ঢাকা কলেজের কর্মচারী মনিরের বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা কলেজের একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র, অভিযোগকারী এবং এলাকাবাসীর দাবি—দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করে তিনি নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি এবং মনিরুজ্জামান মনিরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। পরিচয়ের আড়ালে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ঢাকা কলেজে কর্মরত থাকলেও বিভিন্ন সময়ে মনির নিজেকে সাংবাদিক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা কিংবা শিক্ষা অফিসের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করতেন। শিক্ষা বিভাগের ভেতরেও তাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পদের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কালশী এলাকায় একটি বহুতল ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে মনিরের। এছাড়া মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১,৭৮০ বর্গফুট আয়তনের একটি অভিজাত ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সরকারি বেতনের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস ও বৈধতা যাচাইয়ে সরকারি তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ব্যাংকে কোটি টাকার আমানতের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকে মনিরের প্রথম স্ত্রী রিমান নামে কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র, এফডিআর এবং ব্যাংক আমানত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং অস্বচ্ছ লেনদেনের মাধ্যমে এসব অর্থের উৎস তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিংবা মনিরের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চুয়াডাঙ্গায় ‘সম্পদের সাম্রাজ্য’ নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গাতেও মনিরের বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শহরের মুসলিমপাড়ায় প্রায় ১৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি বাগানবাড়ি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এছাড়া শহরের লিনার মোড় এলাকায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পত্তির মালিকানা থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, চুয়াডাঙ্গা শহরে দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে একটি চারতলা ভবনও নির্মাণ করেছেন তিনি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—সরকারি চাকরিজীবীর সীমিত আয়ে এত বিপুল সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব? ভয়ভীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ মনিরের বিরুদ্ধে শুধু সম্পদ অর্জনের অভিযোগই নয়, রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষা বিভাগের ভেতরে তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত বিরোধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের মতো ঘটনাতেও তার নাম এসেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, এক ভ্যানচালকের স্ত্রীকে জোরপূর্বক নিজের কাছে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে ওই ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। এছাড়াও নারী কেলেঙ্কারি, অনৈতিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে। তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর মনিরুজ্জামান মনিরের সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব, জমি, ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একজন সাধারণ কর্মচারীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া অস্বাভাবিক। তাই তার সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা জরুরি।” তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত মনিরুজ্জামান মনিরের ব্যক্তিগত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ হওয়া চার স্কুলছাত্রীকে গাজীপুর থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব ও পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর বুধবার সন্ধ্যায় গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গার্মেন্টসে চাকরি করার উদ্দেশ্যে তারা বাড়ি ছেড়েছিল। পারিবারিক অভিমান ও আবেগের বশে তারা সঙ্গে প্রায় ৮০ হাজার টাকা নিয়ে গাজীপুরে চলে যায়। পুলিশ জানায়, মৌচাক এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিল চার শিক্ষার্থী। পরে তারা একটি কম্পিউটার দোকানে গিয়ে চাকরির জন্য সিভি তৈরির সহযোগিতা চায়। সেখান থেকে তাদের ব্যবহৃত ফোন নম্বরের সূত্র পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে চারজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের মৌচাক পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত রোববার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তারা। এরপর থেকে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো— সানজিদা আক্তার (১২), ইসমত জেরিন (১২), সানজিদা আক্তার রায়সা (১৩) ও আয়শা আক্তার (১৫)। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলেও পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চার শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধারের খবরে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারগুলোর মধ্যে।
এনবিআরের এক কর্মচারীর বিপুল সম্পদ: দুদকের অনুসন্ধানে যা জানা যাচ্ছে ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক কর্মচারীর বিপুল সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, কর অঞ্চল-১৪–এ কর্মরত উচ্চমান সহকারী আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান চলছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল লতিফ কিছুদিন আগেও একই দপ্তরে পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি উচ্চমান সহকারীর দায়িত্ব পান। তবে তার বিরুদ্ধে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরির আড়ালে তিনি কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাতুয়াইলের রহমতপুর এলাকায় আব্দুল লতিফের একটি বহুতল ভবন রয়েছে। এছাড়া ডেমরার হাজী বাদশা মিয়া রোড এবং মাতুয়াইল নিউ টাউন এলাকায় নিজের ও স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ জমি কেনার তথ্যও পেয়েছে দুদক। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঢাকায় বিভিন্ন আবাসিক ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এদিকে, তদন্ত শুরুর আভাস পাওয়ার পর আব্দুল লতিফ ঢাকার কয়েকটি ফ্ল্যাট দ্রুত বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেই অর্থ দিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে নতুন করে জমি কিনছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি দুদকের নজরে আসে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আব্দুল লতিফের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কর্মস্থলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। দুদকের উপপরিচালক ফাতেমা সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, “মামলাটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি অনুসন্ধান করছি। তদন্তে অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনাটি এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর পক্ষে কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব হলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা ছাড়া এমন সম্পদ গড়ে তোলা কঠিন।
বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে এক নারীর সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়ে সুজন দালাল (৩০) নামে দুই সন্তানের এক জনকের মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত মাত্রায় যৌনউত্তেজক ওষুধ সেবনের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যেতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (৯ মে) মধ্যরাতে বন্ধু মারুফ আকনের সঙ্গে বরিশাল নগরীর চকবাজার এলাকার বিউটি রোডের ‘হোটেল নছিব’-এ যান সুজন দালাল। পরে তিনি এক নারীর সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য একটি কক্ষে প্রবেশ করেন। কিছু সময় পর সুজন তার বন্ধু মারুফকে ফোন করে অসুস্থতার কথা জানান। পরে মারুফ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সুজন দালাল বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় বাল্কহেড কর্মচারী ছিলেন এবং দুই সন্তানের জনক। খবর পেয়ে রোববার (১০ মে) সকালে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের বন্ধু মারুফ, হোটেল ম্যানেজার জাকির এবং লিমা নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতের বড় ভাই রুবেল দালালের অভিযোগ, সুজনকে পরিকল্পিতভাবে নেশাজাতীয় বা অতিরিক্ত মাত্রার যৌনউত্তেজক কিছু খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে আটক তিনজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম বলেন, সুজনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে আহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতদের একজন মোরছালিন (১৮)। তিনি গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় একটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। অপর নিহত নবীর হোসেনের (৪০) বাড়ি মধুপুর গ্রামে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, নিহত দুজনের মরদেহ ভারতের আগরতলার জিবি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে মোরছালিন ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হন। পরে আহত নবীর হোসেনকে ভারতীয় সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুর বলেন, “সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার পর দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।” ধজনগর গ্রামের রিপন পাঠান জানান, গুলির ঘটনায় অন্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার বিষয়ে চন্ডিদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুইনুদ্দিন বলেন, “একজন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।” কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানিয়েছেন, বিএসএফের গুলিতে হতাহতের খবর পুলিশ পেয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নজরুল ইসলাম : ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) বৃহৎ একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল।সত্য নিরপেক্ষতা ও দ্বায়িত্বশীল সাংবাদবকতার প্রতীক এই শ্লোগানকে ধারন করে ইত্তেহাদ নিউজের (Etihad News) পথচলা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই অনলাইন গনমাধ্যমটি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সংবাদ, অনিসন্ধানী সংবাদ,স্পেশাল সংবাদ পাঠকদের ও ভিজিটরদের মুগ্ধ করেছে।সততা ও সাহসের সাথে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশে সব সময়ই ইত্তেহাদ নিউজ এগিয়ে। জনপ্রিয় এই অনলাইন মাধ্যমটির সংবাদ ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) সম্পাদকীয় পলিসি যথাযথ ভাবে অনুসরন করে আসছে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই। ইত্তেহাদ নিউজের (Etihad News) ব্যবহারের শর্তাবলী,প্রাইভেসি পলিসি রয়েছে।সবচেয়ে অনলাইন গনমাধ্যমটি সম্পাদকীয় পলিসির মাধ্যমে টরিচালনা করে আসছে।কারো কোন অভিযোগ থাকলে গনমাধ্যমটি কমপ্লাইন অপশন রেখেছে। এছাড়ানযে কেউ সম্পাদকের সাথে যোগাডোগ করার জন্য কন্টাক্ট অপশন রেখেছে।যাতে করে যে কেউ দ্রুত কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।এছাড়া রয়েছে তাদের ডোগাযোগের জন্য ইমেল।তাদরর রয়েছে কুকিজ পলিসি।রয়েছে ফ্যাক্ট চেক পলিসি। গনমাধ্যমটি বিষয়ে বিস্তারবত জানতে হলে এ্যাবাউট আজএ ক্লিক করে জানতে পারবেন। ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) স্বাধীনভাবে সত্য সংবাদ প্রকাশে অবিচল।কারে রক্ত চক্ষুকে ভয় করেনা।ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আপনি ইত্তেহাদ নিউজের (Etihad News) সম্পাদকীয় নীতিমালা টড়তে পারেন। তাহলেই বুঝতে পারবেন ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) সকল গনমাধ্যম থেকে আলাদা একটি স্বাধীন গনমাধ্যম।জনস্বার্থ কে অগ্রাধীকার দিয়ে সব সময়ই সংবাদ প্রকাশ করে আসছে ইত্তেহাদ নিউজ। স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা (Editorial Independence & Impartiality) ইত্তেহাদ নিউজ Etihad News) সম্পূর্ণ সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় রেখে সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো রাজনৈতিক দল, সরকার, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির প্রভাবমুক্তভাবে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। সংবাদে সব পক্ষের মতামত তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। ব্যক্তিগত মতামত ও সংবাদ প্রতিবেদনের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা হয়। ন্যায্যতা ও ভারসাম্য (Fairness & Balance) সংবাদ পরিবেশনে ন্যায্যতা ও ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া নেওয়া হয়। নৈতিক সাংবাদিকতা (Ethical Journalism) আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার নৈতিক নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মর্যাদা ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো হয়। ঘৃণামূলক, সহিংসতা উসকে দেয় বা বৈষম্যমূলক কনটেন্ট প্রকাশ করা হয় না। শিশু ও সংবেদনশীল বিষয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা (Transparency & Accountability) পাঠকদের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়। তথ্যের উৎস যথাসম্ভব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। পাঠকদের মতামত ও অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়। সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়। জনস্বার্থ (Public Interest) জনস্বার্থ আমাদের সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি। দুর্নীতি ও সামাজিক সমস্যার সংবাদে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তথ্য প্রকাশে আইন ও নৈতিকতার ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। ইত্তেহাদ নিউজ একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, যা স্বতন্ত্র সম্পাদকীয় টিম দ্বারা পরিচালিত। অর্থায়ন অনলাইন বিজ্ঞাপন স্পন্সরড কনটেন্ট মিডিয়া পার্টনারশিপ অন্যান্য বৈধ উৎস ইত্তেহাদ নিউজ ( Etihad News) সব সময়ই নির্ভুলতা,নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাষ করে। ইত্তেহাদ নিউজের ( Etihad News) মুলনীতি হল- যাচাই বাচাই প্রক্রিয়া - একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস যাচাই করা হয় সরকারি ও গবেষণামূলক ডেটা ব্যবহার করা হয় উৎসের বিশ্বাসযোগ্যতা পরীক্ষা করা হয় নৈতিকতা নীতি হল- ভুয়া বা ক্ষতিকর তথ্য প্রকাশ করা হয় না মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখা হয় সংবেদনশীল বিষয় সতর্কতার সাথে প্রকাশ করা হয় সংশোধন নীতি হল- ভুল শনাক্তকরণ তথ্য যাচাই সংশোধন প্রকাশ সংশোধন নোট যোগ যেকোন লেখক লেখা পাঠাতে পারেন। লেখা পাঠানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইত্তেহাদ নিউজ। আপনি যদি আপনার সংবাদ, প্রবন্ধ বা ফিচার পাঠাতে চান, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন: ১. সংবাদ পাঠানোর মাধ্যম ইত্তেহাদ নিউজে (Etihad News) সংবাদ বা লেখা পাঠানোর প্রধান মাধ্যম হলো ইমেইল। আপনি আপনার লেখা সরাসরি নিচের ঠিকানায় পাঠাতে পারেন: ইমেইল: [email protected] অথবা [email protected] ২. সংবাদ পাঠানোর নিয়মাবলি আপনার পাঠানো সংবাদটি যাতে প্রকাশের জন্য বিবেচিত হয়, সে জন্য নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি: ফরম্যাট: সংবাদটি সাধারণত MS Word (.doc) ফাইল আকারে অথবা সরাসরি ইমেইল লিখে পাঠাতে পারেন। ছবি: সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিষ্কার ছবি অবশ্যই যুক্ত করবেন। ছবিগুলো নিউজ ফাইলের সাতে অ্যাটাচমেন্ট হিসেবে পাঠানো ভালো। তথ্যসূত্র: সংবাদটি অবশ্যই সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে। কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে তারিখ, স্থান এবং সঠিক তথ্য উল্লেখ থাকতে হবে। লেখকের পরিচয়: সংবাদের নিচে আপনার পূর্ণ নাম, পেশা, বর্তমান ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর যুক্ত করবেন। প্রয়োজন হলে ইত্তেহাদ নিউজ কর্তৃপক্ষ আপনার সাথে যোগাযোগ করবরন। ৩. সংবাদ নীতিমালা মৌলিকতা: লেখাটি অবশ্যই আপনার নিজের হওয়া উচিত। অন্য কোনো মাধ্যম থেকে কপি করা সংবাদ তারা গ্রহণ করে না। নিরপেক্ষতা: ইত্তেহাদ নিউজ নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা অনুসরণ করে, তাই কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি উস্কানিমূলক বা বিদ্বেষমূলক লেখা পরিহার করতে হবে। সম্পাদনা: পাঠানোর পর সম্পাদকীয় বোর্ড প্রয়োজন মনে করলে সংবাদের গুণগত মান রক্ষার্থে সেটি কিছুটা পরিমার্জন বা সম্পাদনা করতে পারে। ৪. সরাসরি যোগাযোগ আপনি যদি কোনো বড় ঘটনা বা বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পাঠাতে চান, তবে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের Contact Us পাতায় গিয়ে সরাসরি বার্তা পাঠাতে পারেন।অথবা মেইলে যোগাযোগ করবেন। ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) সম্পর্কে আরও কিছু বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. পরিচালনা ও নেতৃত্ব • সম্পাদক ও প্রকাশক: এই পোর্টালটির সম্পাদক এবং প্রকাশক হলেন এম এম রহমান (M M Rahman) । • মামুনুর রশীদ নেমানী,আবাসিক সম্পাদক (বাংলাদেশ)। • সদর দপ্তর: এটি সংযুক্ত আরব আমিরাত আবুধাবি থেকে পরিচালিত হয় । ২. প্রধান লক্ষ্য ও কার্যক্রম • প্রবাসীদের মুখপত্র: এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির সুখ-দুঃখ এবং সমস্যার কথা বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়া । • অংশগ্রহণমূলক সাংবাদিকতা: পোর্টালটি "যারাই লেখক, তারাই পাঠক"—এই নীতিতে বিশ্বাসী, যেখানে পাঠকদের মতামত এবং অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয় [। • অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: এটি দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী এবং সাহসী সংবাদ প্রকাশের জন্য পরিচিতি পেয়েছে । ৩. সংবাদের ব্যাপ্তি ইত্তেহাদ নিউজ কেবল প্রবাস কেন্দ্রিক নয়, বরং বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন খবর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচার করে । তাদের উল্লেখযোগ্য কিছু বিভাগ হলো: • ইত্তেহাদ স্পেশাল ও এক্সক্লুসিভ: বিশেষ প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণধর্মী খবর । • রাজনীতি ও অর্থনীতি: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং বাণিজ্যিক আপডেট । • লাইভ আপডেট: সরাসরি সংবাদ সরবরাহ এবং তাৎক্ষণিক ব্রেকিং নিউজ । ৪. ডিজিটাল উপস্থিতি • অফিসিয়াল পোর্টাল: www.etihad.news • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: ফেসবুক এবং ইউটিউবে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বিপুল সংখ্যক পাঠকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে । ৫. যোগাযোগ ও অভিযোগ • সরাসরি যোগাযোগ: সংবাদের প্রতিবাদ বা কোনো তথ্যের জন্য তাদের যোগাযোগ পাতা ব্যবহার করা যায়। (https://etihad.news/contact-etihad-news • অভিযোগ ফর্ম: কোনো সংবাদের মান বা তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে তাদের ওয়েবসাইটে একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ ফর্ম (Complaint Form) রয়েছে, যেখানে প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দেওয়া যায় । (https://etihad.news/complaint-form-etihad-news) লেখক : বিশেষ সংবাদদাতা, ইত্তেহাদ নিউজ,বাংলাদেশ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সবাই অবাক হয়ে ভাবছেন কি ব্যাপার জনকণ্ঠ কি নিজেদের বিরুদ্ধে লেখা শুরু করল নাকি! আসলে আজ একটু নিজেদের আত্মসমালোচনা নিয়ে বসেছি। বিগত ২-৩ দিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কান পাতলেই একটি কথা শোনা যাচ্ছে, গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের চেয়ারম্যান শামীমা আতিকুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি। তাই ভাবলাম এসব সংবাদমাধ্যমের সহকর্মীদের সঙ্গে আমরাও একটু সহযোগিতামূলক আচরণ প্রদর্শন করি। সমালোচনা শুরু করা যাক। সমালোচনা শুরু করার আগে আমরা প্রেক্ষাপট জেনে নেই, রাজিয়া রহমান বৃষ্টি হচ্ছেন গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের বেতনভুক্ত একজন সাবেক কর্মচারী। তিনি ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের চেয়ারম্যান শামীমা আতিকুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার চেক ডিসঅনারের একটি মামলা করেন। সেই মামলার নথিতে বলা হয়, শামীমা আতিকুল্লাহ খান নাকি তার কর্মচারী রাজিয়া রহমান বৃষ্টির কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। সেই ঋণ পরিশোধ করার জন্য শামীমা আতিকুল্লাহ খান ১০ কোটি টাকার একটি চেক রাজিয়া রহমান বৃষ্টিকে দিয়েছিলেনে, আর সেই চেক ডিসঅনার হয়েছে। তাই তিনি মামলা করেছেন। এমনকি সেই মামলায় শামীমা আতিকুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এবার একটু পেছনের কথায় আসা যাক। রাজিয়া রহমান বৃষ্টি শামীমা আতিকুল্লা খানের ৫৫ বছরের পুরনো বান্ধবীর মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই বৃষ্টিকে মেয়ের মতো স্নেহ করতেন। বৃষ্টির ডিভোর্সের পর থেকে টাকা পয়সার সমস্যা হওয়ার কারণে তিনি মাঝে মাঝেই তাকে সহায়তা করতেন। তবে ২০২৪ সালে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরে রাজিয়া রহমান বৃষ্টির পরিচালিত প্রতিজ্ঞা ফাউন্ডেশন বন্ধ হয়ে যায় অথবা আমরা বলতে পারি সে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। প্রতিজ্ঞা ফাউন্ডেশন সে কেন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল, তার যথোপযুক্ত প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। সময়মতো সেগুলো আমরা উপস্থাপন করব। যেহেতু বৃষ্টি ৩ সন্তাসহ ডিভোর্সি ছিল তাই ফাউন্ডেশনটি বন্ধ হবার পরে সে সংসার চালাতে পারছিল না। এমনকি বৃষ্টির বাসায় বাজার করার টাকাও ছিল না। বাসায় বিদ্যুৎ বিল এত বাকি পড়ে গিয়েছিল যে, বিদ্যুতের লাইন কেটে দিতে চলে এসেছিল। তখন এই বৃষ্টি নিজের সংসার চালাতে শামীমা আতিকুল্লাহ খানের কাছে ছুটে আসে যাকাতের টাকা চাইতে, যা দিয়ে সে কোনোভাবে তার সংসার চালাতে পারবে। প্রথম দিকে শামীমা আতিকুল্লাহ খান তাকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে দেয়া শুরু করে। পরবর্তীতে বৃষ্টির সম্মানের কথা চিন্তা করে উনি বৃষ্টিকে গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারে বিজনেস হেড হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন, যার মাসিক বেতন ছিল প্রথমে দেড় লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে ২ লাখ টাকা। চাকরি থাকাকালেই বৃষ্টি জনকণ্ঠকে কোনোরকম ইনফরমেশন না দিয়ে অন্য অফিসে কনসালট্যান্সির কিছু কাজ করতেন। গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের একজন ফুলটাইম কর্মচারী হওয়ায় যেটি ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি একটি কাজ। যাক এসব বাদ দিয়ে এবার কিছু পয়েন্টে আসা যাক। এক. ২০২৪ সালে রাজিয়া রহমান বৃষ্টি সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিল, টাকার জন্য রিকশায় করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে, এমনকি যার বনানীর ফ্ল্যাটটি পর্যন্ত ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ রাখা ছিল- সে নাকি শামীম আতিকুল্লা খানের কাছে ২ বছর পরেই ১০ কোটি টাকা পাবে। ধরা যাক ২০২৪ থেকে যতদিন পর্যন্ত তিনি গ্লোব জনকণ্ঠে কর্মরত ছিলেন, তিনি মোট মাসিক বেতন হিসাবে ২২ লাখ টাকা পেয়েছেন। পাশাপাশি ধরে নিলাম কনসালট্যান্সি করে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা আয় করেছেন। দুই. তাহলে জনকণ্ঠ থেকে ২২ লাখ ও দুই বছরে কনসালট্যান্সি করে ৪৮ লাখ টাকা আয় করে থাকতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে ৭০ লাখ টাকা। এখানে কিন্তু আমরা তার মাসিক কোনো খরচের হিসাব দেইনি। ধরে নিলাম তিনি কোনো টাকাই খরচ করেনি খাওয়া-দাওয়াও করেননি, বাচ্চাদের স্কুলের বেতনও দিতে হয়নি, পুরোটাই তিনি ব্যাংকে জমিয়েছেন। তাহলে রাজিয়া রহমান বৃষ্টি গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের চেয়ারম্যান শামীমা এ খানকে ১০ কোটি টাকা ঋণ দিলেন কী করে। প্রশ্ন জাগে না, অবশ্যই জাগে! প্রশ্ন হচ্ছে, এই ১০ কোটি টাকা বৃষ্টি কোথায় পেলেন! বাংলাদেশের ব্যাংকে কি হঠাৎ করে ইন্টারেস্ট রেট অনেক বৃদ্ধি পেয়ে গেছে? যাতে করে বৃষ্টির জমানো ৭০ লাখ (কাল্পনিক) টাকা দুই বছরে বুলেট ট্রেনের গতিতে ১০ কোটি হয়ে যাচ্ছে! তিন. অন্যদিকে বৃষ্টির দ্বিতীয় স্বামী মো. মেজবাহ উদ্দিন, যার সঙ্গে ২০২৫ সালের শেষের দিকে ঢাকার নামিদামি পাঁচ তারকা হোটেলে চারটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। একটি কথা বলাই বাহুল্য মেজবাহ উদ্দিনেরও এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল, তার আগের সংসারে দুটি সন্তান আছে। তাদের দায়িত্ব কিছুটা হলেও মেজবাহ উদ্দিনকে নিতে হয়। প্রাপ্ত তথ্য মতে, মেজবাহ উদ্দীনের মাসিক বেতন ছিল ৫ লাখ টাকার কাছাকাছি। একজন দেড় লাখ আরেকজন ৫ লাখ টাকা মাসিক বেতনের দুজন কর্মচারী ২ কোটি টাকার কাবিন এবং ৫ তারকা হোটেলে ৪টি অনুষ্ঠান সম্পাদন করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অর্থ খরচ করে তাদের দ্বিতীয় বিয়ের সম্পাদন করেন। বিয়ের পোশাক এবং জুয়েলারিও কিন্তু এসেছিল দেশের বাইরে নামি-দামি ব্র্যান্ড থেকে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তারা এত টাকা কোথায় পেলেন? এ টাকার উৎস কী? আসল রহস্য এখানে, রহস্য হচ্ছে- রাজিয়া রহমান বৃষ্টি দম্পতি গ্লোব জনকণ্ঠ থেকে ৮০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার পর তাদের এই বিলাসবহুল বিবাহ ও রিসিপশন হয়েছিল। চার. আমরা কিন্তু এতক্ষণ ধরে যে ১০ কোটি টাকা পাওনার কথা বৃষ্টি বলছেন, সে টাকার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিলাম। সবকিছু বিশ্লেষণ করে মনে হলো বৃষ্টি বোধ হয় রূপকথার আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ হাতে পেয়েছিলেন! হয়তো সেখান থেকে জিন বের হয়ে তাকে ১০ কোটি টাকা দিয়েছে। এবং সেই টাকা সে শামীমা আতিকুল্লাহ খানকে ঋণ দিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য এখন এসব মামলা হামলা হচ্ছে! এত কথা বলার কারণ হচ্ছে, গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের কাছ থেকে আমাদের পাঠক, আমাদের সংবাদমাধ্যমের সহকর্মী এবং আমাদের আইন ব্যবস্থার কাছে একটি ছোট্ট প্রশ্ন- রাজিয়া রহমান বৃষ্টি যে শামীমা আতিকুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মামলা করেছেন, আপনারা কি কেউ একবার জানতে চেয়েছেন দেড় লাখ টাকা বেতনের একজন কর্মচারী কোথা থেকে ১০ কোটি টাকা পেল? তার সোর্স অব ইনকামটা কী? তিনি এই কোম্পানির কোনো সাপ্লাইয়ার না, কিংবা তিনি কোম্পানির বিজনেস পার্টনারও না, ছিলেন শুধু একজন সাধারণ কর্মচারী। তাহলে শামীম আতিকুল্লা খানের কাছে তার ১০ কোটি টাকা পাওনা হলো কীভাবে? গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের চেয়ারম্যান শামীমা আতিকুল্লাহ খান আইন বিভাগকে শুধু একটি প্রশ্ন করেছেন, কীভাবে একজন দেড় লাখ টাকার কর্মচারী তার কাছে ১০ কোটি টাকা পেতে পারেন, এর সুনির্দিষ্ট উৎস কেন আদালত জানতে চাইলেন না? বৃষ্টির এই ১০ কোটি টাকার সোর্স অব ইনকাম কী? এবার এ প্রশ্নটি আমাদের সব পাঠক, আমাদের সব গ্রাহক এবং আমাদের সব সংবাদমাধ্যমের সহকর্মীদের কাছে দেড় লাখ টাকা বেতনের একজন কর্মচারীর কাছে কোথা থেকে ১০ কোটি টাকা এলো, এ টাকার উৎস কী? এটা কি আপনারা কেউ জানতে চেয়েছেন? আসল কথা জানতে না চেয়ে খবরের ওপর খবর ছাপা হয়ে যাচ্ছে। আমাদের করা প্রশ্নগুলো একটু নিজেদের জিজ্ঞেস করে দেখুন হয়তো বা আসল উত্তরটি পেয়ে যাবেন!
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরসপুর গ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুল দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ছয়টি গ্রামের মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ হওয়া সত্ত্বেও পুলটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পুলটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা। এলাকাবাসীর দাবি, কিছুদিন আগে পুলটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। এতে তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়। তবে অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং এরপর আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই পুল দিয়ে প্রতিদিন আমাদের বাজার, স্কুল ও হাসপাতালে যেতে হয়। কাজ শুরু হওয়ায় আমরা ভেবেছিলাম দ্রুত সমাধান হবে। কিন্তু হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা এখন হতাশ।” অন্য একজন ভুক্তভোগী জানান, “বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। জরুরি সময়ে রোগী নিয়ে যাওয়া খুব কষ্টকর হয়ে যায়।” বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার ধারণ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এলাকাবাসী পুলটির নির্মাণকাজ পুনরায় চালু করে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের এক নৈশপ্রহরী—যার চাকরিজীবন শুরু হয়েছিল দৈনিক ২০০ টাকার ঝাড়ুদার হিসেবে—বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত একজন প্রভাবশালী কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে, যদিও তার সরকারি পদ নিম্নপদস্থ কর্মচারীর। অনুসন্ধানে জানা যায়, সৈয়দ আলী ওরফে সবুজ প্রথমে মতিঝিলের দিলকুশায় জীবন বীমা টাওয়ারে অবস্থিত ট্রাইব্যুনালে মাস্টার রোলে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে স্থায়ীভাবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নৈশপ্রহরীর পদে নিযুক্ত হন। তবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় তার পরিচিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন—সেখানে তিনি নিজেকে উচ্চপদস্থ কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অল্প আয়ের চাকরি থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় তার একাধিক বাড়ি রয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে দুটি দোতলা ভবন, ৫ তলা একটি ভবন, ৬ কাঠার জমিতে একতলা পাকা দালান ও ২০ কক্ষের টিনশেড ঘর। এছাড়া একই এলাকায় আরও একটি বহুতল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। শুধু নারায়ণগঞ্জেই নয়, ঢাকার রায়েরবাগে একটি মূল্যবান ফ্ল্যাট এবং রূপগঞ্জের গাউসিয়া এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫ কাঠার একটি বাণিজ্যিক প্লটের মালিকানার তথ্যও পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এসব সম্পদের মোট মূল্য অন্তত ১০ কোটি টাকা। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে সৈয়দ আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতার অভিযোগ পাওয়া যায়। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তার স্ত্রী বাড়িতে প্রবেশে বাধা দেন এবং সম্পত্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জানান, এসব সম্পদ ঋণের মাধ্যমে অর্জিত। তবে কোনো ঋণের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। পরে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান। অন্যদিকে, সৈয়দ আলী দাবি করেন, এসব সম্পদের মালিক তিনি নন; তার ভাই ও শ্যালক বিদেশে থাকেন এবং সম্পদ তাদের। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং ফোনালাপে তিনি বারবার ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার ইঙ্গিতপূর্ণ অনুরোধ জানান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সৈয়দ আলীর আর্থিক প্রভাব ও আচরণ নিয়ে এলাকায় ভীতি কাজ করে। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর পক্ষে কীভাবে এত বিপুল সম্পদ অর্জন সম্ভব? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একজন প্রকল্প পরিচালকের সম্পদের বহর ও ব্যাংক হিসাবের লেনদেন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা। তার ৯৪টি ব্যাংক হিসাবে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১২৮ কোটি টাকা। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার। আলোচিত ওই কর্মকর্তার নাম মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কক্সবাজার জোন অফিসের মাতারবাড়ী আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফ্রেন্ড পাওয়ার প্রজেক্টের (আরএইচডি) প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও সওজ প্রধান কার্যালয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ) হিসেবে কর্মরত। দুদুক এরই মধ্যে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে এবং বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শিগগির কমিশনে তার বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলার সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। আয় ও সম্পদের হিসাব প্রাপ্ত নথি থেকে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম তার আয়কর নথিতে দেখিয়েছেন ৪ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার ৭৪৩ টাকার সম্পদ। এর মধ্যে দুদকের অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ৩ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১৯২ টাকা। অনুসন্ধানকালে দুদক জাহাঙ্গীর আলমের ২৯ কোটি ২৫ লাখ ১৮৪ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ থাকার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। ব্যাংক লেনদেনের বিস্তৃতি জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলমের বৈধ আয়ের খাত অনুযায়ী সম্পদ বিবরণীতে দেখা যায়, তার অতীত সঞ্চয় ৪১ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৪ টাকা। বেতন থেকে আয় ৮২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৭৯ টাকা। ব্যাংক সুদ থেকে আয় ১ কোটি ৩০ লাখ ২৯ হাজার ৩৩ টাকা। করমুক্ত আয় ৩৮ লাখ ৪০ হাজার ৪৭৫ টাকা। রেমিট্যান্স থেকে আয় ২ লাখ ৭১ হাজার ৫২১ টাকা। মূলধনি আয় ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬০ টাকা। দায়-দেনা ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তার বৈধ মোট সম্পদ ৩ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১৯২ টাকা। ৩১ কোটি ৪৯ লাখ ৬৬ হাজার ১০৯ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন দুদক সূত্রে জানা গেছে, মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাহাঙ্গীর আলম মোট ৪৯ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩১ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৩১ কোটি ৪৯ লাখ ৬৬ হাজার ১০৯ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। এ সময় তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া যায় ৬৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৩৭ টাকা। এই ব্যয়সহ তার নিট সম্পদের পরিমাণ ৩২ কোটি ১৮ লাখ ২১ হাজার ৬৪৬ টাকা। অন্যদিকে, তার নামে প্রাপ্ত গ্রহণযোগ্য বৈধ উৎসের পরিমাণ ৩ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১৯২ টাকা। তিনি ২৯ কোটি ৭ লাখ ১১ হাজার ৪৫৪ টাকা তার আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। এই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগ-দখলে রেখে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৯৪টি হিসাবে ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ ১৩ হাজার ২২৬ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। যার পক্ষে বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। তিনি এই অবৈধ অর্থ বারবার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রদান ও উত্তোলনের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করে লেয়ারিং করেছেন। অর্থের উৎস গোপন করার মাধ্যমে বৈধ করার ছদ্মাবরণে এ অর্থের হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থের অবস্থান গোপনপূর্বক ছদ্মাবরণে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২), (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। সন্দেহজনক লেনদেন ও এফডিআর দুদক কর্মকর্তারা জানান, জাহাঙ্গীর আলম অসাধু উপায়ে ২৯ কোটি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৯৪টি হিসাবে মোট ৭৮ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩০৩ টাকা জমা ও ৪৮ কোটি ৪৭ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৩ টাকা তুলে নিয়েছেন। তার হিসাবে সর্বমোট ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ ১৩ হাজার ২২৬ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। ২০১২ সালের ৪ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ১৪ মে পর্যন্ত সময়ে তিনি এসব লেনদেন করেছেন। ব্র্যাক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সে এসব হিসাব খোলা ও লেনদেন করা হয়েছে। এসব টাকা দফায় দফায় বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রদান ও উত্তোলনের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। অর্থ লেনদেনের লেয়ারিং ঘটিয়ে অর্থের উৎস গোপন করার মাধ্যমে বৈধ করার অপচেষ্টা করেন। এসব অর্থের হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থের অবস্থান গোপনপূর্বক ছদ্মাবরণে তা বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে তিনি দুদক আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। ৭৭টি এফডিআরসহ মোট ৮২ আমানত , লেনদেন হয়েছে ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে বিএফআইইউর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী তার ব্যাংক বিবরণীতে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে প্রকল্প পরিচালক হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তার নামে বেতন-ভাতা বাবদ জমা হয়েছে ৯৮ লাখ টাকা। অথচ তার নামে ৭৭টি এফডিআরসহ মোট ৮২ আমানত হিসাবে (৫টি সঞ্চয়ী ও ৭৭টি স্থায়ী আমানত) লেনদেন হয়েছে ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লেনদেন জানা গেছে, ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর ব্র্যাক ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন জাহাঙ্গীর আলম। বিভিন্ন সময় এ হিসাবে ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা জমা হওয়ার পর সব টাকাই তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় আরেকটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর। এই হিসাবে বিভিন্ন সময় ১২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা জমা করার পর তা তুলে নেন। ২০২১, ২০২৩, ২০২৪ সালে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গুলশান করপোরেট শাখায় ১৮টি এফডিআর এবং একটি সঞ্চয়ী হিসাব খুলে জমা করেন ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সমপরিমাণ টাকা এসব হিসাবে জমা আছে। ২০১২ সালে জাহাঙ্গীর আলম আরেকটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রগতি সরণি শাখায়। এই হিসাবে ৩৮ কোটি টাকা জমা করা হয়। তুলে নেওয়া হয়েছে ৩৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ১১টি এফডিআর এবং ডিপিএস হিসাব খুলে ৮ কোটি ৮ লাখ টাকা জমা করা হয়। সমপরিমাণ টাকা জমা আছে। ২০২৪ সালের জুন-জুলাইয়ে আইডিএলসি ফিন্যান্স পিএলসি উত্তরা শাখায় ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ১৭টি এফডিআর করেন তিনি। এসব টাকার স্থিতি আছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ১৩ কোটি ৮ লাখ টাকার ৩১টি এফডিআর করেছেন ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স পিএলসি গুলশান শাখা এবং প্রিন্সিপাল শাখায়। এগুলো এখনো স্থিতি আছে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের রাজশাহী, গোপালগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও এবং ঢাকার বারিধারা শাখায় খোলা হিসাবে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা জমা করে তা তুলে নেন জাহাঙ্গীর আলম। এসব হিসাবে তিনি মোট ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লেনদেন করেন। জমা থাকা ৩০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা জব্দ করেছে দুদক ও বিএফআইইউ। কে এই জাহাঙ্গীর: মো. জাহাঙ্গীর আলম, মাতারবাড়ী আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফ্রেন্ড পাওয়ার প্রজেক্টের (আরএইচডি) প্রকল্প পরিচালক। তার বাবার নাম ছিদ্দিক মিয়া। থাকেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বি ব্লকের একটি বাসায়। তিনি ফেনী সদর উপজেলার ফতেহপুর জাহানপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। কর্মজীবনে তিনি ঠাকুরগাঁও, গোপালগঞ্জ ও রাজশাহী সড়ক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের সড়ক উন্নয়ন অংশের পিডি। গত বছরের ২৪ অক্টোবর জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার ভারপ্রাপ্ত মহানগর দায়রা জজ ইব্রাহিম মিয়া ওই আদেশ দেন। দুদক বলছে, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংসহ নিজের ও নির্ভরশীলদের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এবং তার স্ত্রী দেশ ছেড়ে বিদেশে পালানোর এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর করার চেষ্টায় আছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। সে কারণে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দুদকের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটা তো অনেক পুরোনো অভিযোগ, আমি তো বিষয়টি ভুলেই গেছি। ব্যাংক হিসাবে ১০ টাকা কয়েকবার লেনদেন হলেও অনেক বড় অঙ্ক দেখায়। দুদক কীসের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করেছে আমার জানা নেই।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা রাজধানীর গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল–মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল–৪–এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলমকে ঘিরে একের পর এক দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা, দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো এবং কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের নেপথ্যে তার আপন ছোট ভাইয়ের সম্পৃক্ততার দাবিও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। সিন্ডিকেটের কবজায় বড় প্রকল্প অনুসন্ধানে জানা গেছে, ই/এম সার্কেল–৪–এর অধীনে পরিচালিত অধিকাংশ বড় প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে পেয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী তৈমুর আলম তার প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে দরপত্রের শর্তাবলি এমনভাবে সাজাতেন যাতে তার পছন্দের বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারে। নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে তিনি মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন বলে দপ্তরের ভেতরেই গুঞ্জন রয়েছে। ভাইয়ের প্রভাব ও পারিবারিক সম্পৃক্ততা তৈমুর আলমের দুর্নীতির বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে তার পরিবারের সদস্যদের নাম। বিশেষ করে তার ছোট ভাই অংকুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, ভাইয়ের প্রশাসনিক পদমর্যাদাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করতেন। অনেক ক্ষেত্রে অংকুরই ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর মধ্যে ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে কাজ করতেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। একই স্থানে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান সরকারি বদলি নীতিকে তোয়াক্কা না করে তৈমুর আলম ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। বছরের পর বছর একই এলাকায় দায়িত্বে থাকায় তিনি একটি দুর্ভেদ্য প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন, যা তাকে অনিয়ম চালিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতে মামলা ও আইনি জটিলতা তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে কেবল প্রশাসনিক অভিযোগই নয়, বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। প্রাপ্ত নথিতে দেখা যায়, ঢাকার একটি আদালতে (সিআর মামলা নং–১১৮/২০২৫) সরকারি তহবিল তছরুপ, প্রকল্প বরাদ্দে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বক্তব্য ও প্রশাসনিক অবস্থান অভিযোগের বিষয়ে মো. তৈমুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং প্রশাসনিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, কোনো অভিযোগই এখন পর্যন্ত বিচারিক বা দাপ্তরিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের অভিমত বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপূর্তের মতো সংস্থায় এ ধরনের সিন্ডিকেট রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ঘটায়। তারা মনে করেন, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ফেরাতে এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
বরিশাল অফিস : বরিশাল গণপূর্ত সার্কেল অফিসে মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আব্দুল বারেকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেন। গনপুর্ত অফিস সুত্রে জানা গেছে,গনপুর্ত বরিশাল সার্কেল অফিসের নিরাপত্তা রক্ষী আব্দুল বারেক দীর্ঘদিন যাবৎ অফিসের বিভিন্ন মালামাল চুরি করে আসছে। সম্প্রতি চুরির মালামালসহ আই বি জোন এর কর্মচারী রিমনের সামনে পরে। রিমন চুরির বিষয়টি গনপুর্ত বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালিদ হোসাইনের কাছে প্রকাশ করেন। গনপুর্ত বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালিদ হোসাইন চুরির বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তিনজন প্রকৌশলীকে তদন্ত করার দ্বায়িত্ব প্রদান করেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন,সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেন,উপ -সহকারী প্রকৌশলী মামুন বাড়ি ও সহকারী প্রকৌশলী ফাহিম আহমেদ। এ ব্যাপারে সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেন বলেন চুরির বিষয়টি তদন্ত করার জন্য অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একটি পত্র দিয়েছে।শিঘ্রই তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করবো। এ ব্যাপারে রিমনকে মোবাইলে কল করা হলে তিনি বলেন,আমি একটু পরে কল দিতেছি। যার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ সেই আব্দুল বারেকের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেন নি। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় সরকারি একটি প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া গরু না পেয়ে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন তারাপদ বিশ্বাস নামে এক দরিদ্র জেলে। ভুক্তভোগীর দাবি, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে গরু দেওয়া হয়নি; বরং তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি অন্যের কাছে হস্তান্তরের পর বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের ডহরমৌভোগ গ্রামের বাসিন্দা তারাপদ বিশ্বাস উপজেলা মৎস্য দপ্তরের তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের অধীনে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে তাকে একটি গরু বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বিতরণ তালিকায় নাম থাকলেও বাস্তবে তিনি কোনো গরু পাননি বলে অভিযোগ করেন। ‘ঘুষ না দেওয়ায় বঞ্চিত’ তারাপদ বিশ্বাসের অভিযোগ, স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে গরু বিতরণের প্রক্রিয়ায় তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও জেলে কার্ড নেওয়া হয়। পরে ‘অফিস খরচ’ বাবদ ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে না পারায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তার অজান্তেই তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি অন্যের কাছে তুলে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন। শুক্রবার (১ মে) তিনি জানান, তালিকার ৩৯ নম্বরে তার নামে থাকা প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি বকনা বাছুর পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি।” একাধিক বঞ্চনার অভিযোগ তারাপদ বিশ্বাস দাবি করেন, একই দিনে বিতরণ করা প্রায় ৬০টি গরুর মধ্যে একাধিক তালিকাভুক্ত জেলে প্রকৃতপক্ষে গরু পাননি। তার ছেলে প্রহলদ বিশ্বাস অভিযোগ করেন, “একইভাবে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও গরু দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।” অন্যের গোয়ালে ‘বরাদ্দের গরু’ অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই ইউনিয়নের শ্রীনাথ বৈরাগীর পরিবারের গোয়ালে ওই গরুটি রয়েছে। পরিবারটির সদস্যরা জানান, গরু পাওয়ার জন্য তাদের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা দিয়ে তারা গরুটি গ্রহণ করেন।পরে তারা জানতে পারেন, গরুটি অন্য একজনের নামে বরাদ্দ ছিল। শ্রীনাথ বৈরাগীর ছেলে বলেন, গরু গ্রহণের সময় মাস্টার রোলে তারাপদ বিশ্বাসের নামে যে স্বাক্ষর রয়েছে, তা তিনি দেননি। এছাড়া গরু নেওয়ার সময় তারাপদের কোনো পরিচয়পত্রও দেখানো হয়নি। ‘ভয়ভীতি প্রদর্শনের’ অভিযোগ অভিযোগ দায়েরের পর ভুক্তভোগীর পরিবারকে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। প্রহলদ বিশ্বাস বলেন, “অভিযোগ করার পর আমাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে।” অভিযুক্তের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোহিত বালা তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “সরকারি গরু পাইয়ে দেওয়ার কোনো ক্ষমতা আমার নেই। মৎস্য দপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কেও আমি অবগত নই।” প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ বলেন, তারাপদ বিশ্বাস তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী ছিলেন। তিনি দাবি করেন, “তিনি উপস্থিত না থাকায় পরিচয়পত্র দেখিয়ে তার ছেলে দাবি করা এক ব্যক্তির কাছে গরুটি হস্তান্তর করা হয়েছে।” তবে যথাযথ যাচাই ছাড়া গরু প্রদান করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।তিনি জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাঠ সহায়ক কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করা হবে।“অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার সাভারে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনকে তার পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (৩ মে) আইন ও বিচার বিভাগের রেজিস্ট্রেশন শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশটিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন যুগ্ম সচিব (রেজিস্ট্রেশন) হাসান মাহমুদুল ইসলাম এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আযিজুর রহমান। অফিস আদেশে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ এবং ‘দুর্নীতিপরায়ণতা’র অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভাগীয় মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হবে। পাশাপাশি তাকে দ্রুত বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করে নতুন দায়িত্বস্থলে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার অফিসের এক কর্মচারীকে শারীরিকভাবে আঘাত করছেন—যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে স্থানীয় এক সাংবাদিককে সংবাদ প্রকাশের জেরে হেনস্তার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনাগুলো সামনে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং তহবিল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো স্পষ্ট নয়—কারা এই সংঘর্ষের মূল পরিকল্পনাকারী এবং কীভাবে পরিস্থিতি এতটা সহিংসতায় গড়ায়। তবে স্থানীয় সূত্র, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রভাবশালী চক্রের সম্পদ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার বিষয়টি সামনে এসেছে। সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্ব কলেজটির রয়েছে প্রায় ৮ বিঘা পুকুর, কয়েকটি পানের বরজ এবং প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর একটি বড় কাঠামো। এসব সম্পদ থেকে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আসে—ভর্তি ফি, বিভিন্ন চাঁদা ও লিজ বাবদ আয় মিলিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব অর্থের একটি অংশ তছরুপ হয়েছে। পুকুর ও বরজ লিজে দিয়ে বেশি টাকা নেওয়া হলেও রসিদে কম দেখানোর ঘটনাও সামনে এসেছে। নতুন অধ্যক্ষ ও বিরোধের সূচনা গত ১৭ ডিসেম্বর নতুন অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাক দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অডিটে তহবিল অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর তিনি স্বচ্ছতার উদ্যোগ নেন। ২৩ এপ্রিল কলেজের পুকুর ও পানের বরজ উন্মুক্তভাবে লিজ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলে একটি প্রভাবশালী চক্রের স্বার্থে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সংঘর্ষের দিন যা ঘটেছিল ঘটনার দিন কয়েক দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে: একদল স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হিরাকে ধাক্কা দেওয়া হয় ভিডিও ধারণের সময় তাকে জুতাপেটা ও মারধর করা হয় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে আবারও আক্রমণ করা হয় পরবর্তীতে আরও লোকজন লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলায় অংশ নেয়। অধ্যক্ষকেও মারধর করা হয় এবং তার মোবাইল ফোনে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষক ও কর্মচারী আহত হন। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও একই ধারা অব্যাহত থাকে। একাধিক সূত্র বলছে, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি চক্র কলেজের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করত। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তহবিল অনিয়মের অভিযোগ লিজগ্রহীতাদের অভিযোগ অনুযায়ী: বছরে ৭০ হাজার টাকা লিজ দিলেও রসিদ দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকার অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ কলেজ তহবিলে পুরোপুরি জমা হয়নি। প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘটনায় জড়িত এক স্থানীয় নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে অভিযুক্ত এক কর্মী এখনও গ্রেপ্তার হয়নি, যদিও তার বিরুদ্ধে আগেই পরোয়ানা ছিল শিক্ষিকা হিরাকে উল্টো সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এবং শুরু থেকেই চাঁদার চাপের মুখে ছিলেন। এখনো অনিশ্চয়তা ঘটনার পরও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষকরা প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও উঠে এসেছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ নিহত বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। রোববার (৩ মে) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার তেলিবাজার ব্রিজ সংলগ্ন সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রিয়াজুল কবির ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, নির্মাণকাজে অংশ নিতে শ্রমিকদের একটি দল পিকআপে করে সুনামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে তেলিবাজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই চার শ্রমিক নিহত হন। গুরুতর আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত খরম আলীর ছেলে মো. সুরুজ আলী (৬০), শেষস্তি গ্রামের আব্দুল বাসিরের মেয়ে মোছা. মুন্নি (৩৫), নুরনগর এলাকার মৃত নূর সালামের ছেলে মো. ফরিদুল (৩৫) এবং সিলেটের জালালাবাদ থানার লালারগাঁও এলাকার সুজাত আলীর ছেলে মো. বদরুল (৩০)। অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহতদের মধ্যে রয়েছেন: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের মো. আলমগীর (৩২), সিলেট নগরীর তোরাব উল্লাহ (৬০), রামিন (৪০), আফরোজ মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার রাভু আক্তার (২৫), কোম্পানীগঞ্জের হাফিজা বেগম (৩০) এবং দিরাই উপজেলার রাজা মিয়া (৪৫)। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আজ ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। প্রতিবছরের মতো বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে নানা আয়োজনে। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা’। দিবসটি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় রাজধানীতে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টায় অফিসার্স ক্লাব থেকে তথ্য ভবন কমপ্লেক্স পর্যন্ত একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় সার্কিট হাউজ রোডে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকেও দিবসটি উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের সূচনা হয় ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে। ১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনে এ বিষয়ে সুপারিশ করা হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ ৩ মে-কে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে প্রতিবছর দিনটি বিশ্বব্যাপী পালন করা হচ্ছে। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়গুলো তুলে ধরা। একইসঙ্গে স্বাধীন সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা রক্ষা, গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ এবং দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো সাংবাদিকদের স্মরণ করা হয়। বাংলাদেশেও এ দিবস উপলক্ষে স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার তালতলী উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় দুই একর জমি দখল করে মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ছোট নিশানবাড়িয়া মৌজার নলবুনিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাউবোর জমিতে খননযন্ত্র ব্যবহার করে ঘের নির্মাণ চলছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত সোহরাফ হাওলাদার, সিদ্দিক হাওলাদার, মস্তফা বিশ্বাস, লাল মিয়া, আ. হক মিয়া ও লাল মিয়া হাওলাদারের বিরুদ্ধে এ দখলের অভিযোগ উঠেছে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল অভিযুক্তদের মাটি কাটা বন্ধে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, সেই নোটিশের পরও কাজ বন্ধ হয়নি; বরং দখলদাররা আগের মতোই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হাওলাদার বলেন, সরকারি জমিতে খননযন্ত্র দিয়ে মাছের ঘের তৈরি করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে পাউবো কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। আরেক বাসিন্দা নজরুল হাওলাদার অভিযোগ করেন, নোটিশ দেওয়া হলেও তা কার্যত ‘লোক দেখানো’। তার ভাষায়, “নোটিশ দিয়ে থেমে যাওয়ার মাধ্যমে দখলদারদেরই সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।” তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। সিদ্দিক হাওলাদার দাবি করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন এবং লবণাক্ত পানির সমস্যার কারণে কিছু মাটি কাটা হয়েছে। তার মতে, এতে কোনো ক্ষতি নেই এবং পাউবো কর্মকর্তারাও বিষয়টি দেখে গেছেন। একইভাবে সোহরাফ হাওলাদার বলেন, সমুদ্রের লবণ পানি ঠেকাতে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, যা সবার উপকারে আসবে। মস্তফা বিশ্বাসও জানান, তারা নিজেদের জায়গা ব্যবহার করছেন এবং পাউবো কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের তালতলী-আমতলী সমন্বয়ক আরিফ রহমান বলেন, উপকূলীয় এলাকায় পাউবোর জমি ও বাঁধ প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেখানে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটা হলে বাঁধের স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং লোনা পানির অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়ে। তিনি আরও বলেন, সরকারি জমি রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের দখল কার্যক্রম জনস্বার্থের পরিপন্থী। এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা পুনরায় কাজ চালালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় একটি এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করার অভিযোগে মোছা. জান্নাতি খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর পাটগাড়ী পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। গ্রেফতারের সময় তার দেড় বছর বয়সী সন্তানও তার সঙ্গে ছিল এবং বর্তমানে মা ও সন্তান দুজনই পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় সীমিত।” পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রাজ্জাক এক সময় ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) নামের একটি এনজিওতে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার কাছিকাটা শাখায় ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির শর্ত অনুযায়ী তিনি ২৪ হাজার ৮০০ টাকা জামানত জমা রাখেন। একই সময়ে তার স্ত্রী জান্নাতি খাতুনের নামে ওই এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আব্দুর রাজ্জাক চাকরি ছেড়ে দেন। রাজ্জাকের দাবি, ঋণের প্রায় অর্ধেক—প্রায় ২৫ হাজার টাকা—কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি চাকরির সময় জমা রাখা জামানতের টাকা ঋণের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। তবে তার অভিযোগ, এনজিও কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন গ্রহণ না করে তার স্ত্রীর নামে আদালতে মামলা করে। তিনি আরও বলেন, “সাদা চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কত টাকার দাবি দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে তা আমরা জানি না।” পুলিশ জানিয়েছে, জান্নাতি খাতুনকে শুক্রবার সিরাজগঞ্জ আদালতে পাঠানো হবে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: একজন পরিচিত, বিনয়ী এবং সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য মানুষ—নজরুল ইসলাম বাচ্চু । তবে তার জীবনের শেষ কয়েক বছর এবং মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন, যার উত্তর আজও অজানা। স্থানীয়দের কাছে ‘ভালো মানুষ’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর, মৃত্যু সংবাদ হয়ে ফিরে আসেন তিনি—একেবারে নীরবে। বরিশালে একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন নজরুল ইসলাম বাচ্চু ।এতটাই ভালো ছিলেন তাই তাকে বাংলাবাজার মোড়স্থ মসজিদের কোষাধ্যক্ষ বানিয়েছিলেন মুসুল্লীরা। ২০১৯ এর পর তাকে বরিশালের অনেকেই দেখতে পায়নি।মৃত্যু হয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন বরিশালে।তবে দু' দিনের জন্য এসেছিলেন। ঘুরেছেন রিকসায়।এটাই ছিল তার শেষ দেখা বরিশালের। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম বসুন্ধরা ট্রেডার্স।এক সময়ে পুলিশ লাইন রোডে ছিল। পরে পলিটেকনিক রোডে। বাসা ব্যাপটিস্ট মিশন রোডে।সাড়ে চার তলা ভবন সৈয়দ ভিলা। নজরুল ইসলাম বাচ্চু চলে গেলেন নিরবে নিস্তব্ধে তবু রেখে গেছেন হাজারো প্রশ্ন। হয়তো এসব প্রশ্নের উত্তর কখনোই জানবেনা কেউ। বাচ্চুর পরিবার ও শশুর বাড়ির লোকজন আড়ালে রেখেছিল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।এমনকি মাত্র তিন থেকে চার মিনিট বাবুর মৃত্যু দেহ দেখার সুযোগ করে দিয়েছিল এলাকার লোকজনের দাবীর মুখে। বাচ্চুর মৃত্যু একটা রহস্যজনক! নজরুল ইসলাম বাচ্চুর মৃত্যুর পর তার বন্ধু আকরাম আলী শোক সংবাদ নামে একটি পোষ্ট করেন। সেখানে বাচ্চুকে নিয়ে স্মৃতিচারন করেন। পোস্টের কমেন্টে - সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নামে একজন কমেন্ট করেন। তিনি কমেন্টে উল্লেখ করেন "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।অনেক ব্ছর পর্যন্ত নিখোঁজ ছিল। রহস্যজনক। "। একই পোষ্টে নিপু সরদার নামে একজন " ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বাচ্চুর মৃত্যু একটা রহস্য। বন্ধু তো ছিলই তাছারা আমি ছিলাম ওর দোকানের রেগুলার কাস্টমার কিন্তু ৪/৫ বছর অনেক চেষ্টা করেও ওর সাথে দেখা করতে পারি নাই। " কমেন্ট করেন। তানজিল নামে একজন কমেন্টে উল্লেখ করেন" আপনি অনেক গুরত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং আচরণ তুলে ধরেছেন। তার ঐ ব্যাবসার মালিকানা এখন কার হয় দেখার বিষয়।" এভাবে অনেকেই কমেন্ট করেছেন। একটি মৃত্যু অনেক প্রশ্ন একটি মৃত্যু নিয়ে অনেক প্রশ্ন।সেই যে এয়ারএ্যাম্বুলেন্সে গেলেন মাঝে দু'দিন ছাড়া আর বরিশালে ফিরে নাই।নজরুল ইসলাম বাচ্চুর মা ও বাবা পক্ষের কেউ নেই।বন্ধু ও সহপাঠিদের থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল তাকে।কোথায় ছিলেন ঢাকায়। সেই ঠিকানাও কাউকে দেয়া হয়নি পরিবারের পক্ষ থেকে।এমন অভিযোগ বাচ্চুর বন্ধুদের। ব্যাপটিস্ট মিশন রোডের সৈয়দ ভিলা এখন নিরব।নিস্তব্ধ।নেই কোলাহল। মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে সহায় সম্পত্তির কারনে? বাচ্চুর মুত্যু রহস্যের জট না খুললেও তার বন্ধুদের ধারনা তাকে তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে সহায় সম্পত্তির কারনে।তাদের একটাই বড় প্রশ্ন বাচ্চুর সহায় সম্পদই কাল হয়েছে। আজ ৩০ এপ্রিল বাদ আসর বাচ্চুর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে বাংলাবাজার জামে মসজিদে। বাচ্চু ছিলেন একজন ভালো বাস্কেট খেলোয়ার। জিলা স্কুল থেকে বিএম কলেজ। সবখানেই তার সুনাম ছিল।তার সহপাঠীদের মধ্যে বর্তমান তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি,ভোলার নাজিম উদ্দিন আলম,কুয়াকাটার আলম, বোর্ড ক্লাবের নাসিরসহ অসংখ্য সহপাঠি ছিলেন। সকল সহপাঠিদের একটাই মন্তব্য বাচ্চু ভালো ছিলেন তাই বাচ্চু কে " ভালো " নামে ডাকা হত। আপাদমস্তক একজন ভদ্র ও নম্র স্বভাবের মানুষ।বরিশালের সু-পরিচিতদের একজন। শেষ দেখা, শেষ স্মৃতি স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর আগে মাত্র দু’দিনের জন্য তিনি বরিশালে এসেছিলেন। রিকশায় করে ঘোরাফেরা করেছেন—যা অনেকের কাছেই ছিল তার শেষ দেখা। তারপর আবার নিভৃতে চলে যাওয়া। অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার গল্প পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। এরপর থেকে কার্যত তিনি বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠী—সবাইয়ের কাছ থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তার ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বারবার। এমনকি তার অবস্থান সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর পরও গোপনীয়তা নজরুল ইসলাম বাচ্চুর মৃত্যুর পরও রহস্য কাটেনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার মরদেহ দেখার সুযোগও সীমিত রাখা হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য স্থানীয়দের দেখার সুযোগ দেওয়া হয়, তাও চাপের মুখে। বন্ধুদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে পরিবার এবং শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আড়ালে রাখা হয়েছিল। সম্ভাব্য কারণ নিয়ে জল্পনা বন্ধুদের একটি অংশের ধারণা, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ বা পারিবারিক জটিলতা তাকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তাকে “তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।” বন্ধুদের প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করতে গিয়ে তার বন্ধু আকরাম আলী লিখেছেন, “বাচ্চু কোথায় ছিল, কেন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো আর কোনোদিন জানা যাবে না।” অন্যান্য বন্ধু ও পরিচিতজনদের মন্তব্যেও উঠে এসেছে একই ধরনের সংশয় ও বিস্ময়। কেউ কেউ এটিকে “রহস্যজনক মৃত্যু” বলেও উল্লেখ করেছেন। শোক সংবাদ নামে আকরাম আলীর পোষ্ট ২৭ এপ্রিল প্রবাসী আকরাম আলী (Akram Ali) নজরুল ইসলাম বাবুর শোক সংবাদ নামে যে পোষ্ট ফেসবুকে করেছিল তা হুবহু প্রকাশ করা হল- এইমাত্র আমাদের বন্ধু বরিশাল ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের নজরুল ইসলাম বাচ্চু`র মৃত্যু সংবাদ পেলাম। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। মহান আল্লাহ্ বাচ্চুকে ক্ষমা করে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করে নিন। আমিন। বাচ্চু ছিল তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। আমরা বন্ধুরা ছিলাম তাই ওর ভাই-বোনের মতো। শুনেছি, বাচ্চুর মা ছোঁয়াচে রোগ সহ অনেকটা এবনরমাল ছিলেন। আমরা বন্ধুরা কেউ কখনো ওর মাকে দেখিনি। বাচ্চুর মায়ের এই অসুস্থ্যতার কারনে বাচ্চুকে তার মায়ের কাছে যেতে দেননি তার বাবা সৈয়দ সাহেব। মানে বাচ্চু তার মায়ের সঙ্গও পায়নি। বাচ্চুর বাবা সৈয়দ সাহেব পানি উন্নয়নে ক্লারিকাল জব করতেন। তো বাচ্চুর কাছে আমরাই ছিলাম ভাইয়ের মতো। আমরাও সেভাবেই দেখতাম। জীবন জীবিকার প্রয়োজনে দেশের বাহিরে চলে আসার পরে শুনেছিলাম বাচ্চু এবং কয়েকজন বন্ধু মিলে ঠিকাদারি শুরু করেছিল। এই ঠিকাদারি করতে করতে বাচ্চু পানি উন্নয়নের এসডিই ফজলুর রহমান সাহেবের মেয়েকে বিয়ে করে বরিশাল পুলিশ হাসপাতালের সামনে তৎকালীন পৌরসভার স্টল নিয়ে বসুন্ধরা ট্রেডারস নাম দিয়ে রড, সিমেন্টের দোকান দিয়ে বসে। তো সে দোকান বাচ্চুর হলেও বাচ্চুর শালা বাপ্পীই বসতো। এভাবেই চলছিল। দেশে গেলে খুব কমই তাকে দোকানে পেয়েছি। যখনই ওর দোকানের সামনে দিয়ে গিয়েছি, উঁচু গলায় ডাক দিতো~ মামা, চা খেয়ে যাও। তবে বেশীর ভাগ সময়ই তার শালা দোকানে থাকতো। বাচ্চুকে দোকানে পেতাম না। বাচ্চুর কথা তার শালাকে জিজ্ঞেস করলে ঠান্ডা নিঃস্পৃহ ভাব দেখাতো। বলতো~ ভাই একটু ব্যাস্ত আছেন। জানামতে, আমাদের কোন বন্ধু কোন সময় বাচ্চুর বাসায়ও যায়নি এবং বাচ্চুও কখনো কাউকে বলেনি বা আগ্রহ দেখায়নি। বাচ্চু সবকিছু কেমন যেন আড়ালে রাখার চেস্টা করতো। ২০১৯ সালে বাচ্চু হৃদরোগে আক্রান্ত হলে এয়ার এম্বুলেন্সে বরিশাল থেকে ঢাকা নেয়া হয়। এই যাওয়াই যেন তার পুরাপুরি আড়াল হয়ে যাওয়া। এরপরে আমরা বন্ধুরা কেউ তার চেহারা দেখিনি, এমনকি যোগাযোগ করতেও পারিনি। মোবাইলে কল দিলে ধরতো না। কল ব্যাকও করতো না। বরিশালে তার দোকানে তার শালা বাপ্পীকে আমাদের বন্ধুরা কেউ জিজ্ঞেস করলে ঢাকা আছেন, ভালো আছেন` এই উত্তর পাওয়া যেতো। এর মধ্যে একবার ঢাকাতে এক বন্ধুর সাথে বাচ্চুর ছেলে মাহাবুবুল ইসলাম শাইকের দেখা হলে সেও তার বাবার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যায়। সেই বাচ্চু আজ মহান আল্লাহ্র ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছে। যেখানে সে রেখে গেছে অনেক প্রশ্ন? কি হয়েছিল তার? কেন সে পুরানো বন্ধুদের কারো সাথে যোগাযোগ রাখেনি বা রাখতে পারেনি কিংবা রাখতে চাইতো না? চাইলে এ যুগে কারো সাথে যোগাযোগ করা কি খুব কঠিন কাজ? তাহলে কেন কিসের জন্যে, কার ভয়ে সে কারো সাথে যোগাযোগ করেনি। জানা মতে তার তেমন কোন দেনা ও ছিলনা। বাচ্চুকে মহান আল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করে জান্নাত নসীব করুন। আমিন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :নেত্রকোনার মদনের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ চত্বরের মাটি ভরাটের টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মাটি ভরাটের কাজ করা নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তবে পিআইও’র দাবি প্রকল্পের টাকার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেনা। তবে ভুক্তভোগী বিভিন্ন মহলের সহযোগিতা নিয়েও কাজের মুজুরীর টাকা পাচ্ছেন না ঘুরছে দ্বারে দ্বারে । অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে মদন উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাটি ভরাটের জন্য উপজেলা প্রশাসন কয়েকটি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। তখনকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ আলম মিয়া উপজেলা পরিষদের মাটি ভরাটের প্রকল্পের কাজ দেন মাটি ব্যবসায়ী উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম কে। মাটি দিয়ে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন জায়গার গর্ত ভরাট করে দেন নজরুল ইসলামকে দিয়ে । মাটি ভরাট করতে খরচ হয় ৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে সাবেক ইউএনও শাহ্ আলম মিয়া তাকে কয়েক ধাপে ২লাখ ৩০হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাকি থাকে ১লাখ ৩৯ হাজার টাকা আজ না কাল দিবে দিবে বলে ঘোরাচ্ছেন তাকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। তখনকার সাবেক ইউএনও শাহ্ আলম মিয়া বদলির আদেশ হলে পিআইও হুমায়ুন কবির কে তার অফিসে ডেকে নিয়ে মাটি ভরাটের বাকি ১লাখ ৩৯হাজার টাকা নজরুল ইসলাম কে সময় মতো পরিশোধ করতে নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু কিছু দিন যাবৎ পিআইও তাকে কোনো পাত্তা দিচ্ছে না। টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করলে মাটি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বাধ্য হয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মদন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে। মাটি কাটার টাকা পরিশোধ না করে আজ না কাল তাল বাহানা করছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তব কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর বলেন, টাকার বিষয়টা আমার পূর্বের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাল জানেন। টাকার বিষয়ে আমি কিছুই জানি। মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, মদন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।