Brand logo light

বাংলাদেশ পরিবেশ

বরগুনার তালতলী টেংরাগিরি ইকোপার্কের কুমির প্রজনন কেন্দ্রের দুই সদস্য ‘টেংরা’ ও ‘ছখিনা’।
বরগুনার টেংরাগিরি ইকোপার্কে কুমির প্রজনন ব্যর্থতা: এক যুগেও বাঁচেনি কোনো শাবক

বরগুনা:   বরগুনার তালতলীতে অবস্থিত টেংরাগিরি ইকোপার্ক-এর কুমির প্রজনন কেন্দ্র এক যুগের বেশি সময় পেরিয়েও কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের মুখ দেখেনি। ‘টেংরা’ ও ‘ছখিনা’ নামের দুটি কুমির নিয়মিত ডিম দিলেও জন্ম নেওয়া কোনো শাবকই টিকে থাকেনি। ২০১১-১২ অর্থবছরে বন বিভাগের উদ্যোগে মিঠাপানির কুমির সংরক্ষণ ও বংশবিস্তার লক্ষ্যে কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। শুরুতে একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী কুমির দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে মা কুমির ‘ছখিনা’ প্রতিবছর ৮ থেকে ১০টি ডিম দেয়। গত ১৩ বছরে শতাধিক শাবকের জন্ম হলেও একটিও বাঁচেনি। প্রজনন নীতিমালা অনুযায়ী, ডিম ফুটে শাবক বের হওয়ার পরপরই সেগুলোকে বড় কুমির থেকে আলাদা করে নিরাপদ পরিবেশে লালন-পালনের কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। ফলে বড় কুমিরের আক্রমণে নবজাতক শাবকগুলো নিয়মিত মারা যাচ্ছে। সম্প্রতি কেন্দ্রটি ঘুরে দেখা গেছে, একটি সদ্যোজাত শাবক পানিতে টিকে থাকার লড়াই করছে। এর আগের শাবকদের মতো এর ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা। স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম অমি বলেন, “প্রতিবছর বাচ্চা জন্মালেও সেগুলো বাঁচানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই। দক্ষ জনবল নিয়োগ জরুরি।” পরিবেশকর্মী মো. শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, দেশের অন্যান্য প্রজনন কেন্দ্রে কুমিরের সংখ্যা বাড়লেও এখানে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। তার মতে, এতে কেন্দ্রটির সংরক্ষণ ও পর্যটন সম্ভাবনা ব্যাহত হচ্ছে। বন বিভাগের সখিনা বিট কর্মকর্তা রাহিমুল ইসলাম জুয়েল জানান, “শাবক আলাদা করে লালন-পালনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নেই। ফলে বড় কুমিরের আক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না।” তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আলোচনা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই এর সমাধান হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
ঝালকাঠিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নিয়ে বিতর্ক: তিন ফসলি জমি রক্ষায় গ্রামবাসীর প্রতিবাদ
ঝালকাঠিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নিয়ে বিতর্ক: তিন ফসলি জমি রক্ষায় গ্রামবাসীর প্রতিবাদ

ঝালকাঠি: ঝালকাঠি পৌরসভার দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যার সমাধানে একটি নতুন সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৫১ বছরের পুরোনো এই সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানকে অনেকে স্বাগত জানালেও, প্রস্তাবিত স্থানের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রকল্পটি চামটা গ্রামের কুনিয়ারী মৌজায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে অধিকাংশ জমি তিন ফসলি আবাদি। স্থানীয়দের দাবি, এই জমিই তাদের প্রধান জীবিকার উৎস এবং এখানে প্লান্ট নির্মাণ হলে গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। গ্রামবাসীরা বলছেন, “উন্নয়নের নামে মানুষের জীবিকা ধ্বংস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তাদের আশঙ্কা, প্লান্ট চালু হলে বর্জ্য থেকে নির্গত রাসায়নিক ও দুর্গন্ধ আশপাশের জমির উর্বরতা নষ্ট করবে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপিত ইটভাটার কারণে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন এই প্রকল্প সেই ক্ষতিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে তারা মনে করছেন। তাদের মতে, একটি কৃষিনির্ভর এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট স্থাপন পরিকল্পনার ঘাটতিরই ইঙ্গিত দেয়। তারা প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে, সেখানে ময়লার ভাগাড় তৈরি কতটা যুক্তিসঙ্গত? তবে স্থানীয়রা উন্নয়নের বিপক্ষে নন। তারা বিকল্প হিসেবে শহরের উপকণ্ঠে অনাবাদী জমি বা নদীর পাশের ইকো পার্ক এলাকার মতো স্থানে প্লান্ট স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে কৃষিজমির ক্ষতি হবে না। গ্রামবাসীদের স্পষ্ট দাবি, প্রকল্পটি বর্তমান স্থান থেকে সরিয়ে পরিবেশবান্ধব ও জনস্বার্থসম্মত কোনো বিকল্প স্থানে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের ভাষায়, “কৃষকের জীবিকা ধ্বংস করে কোনো আধুনিক শহর গড়া সম্ভব নয়।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
সৈয়দা রিজওয়ানা
সিলেটের পাথর, পলিথিন অভিযান ও নীতি বিতর্কে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনের পরিচিত মুখ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দীর্ঘদিন ধরে নদী, পাহাড় ও বন রক্ষার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর নেতৃত্বে তাঁর ভূমিকা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে। এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সিলেটের পাথর কোয়ারি, পলিথিন নিষিদ্ধকরণ অভিযান এবং নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো ঘিরে ওঠা বিতর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।  সিলেটের পাথর কোয়ারি: সিদ্ধান্ত, বিরোধ ও অভিযোগ সিলেট অঞ্চলের পাথর কোয়ারি ইজারা বন্ধের বিষয়টি কয়েক বছর ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের সিদ্ধান্তকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে ২০২০ সালে পাথর কোয়ারি ইজারা বন্ধ করা হয়। ওই বৈঠকে মূলত সমস্যার সমাধানে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল, সরাসরি ইজারা বন্ধের নয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় আসে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইজারা প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান তা বন্ধ রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন—এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক কর্মকর্তা। এ প্রেক্ষাপটে তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ ওঠে, যেমন: * অবৈধভাবে ইজারা বন্ধে প্রভাব খাটানো * পাথর উত্তোলন সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক * সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় একতরফা অবস্থান গ্রহণ যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  নীতিগত দ্বন্দ্ব: পরিবেশ বনাম অর্থনীতি পাথর কোয়ারি বন্ধের পক্ষে যুক্তি হিসেবে পরিবেশ রক্ষা ও পর্যটন শিল্পের সুরক্ষার কথা বলা হয়। তবে বিপরীত পক্ষ বলছে: * সরকারের রাজস্ব আয় কমে গেছে * স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে * অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণহীন পাথর উত্তোলন বেড়েছে * ভারত থেকে পাথর আমদানি বৃদ্ধি পেয়ে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ তৈরি হয়েছে এছাড়া পরিবেশবিদদের একটি অংশ মনে করেন, নিয়ন্ত্রিত ইজারা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবেশ ও অর্থনীতির মধ্যে ভারসাম্য রাখা সম্ভব ছিল।  পলিথিন নিষিদ্ধকরণ অভিযান: বাস্তবতা বনাম ঘোষণা ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে সুপারশপে এবং নভেম্বর থেকে কাঁচাবাজারে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সরকারের এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। এ বিষয়ে মুহাম্মদ ইউনূস নিজেও বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৫-এ প্লাস্টিককে “পরিবেশের বিষ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ: * কাঁচাবাজারে পলিথিনের ব্যবহার অব্যাহত * উৎপাদন ও সরবরাহে তেমন প্রভাব নেই * বাস্তবায়নে নজরদারির ঘাটতি অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের নামে কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল প্রকাশিত হয়নি।  জবাবদিহির প্রশ্ন শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে একাধিক প্রশ্ন করা হলেও তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য দেননি বলে জানা গেছে। লিখিত প্রশ্ন পাঠানোর পরও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই নীরবতা থেকেই আরও কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে: * পাথর কোয়ারি বন্ধের আইনি ভিত্তি কী? * আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশ কোথায়? * নীতিগত সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা কতটুকু ছিল?   সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দীর্ঘদিনের পরিবেশ আন্দোলনের একজন পরিচিত মুখ হলেও প্রশাসনিক দায়িত্বে তাঁর ভূমিকা নিয়ে এখন বিতর্ক তীব্র। সিলেটের পাথর কোয়ারি থেকে শুরু করে পলিথিন নিষিদ্ধকরণ—দুই ক্ষেত্রেই নীতি, বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর অনেকই এখনও প্রমাণিত নয় এবং তাঁর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অভাব বিষয়টিকে আরও অস্পষ্ট করে তুলেছে। একটি বিষয় স্পষ্ট—পরিবেশ সুরক্ষা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সুশাসনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এখনো বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণের একটি বড় চ্যালেঞ্জ।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বরিশালের তিন ‘নীরব এলাকা’ এখনও কাগজে-কলমে, বাস্তবায়নে নেই অগ্রগতি

বরিশাল : বরিশাল নগরীর শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল এবং বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয় এলাকাকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ‘২০২১ সালে নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন আজও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় এসব এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। প্রচারণায় স্থানীয় জনগণকে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ অনুযায়ী নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তুলে ধরা হয়, যেখানে বলা হয়—এটি মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অনিদ্রা, স্মৃতিশক্তি হ্রাসসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণ হতে পারে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘোষিত নীরব এলাকাগুলোতে যানবাহনের হর্ন বাজানো, উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার এবং অন্যান্য শব্দদূষণ কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল এলাকার মতো সংবেদনশীল স্থানে রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য নিরিবিলি পরিবেশ নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য ছিল, তা এখনও অর্জিত হয়নি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারণা চালানো হলেও পরবর্তী ধাপে কঠোর আইন প্রয়োগের কথা থাকলেও তা দৃশ্যমান হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণের অভাব এবং নিয়মিত তদারকির ঘাটতির কারণে উদ্যোগটি অনেকাংশেই থমকে আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল, বিধিমালা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে এবং পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে এই আইন প্রয়োগের নজির খুবই সীমিত। সচেতন মহলের মতে, শুধুমাত্র প্রচারণা নয়, কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত মনিটরিং, আইন প্রয়োগে কঠোরতা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ। অন্যথায় ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণার এই উদ্যোগ কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থানে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হলেও দীর্ঘদিনেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন না হওয়া উদ্বেগজনক। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
বলেশ্বর নদী।
বলেশ্বর নদী দখল ও ভরাটে সংকুচিত: অর্ধকিলোমিটার থেকে নেমে এসেছে ‘মাত্র চল্লিশ হাত’

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বলেশ্বর নদী দখল ও ভরাটের কবলে পড়ে নাব্য হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নদীটি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, একসময় প্রায় অর্ধকিলোমিটার চওড়া খরস্রোতা এই নদী এখন কোথাও কোথাও সঙ্কুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র চল্লিশ হাত। খালে পরিণত হচ্ছে নদীর বিস্তীর্ণ অংশ বাগেরহাট জেলার সীমান্তবর্তী অংশে দীর্ঘদিন ধরে কোনো খনন কার্যক্রম না হওয়ায় নদীর বিস্তীর্ণ অংশ কার্যত খালে পরিণত হয়েছে। চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের অশোকনগর, দক্ষিণ চরবানিয়ারী, বাওয়ালী কান্দি গ্রাম এবং পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বানোয়ারী এলাকার দুই পাড়ে জেগে ওঠা চর দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে কৃষিজমি, মৎস্যঘের ও বসতবাড়ি। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মিতভাবে নদীর চরে দখল বসিয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বাড়ছে ভাঙনের ঝুঁকি নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশে জেগে ওঠা বালুচর এখন দখলদারদের নতুন ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। নদীপথে একসময় লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল করলেও বর্তমানে তা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর বুক জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শ্যাওলা ও কচুরিপানা। “অর্ধকিলোমিটার থেকে নেমে এসেছে চল্লিশ হাতে” স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবর মোল্লা বলেন, “এই নদীটা আগে প্রায় অর্ধকিলোমিটার চওড়া ছিল। এখন অনেক জায়গায় মাত্র চল্লিশ হাত হয়ে গেছে। আমার জন্মের পর থেকে কখনো নদী খনন হতে দেখিনি। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে দ্রুত নদী খনন করা দরকার।” তার মতে, নদী খনন হলে কৃষকরা সেচের সুবিধা পাবেন এবং কৃষি উৎপাদনও বাড়বে। আরেক বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, “একসময় বলেশ্বর নদী ছিল আমাদের এলাকার প্রাণ। সারাবছর পানি থাকত, নৌকা-ট্রলার চলত অবাধে। এখন দখল ও ভরাটে নদী সংকুচিত হয়ে গেছে। দ্রুত খনন না হলে নদী মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে।” প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, নদীর চরে যে দখল চলছে তা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক মহলের অনুসারীরা নতুন চর জেগে উঠলেই আগে গিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দখল বসিয়ে দেয়। কমেছে মাছ, বেড়েছে সেচ সংকট প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, একসময় এই নদীতে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। নদী ছিল প্রশস্ত ও স্রোতস্বিনী। কিন্তু বর্তমানে নদীর নাব্য সংকট ও অবৈধ দখলের কারণে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে সেচের পানিরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রকল্প নেই, তবে নজরদারির দাবি কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বলেশ্বর নদী খননের জন্য বর্তমানে কোনো অনুমোদিত প্রকল্প নেই। তবে নদী দখলের অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নদী খনন ও দখল উচ্ছেদের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত দখল উচ্ছেদ ও নিয়মিত খনন কার্যক্রম শুরু না হলে দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এই নদী একসময় মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0