Brand logo light

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর
বরিশালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ

বরিশাল অফিস :    বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীন (পরিচিতি নং-৩১১১৪) এর বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধারের নামে সাধারন মানুষদের হয়রানী।বাসা বাড়িতে প্রবেশ করে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি ,অর্থ আদায়, অর্থ না পেলে মাদকদ্রব্য দিয়ে আটকসহ ঘুষ বনিজ্য রমরমার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে জসীম উদ্দীনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর একটি বিভাগীয় মামলার আদেশে একজন অভ্যাসগত অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। তিন তিনটে বিভাগীয় মামলা হলেও বার বার ঘুষের বিনিময়ে ও ক্ষমতার প্রভাবে পার পেয়ে যান জসীম উদ্দিন। বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত হলেও জসীম উদ্দিনকে বদলী করা হয় বরিশালে। বরিশালে যোগদানের পরেই পুর্বের কর্মস্থলের মত ঘুষ আদায়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেন।বরিশালে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে এসে মাদক কারবারিদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দিন। মাদক বিক্রেতাদের পথ মসৃণ করে দিয়ে নিজের পকেটে ভরছেন মাসোহারা। বেপরোয়া উপ পরিদর্শক জসীম অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছ থেকে নেওয়া সেই মাসোহারার ভাগ পান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। যে কারণে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন উপ পরিদর্শক জসীম। বরিশালে যোগদান করার পর আগের রূপে ফিরেছেন জসীম উদ্দিন। একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, বরিশাল নগরীর চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সঙ্গে জসীমের দোস্তি সম্পর্ক রয়েছে। নগরীর রিফিউজি কলোনির ‘গাঁজাসম্রাট’ রফিকের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেন জসীম। কাউনিয়ার জোসনা, সুমি, কেডিসির নিলু, ডিজে লিটন, বাবু নাজু, আসমা-পারুল, মানিক, রুবেল, ময়না ও খলিলের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুসের টাকা নেন জসীম। নগরীতে চোলাই মদের ঘরগুলো থেকে মাসোহারা উঠান জসীম। অভিযোগ রয়েছে, মাদকসহ আটক করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আসামিদের ছেড়ে দেন তিনি। অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা? বরিশালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ নতুন নয়—বরং এটি একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকতার অংশ, যা প্রশাসনিক নথি, বিভাগীয় তদন্ত এবং স্থানীয় অভিযোগের মধ্যে এক অস্বস্তিকর সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। অতীতে একাধিক বিভাগীয় মামলায় অভিযুক্ত হওয়া, শাস্তি পাওয়া এবং তারপরও দায়িত্বে বহাল থাকা—এই ঘটনাপ্রবাহ এখন নতুন কর্মস্থলেও একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে দাবি উঠেছে। এই প্রতিবেদনে সরকারি নথি, বিভাগীয় তদন্তের তথ্য এবং সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে—একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ কীভাবে প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে টিকে থাকে এবং তার প্রভাব কী হতে পারে। অভিযোগের প্রকৃতি: অভিযানের আড়ালে অনিয়ম? স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে  হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ড ঘটছে। অভিযোগে বলা হয়— * বাড়িতে তল্লাশির সময় মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় * অর্থ দিলে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয় * অর্থ না দিলে “মাদক উদ্ধার” দেখিয়ে মামলা দেওয়া হয় এ ধরনের অভিযোগ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে, বিশেষ করে যখন অভিযুক্ত ব্যক্তি অতীতেও একই ধরনের অভিযোগে তদন্ত ও শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন।  নথিতে যা পাওয়া যায়: ২০২৪ সালের অফিস আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অফিস আদেশ (২০ অক্টোবর ২০২৪) অনুযায়ী, উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীন  শেরপুরে কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হন। নথিতে উল্লেখ করা হয়— * মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলা * মাসোহারা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রমে সহায়তা করা * অভিযানে জব্দ মাদক অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ * মাদকসেবীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় * অর্থের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া এছাড়া, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করলেও তিনি তা আমলে নেননি বলেও উল্লেখ করা হয়। নির্দিষ্ট একটি অভিযান: তদন্তে যা উঠে আসে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি শেরপুর সদর থানাধীন একটি এলাকায় পরিচালিত অভিযানের সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা পরবর্তীতে বিভাগীয় তদন্তের কেন্দ্রে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযানের সময় মাদক সেবনকারী মোঃ মিনালকে গাঁজাসহ আটক করে মারধর করা হয়। পরে তার স্ত্রী ১০ হাজার টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তদন্তে উঠে আসে— * প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন * অভিযানে অংশগ্রহণকারী দলের সদস্যদের সনাক্ত করা গেছে * অভিযুক্ত কর্মকর্তা ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন এই ঘটনাটি শেরপুর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচিত হয়, যা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। বিভাগীয় তদন্ত ও সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। বিভাগীয় মামলা নং-০৫/২০২৪ ।  তদন্ত শেষে অভিযোগ “প্রমাণিত” বলে উল্লেখ করা হয় এবং তাকে গুরুদণ্ডযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়— * ভুক্তভোগী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন * অর্থ গ্রহণের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে * অভিযানের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই এরপর তাকে চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি লিখিত জবাব দাখিল করলেও তা সন্তোষজনক নয় বলে বিবেচিত হয়। পূর্বের শাস্তির ইতিহাস নথিপত্র অনুযায়ী, এটি ছিল না তার বিরুদ্ধে প্রথম বিভাগীয় ব্যবস্থা। * ২০১৯ সালে একটি মামলায় তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়,(বিভাগীয় মামলা নম্বর -১৯/২০১৯) । * ২০২১ সালে তাকে তিরস্কার দণ্ড দেওয়া হয়,(বিভাগীয় মামলা নম্বর -১২৩/২০২১)। *  ২০২৪ সালে বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিতকরণ দন্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়,(বিভাগীয় মামলা নম্বর -০৫/২০২৪ )। তবুও তার আচরণে পরিবর্তন হয়নি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয় এবং তাকে “অভ্যাসগত অপরাধী” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।  চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: বরখাস্ত নয়, অবনমন যদিও তদন্তে অভিযোগ গুরুতর হিসেবে প্রমাণিত হয় এবং তাকে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ উঠে আসে, শেষ পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত করা হয়নি। নথিতে উল্লেখ করা হয়— * তার ওপর পরিবারের নির্ভরশীলতা (বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, তিন সন্তান) * আর্থিক অবস্থা * “শেষবারের মতো আত্মশুদ্ধির সুযোগ” এই বিবেচনায় তাকে বেতন গ্রেডে তিন ধাপ নিচে নামিয়ে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কঠোরতা বনাম মানবিক বিবেচনার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে—বিশেষ করে যখন অভিযোগগুলো গুরুতর এবং পুনরাবৃত্ত। বরিশালে নতুন অধ্যায়: পুরোনো অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর বরিশালে যোগদানের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আবারও একই ধরনের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ— * মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ * অভিযানে পাওয়া মাদক অন্যত্র বিক্রি * মাদকসেবীদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়  সাম্প্রতিক অভিযোগ: দুটি ঘটনার বিবরণ প্রথম ঘটনা:- বরিশাল নগরীর সার্কুলার রোড এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশির সময় মাদক না পেয়ে ঘরে থাকা ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে ইয়াবা দিয়ে আটক দেখানো হয় বলে দাবি। দ্বিতীয় ঘটনা: গোরস্থান রোডে এক ইট ও বালু ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশির সময় তার স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মাদক দিয়ে আটক করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই অভিযোগগুলো  পূর্বের নথিভুক্ত ঘটনার সঙ্গে মিল থাকায় তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেন ফেনসিডিল বিক্রেতাকে লুৎফর রহমান সড়কের ফেনসিডিল বিক্রেতা বাবুল তালুকদারকে ছয় বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেন জসীম। এর কয়েক মাস আগে বরিশাল সদর উপজেলার লাকুটিয়া সড়কে নয়ন নামের এক মাদক বিক্রেতাকে তিনশ পিস ইয়াবাসহ আটক করার পর তিন লাখ টাকার বিনিময়ে অল্প কয়েকপিস ইয়াবা দিয়ে মামলা দেন জসীম। এই ঘটনার পরপরই নগরীর পলাশপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি গাঁজা কালাম ও তার পরিবারের চারজনকে ছয় কেজি গাঁজাসহ আটক করেন তিনি। পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে তিনজনকে মুক্তি দিয়ে ছয় কেজি গাঁজার পরিবর্তে দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে গাঁজা কালামের বিরুদ্ধে মামলা দেন তিনি।  কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, তিনি তল্লাশি দলের সদস্য ছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা পূর্বের বিভাগীয় মামলা বা নতুন অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন: জবাবদিহিতা কোথায়? এই ঘটনাপ্রবাহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে— * একাধিক বিভাগীয় মামলায় দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন কঠোর শাস্তি কার্যকর হয়নি? * কেন একই ধরনের অভিযোগ নতুন কর্মস্থলেও অব্যাহত? * অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও জবাবদিহিতার কাঠামো কতটা কার্যকর? আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যখন অভিযোগের ধরন একই থাকে এবং তা সময়ের সঙ্গে পুনরাবৃত্ত হয়, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত নয়—প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার ইঙ্গিতও দিতে পারে। বৃহত্তর প্রভাব: জনআস্থা ও আইন প্রয়োগ মাদকবিরোধী অভিযান একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের সময় যদি অনিয়ম, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা জনআস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে— * স্বচ্ছ তদন্ত * দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা * জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা —এসবই অত্যন্ত জরুরি।   বরিশালের এই ঘটনাটি কেবল একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের গল্প নয়; এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, শাস্তির কার্যকারিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার একটি উদাহরণ।   অতীতের নথিভুক্ত অভিযোগ, বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত অনিয়ম এবং বর্তমানের নতুন অভিযোগ—সব মিলিয়ে একটি প্রশ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠছে: **ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তা কি যথেষ্ট?** এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর—যা শুধু একটি ব্যক্তির নয়, পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে জড়িত।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0