Brand logo light

শিক্ষা খাত

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলী শহিদুল
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের সফলতা

মামুনুর রশীদ নোমানী, বরিশাল থেকে:  বরিশালের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের চলমান রূপান্তর আজ দৃশ্যমান। কিন্তু এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা, নিম্নমানের নির্মাণকাজ এবং প্রশাসনিক জটিলতার বিরুদ্ধে এক ধারাবাহিক লড়াই। এই প্রেক্ষাপটে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন কঠোর মনিটরিং-নির্ভর প্রশাসক হিসেবে—যিনি উন্নয়নকে শুধু প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং গুণগত মান ও জবাবদিহিতাকে সামনে এনেছেন। এই অনুসন্ধানধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার নেতৃত্বে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তব চিত্র, অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ, অভিযোগ এবং সম্ভাবনা। স্থবিরতা থেকে গতি: বাস্তবতার প্রেক্ষাপট   বরিশালের শিক্ষা অবকাঠামো এক সময় ছিল অবহেলার প্রতীক। বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষের সংকট এবং নিরাপত্তাহীন পরিবেশে পাঠদান চলত। উন্নয়ন প্রকল্প থাকলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন ছিল ধীরগতির, অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে অনেক প্রকল্পে কাজের মান নিয়ে অভিযোগ ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাব—এসব ছিল সাধারণ সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম। “গুণগত মানই টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি”   মো. শহিদুল ইসলামের কাজের দর্শন স্পষ্ট—“কাজের মান নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন অর্থহীন।” তার বক্তব্য অনুযায়ী:     চলমান প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে     কাজের গুণগত মানে কোনো আপস চলবে না     ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদার উভয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক—সবাই যেন প্রকল্পের সুফল পায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।” কঠোর মনিটরিং ও জবাবদিহিতা এই দপ্তরের কাজের ধরনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মনিটরিং ব্যবস্থায়। তার নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:     প্রতিটি প্রকল্পের নিয়মিত সাইট পরিদর্শন     চলমান অবস্থায় ত্রুটি শনাক্তকরণ     নির্দিষ্ট সময়সীমা (বিশেষ করে জুন মাস) নির্ধারণ     কাজ শেষে ত্রুটি পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন: “কাজ শেষ হওয়ার পরে যদি ত্রুটি ধরা পড়ে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” এই অবস্থান প্রশাসনিক কাঠামোতে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করলেও, মাঠপর্যায়ে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ভেতরের কণ্ঠ: কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া   একজন সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান:     “বর্তমানে শতভাগ কাজ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের ওপর জোরালো নির্দেশনা রয়েছে। সততা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ না করলে টিকে থাকা কঠিন।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, দপ্তরের ভেতরে একটি কর্মচাপ তৈরি হয়েছে—যা উন্নয়নের গতি বাড়াতে সহায়ক হলেও, তা নিয়েও রয়েছে ভিন্নমত। উন্নয়নের পরিসংখ্যান: সংখ্যায় বরিশালের পরিবর্তন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বর্তমানে বিপুল অঙ্কের উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। মূল তথ্যসমূহ:     মোট চলমান উন্নয়ন কাজ: প্রায় ৬৯৬–৭০০ কোটি টাকা     গত অর্থ বছরে ব্যয়: ৭৬ কোটি টাকা     চলমান প্রকল্প সংখ্যা: ১১টি বড় প্রকল্প     বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ: প্রায় ৪৬০টি এই প্রকল্পগুলোর আওতায়:     নতুন ভবন নির্মাণ     ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ     কারিগরি শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন     তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা বৃদ্ধি   জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র: দক্ষিণাঞ্চলের জন্য গেমচেঞ্জার   বরিশালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র নির্মাণাধীন, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের অগ্রগতি:     ব্যয়: প্রায় ১৬.৫ কোটি টাকা     ইতোমধ্যে ব্যয়: ৯.১৬ কোটি টাকা     নির্মাণাধীন ভবন: ১০ তলা     আংশিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু এই কেন্দ্র চালু হলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং শিক্ষার্থীরা দ্রুত সেবা পাবে। মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট: নারীর প্রযুক্তি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। বর্তমান অবস্থা:     ৭টি ভবনের মধ্যে ৩টি সম্পন্ন     বাকি ৪টির কাজ প্রায় ৮০% শেষ     নির্ধারিত সময়: জুনের মধ্যে সম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠান চালু হলে নারী শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কলেজ ও স্কুলে অবকাঠামোগত বিপ্লব বরিশালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অবকাঠামোগত উন্নয়ন চলছে: উল্লেখযোগ্য কাজ:       ৬ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ (সরকারি কলেজসমূহে)     জেলা স্কুল ও বালিকা বিদ্যালয়ে নতুন ভবন     মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে সম্প্রসারণ এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে:     শ্রেণিকক্ষ সংকট কমবে     শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে     শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে প্রকল্পের বৈচিত্র্য: বহুমুখী উন্নয়নের চিত্র বরিশালে চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:     বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন     মাদরাসা উন্নয়ন     বিজ্ঞান শিক্ষা সম্প্রসারণ     টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন     তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা প্রকল্প বিশেষ করে “প্রতি উপজেলায় একটি টেকনিক্যাল স্কুল” প্রকল্পটি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাস্তব চিত্র: দৃশ্যমান উন্নয়ন মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে:     বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন বহুতল ভবন     পুরনো জরাজীর্ণ কাঠামোর পরিবর্তন     নতুন নির্মাণ কাজের দ্রুত অগ্রগতি স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতে, “আগে যেখানে ক্লাস নেওয়া কঠিন ছিল, এখন সেখানে আধুনিক ভবন তৈরি হচ্ছে।” প্রশংসা ও পর্যবেক্ষণ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এটি নির্দেশ করে যে, কেন্দ্রীয় পর্যায়েও বরিশালের কাজ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে। তবে কি সবই নিখুঁত?—অনুসন্ধানে উঠে আসা প্রশ্ন যদিও উন্নয়নের চিত্র আশাব্যঞ্জক, তবে অনুসন্ধানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উঠে এসেছে: ১. সময়সীমা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব? জুন মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করার নির্দেশনা বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ২. অতিরিক্ত চাপ কি মানের ওপর প্রভাব ফেলছে? দ্রুত কাজ শেষ করার চাপ কখনো কখনো মানের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ৩. স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি কতটা কার্যকর? সব প্রকল্পে সমানভাবে মনিটরিং হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। শহর-গ্রামের বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য নির্বাহী প্রকৌশলী বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের ওপর। তিনি বলেন: “শহরের সুবিধা গ্রামের মানুষকেও দিতে হবে।” এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। প্রশাসনিক কড়াকড়ি: ইতিবাচক না নেতিবাচক? তার প্রশাসনিক কড়াকড়ি নিয়ে দুই ধরনের মতামত পাওয়া গেছে: ইতিবাচক দিক:     দুর্নীতি কমছে     কাজের গতি বাড়ছে     জবাবদিহিতা তৈরি হচ্ছে সমালোচনা:     অতিরিক্ত চাপ     সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন্দ্রীকরণ     মাঠপর্যায়ে মানসিক চাপ সামগ্রিক মূল্যায়ন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বর্তমান কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:     উন্নয়নের গতি স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে     গুণগত মানে জোর দেওয়া হয়েছে     মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়েছে     বড় আকারের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পথে তবে একইসাথে:     সময়সীমা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং     দীর্ঘমেয়াদে মান ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ     তদারকি ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে স্থবির কাজগুলো দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করার আপ্রান চেস্টা জনস্বার্থে উন্নয়ন কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে স্থবির কাজগুলো দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করার আপ্রান চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃশহিদুল ইসলাম।   বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের  নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃশহিদুল ইসলাম বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দরকার কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা। যে প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে, সেগুলোর গুণগত মান ঠিক রেখে নির্ধারিত সময়ে শেষ করা। তবেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা  প্রকল্পগুলোর সুফল পাবে।  বরিশাল জেলা  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে  প্রকল্প গুলোর কাজের মান আরো উন্নত হোক।  প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলো ,  দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করলে  অর্থও বাঁচবে, জনগণ উপকৃত হবে।   কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি: মোঃ শহিদুল ইসলাম মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী ও প্রধান প্রকৌশলীর দিকনির্দেশনা মোতাবেক বরিশালের কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমি প্রকৌশলী সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি যে, শহরের নাগরিক সুযোগ সুবিধা গ্রামের সকলে পাবে। আপনারা  হচ্ছেন শিক্ষা প্রকৌশলের প্রাণ। আপনারা মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন।  আর যদি কোন ঠিকাদারের  কাজের মান খারাপ হয়। তাহলে ঐ ঠিকাদার এবং কাজে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। তিনি ইত্তেহাদ নিউজকে বলেন, জেলা ও উপজেলাগুলোতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কাজগুলোর বাস্তবায়নে গতির তথ্য দেয়া।এছাড়া সকল ঠিকাদারদের জুন মাস মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য  সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। চলমান অবস্থায় কাজের ত্রুটি শনাক্ত করতে হবে এবং সঠিক মনিটরিং করলে অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যায়।  কাজ শেষ করার পরে যদি কোন ত্রুটি দেখা যায়,তবে  কাজ সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে ক্ষমা করা হবে না।তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বরিশাল জেলার এক সহকারী প্রকৌশলী  বলেন,নির্বাহী প্রকৌশলী নির্দেশে শতভাগ কাজ সুনিশ্চিত করা এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি বাড়াতে দায়িত্বে থাকা সকলকে সততা ও আন্তরিকতা  নিয়ে উন্নয়ন কর্মকান্ডে গতি বাড়িয়ে কাজ করার দ্রিত তাগিদ দিয়েছেন। ৭শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান বরিশালের মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। যারমধ্যে গত অর্থ বছরে ৭৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। এসব প্রকল্পের মধ্যে বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণকাজ গত অর্থ বছরে শতভাগই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ১১টি প্রকল্পের আওতায় বরিশালের বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণ ছাড়াও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। যার বেশির ভাগই চলতি অর্থ বছরে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম। এসব প্রকল্প’র কাজ সম্পন্ন হলে সারা দেশের মতো বরিশালের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ। দেশের ৩টি স্থানে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের মধ্যে বরিশালেও প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ১০তলা বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে। যার দুটি ফ্লোরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ইতোমধ্যে সেখানে প্রশাসনিক কর্মকা- শুরু হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে পুরো ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের আঞ্চলিক দফতরটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত ঐ প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৯.১৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। শেষ পর্যায়ে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকের কাজ দেশের ৪টি বিভাগীয় সদরে মহিলা পলটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে এ ইনস্টিটিউটের ৭টি ভবনের মধ্যে ৩টির কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ৪টি কাজও প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করে আগামী বছরের এসএসসি’র ফলাফল প্রকাশের পরে এখানে ভর্তি প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া বরিশাল সরকারি কলেজ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ এবং সরকারি মহিলা কলেজ সমূহে ৬তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজও এগিয়ে চলেছে। আগামী বছরের ডিসেম্বর নাগাদ এসব ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানগুরোতে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষাবীদগণ। একইসাথে বরিশাল জেলা স্কুল ও বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়েও ৬তলা দুটি একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। আগামী অর্থ বছরের মধ্যে এসব ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে বরিশাল বিভাগীয় সদরের এ দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তনে আশাবাদী শিক্ষাবীদগণ।   দৃশ্যমান হচ্ছে বরিশালে বর্তমানে প্রায় ৬৯৬ কোটি টাকার প্রকল্প এছাড়া ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘নির্বাচিত বেসরকারি বিদ্যালয় সমূহের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্প’, ‘নির্বাচিত মাদরাসা উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘তথ্য ও প্রযুক্তি সহায়তায় কলেজ সমূহের উন্নয়নে ২য় সংশোধিত প্রকল্প’, সরকারি কলেজ সমূহের বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ প্রকল্প’, কারগরি শিক্ষা অধিদফতরাধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প’, ১শ’ উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প’ এবং উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প’র আওতায় বরিশালে বর্তমানে প্রায় ৬৯৬ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবান করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। বরিশাল মহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নয়ন ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হচ্ছে। আগে জরাজীর্ন অবকাঠামোর কারণে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হত, তার অনেকগুলোতেই ইতোমধ্যে বহুতল ভবন দৃশ্যমান। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে বরিশালের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে ৪৬০টি বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের দায়িত্বশীল মহল।    একটি পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণ বরিশাল এখন একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—যেখানে উন্নয়ন শুধু সংখ্যা নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে:     গুণগত মান বজায় রাখা     স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা     এবং জবাবদিহিতা ধরে রাখার ওপর যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে বরিশাল শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে দেশের একটি মডেল হিসেবে দাঁড়াতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
বরিশালে সেশন ফি কমানোর দাবিতে বিক্ষোভ
বরিশাল বিএম কলেজে সেশন ফি নিয়ে বিক্ষোভ: ‘কার্যক্রম নেই, তবু ফি আদায়’

বরিশাল অফিস :    বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে সেশন ফি ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিল বের করে কলেজ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমাবেশ করেন। কেন ক্ষোভ? শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতি বছর বিভিন্ন খাতে “অযৌক্তিক” সেশন ফি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার বিপরীতে তারা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না। সম্প্রতি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি খাতে মোট ২ হাজার ৬২০ টাকা সেশন ফি নির্ধারণ করে নোটিশ জারি করা হয়। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তাদের দাবি, এই ১৯টি খাতের মধ্যে অন্তত ১০টির কোনো কার্যক্রম নেই। অথচ এসব খাতেই প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। কোন খাতে আপত্তি? শিক্ষার্থীরা যেসব খাতকে অকার্যকর বা সীমিত সেবার বলে উল্লেখ করছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— খেলাধুলা (বহিরাঙ্গন) অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া ও কমনরুম ম্যাগাজিন গ্রন্থাগার পরিবহন তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) অত্যাবশ্যকীয় খরচ চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনা ফি বিবিধ শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বহু বছর ধরে নিয়মিত খেলাধুলা বা ম্যাগাজিন প্রকাশ নেই গ্রন্থাগার সেবা সীমিত পরিবহন সুবিধা পান মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী চিকিৎসা সেবা কার্যত অপ্রতুল একজন শিক্ষার্থী বলেন, “সেশন চার্জ নেওয়া হলেও প্রতিটি খাতে আমাদের পর্যাপ্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।” আরেকজন ছাত্রী প্রশ্ন তোলেন, “আগেই সব ফি দেওয়ার পর আবার কেন অতিরিক্ত সেশন চার্জ দিতে হবে?” প্রশাসনের অবস্থান কলেজের অধ্যক্ষ ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি স্বল্পমেয়াদি এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি। এসব বিষয়ে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেশন ফি নেওয়া হয়। তবে যেসব খাতে কার্যক্রম নেই, সেগুলোতে ২০২৫ সালের পর থেকে ফি না নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পরিবহন সুবিধা সীমিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে অধ্যক্ষ বলেন, “সব শিক্ষার্থী এই সুবিধা পান না, তবে অন্যান্য খাতে ব্যয় রয়েছে।” অত্যাবশ্যকীয় খাতে আদায় করা অর্থ দিয়ে কর্মচারীদের সম্মানী ও প্রতিষ্ঠান রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেটানো হয় বলেও জানান তিনি। আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে একই দাবিতে ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
১৩ নম্বর ইন্দুরকানী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
পিরোজপুরের জিয়ানগরে বিদ্যালয়ে এক শিক্ষিকাকে বেত দিয়ে পেটালেন আরেক শিক্ষিকা

পিরোজপুর: পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালীন সময়েই এক শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে অপর এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সদরের ১৩ নম্বর ইন্দুরকানী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর প্রায় ১টার দিকে শিক্ষার্থীদের খেলার জার্সি খুঁজে না পাওয়া নিয়ে সহকারী শিক্ষিকা আসমা আক্তার ও হালিমা সুলতানার মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজিত অবস্থায় আসমা আক্তার বেতের লাঠি দিয়ে হালিমা সুলতানাকে কয়েক দফা আঘাত করেন। ঘটনার সময় অফিস কক্ষে অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কয়েকজন অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষিকা আসমা আক্তারের বিরুদ্ধে এর আগেও সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একবার এক শিক্ষককে জুতা দিয়ে মারার চেষ্টা করেছিলেন এবং প্রায়ই সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা হালিমা সুলতানা এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। অভিযুক্ত আসমা আক্তার বলেন, “কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হালিমা সুলতানা আমাকে মারতে এলে আমি আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আঘাত করি।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেকান্দার আলী খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জিয়ানগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, তিনি বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0