Brand logo light

বাংলাদেশ পুলিশ

সিআইডি
অনলাইন জুয়ার ১১৬ ওয়েবসাইট শনাক্ত, বন্ধে বিটিআরসিকে তালিকা দিল সিআইডি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে তালিকা পাঠিয়েছে সংস্থাটি। রোববার (১৭ মে) সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “গত ১ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত পরিচালিত সাইবার পেট্রোলিং কার্যক্রমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলো ডাউন বা বন্ধ করার জন্য বিটিআরসিতে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে।” এসময় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে একটি চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতারের তথ্যও তুলে ধরা হয়। সিআইডি জানায়, অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত সাইবার মনিটরিং চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত, আর্থিক লেনদেনের উৎস অনুসন্ধান এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিচালিত জুয়ার নেটওয়ার্ক ও অর্থ পাচারের প্রবণতা মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
হানি ট্র্যাপে ফেলে ব্ল্যাকমেইল
পটুয়াখালীতে হানি ট্র্যাপ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, বিএনপি নেতা ও যুবলীগ কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৩

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির এক নেতা, যুবলীগের এক কর্মীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত শহরের বনানী, সবুজবাগ, কলেজ রোড এলাকা এবং বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন (৫৫), গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের মো. কবির হোসেন (৪০) এবং পটুয়াখালী পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকার মোহাম্মদ রাসেল তালুকদার (৩৪)। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাসেল তালুকদার যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে ‘হানি ট্র্যাপ’ পদ্ধতিতে ফাঁদ তৈরি করে অন্তত এক ঔষধ ব্যবসায়ী ও এক চাকরিজীবীর কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শহিদুল নামে এক ব্যক্তিকে কৌশলে ডেকে এনে নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বনানী এলাকায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে পুলিশের অভিযানে বাকি দুজনও গ্রেপ্তার হন। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “অভিযান চালিয়ে হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।” তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের তথ্য মিলেছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান
হত্যা মামলার আসামি, তবু ফেনীর এসপি: মাহবুব আলম খানকে ঘিরে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে পদায়ন ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দুটি হত্যা মামলার আসামি থাকা সত্ত্বেও তার এই পদায়নকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী পরিবার, মানবাধিকারকর্মী এবং রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—গুরুতর অভিযোগের মুখে থাকা একজন কর্মকর্তাকে কীভাবে জেলার শীর্ষ পুলিশ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো? গত ৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ফেনীর এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর একদিন পর, ৬ মে, তার পদায়ন বাতিল এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেন নিহত যুবদল নেতার পরিবারের সদস্য সেতাউর রহমান। দীর্ঘদিনের অভিযোগ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মাহবুব আলম খান দীর্ঘদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচিতে বাধা, বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন এবং একাধিক গুম-হত্যার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বদলি হন। সর্বশেষ তিনি সিএমপির ডিবি পশ্চিম জোনের উপ-কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো নতুন করে সামনে আসে। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালত ও থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। “বন্দুকযুদ্ধের” আড়ালে হত্যা? দুটি মামলার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিতটি যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান হত্যা মামলা। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট ছাত্রদল নেতা সেতাউর রহমানকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে আইনাল হকের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেতাউরকে না পেয়ে তার ভাই মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ তাকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তারা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি “খোঁজ নেওয়ার” আশ্বাস দেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মিজানুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, মিজানুরকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহযোগিতায় পরিবার ৯ লাখ টাকা জোগাড় করে পুলিশের হাতে দেয়। কিন্তু এরপরও আরও ১১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ঘটনার মধ্যে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর মিজানুরের আরেক ভাই রেজাউল করিমকেও রাজশাহী নগরী থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর দীর্ঘ সময় দুই ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল শিবগঞ্জে পুলিশের কথিত “বন্দুকযুদ্ধে” মিজানুর নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। তবে পরিবারের দাবি, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অন্যদিকে রেজাউল করিম আজও নিখোঁজ। আট বছর পরও নিখোঁজ এক ভাই সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করেন মিজানুর ও রেজাউলের পরিবারের সদস্যরা। তারা অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর আট বছরেও রেজাউলের সন্ধান মেলেনি। একই ঘটনায় থানায় মামলা করার পাশাপাশি গুম কমিশনেও অভিযোগ জমা দিয়েছেন তারা। গত ফেব্রুয়ারিতে গুম কমিশন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা ঘটনাটি তদন্ত করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যান। মিজান হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক মাহমুদ বলেন, মামলায় ৬ থেকে ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। দ্বিতীয় হত্যা মামলাও মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের হয় ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর। ফিরোজ আহমেদ নামে এক ব্যক্তি শিবগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। ওই মামলায় ১২ জন আসামির মধ্যে মাহবুব আলম খানকে তিন নম্বর আসামি করা হয়। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইমরান হোসেন জানান, “প্রাথমিক তদন্তে তার নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো জমা দেওয়া হয়নি।” “আমাদের পরিবার ধ্বংস করে দিয়েছেন” মাহবুব আলম খানের পদায়ন বাতিলের আবেদনকারী সেতাউর রহমান বলেন, “তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় আট বছর চাকরি করেছেন। এমন কোনো অপরাধ নেই, যা তিনি করেননি। আমাদের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। মামলা থাকার পরও কীভাবে তাকে এসপি করা হলো—আমরা এর বিচার চাই।” মাহবুব আলম যা বলছেন অভিযোগ অস্বীকার করে মাহবুব আলম খান বলেন, দুটি হত্যা মামলার একটিতে তাকে ইতোমধ্যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্য মামলার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি প্রশিক্ষণে ছিলেন এবং এ সংক্রান্ত প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন। তার ভাষায়, “আইনাল হকের মামলার ঘটনার সময় আমি ট্রেনিংয়ে ছিলাম। প্রমাণ দিয়েছি। আশা করছি, ওই মামলাতেও আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।” পুলিশ সদর দপ্তরের নীরবতা বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (এডমিন) আবু সালেহ রায়হান বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিস্তারিত খোঁজ না নিয়ে কিছু বলতে পারছি না।” “এসপি পদে এমন নিয়োগ উদ্বেগজনক” মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলছেন, ফৌজদারি মামলার আসামি হয়ে জামিন না নেওয়া মানে কার্যত পলাতক থাকা। তার মতে, “এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ থাকা ব্যক্তিকে জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উদ্বেগজনক। এতে বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।” তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে জনআস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে। তদন্তের আগেই পুরস্কার? মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো বিচারাধীন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রশ্ন—তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কেন তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হলো? বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগ বহু বছর ধরেই বিতর্কের বিষয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পদায়ন বা পদোন্নতি রাষ্ট্রের জবাবদিহি ও মানবাধিকার প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তারা
বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন? গুরুত্বপূর্ণ থানায় ওসি পদায়ন ঘিরে প্রশ্ন

বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাবর্তন: প্রশ্নের মুখে পুলিশ সংস্কারের অঙ্গীকার ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট দেশের প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে একটি খবর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে—বদলির আদেশ পাওয়ার পর তিনি থানার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), টেলিভিশন, আইপিএস ও সোফা সেট খুলে বাসায় নিয়ে গেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তীব্র সমালোচনার মুখে তাকে ভূঞাপুর থানা থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই ফরিদুল ইসলাম এখন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বনানী থানার ওসি। ফরিদুল ইসলাম দাবি করেন, সে সময় সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি “অতিরঞ্জিতভাবে” উপস্থাপন করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, তিনি নিজেও প্রশাসনিকভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে শুধু একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি দমন কিংবা ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে সমালোচিত বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ থানা ও প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে পুলিশের ভেতর থেকেই। ‘শাস্তিমূলক বদলি’ থেকে আবার রাজধানীতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যেসব কর্মকর্তাকে ঢাকা বা গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট থেকে সরিয়ে দূরবর্তী স্টেশনে পাঠানো হয়েছিল, তাদের অনেকেই আবার রাজধানীতে ফিরছেন। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উচ্চপর্যায়কে “ম্যানেজ” করেই এসব পদায়ন হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে এখনো প্রভাবশালী একটি বলয় সক্রিয় রয়েছে, যারা আগের সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখছে। এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে পুলিশ ভয়াবহ ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা হয়েছিল। এখন আবার বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে সেই প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” হত্যা মামলার আসামি, তবু এসপি পদে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) পদে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানের পদায়ন। ৫ মে তাকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের দমন, হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ বহুদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে ছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জ যুবদল নেতা মিজান হত্যাকাণ্ডের মামলাটি বিশেষভাবে আলোচিত। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিজান। নিহতের বাবা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হত্যা মামলা দায়ের করলে মাহবুব আলম খানকে আসামি করা হয়। আরেকটি হত্যা মামলাতেও তার নাম রয়েছে। তবে মাহবুব আলম খান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলে তিনি দায়মুক্ত হবেন। ডিএমপিতে ফিরছেন পুরোনো মুখ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করা নুরুল মুত্তাকিনও আবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরেছেন। আওয়ামী আমলে তিনি ডেমরা, ভাটারা, তুরাগ ও লালবাগ থানার ওসি ছিলেন। পরবর্তীতে ডিএমপির সহকারী কমিশনার (এসি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তাকে এপিবিএনে পাঠানো হলেও মার্চ মাসে আবার ডিএমপিতে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুর জোনে এসি (প্যাট্রোল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে গুলশান থানার বর্তমান ওসি দাউদ খানও দীর্ঘদিন ডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডিএমপির বহু কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে পাঠানো হলেও তিনি রাজধানীতেই থেকে যান। পরে পর্যায়ক্রমে খিলগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট হয়ে গুলশান থানার ওসি হন। ‘বঞ্চিত’ কর্মকর্তাদের ক্ষোভ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে এ নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আওয়ামী আমলে তাদের “ব্ল্যাকলিস্টেড” রাখা হয়েছিল। ছাত্রদল বা বিএনপিপন্থি পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তারা পদোন্নতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন থেকে বঞ্চিত হন। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা বৈষম্য দূর হওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে আগের সরকারের সুবিধাভোগীরাই আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন। এক কর্মকর্তা বলেন, “যারা বিগত সময়ে নির্যাতন-নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারাই এখন পুনর্বাসিত হচ্ছেন। অথচ বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।” সমালোচনার মুখে একাধিক পদায়ন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও কয়েকটি পদায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মাহাবুব রহমান, যিনি আওয়ামী সরকারের শেষদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার ওসি ছিলেন, তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ওসি করা হয়েছে। আমির হোসেন সেরনিয়াবাতকে মাদারীপুরের শিবচর থানার ওসি করা হলেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে চার দিনের মাথায় প্রত্যাহার করা হয়। ভোলা ছাত্রদল নেতা নুরে আলম হত্যা মামলার আসামি আরমান হোসেনকে কক্সবাজারের রামু থানার ওসি করার আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত সেই পদায়ন কার্যকর হয়নি। চট্টগ্রামে নূর হোসেন মামুন ও আতিকুর রহমানের মতো কর্মকর্তারাও গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া সাভার, আশুলিয়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ রেঞ্জের কয়েকটি থানার ওসি পদায়ন নিয়েও পুলিশের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে। ভাবমূর্তি বনাম প্রশাসনিক বাস্তবতা বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল বা গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন জনমনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তাদের মতে, প্রশাসনিক দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত না হলে পুলিশ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, তিনি সম্প্রতি প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার পর মন্তব্য করবেন। তবে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশ বাহিনীর ভেতরে কি সত্যিই পরিবর্তন এসেছে, নাকি পুরোনো প্রভাববলয় নতুন বাস্তবতায় আবারও নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে?  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
রাজাপুর ডাকবাংলো
রাজাপুরে ডাকবাংলোয় ওসির দখলে, স্থানীয়দের ক্ষোভ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ব্যবহার করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বসবাস করছেন—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভারত থেকে আসা ধর্মীয় মেহমানদের আবাসনের সংকট তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাজাপুর থানায় যোগ দেন ওসি সুজন বিশ্বাস। যোগদানের পর তিনি থানার সরকারি বাসভবনে না উঠে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় অবস্থান নেন। এর আগে রাজাপুর থানার ওসিরা সাধারণত থানার ভেতরে নির্ধারিত সরকারি ভবনেই বসবাস করতেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ডাকবাংলো ব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ডাকবাংলোর প্রধান ফটকও অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। গত শুক্রবার ভারতের জৌনপুর থেকে তিনজন আলেম ধর্মীয় প্রচারণার উদ্দেশ্যে রাজাপুরে আসেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর তারা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করে ওই ডাকবাংলোতেই অবস্থান করতেন। তবে এবার ওসির অবস্থানের কারণে সেখানে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। একজন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি বলেন, প্রতিবছর জৌনপুরের আলেমরা এ এলাকায় আসেন এবং সাধারণত দুই দিন ডাকবাংলোতে অবস্থান করেন। কিন্তু এবার উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা করা না যাওয়ায় স্থানীয়রা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার মো. মানিক তালুকদার জানান, ভবনটি ফাঁকা থাকায় কয়েক দিন আগে ওসি সেখানে ওঠেন। বর্তমানে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ রাখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরী বলেন, থানার ভেতরে ওসির নির্ধারিত বাসভবনে সংস্কারকাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তিনি ডাকবাংলো ছেড়ে দেবেন। এ বিষয়ে ওসি সুজন বিশ্বাস বলেন, থানার ভেতরে ওসিদের থাকার মতো মানসম্মত ভবন বর্তমানে নেই। আগের ভবনটি পরিত্যক্ত ও বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় বাধ্য হয়েই তিনি ডাকবাংলোয় অবস্থান করছেন। তবে স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, সরকারি আবাসন সংকটের সমাধান জনসাধারণের ব্যবহারের স্থাপনা দখল করে হওয়া উচিত নয়। দ্রুত ডাকবাংলোটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
পুলিশ পদক স্থগিত
বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নাম থাকায় পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান স্থগিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পুলিশ সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষে ঘোষিত পুলিশ পদক প্রদান অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় বিতর্কিত ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার পুরস্কার পাওয়া কর্মকর্তাদের নাম উঠে আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র বলছে, এ বছর মোট ১০৭ জন পুলিশ সদস্যের পদক পাওয়ার কথা ছিল। তাদের মধ্যে অন্তত ১১ জন কর্মকর্তা অতীত সরকারের আমলেও পদক পেয়েছিলেন। এদের একজন বিগত সরকারের সময়ে দুইবার পদক লাভ করেন। পদকের জন্য মনোনীত অন্তত ছয়জন কর্মকর্তা কালবেলাকে জানিয়েছেন, তাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে যে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে পদক প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা আপাতত বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও তাদের জানানো হয়। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি— পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় কয়েকজন বিতর্কিত সদস্যের নাম শেষ মুহূর্তে নজরে আসায় অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। তবে শনিবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ ও ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য ‘বিপিএম-সেবা’ ও ‘পিপিএম-সেবা’ পদক দেওয়ার কথাও জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদকপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেবেন। এর আগে, গত ২ মে থেকে পদকের জন্য মনোনীত সদস্যরা রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে প্যারেডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই প্রতিপাদ্যে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে রোববার। চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। রোববার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যও দেবেন। এবারের প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেবেন প্যারেডে। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে গত বছরের কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬ 0
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
মব সহিংসতা ও কিশোর গ্যাং দমনে কার্যকর ভূমিকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শনিবার (৯ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। আগামীকাল ১০ মে শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরেছে।” তিনি আরও বলেন, জনগণ এখন এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রত্যাশা করে যেখানে গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না এবং মানুষ জানমাল, অবিচার বা নির্যাতনের শঙ্কামুক্ত জীবনযাপন করতে পারবে। এই পরিস্থিতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। “জনগণের আস্থা ছাড়া পুলিশের কাজ কঠিন” প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই। তবে জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে পুলিশের দায়িত্ব পালন আরও সহজ হবে। তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। তাঁর ভাষায়, পুলিশ সপ্তাহ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জনগণের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি সুযোগ হওয়া উচিত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার বিবৃতিতে সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার একটি “সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র” গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে মানুষের মনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত না হলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার।” নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উপযোগী ও অনুকূল পরিবেশ পেলে পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম—সাম্প্রতিক নির্বাচন সেই সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের উল্লেখ বাংলাদেশ পুলিশের আন্তর্জাতিক অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের ভূমিকা বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। “জননিরাপত্তায় বিনিয়োগ অপরিহার্য” প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতি একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এজন্য পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৯, ২০২৬ 0
আশিক সাঈদ
বরিশাল মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার আশিক সাঈদ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে বরিশাল মহানগর পুলিশের (বিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ। মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির কথা জানানো হয়। একই প্রজ্ঞাপনে বিএমপির বিদায়ী কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামকে ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এদিন পৃথক আরেক প্রজ্ঞাপনে ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার মোট ৩৯ জন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও নতুন পদে পদায়ন করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মো. জিললুর রহমানকে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আরএমপির নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ডিআইজি মোহা. ফয়েজুল কবির। এছাড়া, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মুশফেকুর রহমানকে পুলিশ সদরদপ্তরে ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলামকে সিআইডির ডিআইজি এবং সিআইডির ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদারকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি) সানা শামীনুর রহমানকে সিআইডিতে এবং সিআইডির ডিআইজি মোহাম্মদ শামসুল হককে ডিএমপিতে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া একাধিক পুলিশ সুপার ও উপ-পুলিশ কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তাকেও বিভিন্ন ইউনিটে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। জেলা পর্যায়েও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। পঞ্চগড়, বান্দরবান, জয়পুরহাট, পাবনা, নীলফামারী, নড়াইল, সাতক্ষীরা, চাঁদপুর, ঝালকাঠি, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম ও ফেনীসহ বিভিন্ন জেলায় নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার
গফরগাঁওয়ে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৪ বছরের কিশোর গ্রেপ্তার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ৫ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত কিশোর স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার (৩ মে) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে শনিবার (২ মে) রাত ১১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে পাগলা থানা পুলিশ তাকে আটক করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে শিশুটিকে টেলিভিশন দেখানোর কথা বলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় অভিযুক্ত কিশোর। পরে সেখানে শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২৭ এপ্রিল তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন চিকিৎসার পর ২৯ এপ্রিল তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর গত ৩০ এপ্রিল মধ্যরাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পাগলা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মামলার পর অভিযুক্ত কিশোর চট্টগ্রামে আত্মগোপনে গিয়েছিল। তবে পুলিশের তৎপরতায় সে আবার এলাকায় ফিরে এলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
পিরোজপুরে জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার ৩
পিরোজপুরের নাজিরপুরে জাল নোটসহ তিনজন গ্রেপ্তার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় জাল টাকার নোটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩ মে) বিকেলে উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের মাটিভাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাঁচটি এক হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মৃত আবু বক্কর খলিফার ছেলে রাসেল খলিফা (৪৫), পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের মো. দুলাল শেখের পুত্র মো. সাইদুল ওরফে রানা (৪৮) এবং মো. মজিবুর খানের ছেলে হাসিব খান (৪৬)। নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
আটক পিকআপচালক নূর মোহাম্মদ মামুন।
শেরপুর থানায় ‘ম্যাডাম’ বলায় যুবককে আটকের অভিযোগ, দেড় ঘণ্টা আটক রেখে মুচলেকায় মুক্তি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বগুড়ার শেরপুর থানায় কর্তব্যরত এক নারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) কর্তৃক ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে এক পিকআপচালককে প্রায় দেড় ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে ঘটে বলে জানা গেছে। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হস্তক্ষেপ করলে মুচলেকা নিয়ে ওই ব্যক্তিকে তার অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনে ক্ষোভ, আটকে রাখার অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা গ্রামের পিকআপচালক নূর মোহাম্মদ মামুন তার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে থানায় যান, যিনি একটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। থানায় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে থাকা এসআই রোখসানা খাতুনকে সালাম দিয়ে ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করলে তিনি ক্ষুব্ধ হন—এমন অভিযোগ ওঠে। এরপর মামুনকে থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক কক্ষে আটক রাখা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ওসি এসএম মঈনুদ্দীনের হস্তক্ষেপে তাকে মুচলেকা নিয়ে স্বজনদের জিম্মায় দেওয়া হয়। স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ওই নারী এসআইয়ের বিরুদ্ধে অতীতেও অসদাচরণ ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী হিসেবে রেজাউল করিম, হাসান ও নাঈম ইসলাম জানান, কয়েক মাস আগে থানায় গেলে তাদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং ধমক দিয়ে থানা থেকে বের করে দেওয়া হয়। আরেক ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন দাবি করেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে একই ধরনের আচরণের বিষয়ে তিনি থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছিলেন। পুলিশের অবস্থান শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনকে কেন্দ্র করে পিকআপচালককে আটক রাখার বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগের বিষয়ে এসআই রোখসানা খাতুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। বদলি ও শাস্তির দাবি ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ মামুন এবং স্থানীয়রা অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাকে অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
উজিরপুর থানা
বরিশালে তিন পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্ট পজিটিভ

 বরিশাল অফিস :   বরিশাল জেলায় তিন পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্টে মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি ধরা পড়ায় পুরো পুলিশ বিভাগে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাহিনীকে মাদকমুক্ত রাখতে চলমান নজরদারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার উজিরপুর থানায় কর্মরত সদস্যদের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে ডোপ টেস্ট পরিচালনা করা হয়। তিন দিন আগে অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় তিন কনস্টেবলের ফল পজিটিভ আসে। এরপরই তাদের বরিশাল জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষায় “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো সদস্য মাদক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উজিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংশ্লিষ্ট তিন সদস্যকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের একাধিক সদস্য, যারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থাকতে চেয়েছেন, জানিয়েছেন যে জেলার সব থানায় ধাপে ধাপে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে উজিরপুর থানার সদস্যদের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুলিশের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। যে কোনো সদস্য মাদক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে, পুলিশের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান জোরদার করার অংশ হিসেবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এতে বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
ভিআইপি প্রটোকল
ভিআইপি নিরাপত্তায় বিতর্কিত নিয়োগ: দেহরক্ষীদের নিয়ে অস্বস্তিতে সরকার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের একটি অংশকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এদের অনেকেই পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন—যা বর্তমান সরকারের নিরাপত্তা কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগ ওঠার পর অন্তত ১২ জন দেহরক্ষীকে ইতোমধ্যে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৩০ জনকে নিয়ে চলছে যাচাই-বাছাই।  নিয়োগে নীতিগত সিদ্ধান্ত, বাস্তবে ব্যত্যয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথের আগেই একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল—পূর্ববর্তী সরকারের সময় দায়িত্বে থাকা কোনো দেহরক্ষীকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, তদবির, সুপারিশ—এমনকি কিছু ক্ষেত্রে উৎকোচের বিনিময়ে—সেই সিদ্ধান্ত ভেঙে বিতর্কিত ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)-এর প্রধান সরদার নুরুল আমিন বলেন,  “দেহরক্ষী নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে বদলি করা হয়েছে, অন্যদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।”  কারা এই দেহরক্ষীরা? পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় মোট ১১১ জন পুলিশ সদস্যকে গানম্যান বা দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তে উঠে এসেছে—এদের একটি বড় অংশই আগের সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সেই সময়ের মন্ত্রীদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে: * ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন * রাজনৈতিক ‘কোটা’ বা সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছিলেন * সাবেক এমপি বা নেতাদের আত্মীয়স্বজন নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই ধরনের নিয়োগ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্যের গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী: * ভিআইপিদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনে অনেক দেহরক্ষীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে * বিষয়টি আইজিপিকে অবহিত করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানানো হয় * কয়েকজনকে দ্রুত প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে একই ব্যক্তি, ভিন্ন সরকার—একই দায়িত্ব তদন্তে দেখা গেছে, অনেক দেহরক্ষী বিভিন্ন সরকারের সময় একই ধরনের দায়িত্বে বহাল ছিলেন। উদাহরণ হিসেবে: * একজন কনস্টেবল আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীর দেহরক্ষী ছিলেন, পরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমানে স্পিকারের নিরাপত্তায় * আরেকজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী, পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রীর অধীনে দায়িত্ব পালন করছেন এমন একাধিক উদাহরণ প্রশাসনের ভেতরে ধারাবাহিক প্রভাব ও নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  বিশেষজ্ঞদের মত টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন,  “পুলিশ এখনো পুরোপুরি পেশাদার হয়নি। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি এড়িয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন।” সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন,  “নিয়োগ যদি দলীয় বিবেচনায় হয়, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।”  চলমান পদক্ষেপ এসবির তথ্যমতে: * অন্তত ১২ জন দেহরক্ষী ইতোমধ্যে বদলি হয়েছেন * আরও অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে * নিয়মিত ভেটিং প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়েছে সরদার নুরুল আমিন বলেন, > “প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।”  বড় প্রশ্ন এই ঘটনার পর মূল প্রশ্নগুলো সামনে আসছে: * ভিআইপি নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত? * নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব কি? * পুলিশ বাহিনী কি সত্যিই দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে—রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর জনআস্থা কতটা টিকে থাকবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
এমএ আবুল খায়ের
ক্ষমতার বলে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি গড়েছেন ওসি আবুল খায়ের!

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : এম এ খায়ের কাওছার ওরফে আবুল খায়ের।ওসি খায়ের নামে পরিচিত।ঘুরে ফিরে বরিশাল বিভাগেই কর্মরত।বিতর্ক যেন তার পিছু লেগেই আছে। ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও নারী কেলেঙ্কারির পর এবার যোগ হয়েছে জুয়ার খেলোয়াড় হিসেবে।গড়েছেন সম্পদের পাহাড়ও। টাকার গরমে প্রতিনিয়ত বসেন হাজার হাজার টাকা নিয়ে জুয়ার আসরে। যেখানেই যান সেখানেই বিতর্কিত যেখানেই যান সেখানেই বিতর্কিত হয়ে রাতের আধারে চলে আসতে হয়। ওসির ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ–দুর্নীতির মাধ্যমে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ আবুল খায়ের তার স্ত্রী,শাশুড়ী, নামে -বেনামে ও শ্বশুরের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি গড়েছেন। শুধু অবৈধ সম্পদ উপার্জনই নয়, তার বিরুদ্ধে রয়েছে ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা-সহ নানা অভিযোগ। মহিপুর থানার সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার নির্যাতনের শিকার একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে এসব জানা যায়। ওই থানার আওতাধীন নির্যাতিত সাধারণ মানুষের দাবি একটাই, এই দুর্নীতিবাজ ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী কর্মকর্তাকে যেন বিচারের মুখোমুখি করা হয়।  কুয়াকাটায় শ্বশুরের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রয় মহিপুর থানার সাবেক ওসি খন্দকার মো. আবুল খায়ের কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রথমে নিজের নামে বায়না রেজিস্ট্রি করলেও পরবর্তিকালে ওই জমি শ্বশুরের নামে কিনেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। ওই সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় কোনো অর্থ পরিশোধ না করে প্রতিবেশী হালিম মোল্লা নামের এক জমির মালিককে জেল হাজতে প্রেরণ করে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাবেক ওই কর্মকর্তা ওই থানায় কর্মরত অবস্থায় প্রকাশ্যে ট্যুরিজম সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। দাবিকৃত অর্থ না দিলে চলতো হয়রানি ও মামলা দেওয়ার হুমকি।   টাকা না দিয়ে যেভাবে দখল করেছেন জমি জমি সংক্রান্ত ভুক্তভোগী হালিম বলেন, দেড় বছর আগেও পটুয়াখালীর পশ্চিম কুয়াকাটা এলাকায় সড়ক লাগোয়া ৭ শতাংশ জমির বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। হঠাৎ ২০২৩ সালের কোনো এক রাতে তৎকালীন মহিপুর থানার ওসি খন্দকার মো. আবুল খায়ের একটি মামলায় স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য হালিম মোল্লা ও তার ছেলেসহ থানায় নিয়ে আসে। পরের দিন সকালে তাদের একটি মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করেন। সাত দিন হাজত বাস শেষ করে বাড়ি ফিরে দেখেন কোনো অর্থ পরিশোধ না করে তার বাড়ির ওই সম্পত্তির চারপাশে উচ্চ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে জমি দখলে নেয় ওসি। পরবর্তীকালে সেখানে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করে সেখানে ওই জমির মালিক হিসেবে ওসি খায়েরের শ্বশুর মো. এনায়েত করিমের নাম লিখে দেন। আর তার বাড়িতে তিনি পরিবারসহ প্রবেশ করতে চাইলে মামলা ও গুম হওয়ার হুমকি দেন ওসি।  রেহাই পায়নি সরকারের খাস জমিও তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছ থেকে জোর করে নেয়া সাত শতাংশ জমির পাশাপাশি ক্রয় করেছেন মোট ৬০ শতাংশ জমি এবং তার হাত থেকে রেহাই পায়নি সরকারের খাস জমিও। এই সব জমি একসঙ্গে করেই গড়েন সীমানা প্রাচীর।   এদিকে সাইনবোর্ডে জমির তফসিল উল্লেখ থাকলেও পরিমাণ উল্লেখ নেই। সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, রেজিস্ট্রি বায়না সূত্রে এই জমির মালিক মো. এনায়েত করিম। জেএল নং ৫৭, কুয়াকাটা মৌজা, বিএসখতিয়ান নং ১২৮৪, বিএসদাগ ১২২৯। তবে বায়না রেজিস্ট্রি দলিল অনুযায়ী জমির পরিমান ৬০ শতাংশ। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।   স্থানীয় বাসিন্দা শুকুর মাঝি জানান, ওসি খায়ের তার শ্বশুরকে উপহার দেওয়া সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় কোনো অর্থ পরিশোধ না করে হালিম মোল্লা নামের এক জমির মালিককে জেল হাজতে প্রেরণ করে জমি দখলে নিয়েছেন। অসহায় পরিবারটি আজ ভূমিহীন অবস্থায় আছেন। সাবেক ওসি দুর্নীতির সরজমিনে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর।    খায়েরের অভিনব কৌশলে  চাঁদাবাজি কুয়াকাটা ফিশ ফ্রাই মার্কেটের মো. কাওসার বলেন, ওসি খায়ের সাহেব একজন অসৎ মানুষ। থানায় কর্মরত থাকাকালীন আমাকে অফিসে ডেকে টাকা চায়। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে আমার দোকানের বৈদ্যুতিক লাইন কেটে দেয়। পরে টাকা দিয়ে সংযোগ আবারও চালু করি। আমার ফিশ ফ্রাইয়ের দোকান থেকে বিভিন্ন সময় মেহমান এবং তার পরিবার নিয়ে এসে মাছ খেয়ে টাকা না দিয়ে চলে গেছে।   বিএনপির সমর্থনকারীদের থেকে চাঁদা নিতো খায়ের স্থানীয়রা জানিয়েছেন,  বিএনপির সমর্থনকারীদের থেকে ওসি  প্রায়ই চাঁদা নিতো। টাকা না দিলে মামলার হুমকি দিতো। বিএনপি করো কেন- সেজন্য সবসময় গালমন্দ করতো। মহিপুর থানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে তার মতো অসৎ এবং দুর্নীতিবাজ ওসি এ থানায় আসেনি। ওসি খায়ের মহিপুর থানায় কর্মরত সময়কালে কী কী অপকর্ম করেছে এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচারের দাবি জানাচ্ছি।   প্রতিমন্ত্রীর ছেলে পরিচয় দিত ওসি খায়ের কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদল নেতা সোহেল রানা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালীন প্রতিমন্ত্রীর ছেলে পরিচয় দিয়ে এই ওসি খায়ের বহু মানুষকে অত্যাচার করেছে। বিনা অপরাধে আমাকে বহু মামলায় অজ্ঞাত আসামি করার ভয় দেখিয়ে প্রায় প্রায় মোটা অংকের টাকা নিতো। টাকা না দিলে থানার লোক পাঠিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাতো। টাকা দেওয়া মাত্র চলে যেতো। ওসি খায়ের এভাবে শুধু আমাকে নয় বিএনপির সকল নেতা-কর্মীকে এভাবে রাত-দিন ভয়ভীতি ও হুমকির মাধ্যমে অত্যাচার চালাত। তিনি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কলঙ্ক বলে মনে করছি আমি।   ঘুষ না দিলে গুম ও মিথ্যামামলায় ফাঁসানোর হুমকি ট্যুরিজম সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, ওসি খায়ের থানায় কর্মরত অবস্থায় প্রকাশ্যে চাঁদা গ্রহণ করতেন। আর ঘুষের অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে বা অপারগতা প্রকাশ করলে গুম ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানোর অভিযোগ করেন অনেক ভুক্তভোগী। এছাড়া সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ক্ষমতা দেখিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাত বলে অভিযোগ রয়েছে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন আবাসিক হোটেল রেস্টুরেন্ট ও নিত্য প্রয়োজনীয় দোকানপাট থেকে বাকিতে মালামাল নিয়ে টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে একাধিক। এমনকি সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদকে প্রকাশ্যে আব্বা বলে সম্বোধন করতেন।  রেষ্টুরেন্টে খেত ফাঁও কুয়াকাটার বৈশাখী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের মালিক ইমাম হোসেন বলেন, মহিপুর থানার ওসি খায়ের সাহেব এখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় কুয়াকাটা আসলেই তিনি আমার হোটেলে খাওয়া দাওয়া করতেন। কিন্তু কোনো সময় টাকা পরিশোধ করতেন না। টাকা চাইলে বলতো, লিখে রাখুন খাতায়। এভাবে খেতে খেতে তিনি ২৭ হাজার ২৪০ টাকা বিল করেছেন। কিন্তু যাওয়ার আগে তিনি বিল পরিশোধ না করেই চলে গেছেন। আমি আমার এই টাকা ফেরত চাই।   বিনা অপরাধে সাদ্দাম মালকে আটক করে জনপ্রিয় অভিনেতা সাদ্দাম মাল জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিনা অপরাধে করাবাস করিয়েছেন ওসি খায়ের। জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সাদ্দাম মাল বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিনা অপরাধে বাদীপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ করে, আমাকে বেশ কয়েকদিন কারাবাস করিয়েছেন ওসি খায়ের। আমার সাথে অন্যায় হয়েছে এমনটা বলে ওসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন সে সময়। জমিজমা সংক্রান্ত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তিনি আমার কাছ থেকে একটি মোটা অংকের টাকাও নিয়েছেন। এবং সে বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিক তৎকালীন উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছিলাম।  অভিনেতা আরও বলেন, তার কাছে কেউ নিরাপদ নয়। দুর্নীতিবাজ সাবেক ওসির দুর্নীতির সঠিক তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান এই শিল্পী।  বর্তমানে কর্মরত নলছিটি পুলিশ ফাড়িতে ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ১ জুন পর্যন্ত এ থানায় কর্মরত ছিলেন। এরপর সেখান থেকে পটুয়াখালী পুলিশ লাইনে। সেখান থেকে বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে কিছু দিনের জন্য ঝালকাঠি জেলার সদর থানার শেখেরহাট তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে আবার তাকে ঝালকাঠি পুলিশ লাইনে নিয়ে আসা হয়। পরে ঝালকাঠি সদর ফাঁড়ি ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।বর্তমানে নলছিটি পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত আছেন এই কর্মকর্তা। জুয়ার আসরে খায়ের সম্প্রতি বরিশালের ফকিরবাড়ি রোডের একটি ফ্লাটে জুয়া খেলার খবর ভিডিও ও ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হলে ওসি খায়েরের অপকর্ম সামনে চলে আসে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে নগরীর একটি ফ্লাটে জুয়া খেলা চলছে এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে যান সাংবাদিকরা। সেখানে গিয়ে দেখেন একটি লম্বা টেবিল। টেবিল ঘেঁষে চারদিকে চেয়ার সাজানো। চেয়ারে পাঁচ থেকে ছয়জন বসে আছেন। একপাশে ওসি এমএ আবুল খায়েরও বসে রয়েছেন।প্রত্যেকের সামনে টেবিলে মানিব্যাগ ও মোবাইল রাখা। প্রত্যেকের সামনে টেবিলের ওপরে তাস ও ৫০০-১০০০ টাকার নোট। চেয়ারে বসে টেবিল থেকে তাস নিচ্ছে। সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখেই কয়েকজন দৌঁড়ে পালিয়ে যান।এসময় আবুল খায়ের ক্যামেরা থেকে নিজেকে আড়াল করতে টাকা আর মোবাইল নিয়ে পাশের বাথরুমে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা আটকে দেন। এরপর সুযোগ বুঝে তড়িঘড়ি করে তিনি নেমে যান। পরে অন্য লোক দিয়ে সাংবাদিকদের ম্যানেজের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। নারী কেলেঙ্কারি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার সাবেক ওসি  খায়ের পুলিশের গাড়ি ব্যাবহার করে নারী নিয়ে কুয়াকাটার একটি নামি দামি রিসোর্টে গিয়ে নিয়মিত ফূর্তি করতেন।  কুয়াকাটার বিলাসবহুল ঐ রিসোর্টের সামনে সরকারি গাড়ি থামিয়ে নারী নিয়ে প্রবেশের একটি ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন এক প্রবাসী সাংবাদিক। সচেতন মহলের মতে,এসব বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হলে পুলিশ বিভাগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।ভেঙ্গে পড়বে চেইন অব কমান্ড  তার খায়েরের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেযার দাবী জানিয়েছেন।                                                                                                                              

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
ভোলার সাবেক এসপি শরীফুল হক
ভোলার সাবেক এসপি শরীফুল হকের বিরুদ্ধে কল্যাণ তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) শরীফুল হকের বিরুদ্ধে পুলিশের কল্যাণ তহবিলের সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের সঙ্গে ৩২ পৃষ্ঠার নথি ও প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়, শরীফুল হক ভোলায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ বিভিন্ন খাত থেকে আত্মসাৎ করেছেন। বিশেষ করে ঠিকাদারের মাধ্যমে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অন্তত দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই অর্থের হিসাব কেবল ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের আংশিক অংশ থেকে পাওয়া গেছে; আগের বছরের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। অর্থ আত্মসাতের কৌশল ও খাত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, পুলিশের কল্যাণ তহবিলের বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকাও নথির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ব্যয়ের অসঙ্গতি এবং কাগুজে লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ সরানোর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, আগের এসপির সময় কেনা প্রায় চার লাখ টাকার সিসিটিভি সরঞ্জাম ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিও আত্মসাৎ করা হয়েছে। পোস্টিং ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ অভিযোগে আরও বলা হয়, ভোলায় দায়িত্ব পালনের সময় অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং দেওয়া এবং বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশের রেশন স্টোর থেকে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা এবং পুলিশ লাইন মেস থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। তদন্তের দাবি অভিযোগকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।  সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া নথিপত্র প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হলে বিষয়টি তদন্তের পর্যায়ে যেতে পারে।   বাংলাদেশে সরকারি খাতে দুর্নীতি, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। তবে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতি এখন নজরে রাখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
জুয়া আসর
বরিশালে ফ্ল্যাটে জুয়ার আসর: ক্যামেরা দেখে পালালেন ওসি আবুল খায়ের, তদন্তের দাবি

বরিশাল অফিস :   বরিশাল নগরীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে জুয়া খেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছেন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন শিক্ষা কর্মকর্তা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্যামেরা দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত স্থান ত্যাগের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় জবাবদিহি ও কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ঘটনাস্থলে যা দেখা গেছে সাংবাদিকদের দাবি, গত ১৩ এপ্রিল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা নগরীর একটি ফ্ল্যাটে যান। সেখানে গিয়ে তারা একটি লম্বা টেবিল ঘিরে পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তিকে বসে থাকতে দেখেন। প্রত্যেকের সামনে তাস, নগদ টাকা (প্রায় ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার নোট), মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ রাখা ছিল। ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, ক্যামেরা দেখতে পেয়ে উপস্থিত কয়েকজন দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের একজন ইন্সপেক্টর হিসেবে পরিচিত হেলালও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এম এ আবুল খায়ের নিজেকে আড়াল করতে পাশের একটি বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন এবং পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে বেরিয়ে চলে যান। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ঘটনার পর মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে তা সফল হয়নি। অভিযুক্তদের অবস্থান হেলাল নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি মুঠোফোনে জানিয়েছেন, তিনি জুয়া খেলতে যাননি; বরং “পাওনা টাকা আনতে” সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, তিনি বর্তমানে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের একজন ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যদিও তিনি নিজেকে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। অন্যদিকে, এম এ আবুল খায়ের বর্তমানে ঝালকাঠির নলছিটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি পটুয়াখালীর মহিপুর থানার ওসি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ নানা অভিযোগ থাকার কথাও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচিত। বৃহত্তর প্রশ্ন: আইনরক্ষকের ভূমিকা ঘটনাটি সামনে আসার পর সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—যারা আইন প্রয়োগের দায়িত্বে, তাদের বিরুদ্ধেই যদি আইন ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে, তবে তা কতটা গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ঘটনা পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এবং জনসাধারণের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আইন ও আস্থার প্রশ্ন বিশ্লেষকরা বলছেন, জুয়াসহ নানা অপরাধ দমন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধেই যদি এ ধরনের অভিযোগ ওঠে, তবে তা জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। তদন্তের দাবি ভিডিও প্রমাণ থাকার দাবি ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন—এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত হবে কি না এবং হলে তা কতটা নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
কোহিনুর মিয়া
১৫ বছর পর বরখাস্ত আদেশ বাতিল, অতিরিক্ত ডিআইজি পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পেলেন কোহিনূর মিয়া

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দীর্ঘ দেড় দশক পর পুলিশের চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মো. কোহিনূর মিয়াকে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি, চতুর্থ গ্রেড) পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। রোববার (১২ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে জারি করা বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুটি বিভাগীয় মামলায় কোহিনূর মিয়াকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে একই অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলাগুলোতে আদালত তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দেন। পরে তিনি গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি তা মঞ্জুর করেন। এর ফলে তার বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং ওই সময়কালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তিনি বিধি মোতাবেক সব বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এর আগে গত ৯ মার্চ সরকার তার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের পশ্চিম অঞ্চলের উপকমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কোহিনূর মিয়াকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।  কে এই কোহিনূর মিয়া? বিসিএস ১২তম ব্যাচের কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায়। বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় তিনি আস্থাভাজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০৬ সালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে শাহিন সুলতানা শান্তা নামে এক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে তাকে খালাস দেন। এছাড়া ২০০৪ সালে ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাতেও তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। ২০১১ সালে সিআইডি অভিযোগপত্র দিলেও আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সেখান থেকেও তিনি খালাস পান। সবশেষে আদালতের রায় ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ১৫ বছর পর তিনি তার হারানো পদমর্যাদা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ফিরে পেলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান ওরফে নিজাম।
বাকেরগঞ্জে ১৬ মামলার আসামি আন্তঃজেলা ডাকাত নিজাম গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস :    বরিশালের বাকেরগঞ্জে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং একাধিক মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে নিজামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রানীরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান (৪০) উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম চরামদ্দি গ্রামের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে। পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে বরিশাল, মাদারীপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা জেলায় ডাকাতি এবং ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে অন্তত ১৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম সোহেল রানা জানান, মিজানুর রহমান একজন পেশাদার ডাকাত এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
আব্দুল জলিল মন্ডল
সাবেক সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডল ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার | শাপলা চত্বর মামলায় ওয়ারেন্ট

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে সাবেক চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ধানমন্ডিতে তার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ডিবি সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি একই বাহিনীতে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, কর্মজীবনের এক পর্যায়ে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
যুবককে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক তরুণীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বরিশালে হোটেলে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র: তরুণীসহ গ্রেপ্তার ২, মালিক-ম্যানেজারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গির্জামহল্লা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ‘হানিট্র্যাপ’ ফাঁদ পেতে এক যুবকের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এক তরুণীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হোটেলের মালিক ও ম্যানেজারসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং এটি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কার্যক্রমের ইঙ্গিত দিতে পারে। তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, একই কৌশলে আরও অনেক ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। কীভাবে ফাঁদে পড়েন ভুক্তভোগী মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম খান (ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়নি) গত ৭ মার্চ বিকেলে আব্দুর রহমান নামে এক পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ফোন পান। ফোনে আব্দুর রহমান তাকে জরুরি কাজের কথা বলে নগরীর গির্জামহল্লা এলাকায় আসতে বলেন। সিরাজুল ইসলামের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি রাত প্রায় ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছালে তাকে কৌশলে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে হোটেল ইম্পেরিয়ালের চতুর্থ তলার ৪২৮ নম্বর কক্ষে ঢুকতে বলা হয়। কক্ষটিতে ঢোকার পরই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি ও ভিডিও ধারণ ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কক্ষে ঢোকার পর সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি ওত পেতে ছিলেন। একপর্যায়ে চক্রের নারী সদস্য মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা তার সঙ্গে কুশল বিনিময়ের ভান করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করে পরিস্থিতিকে ‘অপত্তিকর’ আকার দেওয়ার চেষ্টা করে। সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন লোক এসে আমাকে জোর করে বিছানায় বসায়। এরপর তারা বলে আমি নাকি ওই মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত।” তার অভিযোগ, তখনই তারা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। অর্থ দাবি ও ছিনতাই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভিডিও ধারণের পর চক্রের সদস্যরা সিরাজুল ইসলামের কাছে টাকা দাবি করতে থাকে। প্রথমে তারা তার পকেটে থাকা ১২০০ টাকা নিয়ে নেয়। পরে আরও ১৩ হাজার টাকা দিতে চাপ দেয়। প্রাণভয়ে সিরাজুল কৌশলে তার এক পরিচিত ব্যক্তি হিজবুল্লাহ সম্রাটকে বিষয়টি জানাতে সক্ষম হন। পুলিশের অভিযান সিরাজুলের কাছ থেকে খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানা দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশ হোটেল ইম্পেরিয়ালে পৌঁছালে অভিযুক্ত চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা (চক্রের নারী সদস্য) সান্টু হাওলাদার (সহযোগী) পুলিশ জানায়, তাদের বিরুদ্ধে মামলার ভিত্তিতে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম খান বাদী হয়ে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন— হোটেল মালিক মানিক হাওলাদার ম্যানেজার আব্দুল হাই বশির মোল্লা আবিদ হাসান জাকির হোসেন গাজী আব্দুর রহমানসহ আরও কয়েকজন পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের বক্তব্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সনজিৎ চন্দ্র নাথ বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ‘হানিট্র্যাপ’ অপরাধ বর্তমানে বিভিন্ন শহরে সংঘবদ্ধভাবে ঘটছে কিনা সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ‘হানিট্র্যাপ’ কী এবং কীভাবে কাজ করে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ‘হানিট্র্যাপ’ একটি প্রতারণামূলক কৌশল, যেখানে সাধারণত একজন নারী বা পুরুষকে ব্যবহার করে টার্গেট ব্যক্তিকে আপত্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এই ধরনের চক্র সাধারণত কয়েকটি ধাপে কাজ করে— ১. টার্গেট নির্বাচন ২. পরিচিত বা বিশ্বাসযোগ্য কারও মাধ্যমে যোগাযোগ ৩. নির্জন স্থান বা হোটেলে ডেকে নেওয়া ৪. আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি ৫. ভিডিও বা ছবি ধারণ ৬. ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। আবাসিক হোটেলগুলো কেন ঝুঁকিপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় অপরাধীরা আবাসিক হোটেলকে ব্যবহার করে কারণ— সেখানে সহজে কক্ষ ভাড়া পাওয়া যায় পরিচয় যাচাই অনেক সময় দুর্বল সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ সীমিত হোটেল কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে এই ঘটনার ক্ষেত্রেও হোটেল মালিক ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অপরাধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ প্রযোজ্য হতে পারে। যেমন— ছিনতাই প্রতারণা চাঁদাবাজি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র মানহানির হুমকি যদি প্রমাণিত হয় যে হোটেল কর্তৃপক্ষ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই অভিযোগ করেন না ক্রাইম বিশ্লেষকদের মতে, ‘হানিট্র্যাপ’ অপরাধের অনেক ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না। কারণ— সামাজিক লজ্জার ভয় পারিবারিক সমস্যার আশঙ্কা ব্ল্যাকমেইলের ভয় আইনগত জটিলতা ফলে অপরাধচক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকতে পারে। তদন্ত কোন দিকে এগোচ্ছে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা হচ্ছে— হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ মোবাইল ফোনের ভিডিও ও কল রেকর্ড চক্রের সদস্যদের আর্থিক লেনদেন পূর্বের সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের তথ্য তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এটি একটি সংগঠিত চক্র হতে পারে যারা দীর্ঘদিন ধরে একই পদ্ধতিতে প্রতারণা করে আসছিল। সতর্কতার পরামর্শ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাগরিকদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে— অপরিচিত বা কম পরিচিত কারও ডাকে নির্জন স্থানে না যাওয়া আবাসিক হোটেলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশকে জানানো ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে আইনগত সহায়তা নেওয়া   বরিশালের এই ঘটনাটি শুধু একটি ছিনতাইয়ের অভিযোগ নয়, বরং এটি নগর জীবনে নতুন ধরনের প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে জানা যাবে—এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি বড় কোনো অপরাধচক্রের অংশ। ততদিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
সাজ্জাত আলী
পদত্যাগ করলেন ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী

পারিবারিক কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অব্যাহতিপত্রে সই করে তিনি তা পুলিশ সদরদফতরে পাঠান। বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিজেই নিশ্চিত করেছেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, “পারিবারিক কারণেই অব্যাহতির আবেদন করেছি। সরকার এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।” ডিএমপির ৩৮তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। একই দিন তাকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন ও শৃঙ্খলা জোরদারের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। চাকরির নিয়মিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শেখ মো. সাজ্জাত আলী বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার কারণে তাকে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, তার অব্যাহতির আবেদনের পর ডিএমপির শীর্ষ পদে কে আসছেন—তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0