Brand logo light

শিক্ষা দুর্নীতি

সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজ
সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুস সালামের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

বরিশাল অফিস :    বরিশালের হিজলা উপজেলার সদ্য সরকারিকৃত সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজে প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। কলেজটির অধ্যক্ষ প্রফেসর এইচ এম আবদুস সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে—তিনি কলেজের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যক্তিকেন্দ্রিকভাবে গ্রহণ করছেন। এতে সাধারণ শিক্ষকরা মতপ্রকাশে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। একাধিক শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্র বলছে, কলেজ সরকারিকরণের পর একজন বিসিএস ক্যাডার অধ্যক্ষের নেতৃত্বে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে—এমন প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটিতে দেখা দিয়েছে অভ্যন্তরীণ বিভাজন, প্রশাসনিক গোপনীয়তা এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ।   ‘বন্ধের দিনে বাসায় বৈঠক’   অভিযোগ রয়েছে, কলেজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অধ্যক্ষ তার বরিশালের বাসভবনে ছুটির দিনে কয়েকজন অশিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত করেন। পরে সেসব সিদ্ধান্ত শিক্ষক সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেন, কোনো বিষয়ে আপত্তি তুলতে গেলে শিক্ষকদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) কম নম্বর দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ফলে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।   ‘শিক্ষক পরিষদ’ গঠনে প্রশ্ন   সম্প্রতি কলেজে শিক্ষক পরিষদের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, কমিটি গঠনের আগে কোনো গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, নির্বাচন, মতামত গ্রহণ বা বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। গত ১৭ মে ডাকা এক সভার শেষ পর্যায়ে পূর্বপ্রস্তুত একটি তালিকা থেকে শিক্ষক পরিষদের পদবী ও নাম ঘোষণা করা হয়। সভায় উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক জানান, কমিটি ঘোষণার আগে অধ্যক্ষ বক্তব্যে এসিআরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় উল্লেখ করে পরোক্ষভাবে সতর্কবার্তা দেন। অ্যাকাউন্টিং বিভাগের প্রভাষক আরিফুর রহমান বক্তব্য দিতে চাইলে তাকে সবার সামনে থামিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে সভায় উপস্থিত শিক্ষকরা বিব্রত ও হতাশ হন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।   একই ব্যক্তিরা ‘নীতি নির্ধারণ’ ও শিক্ষক পরিষদে   অনুসন্ধানে জানা গেছে, কলেজ পরিচালনার জন্য একটি ‘নীতি নির্ধারণ কমিটি’ও গোপনে গঠন করা হয়েছে। বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে এই তথ্য যে, ওই কমিটির সদস্যদের অনেকেই আবার শিক্ষক পরিষদের নেতৃত্বেও রয়েছেন। শিক্ষকদের একাংশ বলছেন, এতে প্রশাসনিক ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।   কমিটিতে বিতর্কিত নিয়োগ নিয়ে আলোচনা   শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে প্রভাষক মো. বেলায়েত হোসেনকে। কলেজসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং স্বাভাবিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে প্রভাষক মো. লোকমান হোসেনকে, যাকে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত বলা হয়। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক গ্রুপিং ও সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।   ‘পুরোনো প্রভাবের পুনরুত্থান’ নিয়ে প্রশ্ন   ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও সরকারি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগের প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও স্থানীয়দের একটি অংশ। তাদের প্রশ্ন—যে আধিপত্য ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্ত করার দাবি উঠেছিল, তা কি আবারও নতুন রূপে ফিরে আসছে?   অধ্যক্ষের অতীত সংযোগ নিয়েও আলোচনা   প্রফেসর আবদুস সালাম এর আগে সরকারি বিএম কলেজ ও সরকারি হাতেম আলী কলেজে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বিগত সময়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন ও সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   উদ্বেগ শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে   শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের আশঙ্কা—প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতি যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়, তাহলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের মতে, এতে শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে নিরুৎসাহিত হবেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনাগ্রহ বাড়বে এবং অভিভাবকদের আস্থাও কমে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণমূলক প্রশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২০, ২০২৬ 0
রাবিপ্রবির ১৬৪ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
রাবিপ্রবির ১৬৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, কেন্দ্রে সাবেক পিডি আবদুল গফুর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং প্রকল্পের সাবেক পরিচালক (পিডি) আবদুল গফুর। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, অতিমূল্যে ফার্নিচার ক্রয়, দ্বৈত টিএ/ডিএ বিল উত্তোলন, কমিশন বাণিজ্য, অবৈধ অগ্রিম উত্তোলন এবং সরকারি অর্থে ব্যক্তিগত বাসার আসবাব কেনাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যেভাবে শুরু হয় প্রকল্প “রাবিপ্রবি স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)” প্রকল্পের আওতায় একটি একাডেমিক ভবন, একটি প্রশাসনিক ভবন এবং ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক দুটি তিনতলা আবাসিক হল নির্মাণকাজ চলছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান আবদুল গফুর। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতে থাকে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। ফার্নিচার ক্রয়ে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয় প্রকল্পের ব্যয় সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফার্নিচার কেনার ক্ষেত্রে বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মূল্য দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ খাতে অন্তত ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে একটি টেবিলের প্রকৃত মূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা হলেও বিল ভাউচারে সেটির দাম দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একই ধরনের আসবাবপত্র স্থানীয় বাজারে যে দামে পাওয়া যায়, প্রকল্পে তার দ্বিগুণ-তিনগুণ মূল্য দেখানো হয়েছে।” টিএ/ডিএ বিলেও অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টিএ/ডিএ বিল গ্রহণের পরও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সফরের নামে দ্বিতীয়বার অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। নথিপত্রে দেখা যায়, এভাবে প্রায় ৭ লাখ ১১ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, একই সফরের জন্য একাধিক খাত দেখিয়ে বিল সমন্বয় করা হয়েছে। টেন্ডারে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ চারটি ভবনের নির্মাণ টেন্ডার অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে এক শতাংশ হারে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এভাবে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। কয়েকজন ঠিকাদার এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক নির্মাণের নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৩৭ লাখ টাকা উত্তোলন এবং পরিকল্পিত বনায়নের নামে ছবি উপস্থাপন করে আরও ৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা উত্তোলনের তথ্যও মিলেছে। সরকারি অর্থে ব্যক্তিগত বাসার আসবাব? আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করে নিজের বাসার জন্য আসবাবপত্র কেনা। অভিযোগে বলা হয়েছে, জয়নাল নামে এক ঠিকাদারের মাধ্যমে তার বাসার জন্য আলমিরা, ফাইল কেবিনেট, চেয়ার-টেবিল এবং খাটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনা হয়। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো রসিদ বা সরবরাহ নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অগ্রিম উত্তোলনে অনিয়ম প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে বড় অঙ্কের অগ্রিম টাকা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে, যদিও প্রকল্প নীতিমালায় এ ধরনের অগ্রিম গ্রহণের বিধান নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী— মার্শাল চাকমার নামে উত্তোলন করা হয় ১৪ লাখ ৭ হাজার ৩২৮ টাকা নিশান চাকমার নামে ১২ লাখ ৯ হাজার টাকা সেকশন অফিসার আবদুল হকের নামে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫০ টাকা মঞ্জুরুল ইসলামের নামে ১৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৮ টাকা এছাড়া আবদুল গফুর নিজের নামেও ১৯ লাখ ৬৮ হাজার ৫২২ টাকা উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি নথিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি বলেও জানা গেছে। নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন ২০১৭ সালে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন আবদুল গফুর। তার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাবেক কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, বয়সসীমা অতিক্রম এবং নন-টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা সত্ত্বেও তিনি ওই পদে নিয়োগ পান। এছাড়া তার শিক্ষাজীবনে দুটি তৃতীয় বিভাগ ছিল এবং এর আগে কোনো সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতাও ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, তৎকালীন রেজিস্ট্রার অঞ্জন কুমার চাকমার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ? অভিযোগ রয়েছে, এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) রিপোর্ট এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পাহাড় কাটার অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় আসামিও হন আবদুল গফুর। সাময়িক বরখাস্ত ও পাল্টা অভিযোগ চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় আবদুল গফুরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত আদেশে তার বিরুদ্ধে আইসিটি-সংক্রান্ত অপরাধ, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়। বরখাস্তের পরদিনই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) চিঠি দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগে দলীয় প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। ওই চিঠিতে তিনি নিজেকে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বরখাস্ত আদেশ স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করলেও আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। উপাচার্যের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আতিয়ার রহমান বলেন, “রাবিপ্রবি স্থাপন প্রকল্পে পদে পদে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আবদুল গফুরকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সতর্ক না হয়ে বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেন।” তিনি আরও বলেন, “বহিষ্কারের পরও আবদুল গফুর ব্যাংক থেকে প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেছিলেন। এ কারণে নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবদুল গফুরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন, টেন্ডার অনুমোদন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্পষ্ট হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
নবাবগঞ্জের দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে জাল এনটিআরসিএ সনদে ২০ বছর চাকরি: তদন্তে শিক্ষিকা, ফেরত চাওয়া ১৪ লাখ টাকা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে একটি বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা জাল নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে ২০০৬ সালে নিয়োগ পান এবং এরপর থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিদর্শনে তার সনদটি ভুয়া বলে শনাক্ত হয়। পরিদর্শক টুটুল কুমার নাগের প্রতিবেদনে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলেও, এরপর তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সহকারী শিক্ষকের উদ্যোগে তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এ চিঠি পাঠানো হলে সংস্থাটি জানায়, সনদটি সঠিক নয়। এতে তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং তিনি সরকারি বেতন-ভাতার জন্যও প্রাপ্য নন বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে চাকরিকালে তিনি যে মোট ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ টাকা গ্রহণ করেছেন, তা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলেও জানানো হয়। অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং সনদও পেয়েছেন। অডিট প্রতিবেদনে কেন তার সনদকে জাল বলা হয়েছে, তা তার কাছে স্পষ্ট নয়। বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পুনরায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে সনদটি জাল বলে প্রতীয়মান হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হলেও তার দপ্তরে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো কপি পৌঁছায়নি। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেছেন, অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. আলাউদ্দীন আল আজাদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২, ২০২৬ 0
শিক্ষিকাকে জুতাপেটা
রাজশাহীতে শিক্ষিকা নিয়োগে জালিয়াতি: অন্যের ইনডেক্সে এমপিও, ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর একটি বেসরকারি কলেজে এক নারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ ও জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যের ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হয়ে তিনি প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে সাচিবিক বিদ্যা বিষয়ের প্রদর্শক হিসেবে মোছা. আলেয়া খাতুন হীরার নিয়োগটি জনবল কাঠামোর অনুমোদন ছাড়াই দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ সময় তিনি এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০২ সালের ১৮ জানুয়ারি শুধুমাত্র একটি আঞ্চলিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়; জাতীয় পর্যায়ের কোনো পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়নি। ওই বছরের ৮ মে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে নির্বাচিত করা হয়। নিয়োগ বোর্ডে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিও ছিলেন। তবে সরকারি বিধি অনুযায়ী সাচিবিক বিদ্যা বিভাগে প্রদর্শক বা প্রশিক্ষক পদ অনুমোদিত না থাকায় তার এমপিওভুক্তি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে। পরবর্তীতে, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে আলেয়া খাতুন একই প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মী চামেলী খাতুনের ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চামেলী খাতুন প্রতিষ্ঠান ছাড়ার পরও এমপিও তালিকা থেকে তার নাম অপসারণ করা হয়নি। এই সুযোগে ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আলেয়া খাতুন ধারাবাহিকভাবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানের সহযোগিতায় তথ্য গোপন করে মোট ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮১৩ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার এমপিও বাতিল, আত্মসাৎকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদান, বিভাগীয় মামলা দায়ের এবং ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞানভিত্তিক কয়েকটি বিষয়ে ল্যাব থাকলে প্রদর্শক পদ অনুমোদিত হয়, তবে সাচিবিক বিদ্যা বিভাগে এ ধরনের কোনো পদ নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
কাঁঠালিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়ম pic
কাঁঠালিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

মো. আমিনুল ইসলাম ,ঝালকাঠি : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার তাঁরাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় কাঁঠালিয়া সদরের একটি ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা অহিদুজ্জামান এনায়েত এবং দেলোয়ার হোসেন জমাদ্দার। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খান ১৯৮৭ সালের ০৩ জানুয়ারি সহকারি শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পর বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ গাজীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে বরখাস্ত করান। ১৯৮৮ সালে একাধিক সিনিয়র শিক্ষক থাকলেও বিধি ভঙ্গ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব নেন শহীদুল ইসলাম। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়োগ বানিজ্য, স্কুলের বই, গাছ, আসবাবপত্র, বিদ্যালয়ের পুরাতন ঘর বিক্রি, বিদ্যালয়ের স্বীকৃতিপত্রে টেম্পারিং ও অর্থ আত্মসাৎসহ সীমাহিন অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিদ্যালয়ের জমি অন্যত্র বিক্রিতে তিনি পরিচিতির স্বাক্ষর দেন। তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, শহীদুল ইসলাম ১৯৮৮ সালে বিদ্যালয়ে একাধিক সিনিয়র শিক্ষক থাকলেও বিধি ভঙ্গ করে সহকারি শিক্ষক হয়েও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব নেন শহীদুল ইসলাম। এরপর থেকে শুরু হয় তার অপকর্ম। নিজের চাচাতো ভাইকে বিদ্যালয়ের সভাপতি বানিয়ে নিজের মেয়েকে সহকারি গ্রান্থগারিক পদে এবং দুই কর্মচারীকে ২০ লাখ টাকার বিনিয়মে নিয়োগ দেন। বিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিল ও এফডিআর এর অর্থ আত্মসাতের করেন। যাহা তদন্তে প্রমানিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের বই, গাছ, আসবাবপত্রসহ বিদ্যালয়ের পুরাতন ঘর বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করে যাহা দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের জমিদাতা অহিদুজ্জামান এনায়েত বলেন, তার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসকসহ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে অভিযোগের বিষয় সত্যতা প্রমানিত হলেও অদৃশ্য কারণে তার অপকর্মের এখন পর্যন্ত কোন বিচার হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খান সম্প্রতি অবসরে যান। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মকবুল হোসেন । সভায় সাবেক প্রধান শিক্ষকের কাছে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তিনি তা দিতে পারেনি। এ বিষয়ে জানতে সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলামকে মুঠোফোনে জানান, আমি এ বছরের ১০ মার্চ অবসরে যাই। আমাকে হয়রানী করার জন্য এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করছেন। কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মকবুল হোসেন জানান, সভায় সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলামের কাছে বিদ্যালয়ে তার সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়। তিনি অগোচালোভাবে উপস্থাপন করেন। সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য তাকে সময় দেওয়া হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে বরাদ্দের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি সরকারি বরাদ্দকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ভবন সংস্কার ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী মিলনায়তনের আসবাবপত্র কেনার জন্য দেওয়া অর্থের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তারা আজও অন্ধকারে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি, প্রয়াত নাসিম উদ্দিন আকন তার মৃত্যুর মাত্র দুদিন আগে নিজ বাসায় এক বৈঠকে তাদের এই বরাদ্দের বিষয়ে অবহিত করেন। ওই বৈঠকে প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাদের দাবি,  প্রায় দুই লাখ টাকার একটি বরাদ্দ আনা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল— গ্রন্থাগার ভবন সংস্কার ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনায়তনের জন্য আসবাবপত্র ক্রয় । প্রকল্পটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন রাজাপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন তালুকদার। বরাদ্দের খাত ও অর্থ বণ্টন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বরাদ্দের অর্থ তিনটি খাতে ভাগ করা হয়: গ্রন্থাগার ভবন সংস্কারের জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে ৫০,০০০ টাকা।প্রকল্প অফিস ব্যয় বাবদ ৩০,০০০ টাকা।মিলনায়তনের আসবাবপত্র কেনার জন্য ১,২০,০০০ টাকা। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রয়াত নাসিম উদ্দিন আকন তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, অল্প সময়ের মধ্যেই মিলনায়তনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে। নাসিম আকনের মৃত্যুর পর জটিলতা নাসিম উদ্দিন আকনের অকাল মৃত্যুর পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানান, মরহুম নাসিম আকনের অকাল মৃত্যুর পরে তার ভাই ফিরোজ আকনের  সাথে যোগাযোগ করেন প্রাক্তনশিক্ষার্থীরা। তিনি যুবদল নেতা মোস্তফা নিপুর মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। এই টাকা গ্রহণ করতে তারা অস্বীকৃতি জানান।,  একই সময়ে বিদ্যালয়ে শতবর্ষ উদযাপন সংক্রান্ত একটি সভায় উপস্থিত থেকে তারা বিষয়টি প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলামকে অবহিত করেন। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন—তবে এরপর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কেউই অবগত নন বলে দাবি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে আসবাবপত্র এদিকে বরাদ্দের অর্থ না পৌঁছানোয় মিলনায়তনের জন্য প্রয়োজনীয় চেয়ার কিনতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কয়েকজন নিজ উদ্যোগে স্থানীয় একটি দোকান থেকে বাকিতে ১৫টি প্লাস্টিক চেয়ার সংগ্রহ করেন, যা বর্তমানে ব্যবহৃত হলেও এর মূল্য এখনও পরিশোধ করা হয়নি বলে জানা গেছে। জবাবদিহিতার প্রশ্ন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে যে, একটি সরকারি বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়নি। তাদের প্রশ্ন—এই অর্থ কোথায় গেল, কার কাছে রয়েছে, এবং কেন নির্ধারিত খাতে ব্যয় হয়নি? একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন,  “এটি সরকারি অর্থ, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে বরাদ্দ করা হয়েছিল। তাহলে এর হিসাব থাকবে না কেন?”   দাবি ও প্রত্যাশা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে দ্রুত তদন্ত ও অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মিলনায়তনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।   এই ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0