Brand logo light

বাকেরগঞ্জ

বাকেরগঞ্জ পৌরসভা
বাকেরগঞ্জ পৌরসভা: দুটি কক্ষ সাজাতে ৪৩ লাখ , ১০টি বেঞ্চ স্থাপনে ব্যয় সোয়া চার লাখ টাকা !

 বাকেরগঞ্জ পৌরসভার দরপত্রে ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা: শেষ সময়ে ‘দ্রুত উন্নয়ন’ না কি অস্বচ্ছতার আড়াল? বরিশাল অফিস :    বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় ছয়টি উন্নয়ন প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান ঘিরে ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ৭ হাজার ৬৬৭ টাকা। কিন্তু কাজের ধরন, পরিসর এবং বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে এই ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে সন্দিহান স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ঠিকাদাররা। পৌর ভবনেই ব্যয়ের বড় অংশ দরপত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট ব্যয়ের বড় অংশই কেন্দ্রীভূত হয়েছে পৌরসভা ভবন এবং এর আশপাশের অবকাঠামো উন্নয়নে। ইউনিব্লক সড়ক ও প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ: ৯,৪০,১৫২ টাকা কনফারেন্স ও অফিস কক্ষের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা: ৪৩,৩৬,৭৮৮ টাকা ছাদে টাইলস স্থাপন: ১১,৪৯,১২১ টাকা এই তিনটি কাজেই ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি। অন্যদিকে, জনসাধারণের সরাসরি ব্যবহারের প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে: ১০টি বেঞ্চ স্থাপন: ৪,১৭,২২৭ টাকা (প্রতি বেঞ্চ ~৪১,৭২৩ টাকা) ৫০টি সড়ক বাতি: ২৫,৮৯,৫৭৬ টাকা (প্রতি বাতি ~৫১,৭৯২ টাকা) একটি অপেক্ষাকক্ষ নির্মাণ: ৬,৭৪,৮০৩ টাকা প্রশ্নবিদ্ধ ‘সাজসজ্জা’ খাতে বিপুল ব্যয় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে মাত্র প্রায় ৩০০ বর্গফুটের দুটি কক্ষের সাজসজ্জায় ৪৩ লাখ টাকার প্রাক্কলন নিয়ে। স্থানীয়দের মতে, এটি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ ঠিকাদার জানান, ১,৫০০ বর্গফুট ছাদে টাইলস বসাতে যেখানে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা লাগার কথা, সেখানে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে—যা বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি। ‘শেষ সময়ের কাজ’—সন্দেহের কেন্দ্রে প্রশাসনিক পরিবর্তন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পৌর কর্মচারী ইঙ্গিত দিয়েছেন ভিন্ন এক বাস্তবতার দিকে। তার দাবি, প্রশাসক (ইউএনও) এবং প্রকৌশলীর বদলির প্রেক্ষাপটে এটি তাদের দায়িত্বের শেষ সময়ের কাজ হওয়ায় ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয়ে থাকতে পারে। এই বক্তব্য প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ উত্থাপন করেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের প্রতিক্রিয়া সাবেক কাউন্সিলর আলিম জোমাদ্দারের ভাষায়, “পৌর ভবনের বেশিরভাগ কাজই অপ্রয়োজনীয়। যেখানে রাস্তা ভালো আছে, সেখানে নতুন করে নির্মাণ বা টাইলস বসানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।” একই সুরে কথা বলেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা জামাল হোসেন বিপ্লব। তার মতে, “৬৩ লাখ টাকার কাজ পৌর ভবনে—এটা স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।” ঠিকাদার জাকির হোসেন বলেন, “দরপত্রের ব্যয় আর বাস্তব কাজের মধ্যে কোনো মিল নেই। এটি পরিষ্কারভাবে অতিমূল্যায়ন।” প্রশাসনের অবস্থান: দায় এড়ানোর চেষ্টা? এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দীন জানান, প্রাক্কলন সাধারণত বাজারদর বিবেচনা করেই করা হয়। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রাক্কলন না দেখে নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে পারেননি। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক  স্বীকার করেছেন, বিষয়টি তার কাছেও “অস্বাভাবিক” মনে হয়েছে। তবে তিনি দায় চাপিয়েছেন প্রকৌশল বিভাগের ওপর, যারা প্রাক্কলন নির্ধারণ করে থাকে। স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, ছোট পরিসরের কাজেও অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো একটি বৃহত্তর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়—যেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ে বরাদ্দ ব্যবহারের ধরণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি, দরপত্র প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ব্যয়ের প্রাক্কলনের স্বচ্ছতা যাচাই সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা   বাকেরগঞ্জ পৌরসভার এই প্রকল্পটি কেবল একটি স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়—এটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসনের একটি পরীক্ষাও বটে। দরপত্র বিক্রয়ের শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২৬। তার আগেই যদি প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক উত্তর না আসে, তাহলে এই প্রকল্প ভবিষ্যতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
বাকেরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা অফিসে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
বাকেরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা অফিস : ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন ও প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

বরিশাল অফিস : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাস। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:  বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বে গাফিলতি ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তিনি চাকুরীর শুরু থেকেই বরিশাল জেলায় ঘুরে ফিরে রয়েছেন। চাকুরীর শুরু উপজেলা মুলাদী থেকে শুরু করে বরিশাল ও বাবুগঞ্জে বিতর্ক আর প্রতিরোধের মুখে বদলী হয়েছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নাই। বাবুগঞ্জ থেকে বাকেরগঞ্জে যোগদানের পরেই পুর্বের কর্মস্থলের মত আচরন শুরু করেন।তার ওপরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকলেই ক্ষুব্ধ। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল বাকেরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীরা। বরিশাল ও বাবুগঞ্জের মত বাকেরগঞ্জে ও  তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা হয়নি।  জানা গেছে, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন  একই জেলায় দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় নানা অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি ও কর্মচারীদের প্রতি অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কারণে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে আলোর মুখ দেখেনি। ডা.সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ওপর  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনার চিকিৎসা সেবা প্রদানের দায়িত্ব থাকলেও তিনি নিয়মিতভাবে তা পালন করছেন না।  যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ।  বরিশাল জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মেহবুব মোর্শেদের সাথে সু সম্পর্ক থকার কারনে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করে দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন। এতে করে সাধারন রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নিয়মিত ইউনিয়নগুলোতে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করেই ভুয়া টিএ (ভ্রমণ ভাতা) ও ডিএ (দৈনিক ভাতা) বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিকবার একই ধরণের বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাটের প্রমাণ রয়েছে বলে জানা যায়। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের পরিবার পরিকল্পনার সেবা নিতে আসা রোগীদের সাথে হরহামেশাই খারাপ আচরন করে থাকেন। এমনকি রোগীকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ব্যাপারে জানা যায়, দীর্ঘ মেয়াদি জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা ইমপ্লান্ট পড়ানো ও খোলা দুইটিই ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের দায়িত্ব থাকলেও এফডাব্লিউভি (পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা) দ্বারা জোরপূর্বক তা করিয়ে থাকেন। যার ফলে প্রায়শই ব্যবস্থাটি ত্রুটিপূর্ন হয়ে থাকে। যা নিয়ে হর-হামেশাই সেবা প্রত্যাশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।  বাবুগঞ্জে কর্মরত থাকাকালে মাধবপাশা ইউনিয়ন থেকে ইমপ্লান্ট এর চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রাবেয়া নামে এক নারী জানিয়েছিলেন আগে দুইবার এ পদ্ধতি নিলেও এইবারের মতো কষ্ট কখোনই পাইনি। ডা.নিজে তার কাজ না করে অনভিজ্ঞদের দ্বারা ইমপ্লান্ট পড়ায়। এতে অসহ্য রকমের ব্যাথা অনুভূত হয়। এভাবেই বাকেরগঞ্জে তিনি কর্ম করে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, কর্মচারীদের টিএ বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিলের ৩০-৪০% টাকা ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনকে ঘুষ দিতে হয়। কারন হিসেবে তিনি বলেন এ অর্থ বরিশাল অফিসে ও হিসাব শাখায় জমা দিতে হয়। এ টাকা কেউ না দিতে চাইলে তাকে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের রোষাণলে পরতে হয়। এমনকি বিল আটকে দেয়ার হুমকিও প্রদান করা হয়। এছাড়াও কথায় কথায় কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার ও অসংখ্য নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।  ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়,মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা (সোনিয়া) কর্মস্থলে অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকেন, টি.এ বিল আত্মসাৎ করেন, এবং কর্মচারীদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেন, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ (খারা ৩ ও ৭)-এর পরিপন্থী। তিনি চিকিৎসা সেবা সম্পর্কেও দায়িত্বহীন আচরণ করেন, ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে বহুবার উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা, বরিশাল বরাবর মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও, তিনি অভিযুক্তদের কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ করায় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, যা দুর্নীতি দমন আইন ও সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।আবেদনকারীরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে প্রতিকার চেয়েছিলেন। প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:  অন্যদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়— মুসলিম নারী কর্মীদের পোষাক নিয়ে বিদ্রুপ আচরন ধর্মীয় বৈষম্যমূলক আচরণ গর্ভবতী কর্মীদের অপমান করা হিন্দু কর্মীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া এছাড়া তিনি নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থেকে তার ঘনিষ্ঠ সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সবুর হোসেনের মাধ্যমে অফিস পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সবুর হোসেনের মাধ্যমে কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ব্যাপারে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা আমি জানিনা।তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তার জন্য আমার বিভাগ তদন্ত করে যে শাস্তি দিবে তা মেনে নিবো।তিনি বলেন, আমি কর্মস্থলেই আছি,ফাঁকি কেন দিবো। এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের মোবাইলে কল করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান ওরফে নিজাম।
বাকেরগঞ্জে ১৬ মামলার আসামি আন্তঃজেলা ডাকাত নিজাম গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস :    বরিশালের বাকেরগঞ্জে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং একাধিক মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে নিজামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রানীরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান (৪০) উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম চরামদ্দি গ্রামের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে। পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে বরিশাল, মাদারীপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা জেলায় ডাকাতি এবং ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে অন্তত ১৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম সোহেল রানা জানান, মিজানুর রহমান একজন পেশাদার ডাকাত এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
গোমা সেতু
গোমা সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি: ৫৭ কোটি থেকে ৯২ কোটিতে ব্যয় বৃদ্ধি, ৯ বছরে প্রকল্প শেষ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল  : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত  গোমা সেতুটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। সেতুটির নির্মাণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া এবং ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠে এসেছে।  এই সেতুর উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সামনে এসেছে এক দীর্ঘ বিতর্কিত নির্মাণ ইতিহাস—যেখানে রয়েছে সময়ক্ষেপণ, ব্যয় বৃদ্ধি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে এটি স্থানীয় জনগণের জন্য আশার প্রতীক হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে এটি হয়ে উঠেছে প্রশ্নবিদ্ধ বাস্তবায়নের একটি উদাহরণ। নির্মাণ ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি      প্রাথমিক ও চূড়ান্ত ব্যয়: ২০১৭ সালে যখন প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়, তখন এর প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা । তবে কাজ শেষ হতে হতে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা মূল বাজেটের চেয়ে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা বেশি ।   সময়ক্ষেপণ: ৩ বছরের মধ্যে (২০১৮-২০২১) কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৯ বছর সময় লেগেছে ।    সেতু নির্মাণে  অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ  ও জটিলতা :     ভুল নকশা ও উচ্চতা সংক্রান্ত জটিলতা: বিআইডব্লিউটিএ-এর নিয়ম অনুযায়ী সেতুর উচ্চতা পর্যাপ্ত না হওয়ায় মাঝপথে দেড় বছর কাজ বন্ধ থাকে । পরবর্তীতে নকশা পরিবর্তন করে উচ্চতা বাড়াতে গিয়ে প্রকল্পের ব্যয় ও সময় উভয়ই অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় । বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় রাঙ্গামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ-এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও চরম গাফিলতির অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে এসেছে। মূলত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং নকশা পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কাজ দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।   টাইমলাইন: কাগজে পরিকল্পনা বনাম বাস্তবতা বছর পরিকল্পনা বাস্তব অগ্রগতি ২০১৭ প্রকল্প অনুমোদন প্রাথমিক ব্যয় ৫৭.৬২ কোটি টাকা ২০১৮ কাজ শুরু ধীরগতির সূচনা ২০২১ নির্ধারিত সমাপ্তি কাজ অসম্পূর্ণ ২০২২–২০২৪ সংশোধিত সময়সীমা বারবার স্থগিত ২০২৬ প্রকল্প শেষ ও উদ্বোধন চূড়ান্ত ব্যয় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা অনুসন্ধান: একটি সেতু, বহু প্রশ্ন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতু—যা ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে—শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং এটি এখন একটি বিতর্কিত উন্নয়ন মডেলের উদাহরণ। সরকারি নথি, স্থানীয় সূত্র এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রকল্পটি শুরু থেকেই পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং তদারকির ক্ষেত্রে গুরুতর দুর্বলতায় ভুগেছে। এর ফল—সময় তিনগুণ, ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ, এবং জনভোগান্তি দীর্ঘমেয়াদি। ব্যয় বিশ্লেষণ: কোথায় গেল অতিরিক্ত ৩৪ কোটি? প্রাথমিক ব্যয়: ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা চূড়ান্ত ব্যয়: ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা বৃদ্ধি: প্রায় ৩৪ কোটি টাকা সম্ভাব্য কারণ (সরকারি যুক্তি অনুযায়ী): নকশা পরিবর্তন নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি সময় বৃদ্ধি অনুসন্ধানে উঠে আসা প্রশ্ন: নকশা পরিবর্তন কেন শুরুতেই শনাক্ত হয়নি? বিলম্বজনিত অতিরিক্ত ব্যয় কি নিয়ন্ত্রিত ছিল? প্রকল্প সংশোধনে কারা অনুমোদন দিয়েছে? অর্থনীতিবিদদের মতে, “এই ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত প্রকল্প তদারকির দুর্বলতা বা ইচ্ছাকৃত অপচয়ের ইঙ্গিত দেয়।” নকশাগত ত্রুটি: পরিকল্পনার কেন্দ্রে ব্যর্থতা প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যর্থতা ছিল সেতুর উচ্চতা নির্ধারণে ভুল। কী ঘটেছিল? নদীপথে চলাচলকারী নৌযানের জন্য প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স রাখা হয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানায় প্রায় দেড় বছর কাজ বন্ধ থাকে ফলাফল: পুনরায় নকশা প্রণয়ন অতিরিক্ত নির্মাণ ব্যয় প্রকল্প বিলম্ব প্রশ্ন উঠেছে—ডিজাইন যাচাই প্রক্রিয়ায় কোন সংস্থা দায়িত্বে ছিল এবং তারা কেন ব্যর্থ হলো?   ধীরগতির নির্মাণ: কৌশল নাকি ব্যর্থতা? স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী— দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ বা আংশিক চালু ছিল শ্রমিক ও যন্ত্রপাতির উপস্থিতি অনিয়মিত ছিল এটি ইচ্ছাকৃত বিলম্ব কিনা, তা তদন্তের দাবি রাখে। প্রকল্প মেয়াদ বাড়ানো: প্রশাসনিক দুর্বলতা? প্রকল্পটি অন্তত কয়েক দফা সময় বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশ্ন হলো— প্রতিটি সময় বৃদ্ধি কি প্রকৃত অগ্রগতির ভিত্তিতে ছিল? নাকি রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপ ছিল? দায় কার? এই প্রকল্পে অন্তত চারটি স্তরে জবাবদিহিতার প্রশ্ন ওঠে— ১. পরিকল্পনা সংস্থা – নকশা অনুমোদনে ব্যর্থতা ২. বাস্তবায়ন সংস্থা – তদারকির ঘাটতি ৩. ঠিকাদার – কাজের গতি ও মান ৪. প্রশাসন – সময় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা     ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান  এম খান গ্রুপের  প্রধান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ:    মেয়াদ বাড়ানো: প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ কাজ ফেলে রাখে । পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাবে কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।     ব্যয় বৃদ্ধি: কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় এবং নতুন নতুন অজুহাতে বাজেট সংশোধনের মাধ্যমে প্রাথমিক ব্যয় ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা করা হয় । অভিযোগ রয়েছে যে, এই অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশই অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ২. ভুল নকশায় কাজ শুরু     ভুল উচ্চতা: সেতুটির উচ্চতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর আপত্তির পরও ভুল নকশায় কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয় । এই জটিলতার কারণে মাঝপথে কাজ বন্ধ থাকায় কয়েক লাখ মানুষ বছরের পর বছর ফেরি,ট্রলার ও নৌকায় পারাপার হতে বাধ্য হয়েছে ।     অর্ধসমাপ্ত কাজ: সেতুর মূল কাঠামো অনেক আগেই দাঁড়িয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর গড়িমসি করেছে ।যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় । ৩. অন্যান্য অভিযোগ     কালো তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা: সরকারি বিভিন্ন কাজে এম খান গ্রুপের মালিক মাহফুজ খানের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অতীতেও তাকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ।     শ্রমিক ও স্থানীয়দের পাওনা: কাজ চলাকালীন সময়ে স্থানীয় শ্রমিকদের মজুরি ও মালামাল সরবরাহকারীদের টাকা বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে  । এম খান গ্রুপের মালিক মাহফুজ খান তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এই প্রকল্পের বাজেট বৃদ্ধি ও সময়ক্ষেপণ করেছেন। বর্তমানে সেতুটি চালু হলেও এই দীর্ঘসূত্রিতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।     ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি: স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ-এর মালিক মাহফুজ খান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছেন । অভিযোগ রয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং নিম্নমানের কাজের বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।     সংযোগ সড়কের অভাব: সেতুর মূল কাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) না থাকায় সাধারণ মানুষকে মই বা সিঁড়ি বেয়ে সেতুতে উঠতে হয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে । বরিশালের রাঙ্গামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতুর কাজ শেষ হয়েছে প্রায় নয় বছর পর।  মঙ্গলবার ( ১৭ মার্চ) দুপুরের দিকে উদ্বোধনের পর সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সেতুর উদ্ধোধন করেন।   সেতু নির্মাণে লেগেছে ৯ বছর: সেতু নির্মাণে লেগেছে ৯ বছর।২০১৭ সালে প্রায় ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প হিসেবে সেতুটি অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। শুরুতেই উচ্চতা নিয়ে আপত্তি তোলে বিআইডব্লিউটিএ। তাদের দাবি ছিল, নদীপথ সচল রাখতে সেতুর উচ্চতা আরও বাড়াতে হবে। প্রথম নকশায় সেতুর মাঝ বরাবর সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় উচ্চতা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৬২ মিটার। পরে তা বাড়িয়ে ১২ দশমিক ২০ মিটার করা হয়। এই পরিবর্তনের কারণে পুরো নকশাই সংশোধন করতে হয়। নতুন নকশায় সেতুর মাঝখানে স্টিল ট্রাস স্প্যান যুক্ত করা হয়। পাঁচবার বাড়ানো হয় সময়সীমা, বেড়ে যায় ব্যয়ও: নকশা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ ও নদী শাসনের কাজ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পটির সময়সীমা পাঁচবার বাড়ানো হয়। ব্যয়ও বেড়ে যায় উল্লেখযোগ্যভাবে। সংশোধিত প্রকল্পে সেতুর ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, যা প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। দুই লেনের এই সেতুতে পিসি গার্ডারের পাশাপাশি স্টিল ট্রাস ব্যবহার করা হয়েছে, যা দক্ষিণাঞ্চলে এ ধরনের প্রথম সেতু বলে জানিয়েছেন সওজের প্রকৌশলীরা।  সেতুটির ঠিকাদার মো. মাহফুজ খান সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চতা বৃদ্ধি, নকশা পরিবর্তন এবং নদী শাসনের কাজ বাড়ার কারণেই সময় ও ব্যয় দুইই বেড়েছে। বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নদীর ধারা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ এবং সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বারবার নকশা সংশোধন করতে হয়েছে।  মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উদ্বোধনের পরই সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।   উন্নয়ন না অপচয়? গোমা সেতু এখন চালু—এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক। তবে এর নির্মাণ ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে— বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কি যথাযথ পরিকল্পনা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রয়োজন স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত। নয়তো গোমা সেতুর মতো প্রকল্প ভবিষ্যতেও পুনরাবৃত্তি হবে— আর উন্নয়ন হবে, কিন্তু তার মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই।   মেয়াদ বৃদ্ধি: নিয়ম না ব্যতিক্রম? প্রকল্পটি একাধিকবার সময় বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: প্রতিবার মেয়াদ বৃদ্ধির যৌক্তিকতা কী ছিল? কোনো দায় নির্ধারণ করা হয়েছিল কি? অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সময় বৃদ্ধি ঠিকাদারকে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দেয়।   জবাবদিহিতা: অমীমাংসিত প্রশ্ন এই প্রকল্পে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত— নকশা ত্রুটির জন্য দায়ী কে? ব্যয় বৃদ্ধির অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছে? প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর ভূমিকা কী ছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া প্রকল্পটির পূর্ণ মূল্যায়ন সম্ভব নয়।  তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষকদের মতে, গোমা সেতু প্রকল্পে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। কেন তদন্ত প্রয়োজন? ব্যয় বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ নির্ধারণ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ যাচাই ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য শিক্ষা   সেতুটি নির্মাণ হওয়ার মাধ্যমে বরিশাল জেলা সদরের সাথে বাকেরগঞ্জের পূর্বাঞ্চল কবাই, নলুয়া, দুধল সহ পটুয়াখালীর বাউফল ও দুমকী উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ দ্বার উন্মোচিত হলো।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির
বরিশালের বাকেরগঞ্জে চেয়ারম্যানের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীর হামলা

বরিশালের বাকেরগঞ্জে নিয়ামতি ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দের চাল কম আনার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হুমায়ুন কবির ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সহসভাপতি।   এ ঘটনার একটি ভিডিও সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত যুবকরা চেয়ারম্যানকে ঘিরে ধরে কিল-ঘুসি মারছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বিষয়টি পরিকল্পিত বলে দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য নুরুল ইসলাম আলামীন বলেন, চাল কম আনার অভিযোগ উঠলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। তাহলে আইন হাতে তুলে কেন নেওয়া হলো? আমরা মনে করি হামলার ঘটনা ইউনিয়ন বিএনপি নেতারা পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে। বাকেরগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার সোহেল রানা ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি চাল কম উত্তলোনের অভিযোগ তুলে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় নিয়ামতি ইউনিয়নের জন্য ২৪ টন চাল আসার কথা ছিল। তবে চেয়ারম্যান ১ টন চাল কম নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ উঠলে ট্যাগ অফিসার এনামুলের সামনে আবারও চাল মাপা হয়। এ সময় ১ টন কম পাওয়া যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা সালাম শিকাদার, কৃষক দল নেতা নয়ন, রাকিব, জুয়েল হাওলাদার, সোহেল হাওলদার ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদারের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালায়। ট্যাগ অফিসার এনামুল ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, চাল কম থাকার বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে এ ঘটনা ঘটে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার ঘটনা অস্বীকার করে যুবদল নেতা সালাম শিকাদার বলেন, আমি মারামারির প্রথমদিকে সেখানে ছিলাম না। তবে চাল কম আনার বিষয়টি আমাদের ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদার অবগত ছিলেন। তিনি চাল কম আনার কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আমাদের ওপর হামলা করেন এবং চেয়ারম্যানের মামা ঘুসি মারেন। পরে স্থানীয়রা উত্তেজিত হলে মারামারির ঘটনা ঘটে। বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
গণপূর্তের প্রকৌশলী বাশার
গণপূর্তের প্রকৌশলী আবুল বাশারের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সেগুনবাগিচা ই/এম বিভাগ-২ এর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার-এর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকা অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার সেগুনবাগিচা গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-২ এ উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন সুধা সদন এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর -এর বৈদ্যুতিক দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন। সূত্র মতে, যেখানে বড় প্রকল্প সেখানে উপস্থিত ছিলেন এই প্রকৌশলী। গণপূর্তের হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রিম কমিশন না পেলে তিনি কোনো ফাইলে সই করতেন না। পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল বাশার বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. আলী হোসেন হাওলাদারের ছেলে। ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ধানমন্ডি ৩২ -এর বৈদ্যুতিক দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজ এলাকায় অন্যের জমি দখল এবং অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ করেছেন। এ ঘটনায় কবাই ইউনিয়নের কুদ্দুস মিয়া বাদী হয়ে গত ১২ মার্চ বরিশাল স্পেশাল জজ আদালতে আবুল বাশারসহ চারজনকে বিবাদী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে জি.আর ২৯৬/২৪ (বাকেরগঞ্জ) মামলার ৩ নম্বর আসামি এবং জি.আর ২৬/২৩ (বাকেরগঞ্জ) মামলার ২ নম্বর আসামি হিসেবে নাম রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার বাবার নামে বাকেরগঞ্জের হালুয়া গ্রামে অবৈধভাবে একটি ইটভাটা চালু করেন, যা বর্তমানে এ. এইচ ব্রিকস নামে পরিচিত। এছাড়াও ঢাকায় তার নামে ৫ তলা ভবন, বিভিন্ন প্লট, নিউ মার্কেটে সোনার দোকানসহ নানা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি স্থানীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ -এর রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন মিছিল-মিটিং ও জনসভায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এলাকায় গিয়ে তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হাফিজ মল্লিক-এর পক্ষে কাজ করেছেন এবং ভোটে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -এর বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক। চাকরি জীবনে যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন সেই সরকারের নির্দেশনা মেনেই আমি দায়িত্ব পালন করেছি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0