বরিশাল মহানগরীতে কথিত ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের মাধ্যমে এক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আটক নারীসহ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। মহানগর কোতয়ালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফর রহমান জানান, গত ৫ মে ইউনুছ আলী নামে এক ব্যক্তিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে তার কাছ থেকে নগদ ২৩ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আহত অবস্থায় তাকে সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। ঘটনার পর ভিকটিম থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় অভিযুক্ত নারী ও তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটককৃতরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দাবি করলেও পুলিশের ভাষ্য, তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের সদস্য হতে পারে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা বিভিন্ন ধরনের অসংলগ্ন তথ্য দিয়েছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কললিস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একই ধরনের আরও অভিযোগ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে আটককৃতদের দাবি, তারা একতরফাভাবে অভিযুক্ত হচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, “যদি আমরা অপরাধী হই, তাহলে নারীলোভ দেখিয়ে যোগাযোগ করা ওই ব্যক্তিকেও আইনের আওতায় আনা উচিত।” তবে পুলিশ বলছে, কোনো ব্যক্তি অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা ছিনতাই করার সুযোগ নেই। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সম্পর্ক ও অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে গোপন সাক্ষাৎ বাড়ার কারণে এ ধরনের অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাইবার নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। কোতয়ালী থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও ছিনতাই চক্রের বিরুদ্ধে পৃথক ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বগুড়ায় চিকিৎসার নামে এক দাখিল পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ‘ভণ্ড কবিরাজ’ বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় শহরের নামাজগড় এলাকা থেকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাকিম রেজাউল করিম (৪০) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বগুড়ায় চিকিৎসার নামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে রেজাউল করিম নামের এক কথিত কবিরাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী বর্তমানে রাজশাহীর একটি কওমি মহিলা মাদ্রাসার দাখিল শ্রেণির ছাত্রী। পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল করিম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মোফছের আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারসহ বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুর চামড়া গুদাম এলাকায় বসবাস করেন। শহরের নামাজগড় এলাকায় ভান্ডারী মসজিদ সংলগ্ন স্থানে ‘আশ-সিফা দাওয়াখানা’ নামে একটি চেম্বার চালাতেন, যেখানে তিনি কবিরাজি ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরী দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথায় ভুগছিল। বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরও কোনো উন্নতি না হওয়ায় পরিবার পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে কবিরাজ রেজাউল করিমের সন্ধান পায়। গত ৩ মে সকালে কিশোরীর বাবা তাকে ওই দাওয়াখানায় নিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, কবিরাজ কিশোরীকে দেখার পর দাবি করেন যে তার শরীরে ‘জিনে ধরেছে’ এবং ঝাড়ফুঁক প্রয়োজন। এরপর তিনি তাকে দাওয়াখানার ভেতরের একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন এবং অন্যদের বের করে দেন। পরে চিকিৎসার নামে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। একই দিন বিকেলে পুনরায় ১৬ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়। পরিবার পরবর্তীতে ওই টাকা নিয়ে গেলে তাকে আবারও একই কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে ৪ মে তার বাবা বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠায়। পরে ৫ মে সন্ধ্যায় নামাজগড় এলাকা থেকে রেজাউল করিমকে গ্রেফতার করা হয়। বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, অভিযুক্তের দাওয়াখানার ভেতরে পৃথক কক্ষ তৈরি করা ছিল, যেখানে চিকিৎসার নামে নারীদের সঙ্গে অপরাধ সংঘটিত হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তের ও ভুক্তভোগীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের জন্য পাঠানো হবে। আদালতের মাধ্যমে রেজাউল করিমকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কক্সবাজার শহরের এন্ডারসন রোডের একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হোটেল নিশীতা’র ৪০৮ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম অর্জুন দাশ (৬০)। তিনি ফেনীর শ্রীধাম চন্দ্র দাশের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও হোটেল সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল অর্জুন দাশ এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলটির ওই কক্ষটি তিন দিনের জন্য ভাড়া নেন। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। এরপর বুধবার বিকেলে কক্ষের সামনে গিয়ে কর্মীরা ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় পরে দরজা ভেঙে প্রবেশ করা হয়। ভেতরে অর্জুন দাশকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় কক্ষে পড়ে থাকার কারণে মরদেহটি অর্ধগলিত হয়ে যায় বলে জানায় পুলিশ। উদ্ধারকালে মরদেহটি নগ্ন অবস্থায় ছিল এবং পাশে একটি গামছা পাওয়া গেছে। পরে মরদেহের সুরতহাল শেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে কিছু সময় উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন বলেন, নিহতের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্ত করা হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার কারওয়ান বাজারে একসময় ফুটপাতে আলু-পেঁয়াজ বিক্রি করা একটি পরিবারের বিরুদ্ধে এখন উঠেছে সংগঠিত মাদক কারবার, বিপুল সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলছে, বাবা, তিন মেয়ে, দুই জামাই এবং এক পুত্রবধূ—এই সাত সদস্য মিলে গড়ে তুলেছিল একটি পারিবারিক মাদক সিন্ডিকেট। সম্প্রতি এই পরিবারের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করেছে সিআইডি। সংস্থাটির দাবি, অবৈধ মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈধ করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। কারওয়ান বাজার: উত্থানের সূচনা তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯–২০১০ সালের দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় গাঁজার ছোট পরিসরের ব্যবসা দিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যবসা বিস্তৃত হয় ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকেও। কারওয়ান বাজারের ব্যস্ত ফুটপাত—যেখানে মাছ-মাংস ও নিত্যপণ্যের ভিড়—তার পাশেই রেললাইনের আশপাশকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে মাদক লেনদেনের একটি নেটওয়ার্ক, এমনটাই দাবি অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টদের। “ফুটপাতের ব্যবসা থেকে কোটি টাকার সম্পদ” পরিবারটির এক সদস্যের স্বামী মহিদুল দাবি করেন, তারা একসময় পোটলা বিক্রির মতো ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার ভাষায়, “পোটলা বিক্রি করত এক হাজার, ৫০০ টাকা থেকে দুই হাজারে। যত সেল হত তত টাকাই তারা পাইত।” তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও বর্তমানে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। দত্তপাড়ার বহুতল ভবন ও প্রশ্নবিদ্ধ সম্পদ বর্তমানে পরিবারটি টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় বসবাস করছে। সেখানে তাদের একটি চারতলা এবং একটি ছয়তলা ভবনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। একটি সূত্রের দাবি, সম্পত্তির পরিমাণ ও আর্থিক সক্ষমতা তাদের বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে এলাকাবাসীর একাংশ জানিয়েছেন, পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ ও পরিচয় নিয়ে দ্বিধা ও দূরত্ব রয়েছে। “আমরা ভালো হয়ে গেছি”—অভিযুক্তদের দাবি অভিযুক্ত রেশমা খাতুন ফোনে সময় সংবাদকে জানান, তারা অতীতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন আর সেই কর্মকাণ্ডে নেই। তার ভাষায়, “আমরা তিনটা বোন, বোন জামাই—আমরা পরিস্থিতির শিকার। আমার বয়স এখন চল্লিশ। আজ থেকে ১৫–২০ বছর আগে আমরা ভালো হয়ে গেছি। ৬–৭ বছর হলো আমরা টঙ্গীতে বাড়ি করেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও সেগুলোর সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। সিআইডির তদন্ত ও ব্যাংকিং লেনদেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য পাচার ও কারবারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। সিআইডির দাবি অনুযায়ী, অন্তত ৫ কোটি টাকার বেশি লেনদেন বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে শনাক্ত হয়েছে, যা মাদক ব্যবসার অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক পরিবারের ভেতরেই নেটওয়ার্ক তদন্তে জানা যায়, এই চক্রে রয়েছেন— * বাবা * তিন মেয়ে * দুই জামাই * এক পুত্রবধূ অভিযুক্তদের মধ্যে রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে ১০টি, আসমার বিরুদ্ধে ৩টি, লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে ৭টি এবং মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে ৫টি মাদক মামলা রয়েছে বলে সিআইডি জানিয়েছে। অপরাধের বিস্তার ও সামাজিক প্রভাব অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবারভিত্তিক এমন সংগঠিত মাদক নেটওয়ার্ক স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া মাদক ব্যবসার একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে এসব দাবির পূর্ণ বিচারিক সত্যতা এখনো আদালতে নির্ধারিত হয়নি। কারওয়ান বাজারের ফুটপাত থেকে টঙ্গীর বহুতল ভবন—একটি পরিবারের এই উত্থানকে ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে অবৈধ অর্থনীতি, সামাজিক প্রভাব এবং আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে। তদন্ত চলছে। আর সেই তদন্তের ফলের ওপরই নির্ভর করছে এই গল্পের শেষ অধ্যায়।
বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরীর চকবাজার এলাকায় পারিবারিক অংশীদারিত্বে গড়ে ওঠা একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে বিরোধ সহিংস রূপ নিয়েছে। চুক্তি লঙ্ঘন, দোকানের তালা ভেঙে মালামাল সরিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে হামলার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন একই পরিবারের সদস্যরা। কী ঘটেছে মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৩ ও ২৫ এপ্রিল নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জাহান মার্কেটের নিচতলায় দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী সাহনাজ আক্তার শশী (৪৮) দাবি করেন, অংশীদার রাবেয়া আফরিন কান্তা পূর্ব চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে একতরফাভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা কারা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে রাবেয়া আফরিন কান্তা (৩৬)-কে। এছাড়া তার স্বামী মো. আরিফুর রহমান (৩৫), ভাই সাফায়েত (৩৩), বাবা কালাম ফকির (৬০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২–৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বসবাস বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এবং পার্শ্ববর্তী বাবুগঞ্জ উপজেলায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—বাদী ও প্রধান আসামি নিকট আত্মীয়। ব্যবসায়িক চুক্তি: কোথায় দ্বন্দ্ব নোটারি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি তিনজন অংশীদারের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী: ব্যবসার নাম হবে ‘মুসকান ফ্যাশন’ দোকানের ভাড়ার চুক্তিপত্র থাকবে রাবেয়া আফরিন কান্তার নামে মোট পাঁচটি শর্ত নির্ধারণ করা হয় ডেকোরেশন সংক্রান্ত বিনিয়োগের কোনো আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে না অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে কান্তা এই শর্ত অমান্য করে দোকানের নাম পরিবর্তন করে ‘সুন্দরী বিডি’ রাখেন। অভিযোগ: তালা ভেঙে মালামাল সরানো বাদীর দাবি, ২৩ এপ্রিল দুপুরে দোকানের তালা ভেঙে প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ২৫ এপ্রিল তিনি ও তার সহযোগীরা বিষয়টি জানতে চাইলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলা ও আহত এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: সাহনাজ আক্তার শশী রায়হান মল্লিক ওরফে রাব্বি (৩৮) রায়হান রানা (৩৫) সুজন সরদার (৩৮) স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছাড়া পেয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া ও প্রশ্ন মামলাটি এখন তদন্তাধীন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: পার্টনারশিপ চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে তদারকি কতটা ছিল? দোকানের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা নিয়ে আগেই কি বিরোধের ইঙ্গিত ছিল? তালা ভাঙা ও নাম পরিবর্তনের সময় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল? বৃহত্তর প্রেক্ষাপট ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে পারিবারিক সম্পর্ক জড়িত থাকলে দ্বন্দ্ব জটিল হয়ে ওঠে—এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল। তাদের মতে, লিখিত চুক্তি থাকলেও প্রয়োগ ও আস্থার ঘাটতি থাকলে সংঘাতের ঝুঁকি থেকেই যায়। ঘটনার তদন্ত ও আইনি অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে—এটি নিছক পারিবারিক বিরোধ, নাকি পরিকল্পিতভাবে ব্যবসা দখলের চেষ্টা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা এখন সেই উত্তর অপেক্ষায়।
ফরিদপুর: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে বিদেশে পাচার ও বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে আসামি করে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জসিম সরদার নামে একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। মামলা সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া এলাকার মনিরুজ্জামান মিয়া (৫১) তার ছেলে মো. মিনহাজ মিয়াকে (২১) বৈধভাবে বিমানে ইতালি পাঠানোর জন্য স্থানীয় কয়েকজন দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযুক্তরা ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রথমে ২৬ লাখ টাকা দাবি করে এবং ধাপে ধাপে সেই অর্থ গ্রহণ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল আসামি মনির সরদারের (৪৮) নির্দেশে তার স্ত্রী ও সহযোগীরা অর্থ সংগ্রহ ও বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। অপর আসামিরা হলেন পপি আক্তারী (৩৫), জসিম সরদার (৪৭) এবং রেজাউল কাজী (৫৫)। তারা সংঘবদ্ধভাবে একটি মানবপাচার চক্র পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম দফায় ২৬ লাখ টাকা পরিশোধের পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে মিনহাজ মিয়াকে ঢাকা থেকে ইতালি না পাঠিয়ে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি সেখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে আটক রয়েছেন বলে জানানো হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে তাকে নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হয় এবং আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। চাপের মুখে পরিবার জমি বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে। প্রায় ৭ শতাংশ জমি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে তা আসামিদের নামে দলিল করে দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে আরও ১৮ লাখ টাকা বিভিন্ন ধাপে দেওয়া হয়। এত টাকা নেওয়ার পরও ভুক্তভোগীকে দেশে ফেরত না পাঠিয়ে পুনরায় অর্থ দাবি করা হয় এবং তাকে লিবিয়ায় আটকে রাখা হয়। বর্তমানে তার সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে চারজনকে আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জসিম সরদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও টিকটকার প্রিয়া খান, তার মা হাফসা আখতার এবং ভাই স্বাধীন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নেত্রকোনা জেলার একটি মামলার ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত ১টার দিকে তাদের আশুলিয়া মডেল থানায় নেওয়া হলে সেখানে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রিয়া খান তার মা ও ভাইয়ের সহায়তায় বিভিন্ন উঠতি রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে অর্থ আদায় করতেন। এ ধরনের অন্তত ৪২টি অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলেও জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা নিয়মিত বাসা পরিবর্তন করে নতুন ‘টার্গেট’ নির্ধারণ করতেন। সম্পর্ক স্থাপনের পর তা ব্যবহার করে মামলা ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায় করাই ছিল তাদের মূল কৌশল। আশুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, প্রিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও নারী হওয়ায় অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে সাহস পাননি। তিনি আরও জানান, নেত্রকোনার আকপাড়া থানার একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের হেফাজতে নিতে ইতোমধ্যে আশুলিয়ায় পৌঁছেছেন। এদিকে আকপাড়া থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই মামলার বাদী তমা আক্তার। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রিয়া খান, তার মা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই থানায় তাদের বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাজীপুর জেলা প্রশাসকের একটি তীক্ষ্ণ সিদ্ধান্ত—আর তাতেই ভেস্তে গেল ৭৫ কোটি টাকার এক সুপরিকল্পিত প্রতারণা। উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার ছদ্মবেশে পরিচালিত এই চক্রটি শুধু একটি আর্থিক জালিয়াতির চেষ্টা করেনি, বরং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোকেই ব্যবহার করতে চেয়েছিল তাদের অপরাধ ঢাকতে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক বিস্তৃত প্রতারণা নেটওয়ার্কের চিত্র, যার শিকড় ছড়িয়ে আছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। ছদ্মবেশে প্রবেশ, লক্ষ্য কোটি টাকা বুধবার দুপুর। নিয়মিত কাজের ব্যস্ততার মধ্যেই গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে দুই ব্যক্তি। নিজেদের পরিচয় দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে। পোশাক-আশাক, আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি—সব মিলিয়ে প্রথম নজরে সন্দেহের অবকাশ কমই ছিল। তারা জেলা প্রশাসকের সামনে উপস্থাপন করে দুটি ‘সম্মতিপত্র’। কাগজে ছিল না কোনো স্বাক্ষর, অথচ দাবি—তাৎক্ষণিক অনুমোদন দরকার। প্রস্তাবটি ছিল চমকে দেওয়ার মতো: ৬৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ ১০ কোটি টাকা ‘সার্ভিস চার্জ’ মোট দায়: ৭৫ কোটি টাকা পরিশোধের শর্ত: মাত্র ১৮ মাসে ১৫০ কোটি টাকা এই অস্বাভাবিক আর্থিক কাঠামোই তৈরি করে প্রথম সন্দেহ। সন্দেহ থেকে পদক্ষেপ: মুহূর্তেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট জেলা প্রশাসক পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করেন দ্রুত। কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে সময় নিয়ে তিনি ওই দুই ব্যক্তিকে আটকে রাখেন এবং গোপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এসে তাদের গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য এবং এর পেছনে রয়েছে আরও কয়েকজন সক্রিয় সহযোগী। মধ্যরাতে অভিযান: গুলিস্তান থেকে গ্রেফতার আরেক সদস্য পরদিন গভীর রাতে ঢাকার গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় চক্রের আরেক সদস্যকে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে চালানো হয় তল্লাশি। জব্দ করা হয়: ব্ল্যাংক চেক স্ট্যাম্প পেপার ভুয়া চুক্তিপত্র গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি এই আলামতগুলো প্রমাণ করে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। চক্রের বিস্তার: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিকড় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা দেশের ভিন্ন ভিন্ন জেলার বাসিন্দা: লক্ষ্মীপুর কুমিল্লা বগুড়া পলাতক সদস্যদের বাড়ি রংপুর ও ভোলায়—যা ইঙ্গিত দেয় একটি বিস্তৃত ও সমন্বিত নেটওয়ার্কের দিকে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এরা কেবলমাত্র একটি বড় চক্রের অংশ, যারা সরকারি পরিচয়, জাল কাগজপত্র এবং প্রভাব খাটিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রতারণার কৌশল: বিশ্বাসযোগ্যতার আবরণ চক্রটির কার্যপদ্ধতি ছিল সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিত: সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার জরুরি সিদ্ধান্তের চাপ সৃষ্টি বড় অঙ্কের লেনদেনের লোভ দেখানো জাল দলিল ও ব্ল্যাংক চেকের ব্যবহার এই কৌশলগুলো সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও বিভ্রান্ত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। প্রশাসনের সতর্কবার্তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। তারা এখন আরও সদস্য শনাক্ত ও গ্রেফতারে কাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা: “যে কোনো আর্থিক প্রস্তাব বা উচ্চপর্যায়ের পরিচয় যাচাই ছাড়া গ্রহণ করবেন না।” বিশ্লেষণ: কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? এই ঘটনা শুধু একটি প্রতারণা রোধের গল্প নয়—এটি দেখায়: প্রশাসনিক সতর্কতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়ের অপব্যবহার কতটা ভয়ংকর হতে পারে সংগঠিত প্রতারণা কতটা পেশাদার হয়ে উঠেছে যদি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়ে যেত, তবে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারত। গাজীপুরের এই ঘটনা একটি বড় সতর্ক সংকেত। প্রযুক্তি, তথ্য আর ভুয়া ক্ষমতার মিশেলে প্রতারক চক্রগুলো দিন দিন আরও কৌশলী হয়ে উঠছে। তবে একই সঙ্গে এটি একটি ইতিবাচক উদাহরণও—সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত কিভাবে একটি বড় বিপর্যয় ঠেকাতে পারে। এই ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। সামনে হয়তো আরও বিস্ময়কর তথ্য উঠে আসবে—যা উন্মোচন করবে দেশের আর্থিক প্রতারণার অন্ধকার জগতের আরও গভীর স্তর।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দ্বীন ইসলাম (৩৫) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দ্বীন ইসলাম কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা সফিকুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার শিমরাইল গ্রামে মঙ্গলবার দুপুরে বেশ কয়েকজনের একটি সংঘবদ্ধ দল দ্বীন ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বুড়ি নদী পার করে পাশের কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে কসবা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কসবা থানার পুলিশ বিষয়টি বাঙ্গরা থানাকে অবহিত করলে পুলিশ দ্বীন ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দ্বীন ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন। তিনি বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতেন। নিহতের বাবা সফিকুল ইসলাম ও মা পারুল বেগম জানান, মাদকসেবন, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করতো তাদের ছেলে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। দ্বীন ইসলাম নিহতের ঘটনায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল ও তার সহযোগীরা জড়িত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে মেহারী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল বলেন, দ্বীন ইসলাম খারাপ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে কসবা থানাসহ বিভিন্ন থানয় বহু মামলাও রয়েছে। ফেসবুকে একটি পেজ খুলে মানুষের বিরুদ্ধে ভিডিও দিতো। তবে তিনি শুনেছেন কে বা কারা তাকে মারধর করে নদীর পাড়ে পাশের থানার সীমানায় ফেলে রেখেছে। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে হত্যা করে নদীর ধারে ফেলে রেখেছে বলে শুনেছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, দ্বীন ইসলামের নামে কসবা থানায় মাদক, চুরি ও ডাকাতিসহ প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। তবে হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে বোরহান উদ্দিন শফি (৫৯) নামে এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার মরদেহ পুড়িয়ে আলামত নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে। এমন চাঞ্চল্যকর ও ‘ক্লুলেস’ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তাররা হলেন— সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ইলাবাজ গ্রামের সাব্বির আহমদ (২১), একই উপজেলার ঘেচুয়া গ্রামের তাহিরুল হক (২০) এবং নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল এলাকার সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ শোভন (২০)। তাদের মধ্যে সাব্বির ও শোভন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরিকল্পিত হত্যা ও মরদেহ গলানোর চেষ্টা তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি জকিগঞ্জের মাসেরচক হাওর এলাকায় পরিকল্পিতভাবে শফিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করতে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। এমনকি দ্রুত দেহ গলিয়ে ফেলতে লবণও ব্যবহার করা হয়। ঘটনার চার দিন পর গলায় দড়ি প্যাঁচানো ও দগ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি লবণের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছিল, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় রহস্য উদ্ঘাটন রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জানান, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্তে অগ্রগতি আনে। পরবর্তীতে ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি সিলেট ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত তাহিরুল হকের কাছ থেকে নিহত শফির ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রবাস জীবনের তিন দশক নিহত বোরহান উদ্দিন শফি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তিনি দেশে আসেন বলে জানা গেছে। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে হত্যাকাণ্ড জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। মামলার অন্যান্য আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কেউ আছে কিনা তা শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।