“ডিসি পদে ৮ কোটি”: প্রশাসনে নতুন বিস্ফোরণ, চসিকে তোলপাড় শীর্ষনিউজ: মেয়রের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করা, অধীনস্থ কর্মকর্তাদের যখন-তখন বদলি ও পদায়ন এবং ঊর্ধ্বতনের পদায়ন করা কর্মকর্তাকে এখতিয়ারের বাইরে বদলির মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, উপসচিব এস এম সরওয়ার কামাল আগেই আলোচনায় এসেছেন। এবার ফাঁস হয়েছে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে পদায়নের বিনিময়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া তাঁর ৮ কোটি টাকা পরিশোধের অঙ্গীকারনামা। ১০০ টাকা মূল্যের ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে করা এই অঙ্গীকারনামা প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় চলছে প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে। শোকজে যা বলা হয়েছে এদিকে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এস এম সরওয়ার কামালকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে। ১৩ মে উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই নোটিশে কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ৩ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। শোকজ নোটিশে সরওয়ারের বিরুদ্ধে ৮ কোটি টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার ডিসি পদে পদায়নে বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে এ-সংক্রান্ত প্রমাণাদি পাওয়ার কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, আপনি জনাব এস এম সরওয়ার কামাল (উপসচিব, আইডি নম্বর: ১৬২১৯) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে বর্তমানে কর্মরত আছেন। আপনার বিরুদ্ধে ৮,০০,০০,০০০/- (আট কোটি) টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেছেন মর্মে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। ০২। এমতাবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে ৮.০০.০০.০০০/-(আট কোটি) টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের কারণে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ এর নিকট লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোদ করা হলো।” আগে থেকেই বিতর্কিত ছিলেন সরওয়ার কামাল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, উপসচিব এস এম সরওয়ার কামালের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত ২ এপ্রিল সিটি করপোরেশনের সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল আমিন লাইসেন্স শাখায় (সার্কেল-৬) উপ-কর কর্মকর্তা হিসেবে মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ও মো. তৈয়বুর রহমান চৌধুরীকে একই শাখায় (সার্কেল-৮) এই পদায়ন করেন। কিন্তু নিম্নতম কর্মকর্তা হয়েও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল ৭ এপ্রিল ঊর্ধ্বতনের সেই আদেশ বাতিল করে দেন। একইভাবে সচিব মো. আশরাফুল আমিন ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে অনুমতিপত্র পরিদর্শক হিসেবে আবদুল মতিন ও মো. ইকবালকে পদায়ন করেন। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবার দুই কর্মকর্তাকে গত ৯ এপ্রিল সেখান থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে দেন। এই ধরনের পদক্ষেপে রাজস্ব শাখায় অস্থিরতা শুরু হলে রাজস্ব বিভাগে তিনটি বদলি আদেশ এক চিঠিতেই বাতিল করেন মেয়র। ১২ এপ্রিল চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব বদলি আদেশ বাতিল করা হয়। মেয়রের নির্দেশও উপেক্ষার অভিযোগ চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানায়, কর্মকর্তা ঘাটতিতে থাকা রাজস্ব বিভাগে গতি আনতে সম্প্রতি ১৪ জন কর আদায়কারীকে উপ-কর কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন মেয়র। এর আলোকে ১৪ জনকে বাছাই করে কাকে কোন কর অঞ্চলে বদলি করা হবে, তার একটি তালিকা ঠিক করে দেন মেয়র নিজে। কোন উপ-কর কর্মকর্তাকে কোন ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা ঠিক করে দেওয়ার জন্য প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে বলে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল মেয়রের সেই নির্দেশনা না মেনে নিজের ইচ্ছেমতো আবার একেকজনকে একেক কর অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন। এ ক্ষেত্রে মেয়রের নির্দেশনাও অমান্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অবস্থায় বিষয়টি যাচাই করে মেয়র এক চিঠিতেই সব বদলি আদেশ বাতিল করেন। প্রশাসনে নতুন প্রশ্ন সরকারি প্রশাসনে পদায়নকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সরাসরি লিখিত অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে কোটি টাকার প্রতিশ্রুতির অভিযোগ সামনে আসা বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন প্রশাসন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ও পদায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করবে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের শোকজ নোটিশ প্রশাসনের ভেতরে চলমান ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, প্রভাব বিস্তার এবং পদ বাণিজ্যের অভিযোগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে নিজ অবস্থান বদল, বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা প্রদান, সবুজ পাসপোর্ট ইস্যু এবং ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়ম—সব মিলিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে তাকে নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিবর্তন করেছেন এই কর্মকর্তা। কখনও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ, কখনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থক, আবার বর্তমানে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার দিনের মাথায় তিনি টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে পাসপোর্ট অধিদপ্তর পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রশাসনের ভেতরে তখন তাকে আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তা হিসেবেই দেখা হতো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন অবস্থান তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্রুত অবস্থান বদলের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে নতুন ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশের কৌশল হিসেবে তিনি এ যোগাযোগ জোরদার করেন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর আবারও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিজেকে বিএনপিপন্থী জেনারেল হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন তিনি। জামায়াত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও সূত্রগুলো জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত সমর্থিত ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আবদুল বাতেনকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন ডিজি নূরুল আনোয়ার। ওই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও পরে রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আবার বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বহাল রাখার অভিযোগ ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রশাসনিক রদবদলের পরও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তা বহাল রয়েছেন। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ডিজি নূরুল আনোয়ারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও প্রভাবের কারণেই এসব কর্মকর্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল আছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরে পরিবর্তন এলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে সেই পরিবর্তনের প্রভাব দৃশ্যমান হয়নি। সবুজ পাসপোর্ট বিতর্ক জুলাই বিপ্লবের পর বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায় ডিজি নূরুল আনোয়ারের নাম উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর বাসায় গিয়ে পাসপোর্টের জন্য আঙুলের ছাপ ও ছবি সংগ্রহ করেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ডিজির নির্দেশে। একইভাবে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বিশেষ সুবিধায় সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম এবং ঢাকার সাবেক এক পুলিশ কমিশনারকেও বিশেষ সুবিধায় সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিতর্কিত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী বহু ব্যক্তিকে কূটনৈতিক সুবিধাসংবলিত পাসপোর্ট প্রদান করে বিদেশ যেতে সহায়তা করা হয়েছে। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে ই-পাসপোর্ট প্রকল্পকে ঘিরে। সূত্র বলছে, শুরুতে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প হিসেবে নেওয়া ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের ব্যয় পরে বাড়িয়ে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি, সরঞ্জাম ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয় এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে অস্বচ্ছতার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অনিয়মের সঙ্গে বর্তমান ডিজির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং পুরো প্রকল্পে একটি প্রভাবশালী চক্র কাজ করেছে। যোগাযোগের চেষ্টা এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল কেটে দেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিস্ট্রেশন (ডিআইজিআর) আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় তার নামে এবং বেনামে ফ্ল্যাট, বহুতল ভবন, জমি, বিলাসবহুল গাড়ি ও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের তথ্য সামনে আসার পর প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আরও কয়েকটি সংস্থা প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। ‘রেজিস্ট্রি সিন্ডিকেট’ ঘিরে অভিযোগ একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রেজিস্ট্রি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে আশরাফুজ্জামান বিপুল আর্থিক প্রভাব গড়ে তোলেন। বিশেষ করে জমি রেজিস্ট্রেশন, দলিল যাচাই, মূল্য নির্ধারণ, নামজারি এবং প্রশাসনিক অনুমোদনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা বলছেন, বিভিন্ন এলাকায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নিয়ন্ত্রণ, কর্মকর্তা বদলি ও পদায়নে প্রভাব খাটিয়ে একটি শক্তিশালী আর্থিক বলয় তৈরি করা হয়েছিল। সেই বলয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও অনিয়মের সংস্কৃতি চালু ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রামে সম্পদের খোঁজ অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাজধানীর অভিজাত কয়েকটি এলাকায় আশরাফুজ্জামানের পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নামে একাধিক ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাতেও তার বিপুল সম্পদের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিকভাবে যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তাতে এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন অনুসন্ধানকারীরা। একাধিক সূত্র বলছে, সরকারি চাকরির বৈধ আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। একজন সরকারি কর্মকর্তার স্বাভাবিক আয়ের তুলনায় তার সম্পদের পরিমাণ “অস্বাভাবিক” বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুসন্ধানকারীরা তার ব্যবহৃত বিলাসবহুল গাড়ি, উচ্চমূল্যের আসবাবপত্র এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের তথ্যও যাচাই করছেন বলে জানা গেছে। ‘বেনামে সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগ আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বেনামে সম্পদ অর্জন। সূত্রগুলোর দাবি, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সহযোগীদের নামে সম্পদ কিনে প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সম্পদের নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। দুদক-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তার আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক হিসাব, স্থাবর সম্পদের রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বদলি বাণিজ্য ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হতে পারে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ রেজিস্ট্রি খাতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। রেজিস্ট্রি অফিস সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জমির দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি ফি’র বাইরে অবৈধ লেনদেন, দলিলের মূল্য কম বা বেশি দেখিয়ে কর ফাঁকি এবং প্রভাবশালীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মতো অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষ জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে প্রায়ই অতিরিক্ত অর্থ দাবির মুখে পড়েন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে টাকা না দিলে কাজ বিলম্বিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, সরকারি চাকরিতে থেকে কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের সম্পদ ও জীবনযাত্রা নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। অন্যথায় দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। বক্তব্য মেলেনি এ বিষয়ে আশরাফুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যদিও অভিযোগকারীরা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে। কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ? দুদক সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা মিললে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হতে পারে। সেক্ষেত্রে সম্পদের উৎস, অর্থ লেনদেন, কর ফাঁকি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি দপ্তরে দুর্নীতিবিরোধী আলোচনার মধ্যেই এই অভিযোগ নতুন করে ভূমি ও রেজিস্ট্রি খাতের অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এসেছে। এখন সাধারণ মানুষের নজর তদন্ত প্রক্রিয়ার দিকে—অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান শেষে আদৌ দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার কর অঞ্চলে কর্মরত মো: জুলহাস উদ্দিন আহমেদকে ঘিরে ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের অভিযোগ উঠেছে বলে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলহাস উদ্দিন আহমেদ ১৯৯৩ সালে কর বিভাগে নৈশ প্রহরী হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি অফিস সহায়ক (পিয়ন) এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে “অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক” পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি কর অঞ্চল–৩, সার্কেল–৫৯, পুরানা পল্টন, ঢাকায় কর্মরত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুয়া ঠিকানা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ অনুসন্ধান প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করেছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মানিকগঞ্জ জেলাকে স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে চাকরি গ্রহণ ও পরবর্তীতে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টে অনিয়মের মাধ্যমে তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে বিভ্রান্তির দাবি প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, তার স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে বিভিন্ন নথিতে অসামঞ্জস্য রয়েছে। একদিকে মানিকগঞ্জ এবং অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঠিকানার উল্লেখ পাওয়া যায় বলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কর ও টিআইএন সংক্রান্ত অভিযোগ আয়কর রিটার্ন ও টিআইএন নিবন্ধন ব্যবস্থায় কর অঞ্চল নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিয়ম উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ আনা হয়। একই ব্যক্তির একাধিক টিআইএন ও ঠিকানা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তার আয়ের তুলনায় জীবনযাপন ব্যয়বহুল। ঢাকায় ফ্ল্যাট ক্রয়, গ্রামের বাড়িতে সম্পদ, এবং পরিবারের সদস্যদের বিদেশে পড়াশোনা ও অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব সম্পদ বৈধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত কিনা—সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। সামাজিক কার্যক্রম প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি নিজ এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অনুদান প্রদান এবং উপস্থিত থাকার মাধ্যমে সামাজিক পরিচিতি বজায় রাখেন। প্রতিক্রিয়া প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছু অভিযোগ স্বীকার করে “ভুল হয়েছে” বলে মন্তব্য করেন এবং কিছু বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ⚖️ উপসংহার সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ ধরনের অভিযোগ যদি সত্য হয় তবে তা প্রশাসনিকভাবে গুরুত্ব সহকারে তদন্তের দাবি রাখে। তবে একই সঙ্গে এসব অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই এবং আনুষ্ঠানিক তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর একজন ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগকারী নিজেই এলজিইডির একজন নির্বাহী প্রকৌশলী। অভিযোগে বলা হয়েছে, সিলেটে কর্মরত এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. আজহারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগটি দাখিল করেছেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী আব্দুস সামাদ। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯২ সালে এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেওয়া মো. আজহারুল ইসলাম কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রকল্পের দরপত্র অনুমোদন, বিল ছাড় এবং কাজের মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। অভিযোগে নাটোরে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রকল্পের প্রাক্কলন একাধিকবার সংশোধনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ রয়েছে—যার মধ্যে ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট এবং চট্টগ্রামে ভবন নির্মাণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সুপারিশে তিনি বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে শেখ সেলিম-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহলের সান্নিধ্যে থাকার কথাও বলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আজহারুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ এনেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং পদায়নের জন্য কোনো ধরনের তদবির করেননি। তার ভাষায়, “কর্তৃপক্ষ যেখানে দায়িত্ব দিয়েছে, সেখানেই আমি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি।” এ বিষয়ে এখনো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা এবং সম্পদের বৈধ উৎস যাচাই করা দুদকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা না হলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনআস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের গণপূর্ত অধিদপ্তরকে ঘিরে আবারও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং তারা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শহীদুল আলম। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার, নিয়োগ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনার ধারাবিবরণী একটি জটিল চিত্র তুলে ধরছে। বিতর্কিত বদলি ও জনরোষ ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. শহীদুল আলমকে প্রেষণ থেকে ফিরিয়ে এনে স্বাস্থ্য উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগকে ঘিরে সমালোচনা তৈরি হয়, কারণ এর আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে জনসমক্ষে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ১৮ নভেম্বর রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একদল শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেন। তাদের অভিযোগ, জুলাই মাসের সহিংস ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে—যদিও এই অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সমালোচকদের দাবি, তাকে সাময়িকভাবে একটি প্রকল্পে সরিয়ে রাখা হলেও পরে আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ২০২৩ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডের ১৬৯টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের কিছু নথি নিখোঁজ হয় এবং পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেন হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা চলছে। ই-জিপি টেন্ডার ও ওটিএম অনিয়ম ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালের বিভিন্ন দরপত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে ‘ওটিএম’ (ওপেন টেন্ডার মেথড) ব্যবহার করা হয়েছে। শহীদুল আলমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শেরে বাংলা নগর-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান (বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতা) এবং শহীদুল আলম মিলে রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে ওটিএম-এর (OTM) মহোৎসব চালিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী ওটিএম ২০% হওয়ার কথা থাকলেও তারা শতভাগ ওটিএম করেছেন। নিচে উল্লেখিত ইজিপি দরপত্র আইডিগুলো এই দুর্নীতির সাক্ষ্য দেয়: ৯২২৪৪৩, ৯২২৪৩৪, ৯৯৯৪৩৯, ৯২২৪৪০, ৯২২৪১৮, ৯২২৪৩০, ৯২৫১০৬, ৯২২৪৪১, ৯২২৪৩১, ৯২২৪৩৭, ৯২২৪৩৮, ৯২২৪৩৬, ৯২২৪৪৭, ৯২৫১০৯, ৯২২৪৩২, ৯২২৪২৯, ৯২২৪২৩, ৯২২৪২৪, ৯২২৪২৫, ৯২২৪২৬, ৯২২৪২৭, ৯২২৪২৮, ৯২২৪১৯, ৯২২৪২০, ৯২২৪২১, ৯২২৪২২, ৯২২৪১৭, ৯২২৪১৪, ৯২২৪১৫, ৯২২৪১৬, ৯২২৪১০, ৯২২৪১২, ৯২২৪১৩, ৯২২৪০৭, ৯২২৪০৮, ৯২২৩৯৯, ৯১৭৯৪৫, ৯১৭৯৩০, ৯১৭৯৮১, ৯১৭৯৪৭, ৯১৭৩২৪, ৯১৭৯৩১, ৯১৭৯৩৫, ৯১৭৯৩৯, ৯২০০৪৫, ৯১৭৯৪৪, ৯১৭৯৪৯, ৯১৭৯৫০, ৯১৭৯৪৬, ৯১৭৯৪১, ৯১৭৯৬৫, ৯১৭৯৬৬, ৯১৭৯৬৭, ৯৪৮১৭৩, ৯৪৮১৭৫, ৯৪৪৪beg, ৯৪১৩৬৮, ৯৪১৩৪৭, ৯৪১৩৪৬, ৯৪১২০৫, ৯৪১১৮৪, ৯৪৩৯০৩, ৯৪৪৪৬০, ৯৪৪৪৬২, ৯৪৪৪৬১, ৯৪৪৪৫৮, ৯৪১৩৭৯, ৯৪১৩৭৩, ৯৪১৩৬৪, ৯৪১৩৪২, ৯৪১২০১, ৯৪১১৯৯, ৯৪১৩৭৫, ৯৪১১৯৬, ৯৪১৩৮৯, ৯৪১৩৮২, ৯৪১১৯৩, ৯৪১৩৯১, ৯৪৩৯২২, ৯৪১১৮০, ৯৪১১৭৬, ৯৪৩৯১২, ৯৪১১৭০, ৯৪১৩৯২, ৯৪১৩৯৩, ৯৪৩৯১০, ৯৪৩৯১১, ৯৪৩৮৮৯, ৯৪১৩৯৪, ৯৪১৩৯৫, ৯৪১৩৯৬, ৯৪১৩৯৭, ৯৪১৩৯৮, ৯৪১১৮১, ৯৪০২৯১, ৯৪১৫৪১, ৯৪২৮১৭, ৯৪৪৪৪২, ৯৪৪৪৫৩, ৯৪৪৪৫৬, ৯৪৪৪৫৫, ৯৪৪৪৫৯, ৯৪৪৪৬৭, ৯৪১০২৩ এবং ৯৪০৯৬৬। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও, কিছু ক্ষেত্রে তা অতিক্রম করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একাধিক টেন্ডার আইডি ঘিরে এই অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যা একটি বৃহৎ প্যাটার্নের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিদেশ সফর ও সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন মো. শহীদুল আলমের একাধিক বিদেশ সফর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের সঙ্গে এসব সফরের সম্পর্ক থাকতে পারে। শহীদুল আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক বছরে সাত বার বিদেশ সফর করেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে দুবাই আন্তর্জাতিক এক্সপোতে গিয়ে তিনি সেখানে ব্যক্তিগত ভিলা কিনেছেন এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ ও আজিজ পরিবারের সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করানোর নামে ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন, যার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে তার সম্পদ থাকার দাবি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক বিদেশ সফরে চিকিৎসা ব্যয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রভাব ও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের অভিযোগ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। সমালোচকদের মতে, কিছু কর্মকর্তা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে নতুন ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছেন। মো. শহীদুল আলমের ক্ষেত্রেও এমন অভিযোজনের অভিযোগ রয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ভোল পাল্টে ‘জিন্নাহ টুপি’ ও প্রতি-বিপ্লবের ষড়যন্ত্র ৫ আগস্টের পর শহীদুল আলম তার খোলস পাল্টে ফেলেছেন। মুজিব কোট ছেড়ে এখন জিন্নাহ টুপি পরে বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন। তার আসল উদ্দেশ্য হলো প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার দখল করা এবং তার অনুগত ছাত্রলীগ ক্যাডার কর্মকর্তাদের (সানাউল্লাহ, মইনুল, মাসুদ রানা, আজমুল হক মুন) গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এখনও তার বিশাল অর্থভাণ্ডার ব্যবহার করে অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। অমীমাংসিত প্রশ্ন গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থাকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। কোথাও তদন্ত চলছে, কোথাও অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, আবার কোথাও নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই ঘটনাগুলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্পষ্ট অবস্থান ছাড়া এই বিতর্কের অবসান সম্ভব নয়। সম্পাদকীয় নোট এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব অভিযোগ ও তথ্য বিভিন্ন সূত্রের দাবি ও অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখায় দায়িত্বরত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারোয়ার জাহানকে ঘিরে বদলি বাণিজ্যসহ গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে, যা প্রশাসনের ভেতরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দুদকে দায়ের করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি প্রক্রিয়ায় নিয়ম লঙ্ঘন, আর্থিক লেনদেন এবং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ সামনে আসার পর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক কয়েকটি বদলি আদেশ স্থগিত করেছে। একদিনে অর্ধশতাধিক বদলি: প্রশ্নের কেন্দ্রে সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষভাগে সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক বদলি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন সারোয়ার জাহান। বিশেষ করে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একদিনে অর্ধশতাধিক প্রকৌশলীর বদলি আদেশ জারি হওয়া নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে বিস্ময় ও প্রশ্ন তৈরি হয়। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এসব বদলির ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা মানা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, একই কর্মস্থলে দুই বছরের কম সময় দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদেরও বদলি করা হয়েছে—যা প্রচলিত বিধির পরিপন্থী। আর্থিক লেনদেন ও হয়রানির অভিযোগ লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, লোভনীয় পদায়নের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে এবং কিছু কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় বদলি আদেশগুলো স্থগিত করে এবং ভবিষ্যতে নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেয়। অতীতের অভিযোগও সামনে শুধু সাম্প্রতিক ঘটনাই নয়, সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে অতীতেও অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জামানত অর্থ সংক্রান্ত একটি কেলেঙ্কারির তদন্তে তাঁর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—যা প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এছাড়া দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, নতুন করে আলোচনায় গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলি, নিয়োগ এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে দুদক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে—অভিযোগগুলো কতটা সত্য এবং এর পেছনে আরও বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা জড়িয়ে আছে কি না।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল–মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল–৪–এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলমকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একাধিক সূত্র, অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি, কমিশন বাণিজ্য এবং একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মতো অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। দরপত্র ও প্রকল্প বণ্টনে প্রভাবের অভিযোগ সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘ সময় একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সুযোগে তিনি একটি প্রভাব বলয় গড়ে তোলেন, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে বড় প্রকল্পের কাজ পেত। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের শর্ত প্রভাবিত করা এবং নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ছিল। একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বারবার বড় অঙ্কের প্রকল্প পাওয়ায় দপ্তরের ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কাজ অনুমোদন এবং বিল দ্রুত অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনিয়মের বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। পারিবারিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগের আরেকটি অংশে তার পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। বিশেষ করে তার ছোট ভাই অংকুরের নাম উল্লেখ করে কিছু সূত্র দাবি করছে, প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে ঠিকাদারি কার্যক্রমে সুবিধা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থানও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক অবস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব সূত্রগুলো আরও বলছে, তিনি ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে ছিলেন। বদলি নীতির প্রচলন থাকা সত্ত্বেও একই এলাকায় ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এর ফলে প্রকল্প বণ্টন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়তে পারে—এমন আলোচনা দপ্তরের ভেতরে রয়েছে বলে জানা যায়। মামলা ও আইনি প্রক্রিয়ার দাবি একটি অংশের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার একটি আদালতে দায়ের হওয়া একটি মামলায় (সিআর মামলা নং–১১৮/২০২৫) গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই নথিতে সরকারি তহবিল ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প বরাদ্দে অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে আদালতের নথি, অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা এবং তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনো পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি। সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ অভিযোগপত্র ও সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ই/এম সার্কেল–৪–এর অধীনে একটি সমন্বিত প্রভাব বলয় গড়ে উঠেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে— দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বিল অনুমোদনে অনিয়ম এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে অবস্থান মো. তৈমুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে তার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত নয় এবং প্রশাসনিক জটিলতা বা প্রক্রিয়াগত বিষয়কে অনেক সময় ভুলভাবে অনিয়ম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রশ্ন সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়গুলো তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো সংস্থায় প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় নজরদারি জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না, তবে প্রশাসনিক জবাবদিহি ও তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। সামগ্রিক চিত্র সব মিলিয়ে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম সার্কেল–৪–কে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ এখনো মূলত বিভিন্ন পক্ষের দাবি, নথি ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগগুলোর কতটুকু সত্য এবং কতটুকু প্রমাণযোগ্য—তা নির্ধারণ করবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া। এদিকে সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক মহলে।
ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় প্রশাসনিক স্থবিরতার অবসান হয়েছে। অবশেষে দ্বায়িত্ব হস্তান্তর করলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও এবং নলছিটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সেগুফতা মেহনাজ। নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থবির হয়ে পড়া সরকারি সেবাগুলো আবার সচল হতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিয়মিত ইউএনও না থাকায় জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, পৌরসভার নাগরিক সনদ প্রদান এবং ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সেবা ব্যাহত হচ্ছিল। এতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তর জটিলতার কারণে এই অচলাবস্থা তৈরি হলেও, নতুন করে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরতে শুরু করেছে। ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে রিজভী আহমেদ সবুজ দায়িত্ব নেওয়ায় এসব সেবা এখন আবার উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে ইউএনও দপ্তর গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারী ভূমিকা পালন করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার নানা কার্যক্রম এই দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এই পদটি দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছিল। আরও পড়ুন: নলছিটিতে ইউএনও’র দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে অচলাবস্থা: প্রশাসনিক আদেশ অমান্যের অভিযোগ নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ঝুলে থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনিক এই শূন্যতা পূরণ হওয়ায় নলছিটির সেবাব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বরিশাল এর ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ০৫.১০.০০০০.০০০.০০১.০৫.০০০২.২৬.১১৪ নং স্মারক ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয় ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের জারি করা০৫.১০,৪২০০,০০০.০০৬.০৫.০০০৪.২৫.১২৮ নম্বর স্মারকে এক অফিস আদেশে নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ইউএনও’র দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও এবং নলছিটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সেগুফতা মেহনাজকে নির্দেশ দেওয়া হয় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্ব হস্তান্তর ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক অচলাবস্থা। বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আদেশ বাস্তবায়ন হয়নি। সাত দিন পেরিয়ে গেলেও দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি। এদিকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের অফিস আদেশও উপেক্ষিত। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বরিশাল এর ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ০৫.১০.০০০০.০০০.০০১.০৫.০০০২.২৬.১১৪ নং স্মারক ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয় ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের জারি করা ০৫.১০,৪২০০,০০০.০০৬.০৫.০০০৪.২৫.১২৮ নম্বর স্মারকে এক অফিস আদেশে নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ইউএনও’র দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও এবং নলছিটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সেগুফতা মেহনাজকে নির্দেশ দেওয়া হয় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে। এই আদেশটি জারি করা হয় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ১৯ এপ্রিলের নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে। সমস্যা কোথায়? নির্দেশনা পরিষ্কার থাকার পরও ৭ দিন পার হয়ে গেছে, কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তর হয়নি। ফলে: প্রশাসনিক কাজকর্মে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের আদেশ কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে। এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) একটি উপজেলার প্রশাসনের প্রধান। দায়িত্ব হস্তান্তর না হলে: উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হতে পারে, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়, আইন-শৃঙ্খলা ও দৈনন্দিন প্রশাসনেও প্রভাব পড়ে। কী হতে পারে? অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব, ঊর্ধ্বতন নির্দেশনা বাস্তবায়নে অনীহা । আদেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্দেশনা পাওয়ার পরও সেগুফতা মেহনাজ দায়িত্ব হস্তান্তরে অনীহা দেখাচ্ছেন। ফলে ২৫ এপ্রিল পর্যন্তও আদেশ কার্যকর হয়নি। এ অবস্থায় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। একাধিক সূত্র বলছে, দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় প্রশাসনের ভেতরে “চেইন অব কমান্ড” নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—আদেশ জারির পরও তা বাস্তবায়ন না হওয়া প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য কতটা স্বাভাবিক? মাঠপর্যায়ে প্রভাব নলছিটির বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ইউএনও না থাকায় তারা নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন না। পৌর এলাকার বাসিন্দা আসলাম বলেন, জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তিনি ইউএনওকে খুঁজে পাননি। “অফিসে গিয়ে শুনি ইউএনও জেলায় আছেন, কবে আসবেন কেউ বলতে পারে না,” বলেন তিনি। তালতলা গ্রামের বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম জানান, জন্মনিবন্ধনের কাজ করতে গিয়ে তিনিও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। “ইউএনও না থাকায় কাজ এগোয় না,” বলেন তিনি। একজন সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “স্থায়ী ইউএনও না থাকলে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।” দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য নলছিটি উপজেলায় গত কয়েক মাস ধরে ইউএনও পদে স্থায়ী নিয়োগ নেই। এর আগে কয়েকজন কর্মকর্তা স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ইউএনও প্রশিক্ষণে চলে যাওয়ার পর থেকে পদটি কার্যত শূন্য রয়েছে এবং অতিরিক্ত দায়িত্বের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের অবস্থান ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী ইউএনও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রশ্ন ও উদ্বেগ তবে মূল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন দায়িত্ব হস্তান্তর বিলম্বিত হচ্ছে? প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা নয়, বরং সরকারি নির্দেশনার বাস্তবায়ন ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। নলছিটির মতো একটি উপজেলায় যেখানে ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে, সেখানে প্রশাসনিক নেতৃত্বে অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে জনসেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর ও স্থায়ী ইউএনও নিয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে বদলী বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের করা এক লিখিত অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন এবং সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক বেশ কিছু বদলী আদেশ স্থগিত করেছে বলে জানা গেছে। বদলী আদেশে অনিয়মের অভিযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একদিনেই অর্ধশতাধিক প্রকৌশলীর বদলী আদেশ জারি করা হয়, যা পরবর্তীতে নিয়মবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত হয়। এসব আদেশে সংস্থাপন শাখার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, একই কর্মস্থলে দুই বছরের কম সময় কর্মরত কর্মকর্তাদেরও বদলী করা হয়েছে, যা প্রচলিত নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া লোভনীয় পদায়নের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, নিয়মবহির্ভূত বদলী অনুমোদন এবং কিছু কর্মকর্তাকে হয়রানির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এসব বদলী আদেশ স্থগিত করে এবং অনিয়মিত আদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অভিযোগ দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষভাগে সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে বদলী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালের শেষার্ধ থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত জারিকৃত বিভিন্ন অফিস আদেশে তাঁর স্বাক্ষর পাওয়া গেছে, যা তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়। পূর্বের অভিযোগ ও তদন্ত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে জামানতের অর্থ অবৈধভাবে ক্যাশ করার অভিযোগ পূর্বে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট গণপূর্ত অধিদপ্তর এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে তাঁকে কোনো শাস্তি ছাড়াই বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগ ও বদলী বাণিজ্যের পাশাপাশি সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় তাঁর বা তাঁর পরিবারের নামে একটি বাড়ি রয়েছে, যা তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এছাড়া বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। ‘সিন্ডিকেট’ ও টেন্ডার প্রভাবের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে একটি প্রভাবশালী ‘মাফিয়া চক্র’ ও টেন্ডার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত থেকে সারোয়ার জাহান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দুদক ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে। মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের নির্দেশে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে বড় আকারের বদলী বা পদোন্নতির ফাইল অগ্রসর না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বদলী ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য অভিযোগকারী ইকবালুর রহিম, যিনি একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার, বলেন— এসব অনিয়ম সরকারি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জনস্বার্থ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের সুরক্ষার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অবৈধ সম্পদ জব্দ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া অভিযোগ সম্পর্কে সারোয়ার জাহান বলেন, বদলীর সিদ্ধান্ত তিনি একা নেন না; সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। সামগ্রিক প্রেক্ষাপট গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলী-পদায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। তবে পূর্বের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও শাস্তির অভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুদক ও মন্ত্রণালয়ের যৌথ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিষয়টির নিষ্পত্তি জরুরি। অন্যথায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসেবার মান আরও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ইউএনওকে ঘিরে ‘পার্সেন্টেজ বাণিজ্য’ অভিযোগ বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ‘পার্সেন্টেজ বাণিজ্য’-এর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৫ মাস দায়িত্ব পালনের সময়কালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ত্রাণ বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্টরা। যদিও এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ওই কর্মকর্তা। অভিযোগের ধরন: বিল পাস থেকে বরাদ্দ—সবখানেই ‘নির্ধারিত হার’? অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উন্নয়ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনে নির্দিষ্ট হারে কমিশন আদায় শুরু হয়। উপজেলা পরিষদের একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ১৩ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন খাতের প্রকল্পে ৫ শতাংশ, বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পে ২ শতাংশ, এলজিইডি প্রকল্পেও ২ শতাংশ হারে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থ সরাসরি ইউএনওর নামে তার কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হতো বলে অভিযোগ। একজন ঠিকাদার জানান, “বিল তুলতে গেলে নির্ধারিত পার্সেন্টেজ না দিলে ফাইল এগোতো না।” কাবিখা ও টিআর প্রকল্পেও অভিযোগ কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একজন ইউপি সদস্যের পরিবারের সদস্যের দাবি, ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার প্রকল্পে প্রায় ১৮,৭৫০ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। অন্য ইউনিয়নগুলোর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। ‘অস্তিত্বহীন এতিমখানা’ ও বরাদ্দ প্রশ্নে বিতর্ক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫টি এতিমখানার নামে ১৫ টন জিআর (গ্র্যাটুইটাস রিলিফ) চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া: সড়ক সংস্কার ও ড্রেন পরিষ্কারের নামে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হলেও কাজের দৃশ্যমান প্রমাণ নেই বলে অভিযোগ পরিত্যক্ত ঘোষিত সরকারি বাসভবনে যাওয়ার রাস্তা মেরামতে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ের দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে পৌর প্রশাসক হিসেবেও একই অভিযোগ ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পৌর প্রশাসকের দায়িত্বেও ছিলেন রুমানা আফরোজ। এখানেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের দাবি: ঠিকাদারি বিল পেতে ৫ শতাংশ ঘুষ জামানতের টাকা ফেরত নিতেও একই হার প্রকৌশল শাখায় কাজ পেতে ২ শতাংশ কমিশন এক বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে অন্তত ৫ কোটি টাকার বিল থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ‘অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প’ ও তড়িঘড়ি দরপত্র বদলির আগে তড়িঘড়ি করে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার ছয়টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পে ৬৩ লাখ টাকার ব্যয় প্রস্তাবকে সংশ্লিষ্টরা “অস্বাভাবিক” ও “অপ্রয়োজনীয়” বলে উল্লেখ করেছেন। চাঁদা আদায়ের অভিযোগ জাতীয় দিবস উদযাপনের নামে ইটভাটা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি: প্রতি ইটভাটা থেকে ৫,০০০–৮,০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো না দিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানার ভয় দেখানো হতো নামজারি অনুমোদনেও অনিয়ম? অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকাকালে প্রায় ১,০০০ নামজারির বিপরীতে প্রতিটি থেকে ১,০০০ টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে, যা মোট প্রায় ১০ লাখ টাকার সমান। ইউএনওর বক্তব্য: “অপপ্রচার” সব অভিযোগ অস্বীকার করে রুমানা আফরোজ বলেন: “অনেকেই অনৈতিক সুবিধা নিতে চেয়েছেন। তাদের দাবি না মানায় আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। কাজের চাপে কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে, কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয়।” প্রশ্নগুলো রয়ে যাচ্ছে এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: প্রকল্প বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তদারকি কতটা কার্যকর? স্থানীয় প্রশাসনে ‘পার্সেন্টেজ সংস্কৃতি’ কতটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে? অভিযোগগুলো তদন্তে কি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত হবে? স্থানীয় পর্যায়ে এই বিষয়টি ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাভারে কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনকে ঘিরে ঘুষ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং ব্যক্তিগত আচরণ সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চাকরি জীবন ও পদায়নের পটভূমি টাঙ্গাইল জেলার মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া জাকির হোসেন ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে লক্ষীপুরের কমলনগর, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় নয় বছরের কর্মজীবনের মধ্যেই তিনি সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পদায়ন পান। বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ আইন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সাভারে বদলি পেতে তিনি তৎকালীন এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে প্রায় তিন কোটি টাকা দেন। অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের প্রশ্ন জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো তার সম্পদ নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, তুলনামূলক স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও গত এক বছরে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ২০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে: * তার ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। * ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ি এবং নিজ এলাকায় জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে। * এসব সম্পদের একটি অংশ আত্মীয়স্বজনের নামেও রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অফিসে আচরণ নিয়ে অভিযোগ সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর অভিযোগ, জাকির হোসেন নিয়মিত অফিস কক্ষে মাদক সেবন করেন এবং পরে সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও মামলা তার বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং একটি আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি থাকার অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেলেও, সেই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু সূত্রের দাবি, তদন্ত কার্যক্রম থমকে আছে। তবে এ বিষয়ে দুদকের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য জানার চেষ্টা এই অভিযোগগুলো সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। কী বলছেন স্থানীয়রা সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুতর হলেও, এখনো সেগুলোর অধিকাংশই অভিযোগ পর্যায়েই রয়েছে। ফলে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর—তারা কীভাবে এই অভিযোগগুলো যাচাই করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।
বাংলাদেশের প্রশাসনে সাম্প্রতিক সচিব নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন কেবল অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—বরং এটি রূপ নিয়েছে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্নে। ২৫ মার্চ রাতে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৯ জন সচিব নিয়োগের পর থেকেই একের পর এক অসঙ্গতি, অভিযোগ ও অস্বচ্ছতার বিষয় সামনে আসছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত, দ্রুতই আংশিক পিছু হটা নিয়োগের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ২৯ মার্চ তিনজন সচিবের বদলির আদেশ স্থগিত করতে বাধ্য হয় সরকার। একই সঙ্গে দুইজনের দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, “এত দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন নজিরবিহীন”—যা প্রাথমিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বঞ্চিতদের তালিকা বড়, সুযোগ পেলেন মাত্র দু’জন অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত অন্তত ৫২ জন কর্মকর্তার নাম উচ্চ পর্যায়ে বিবেচনায় ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো নেতিবাচক রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও তারা বারবার পদোন্নতি থেকে বাদ পড়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এই নিয়োগে সেই তালিকা থেকে মাত্র দু’জন সচিব পদে উন্নীত হয়েছেন। এতে করে প্রশাসনের একটি বড় অংশ নিজেদের আবারও উপেক্ষিত মনে করছেন। একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “আমরা ভেবেছিলাম এবার অন্তত যোগ্যতা ও বঞ্চনার ইতিহাস বিবেচনা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র।” ক্যাডার ভারসাম্যে ব্যতিক্রম, নাকি পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত? নিয়োগপ্রাপ্ত ৮ জন নিয়মিত সচিবের মধ্যে ২ জন ইকোনমিক ক্যাডার থেকে আসা—যা অতীতের তুলনায় অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তারা সাধারণত প্রকল্প পরিকল্পনা ও মূল্যায়নে দক্ষ হলেও মাঠ প্রশাসন বা বহুমাত্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় তাদের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক সীমিত। ফলে একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় পরিচালনায় তাদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একজন সাবেক সচিব বলেন, “এ ধরনের নিয়োগ ব্যতিক্রম হতে পারে, কিন্তু একে যদি প্রবণতা বানানো হয়, তাহলে প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।” রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা: নিয়োগে কি প্রভাব ফেলেছে? নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তার অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ পূর্ববর্তী সরকারের সময় সুবিধাভোগী ছিলেন, আবার কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে অভিযোগ—তারা অতীতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সেই প্রেক্ষাপটে তাদের পদোন্নতি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ: প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ? ৯ জনের মধ্যে একজনকে চুক্তিভিত্তিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তার নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পূর্ববর্তী পেশাগত অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু প্রক্রিয়াটি যদি অস্বচ্ছ হয়, তাহলে সেটি পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।” ‘উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ’—কিন্তু কে দায় নেবে? জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই পদোন্নতিগুলো ‘উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা’ অনুযায়ী হয়েছে। তবে সেই নির্দেশনার উৎস, মানদণ্ড বা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এতে করে দায়বদ্ধতার প্রশ্ন সামনে আসছে—এই সিদ্ধান্তের দায়িত্ব আসলে কার? প্রশাসনের মনোবলে প্রভাব বিশ্লেষকরা বলছেন, পদোন্নতি ও নিয়োগে যদি স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে তা প্রশাসনের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত, তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়তে পারে, যা প্রশাসনিক কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। শেষ প্রশ্ন: সংস্কার নাকি পুনরাবৃত্তি? সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই নিয়োগ সেই প্রত্যাশাকে কতটা পূরণ করেছে—তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভাষায়— “পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু ব্যবস্থার পরিবর্তন কোথায়?”
এক বছরের চুক্তিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পুনরায় নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুর রশীদ মিয়া। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে তিনি চলতি দায়িত্বে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে অবসরে যান। নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী আব্দুর রশীদ মিয়াকে তার অবসর-উত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত রাখতে হবে। পাশাপাশি অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলেও জানানো হয়েছে। পেশাগত জীবন আব্দুর রশীদ মিয়া এলজিইডির মানবসম্পদ উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ ইউনিটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-৩) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী হন এবং বছরের শেষ দিকে অবসরে যান। তিনি ১৯৮৭ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব টেকনোলজি (বর্তমানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০১৪ সালে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশিতে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে এলজিইবিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। তিনি ২০০৬ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী, ২০১৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ২০২৩ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। মিল্ক ভিটায় নতুন মহাব্যবস্থাপক অন্যদিকে, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্ক ভিটা)-এর মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. এনায়েত করিম চৌধুরী। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রেড-৫ বেতন স্কেলে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাকে অন্য কোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ত্যাগ করে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
নোয়াখালী : নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউএনও মো. আলাউদ্দিনকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়। প্রায় ২৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ওই ভিডিওটি দ্রুতই ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগের বিষয়ে মো. আলাউদ্দিন দাবি করেছেন, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের কর্মস্থল সুনামগঞ্জের তাহেরপুর এলাকা থেকে পরিকল্পিতভাবে এটি ছড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার খবর পাওয়ার পর সোমবার সকালেই তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করে জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ইউএনও কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি অবগত আছেন। তবে ভিডিওতে থাকা নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ একে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে দেখছেন, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
* পিআইবিতে ‘অদৃশ্য সেমিনার’: নথিতে খরচ, বাস্তবে অনুষ্ঠান নেই—ফারুক ওয়াসিফকে ঘিরে বিতর্ক * পিআইবিতে সেমিনার না হয়েও লাখ লাখ টাকা খরচ? ফারুক ওয়াসিফকে ঘিরে নথিপত্রে নতুন প্রশ্ন * পিআইবিতে সেমিনার জালিয়াতির অভিযোগ: ফারুক ওয়াসিফের দাবি বনাম এনবিআরের নথি — অনুসন্ধানে নতুন প্রশ্ন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)–এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে ঘিরে নতুন করে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পিআইবিতে যে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়নি—তার জন্য ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি অন্যদিকে ফারুক ওয়াসিফ এই অভিযোগকে “মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর উৎস কর সংক্রান্ত নথি ও ব্যাংক লেনদেনের তথ্য নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। এই প্রতিবেদনে সেই অভিযোগ, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অভিযোগের সূত্রপাত দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি পিআইবিতে কোনো সেমিনার হয়নি, অথচ ওই সেমিনারের নামে বিপুল অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়— ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন খাতে খরচ দেখানো হয়েছে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ তোলা হয়েছে অভিযোগ অনুযায়ী, এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে পিআইবির কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত। অভিযোগ উঠেছে— ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এমন কিছু সেমিনারের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে, যেগুলো বাস্তবে অনুষ্ঠিত হয়নি। এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তিনি অবশ্য অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু অনুসন্ধানে পাওয়া নথি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উৎস কর স্লিপ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। এই প্রতিবেদনে সেই নথি, তথ্য ও বক্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কী ঘটেছে: ঘটনাপ্রবাহ ডাটা টাইমলাইন বছর ঘটনা ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পিআইবিতে সেমিনার হয়েছে বলে নথি ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ দ্বিতীয় সেমিনারের খরচ দেখানো অক্টোবর ২০২৫ ভ্যাট ও ট্যাক্স জমা ৫ মার্চ ২০২৬ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ ৯ মার্চ ২০২৬ পিআইবির প্রতিবাদপত্র ডকুমেন্ট বক্স অনুসন্ধানে পাওয়া মূল নথি 📄 মোট উৎস কর স্লিপ: ৫৩টি 💰 উৎস কর জমা: ২,৮২,৬০০ টাকা 📅 উল্লেখিত অনুষ্ঠান: ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সেমিনার ✍ জমাদানকারী: পিআইবির কর্মকর্তা এই স্লিপগুলোতে সেমিনারের বিভিন্ন খরচের উল্লেখ রয়েছে। ফারুক ওয়াসিফের বক্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফারুক ওয়াসিফ বলেন: “ওই দুই দিনে কোনো সেমিনার হয়নি। তাই সেমিনারের নামে টাকা তোলার প্রশ্নই আসে না।” তিনি আরও দাবি করেন— প্রকাশিত নথি জাল একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। অনুসন্ধানে নতুন তথ্য তবে অনুসন্ধানী টিমের দাবি, এনবিআরের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। তদন্তে পাওয়া যায় মোট ৫৩টি “অর্থ জমা নগদ স্লিপ”। এসব স্লিপে উল্লেখ রয়েছে— সেমিনারের দাওয়াত কার্ড খাবার নাশতা স্টেশনারি গাড়িভাড়া রিসোর্স পারসন সম্মানি এই সব খাতের বিপরীতে উৎস কর জমা দেওয়া হয়েছে। সব স্লিপে পিআইবির সিনিয়র রিসার্চ অফিসার গোলাম মুর্শেদ-এর স্বাক্ষর রয়েছে। মোট উৎস কর জমা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা। নথিতে কী পাওয়া গেছে তবে অনুসন্ধানে পাওয়া উৎস কর স্লিপে উল্লেখ রয়েছে— সেমিনার খরচের খাত খাত টাকা খাবার ৭৫,০০০ দাওয়াত কার্ড ৩,০০০ স্টেশনারি ৯,০০০ ডেকোরেশন ৬,১০০ সাউন্ড সিস্টেম ৮,৩০০ নাশতা ২,৫০০ গাড়িভাড়া ১,২০০ ডাটা গ্রাফিক সেমিনার খরচ (নথি অনুযায়ী) খাবার ██████████████████████ স্টেশনারি ███████ ডেকোরেশন █████ সাউন্ড সিস্টেম ██████ নাশতা ██ গাড়িভাড়া █ সব মিলিয়ে দুই দিনের অনুষ্ঠানের বিপরীতে উৎস কর জমা দেওয়া হয়েছে ১ লাখ টাকার বেশি। রিসোর্স পারসন সম্মানি নথি অনুযায়ী— পাঁচজন বক্তা প্রত্যেকে ১০ হাজার টাকা মোট সম্মানি: ৫০,০০০ টাকা কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যাদের নাম বক্তা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে তাদের কয়েকজনই বলেছেন তারা এ ধরনের কোনো সেমিনারে অংশ নেননি। খাবারের বিল নিয়ে প্রশ্ন একটি ভাউচারে উল্লেখ রয়েছে— ১৫০ জনের খাবার প্রতি প্লেট ৫০০ টাকা মোট বিল: ৭৫ হাজার টাকা কিন্তু সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এই বিলের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ২৪ লাখ টাকার ব্যয় এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরেকটি বিতর্ক হলো ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব। ফারুক ওয়াসিফের দাবি— এই অর্থের বড় অংশ একটি তথ্যচিত্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে। প্রোডাকশন কোম্পানির বক্তব্য তথ্যচিত্রটি তৈরি করেছে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির দাবি— তাদের বিল ছিল প্রায় ২৪ লাখ টাকা ভ্যাট ও ট্যাক্স কেটে ১৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে ক্যাশে ডকুমেন্ট বক্স লেনদেনের গরমিল নথিতে দেখা যায়— 📅 ইনভয়েস তারিখ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ 🎬 তথ্যচিত্র প্রিমিয়ার: আগস্ট ২০২৫ 💰 পেমেন্ট দাবি: আগস্ট ২০২৫ এই তারিখগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনলাইনে চালান যাচাই সরকারি ওয়েবসাইটে চালান ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে এসব নথির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। একটি উদাহরণ হিসেবে: ট্র্যাকিং নম্বর: ২৫২৬-০০০৯৪৮৪০৫৯ খাত: ১৮ ফেব্রুয়ারি সেমিনারের খাবার উৎস কর: ৬,২৫০ টাকা ওয়েবসাইটে যাচাই করে এই চালানের তথ্য মিলেছে। এতে জমাদানকারী হিসেবে পিআইবির পক্ষ থেকে গোলাম মুর্শেদের নাম উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে অন্যান্য চালানও যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঢাকার এক আয়কর আইনজীবী নথি যাচাই করে বলেছেন,অনলাইন ভেরিফিকেশন অনুযায়ী এসব চালান সঠিক। অর্থাৎ এগুলো সরকারি সিস্টেমে নিবন্ধিত। ভুয়া ভাউচার অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁর নামে ১৫০ জনের দুপুরের খাবারের বিল দেখানো হয়। প্রতি প্লেট ৫০০ টাকা মোট বিল: ৭৫,০০০ টাকা তবে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এই বিলের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। সরকারি নিয়ম কী বলে সরকারি কর্মকর্তাদের মতে— সরকারি কাজের পেমেন্ট সাধারণত হয়: ব্যাংক ট্রান্সফার চেক সরকারি অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম ক্যাশে পেমেন্ট দেওয়া নিয়মবহির্ভূত হতে পারে। টেন্ডার ছাড়াই কাজ? অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে— এই প্রকল্পে কোনো টেন্ডার হয়নি কোনো ওয়ার্ক অর্ডার নেই কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি নেই যা সরকারি ক্রয় বিধির প্রশ্ন তুলছে। ব্যাকডেটিংয়ের অভিযোগ নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়— চেক ইস্যুর তারিখ ফেব্রুয়ারি টাকা তোলা হয়েছে জুনে এ ধরনের প্রক্রিয়াকে সাধারণত ব্যাকডেটিং বলা হয়। পুরনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার তদন্তে আরও জানা গেছে— টাকা উত্তোলনের জন্য এমন একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে— যা প্রায় ১০ বছর ধরে ব্যবহার হয়নি। প্রকৃত খরচ কত? অভিযোগকারীদের দাবি— অনুষ্ঠানের প্রকৃত খরচ ছিল প্রায় ৭–৮ লাখ টাকা। কিন্তু নথিতে দেখানো হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। বোর্ড মিটিং ও অডিট ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন— বোর্ড মিটিংয়ে চারজন যুগ্ম সচিব আরও কয়েকজন সদস্য সব নথি পরীক্ষা করেছেন। তার দাবি— “অডিটের পর অনিয়ম থাকার সুযোগ নেই।” এখনো যেসব প্রশ্নের উত্তর নেই এই ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রধান প্রশ্ন ১️,সেমিনার না হলে উৎস কর কেন দেওয়া হলো? ২️.ভুয়া বিল তৈরি করেছে কারা? ৩️.২৪ লাখ টাকার প্রকৃত ব্যয় কত? ৪️.ক্যাশ পেমেন্ট কেন করা হলো? ৫️.সরকারি নথিতে ব্যাকডেটিং হয়েছে কি? বিশ্লেষণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাংবাদিক প্রশিক্ষণের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ উঠলে তা শুধু প্রশাসনিক নয়—নৈতিক প্রশ্নও তৈরি করে। পিআইবি দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা দাবির মধ্যেই এখন প্রশ্ন— এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে কি?
ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার একটি সরকারি কবরস্থানের জন্য মাটি ভরাট প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন নলছিটি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়েছে, নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর সরকারি কবরস্থানে মাটি ভরাটের জন্য একটি টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ওই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন অতিরিক্ত খরচের কথা বলে মোট ৯ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারী অলিউল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা এবং বিভিন্ন চাপের কারণে তারা বাধ্য হয়ে ওই অর্থ প্রদান করেছেন। তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি কর্মকর্তার কার্যালয়ে এভাবে ঘুষ নেওয়া অনৈতিক এবং সরকারি সেবার নীতিমালার পরিপন্থী। তিনি আরও জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেনকে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, অভিযোগটি তদন্তের জন্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের ডিডি এলজিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। এরপর বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় দুপুর ১২টা পর্যন্ত তালাবদ্ধ থাকার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নলছিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলছে। অথচ এ সময় সরকারি অফিস খোলা থাকার কথা এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য দায়িত্ব পালনের সময়ও এটি। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আওলাদ হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় জানার পর কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সেবাগ্রহীতা ও দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন নিয়মিত অফিসে আসেন না। কখনো খেয়ালখুশিমতো অফিসে এলেও বেশিক্ষণ থাকেন না। ফলে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, বিল উত্তোলন কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের ক্ষেত্রে নিয়মমাফিক কমিশন না দিলে বিভিন্নভাবে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে ছোট ছোট উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একজন জনপ্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু কমিশনের কারণে অনেক সময় প্রকল্প বাস্তবায়নই জটিল হয়ে পড়ে। বিল তুলতে গেলেই সবচেয়ে বেশি হয়রানি হয়।” স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বহীনতা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করছে। এতে প্রকল্পের অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে এবং তৃণমূলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের মতে, সরকারি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার এমন আচরণ শুধু উন্নয়ন কার্যক্রমকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং প্রশাসনের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এক ব্যক্তি। গত ২ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মৎস্য অধিদপ্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি সংঘটিত হচ্ছে। টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী খামার স্থাপন এবং মৎস্যচাষিদের জন্য জলবায়ু সহিষ্ণু উপকরণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘন করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে উপকরণ দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সুবিধাভোগীর তালিকায় অনিয়ম অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রকৃত মৎস্যচাষিদের পরিবর্তে প্রকল্প এলাকার প্রভাবশালী ও ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের নাম সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষেরও সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সেমিনার আয়োজনের নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে প্রশিক্ষণ দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছে এবং সেই মাধ্যমে প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের দাবি অভিযোগকারী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থার মধ্যেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত ২৫৭ সহকারী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে প্রশাসনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি পদোন্নতির পরিবর্তে ‘চলতি দায়িত্ব’ প্রদানের মাধ্যমে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ৫ম গ্রেডে দায়িত্ব দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে এলজিইডি থেকে দুই দফায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রধান প্রকৌশলীর প্রস্তাব এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বেলাল হোসেন গত ১০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে দাপ্তরিক পত্র পাঠান। চিঠিতে এলজিইডির সাংগঠনিক কাঠামোর ৫ম গ্রেডভুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী বা সমমানের পদ ‘চলতি দায়িত্ব’ দিয়ে পূরণের সুপারিশ করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়— রাজস্ব বাজেটভুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ: ১৬৮টি শূন্য পদ: ১১৪টি বেতনক্রম (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫ম গ্রেড): ৪৩,০০০–৬৯,৮৫০ টাকা উন্নয়ন বাজেটভুক্ত প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলী/উপ-প্রকল্প পরিচালক/উপ-পরিচালকের পদ: ১১২টি প্রেষণে পূরণ: ১৬টি মোট শূন্য পদ: ২১০টি প্রস্তাবে বলা হয়, পূর্বে ৩৩৩ জনকে যোগদানের ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তবে জ্যেষ্ঠতা নিয়ে মামলা চলমান থাকায় নতুন পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন শূন্য থাকা পদগুলো ‘চলতি দায়িত্ব’ দিয়ে পূরণ করার বিষয়টি বিবেচনাযোগ্য। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ বঞ্চিত কর্মকর্তাদের দাবি, কৌশলে প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত ২৫৭ সহকারী প্রকৌশলীকে ৫ম গ্রেডে দায়িত্ব দেওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে। তারা বলছেন, এটি কার্যত পদোন্নতিরই সমতুল্য, যা আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী। মন্ত্রণালয়ের অবস্থান এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাহমুদ জাহেদী বলেন, সহকারী প্রকৌশলীদের পদোন্নতির বিষয়ে আলোচ্য আবেদন সম্পর্কে তিনি অবগত নন। প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশনা গত ২৮ অক্টোবর ২০২৪ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘এলজিইডির নিয়োগবিধি তছনছ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে আইনজীবী ব্যারিস্টার আরিফ চৌধুরী ও ব্যারিস্টার উম্মে আইমান জেনিব স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ৯ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও রাশেদুজ্জামান রাজা-এর দ্বৈত বেঞ্চ প্রকল্প থেকে ২৫৭ জনকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর ও পদোন্নতির অনিয়মের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-কে। তদন্ত প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে উচ্চ আদালতে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়— ২৫৭ জনের চাকরি নিয়মিতকরণে বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি জ্যেষ্ঠতা গণনা প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ ৭ম গ্রেডে সিলেকশন গ্রেড প্রদান ও ৬ষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি আইনসম্মত ছিল না ২০১১ সালের একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়মিতকরণ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, যেহেতু নিয়মিতকরণ ও জ্যেষ্ঠতা প্রদান বৈধ হয়নি, তাই সংশ্লিষ্টদের পদোন্নতিও আইনসম্মত নয়। প্রশাসনিক ও আইনি প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের নির্দেশনার পরও যদি ‘চলতি দায়িত্ব’ প্রদানের মাধ্যমে একই ফলাফল অর্জনের চেষ্টা করা হয়, তবে তা আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশকে পাশ কাটানোর শামিল হতে পারে। এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে— আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হবে? সরকার কি বিতর্কিত পদোন্নতি পুনর্বিবেচনা করবে? নাকি ‘চলতি দায়িত্ব’-এর আড়ালে নতুন করে পদায়ন সম্পন্ন হবে? বিষয়টি এখন প্রশাসনিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তর-এর ভেতরে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে এক নির্বাহী প্রকৌশলীকে কেন্দ্র করে। নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসী-এর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ এখন প্রশাসনিক মহল ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে প্রশাসনিক প্রভাব? দপ্তরের একাধিক সূত্রের দাবি, একই বিভাগে দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে সমীরণ মিস্ত্রী ও সিফাত ওয়াসীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এই সম্পর্কের কারণে একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়, যা দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করতেও রাজি হননি। জাতীয় সংসদ ভবনের ই/এম বিভাগে দায়িত্বকাল নিয়ে প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় সংসদ ভবন-এর ইলেকট্রোমেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগের দায়িত্বকালকে কেন্দ্র করে। ই/এম সার্কেল–৩-এর অধীনে ই/এম বিভাগ–৭-এ প্রায় সাত বছর দায়িত্ব পালন করেন সমীরণ মিস্ত্রী। কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় তিনি বিভাগে অত্যন্ত প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন। অনানুষ্ঠানিকভাবে কেউ কেউ তাকে ‘টাকাখেকো ইঞ্জিন’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এ ধরনের মন্তব্যের কোনো প্রমাণিত নথি বা লিখিত অভিযোগ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’—উন্নয়ন না অর্থ আত্মসাত? অনুসন্ধানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো তথাকথিত ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’। অভিযোগ অনুযায়ী, সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে ছোট ছোট অঙ্গভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প দেখিয়ে ৩০ থেকে ৪০টির মতো পৃথক দরপত্র আহ্বান করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি— প্রকল্পগুলো কাগজে-কলমে উন্নয়নমূলক হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তব কাজের পরিমাণ ছিল সীমিত; কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো যন্ত্রাংশ নতুন হিসেবে দেখানো হয়েছে; অপ্রয়োজনীয় সংস্কার কাজের নামে বড় অঙ্কের ব্যয় দেখানো হয়েছে; বিল উত্তোলন হয়েছে পূর্ণাঙ্গ অঙ্কে, যদিও কাজ ছিল আংশিক। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা, দরপত্র অনুমোদন এবং কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো নিরপেক্ষ অডিট বা তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি। বদলি—প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নাকি কৌশল? গত ১ সেপ্টেম্বর সমীরণ মিস্ত্রীকে ই/এম বিভাগ–৭ থেকে পিএন্ডডি বিভাগ–১-এ বদলি করা হয়। একই সময় সিফাত ওয়াসীকেও একই বিভাগে বদলি করা হয়। এই একসঙ্গে বদলিকে ঘিরে দপ্তরের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল, নাকি অভিযোগের চাপ সামাল দেওয়ার একটি কৌশল? এ বিষয়ে দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রশাসনিক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন এত গুরুতর অভিযোগের পরও দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তাদের মতে— নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন জরুরি প্রকল্পভিত্তিক আর্থিক অডিট হওয়া প্রয়োজন সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই অভিযোগগুলো গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভাবমূর্তিকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য সমীরণ মিস্ত্রী ও সিফাত ওয়াসীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি হবে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের ঘটনা; আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুনাম রক্ষায়ও প্রয়োজন পরিষ্কার তদন্ত ফলাফল।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।