ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :বাংলাদেশের সরকারি প্রকৌশল ও নির্মাণ খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এর লাইসেন্স শাখাকে কেন্দ্র করে ঘুষ, অনিয়ম এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গঠনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাইসেন্স শাখাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ । বিশেষ করে ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি সুসংগঠিত প্রভাবশালী চক্র কাজ করছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর লাইসেন্স শাখা যেন ঘুষ বাণিজ্যের নতুন সাম্রাজ্য। নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিলা ইসলাম (ওএন্ডএম) সহ বিশাল এক সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে লাইসেন্স শাখায়। অধিদপ্তরের বিধি-বিধান কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে চলছে নতুন ঠিকাদার লাইসেন্স প্রদান। লাইসেন্স শাখাকে ঘিরে অভিযোগ অনুসন্ধানে পাওয়া দাবি অনুযায়ী, লাইসেন্স শাখায় নতুন ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান থেকে শুরু করে নবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, লাইসেন্সভেদে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত “অবৈধ অর্থ” দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই অর্থ একটি নির্দিষ্ট চক্রের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়। কথিত চক্র ও দায়িত্ব বণ্টন অভিযোগ অনুযায়ী, লাইসেন্স শাখার ভেতরে একটি অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক কাজ করছে, যেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন— নির্বাহী প্রকৌশলী (ওএন্ডএম) সাকিলা ইসলাম শিপন মিয়া (অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক) মো. আল-আমিন (অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক) মো. অহিদুল ইসলাম (উচ্চমান সহকারী) মো. আমিনুল ইসলাম (সুপার) এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত হলেও একজন সাবেক অফিস সহায়ক মো. হান্নান দীর্ঘদিন ধরে “আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাপনায়” যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। নিয়োগ ও লাইসেন্স প্রদানে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অনুসন্ধানী সূত্রগুলোর দাবি, নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনের মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে — নির্ধারিত সময়ের পরও আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে মানি রিসিট টেম্পারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্যাডে স্বাক্ষর ছাড়াই লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে মাঠ পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সুপারিশ ছাড়াই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঈদ-পূর্ব সময়ে লাইসেন্স প্রদান নিয়ে প্রশ্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ঈদের ছুটির আগের সময়েই (১৫৬১ ও ১৫৬২ স্মারকের অধীনে) একাধিক ঠিকাদারি লাইসেন্স দ্রুততার সাথে প্রদান করা হয়, যা নিয়ে অভ্যন্তরীণ মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হয়নি। অর্থ বণ্টন ও “সিন্ডিকেট” অভিযোগ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, লাইসেন্স প্রদান থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছায় এবং বাকি অংশ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আরও অভিযোগ রয়েছে — পোস্টিং বাণিজ্য হয়ে থাকে ঘুষের বিনিময়ে পদায়ন পাওয়া যায় একাধিক কর্মচারী অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। গুরুতর অভিযোগ ও ব্যক্তিগত চরিত্র কিছু সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে যে, একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক ও প্রশাসনিক অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক নীরবতা ও প্রশ্ন একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরও দৃশ্যমান কোনো কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। ফলে পুরো লাইসেন্স শাখার কার্যক্রম নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাইসেন্স শাখা নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগ একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ও নীতিগত সংকটের ইঙ্গিত দেয়। তবে একইসাথে এটি জরুরি — নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা নথি যাচাই ও অডিট করা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করা
বরিশাল অফিস : বরিশালের মুলাদী উপজেলায় এক ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও সরকারি চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে ৮০০ লিটার ডিজেল এবং প্রায় এক টন সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের ভাইকে জরিমানা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম ও মুলাদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরাগ সাহা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে চরকালেখান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুমন ঘরামীর বাড়ির সামনে ২০০ লিটার ডিজেল ও এক টন সরকারি চাল পাওয়া যায়। একইসঙ্গে তার ভাই বাচ্চু আলমের গরুর খামার থেকে আরও ৬০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় ডিজেল মজুদের বিষয়টি স্বীকার করেন সংশ্লিষ্টরা। অবৈধভাবে ডিজেল সংরক্ষণের দায়ে বাচ্চু আলমকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে ইউপি সদস্য সুমন ঘরামী দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া চাল তিনি কিনে রেখেছিলেন। তিনি এ সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। জব্দকৃত ডিজেল ন্যায্যমূল্যে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় একটি গ্যাস লাইটার তৈরির টিনশেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ করে শনিবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। প্রথমে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরও চারটি ইউনিট যোগ দিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভানোর পর ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। আহত বা নিখোঁজের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী এনায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, আগুন লাগার পর আশপাশের অন্তত ৫০টি বাড়ি থেকে পানি সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম মামুন অভিযোগ করেন, এর আগেও একই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এরপরও কারখানাটি বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক বার আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। নতুন সরকারের আগমন ও অফিসিয়াল বদলির আদেশ বাতিলের দ্রুত ঘটনাচক্রে সন্দেহ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, বিআরটিএর উপ-পরিচালক (প্রশাসন) তানভীর আহমেদ সিদ্দিক ৭ মার্চ স্বাক্ষরিত আদেশে মো. রফিকুল ইসলামকে চট্টগ্রাম ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেল থেকে রাজশাহীর বিভাগীয় অফিসে বদলি করেছিলেন। তবে কেবল একদিন পরেই, বিআরটিএর আরেক উপ-পরিচালক হেমায়েত উদ্দিন স্বাক্ষরিত নতুন আদেশে বদলি বাতিল করা হয়। কর্মচারীদের প্রশ্ন, কীভাবে একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অন্য একজন কর্মকর্তার আদেশ এত দ্রুত উল্টো যায়। ঘুষ ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বদলি বাণিজ্য, রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি এবং ঘুষ আদায়ে জড়িত। তার কথিত চাচার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকায় তার “শাহাবাস্তি বিজনেস সেন্টার” নামের অফিসটি সিন্ডিকেটের হেডকোয়ার্টার হিসেবে পরিচিত। সূত্র জানায়, এই অফিস থেকে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সরকারি সেবার স্বাভাবিক স্রোত ব্যাহত করছে। রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় রয়েছে: সিএনজি অটো-রিকশা রেজিস্ট্রেশনের নামে বড় অংকের ঘুষ আদায়। মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জালিয়াতি। সিন্ডিকেট গঠন ও দালাল চক্রের মাধ্যমে নিয়মিত অবৈধ আয়। আত্মীয়-স্বজনের নামে বিপুল সম্পত্তি অর্জন। ঘটনার সময়রেখা: তারিখ ঘটনা স্বাক্ষরকারী উপ-পরিচালক ৭ মার্চ ২০২৬ রফিকুল ইসলামকে চট্টগ্রাম ঢাকা মেট্রো-৪ থেকে রাজশাহী বদলি তানভীর আহমেদ সিদ্দিক ৯ মার্চ ২০২৬ বদলি আদেশ বাতিল হেমায়েত উদ্দিন সময়ের রেখা ও প্রমাণ ২০১৫: চট্টগ্রাম মেট্রো-১ এ সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উত্তরা মোটরসের ডিলারের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ। ২০১৬: ঢাকা জেলা সার্কেলে সহকারী পরিচালক হিসেবে সিএনজি রেজিস্ট্রেশনের নামে বড় ধরনের অনিয়ম শুরু। ২০১৯ পর্যন্ত: প্রায় ৫ হাজার সিএনজি রেজিস্ট্রেশন, যেখানে অধিকাংশ মালিক ভুয়া ঠিকানার মাধ্যমে নিবন্ধন। ২০২৪: ঢাকা মেট্রো-১ থেকে বরিশাল বিভাগীয় অফিসে বদলি, এরপর বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে সিন্ডিকেট পরিচালনা। প্রশাসনিক ব্যর্থতা কেন একটি উপ-পরিচালকের আদেশ অন্য একজন উপ-পরিচালকের স্বাক্ষরে বাতিল হতে পারলো? রফিকুল ইসলামকে শুধু বদলি করা যথেষ্ট নয়, তার সিন্ডিকেট ও সম্পদের উত্থানও তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও জনসেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি। রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি বিভাগ প্রক্রিয়া প্রায় ঘুষের পরিমাণ মন্তব্য সিএনজি রেজিস্ট্রেশন ঢাকার নামে ভুয়া ঠিকানা ১ লাখ টাকা প্রতি রেজিস্ট্রেশন প্রায় ৫ হাজার রেজিস্ট্রেশন ২০১৬–২০১৯ মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন আর.এম মোটরস & ইন্টারন্যাশনাল শোরুম অজানা, কোটি টাকা প্রায় আত্মীয়-স্বজনের নামে সম্পত্তি অর্জন ফিটনেস সার্টিফিকেট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আলাদা হিসাব নেই সরকারি নিয়মের চরম লঙ্ঘন নিরাপত্তা ও আইনি প্রয়োজনীয়তা তদন্ত কমিটি গঠন, সিন্ডিকেটের উচ্ছেদ, এবং অবৈধ সম্পত্তির অনুসন্ধান জরুরি। শুধুমাত্র বদলি আদেশের মাধ্যমে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রশাসনিক প্রভাব ও প্রশ্ন কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু বদলি করে দুর্নীতি বন্ধ হবে না। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও তদন্ত ছাড়া সরকারি সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি ক্ষোভ বাড়বে। বিআরটিএর উচ্চপর্যায় থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের সিন্ডিকেট ও ঘুষ-বাণিজ্য চক্র সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়ম ও শৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি। তদন্ত প্রয়োজনীয়তা সিন্ডিকেটের অবৈধ সম্পত্তি ও অর্থের উৎসের তদন্ত। ঘুষ-বাণিজ্য ও রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতির সম্পূর্ণ রিপোর্ট। কঠোর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।