নিজের অবস্থার বর্ণনা দেন একাধিক জেলে। “মোগো মে দিবস নাই” জেলে ফারুক হোসেন বলেন, “দাদন নিয়ে সাগরে যাই মাছ ধরতে। মাছ পেলে ১৬ ভাগের ৮ ভাগ মালিকের। বাকি ৮ ভাগ ৮ থেকে ১৮ জন জেলের মধ্যে ভাগ হয়। বাজার-সদাইয়ের খরচ শেষে লাভ থাকলে কিছু পাই, না থাকলে কিছুই না। এত কষ্ট করেও কেউ আমাদের শ্রমিক মনে করে না।” ৬৩ বছর বয়সী আবদুর জব্বার চার দশকের বেশি সময় ধরে সাগরে মাছ ধরছেন। তিনি বলেন, “জীবন বাজি রেখে সাগরে যাই। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে কতবার পড়েছি, হিসাব নেই। এখন বয়স হয়েছে, তবুও থামার উপায় নেই।” তিনি মাছ ধরার পাশাপাশি জাল বুনেও আয় করেন। ইসমাইল হোসেন নামের আরেক জেলের কাছে দিবসের চেয়ে কাজই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। “দিবস দিয়ে কী হবে? কাজ না করলে খাব কী? সারাদিন জাল বুনে ৪০০ থেকে ৪৩০ টাকা পাই, তাও নিয়মিত না,” বলেন তিনি। ঝুঁকির মধ্যে জীবন পাথরঘাটার ছগির হোসেন, আলতাফ মিয়া, হায়দার আলী, এমাদুলসহ অধিকাংশ মানুষই মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। পরিবার-পরিজন ছেড়ে অনিশ্চিত সাগরে জীবন বাজি রেখে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) মৎস্য খাতের অবদান প্রায় ৩.৫০ শতাংশ। তবুও এই খাতের শ্রমিকদের অনেকেই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। স্বীকৃতির দাবি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর গবেষক এস. এম. জাকির হোসেন বলেন, “উপকূলের জেলেরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। কখনো জলদস্যুর হাতে, কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারান। তবুও তাদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।” তার মতে, সাগরে অবস্থানকালে জেলেদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই—তারা প্রায় ২৪ ঘণ্টাই কাজ করেন। জেলেদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, “মৎস্য খাতে শুধু মাছ ধরা নয়, জাল বোনা, ট্রলার মেরামত, বরফ উৎপাদনসহ নানা কাজে হাজারো মানুষ জড়িত। কিন্তু এই শ্রমিকদের নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা বা নীতিগত উদ্যোগ নেই।” তিনি আরও বলেন, “শহরের শিল্প বা গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে যত আলোচনা হয়, উপকূলের জেলেদের ক্ষেত্রে তা হয় না। এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো তাদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।” মৃত্যুঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে বৈরি আবহাওয়ার কারণে বরিশাল বিভাগে সমুদ্রগামী ২৫৯ জন জেলের মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়। এছাড়া একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১৮৮ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। এই বাস্তবতায়, মে দিবস যখন শ্রমিক অধিকার ও মর্যাদার প্রতীক, তখন উপকূলের অনেক জেলের কাছে তা এখনও অচেনা এক দিন—যেখানে তাদের শ্রম, ঝুঁকি ও অবদান অদৃশ্যই থেকে গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১, ২০২৬ 0
মে দিবসে  শ্রমিকদের বিক্ষোভ
মে দিবসে শ্রমিকদের বিক্ষোভ: মজুরি বৃদ্ধি, শ্রম আইন বাস্তবায়নসহ নানা দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানী ঢাকায় মহান মে দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রমিক, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে ব্যাপক সমাবেশ ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিজেদের অধিকার আদায় এবং দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরতে হাজারো শ্রমজীবী মানুষ রাজপথে অংশ নেন। শুক্রবার (১ মে) সকাল ৯টা থেকে তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন শ্রমিকরা। এসময় গান, স্লোগান এবং বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। সমাবেশে অংশ নেওয়া বিভিন্ন সংগঠন শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অভিন্ন ও পৃথক দাবি তুলে ধরে। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, কর্মঘণ্টা সীমিতকরণ, ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধ, নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান। এছাড়া শ্রমিকরা রানা প্লাজা ও তাজরিন ট্র্যাজেডিসহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের বিচার দাবি করেন। তারা ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস নিশ্চিত করা, বাধ্যতামূলক ওভারটাইম বন্ধ, ট্রেড ইউনিয়ন করার স্বাধীনতা এবং বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর দাবিও জানান। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ফ্রন্টের নেতারা বলেন, নতুন সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা— যেন শ্রমিকদের বারবার রাজপথে নামতে না হয়। তারা একটি গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়নের দাবি জানান, যা ছাড়া শ্রমিকদের প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) নেতারা ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। তাদের মতে, এই দাবি বাস্তবায়ন না হলে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব নয়। সমাবেশে শ্রম আইন বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়। শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, মালিকপক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে তাদের ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা করে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পে শুল্ক না বাড়ানো, মজুরি বৃদ্ধি, কর বৈষম্য দূর করা এবং রেশন সুবিধা চালুর দাবি জানায়। পাশাপাশি নকল বিড়ি উৎপাদন বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামরিক চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে বন্দর আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার দাবি জানায়। এদিকে সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষ থেকে মজুরি বোর্ড গঠন এবং ন্যূনতম মজুরি ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। সমাবেশে কর্মজীবী নারী সংগঠন, গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠন, টেলিকমিউনিকেশন শ্রমিক ইউনিয়ন, হকার্স ইউনিয়নসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন অংশ নেয়। মে দিবসের এই কর্মসূচিতে শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা এবং ন্যায্য জীবনের দাবিই ছিল মূল প্রতিপাদ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১, ২০২৬ 0
রানা প্লাজা
রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর: এক হাজারের বেশি প্রাণহানির ঘটনায় শেষ হয়নি বিচার প্রক্রিয়া

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের ভয়াবহ ট্র্যাজেডির পর ১৩ বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমজীবী মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন প্রায় দুই হাজার মানুষ, যাদের অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া ছয়টি মামলার মধ্যে এখনো অধিকাংশের বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলাগুলো ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র জানিয়েছে।  মামলার অগ্রগতি রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের হওয়া ছয়টি মামলার মধ্যে একটি দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। ২০১৭ সালে ওই মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়। বাকি মামলাগুলোর মধ্যে— ভবন নির্মাণে দুর্নীতির মামলা যুক্তিতর্ক পর্যায়ে রয়েছে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে রাজউকের দায়ের করা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের মামলার কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি বা পুনরায় নিম্ন আদালতে পাঠানো হয়েছে হত্যা মামলাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে  হত্যা মামলার সর্বশেষ অবস্থা হত্যা মামলায় মোট ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার পর আদালত ধীরে ধীরে অগ্রগতি পাচ্ছে। আদালত আগামী ৩০ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, চলতি বছরের মধ্যেই রায় ঘোষণা সম্ভব হতে পারে যদি সাক্ষ্যগ্রহণ দ্রুত শেষ হয়। অন্যদিকে আসামিপক্ষ দাবি করছে, ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা থেকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে সঠিক নয়। আসামি ও বিচার প্রক্রিয়া মোট ৪১ জন আসামির মধ্যে— সোহেল রানা কারাগারে আছেন ১৩ জন পলাতক ২৫ জন জামিনে আছেন ২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন দুদকের মামলা ও অন্যান্য বিচার দুদকের করা ভবন নির্মাণ দুর্নীতি মামলাটি বর্তমানে যুক্তিতর্ক পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় সব সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুটি মামলাও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে, যেখানে সোহেল রানাই একমাত্র আসামি। রাজউকের করা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির অবস্থায় ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিচারিক কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হয়নি।  ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা রানা প্লাজা ধসের ঘটনায়— নিহত: ১,১৩৬ জন আহত: প্রায় ২,৪৩৮ জন উদ্ধার গুরুতর আহত ও পঙ্গু: ১,৫২৪ জন অশনাক্ত লাশ দাফন: ২৯১ জন (ডিএনএ সংরক্ষণসহ) ঘটনার পর ২০১৩ সালের ২৯ এপ্রিল বেনাপোল সীমান্ত থেকে ভবন মালিক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
রানা প্লাজায় আহত
রানা প্লাজা ধস: ক্ষতিপূরণ পেলেও তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রানা প্লাজা ধসের এক দশকেরও বেশি সময় পরও ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থামেনি। সরকারি ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনায় গঠিত একটি কাঠামোবদ্ধ তহবিলের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি বড় অংশ সহায়তা পেলেও, এর বাইরে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ—যার অনেকগুলোরই এখনো নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি। ক্ষতিপূরণের কাঠামো: একটি আন্তর্জাতিক মডেল রানা প্লাজা ধসের পর গঠিত ‘রানা প্লাজা ক্লেইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ কমিটি ছিল ক্ষতিপূরণ বণ্টনের মূল কেন্দ্র। সরকার, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এই তহবিল পরিচালিত হয়। এই ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে মেডিক্যাল অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয় কে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত। সেই অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হয়— অঙ্গহানির ক্ষেত্রে এককালীন অর্থ না দিয়ে ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) করা হয় সাধারণত ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকার মধ্যে এই আমানত নির্ধারণ করা হয় নিহত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তাদের আয় অনুযায়ী নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ বণ্টন করা হয় এই প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের আপত্তি পাওয়া যায়নি, এবং সংশ্লিষ্টরা এটিকে তুলনামূলক স্বচ্ছ ও কাঠামোবদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করেন। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু: বেসরকারি উদ্যোগ তবে বিতর্ক শুরু হয় তহবিলের বাইরে সংগৃহীত অর্থ নিয়ে। ২০২৩ সালে অভিযোগ ওঠে, রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চ্যারিটি আয়োজনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হলেও সেই অর্থ ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছেনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেটের একটি আদালতে মামলা দায়ের করেন এক মানবাধিকার সংগঠনের প্রধান। অভিযোগে বলা হয়, লন্ডনে আয়োজিত কয়েকটি অনুষ্ঠানে একজন নিখোঁজ শ্রমিকের ছবি ব্যবহার করে প্রায় ২৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ: “নাম ব্যবহার, টাকা নয়” ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের একাংশের বক্তব্যে উঠে এসেছে হতাশা ও ক্ষোভ। পারুল বেগম, যিনি ধসে গুরুতর আহত হয়েছিলেন, বলেন— তার চিকিৎসা ব্যয় এখনও মাসে ৮-১০ হাজার টাকা। সরকারি সহায়তা পেলেও বেসরকারি সংস্থা থেকে তিনি পেয়েছেন মাত্র কয়েক হাজার টাকা। তার ভাষায়: “আমাদের নাম দিয়ে কোটি কোটি টাকা আনা হয়, কিন্তু আমরা পাই খুব সামান্য।” একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলেন মাসুদা আক্তার। তার দাবি, বিভিন্ন মিটিং-মিছিল ও প্রচারণায় তাদের ব্যবহার করা হয়েছে বিদেশ থেকে অর্থ আনার কথা বলা হলেও বাস্তবে তারা পেয়েছেন নামমাত্র সহায়তা তার অভিযোগ, “মানুষ দেখিয়ে টাকা আনা হয়েছে, কিন্তু শ্রমিকদের হাতে তা পৌঁছায়নি।” সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া: প্রমাণের অভাব অভিযোগের বিষয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, এ ধরনের অভিযোগ শোনা গেলেও তার কাছে নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির পক্ষ থেকে বলা হয়— সরকারি ও আন্তর্জাতিক তহবিলের অর্থ সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে গেছে সেখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ ছিল না তবে তারা স্বীকার করেন, আইনে নির্ধারিত পূর্ণ ক্ষতিপূরণ অনেকেই পাননি এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রতিশ্রুতিও আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। স্বচ্ছতার প্রশ্ন: “হিসাব প্রকাশ জরুরি” শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, সমস্যার মূল জায়গা হলো স্বচ্ছতার অভাব। অভিযোগগুলো প্রমাণ করা কঠিন হলেও কিছু সাধারণ বিষয় উঠে এসেছে— অল্প সহায়তা দিয়ে বড় অঙ্কের প্রচারণা চিকিৎসা খরচে অতিরিক্ত বিল দেখানোর অভিযোগ সহায়তার নামে স্বাক্ষর নেওয়ার অসঙ্গতি তাদের মতে, সমাধানের একমাত্র পথ হলো: কে কত টাকা সংগ্রহ করেছে কোথা থেকে এসেছে কাকে কত দেওয়া হয়েছে এই পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা। তদন্তের দাবি জোরালো শ্রমিকনেতা ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অভিযোগগুলো শুধু বিচ্ছিন্ন নয়, বরং দীর্ঘদিনের। তাদের দাবি— স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর জবাবদিহি ভবিষ্যতের জন্য স্বচ্ছ তহবিল ব্যবস্থাপনা অসম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রানা প্লাজা ধসের পর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই এখনো অপূর্ণ— আহতদের আজীবন চিকিৎসা পুনর্বাসন স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা সময়ের সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাতেও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। শেষ কথা রানা প্লাজা শুধু একটি শিল্প দুর্ঘটনা নয়, এটি শ্রমিক অধিকার, করপোরেট দায়বদ্ধতা এবং মানবিক ন্যায়বিচারের একটি বৈশ্বিক প্রতীক। কিন্তু এক দশক পরও যদি প্রশ্ন থেকে যায়— কে কত পেল, কে কত নিল— তাহলে তা শুধু অতীতের ব্যর্থতা নয়, ভবিষ্যতের জন্যও একটি সতর্কবার্তা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0