Brand logo light

বৈশ্বিক অর্থনীতি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ, ক্ষুদ্র ব্যবসায় মুনাফা কমছে | নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনায় জ্বালানির দাম বেড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মার্কিন ক্ষুদ্র ব্যবসা। একই সময়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ইরান যুদ্ধের অভিঘাতে চাপের মুখে মার্কিন অর্থনীতি ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার নেতিবাচক প্রভাব এখন সরাসরি পড়তে শুরু করেছে মার্কিন অর্থনীতিতে। বিশেষ করে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং শ্রম খরচের চাপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে মুনাফা ধারাবাহিকভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নতুন উদ্যোক্তাদের বড় অংশ এখন অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট শুধু ব্যবসায়ী পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামগ্রিক মার্কিন অর্থনীতির জন্যও এটি একটি সতর্ক সংকেত। কারণ, গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হওয়া নতুন কর্মসংস্থানের প্রায় অর্ধেক এসেছে ২৫০ জনের কম কর্মী নিয়ে পরিচালিত ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো থেকে। মুনাফায় বড় পতন ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর মুনাফায় গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে। এক মাসেই মুনাফা কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন উদ্যোক্তারা বর্তমানে তিনটি বড় সংকটে রয়েছেন— শ্রমিকের সহজলভ্যতা সংকট উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সেটিই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হরমুজ সংকট ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর বৈশ্বিক বাজারে গ্যাস ও জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। আমেরিকার অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৩ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি। ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিলে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে গ্যাসোলিনের পেছনে ৩১ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ভোক্তাদের ব্যয় প্রবণতা এখনও শক্তিশালী থাকলেও ক্ষুদ্র ব্যবসার বিক্রি ধীরে ধীরে মন্থর হয়ে পড়ছে। ফলে বাজারে এক ধরনের “অদৃশ্য মন্দা” তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংকটের মধ্যেও বাড়ছে নতুন ব্যবসা অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ব্যবসা শুরু করার প্রবণতা থেমে নেই। বরং রেকর্ড গতিতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার নতুন ব্যবসার আবেদন জমা পড়েছে। যা করোনা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, উদ্যোক্তা হওয়ার এই প্রবণতাই এখনও মার্কিন অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধস থেকে রক্ষা করছে। নতুন হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আইআরজিসি দাবি করেছে— যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল “বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দুই সামরিক বাহিনীর পূর্ণ সক্ষমতা” ব্যবহার করেও ইরানকে দমাতে পারেনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান এখনও তার সব সামরিক সক্ষমতা প্রয়োগ করেনি এবং নতুন আগ্রাসন হলে “কল্পনার বাইরে বিধ্বংসী হামলা” চালানো হবে। ট্রাম্পের অবস্থান: ‘তাড়াহুড়ো নেই’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে তাড়াহুড়ো নেই বলে মন্তব্য করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু “তিনি যা বলবেন, সেটাই করবেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এখন অগ্রাধিকার হলেও তিনি দ্রুত কোনও সমঝোতায় পৌঁছানোর চাপ অনুভব করছেন না। এর আগে তিনি ইরানের ওপর সম্ভাব্য একটি সামরিক হামলা স্থগিত করার কথাও জানান। উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের অনুরোধেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা বর্তমান সংকট নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানা গেছে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরে ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের স্থবির কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করতে পাকিস্তান নতুন করে উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংঘাতের বিস্তার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরান-এ হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি iran
হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা: বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে ধাক্কার আশঙ্কা, হাজারো জাহাজ আটকা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই রুটে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় দুই হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজারেরও বেশি নাবিক পারস্য উপসাগর অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। তারা প্রণালিটি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতির অপেক্ষায় থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বীমা কোম্পানিগুলো এই রুটকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করে ট্যাংকার জাহাজের জন্য ‘যুদ্ধ ঝুঁকি বীমা’ বাতিল করে। ফলে কাগজে-কলমে চলাচল সম্ভব হলেও বীমার অনুপস্থিতিতে বাস্তবে অনেক জাহাজই যাত্রা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী জানিয়েছে, জলপথে পেতে রাখা নৌ-মাইন অপসারণে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এর আগে পুরোপুরি নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচল সম্ভব নয় বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে মাইন অপসারণ সম্পন্ন হলেও বীমা ব্যয় দীর্ঘদিন উচ্চ পর্যায়েই থাকবে। যতক্ষণ না স্থায়ী কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক সমঝোতা অর্জিত হয়, ততক্ষণ এই অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, নিজেদের নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তারা তাৎক্ষণিক সামরিক প্রতিক্রিয়া থেকে বিরত রয়েছে। দেশটির কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’র ছয় নাবিককে ইতোমধ্যে মুক্ত করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই মুক্তি সম্ভব হয়েছে—এ তথ্য জানিয়েছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি। ২৯ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী ওমান উপসাগর এলাকায় জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়। জাহাজটি ইরানের দিকে যাচ্ছিল এবং এতে ২৮ জন ইরানি নাবিক ছিলেন। ঘটনাটিকে ‘দস্যুতার শামিল’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান। শুরু থেকেই ইরান জানিয়ে আসছে, নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ না নিয়ে কূটনৈতিক পথেই সমাধান খুঁজছে। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ছয় নাবিক দেশে ফিরলেও এখনো বাকি ২২ জন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান। তাদের মুক্তির জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধ
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেলের দাম বেড়ে ১১১ ডলার, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতি

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে নাড়া দিয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও, যেখানে সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির ধারা থমকে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন ডেলিভারির জন্য ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলারের বেশি হয়েছে। জুলাই মাসের জন্য নির্ধারিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০৪ ডলারেরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যেখানে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, তা ধীরে ধীরে বেড়ে ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে—যা যুদ্ধ শুরুর সময়কার উচ্চমাত্রার সঙ্গে তুলনীয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার যে প্রস্তাব ইরান দিয়েছে, তা গ্রহণে ওয়াশিংটনের অনীহা থাকতে পারে। একই সঙ্গে তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই অচলাবস্থার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও পড়ছে। দেশটির অটো ক্লাব এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গড় গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ১৮ ডলারে পৌঁছেছে—যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তা খরচে চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আমদানি-নির্ভর দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এদিকে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে ধৈর্যচ্যুতি দেখা যাচ্ছে। দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের বিশ্লেষক মোহাম্মদ এলমাসরি মনে করেন, “সময় এখন আর কারো পক্ষেই নেই। ইউরোপীয় দেশগুলো ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে।” জার্মান চ্যান্সেলরের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইরান আলোচনায় দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে—এমন মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের চাপের মুখে রয়েছে। অনেক মিত্রই মনে করছে, বর্তমান সংকট সমাধানে ওয়াশিংটন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে এবং এটি মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ক্রমেই কিছু মিত্র দেশের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন এক ঘটনা সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত এক রুশ ধনকুবেরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিলাসবহুল সুপারইয়ট ‘নর্ড’ সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ অতিক্রম করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৪২ মিটার দীর্ঘ এই ইয়টটি দুবাই থেকে যাত্রা করে ওমানের রাজধানী মাসকাটে পৌঁছায়। প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যের এই নৌযানটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে মালিকানা ভিন্ন নামে নিবন্ধিত। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে আগের তুলনায় কম জাহাজ চলাচল করছে। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ফাইল ছবি- এপি
অবরোধের মধ্যেও ইরানের ঘুরে দাঁড়ানো: ফ্লাইট চালু, তেল আয়ে উল্টো বৃদ্ধি

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সামরিক সংঘাত চলার পর প্রথমবারের মতো তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হয়েছে। শনিবার সকালে তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইস্তাম্বুল, মাস্কাট ও মদিনার উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ছেড়ে যায় বলে জানিয়েছে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরান আংশিকভাবে নিজেদের আকাশসীমা খুলে দেয়। অবরোধ ও পাল্টা ব্যবস্থা ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে। হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি ট্যাংকার জব্দসহ ইরানগামী জাহাজগুলোকে দিক পরিবর্তনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে। এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও ‘দস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান। পাল্টা হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচল সীমিত করে এবং কয়েকটি জাহাজ আটক করে। ইরান কি অর্থনৈতিক সংকটে? যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কঠোর অবরোধে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে, বিশ্লেষকরা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছেন। যুদ্ধের আগে দৈনিক তেল আয় ছিল প্রায় ১১.৫ কোটি ডলার। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তা গড়ে ১৬ কোটির বেশি ডলারে পৌঁছেছে—যা আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞ কেনেথ কাটজম্যান বলছেন, সমুদ্রে ভাসমান ট্যাঙ্কারে থাকা ১৬০–১৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল দিয়ে ইরান অন্তত আগস্ট পর্যন্ত আয় ধরে রাখতে পারবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে টোল আদায়ের মাধ্যমে নতুন আয়ের পথও তৈরি করেছে দেশটি। কিছু ক্ষেত্রে একটি জাহাজ থেকেই প্রায় ২০ লাখ ডলার আদায় করা হচ্ছে। তেহরানের কঠোর বার্তা ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিনামূল্যে দেওয়া হবে না। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার ছাড়া পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের ভেতরে কোনো বিভাজন নেই। আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনীতি এদিকে পাকিস্তান-এর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইসলামাবাদে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কংগ্রেসের আইনি চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে চীনের অসন্তোষ—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত কে টিকবে? সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যাডাম এরেলি মনে করেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদি চাপ মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং তাদের স্থিতিশীলতা পরীক্ষার মুখে ফেলতে সময় লাগবে। এই পরিস্থিতিকে অনেকেই “ধৈর্যের লড়াই” হিসেবে দেখছেন—যেখানে শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
জার্মান
ইরান ইস্যু ও বৈশ্বিক চাপ: জার্মানিতে ২ লাখের বেশি চাকরি ঝুঁকিতে

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানকে ঘিরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন এবং চলমান বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাবে জার্মানির শ্রমবাজারে বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এন-টিভি বুধবার (২২ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ক্রেডিট ইনস্যুরার অ্যালিয়েঞ্জ ট্রেডের তথ্য অনুযায়ী, কর্পোরেট দেউলিয়াত্ব বৃদ্ধির কারণে এ বছর জার্মানিতে ২ লাখেরও বেশি কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অ্যালিয়েঞ্জ ট্রেডের জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড অঞ্চলের প্রধান মিলো বোগার্টস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইতোমধ্যেই জার্মান অর্থনীতিতে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধও এখনো শেষ হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জার্মানিতে কর্পোরেট দেউলিয়াত্বের সংখ্যা ২.৪ শতাংশ বেড়ে ২৪ হাজার ৬৫০-এ পৌঁছাতে পারে। এটি গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্মানির ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিসের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে দেশটির স্থানীয় আদালতগুলোতে ২৪ হাজার ৬৪টি দেউলিয়াত্ব মামলা নথিভুক্ত হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ১০.৩ শতাংশ বেশি। অ্যালিয়েঞ্জ ট্রেডের সামগ্রিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী কর্পোরেট দেউলিয়াত্বের হার ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা আগের পূর্বাভাস সংশোধন করে এই হার আরও বাড়িয়েছেন। তবে কিছুটা আশার কথাও রয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস বলছে, ২০২৭ সালে জার্মানিতে দেউলিয়াত্বের সংখ্যা ২ শতাংশ কমে ২৪ হাজার ১৫০-এ নামতে পারে। তাদের মতে, যুদ্ধ-সম্পর্কিত চাপ ধীরে ধীরে কমবে এবং অর্থনৈতিক প্রণোদনা অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করবে। তবুও বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ পার হচ্ছে ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ

  ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবরোধ থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, ইরানের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ। ‘শুজা ২’ নামে জাহাজটি বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটি বন্দর আব্বাসের নিকটবর্তী শহীদ রাজাই বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছে এবং ভারতের কান্দলা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা স্বাধীনভাবে এই দাবিটি যাচাই করতে পারেনি, কিন্তু সামুদ্রিক বিশ্লেষণ প্রদানকারী সংস্থা মেরিনট্র্যাফিকের সামুদ্রিক ট্র্যাকিং ডেটা থেকে দেখা যায়, জাহাজটি বর্তমানে প্রণালিটিতে চলাচল করছে। মেরিনট্র্যাফিকের মতে, শোজা ২ জাহাজটি ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। এদিকে, ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত ১২ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র তিনটি জাহাজ চলাচল করেছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি বলেছে, এই সময়ে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা ‘নেরো’ নামের কেবল একটি ট্যাংকার এই প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করেছে এবং দুটি জাহাজ প্রবেশ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
হরমুজ পাড়ি দিল একমাত্র তেলবাহী জাহাজ
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ, বিশ্ব তেল ও জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকটের আশঙ্কা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী। কিন্তু সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক কৌশলের জটিল সমন্বয়ে এই জলপথ এখন কার্যত অস্বাভাবিক এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাইরে থেকে এটি শুধু জাহাজ চলাচলের সাময়িক স্থবিরতা মনে হলেও, গভীরে রয়েছে বড় ধরনের কৌশলগত পালাবদলের ইঙ্গিত। অস্বাভাবিক নীরবতা: পরিসংখ্যান যা বলছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন -এর জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বিস্ময়কর চিত্র—তেহরান সময় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পুরো প্রণালী দিয়ে মাত্র একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার অতিক্রম করেছে। ‘ম্যাব ৫’ নামের এই ট্যাঙ্কারটির ওপর আবার খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে—যা ঘটনাটিকে আরও ব্যঙ্গাত্মক করে তোলে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১০৭টি পণ্যবাহী জাহাজ এই পথে চলাচল করত। সেই তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কার্যত অচলাবস্থার সমান।   দৃশ্যমানের বাইরে অদৃশ্য বাস্তবতা মেরিন ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, কয়েকটি ছোট জাহাজ—ভারত ও পানামার পতাকাবাহী—এই পথ ব্যবহার করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি পুরো চিত্র নয়। কারণ: অনেক জাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের AIS (Automatic Identification System) বন্ধ রাখে বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নজর এড়াতে এটি একটি প্রচলিত কৌশল ফলে প্রকৃত জাহাজ চলাচলের সংখ্যা সরকারি বা উন্মুক্ত ডেটার চেয়ে বেশি হতে পারে এই “ডিজিটাল অদৃশ্যতা” এখন সামুদ্রিক বাণিজ্যের এক নতুন বাস্তবতা।   যুদ্ধবিরতির পরও স্থবিরতা কেন? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমলেও বাণিজ্যিক আস্থা এখনও ফেরেনি। কারণগুলো স্পষ্ট: নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি বীমা খরচ বেড়েছে নৌপথে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা রয়ে গেছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে   অর্থনৈতিক চাপ: বিশ্ববাজারে প্রতিক্রিয়া বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০% এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এই স্থবিরতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে: তেলের দাম বৃদ্ধি প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি সারের বাজারে অস্থিরতা পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—এশিয়া, ইউরোপ এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।   নতুন অর্থনৈতিক কৌশল: ডলারকে চ্যালেঞ্জ? এই সংকটের মধ্যেই ইরান এক নতুন প্রস্তাব সামনে এনেছে— হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ট্রানজিট ফি নিজস্ব মুদ্রা রিয়ালে পরিশোধ করতে হবে। একইসঙ্গে অবরোধ চলাকালে কিছু জাহাজকে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে অর্থ দিতে বলা হয়েছিল। আল-জাজিরা-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ: ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্য দুর্বল করা বিকল্প মুদ্রাভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা চীন -এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সমন্বয় জোরদার করা অবরোধের সময় অন্তত দুটি জাহাজ ইউয়ানে অর্থ পরিশোধ করেছে—যা এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগের ইঙ্গিত দেয়।   “টোল বুথ” কৌশল: সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণের নতুন রূপ বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীকে একটি “টোল বুথ” হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত ক্ষমতার প্রদর্শন: কে চলাচল করবে কোন মুদ্রায় অর্থ দেবে কোন শর্তে নিরাপত্তা পাবে এই নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন নিয়ম তৈরি করতে পারে।   বর্তমান পরিস্থিতি কয়েকটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে: স্বাভাবিকতায় ধীর প্রত্যাবর্তন — নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে জাহাজ চলাচল বাড়বে বিকল্প রুটের ব্যবহার — দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা মুদ্রা যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি — ডলার বনাম রিয়াল/ইউয়ান প্রতিযোগিতা স্থায়ী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা — প্রণালীকে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার   হরমুজ প্রণালীর বর্তমান সংকট কেবল একটি সামুদ্রিক সমস্যাই নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থার এক জটিল সংযোগস্থল। জাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়া হয়তো চোখে পড়ে, কিন্তু আসল গল্পটি লুকিয়ে আছে এর পেছনের শক্তির খেলায়—যেখানে প্রতিটি ট্যাঙ্কার, প্রতিটি মুদ্রা লেনদেন, এবং প্রতিটি নৌচলাচল সিদ্ধান্ত হয়ে উঠছে ভূরাজনীতির অংশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
দুবাই
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব: আমিরাতের শেয়ারবাজারে ১২০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি, পাকিস্তান-চীনের শান্তি প্রস্তাব

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :  মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুধু সামরিক উত্তেজনাই বাড়ায়নি—এটি আঘাত হেনেছে বৈশ্বিক অর্থনীতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেয়ারবাজারে যে ধস নেমেছে, তা এই সংকটের অর্থনৈতিক গভীরতা স্পষ্ট করে।  শেয়ারবাজারে ধস: কতটা বড় ক্ষতি? যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুবাই ও আবুধাবির প্রধান শেয়ারসূচক যথাক্রমে প্রায় ১৬% এবং ৯% কমেছে। এতে দুই বাজার মিলিয়ে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারিয়েছে। দুবাই ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট: প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি আবুধাবি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ: প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আস্থাহীনতাই এই পতনের মূল কারণ।  বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব এই সংঘাতের অভিঘাত শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। কাতার: প্রায় ৪% পতন বাহরাইন: প্রায় ৭% পতন যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক: প্রায় ৭% কমেছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে মার্কিন নেতৃত্বের পরস্পরবিরোধী অবস্থান, বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।  পর্যটন খাত: সবচেয়ে বড় ধাক্কা যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমিরাতের পর্যটন ও ভ্রমণ খাতে। হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যস্ত রুটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত জিডিপির ১৩% অবদান রাখা খাত ঝুঁকিতে ২০২৪ সালে এই খাত থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার। হরমুজ প্রণালি: সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালির কার্যত অচলাবস্থা জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। যদিও আমিরাত তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত, তবুও বৈশ্বিক তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। কূটনৈতিক তৎপরতা: পাকিস্তান-চীনের উদ্যোগ সংঘাত থামাতে পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে পাঁচ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবের মূল দিক: অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু শান্তি উদ্যোগ নয়—বরং আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা।  পাকিস্তানের কৌশল পাকিস্তান এই সংকটে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি বাস্তব কারণ: ইরানের সঙ্গে ৯০০ কিমি সীমান্ত বেলুচিস্তানে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা শিয়া-সুন্নি উত্তেজনার ঝুঁকি অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা যুদ্ধের নতুন মাত্রা: সামরিক হামলা সংঘাতের সামরিক দিকও ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে। ইরানে একটি ক্যানসার ওষুধ কারখানায় হামলার অভিযোগ ইস্পাহানে গোলাবারুদের ডিপোতে ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা হামলা স্যাটেলাইট তথ্যে বড় বিস্ফোরণের প্রমাণ এই ধরনের হামলা যুদ্ধের মানবিক ও নৈতিক দিক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।  বিশ্লেষণ: সাময়িক ধাক্কা নাকি দীর্ঘমেয়াদি সংকট? অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান ধসকে দীর্ঘমেয়াদি সংকট হিসেবে না দেখে স্বল্পমেয়াদি ধাক্কা হিসেবে দেখা উচিত। কারণ: আমিরাতের অর্থনীতি বহুমুখী শক্তিশালী আর্থিক অবকাঠামো উচ্চ তারল্য ব্যবস্থাপনা তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু সামরিক লড়াই নয়—এটি অর্থনীতি, কূটনীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জটিল সমীকরণে পরিণত হয়েছে। শেয়ারবাজারের পতন, পর্যটন খাতের ধস এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও অস্থির। শান্তি উদ্যোগ সফল না হলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে—যা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই উদ্বেগজনক।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ইসরাইলের শতাধিক শহরে হামলা
মধ্যপ্রাচ্য-ইউক্রেন সংঘাত: জ্বালানি, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির লড়াইয়ে কে লাভবান—যুক্তরাষ্ট্র নাকি অন্য কেউ?

মাসুদ করিম: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি ধারণা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—যুদ্ধ এখন আর শুধু ভূখণ্ড দখল বা সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি অর্থনীতি, জ্বালানি এবং বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক জটিল প্রতিযোগিতা। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত—এই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পরও ইরানে সরকার পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।  জ্বালানি: যুদ্ধের আসল কেন্দ্রবিন্দু? বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সংঘাতগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি ও বাণিজ্য পথ। বিশেষ করে: হরমুজ প্রণালি কৃষ্ণসাগর অঞ্চল বৈশ্বিক তেল সরবরাহ চেইন বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।  এলএনজি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করার পর  ইউরোপ রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাধ্য হয়। এর ফলে: যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ওঠে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক ইউরোপ স্পট মার্কেটে বেশি দামে গ্যাস কিনতে শুরু করে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি পায় তবে এই লাভের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেন যুদ্ধে বিপুল অর্থ ব্যয়ও করতে হয়েছে।  লাভ বনাম ঝুঁকি: জটিল সমীকরণ যদিও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানিকারকরা লাভবান, তবুও বড় কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে: দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ অর্থনীতিকে দুর্বল করতে পারে জোট রাজনীতিতে চাপ বাড়ে সামরিক ব্যয় বাড়তে থাকে এছাড়া, কাতারের মতো দেশ যদি হরমুজ প্রণালির ঝুঁকির কারণে রপ্তানি কমায়, তাহলে বিশ্ববাজারে এলএনজি দাম আরও বাড়তে পারে—যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্বল্পমেয়াদে সুবিধা আনলেও দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।  বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ: নতুন ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাতগুলো আসলে তিনটি বিষয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণের লড়াই: জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) সমুদ্রপথ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার সহজ হয়।  বাংলাদেশ: চাপের মুখে  অর্থনীতি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন: জ্বালানির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ে ফলে বৈশ্বিক সংঘাতের সরাসরি অংশীদার না হয়েও বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে।  নিরাপত্তা বনাম নির্ভরতা দশকের পর দশক ধরে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু যদি সেই নির্ভরতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তা শুধু সামরিক নয়—একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। শেষ কথা: যুদ্ধের শেষ কোথায়? বর্তমান বাস্তবতায় একটি বিষয় পরিষ্কার— এই যুদ্ধের কোনো সহজ সমাপ্তি নেই। এটি: আঞ্চলিক সংঘাতের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে জ্বালানি বাজারকে পুনর্গঠন করছে নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি করছে অতএব, প্রশ্নটি এখন আর শুধু “কে জিতবে?” নয়— বরং “এই যুদ্ধ থেকে কে কতটা লাভবান হবে, আর তার মূল্য কে দেবে?”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর জ্বালানি বাণিজ্যে বৈশ্বিক সংকট

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলমান এই অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজে সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ—উভয় ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বর্তমানে প্রণালির উভয় পাশে প্রায় দুই হাজার জাহাজ আটকে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ইরানের অবরোধ, হুমকি এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং তেলবাহী জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় পারাপারের পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে এখনো কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছে ইরান। এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে—ভৌগোলিক অবস্থান, অপ্রচলিত সামরিক কৌশল এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ। ভৌগোলিক সুবিধা পারস্য উপসাগরের এই প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২৪ মাইল প্রশস্ত। ফলে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করতে হয়। এই ‘চোকপয়েন্ট’ পরিস্থিতি ইরানকে সহজে নজরদারি ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে বাড়তি সুবিধা দেয়। ইরানের দীর্ঘ উপকূলরেখা ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিও প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণ—উভয় ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অন্যতম বড় শক্তি তার অপ্রচলিত সামরিক কৌশল। ড্রোন, দ্রুতগামী ছোট নৌযান, বিস্ফোরকবোঝাই মানববিহীন নৌযান এবং সমুদ্র মাইন ব্যবহার করে তারা বড় নৌবাহিনীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া সাধারণ জাহাজ থেকেও মাইন পেতে রাখার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, যা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা ইরানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু জাহাজকে নিরাপদে পারাপারের জন্য অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বৈশ্বিক উদ্বেগ হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা দ্রুত সমাধানের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতি আরও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপে আইন আনছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান। এ লক্ষ্যে দেশটির পার্লামেন্টে একটি নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ফার্স ও তাসনিম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সংসদের সিভিল অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি খসড়া আইন ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই আইনসভা দলের মাধ্যমে সেটি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, “এই পরিকল্পনার আওতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান ফি আদায় করবে।” তার মতে, বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে অস্বাভাবিক কিছু নয়। তিনি বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য বাণিজ্য করিডোর ব্যবহার করলে যেমন শুল্ক দিতে হয়, তেমনি হরমুজ প্রণালীও একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। আমরা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করি, তাই জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর শুল্ক প্রদান স্বাভাবিক।” বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপের সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক বাণিজ্য ও তেলবাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরান যে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে, তার একটি হলো—হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা। এই প্রেক্ষাপটে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ফিলিপাইনে ‘জরুরি অবস্থা’
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে ফিলিপাইনে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে থাকলেও এর সবচেয়ে তীব্র প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে। জ্বালানি সংকট চরমে পৌঁছানোয় দেশটিতে ‘ন্যাশনাল এনার্জি ইমার্জেন্সি’ বা জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক নির্বাহী আদেশে এই ঘোষণা দেন তিনি। এতে বলা হয়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইন তাদের মোট জ্বালানির প্রায় ৯৮ শতাংশ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আমদানি করে থাকে। কিন্তু চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দেশটিতে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে সরকার বিশেষ ক্ষমতা অর্জন করেছে। এর আওতায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি জ্বালানি আমদানি, মজুত বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা সম্ভব হবে। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফিলিপাইনের জ্বালানি মন্ত্রী শ্যারন গেরিন জানিয়েছেন, বর্তমান ব্যবহারের হারে দেশটির হাতে মাত্র ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু ফিলিপাইন নয়, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ইরানি তেল
বাজারে আসছে ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল,জ্বালানিতে বড় স্বস্তি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে বিপুল পরিমাণ ইরানি অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে, যা যেকোনো সময় বাজারে প্রবেশ করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইরানি অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় এবার বাজারে আসতে যাচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন জাহাজে থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল। শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন বিশ্ব জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা। তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের সিনিয়র ম্যানেজার ইমানুয়েল বেলোস্ট্রিনো বলেন, ‘বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনের জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে প্রায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ব্যারেল ইরানি তেল মজুদ রয়েছে।’ অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি এসপেক্ট গত ১৯ মার্চের এক মূল্যায়নে জানায়, সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের পরিমাণ ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল, যা মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় ১৪ দিনেরও কম সরবরাহের সমান। এশিয়া অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে এবং জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তেল শোধনাগারগুলো। ফলে জ্বালানি রপ্তানিও হ্রাস পাচ্ছে। এ অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। তেল কিনতে যাচ্ছে যেসব দেশ ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর থেকে চীন ছিল ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা। গত বছর চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। চীন ছাড়াও আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ক ছিল ইরানি তেলের প্রধান আমদানিকারক। কেপলার জানায়, চীন গত বছর দৈনিক প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে। যা নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক দেশ এই তেল এড়িয়ে চলার সুযোগে সম্ভব হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ভারত রুশ তেল সংগ্রহ করেছিল। অন্যান্য বড় এশীয় আমদানিকারকদের তুলনায় ভারতের তেলের মজুদ কম হওয়ায় দেশটি ইরানি তেল কেনার পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারতের শোধনাগারের তিনটি সূত্র বলছে, তারা ইরানি তেল কিনতে আগ্রহী। এ বিষয়ে বর্তমানে সরকারের নির্দেশনা ও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পেমেন্ট শর্তাবলির মতো বিষয়গুলোর স্বচ্ছতার অপেক্ষায় রয়েছে তারা। আমদানিতে যে জটিলতা তবে ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তেল ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে অন্যতম হলো—কিভাবে অর্থ প্রদান করা হবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা এবং সমুদ্রে থাকা তেলের একটি বড় অংশ পুরোনো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজে বহন করা হচ্ছে। এ ছাড়া কিছু পূর্ববর্তী ক্রেতা ইরানি তেল কম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিল বলে দুটি শোধনাগার সূত্র জানিয়েছে। তবে ২০১৮ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে ইরানি তেলের বড় একটি অংশ তৃতীয় পক্ষের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ট্রাম্প
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: যুদ্ধের মোড় ঘোরার ইঙ্গিত, তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন, যা এই সংঘাতের গতিপথ বদলে দিতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমাতে ইরানি তেলের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ইরানের নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে। যুদ্ধ গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত: কৌশলগত পরিবর্তন? শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৃহৎ সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার বিষয়টি এখন বিবেচনায় রয়েছে। এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর এটিই প্রথমবারের মতো এত স্পষ্টভাবে সম্ভাব্য সমাপ্তির ইঙ্গিত দেওয়া হলো। তবে ট্রাম্প একইসঙ্গে জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধবিরতির পক্ষে নন। তার ভাষায়, “যখন প্রতিপক্ষকে কার্যত ধ্বংস করা হচ্ছে, তখন যুদ্ধবিরতির প্রয়োজন নেই।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করতে চাইলেও তা কোনো কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে নয়, বরং সামরিক সাফল্যের ভিত্তিতে করতে আগ্রহী। পেন্টাগনের পূর্বাভাস বনাম বাস্তবতা হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, এই সামরিক অভিযান সম্পন্ন করতে ৪৬ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে পূর্বাভাস ছিল। কিন্তু বর্তমানে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। কারণ, ইরান এখনও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ স্পষ্ট নয়। ইরানের পাল্টা আঘাত: যুদ্ধ থামার বদলে বিস্তারের ঝুঁকি যখন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন ইরান বিপরীত পথে হাঁটছে বলে মনে হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনায়: সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে ২০টিরও বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়, যা প্রতিহত করা হয়েছে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলায় আগুন লাগে কাতারের গ্যাস স্থাপনাও হামলার শিকার হয় এছাড়া জেরুজালেমের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর আশেপাশে হামলার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে সংঘাত কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু বর্তমান সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান কার্যত এই প্রণালীতে চাপ সৃষ্টি করায়: তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই প্রণালী দীর্ঘ সময় অচল থাকে, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের বাজারে অস্থিরতা: মূল্যবৃদ্ধির ঢেউ সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারের বেশি হয়েছে। এর প্রভাব: পরিবহন খরচ বৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়া বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ ওয়াল স্ট্রিটসহ বিভিন্ন শেয়ারবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগে ঝুঁকছেন। নিষেধাজ্ঞা শিথিল: বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত? এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে—ইরানি তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের আওতায়: ২০ মার্চের আগে জাহাজে লোড করা তেল ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাজারে সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মতে, এতে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে আসবে, যা স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ সংকট কমাতে সাহায্য করবে। এই পদক্ষেপকে অনেকেই বাস্তববাদী হিসেবে দেখছেন। কারণ, যুদ্ধ চলমান থাকলেও বৈশ্বিক জ্বালানি স্থিতিশীল রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা বর্তমান সংঘাতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নয়, বরং একাধিক আঞ্চলিক শক্তি জড়িয়ে পড়েছে: সৌদি আরব নিজেদের তেল স্থাপনা রক্ষায় সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ইসরাইল ইরানের হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে এবং লেবাননে অভিযান পরিচালনা করছে। তুরস্ক সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলার সমালোচনা করেছে, যা নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়। সিরিয়া এখনও সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইরানের অভ্যন্তরীণ বার্তা: ‘আমরা জিতেছি’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, তারা শত্রুপক্ষকে বড় ধরনের আঘাত হেনেছেন। তার বক্তব্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে: জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর সামরিক সাফল্যের দাবি প্রতিপক্ষের বিভ্রান্তির কথা উল্লেখ এই ধরনের বক্তব্য সাধারণত অভ্যন্তরীণ সমর্থন ধরে রাখার কৌশল হিসেবে দেখা হয়। কূটনৈতিক শূন্যতা: আলোচনার পথ বন্ধ? ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। তবে তিনি দাবি করেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতির কারণে কার্যকর আলোচনার সুযোগ নেই। এই পরিস্থিতি কূটনৈতিক সমাধানের পথকে জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে: সরাসরি সংলাপের অভাব সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে পারে মধ্যস্থতাকারী দেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় শক্তিগুলোর উদ্যোগ প্রয়োজন মার্কিন সামরিক উপস্থিতি: কমছে না, বাড়ছে? যদিও ট্রাম্প সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার কথা বলেছেন, অন্যদিকে অতিরিক্ত ২,২০০–২,৫০০ মেরিন সেনা পাঠানোর খবর প্রকাশ পেয়েছে। এতে দুটি সম্ভাবনা তৈরি হয়: কৌশলগত চাপ বজায় রাখা প্রয়োজনে দ্রুত আক্রমণের প্রস্তুতি এই দ্বৈত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি: তিনটি সম্ভাব্য পথ বর্তমান পরিস্থিতি থেকে ভবিষ্যতে তিনটি সম্ভাব্য পথ দেখা যাচ্ছে: ১. সীমিত যুদ্ধ ও ধীরে ধীরে সমাপ্তি যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে অভিযান গুটিয়ে নেবে, তবে সরাসরি যুদ্ধ এড়াবে। ২. আঞ্চলিক যুদ্ধের বিস্তার ইরান, ইসরাইল, সৌদি আরবসহ একাধিক দেশ সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। ৩. কূটনৈতিক সমাধান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আসতে পারে। বৈশ্বিক প্রভাব: শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নয় এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়ছে: জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা খাদ্য ও পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি বিনিয়োগ পরিবেশে অনিশ্চয়তা ভূরাজনৈতিক জোটে পরিবর্তন বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি একদিকে যেমন যুদ্ধের সমাপ্তির সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে নতুন সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। ট্রাম্পের বক্তব্য পরিস্থিতিকে শান্ত করার ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবতা এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। ইরানের ধারাবাহিক হামলা, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সক্রিয়তা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা—সব মিলিয়ে এটি একটি বহুমাত্রিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে—এই সংঘাত কি ধীরে ধীরে থামবে, নাকি আরও বড় আকার ধারণ করবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
দুবাই বিমানবন্দর বন্ধ হলে মিনিটে ক্ষতি ১০ লাখ ডলার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিমান চলাচল ব্যাহত হলে দুবাইয়ের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর একটি বন্ধ থাকলে প্রতি মিনিটেই বিপুল অর্থ হারাতে পারে শহরটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইল মেইল এক প্রতিবেদনে বলেছে, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকলে প্রতি মিনিটে প্রায় ১০ লাখ ডলার (প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড) ক্ষতি হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি বিমানবন্দরটি টানা ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকে, তাহলে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় এক দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১০৭ কোটি পাউন্ড। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে সংযোগের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রধান ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠলে বা আকাশপথে বিধিনিষেধ আরোপ হলে দুবাইয়ের মতো বৈশ্বিক এভিয়েশন হাবের জন্য তা বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0