Brand logo light

শিশু মৃত্যু

ইউনূস সরকার
বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ৪০৯ মৃত্যুতে টিকার গ্যাপ, স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলন ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অনুসন্ধান

স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলন, বন্ধ টিকাদান—তারপরই ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাব : ৫ বছর ক্যাম্পেইন হয়নি: কীভাবে ৪০৯ শিশুমৃত্যুর পথে গেল বাংলাদেশ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৪০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ৫৬ জেলায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, হঠাৎ এই পরিস্থিতির পেছনে কোনো অবহেলা বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শুরুর আগেই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণকে সামনে আনছেন— করোনা মহামারির সময় টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, গত পাঁচ বছরে জাতীয় হাম ক্যাম্পেইন না হওয়া, স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে মাঠপর্যায়ের টিকাদান বন্ধ থাকা এবং এক বছর ধরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন স্থগিত থাকা। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এসব কারণ মিলেই দেশে “ইমিউনিটি গ্যাপ” তৈরি করেছে, যার ফল এখন প্রাণঘাতী আকারে সামনে এসেছে। টিকা ছিল, কিন্তু ক্যাম্পেইন হয়নি নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইপিআই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামের এমআর টিকার কখনও বড় ধরনের সংকট ছিল না। বরং চলমান বিশেষ ক্যাম্পেইনের টিকাও দেশে পৌঁছেছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে। তাদের দাবি, টিকা হাতে থাকার পরও কয়েক দফায় পরিকল্পনা বদলানো হয়। প্রথমে টাইফয়েড টিকা ক্যাম্পেইন, পরে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি, এরপর জাতীয় নির্বাচন—সব মিলিয়ে হামের জাতীয় ক্যাম্পেইন বারবার পিছিয়ে যায়। ফলে, যে বিশেষ ক্যাম্পেইন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হওয়ার কথা ছিল, সেটি শেষ পর্যন্ত শুরু হয় চলতি বছরের ২০ এপ্রিল। কিন্তু তখন পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ছড়িয়ে পড়ে। জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ ড. তাজুল ইসলাম বারী বলেন, “২০২১ সালের পর আর জাতীয় ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের বড় একটি অংশ জমতে থাকে। গত সেপ্টেম্বরে আসা টিকা দিয়ে যদি দ্রুত ক্যাম্পেইন করা যেত, তাহলে হয়তো এত বড় আউটব্রেক এড়ানো সম্ভব হতো।” কাগজে উচ্চ কভারেজ, বাস্তবে বড় ঘাটতি? সরকারি তথ্যের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে অসামঞ্জস্য। ২০২৩ সালের কভারেজ মূল্যায়ন সমীক্ষা অনুযায়ী, এমআর-১ টিকার কভারেজ ২০১৯ সালের ৮৮.৬ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়ায় ৮৬ শতাংশে। একই সময়ে এমআর-২ কভারেজ ৮৯ শতাংশ থেকে নেমে আসে ৮০.৭ শতাংশে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের অর্থ হলো লাখ লাখ শিশু কার্যত হামের ঝুঁকিতে থেকে গেছে। তবে ইপিআইয়ের আরেক সেট তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালে রুটিন এমআর টিকার কভারেজ ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশের কাছাকাছি। এমনকি ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসেও এমআর-১ কভারেজ ৯৭.৯৬ শতাংশ এবং এমআর-২ কভারেজ ৯৫.৬৭ শতাংশ দেখানো হয়। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে হঠাৎ এমআর-১ কভারেজ নেমে আসে ২৭.৭৬ শতাংশে এবং এমআর-২ হয় ২৬.৭৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হঠাৎ পতনই আউটব্রেকের বিস্ফোরণ ঘটাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনে থেমে যায় মাঠপর্যায়ের টিকাদান দেশব্যাপী প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারীরা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি, নিয়োগবিধি সংশোধন ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদার দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। ২০২৫ সালে অন্তত তিন দফা কর্মসূচি পালন করেন তারা। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে ডিসেম্বর মাসে, যখন প্রায় পুরো মাসজুড়ে অস্থায়ী টিকাকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. ওয়াসি উদ্দিন রানা বলেন, “ডিসেম্বরজুড়ে আমরা আন্দোলনে ছিলাম। অস্থায়ী টিকাকেন্দ্রগুলোতে কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কিছু স্থায়ী কেন্দ্রে সীমিত টিকাদান চলেছে।” ইপিআইয়ের তৎকালীন উপ-পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ স্বীকার করেন, আন্দোলনের সময় টিকাদান কার্যক্রমে “গ্যাপ” তৈরি হয়েছিল। তার ভাষায়, “ইপিআই থেকে টিকা সরবরাহে কোনো ঘাটতি হয়নি। কিন্তু মাঠপর্যায়ে অস্থায়ী টিকাকেন্দ্র বন্ধ থাকায় শিশুদের বড় অংশ টিকার বাইরে থেকে যায়।” পাঁচ বছর বন্ধ ছিল জাতীয় ক্যাম্পেইন বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় হাম ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এবং শেষ হয় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর নতুন ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুটিন টিকাদানে বাদ পড়া শিশুদের জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে কভার করার কথা। কিন্তু টানা প্রায় পাঁচ বছর এমন ক্যাম্পেইন না হওয়ায় লাখ লাখ শিশু ঝুঁকির মধ্যে জমা হতে থাকে। এটিকেই তারা “পুঞ্জীভূত ইমিউনিটি গ্যাপ” হিসেবে বর্ণনা করছেন। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকাও বাড়িয়েছে মৃত্যুঝুঁকি রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হাম নিজে যতটা বিপজ্জনক, তার চেয়েও মারাত্মক হয়ে ওঠে অপুষ্টি ও নিউমোনিয়ার সঙ্গে মিলিত হলে। বাংলাদেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের বছরে দুবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সর্বশেষ ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। এরপর আর কোনো জাতীয় কর্মসূচি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এই ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকায় অপুষ্ট শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়ে দ্রুত জটিলতায় পড়েছে। তদন্তের মুখে স্বাস্থ্যব্যবস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেছেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে বড় সংখ্যক শিশু টিকা কাভারেজের বাইরে ছিল। জাতীয় ক্যাম্পেইন না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আইইডিসিআরকে গবেষণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন আরও গভীর। যখন টিকা দেশে ছিল, তখন কেন ক্যাম্পেইন পিছিয়েছে? স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘ আন্দোলন কেন সমাধান করা যায়নি? কেন টিকাদান কাভারেজের সরকারি তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলো? এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই ৪০৯ শিশুমৃত্যু কি প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল? সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে দেশ।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
ঝালকাঠিতে ডা. অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুমৃত্যু: তদন্তের দাবি
ঝালকাঠিতে ডা. অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুমৃত্যু: তদন্তের দাবি

বরিশাল অফিস :    ঝালকাঠিতে এক শিশু বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে একটি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর দাবি করেছে তার পরিবার। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসক ডা. অসীম কুমার সাহার দেওয়া চিকিৎসার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। যদিও এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয় বলে দাবি করছেন স্থানীয় অনেকেই। তাদের মতে, অতীতেও একাধিকবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝালকাঠি ও নলছিটি এলাকায় শিশু বিশেষজ্ঞের অভাব থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ওই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তবে তার আচরণ, রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে না শোনা এবং যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে ডাঃ অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ   এক অভিভাবক জানান, তার নিজের সন্তানও একবার ওই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ সেবনের পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা আরও অনেকেই জানিয়েছেন। এদিকে  প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনেও শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, এতকিছুর পরও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা মনে করেন, চিকিৎসকের দায়িত্ব রোগীর জীবন রক্ষা করা—অবহেলার কারণে তা বিপন্ন করা নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন মহল। তারা দ্রুত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু

আল হাবিব ,সুনামগঞ্জ:  সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সুরমা ইউনিয়নের বৈঠাখাই গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মৃত শিশুরা হলো- রমজান আলীর মেয়ে রুমা আক্তার (৭), উকিল আলীর মেয়ে পাপিয়া আক্তার (৪)। তারা সম্পর্কে একে অন্যের আপন চাচাতো বোন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বাড়ির আঙিনায় পুকুর পাড়ে একসঙ্গে খেলাধুলা করছিলো। একপর্যায়ে পরিবারের সবার অগোচরে তারা বাড়ির পাশের একটি পুকুরের কাছে চলে যায় এবং পানিতে পড়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ তাদের দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও না পেয়ে পুকুরে সন্ধান চালালে দুইজনের মধ্য রুমা আক্তার (৭) মৃত অবস্থায় তাকে পানিতে পাওয়া যায়। আর পাপিয়া আক্তার (৪) কে তাৎক্ষণিকভাবে পানি থেকে জীবিত উদ্ধার করে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, একটি পরিবারে দুই শিশু পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর পেয়েছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে ১২ দিনে ১০৬ শিশু ভর্তি
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম রোগে বাড়ছে মৃত্যু: ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশু নিহত, ১২ দিনে আক্রান্ত ১০৬

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগে আক্রান্ত তিন শিশু ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী, গত ১২ দিনে ১০৬ জন শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন, আর তাদের মধ্যে মারা গেছে ৫ শিশু। হাসপাতালের নতুন ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় তিনটি পৃথক কক্ষে ১০ শয্যার ‘হাম কর্নার’ চালু করা হলেও, রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কক্ষের শয্যা সীমার বাইরে রোগী রাখা হচ্ছে। এক বিছানায় দুই শিশু এবং মেঝে বা বারান্দায় চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছে। শিশু বিভাগের ফোকাল পার্সন ডা. গোলাম মওলা জানান, “টিকা নেওয়া ও না নেওয়া—উভয় ধরনের রোগীই ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে কোনো রোগী আইসিইউতে  পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি। তবে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।” অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাম আক্রান্ত শিশুর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, শরীরে লালচে দাগ এবং মুখে সাদা দাগ দেখা দেয়। এক অভিভাবক জানান, তিন দিন ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানো হলেও কোনো উন্নতি হয়নি। হাসপাতালে ভর্তি করাতে বাধ্য হন। উপজেলা থেকে হাসপাতালে আসা শিশুরা প্রায় ১৫ দিন অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে উন্নতি না হওয়ায় এখানে ভর্তি হচ্ছে। এক অভিভাবক বলেন, “নিউমোনিয়া পুরোপুরি কমেনি। তাই আমরা ময়মনসিংহ মেডিকেলে আছি।” হাসপাতাল রেকর্ড অনুযায়ী, বর্তমানে ৬৬ শিশু হাম আক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, “সাধারণ রোগীদের থেকে হাম আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় শতভাগ আইসোলেশন সম্ভব হচ্ছে না।” হাসপাতাল প্রশাসনের অনুমান অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি ও ৫ আগস্টের স্বাস্থ্য সহকারীর আন্দোলনের কারণে টিকাদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় সম্প্রতি হামের প্রকোপ বেড়েছে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)   প্রতিনিধি নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করছেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, রোগীর সংখ্যা বাড়ায় জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি করে আলাদা বেড রাখা হয়েছে। এছাড়া, হাসপাতালের বহির্বিভাগে শিশুদের জন্য ডেডিকেটেড ফিবার ক্লিনিক চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ: ২৪ ঘণ্টায় শিশু মৃত্যু: ২ ১২ দিনে হাসপাতাল ভর্তি: ১০৬ ১২ দিনে মৃত্যু: ৫ হাসপাতালের ‘হাম কর্নার’ শয্যা: ১০ (প্রতি কক্ষে) বর্তমানে চিকিৎসাধীন শিশু: ৬৬ এই তথ্য স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, হাসপাতালের শয্যা ও আইসোলেশন সীমার বাইরে রোগী, টিকাদানে ঘাটতি, এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি অভাব একসাথে শিশুদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0