Brand logo light

শহিদুল ইসলাম

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর: ৪৩০ কোটি টাকা লুটপাটে অভিযুক্ত বিতর্কিত শাহজাহান আলীর ছত্রছায়ায় বরিশালের শহিদুল এখনো অধরা

তদন্ত চলাকালেই ১৮ দিনে ফেরা সেই শাজাহান ঘুসের রাজা,বদলী ঠেকাতে  শাহজাহান আলীকে মাসে শহিদুল ঘুস দেন ২০ লাখ টাকা,স্কিন শর্ট ফাঁস,১৪৪ টি টেন্ডারের পে অর্ডার সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ব্যাংক থেকে নগদায়ন করে লুট করলেন শহিদুল ।শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ইইডি) কর্মকর্তাদের পদায়ন, ঠিকাদারি কাজ বণ্টন এবং সরকারি অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহজাহান আলী এবং বরিশালে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম। ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন:  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহজাহান আলীকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনিয়মের অভিযোগের পর গত ২৩ জুলাই তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হলেও মাত্র ১৮ দিনের মাথায় ফের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পেয়েই শাজাহান আলী বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতাদের নিয়ে দেশজুড়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন।আর সেই সিন্ডিকেটের অন্যতম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নির্বাহী সদস্য শহিদুল ইসলাম। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাজাহান আলীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা শহিদুলদের নিয়ে সরকার বিরোধী কর্মকান্ড ও সরকারের সুনাম নষ্টের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।তারা এখনো ফ্যাসিস্ট কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী ও ছাত্রলীগ নেতাদের ঠিকাদারি কাজ দিচ্ছেন। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে বিএনপি নেতাদের মাঝে। এদিকে শাজাহান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকার তথ্যও সামনে এসেছে। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে একই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন-৩ শাখা থেকে ২৩ জুলাই শাহজাহান আলীকে ওএসডি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আলী ইমামকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। এরপর ১২ আগস্ট উন্নয়ন-৩ শাখা থেকে জারি করা আরেক প্রজ্ঞাপনে শাহজাহান আলীকে আবারও প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বহাল করা হয়। প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহান। সরকারি ওয়েবসাইটের কর্মকর্তা তালিকাতেও মো. শাহজাহান আলীর নাম তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে রয়েছে। কে এই শাহজাহান আলী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. শাহজাহান আলী । সাম্প্রতিক সময়ে তার দুর্নীতি,অনিয়ম, পদোন্নতি, ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হওয়া এবং পুনরায় বহাল থাকার ঘটনা নিয়ে বেশ আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে । মো. শাহজাহান আলী বর্তমানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। পদোন্নতির ইতিহাস: ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান এবং প্রধান কার্যালয়ের পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ শাখায় চলতি দায়িত্ব পান ।   আরও পড়ুন:  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দুর্নীতির অদৃশ্য সম্রাট শাহজাহান আলী   ওএসডি ও বিতর্ক: অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে এবং তার স্থলে মো. আলী ইমামকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ।  পুনরায় বহাল: ওএসডি হওয়ার মাত্র ১৮ দিন পর, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে পুনরায় প্রধান কার্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে বহাল করা হয় ।  আলোচনা-সমালোচনা: তার বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ওএসডি হওয়ার অল্প দিনের মধ্যে স্বপদে ফিরে আসায় অধিদপ্তরের ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।   কে এই শহিদুল ইসলাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. শহিদুল ইসলাম। অভিযোগ ও বিতর্ক: সম্প্রতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, ঘুষ, টেন্ডারবাজি, ভুয়া বিল উত্তোলন এবং ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।   আরও পড়ুন:  বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল যখন ঠিকাদার: ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ     বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ   ঠিকাদারদের অভিযোগ: তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট হারে কমিশন না দিলে কাজ শেষ হলেও বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ এনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ঠিকাদাররা। এছাড়া নিজ দপ্তরে বসে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ ও সাব-কন্টাক্টে কাজ দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।  দুদক ও আন্দোলন: তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত এবং তাঁকে প্রত্যাহারের দাবিতে স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ মানববন্ধন ও দুদকে অভিযোগ দায়ের করেছেন।   শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৪৪টি টেন্ডারের পে-অর্ডার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে ১৪৪টি টেন্ডারের পে-অর্ডার নিয়ে অভিযোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব পে-অর্ডার সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ব্যাংক থেকে নগদায়ন করা হয়েছে। এ বিষয়ে যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজন— ১৪৪টি টেন্ডারের তালিকা, দরপত্র নম্বর ও সংশ্লিষ্ট নথি; পে-অর্ডার ইস্যু, জমা ও নগদায়নের ব্যাংক রেকর্ড; সরকারি কোষাগার ও সংশ্লিষ্ট হিসাবের বিবরণী; অর্থ জমা ও ফেরতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমোদন; বিভাগীয় তদন্ত বা নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ফলাফল।   মাসে ২০ লাখ টাকা ঘুষের দাবি শাহজাহান আলীর পদায়ন ও পুনর্বহাল ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের দাবি, বদলি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করতে অর্থ দেওয়া হয়। অভিযোগে শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে মাসে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।   ৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে প্রশ্ন শাহজাহান আলীকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে। প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব বহুতল ভবনের কয়েকটিতে উদ্বোধনের আগেই দেয়ালে ফাটল, জানালার লিন্টেল বাঁকা হওয়া এবং ছাদ নির্মাণে ত্রুটির অভিযোগ সামনে আসে।এই প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন শাহজাহান আলী। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির বিরুদ্ধে ১৪টি অডিট আপত্তিতে প্রায় ৩৪ কোটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার আর্থিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই প্রতিবেদনে নির্মিত ভবনে ফাটল এবং আইসিটি ও বিজ্ঞানাগারের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও তদন্ত চলমান থাকা অবস্থাতেই শাহজাহান আলীকে ফের দায়িত্বে বসানো হয়েছে—এমন অভিযোগই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ‘অদৃশ্য কারণে’ ১৮ দিনের মাথায় ফেরত? শাহজাহান আলীকে ওএসডি করার পর মাত্র ১৮ দিনের মাথায় তাকে পুনরায় একই অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে।তবে তাকে কেন এত দ্রুত পুনর্বহাল করা হলো—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকলে তদন্তের নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাকে একই প্রকল্প বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রাখা কতটা যুক্তিসঙ্গত? ‘সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ শাহজাহান আলীকে কেন্দ্র করে ইইডিতে একটি প্রভাবশালী ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় থাকার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তাদের দাবি, উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জোয়ারদার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সাঈদ শিমুল আকন্দ এবং বরিশালে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে নিয়ে একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, মনিরুজ্জামান জোয়ার ও আবু সাঈদ শিমুল আকন্দকে সম্প্রতি যথাক্রমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রংপুরে বদলি করা হলেও তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তারা বদলির আদেশ কার্যকর করছেন না—এমন অভিযোগও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বদলির আদেশ, মেডিকেল সনদ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনসহ নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ঘুষের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে শাহজাহান আলীকে মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যদি এমন কোনো আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে তার উৎস, লেনদেনের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হবে কি না। শাহজাহান আলীর বক্তব্য অভিযোগ ও পুনর্বহাল প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহজাহান আলী বলেন, “এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। সরকার ওএসডি করেছিল। আবার সরকারই বহাল করেছে। আমি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যেভাবে দায়িত্ব এসেছে, সেভাবেই পালন করছি।” অর্থাৎ পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে তিনি সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন।   জবাবদিহি নিশ্চিত করবে তদন্ত শাহজাহান আলীর ওএসডি, ১৮ দিনের মধ্যে পুনর্বহাল, ৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে অভিযোগ এবং শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পে-অর্ডার ও কমিশনসংক্রান্ত অভিযোগ—সব মিলিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন— ১. শাহজাহান আলীকে ওএসডি ও পুনর্বহালের প্রশাসনিক কারণ প্রকাশ করা। ২. কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের প্রকল্পের অডিট আপত্তি ও নির্মাণমানসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি জানানো। ৩. ১৪৪টি টেন্ডারের পে-অর্ডারসংক্রান্ত অভিযোগের স্বাধীন আর্থিক নিরীক্ষা করা। ৪. ঘুষ ও কমিশনসংক্রান্ত অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা। ৫. সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার বক্তব্য নিয়ে নথিভিত্তিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্পের অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে আসে। এসব প্রকল্পের নির্মাণমান, দরপত্রের স্বচ্ছতা এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহি সরাসরি জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। অতএব, অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় হিসেবে উপেক্ষা না করে প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও দায়মুক্তির সুযোগ দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু একজন কর্মকর্তার ওএসডি বা পুনর্বহাল নয়—সরকারি অর্থের সুরক্ষা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণে জবাবদিহি নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   এখন সামনে কয়েকটি বড় প্রশ্ন শাহজাহান আলীকে ঘিরে অভিযোগ, ওএসডি, মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে পুনর্বহাল এবং তদন্ত—সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন— তদন্ত চলাকালে কেন তাকে একই দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে দেওয়া হলো? ৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্পে ওঠা লুটপাট ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে কি না? তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের স্বাধীন যাচাই হবে কি? অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—২৩ জুলাই ওএসডি, ১২ আগস্ট পুনর্বহাল—মাত্র ১৮ দিনের এই প্রশাসনিক পরিবর্তনের নেপথ্যে সরকারি ব্যাখ্যাটি কী? শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রকল্পের শত শত কোটি টাকার সরকারি অর্থ, নির্মাণের মান এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই অভিযোগগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্ত এবং তদন্তের ফল জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি উঠছে সংশ্লিষ্ট মহলে। তদন্তেই এখন নির্ধারিত হতে পারে—অভিযোগগুলো কতটা সত্য, আর কতটা কেবল অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৯, ২০২৬ 0
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট : বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকা নিয়ে ক্ষোভ

বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকা নিয়ে ক্ষোভ; বদলি-বাণিজ্য, দরপত্রে অনিয়ম, অগ্রিম বিল পরিশোধ ও কমিশন আদায়ের অভিযোগ। প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরেও প্রশ্ন, তদন্ত ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ কর্মকর্তাদের- ইত্তেহাদ নিউজ | অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়নকাজে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি)। অথচ এই অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা, বদলি ও পদায়ন, সরকারি দরপত্র, নিয়োগ এবং নির্মাণকাজের বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ উঠে আসছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের কয়েকজন, এমনকি অধিদপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে কিছু বিতর্কিত কর্মকর্তার অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত, লিখিত অভিযোগ কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করার পরও দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ,  কমিশন বাণিজ্য, পছন্দের কর্মস্থলে পদায়ন এবং কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধ —সব মিলিয়ে অধিদপ্তরের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীকে ঘিরেও বদলি-বাণিজ্য, পদায়নে অর্থ লেনদেন, দরপত্রে প্রভাব বিস্তার এবং অধীনস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারি অর্থে পরিচালিত শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ তদন্ত, প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও আর্থিক জবাবদিহি কতটা কার্যকর? রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা? ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরও এর বাইরে নয়। অধিদপ্তরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে পদোন্নতি, বদলি ও পদায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা পেয়েছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় দীর্ঘদিনের বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া, অগ্রিম বিল পরিশোধ এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।  এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ, জাহেদুল করীম, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. আবুল হাসেম সরদার এবং সরোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা। মোজাহিদুল আলিফের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তে কী উঠে এসেছিল? শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয় মোজাহিদুল ইসলাম আলিফকে। তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের  নেতা হিসেবে পরিচিত। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে নির্মাণকাজে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথির বরাতে দাবি করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাজধানীর কাফরুল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁর নাম উঠে আসে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ছিল ৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভবনের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়েছিল। ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা বিল দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সরেজমিন পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি দেখতে পায়, ভবনের দ্বিতীয় তলার কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তখন চতুর্থ তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন না করেই অগ্রিম বিল পরিশোধ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় মোজাহিদুল ইসলাম আলিফসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।অর্থাৎ, অভিযোগটি কেবল নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন নয়; বরং কাজের বাস্তব অগ্রগতির সঙ্গে বিল পরিশোধের সামঞ্জস্য ছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।এর আগে সাভার জোনে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনের সময় কেরানীগঞ্জে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮০ কোটি টাকার একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পেও আলিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, কাজের অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২০ কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, আগারগাঁওয়ে নতুন প্রধান কার্যালয়ের প্রায় ১০০ কোটি টাকার নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নের সময় একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁকে ঢাকা মেট্রো জোনে পদায়ন করা হয়েছে।  বিভাগীয় তদন্তে শাস্তির সুপারিশ করা হয়ে থাকলে তার পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কী ছিল, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সেই তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের নিষ্পত্তি ও গৃহীত ব্যবস্থার নথি প্রকাশ না হলে একই কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। প্রধান প্রকৌশলীর পদ নিয়ে আলোচনায় জাহেদুল করীম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পদ পেতে তৎপর বলে আলোচনায় রয়েছেন জাহেদুল করীম। তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন। ২০২২ সালের ২৭ জুলাই গঠিত ওই কমিটি ঘোষণার সময় তিনি ঢাকা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। আরও পড়ুন: ইইডির শীর্ষ পদ দখলের দৌড়: পদোন্নতি, সিন্ডিকেট ও বিতর্কের অভিযোগে অস্থিরতা   অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা তাঁকে প্রশাসনিকভাবে প্রভাবশালী অবস্থানে রেখেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং কাজ শেষ হওয়ার আগে বিল পরিশোধের মতো অভিযোগও রয়েছে। মূল প্রশ্ন হলো, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি গোপন রেখে পদায়ন করা যেমন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে, তেমনি তদন্ত ছাড়াই অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করাও ন্যায়সংগত নয়।   বরিশালে শহিদুল ইসলাম: দুদকে অভিযোগ, বরগুনায় অতিরিক্ত দায়িত্ব বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামকে ঘিরে অভিযোগ আরও বিস্তৃত। তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ইইডি শাখার নির্বাহী সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন সাকিল আহম্মেদ নামের এক ব্যক্তি । অভিযোগে সরকারি দায়িত্বে থেকে বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা, বিল পাসের বিপরীতে কমিশন দাবি, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং দরপত্রপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগে মেসার্স মোমিন সিকদার, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্সের মাধ্যমে কাজ বণ্টন, সাবকন্ট্রাক্ট ও ব্যবসায়িক সুবিধা প্রদানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।অভিযোগকারীর দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া এবং বিল পাসের বিপরীতে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করার ঘটনা ঘটেছে।   আরও পড়ুন:   বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল যখন ঠিকাদার: ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ   শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, ১৪৪টি কাজের পুনঃদরপত্র আহ্বানের ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়েছে। বাতিল হওয়া দরপত্রের কার্যসম্পাদন জামানত বা পারফরম্যান্স সিকিউরিটি পে-অর্ডার আকারে জমা নেওয়ার পর সেগুলো বিধি অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত বা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নগদায়নের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এভাবে সরকারি অর্থের বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে। তবে কতটি পে-অর্ডার নগদায়ন করা হয়েছে, সেগুলোর মোট মূল্য কত এবং অর্থ কোথায় গেছে—তা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যাংক নথি, সরকারি হিসাব, দরপত্র বাতিলের আদেশ ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথি পরীক্ষা করা জরুরি। প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প এবং বরিশাল কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের দরপত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া তাঁর নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অতীতের অনিয়ম এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের আলোচিত প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ঢাকা ও বরিশালে অংশীদারত্বে জমি কেনা, ফ্ল্যাট ব্যবসা এবং শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অসদাচরণসংক্রান্ত অভিযোগও তোলা হয়েছে। এত অভিযোগের মধ্যে শহিদুল ইসলামকে বরিশালের পাশাপাশি বরগুনা জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁকে প্রত্যাহার ও তদন্তের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন হয়েছে ।এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীরও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, লিখিত অভিযোগ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির পরও কেন তাঁর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য সামনে আসছে না? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগগুলোর বর্তমান অবস্থা, তদন্তের অগ্রগতি এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার প্রশাসনিক ভিত্তি স্পষ্ট করা।   আবুল হাসেম সরদার: ২০০ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ইইডি শাখার তৎকালীন সদস্যসচিব ও সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল হাসেম সরদারের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে। দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে।   সরোয়ার হোসেনের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেনও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিসেবে পরিচিত বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। আরও পড়ুন: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর: বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সরোয়ার এখনো ঢাকা মেট্রোতে বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীতের সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সেটি প্রমাণসহ যাচাই করা প্রয়োজন। অধিদপ্তরসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একই কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে একই ধরনের পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদীকে ঘিরে বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোও তদন্তের দাবি রাখে। তাঁর বিরুদ্ধে বদলি-বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের বিনিময়ে অর্থ লেনদেন, দরপত্রে কথিত কমিশন আদায় এবং ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন অধিদপ্তরসংশ্লিষ্ট কয়েকজন। ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি বদলি আদেশে কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি এবং কয়েকজনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে সময় তারেক আনোয়ার জাহেদী অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব পালন করছিলেন। অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, বদলি ও পদায়ন ঘিরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগেও এই গোষ্ঠী বদলি-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করত। আরও পড়ুন: ইইডির প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদীকে ঘিরে অভিযোগের স্তূপ, বদলি-বাণিজ্য ও টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো, পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের আশ্বাস দিয়ে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের সুযোগে দ্রুতগতিতে বড় অঙ্কের বদলি-বাণিজ্য হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এ বিষয়ে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।২০২৫ সালের নভেম্বরেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বদলি আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা ও একটি বদলি-সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ সামনে এসেছিল।  একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসায় বদলি ও পদায়নের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, আদেশ বাস্তবায়নের নথি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা জরুরি হয়ে উঠেছে। অধস্তন কর্মীদের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে অর্থ গ্রহণের ব্যবস্থা চালু ছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, সরাসরি অর্থ গ্রহণের ঝুঁকি এড়াতে অধস্তন কর্মীদের ব্যবহার করা হতো। প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে কর্মরত জসিম নামের এক কর্মচারীকে ঘিরেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, স্ত্রীর নামে লাইসেন্স খুলে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা এবং নামে-বেনামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলীর নজরে আসার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।   সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ নিয়েও আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং অর্থের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার ঘটনা তদন্ত করা প্রয়োজন। সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষার ফল, মেধাতালিকা, নিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা জরুরি।   নির্মাণকাজে বিলম্ব, নিম্নমানের উপকরণ ও অগ্রিম বিল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নয় মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা এমন কোনো কোনো প্রকল্প চার বছরেও শেষ হয়নি। অথচ এসব প্রকল্পে বরাদ্দের বড় অংশ পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এসব বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে যথাযথ জবাব দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।  কাজের অগ্রগতির তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ হয়ে থাকলে কিংবা নির্মাণের মান নিয়ে পরীক্ষায় গুরুতর ত্রুটি পাওয়া গেলে তা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।   পাঁচ লাখ টাকার ভিডিও: তদন্ত কমিটিতে প্রধান প্রকৌশলী ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ঢাকা মেট্রো সার্কেলের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসান শওকতের দপ্তরে অর্থ লেনদেনের একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওতে টেবিলের ওপর টাকা রাখা দেখা যায় এবং একজনকে ‘স্যারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা রেখে যান’ বলতে শোনা যায়। হাসান শওকত দাবি করেন, টাকাগুলো ঠিকাদারদের এবং এ ঘটনায় নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেন। একই প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কিছু অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সভাপতি করা হয় অতিরিক্ত সচিব ড. সরদার মো. কেরামত আলীকে। সদস্য হিসেবে রাখা হয় প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী এবং উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহানকে। এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দেয়: অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তার দপ্তরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্তের কমিটিতে একই অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে সদস্য করা হলে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে? হাসান শওকতের দপ্তরের ভিডিও সম্পর্কে তারেক আনোয়ার জাহেদী জানিয়েছিলেন, ভিডিওটি তখনও তাঁর নজরে আসেনি। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।   একই সংগঠনের সদস্যদের ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত? অধিদপ্তরসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের একই কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। এই পার্থক্য নিয়ে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা সাংগঠনিক প্রভাবের পরিবর্তে অভিযোগের প্রকৃতি, প্রমাণ, দায়িত্ব পালনের রেকর্ড এবং তদন্তের ফলের ভিত্তিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বৈষম্য হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, তদন্তের অবস্থা, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণ এবং পদায়নের নথি পাশাপাশি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।   শিক্ষা সচিবের কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস যোগাযোগ করা হলে শিক্ষা সচিব সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সেখানে কোনো ধরনের অস্থিরতা চলতে দেওয়া হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা ফ্যাসিস্ট আমলে সুবিধাভোগী ছিলেন, তাঁদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে না।এই বক্তব্যের পর অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   সরকারের সুনাম ও শিক্ষার অবকাঠামো—দুই ক্ষেত্রেই জবাবদিহির প্রশ্ন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো। ফলে এখানে দরপত্রে অনিয়ম, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন কিংবা প্রকল্পের অগ্রগতির তুলনায় অতিরিক্ত বিল পরিশোধের অভিযোগ কেবল প্রশাসনিক বিতর্ক নয়; এর প্রভাব পড়তে পারে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারযোগ্যতা এবং সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহারের ওপর। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অধিদপ্তরের ভেতরে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে কোনো কোনো কর্মকর্তা চাপের মুখে পড়েন।  প্রশাসনের দায়িত্ব হলো—অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিভিত্তিক সিদ্ধান্ত, প্রয়োজন হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এখন যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তিতে কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন। প্রথমত, মোজাহিদুল ইসলাম আলিফের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তে শাস্তির সুপারিশ করা হয়ে থাকলে তার পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী ছিল? দ্বিতীয়ত, বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদক ও অধিদপ্তরে দেওয়া অভিযোগগুলোর বর্তমান অবস্থা কী? বরিশালের পাশাপাশি বরগুনার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার প্রশাসনিক ভিত্তি কী? তৃতীয়ত, জাহেদুল করীম, আবুল হাসেম সরদার ও সরোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো বিভাগীয় বা দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত চলছে কি না, চললে তার অগ্রগতি কতদূর? চতুর্থত, প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদীকে ঘিরে বদলি-বাণিজ্য, পদায়নে অর্থ লেনদেন ও দরপত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হয়েছে কি না? অধস্তন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাঁর দেওয়া তদন্তের নির্দেশগুলোর চূড়ান্ত ফল কী? পঞ্চমত, নির্মাণ প্রকল্পে অগ্রিম বিল পরিশোধ, অসমাপ্ত কাজের বিপরীতে অর্থ ছাড় এবং পুনঃদরপত্রে অনিয়মের অভিযোগগুলো যাচাই করতে প্রকল্পভিত্তিক নিরীক্ষা করা হয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে বোঝা যাবে, অধিদপ্তরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা কেবল তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে, নাকি অভিযোগের নিষ্পত্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কার্যকর প্রক্রিয়াও চালু রয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি—তবে সেই নিষ্পত্তি হতে হবে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারি অর্থে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্বে থাকা এই সংস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২২, ২০২৬ 0
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

ঘুষ-কমিশন, ভুয়া বিল-ভাউচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ; প্রকল্পের দরপত্র ও আর্থিক নথি তদন্তের দাবি- ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী  ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) শাখা'র নির্বাহী সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ-কমিশন বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, দরপত্রে অনিয়ম, বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সাকিল আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তি। ‘সচেতন নাগরিক’-এর পক্ষে করা ওই আবেদনে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে থেকে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত মালিকানা, দরপত্র ও কার্যাদেশ, নির্মাণকাজের বাস্তব অগ্রগতি, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার, ব্যাংক লেনদেন এবং নিরাপত্তা জামানতের নথি যাচাই করা হলে অনিয়মের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   ঠিকাদারি কাজ বণ্টন ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের মদদে মেসার্স মোমিন সিকদার, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্সের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ বণ্টন, সাবকন্ট্রাক্ট ও ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। অভিযোগে প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প এবং বরিশাল নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের দরপত্র ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।   আরও পড়ুন: বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল যখন ঠিকাদার: ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ   আবেদনকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে কোন প্রতিষ্ঠান কীভাবে কাজ পেয়েছে, কার্যাদেশের সঙ্গে বাস্তব নির্মাণকাজের সামঞ্জস্য কতটা, কাজের পরিমাপ অনুযায়ী বিল দেওয়া হয়েছে কি না এবং অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়া ঠিকাদারদের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি, ঠিকাদারি কাজ বিক্রি, অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে প্রকল্পের সংশোধিত বরাদ্দ বা বিলের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন এবং লাইসেন্স-সংশ্লিষ্ট লেনদেনে অর্থ আদায়ের অভিযোগও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বেনামি ঠিকাদারি ব্যবসা ও দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় শহিদুল ইসলাম নিজে  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পরিচালনা এবং দরপত্রপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগকারীর ধারণা। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত মালিকানা, অংশীদারত্ব, কার্যাদেশ বণ্টন, দরপত্রের নথি, কাজের উপঠিকাদারি চুক্তি এবং আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীর মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের কোনো সংঘাত ছিল কি না, তা নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানের নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা জরুরি।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং আইনানুগ তদন্ত করা প্রয়োজন।   নিয়োগ ও পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গেও অভিযোগ শহিদুল ইসলামের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে আবেদনে। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর এবং তাঁর কয়েকজন বন্ধুর নিয়োগ ঘিরে অতীতে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল এবং পরে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের বহুল আলোচিত ঘটনা এবং পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনসহ একটি প্রশ্নফাঁস চক্রের প্রসঙ্গ টেনে শহিদুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনকারী মনে করেন, এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নিয়োগের নথি, পিএসসির রেকর্ড, তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথি যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই প্রাসঙ্গিক। শত শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ লিখিত আবেদনে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বরিশাল ও ঢাকায় অংশীদারত্বের ভিত্তিতে জমি কেনা, ফ্ল্যাট ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং রাজধানীর উত্তরায় নিজস্ব ফ্ল্যাট ও গাড়িসহ বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ঘুষ, কমিশন, ঠিকাদারি কাজের লেনদেন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের বিল-সংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে শহিদুল ইসলাম ও তাঁর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার সম্পদ থাকার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের পরিমাণ, প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের সময়, অর্থের উৎস এবং আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। ।  অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, গাড়ির নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা যেতে পারে।   মানববন্ধন ঘিরেও বিরোধের অভিযোগ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে বরিশালে ঠিকাদারদের একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই মানববন্ধনে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হামলা চালিয়ে অংশগ্রহণকারীদের বাধা দেন ও হয়রানি করেন।ঘটনাটি সত্য  তা আলাদাভাবে তদন্তের দাবি রাখে।  কোন কোন নথি যাচাইয়ের দাবি দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া আবেদনে অভিযোগকারী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় কয়েকটি বিষয় যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে: প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্পের দরপত্র, কার্যাদেশ, কাজের পরিমাপ ও বিল পরিশোধের নথি। বরিশাল কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের চুক্তি, বাস্তব অগ্রগতি ও আর্থিক হিসাব। মেসার্স মোমিন সিকদার, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্সের প্রকৃত মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি কাজের সাবকন্ট্রাক্ট, সংশোধিত ব্যয়, নিরাপত্তা জামানত ও ব্যাংক লেনদেন। শহিদুল ইসলামের নিয়োগসংক্রান্ত নথি এবং পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রামাণ্য তথ্য আছে কি না। তাঁর নামে ও বেনামে থাকা বলে অভিযোগ করা জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যাংক হিসাব এবং আয়কর নথি। এসব নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগের পক্ষে  প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে। অভিযোগকারীর বক্তব্য সাকিল আহম্মেদ বলেন, “আমি সচেতন একজন নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগ এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি, দুদকের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা মিলবে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই তাঁর আবেদনের উদ্দেশ্য। তদন্তেই নির্ধারিত হবে অভিযোগের সত্যতা সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, দরপত্রে স্বচ্ছতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস যাচাই—এসব বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিভিত্তিক প্রমাণ  গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সব মিলিয়ে, অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তিতে নথিভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তই হবে মূল বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২০, ২০২৬ 0
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল যখন ঠিকাদার: ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলে দুর্নীতির অভিযোগ: নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুলের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, কমিশন বাণিজ্য ও ভুয়া বিলের প্রশ্ন:২৪ ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগ, মানববন্ধন ও টেন্ডার কারসাজির দাবি; প্রায় ৩২ কোটি টাকার টিএসসি প্রকল্পে কমিশন লেনদেনের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) জেলার শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। জেলার স্কুল,কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, সংস্কার, শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণ, টয়লেট ও অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজের দায়িত্ব এই দপ্তরের ওপর ন্যস্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই দপ্তর ঘিরে যে চিত্র উঠে আসছে, তা সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে। অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দপ্তরের ভেতরে ঘুষ, অনিয়ম, দরপত্র কারসাজি ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ জমতে জমতে এখন পাহাড় হয়ে প্রকাশ্যে আসছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম।   কে এই শহিদুল,আটকের দাবি শহিদুল ইসলাম ছাত্র জিবন থেকেই ছাত্রলীগের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত।বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার ঢেপুয়ারপাড় জামুয়া গ্রামে।তার পিতার নাম শেখ রুস্তুম আলী।পিমস আইডি নং ০০০৫৪৩।এন আই ডি নং- এনআইডি নং- ২৬৯০৪১৭১৫৪+++। ডুয়েটে থাকাকালীন সময়ে আবেদ আলী পিএসসি সনদ বানিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। বহুল আলোচিত কেলেঙ্কারি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী এবং পিএসসির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাসহ একটি শক্তিশালী প্রশ্নফাঁস চক্রের সাথে প্রকৌশলী শহিদুল জড়িয়ে পড়েন। শহিদুলের নিয়োগেও রয়েছে বড় অনিয়ম।তিনি ও তার বন্ধুদের নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ফাঁস হয়েছিল।বড় অংকের ঘুসের বিনিময়ে সেই অনিয়ম ধামাচাপা দেয়া হয়।শহিদুলকে আটক করে রিমান্ডে নেয়া হয়ে আবেদআলী পিএসসি প্রশ্নফাঁসে বহু তথ্য বেড়িয়ে আসবে।   শহিদুলের গডফাদাররা কারাগারে থাকলেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে: বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম তিনি সরকারি দ্বায়িত্বে নিয়োজিতই নন।তিনি এখনো বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শাখার সদস্যও। ডুয়েটে ছাত্র জিবনে কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন।২০০৯ ব্যাচের এই প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের চতুরতায় বরিশাল,ঝালকাঠি ও পটুয়াখালীর অসংখ্য ঠিকাদারগন পথে বসেছে। শহিদুলের গডফাদার ঝালকাঠিতে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ছিলেন আমির হোসেন আমু,বরিশালে তার গডফাদার ছিলেন জাহিদ ফারুক শামিম। আমু ও জাহিদ ফারুক শামিম কারাগারে অথচ প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম দুটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা বরিশাল ও বরগুনার দ্বায়িত্বে বহাল তবিয়তে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন।শহিদুল ইসলামকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে সাধারন ঠিকাদারগন। ঠিকাদার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং দপ্তরের ভেতরের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রকল্পের ফাইল কার্যত এগোয় না-এমনটাই দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দপ্তরের ভেতরে এমন একটি প্রভাববলয় তৈরি করেছেন, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে অর্থ ছাড় পর্যন্ত প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ধাপ তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে কেউ তাঁর বিরাগভাজন হলে কিংবা তাঁর কথিত নির্দেশনা অনুসরণ না করলে ফাইল আটকে যাওয়াটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম যখন ঠিকাদার : বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম তিনি নিজ দপ্তরে বসেই চারটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রন করেন।এই চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নিয়ে সাব কন্ট্যাক্টে কাজ দেন বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।ফলে প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের নিকট জিম্মি থাকে সাব কন্টাক্টে কাজ নেয়া প্রতিষ্ঠানের লোকজন।শহিদুল ইসলাম যে চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রন করেন সেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বরিশালের মেসার্স মোমিন সিকদার,দিনাজপুরের মেসার্স মা এন্টার প্রাইজ,চট্রগ্রামের ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স,খুলনার মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্স। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নেওয়ার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্য ঠিকাদারদের কাছে সাবকন্ট্রাক্টে কাজ দেওয়া হয়। এতে মূল কাজের বরাদ্দ, বাস্তবায়ন এবং আর্থিক লেনদেনের ওপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রভাব বজায় থাকে বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁদের আরও দাবি, সাবকন্ট্রাক্টে কাজ নেওয়া ঠিকাদারদের বিল, জামানত ও ভবিষ্যৎ কাজের সুযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে অনিয়মের প্রতিবাদ করা বা অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা তাঁদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।  উল্লিখিত চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিকানা, নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে তাদের আর্থিক বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বরাদ্দ ও সাবকন্ট্রাক্টের বৈধতা যাচাই করতে দরপত্রের নথি, চুক্তিপত্র, মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য অনুসন্ধান চলছে।   নিরাপত্তা জামানত নিয়েও প্রশ্ন: ঠিকাদারদের অভিযোগ, চারটি প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পাদিত কাজের বিপরীতে নিরাপত্তা জামানত হিসেবে ৫ শতাংশ অর্থ কর্তন করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের দাবি অনুযায়ী প্রযোজ্য বিধিতে ১০ শতাংশ কর্তনের কথা রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এভাবে জামানত কর্তনের ক্ষেত্রে বিধি অনুসরণ না করা হলে সরকারের আর্থিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনুসন্ধানের শুরুটা হয় ঠিকাদারদের অসন্তোষ থেকে। বরিশাল জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ করেও একাধিক ঠিকাদার বিল না পাওয়ার অভিযোগ তুলতে থাকেন। কেউ কেউ জানান, কাজ শেষ হওয়ার পর মাসের পর মাস অফিসে ঘুরেও তারা বিল পাচ্ছেন না। আবার কোনো ক্ষেত্রে বিল আংশিক ছাড় করা হলেও বাকি অর্থ আটকে রাখা হচ্ছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে দেখা যায়, অধিকাংশ ফাইলের শেষ ধাপ গিয়ে থেমে থাকে নির্বাহী প্রকৌশলীর টেবিলে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার জানান, এখানে কাজ করতে হলে শুধু নিয়ম মেনে কাজ করলেই হয় না, বাড়তি কিছু 'ম্যানেজ' করতে হয়। এক ঠিকাদারের ভাষায়, “এখানে কাজ করতে হলে দুইটা জিনিস লাগে-ধৈর্য আর টাকা। টাকা না দিলে ধৈর্য পরীক্ষা নেওয়া হয়।” তাঁর দাবি, অফিসে কেউ সরাসরি ঘুষের কথা বলে না, কিন্তু কথাবার্তার ইঙ্গিত থেকেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। প্রথমে বলা হয় ফাইলে একটু সমস্যা আছে, পরে নতুন কাগজ চাই, এরপর বলা হয় 'উপরে কথা বলতে হবে'।   শহিদুলের যত সম্পদ:  বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল শেয়ারি বরিশাল ও ঢাকায় জমি ক্রয় করে ফ্ল্যাট ব্যবসা,উত্তরায় নিজস্ব ফ্ল্যাট,গাড়িসহ নামে বেনামে শত শত কোটি টাকাসহ সহায় সম্পদ গড়েছেন। ঘুষ,ঠিকাদারি,ঠিকাদারদের থেকে প্রতি বিলে ঘুষ,কমিশন,ঠিকাদারী কাজ বিক্রি, পার্টনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজের রিভাইজের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিল করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ,প্রতি লাইসেন্স থেকে দশ হাজার করে ঘুষ আদায়সহ অনৈতিক ভাবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।দুদক তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে তার সম্পদের পাহাড়ের সকল তথ্য। নারী কেলেঙ্কারির যত অভিযোগ:  বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল নারীদের প্রতি খুবই দুর্বল।তাকে নারী সাপ্লাই দিত সাবেক এক হিসাব রক্ষক।বর্তমানে এক নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অভ্যান্তরে কানাঘুষা চলছে।এছাড়া তার নিজস্ব নিয়োগ দেয়া ব্যক্তিও তাকে সুন্দরী নারী সাপ্লাই দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।একটি নির্জন বাংলোতে নারীদের নিয়ে সময় কাটানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ বা সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর বিল ছাড় করাতে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিতে হয়-এমন অভিযোগ বহু ঠিকাদারের। প্রকল্পের আকার ও বাজেট অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ ভিন্ন হয়ে থাকে বলে তারা জানান। কাজ যত বড়, কথিত লেনদেনের অঙ্কও তত বেশি-এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয় বলে তারা দাবি করেন। প্রথমে মৌখিক ইঙ্গিত দেওয়া হয়, পরে কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়, সবশেষে সরাসরি 'খরচের কথা' বলা হয়।   ঠিকাদারদের অভিযোগ, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরতেই থাকে। কখনো নতুন করে মাপজোপের কথা বলা হয়, কখনো আগের কাগজে ত্রুটি বের করা হয়। ফলে কাজ শেষ করেও তারা আর্থিক সংকটে পড়েন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঋণ নিয়ে কাজ করেছেন, কিন্তু বিল আটকে থাকায় সেই ঋণ শোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   বিল ছাড়ের পাশাপাশি দরপত্র প্রক্রিয়ায়ও ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে দরপত্রের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারই সুবিধা পায়। প্রকৃত প্রতিযোগী ঠিকাদারদের দরপত্রে কৃত্রিম কারিগরি ত্রুটি দেখিয়ে বাতিল করা হয়-এমন অভিযোগও রয়েছে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতে প্রভাব বিস্তার করে তার চারটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুলের বিরুদ্ধে।এক ঠিকাদার বলেন, "আগেই ঠিক করে দেওয়া থাকে কে কাজ পাবে। দরপত্র শুধু আনুষ্ঠানিকতা। আমরা কাগজ জমা দিলেও পরে বলা হয় টেকনিক্যাল সমস্যা আছে।” তাঁর দাবি, এসব সমস্যার কোনো বাস্তব ভিত্তি থাকে না, বরং পছন্দের ঠিকাদারকে জায়গা করে দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এই অনিয়মের ফলে সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি সরকারের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। প্রতিযোগিতা না থাকায় কাজের মান কমে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অনুসন্ধানে জেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও অর্ধসমাপ্ত ভবন পড়ে আছে, কোথাও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, আবার কোথাও কাগজে কাজ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে ভবনের বিভিন্ন অংশ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ছাদ থেকে পানি পড়ে, দেয়ালে ফাটল। কিন্তু কাগজে নাকি সব ঠিক। আমাদের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে ক্লাস করছে।” অভিভাবকদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলায় শিক্ষার্থীদের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে। তারা বলছেন, শিক্ষা খাতে অনিয়ম মানে সরাসরি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, দপ্তরের ভেতরে ও বাইরে একটি মধ্যস্থতাকারী নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরাসরি লেনদেন এড়িয়ে যোগাযোগ রক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। দপ্তরের কিছু কর্মচারী এবং বাইরের কয়েকজন ব্যক্তি এই যোগাযোগের কাজ করে থাকেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। এর ফলে মূল অভিযুক্ত সবসময় সরাসরি সামনে না এসে আড়ালে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম।   সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) বরিশাল কার্যালয় ঘিরে ঘুষ, দরপত্রে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, বিল আটকে রাখা এবং ঠিকাদারদের হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে  সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ২৪ জন ঠিকাদার। অভিযোগের প্রতিবাদে তাঁর অপসারণ ও তদন্তের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ পাওয়া থেকে শুরু করে বিল উত্তোলন, জামানত ফেরত এবং দরপত্রের মূল্যায়ন—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপেই একটি প্রভাবশালী বলয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ নেওয়া, পরে অন্য ঠিকাদারের কাছে কাজ হস্তান্তর, নির্ধারিত হারে কমিশন আদায়, কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ নথি তৈরি এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা। প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ  স্থাপন প্রকল্প ঘিরে কমিশন লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। এ ছাড়া বরিশাল নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের দরপত্র, নিরাপত্তা জামানত কর্তন এবং ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে, তা শুধু একটি সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক অনিয়মের প্রশ্ন নয়; বরং শিক্ষা অবকাঠামোর গুণগত মান, সরকারি অর্থের সুরক্ষা এবং সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।    বিল ছাড়ে কমিশনের অভিযোগ: কাজ শেষ, তবু অপেক্ষা অনুসন্ধানের উপাদানে উঠে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো কাজ সম্পন্ন করার পরও ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখা এবং বিল ছাড়ের জন্য কমিশন দাবি করার অভিযোগ। ঠিকাদারদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ, সংস্কার কিংবা সম্প্রসারণের কাজ শেষ করার পরও মাসের পর মাস তাঁদের দপ্তরে ঘুরতে হয়। কখনো বিলের একটি অংশ ছাড় করা হয়, আবার কখনো নতুন করে কাগজপত্র চাওয়া বা কাজের পরিমাপ নিয়ে আপত্তি তোলার কারণে ফাইল আটকে থাকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদারের অভিযোগ, “এখানে কাজ করতে হলে দুইটা জিনিস লাগে—ধৈর্য আর টাকা। টাকা না দিলে ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া হয়।” ঠিকাদারদের দাবি, বিলের পরিমাণ ও প্রকল্পের আকার অনুযায়ী কথিত কমিশনের অঙ্ক নির্ধারিত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে ফাইলে সমস্যা থাকার কথা বলা হয়, পরে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অর্থের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। আরেকটি অভিযোগ হলো, নিরাপত্তা জামানত ফেরত পেতেও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। তবে এসব লেনদেনের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, অর্থ গ্রহণকারী ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ঠিকাদারদের বক্তব্য, বিল আটকে থাকায় তাঁদের ব্যাংকঋণের সুদ, শ্রমিকের মজুরি ও নির্মাণসামগ্রীর বকেয়া পরিশোধে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপরও।   দরপত্রে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয় ঘিরে আরেকটি বড় অভিযোগ হলো দরপত্রের প্রতিযোগিতা প্রভাবিত করা। ঠিকাদারদের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে দরপত্রের শর্ত ও মূল্যায়নপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করা হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদারদের কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে বাদ দেওয়া এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এক ঠিকাদারের ভাষায়, “আগেই ঠিক করে দেওয়া থাকে কে কাজ পাবে। দরপত্র শুধু আনুষ্ঠানিকতা। আমরা কাগজ জমা দিলেও পরে বলা হয়, টেকনিক্যাল সমস্যা আছে।” অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সিদ্ধান্তের ফলে প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহারও ব্যাহত হতে পারে।    কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকার প্রকল্প বরিশাল নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে দরপত্র নিয়ে বিতর্কের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ কোটি ২৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৯ সালের ১৯ জুন প্রকল্পটির জন্য প্রথম দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। সে সময় কোহিনূর এন্টারপ্রাইজ কাজটি পায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, মহানগর যুবলীগ নেতা ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক বিপ্লব এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী জাহিদ কাজটি শুরু করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটি পুনঃদরপত্রে যায় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। পরবর্তী দরপত্রে বিভিন্ন স্থান থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং প্রত্যেকেই ১০ শতাংশ ছাড় দিয়ে দরপত্র জমা দেয় বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম পুনঃদরপত্রে অংশ নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, যেটি জিয়াউল হক বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করা হয়েছে। ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, দরপত্র প্রক্রিয়া ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও  এ ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি। অভিযোগকারীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাবের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের দাবি, দরপত্রের শর্ত, মূল্যায়নের ফলাফল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের কারণ প্রকাশ করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।   প্রায় ৩২ কোটি টাকার টিএসসি প্রকল্প: কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাবুগঞ্জ ও আগৈলঝাড়ায় কারিগরি স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপন প্রকল্প ঘিরেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদারদের একাংশ। তাঁদের দাবি, প্রায় ৩২ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ বসুন্ধরা হাউজিং (প্রা.) লিমিটেডের লাইসেন্স ব্যবহার করে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম নিজেই নিয়ন্ত্রণ করেছেন। পরে প্রকল্পের কাজ ৭ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে অন্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পের কার্যাদেশ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও প্রতিনিধিত্ব, চুক্তির শর্ত, কাজের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং অর্থ পরিশোধের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সরকারি কাজের চুক্তি অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়ে থাকলে সেটি অনুমোদিত সাবকন্ট্রাক্ট কি না, তা-ও যাচাই করতে হবে। ৩৫ লাখ টাকা ও কম্পিউটার অপারেটর রাশেদকে ঘিরে অভিযোগ টিএসসি প্রকল্পের কমিশন লেনদেন নিয়ে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান কার্যালয়ের প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বরিশালে আসার পর সার্কিট হাউসে ঠিকাদার প্রতিনিধিরা প্রকল্পের অগ্রিম কমিশন হিসেবে ৩৫ লাখ টাকা তাঁর দপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর রাশেদের কাছে জমা দেন। ঠিকাদারদের অভিযোগ, টাকা গ্রহণের পর রাশেদকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে তাঁকে খুঁজতে নির্বাহী প্রকৌশলীর সরকারি গাড়িতে করে তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও ভাইকে বরিশালে আনা হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রাশেদের স্ত্রীর আপত্তির মুখে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।অভিযোগটি সত্য হলে তা সরকারি প্রকল্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও দপ্তরের জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে। এ কারণে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। ছয় থেকে আট ঠিকাদারের সিন্ডিকেটের অভিযোগ ঠিকাদারদের একাংশের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলীর আশপাশে ছয় থেকে আটজন ঠিকাদারকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের বরাদ্দ, কার্যাদেশ, বিল ছাড় এবং জামানত ফেরতের মতো বিষয়ে এই বলয় বাড়তি সুবিধা পায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তার নামও এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বড় প্রকল্পের কাজ বণ্টন ও কমিশনভিত্তিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক এক প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে শহিদুল ইসলামের ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁকে নিয়মিত বরিশালের ইলিশ পাঠানোর অভিযোগও ঠিকাদারি মহলে আলোচিত বলে দাবি করা হয়েছে।   ২৪ ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগ: কী প্রতিকার চাওয়া হয়েছে? সচিবের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ২৪ জন ঠিকাদার নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, দুর্নীতি, ভুয়া বিল উত্তোলন, দরপত্রে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের প্রধান বিষয়গুলো হলো— কমিশন দাবি: নির্ধারিত হারে কমিশন না দিলে সম্পন্ন কাজের বিল অনুমোদন না করার অভিযোগ। জামানত ফেরতে হয়রানি: নিরাপত্তা জামানত ফেরত পেতে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ। ভুয়া অগ্রগতির নথি: মাঠপর্যায়ে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলেও কাগজে অগ্রগতি দেখিয়ে বিল ছাড়ের অভিযোগ। দরপত্রে প্রভাব বিস্তার: নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ। হুমকি ও অশালীন আচরণ: ঠিকাদারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ। কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি: কর্মদিবসে দপ্তরের একাধিক প্রকৌশলীর অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ। সরকারি বিশ্রামাগারের ব্যবহার: দপ্তরের রেস্ট হাউস ব্যক্তিগত ও অনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।  ঠিকাদারকে ফোনে হুমকির অভিযোগ, থানায় সাধারণ ডায়েরি নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদার ফারুক হোসেনকে ফোনে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর এ ঘটনা ঘটে। পরদিন ৩০ নভেম্বর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যার নম্বর ২০৭৬ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিকাদারদের আরও দাবি, প্রকাশ্যে অভিযোগ জানালে তাঁদের চলমান প্রকল্পের বিল আটকে দেওয়া হতে পারে কিংবা কাজের সাইটে নতুন করে ত্রুটি খোঁজা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকে পরিচয় গোপন রাখতে চান। ‘রাসেল’ ছদ্মনামে পরিচিত এক ঠিকাদারের দাবি, নির্ধারিত কমিশন না দিলে ফাইল স্বাক্ষর হয় না। ‘অয়ন’ ছদ্মনামে আরেক ঠিকাদার বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজের নিরপেক্ষ পরিদর্শন ও নথি যাচাই করা হলে ভুয়া বিলের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন দরপত্র ও বিলসংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনের উপাদানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অর্ধসমাপ্ত ভবন, নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে অসন্তোষ এবং কাগজে কাজ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে কিছু অংশ অসম্পূর্ণ থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিযোগ করেন, ভবনের ছাদ থেকে পানি পড়ে এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। অথচ নথিতে কাজ ঠিকঠাক সম্পন্ন হওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। অভিভাবকদের উদ্বেগ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তবে কোন বিদ্যালয়ের ভবনে কী ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে, কাজের চুক্তিমূল্য কত, নির্মাণকাজের দায়িত্বে কোন প্রতিষ্ঠান ছিল এবং প্রকৌশলগত পরীক্ষায় কী ফল এসেছে—এসব তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। শিক্ষা অবকাঠামোর গুণগত মান নিশ্চিত করতে নির্মাণকাজের পরিমাপ, উপকরণের পরীক্ষার ফল, প্রকৌশলগত পরিদর্শন এবং ত্রুটি সংশোধনের নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত দায়িত্ব নিয়েও বিতর্ক শহিদুল ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শাখার সদস্য ছিলেন এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) শিক্ষাজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার ঢেপুয়ারপাড় জামুয়া গ্রামে এবং তাঁর পিতার নাম শেখ রুস্তুম আলী  ।  অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনের সময় আমির হোসেন আমু এবং বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে জাহিদ ফারুক শামীমের রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বর্তমানে কারাগারে থাকলেও শহিদুল ইসলাম বরিশাল ও বরগুনার দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। পিএসসির প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি  শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাঁসসংক্রান্ত আলোচিত ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ডুয়েটে শিক্ষাজীবনের সময় তিনি পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদকে ঘিরে আলোচিত প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া তাঁর নিয়োগ এবং একই সময় নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন বন্ধুর নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ঘুষের বিনিময়ে এসব অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল।   পটুয়াখালীতেও অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে দাবি ঠিকাদারদের একাংশের দাবি, পটুয়াখালীতে দায়িত্ব পালনকালেও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।  মানববন্ধনে অপসারণ ও শাস্তির দাবি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অধিদপ্তরের ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা বলে প্রতিবেদনের উপাদানে উল্লেখ রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের প্রতিবাদ দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে।  ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্বে বহাল রাখা তদন্তের স্বচ্ছতায় প্রভাব ফেলতে পারে কি না, সেটিও কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধান প্রকৌশলীর আশ্বাস, তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন বরিশাল কার্যালয় ঘিরে অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্য হিসেবে বলা হয়েছে, “দুর্নীতি-অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে অভিযোগকারীদের দাবি, আশ্বাসের পরও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য তাঁরা পাননি। এ কারণে অভিযোগ তদন্তের অগ্রগতি, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না এবং কোনো অডিট বা বিভাগীয় অনুসন্ধান চলছে কি না—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে। এ প্রতিবেদনের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বক্তব্য সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।  প্রকৌশলী শহীদুলের অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। দুর্নীতি-অনিয়ম কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না বরিশাল শিক্ষা প্রোকৌশলী অধিদপ্তর। বিভিন্ন উপায়ে অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, প্রকৌশলীদের অনৈতিক সুবিধা আদায়সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, একাধিক ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম কাজ পাইয়ে দেওয়া, বিল ও জামানতের চেক পরিশোধের ক্ষেত্রে গুনে গুনে বুঝে নেন কমিশন।  ২৬ কোটি টাকার কাজ দুইটি ৭% কমিশনে অন্য ঠিকাদারের কাছে বিক্রী করে দেন। অবশ্য তিনি বরিশালে যোগদানের পর থেকেই অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন এবং বাছাই করা উন্নয়ন কাজগুলো নিজেই বিভিন্ন কৌশলে ভাগিয়ে নিয়ে ঠিকাদারদের কাছে বিক্রী করে আসছেন।     এখন প্রয়োজন নথিভিত্তিক, নিরপেক্ষ তদন্ত বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় কয়েকটি বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও সচেতন নাগরিকদের একাংশ। প্রথমত, নির্বাহী প্রকৌশলী ও অভিযোগে উল্লিখিত চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রায় ৩২ কোটি টাকার টিএসসি প্রকল্প এবং কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪ কোটি ২৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকার প্রকল্পের দরপত্র, কার্যাদেশ ও বিলের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, ২৪ ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগ, নিরাপত্তা জামানত কর্তনের হার, বিল আটকে রাখার কারণ এবং কথিত কমিশন লেনদেনের বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্ত করা দরকার। চতুর্থত, ৩৫ লাখ টাকা হস্তান্তরের অভিযোগ, কম্পিউটার অপারেটর রাশেদের ভূমিকা এবং ঠিকাদার ফারুক হোসেনের জিডির তথ্য যাচাই করতে হবে। পঞ্চমত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোর নির্মাণমান পরীক্ষা করে ত্রুটি পাওয়া গেলে দায়ী ঠিকাদার ও তদারক কর্মকর্তাদের ভূমিকা নির্ধারণ করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া  প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে বিলম্ব, নথি গোপন রাখা কিংবা তদন্তের ফল প্রকাশ না করা হলে দপ্তরের ওপর আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে। মূল প্রশ্ন এখন একটাই: বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কি, নাকি ২৪ ঠিকাদারের অভিযোগ, দরপত্র বিতর্ক ও কমিশন বাণিজ্যের দাবিগুলোও প্রশাসনিক ফাইলের ভেতরেই আটকে থাকবে? অনুসন্ধান প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্বে  বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অনিয়ম,দুর্নীতি, এবং নতুন অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0