বরিশাল অফিস : বরিশালে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের চলমান বৃহৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ৬ তলা প্রশাসনিক ভবন। আসন্ন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ভবনটির কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সম্প্রতি ভবনটির চলমান নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। গুণগত মান বনাম সময়সীমার চাপ পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন—প্রতিটি নির্মাণকাজ অবশ্যই অনুমোদিত নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। ভবনের অসম্পূর্ণ কাজ, ফিনিশিং, বৈদ্যুতিক সংযোগ, স্যানিটারি ব্যবস্থা, রং, দরজা-জানালা স্থাপন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের মতে, সময়মতো কাজ শেষ করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের টেকসই ও মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করা। কঠোর মনিটরিংয়ের বার্তা পরিদর্শন শেষে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। কাজের মান খারাপ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তিনি বলেন, প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার জন্য একাধিক স্তরে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বরিশালে ৭০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল জেলায় বর্তমানে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। গত অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা। এছাড়া ১১টি বড় প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ এবং উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ চলছে। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প ইতোমধ্যে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক প্রকল্প বরিশালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের জন্য নির্মিত ১০ তলা ভবনের কাজও এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে দুটি ফ্লোরে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রকল্পের আওতায় সাতটি ভবনের মধ্যে তিনটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি চারটির কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রত্যাশা স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের মতে, এসব অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বরিশালের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। জরাজীর্ণ ভবনের জায়গায় আধুনিক বহুতল ভবন তৈরি হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বড় চিত্র: উন্নয়ন নাকি বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ? যদিও প্রকল্পের পরিমাণ ও অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক, তবে মাঠপর্যায়ে গুণগত মান বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। একাধিক স্তরের মনিটরিং ও কঠোর নির্দেশনার মধ্যেও বাস্তবায়ন তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বরিশালের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে চলমান এই বিশাল কর্মযজ্ঞ'র মান এবং স্বচ্ছতা রয়েছে।।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের মুলাদী উপজেলায় পুলিশের হেফাজতে থাকা এক আসামিকে হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে মুলাদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান এবং গ্রেফতার করা আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপোল বাজার এলাকায়। পুলিশ জানায়, সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় রাশেদুল ইসলাম সেতু ভুঁইয়া (৪০)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মোটরসাইকেলে থানায় নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রামারপোল বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন। এ সময় কামরুজ্জামান বাবু ও সুমন ভুঁইয়ার নেতৃত্বে ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল গ্রেফতারি কার্যক্রমে বাধা দেয় এবং আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ওই আসামিকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ। ঘটনার পর একই রাতেই মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা এবং পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা আসামি ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও সফল হয়নি। পরে রাত ১টার দিকে আসামির স্বজনরা পুলিশের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে হ্যান্ডকাফ ফেরত দেয় বলে পুলিশ জানায়। তবে রাশেদুল ইসলাম সেতুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, “হ্যান্ডকাফসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা পলাতক। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।” পুলিশ জানায়, রাশেদুল ইসলাম সেতু ভুঁইয়া স্থানীয়ভাবে নাজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি গত ২৩ জুন রাতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার ৫ নম্বর আসামি। ঘটনাটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। পুলিশ বলছে, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করে কীভাবে একের পর এক ইয়াবার চালান ভেতরে প্রবেশ করছে—এই প্রশ্ন এখন শুধু কারা প্রশাসনের নয়, আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি নারী বন্দি সুবর্ণার কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনার পর কারাগারের অভ্যন্তরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। এর কয়েকদিন আগেই আরেক বন্দির কাছ থেকেও ইয়াবা উদ্ধার হয়েছিল। এসব ঘটনায় কারাগারের দুই ডেপুটি জেলারসহ কয়েকজন কারারক্ষীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেননি এবং প্রশাসন বলছে, বিষয়টি তদন্তাধীন। এক ঘটনার পর আরেক ঘটনা কারা সূত্র বলছে, ১০ জুন নারী বন্দি সুবর্ণার কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৬ জুন কীর্তনখোলা-২ ভবনে বন্দি সুমন খানের কাছ থেকে আরও ১০টি ইয়াবা জব্দ করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনাটিসহ একাধিক মাদক উদ্ধারের ঘটনা অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রশাসন আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। কারাগারের ভেতরে কীভাবে পৌঁছায় মাদক? বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুস্তরবিশিষ্ট। ফলে প্রশ্ন উঠছে—একাধিক তল্লাশি ও নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে কীভাবে ইয়াবার মতো নিষিদ্ধ মাদক বন্দিদের হাতে পৌঁছায়? কারাগার থেকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ায় শুধু নিচু স্তরের কারারক্ষীরা নন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল কিছু কর্মকর্তাও জড়িত থাকতে পারেন। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, দুই ডেপুটি জেলার সুমাইয়া ও আনন্দ শীল ছাড়াও কয়েকজন কারারক্ষী ও নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সদস্য এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। '২০ হাজার টাকায় আপস'—অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কারাগারের এক দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে, ৬ জুন বন্দি সুমন খানের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত না করে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে আপস করা হয়। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল দুই ডেপুটি জেলার নির্দেশনায় এবং এতে কারাগারের গোয়েন্দা দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কারারক্ষী ভূমিকা রাখেন। অভিযোগের মুখে কর্মকর্তারা ডেপুটি জেলার আনন্দ শীলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অপরদিকে ডেপুটি জেলার সুমাইয়া ফোনে বলেন, তিনি ব্যস্ত আছেন এবং পরে কথা বলবেন। পরে আর যোগাযোগ করেননি। কারাগারের সর্বপ্রধান রক্ষী গাজী রশিদের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। জেল সুপার যা বললেন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বন্দিদের কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, নারী বন্দি সুবর্ণার বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারারক্ষী মৌ ও শারমিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে মাদক প্রবেশ এবং কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিষয়টি তদন্তাধীন। কারাগারকে মাদকমুক্ত করতে এবং অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।" ডিআইজি প্রিজনের নীরবতা কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) অসীম কান্ত পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ফোন রিসিভ করলেও বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের মাদককাণ্ড সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুরোনো অভিযোগ, নতুন প্রশ্ন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এর আগেও একাধিকবার ইয়াবা ও স্মার্টফোন উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছে। কারা প্রশাসনের ভেতরে দুর্নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অতীতেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ঘটনাগুলো আবারও প্রশ্ন তুলেছে—কঠোর নিরাপত্তার আওতায় থাকা একটি কারাগারে বারবার মাদক প্রবেশের নেপথ্যে কেবল বিচ্ছিন্ন অনিয়ম, নাকি সংঘবদ্ধ কোনো চক্র কাজ করছে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে চলমান তদন্তের ফলাফলের ওপর। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত বলে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ নেই।
বরিশাল অফিস : শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরিশালে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬। রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় নগরীর পলাশপুর এলাকার আলহাজ্ব দলিল উদ্দিন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম এবং বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মঞ্জুর-এ-এলাহী। সভাপতিত্ব করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী। ২২০ কেন্দ্র, লক্ষ্য সব শিশুর কাছে পৌঁছানো বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নগরবাসীর সুবিধার্থে এবার মোট ২২০টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এসব কেন্দ্রে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। শুধু ক্যাম্পেইন ও নজরদারি সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে ক্যাম্পেইন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে এনে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানানো হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে কোনো শিশুই এই কর্মসূচির বাইরে না থাকে। বিশেষ করে নগরীর বস্তি এলাকা, ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের আওতায় আনতে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাম্পেইন শেষে বাস্তবভিত্তিক তথ্য-পর্যালোচনা এবং বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করাই হবে কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ে আলোচনা চললেও এবার বরিশালে সামনে এসেছে ভিন্ন এক অভিযোগ। এক কলেজছাত্রী দাবি করেছেন, পূর্ববিরোধের জেরে একদল কিশোরী গ্যাং তার ওপর হামলা চালিয়েছে, পরে তার বাসায় গিয়ে তাকে ও তার মাকে মারধর করেছে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাবেয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুন দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল সিটি কলেজ মাঠে প্রথম দফায় রাবেয়ার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। কলেজের অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়। রাবেয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, একই দিন পরে ফকিরবাড়ি রোডে তার ভাড়া বাসায় গিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে ও তার মাকে মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা একটি মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে যায়। কি ঘটেছিল সেই দিন : থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের একজন একই কলেজের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আগে থেকেই ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। রাবেয়ার অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন। তিনি জানিয়েছেন, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রযোজ্য আইনের আওতায় পৃথক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লিখিত অভিযোগে জানা গেছে,ঝালকাঠির বহুল আলোচিত জেসলি জান্নাত,অন্তি ও কলির নেতৃত্বে একদল কিশোরী গ্যাং ২২ জুন দুপুর দেড় টায় প্রথম দফায় বরিশাল সিটি কলেজ মাঠে সিটি কলেজের ছাত্রী রাবেয়ার ওপর পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে।কলেজের শিক্ষার্থীদের বাঁধায় পালিয়ে যায় এই কিশোরী গ্যাংয় গ্রুপটি। পরে দ্বিতীয় দফায় কলেজ ছাত্রী রাবেয়ার ফকিরবাড়ি রোডস্থ ভাড়া বাসায় হামলা করে। এ সময় রাবেয়া ও তার মাকে মারধর করে।লুটপাট করে মালামাল। কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অন্তির সাথে রাবেয়া একই কলেজের শিক্ষার্থী।টুকটাক ঝামেলা চলে আসছিলো দু জনের মাঝে।সেই ঝামেলার সুত্রধরে বাসায় রাবেয়া ও তার মাকে মারধর করে মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে যায়।এ ছাড়া রাবেয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে তারা। আরও গুরুতর অভিযোগ লিখিত অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল এবং তথাকথিত "হানিট্র্যাপ" কৌশলের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত।এ ছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অতীতে ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত একটি ঘটনায় এক যুবক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। কিশোরী গ্যাং তারা তাদের গ্যাংয়ে মেয়েদের হায়ার করার জন্য হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্লাকমেইলিং করে গ্রুপ বড় করছে। এই গ্রুপ সরকারি চাকুরীজীবি, বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে হানিট্রাপের টোপ ফেলে ব্লাকমেইলিং করে অর্থ হাতিয়ে নেয়।এছাড়া আবাসিক হোটেল ডেটের জন্য দেশ ও বিদেশের পর্যটন এলাকার বিলাসবহুল হোটেল আমোদফুর্তির অভিযোগ রয়েছে।সম্প্রতি এক যুবককে ব্লাকমেইলিংয়ের কারনে সেই যুবক থানায় সাধারন ডায়েরী করার পরে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পেয়ে যায় হানিট্রাপ গ্রুপের সেই বহুল আলোচিত কিশোরী গ্যাং প্রধান। ভুক্তভোগীর বক্তব্য এ ব্যাপারে হামলার শিকার শিক্ষার্থী রাবেয়া জানান,আমাকে ও আমার মায়ের ওপর হামলা করেছে। পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে তারা তাদের মোবাইলে ভিডিও করে তারা তাদের ফেসবুক আইডিতে এবং তাদের লোকজনদের মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। রাবেয়া আরো জানান,আমাদের ওপর হামলা, মারধর, মোবাইল ও টাকা নেয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দিবো। তিনি বিতর্কিত কিশোরী গ্যাং গ্রুপের হাত থেকে বাচাঁর জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পুলিশের অবস্থান বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল অফিস : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সংগীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ, বরিশাল জেলা শাখার ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী সুজিত মোস্তফা এবং সাধারণ সম্পাদক শহীদ কবির পলাশের স্বাক্ষরে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। নবগঠিত কমিটিতে বরিশালের বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী সহিদুজ্জামান মামুনকে সভাপতি এবং মো. জহুরুল হাসান সোহেলকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারা রয়েছেন কমিটিতে সংগঠনের সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কমিটিতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিষ্ঠিত ও প্রতিশ্রুতিশীল নজরুল সংগীত শিল্পী, নজরুলপ্রেমী, সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং সংস্কৃতিকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ জুন ২০২৯ পর্যন্ত। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কমিটি বরিশালে নজরুল সংগীতের চর্চা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অভিনন্দন ও প্রত্যাশা নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বরিশাল জাসাস মহানগরের আহ্বায়ক মীর আদনান তুহিন, সদস্য সচিব কামরুল আহসান রুমী, সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম। এছাড়া বরিশালের বিভিন্ন সংগীত একাডেমি, নাট্য সংগঠন ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের শিল্পী, কুশলী এবং সংগঠকরাও নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, নবগঠিত নেতৃত্বের মাধ্যমে বরিশালে নজরুল চর্চা আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত স্থায়ী নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নতুন গতি পাবে। সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সংশ্লিষ্টদের মতে, বরিশাল দীর্ঘদিন ধরেই সংগীত ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেই প্রেক্ষাপটে নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদের নতুন কমিটি শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনাই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বরিশাল অফিস : অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার, ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং করপোরেট তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিরাজী আমিন সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। অভিযোগের প্রাথমিক পর্যালোচনার পর দুদক বিষয়টি তদন্তের আওতায় নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ইতোমধ্যে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি দুদক। অভিযোগের কেন্দ্রে যারা দুদকে জমা দেওয়া আবেদনে অলিম্পিক সিমেন্ট ও এ্যাংকর সিমেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী পরিবারটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাতের হাতে চলে যায়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ বিদেশে পাচার, ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন দেশে সম্পদ গঠনের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ আর্থিক অপরাধচক্র সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সহাযতাকারী হলেন অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের পিএস জুয়েল ইসলাম, পিএস নীলুফা। বিদেশে সম্পদ ও নাগরিকত্বের অভিযোগ লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, হুন্ডির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এসব অর্থ ব্যবহার করে বিদেশে আবাসিক সম্পত্তি, ব্যবসা ও অন্যান্য বিনিয়োগ গড়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে জুলিয়া রহমানের বিরুদ্ধে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বিদেশে সম্পদ গঠন ও নাগরিকত্ব গ্রহণের পেছনে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আবেদনে আরও বলা হয়েছে, অলিম্পিক সিমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করলেও কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ক্রমাগত অবনতির দিকে গেছে। ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, কোম্পানির তহবিল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ফলে কাঁচামাল আমদানি, এলসি খোলা এবং নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। নতুন ঋণ পেতে জাল দলিল তৈরির অভিযোগ দুদকে দেওয়া আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, নতুন ঋণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কিছু জমির কাগজপত্র জাল বা বিতর্কিতভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, নতুন ঋণ অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্টরা দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছেন। শেয়ার দখল ও মামলা ব্যবহারের অভিযোগ আবেদনে প্রবাসী ব্যবসায়ী এনায়েত হোসেনের শেয়ার মালিকানা দখলের চেষ্টার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে ঘিরে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেগুলোকে অভিযোগকারী ‘ভুয়া ও হয়রানিমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শ্রমিক অসন্তোষ ও কারখানা বন্ধের ঘোষণা অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি অলিম্পিক সিমেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কারখানাটি বিক্রি বা হস্তান্তরের গুঞ্জনের মধ্যে বরিশালের রূপাতলীতে অবস্থিত কারখানার সামনে শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। শ্রমিক নেতাদের দাবি, দুই মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বিক্ষোভ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ যা বলছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের লোকসান, কাঁচামাল সংকট, ডলার সংকট এবং এলসি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে উৎপাদন অলাভজনক হয়ে পড়েছে। ১০ জুন জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ২৬ ও ২৮ ধারার আওতায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আইন অনুযায়ী সকল পাওনা ও ক্ষতিপূরণ পরিশোধের আশ্বাসও দেওয়া হয়। এছাড়া ১১ জুন থেকে উৎপাদন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। দুদকের তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়েছে? দুদকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিদেশে সম্পদ অর্জন, ব্যাংক ঋণের ব্যবহার, করপোরেট আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য অর্থপাচারের তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে জানা গেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে হামলা এবং এক নবীন চিকিৎসককে গুরুতর আহত করার ঘটনার পর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল জেলা শাখার একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে সংগঠনটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ডা. কবিরুজ্জামান বলেছেন, সংশ্লিষ্ট রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে তারা কোনো ধরনের অবহেলার প্রমাণ পাননি। তার দাবি, হাসপাতালের সক্ষমতার মধ্যে রোগীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ড্যাব সূত্রে জানা যায়, হামলার শিকার চিকিৎসকের সহকর্মীরা ঘটনার পরদিন হাসপাতালে গিয়ে রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। তাদের মূল্যায়নে, অচেতন রোগী হাসপাতালে আনার পর যেসব জরুরি চিকিৎসা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তার সবগুলোই অনুসরণ করা হয়েছে। ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, অচেতন রোগীর ক্ষেত্রে নাকের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস বা খাদ্য সরবরাহের নল, প্রস্রাবের পথের ক্যাথেটার এবং স্যালাইন সংযুক্ত করা প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ। সংশ্লিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রেও এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। এছাড়া রোগীর স্বজনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়েও কোনো ঘাটতি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে ড্যাব সভাপতি বলেন, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা শুধু একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নয়, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আঘাত। দ্রুত বিচার চায় চিকিৎসকরা ঘটনার পর রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ করে ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, এখন তদন্ত ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর। তার ভাষ্য, “এ ধরনের ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার এবং চার্জশিট দাখিলে এক সপ্তাহের বেশি সময় নেওয়া কাম্য নয়। আমরা দেখতে চাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো শৈথিল্য দেখায় কি না।” চিকিৎসাসেবা বন্ধের সতর্কবার্তা ড্যাব নেতারা বলেছেন, তাদের আইন প্রয়োগের ক্ষমতা না থাকলেও চিকিৎসাসেবা দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। ডা. কবিরুজ্জামান প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হামলার বিচার নিশ্চিত না হলে চিকিৎসক সমাজ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য চিকিৎসাসেবা সীমিত বা বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা তারা চান না; তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা? স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবার উদ্বেগ দেখা গেছে। রোগীর মৃত্যু বা চিকিৎসা জটিলতাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা চিকিৎসক সংগঠনগুলোকে নিরাপত্তা ইস্যুতে সোচ্চার করেছে। কেএমসি হাসপাতালের ঘটনাও সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে রোগীর স্বজনদের ক্ষোভ, অন্যদিকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা—এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেটিই এখন স্বাস্থ্যখাত ও প্রশাসনের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের বেসরকারি কেএমসি হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনাকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ হিসেবে দেখছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। সংগঠনটির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে ড্যাবের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) শাখা ও বরিশাল জেলা শাখার নেতারা কেএমসি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা হামলায় আহত দায়িত্বরত চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান। কী ঘটেছিল? ড্যাব নেতাদের দাবি, হাসপাতালের এক মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কতিপয় দুর্বৃত্ত হাসপাতালের ভেতরে হামলা চালায় এবং কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের ওপর প্রাণনাশের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ড্যাবের দাবি ? পরিদর্শন শেষে ড্যাব নেতারা বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রোগী ও স্বজনদের সেবাদানে নিয়োজিত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ড্যাব বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান, শেবাচিম শাখার সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ডা. ইমতিয়াজউদ্দিন সাজিদ, দপ্তর সম্পাদক ডা. ইস্তিয়াক আহমেদ রিফাত, ডা. আবদুল মালেক, ডা. সাইদুল ইসলাম আবীর, ডা. মাজহারুল রেজওয়ান রেজাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি ড্যাব নেতারা মনে করেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ প্রয়োজন। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ড্যাবের বিবৃতিতে গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা এদিকে এক বিবৃতিতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম), ড্যাব ও বরিশাল জেলা, ড্যাব গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানা। ড্যাব নেতৃবৃন্দ কেএমসি হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শুভেন্দু হালদার (শিবু)-এর ওপর রোগীর স্বজন কর্তৃক সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন। চিকিৎসকের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর এ ধরনের বর্বর আক্রমণ সমগ্র চিকিৎসক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হামলাকারীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি হাসপাতালসমূহে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় চিকিৎসক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে, যার দায়ভার সম্পূর্ণরূপে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। চিকিৎসকদের ওপর হামলার সংস্কৃতি বন্ধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : উদ্বোধনের মাত্র চার মাসের মাথায় বরিশালের হিজলা উপজেলার মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটের সড়কে বড় ধরনের ধস এবং জেটির একটি অংশ দেবে যাওয়ার ঘটনায় নির্মাণকাজের মান, তদারকি এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ পাইলিং ছাড়াই তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই নতুন করে সংস্কার করা ঘাটটি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দাবি করছে, নদীর তলদেশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এই ধসের ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয় দফার সংস্কারেও একই পরিণতি বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে একবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মৌলভীরহাট লঞ্চঘাট ও সংযোগ সড়ক সংস্কারের জন্য দ্বিতীয় দফায় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির ঠিকাদারি কাজ করেন নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী। সংস্কার শেষে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাটটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের তিন মাসের মধ্যেই গত এপ্রিল মাসে জেটির একটি অংশ দেবে যেতে শুরু করে। এরপর কয়েকদিন আগে সংযোগ সড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো ঘাটই নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী চলাচল সরেজমিনে দেখা গেছে, লঞ্চঘাটের সংযোগ সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। পন্টুনে ওঠার জেটির একপাশও দেবে গেছে। তবুও প্রতিদিন শত শত যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই জেটি ব্যবহার করে লঞ্চে উঠছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে ছোট নৌকার সাহায্য নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই ঘাটটি এলাকার মানুষের নদীপথে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাধ্য হয়েই যাত্রীদের এটি ব্যবহার করতে হচ্ছে। ‘প্রথমবারের ভুলের পুনরাবৃত্তি’ মৌলভীরহাট এলাকার ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ পান তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত বেলায়েত হোসেন ঢালীর ছেলে রাজু ঢালী। তার ভাষায়, প্রথম দফার কাজেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নানা অনিয়ম হয়েছিল। কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ঘাটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকারের প্রায় কোটি টাকার বিনিয়োগ কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রথমবার ধসের পর জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ হওয়ায় আগের সমস্যাগুলো থেকেই গেছে। ফলে উদ্বোধনের মাত্র চার মাসের মধ্যেই আবারও সড়ক ও জেটি ভেঙে পড়েছে। দায় কার—নির্মাণ ত্রুটি নাকি নদীর চরিত্র? ঘটনার বিষয়ে ঠিকাদার নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় সরকারি শিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে।” অন্যদিকে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন ধসের কারণ হিসেবে নদীর তলদেশের মাটি সরে যাওয়াকে দায়ী করেছেন। তার দাবি, “নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটের জেটি ও সড়ক ধসে পড়েছে। শিগগিরই ঘাটটি পরিদর্শন করে নতুনভাবে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই ঠিকাদার কেন? স্থানীয়দের একটি বড় প্রশ্ন—প্রথম দফার কাজ নিয়ে অভিযোগ থাকার পরও দ্বিতীয়বার একই ঠিকাদার কীভাবে কাজ পেলেন? এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী অনলাইন দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়। সেখানে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, “এক টাকার কাজের ক্ষেত্রেও অনলাইনে দরপত্র আহ্বান করা হয়। যেকেউ যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পেতে পারেন। ঠিকাদার নজরুল ইসলাম রাজু ঢালীর সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই।” তদন্তে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটের ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— প্রকল্পে অনুমোদিত নকশা ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি? নদীতীরবর্তী অবকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় পাইলিং ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল কি? নির্মাণকাজের সময় তদারকি কতটা কার্যকর ছিল? প্রথমবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও একই ঠিকাদারকে পুনরায় কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া কী ছিল? ধসের পেছনে প্রকৃত কারণ নির্মাণ ত্রুটি, নাকি নদীর ভূপ্রকৃতিগত পরিবর্তন? সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক অবকাঠামো উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন স্থানীয়রা।
বরিশাল অফিস : ক্রমাগত ব্যবসায়িক লোকসান, কাঁচামাল ও এলসি সংকটের কারণে বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমানের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, উৎপাদন বন্ধের কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সব শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব শ্রমিক তাদের প্রাপ্য পাওনা যথাযথ সময় পেয়ে যাবেন। আরো উল্লেখ করা হয়,১১ জুন থেকে বন্ধ ঘোষনা করা হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা এবং ২৮ এর বিধান অনুসরনপুর্বক অলিম্পিক সিমেন্ট ও অলিম্পিক ফাইবার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল স্তরের শ্রমিক এবং কর্মকর্তা -কর্মচারীদের চাকরি থেকে ছাটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আইন মোতাবেক সকল শ্রমিক,কর্মকর্তা -কর্মচারীদের বিধি মোতাবেক প্রাপ্য পাওনাদি ও ক্ষতিপুরন সম্পুর্ন পরিশোধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আরও পড়ুন: অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বিক্রির গুঞ্জন এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ কি আছে শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা এবং ২৮ এর বিধানে : বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৮ ও ২৮(ক)-তে শ্রমিকদের অবসর গ্রহণ এবং প্রাকৃতিক বা নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয়ের কারণে চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের আইনি বিধান রয়েছে。 শ্রম আইন কী বলছে? কোম্পানি কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৮-এর উল্লেখ করলেও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারা ২৮ মূলত শ্রমিকের অবসর গ্রহণের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকদের পাওনা, ক্ষতিপূরণ এবং মালিকের দায়বদ্ধতা শ্রম আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ফলে ছাঁটাই কার্যক্রম আইনসঙ্গত হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে শ্রমিকদের পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে কি না এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না তার ওপর। পাওনাদি পরিশোধ: প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব চাকরির বিধি বা শ্রম আইনের অন্যান্য ধারা অনুযায়ী অবসর গ্রহণকারী শ্রমিকের সব পাওনাদি (যেমন: প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ইত্যাদি) পরিশোধ করতে হবে। ধারা ২৮(ক): নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয়ের কারণে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক ২০১৩ সালের সংশোধনীতে যুক্ত হওয়া এই ধারার বিধানাবলি হলো: জরুরি পরিস্থিতি: আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়, মহামারি বা মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোনো জরুরি কারণে যদি কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করতে হয় বা উৎপাদন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তবে মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে তা সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারণ করবে। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে শ্রমিকের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং মালিকের দায়িত্ব শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। শ্রম আইনের পূর্ণাঙ্গ গেজেট ও ধারাগুলো দেখতে বাংলাদেশ লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ-এর ওয়েবসাইটটি দেখতে পারেন। যে কারনে বন্ধ হল এ্যাংকর সিমেন্ট ও এ্যাংকর সিমেন্ট এর ব্যাগ ফ্যাক্টরী: অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত যোগসাজসে দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে টাকা পাচারের কারনে লোকসানের মুখে পড়ে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। কোম্পানীর মালিক কর্তৃপক্ষ বিদেশে টাকা পাচারের তথ্য পিএস নিলুফা,পিএস জুয়েল,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট অফিসার মোস্তফা, সিওও শাহিদ উদ্তিন জেনে যাওয়ায় তারা কোম্পানী থেকে একেকজন শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। ফলে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে এ্যাংকর সিমেন্ট। ২০২৩ সাল থেকে ঋনের কিস্তি দিতে না পেরে এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ মার্কেট থেকে ডিলার,রিটেইলার ও ক্রেতাদের অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার লোভ দেখিয়ে অর্থ নিয়ে লোকাল মার্কেট থেকে ক্লিংকার,স্লাগ,জিপসাম,লাইমস্টোন ও ফ্লাই এ্যাশ সংগ্রহ করে সিমেন্ট উৎপাদন করে বাজারে সরবরাহ করতো।ফলে লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট কোম্পানী। ফলে একদিকে ব্যাংকের ঋন শোধ না করায় খেলাপীর লাইনে দাড়ায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। তেমনি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধে ব্যর্থ হয়।কোন ব্যাংক এলপি না খোলায় বিপাকে পরে তারা।কারন কোন ব্যাংকের ঋনের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেনি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড।ইসলামী ব্যাংক পিএলসিসহ অন্যান্য ব্যাংকে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের হাজার কোটি টাকা ঋন রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের ঋন পরিশোধ না করে মনোযোগী হয় বিদেশে কোম্পানী খোলা ও অর্থ পাচারে। অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড দুবাইতে স্বর্নের দোকান,ভিটা বাড়ি ক্রয়,ফুড় ডেলিভারির কোম্পানীসহ একাধিক কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে। এসব প্রতিষ্ঠান দুবাইতে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ লাভের মুখ দেখেনি।তবে তাদের জমি ও মার্কেট রয়েছে। যেভাবে টাকা পাচার করে দুবাইতে : অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত দুবাইতে একই নামে কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশে অবস্থিত অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে পিআই দিত দুবাই থেকে।এদিকে বাংলাদেশে অবস্থিত অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এলসি ওপেন করতো।অতিরিক্ত টাকা এলসির মাধ্যমে পাচার করতো।এছাড়া হুন্ডির মাধ্যমেও তারা শত শত কোটি টাকা পাচার করেছে।অন্য সিমেন্ট কোম্পানীর মালামাল ও অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর মালামাল এ্যাসেসমেন্ট করলেই বেড়িয়ে আসবে প্রতিটি এলসিতে কত ডলার পাচার করেছে।এসব বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে একটি বিশস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ,তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা: ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় কাগজপত্রসহ অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে কাস্টমস,ও ভ্যাট বিভাগ। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে এ্যাংকর সিমেন্টের শুল্ক ফাঁকি, ভ্যাট জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে নজরধারী ও তদন্ত শুরু করেছে। বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন, বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে।সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে। বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা: অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর অর্থ বিদেশে পাচার এবং বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা,দুদকের অনুসন্ধান,ভ্যাট ফাঁকি ও সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ার ফলে ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়ায়,ব্যাংক ঋন বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া, ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়ার চাপ বাড়তে থাকায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ,ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে তাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে।তারা এই তিন দেশের কোন এক দেশে যাবেন বলে সুত্র জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ : সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক প্রবাসী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাত। এরপর থেকেই কোম্পানির অর্থ বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, জুলিয়া রহমান হুন্ডির মাধ্যমে ও আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ এসেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের তহবিল ও ব্যাংক ঋণ থেকে। একইসঙ্গে জুলিয়া রহমান অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বিদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—৫১ চার্চ স্ট্রিট, সেন্ট জন’স, অ্যান্টিগুয়া। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ: অন্যদিকে আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ। ব্যাংক ঋণ সংকটে ও উৎপাদন বন্ধ: জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঋণের অর্থ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিটি মারাত্মক ঋণ সংকটে পড়েছে। বর্তমানে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি: সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত এর বিদেশ গমনের পথ বন্ধ করে তাদের আটক করে এবং অভিযোগগুলো সঠিকভাবে দুদক ও ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তদন্ত করলে বড় ধরনের অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা । শ্রমিকদের সাথে প্রতারনা : বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের বরিশালের সমন্বয়ক ড. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘মূলত প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের কর্মচারীদের আন্দোলনের এই নেতা আরো বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। তাই আমাদের দাবি, মালিকানা পরিবর্তন হলে পরবর্তী মালিককে ওই সব শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের পাওনা কতদিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে সে বিষয়েও নিশ্চয়তাও দিতে হবে। এদিকে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্টে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানান,কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়ে শ্রমিকদের সাথে প্রতারনা করছে।শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন না করলে কর্তৃপক্ষ দেনা পাওনা পরিশোধ করবেনা। উল্লেখ্য,এ্যাংকর সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,করপোরেট, ঢাকা অফিস ও মার্কেটিং বিভাগে প্রায় ৬০০ কর্মকর্তা,কর্মচারী ও শ্রমিক কর্মরত রয়েছে।করোনার সময়ে অসংখ্য শ্রমিক ছাটাই করে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ধাপে ধাপে আরো শত শত শ্রমিক ছাটাই করে দেনা পাওনা পরিশোধ না করেই। সামনে যেসব প্রশ্ন: অলিম্পিক সিমেন্ট বন্ধ শুধু একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বন্ধ নয়; এটি দেশের শিল্পখাত, ব্যাংকিং খাত এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। মূল প্রশ্নগুলো হলো— অলিম্পিক সিমেন্ট বন্ধের প্রকৃত কারণ কি শুধুই ব্যবসায়িক লোকসান? ব্যাংক ঋণের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে? এলসি লেনদেনে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি? ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত অভিযোগ? শ্রমিকদের পাওনা ও ক্ষতিপূরণ আদৌ সময়মতো পরিশোধ করা হবে কি? অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সংস্থাগুলো কী তথ্য পেয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে। তদন্তের দাবি: অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত দাবি করেছেন। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্প ও ব্যাংক খাতকে রক্ষা করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের শিল্পখাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এ্যাংকর সিমেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট নয়; বরং এটি করপোরেট সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্নও সামনে আনছে। এক কথায় এই অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের গল্প শুধুমাত্র একটি ব্যবসার পতনের নয়, বরং নৈতিকতার, প্রজ্ঞার, এবং দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এ্যাংকর সিমেন্টে ভয়াবহ কেলেঙ্কারি! বিদেশে সম্পদের পাহাড়, তদন্তে দুদক বরিশালের সিমেন্ট সাম্রাজ্যে ধস: ব্যাংক ঋণ থেকে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি! ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি? এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে তোলপাড় বেতন নেই, উৎপাদন বন্ধ, বিদেশে সম্পদ—সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট হুন্ডিতে অর্থপাচারের অভিযোগ, বিদেশে পালানোর শঙ্কা কোম্পানি কর্তাদের সিমেন্ট কোম্পানি নাকি অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দুবাই-লন্ডন-নিউইয়র্কে সম্পদ, দেশে বন্ধ কারখানা! প্রশ্নের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ডিলারদের কোটি টাকা আটকে, তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ও দুদক আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন। ▪️ধ্বংস অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড। ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?। ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।
বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্ট্রোকে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর পর সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা দ্রুত রূপ নেয় সহিংসতায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে একদল বহিরাগত হামলাকারী চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং হাসপাতালের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর করে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১০ জুন) দুপুরে নগরীর বাজার রোড এলাকার কেএমসি হাসপাতালে। হামলায় একজন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত মৃত ব্যক্তি মনির খান (৩৮)। তিনি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার উত্তর বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল হকের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের দ্বিতীয় স্ট্রোকের পর তাকে প্রথমে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কেএমসি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ৯ জুন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মনির খানের স্বজনরা বলছেন, রোগীর শারীরিক অবস্থা শুরু থেকেই সংকটাপন্ন ছিল। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ও বাকবিতণ্ডা তৈরি হলেও হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা তাদের পরিবারের সদস্য নন। রোগীর চাচাতো ভাই ফয়সাল রিয়াজ মিরন বলেন, “মনির খানের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু হাসপাতালের ওপর হামলা বা ভাঙচুরে পরিবারের কেউ অংশ নেয়নি।” হাসপাতালের অভিযোগ: ‘পরিকল্পিত হামলা’ কেএমসি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাওসার হোসেনের দাবি, রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী হাসপাতালে প্রবেশ করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের কেউ মুখে মাস্ক পরা ছিল, আবার কেউ প্রকাশ্যেই হাসপাতালে প্রবেশ করে। তারা চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায় এবং বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা আবাসিক চিকিৎসক ডা. শুভেন্দ্র হালদার শিপুর কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করে এবং কক্ষের আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম নষ্ট করে। কাওসার হোসেন বলেন, “সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। এতে একজন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।” হামলাকারী কারা? ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—হামলাকারীরা কারা? রোগীর পরিবারের সদস্যরা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বলছে, হামলাকারীরা রোগীর স্বজন নয়। এই দুই পক্ষের বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠছে—হাসপাতালে প্রবেশ করে হামলা চালানো ব্যক্তিরা কারা ছিলেন এবং তারা কীভাবে এত দ্রুত সংগঠিত হলো? ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা কোতোয়ালি মডেল থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান বলেন, “রোগীর মৃত্যু নিয়ে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দুই পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করে।” তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ফলে মামলা বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। যা বললেন কর্তব্যরত ডাক্তার শুভেন্দু এ ব্যাপারে কেএমসি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা.শুভেন্দু হালদার বলেন,মনির খান একজন স্ট্রোকের রোগী ছিলেন,আমরা যত্ন সহকারে সর্বোচ্চটা দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়েছি।এখানে চিকিৎসায় কোন অবহেলা হয়নি।যারা বলছে তারা অপপ্রচার করছে।এছাড়া তিনি বলেন,হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন অবহেলা বা অসহযোগীতা করেনি।যারা হামলা করেছে তারা রোগীর স্বজন নয়। রয়ে গেছে নিরাপত্তা প্রশ্ন পুলিশের উপস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনরা পরস্পরের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিক বিরোধের অবসান হয়। তবে এই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সহিংসতা প্রতিরোধের প্রশ্ন। স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিরোধ বা অভিযোগ থাকলে তার নিষ্পত্তির জন্য আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের ভেতরে হামলা, চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণ এবং চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত করা স্বাস্থ্যসেবার জন্য গুরুতর হুমকি। আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি কেএমসি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাওসার হোসেন জানিয়েছেন, হাসপাতালের সম্পদের ক্ষতি এবং চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, “হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” ঘটনার প্রকৃত দায়ী কারা, হামলার পেছনে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠী ছিল কি না এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজে কী তথ্য পাওয়া যায়—এসব প্রশ্নের ওপরই নির্ভর করছে।
বরিশাল অফিস : অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার্স লিমিটেড কারখানা বিক্রির সম্ভাবনা ঘিরে শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। চাকরির নিরাপত্তা এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কারখানার প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শ্রমিকরা। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, গণমাধ্যমে কারখানা বিক্রির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তারা বিষয়টি নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মৌখিকভাবে বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে কারখানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বর্তমান শ্রমিকদের চাকরি বহাল থাকবে কি না কিংবা দুই মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমসহ অন্যান্য পাওনা কীভাবে পরিশোধ করা হবে—সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন শত শত শ্রমিক ও কর্মচারী। শ্রমিকদের মূল দাবি কী? সমাবেশে বক্তারা বলেন, কারখানা বিক্রি হলে শ্রমিকদের চাকরি অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন মালিকের কাছে প্রতিষ্ঠান হস্তান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে বকেয়া বেতন, ওভারটাইম এবং অন্যান্য আর্থিক পাওনা দ্রুত পরিশোধের নিশ্চয়তা দিতে হবে। আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ তাদের দাবি, মালিকপক্ষের নীরবতা শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শ্রমিকদের জীবিকা ও পরিবার নির্ভর করছে এই চাকরির ওপর। ফলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হলে তা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে। সমাবেশে কারা ছিলেন? অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার্স লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (রেজি নং বরিশাল-৫৪) সভাপতি সেলিম সর্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বাসদ নেতা শহিদুল শেখ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের জেলা দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদারসহ বিভিন্ন শ্রমিক নেতা। এছাড়া ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পাভেল হাওলাদার, সহ-সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক লিটন, হান্নান হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান শাহীন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল হাওলাদার বক্তব্য রাখেন। সামনে আরও কর্মসূচির ঘোষণা শ্রমিক নেতারা জানান, দাবি আদায়ে প্রয়োজন হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৯ জুন বরিশালের অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সমাবেশ থেকে বরিশালের শ্রমিক, পেশাজীবী ও সাধারণ জনগণকে ওই কর্মসূচিতে সংহতি জানানোর আহ্বান জানানো হয়। প্রশ্নের মুখে শ্রমিক অধিকার শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় গেলে শ্রমিকদের চাকরি, বকেয়া মজুরি এবং আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শ্রমিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, যদি মালিকপক্ষ এ বিষয়ে স্বচ্ছ অবস্থান না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বিক্রির সম্ভাবনা ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ কী হবে, আর তাদের পাওনা ও চাকরির নিশ্চয়তা কে দেবে?
বরিশাল অফিস : বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন থেকে ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট পর্যন্ত সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, যথাযথ তদারকির অভাব এবং প্রকৌশলগত ত্রুটির কারণে প্রায় ৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিদর্শন প্রতিবেদনে সড়কটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—প্রোটেকশন ওয়ার্ক বা প্যালাসাইডিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ কী? চন্দ্রমোহন মাছ বাজার এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের প্যালাসাইডিং ও সুরক্ষা কাঠামো নির্মাণে একাধিক অনিয়ম হয়েছে। তাদের দাবি, ঘানিব্যাগ তৈরিতে নির্ধারিত অনুপাতে বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। ফলে বস্তাগুলো শক্ত হওয়ার পরিবর্তে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কিছু স্থানে বস্তার ভেতরে সহজেই লাঠি প্রবেশ করানো সম্ভব হচ্ছে, যা নির্মাণমান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। এছাড়া খালের ভেতর থেকে ভারী যন্ত্র দিয়ে কাদামাটি উত্তোলন করে সড়কের পাশে ফেলার কারণে প্যালাসাইডিংয়ের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় ১৪০ মিটার এলাকায় প্যালাসাইডিং খালের দিকে হেলে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে পুরো কাঠামো ধসে পড়তে পারে এবং সড়কটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তদারকি নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত তদারকির অভাব রয়েছে। একইসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশের অভিযোগও তুলেছেন তারা। অভিযোগের তীর গেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর দিকেও। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিদর্শন প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে? গত ১ জুন প্রকল্প পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ মো. জামাল প্রকল্পটির নকশা ও প্রোটেকশন ওয়ার্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্প এর আওতায় সড়কটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। খরস্রোতা খালের পাড়ঘেঁষে নির্মাণাধীন হওয়ায় সড়কের একপাশে আরসিসি প্যালাসাইডিং নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ১:৪:৮ অনুপাতে প্রস্তুত বালিভর্তি বস্তা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালের পানির উচ্চতার পরিবর্তনের কারণে এখানে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় চাপের মাত্রা পরিবর্তনশীল। বর্ষা মৌসুমে এই চাপ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিদ্যমান প্যালাসাইডিং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। ‘স্থায়ী নাও হতে পারে’ প্যালাসাইডিং পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সড়কের মূল অংশের সাবগ্রেড, সাববেইজ, বেইজ ও কার্পেটিংয়ের কাজ তখনও শুরু হয়নি। একইসঙ্গে কান্ট্রি-সাইডের মাটির কাজও অসম্পূর্ণ ছিল। পরিদর্শন শেষে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মন্তব্য করেন: “সম্ভবত সড়কটির প্যালাসাইডিং স্থায়ী হবে না, অথচ এই অংশটিই সড়কের স্থায়িত্বের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও মত দেন যে, প্রোটেকশন ওয়ার্কের বিষয়ে ডিজাইন ইউনিটের কারিগরি পরামর্শ অনুযায়ী প্রাক্কলন প্রস্তুত করা প্রয়োজন ছিল। ব্যয়ের বড় অংশ সুরক্ষা কাঠামোয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের প্রায় পুরো ব্যয়ের বড় অংশই প্রোটেকশন ওয়ার্কে ব্যয় হচ্ছে। তাই সড়কের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সুরক্ষা কাঠামোর কার্যকারিতা এবং নকশাগত সক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন জরুরি। এছাড়া কান্ট্রি-সাইডের কয়েকটি অংশে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি ছোট ড্রেনেজ কালভার্ট নির্মাণেরও সুপারিশ করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হিসেবে প্রোটেকশন ওয়ার্কের স্থায়িত্ব যাচাইয়ের জন্য এলজিইডির ডিজাইন ইউনিট এবং প্রকল্প পরিচালকের সরেজমিন পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সামনে কী ঝুঁকি? স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও প্রকল্প থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। বরং অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সরকারি অর্থের অপচয় এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, উপজেলা প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরীর আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতাল আবারও এসেছে সংবাদের শিরোনামে। এবার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসা অবহেলার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর। শিশুটির পরিবারের দাবি, সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং উন্নত হাসপাতালে রেফার না করায় তাদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি নতুন হলেও অভিযোগের ধরন নতুন নয়। এর আগেও চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে আলোচনায় এসেছিল হাসপাতালটি। গত বছরের অক্টোবর মাসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার। সেই অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি না হতেই নতুন করে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির সেবার মান ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলছেন—“আর কত প্রাণ গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙবে?” অপারেশনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংকট পরিবার সূত্রে জানা যায়, উজিরপুর উপজেলার মোরাকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মুনা সর্দার এবং তার স্বামী সাজ্জাদ ফরাজী বর্তমানে বরিশাল নগরীর ভাটিখানা জোর মসজিদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। গত ৩১ মে দুপুরে অন্তঃসত্ত্বা মুনা সর্দারকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম। পরিবারের দাবি, ভর্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মা সুস্থ ছিলেন। রাত প্রায় ৮টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে জন্মের পরপরই চিকিৎসক পরিবারকে জানান, নবজাতকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তাকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হবে। ছিল না প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত সুবিধা? পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালটিতে নবজাতকের সংকটাপন্ন অবস্থার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সিসিইউ বা আইসিইউ সুবিধা ছিল না। শুধু তাই নয়, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ রয়েছে, শিশুর অবস্থার অবনতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। বরং ডা. নজরুল ইসলাম তার পছন্দের একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসার জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মুজিবুর রহমান হাসপাতালে এসে নবজাতককে পরীক্ষা করেন এবং দ্রুত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ততক্ষণে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। ‘আরও আগে রেফার করলে বাঁচানো যেত’ নবজাতকের বাবা সাজ্জাদ ফরাজীর দাবি, চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই বিলম্বই তাদের সন্তানের মৃত্যুর প্রধান কারণ। তিনি বলেন, “আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য ডা. নজরুল ইসলাম দায়ী। তিনি দায়িত্বে অবহেলা করেছেন এবং সময়মতো উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করেননি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।” পরিবারের দাবি, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরাও তাদের জানিয়েছেন যে, রোগীকে আরও আগে রেফার করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে হাসপাতালটিতে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে নবজাতকটির মৃত্যু হয়। পুরোনো অভিযোগের ছায়া আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। গত বছরের অক্টোবর মাসে চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার। বর্তমান ঘটনাটি সেই অভিযোগগুলোর কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এছাড়া হাসপাতালটিকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগও রয়েছে। কয়েকজন ভুক্তভোগীর দাবি, ডা. নজরুল ইসলামের চেম্বারে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করালে অন্য প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট গ্রহণে অনীহা দেখানো হয়। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকের বক্তব্য মেলেনি নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ডা. নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কী বলছে প্রশাসন? বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মনজুর-এ-এলাহী বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযোগের তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” আগের অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, সেগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, “আমি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জবাবদিহির অপেক্ষায় একটি মৃত্যু একটি নবজাতকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয় না, এটি স্বাস্থ্যসেবার মান, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং বেসরকারি হাসপাতালের জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। আরিফ মেমোরিয়াল হাসপাতালের বিরুদ্ধে অতীতের অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক এই মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটি এখন তদন্তের বিষয়। তবে একটি প্রশ্ন ইতোমধ্যে জনমনে জোরালো হয়ে উঠেছে—যদি অভিযোগগুলো আগেই কার্যকরভাবে তদন্ত হতো, তাহলে কি আরেকটি প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব ছিল?
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় শহর ও ঐতিহাসিক ঈদগাহগুলোতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সম্ভাব্য ঝড়-বৃষ্টি ও বিপুল মুসল্লির সমাগম বিবেচনায় নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, বিকল্প জামাত এবং নজরদারিতে রাখা হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এবারের আয়োজনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ মাঠে দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে বিকল্প প্রধান জামাত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে—সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দুই দফায় জামাতের আয়োজন রাখা হয়েছে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট ও ৮টা ৩০ মিনিটে। এছাড়া বিভিন্ন হল মসজিদ ও মাঠেও পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গুলশান এলাকার মসজিদগুলোতেও একাধিক জামাতের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিট, সকাল ৭টা ৩০ মিনিট ও ৯টা ৩০ মিনিটে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীতে শতাধিক ঈদগাহ এবং দেড় হাজারের বেশি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা ঈদের দিন ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিকল্প আয়োজন রাখা হয়েছে। কোথাও ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে ঈদগাহ, কোথাও রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পলিথিন, আবার কোথাও নির্ধারণ করা হয়েছে বিকল্প মসজিদ। চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে পুরো ঈদগাহ ঢেকে দেওয়া হয়েছে ত্রিপল দিয়ে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। আবহাওয়া খারাপ হলে বিকল্প হিসেবে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রস্তুত রয়েছে। রাজশাহীতেও একই ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টি হলে শাহ মখদুম দরগা জামে মসজিদে সকাল ৮টায় আয়োজন করা হবে। দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানেও বৃষ্টির কথা বিবেচনায় নিচু স্থানে বালু ভরাট এবং পলিথিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শোলাকিয়ায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা দেশের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে সবচেয়ে বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিশোরগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হবে ১৯৯তম ঈদ জামাত। সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিতব্য জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মুসল্লিদের জায়নামাজ ছাড়া অন্য কোনো বস্তু—যেমন ছাতা, ব্যাগ বা লাঠি—নিয়ে মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় ৬০০ পুলিশ সদস্য, দুই প্লাটুন বিজিবি ও ৫৫ জন র্যাব সদস্য। এছাড়া বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ৭টি আর্চওয়ে গেট, ৫০টি মেটাল ডিটেক্টর এবং ৩২টি চেকপোস্ট। পুরো এলাকাকে ভাগ করা হয়েছে আটটি নিরাপত্তা সেক্টরে। দূরদূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ ট্রেন ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’। সিলেট, খুলনা ও বরিশালে প্রস্তুতি সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বিকল্প হিসেবে দরগাহ জামে মসজিদে দ্বিতীয় জামাতের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। খুলনায় সার্কিট হাউজ ময়দানে সকাল ৭টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে টাউন জামে মসজিদে আয়োজন করা হবে বিকল্প জামাত। বরিশালে প্রায় ৩৫০টি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নগরীর কেন্দ্রীয় জামে কসাই মসজিদ, জামে এবাদুল্লাহ মসজিদ ও সদর রোডের বায়তুল মোকাররম মসজিদে একাধিক জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চরমোনাই, গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ এবং ছারছীনা দরবার শরীফেও বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যসেবা ও নজরদারিতে গুরুত্ব বিভিন্ন ঈদগাহে অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র, পানির ব্যবস্থা, অজুখানা ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। বরিশালে র্যাব-৮ জানিয়েছে, প্রবেশপথগুলোতে স্ক্রিনিং গেট থাকবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি পরিচালনা করা হবে। শোলাকিয়ায় চিকিৎসক, ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে অস্থায়ী অজুখানা, টয়লেট ও পানির ভ্যান স্থাপন করা হচ্ছে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের চেষ্টা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া ও নিরাপত্তা—দুই চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই এবারের ঈদ জামাত আয়োজন করা হচ্ছে। দেশজুড়ে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ধর্মীয় আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ভয়াবহ অনিয়ম, ভুয়া স্কিম এবং কাগুজে কাজ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে বাস্তব কাজের তুলনায় কাগজে-কলমে ব্যয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে কয়েকগুণ বেশি। অনেক ক্ষেত্রে কোনো কাজই না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এলজিইডি বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান, দাপ্তরিক নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তার প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, নাজিরপুর ও সদর উপজেলায় একাধিক প্রকল্পে সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। ‘ভূতুড়ে স্কিম’ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, IBRP, CAFDARID, PDRIDP এবং BDIRWSP প্রকল্পের আওতায় শত শত ভুয়া ও কল্পিত স্কিম দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই ছাড়াই বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ১২৮টি ভুয়া বা অস্তিত্বহীন স্কিম দেখিয়ে প্রায় ২৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিয়ে প্রায় ২০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্প—CAFDARID-এর আওতায় আরও ৬৯টি ভুয়া স্কিম দেখিয়ে প্রায় ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রকল্পের বড় অংশের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে কোনো কাজের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি, অথচ কাগজে প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়িত দেখানো হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে যে সিন্ডিকেট দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই অর্থ লোপাটের সঙ্গে এলজিইডির একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ মদদে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম এবং হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা সরকারি অর্থ আত্মসাতে অংশ নেন। তদন্ত সূত্র জানায়, কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজন কিংবা বেনামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ ভাগিয়ে দেওয়া হতো। নিয়ম অনুযায়ী কাজের পরিমাপ বই (Measurement Book বা এমবি) প্রস্তুত ছাড়াই বিল অনুমোদনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছে কি না তা যাচাই না করেই কোটি কোটি টাকার বিল ছাড়ের অনুমোদন দেন শেখ নুরুল ইসলাম। অনুসন্ধানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ তার কাছেও পৌঁছাত। দুদকের পৃথক অনুসন্ধান এদিকে, এলজিইডির জলবায়ু প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকালেও শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক স্বাক্ষরিত ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের এক অফিস আদেশে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে শেখ নুরুল ইসলামের সামগ্রিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জলবায়ু প্রকল্পে জনবল নিয়োগে অনিয়ম, কেনাকাটায় স্বচ্ছতার অভাব এবং আর্থিক লেনদেনে অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক পৃথক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ বিতর্ক এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিগত সরকারের দীর্ঘ সময়জুড়ে শেখ নুরুল ইসলাম প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সক্রিয় নেতৃত্বে থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে অবস্থান বজায় রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডির ভেতরের কয়েকজন প্রকৌশলী অভিযোগ করেন, কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আর্থিক অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল। তবে প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে সেসব অভিযোগ দৃশ্যমান তদন্তে রূপ পায়নি। মামলা, কিন্তু পদে বহাল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পিরোজপুর ইতোমধ্যে শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ ২১ জন কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ও ২০১ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে গুরুতর এসব অভিযোগ ও মামলার পরও শেখ নুরুল ইসলাম এখনও স্বপদে বহাল থাকায় এলজিইডির অভ্যন্তরে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের করের টাকা লুটপাটের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতি জনগণের আস্থা আরও দুর্বল হবে। এখন নজর দুদকের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে—এই অভিযোগগুলো শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদৌ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না। আস্থার সংকটে উন্নয়ন ব্যবস্থা বিশ্লেষকরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে এ ধরনের অনিয়ম শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও জনআস্থার জন্যও বড় হুমকি। কারণ, যেসব প্রকল্প গ্রামীণ সড়ক, অবকাঠামো ও দুর্যোগ পুনর্বাসনের জন্য নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অর্থ আত্মসাৎ হলে ভুক্তভোগী হয় সাধারণ মানুষই। এখন নজর আইনি প্রক্রিয়ার দিকে—দুদকের অনুসন্ধান ও মামলার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদৌ কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
বরিশাল অফিস : বরিশালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে ডা. আশীষ কুমার হালদার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারকে ঘিরেও উঠেছে নানা প্রশ্ন। মৃত নবজাতকের বাবা, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ইসতিয়াক আহমেদ রিফাতের অভিযোগ— সাতদিন এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পরও তার সন্তান প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পায়নি। শেষ পর্যন্ত ঢাকায় নেওয়ার পর শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে আনার পর শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এরপর বেলভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডা. রিফাতকে ডেকে সমবেদনা জানায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশ্বাস দেয়। তদন্ত কমিটি, অব্যাহতি ও দায় এড়ানোর অভিযোগ বেলভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে অপারগতার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আরও পড়ুন: বরিশালে ডাঃ আশীষ কুমার হালদারের অবহেলায় চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যু ১৯ মে বরিশাল প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ডা. নজরুল ইসলামের উদ্যোগে ডা. ইসতিয়াক আহমেদ রিফাতকে নিয়ে বেলভিউ হাসপাতালে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিয়াজ হাসানের কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বেলভিউর শেয়ারহোল্ডার ডা. জি কে চক্রবর্তীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং চিকিৎসা বাবদ নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। ‘পা ধরে অনুরোধ করেও চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি’ ডা. ইসতিয়াক আহমেদ রিফাত তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে অভিযোগ করেন, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তার সন্তানকে বেলভিউ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হলেও সংশ্লিষ্ট কনসালটেন্ট ডা. আশীষ কুমার হালদার চিকিৎসা দিতে আসতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ফোন করে “পা ধরে” অনুরোধ করার পরও চিকিৎসক হাসপাতালে আসেননি। এছাড়া প্রেসক্রিপশনে অস্পষ্ট নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি, হাসপাতাল স্টাফদের অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের কারণেও শিশুটি যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “ডাক্তার কাপলের সঙ্গেও যদি এমন আচরণ হয়, তাহলে সাধারণ রোগীরা কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, সেটাই বড় প্রশ্ন।” এনআইসিইউ সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালের এনআইসিইউতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা ছিল না। তবুও সেখানে নবজাতককে ভর্তি রাখা হয় এবং সাত দিনের চিকিৎসা শেষে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার টাকার বিল করা হয়। পরিবারের দাবি, অবস্থার অবনতি হওয়ার পর দায় এড়াতে শেষ মুহূর্তে শিশুটিকে ঢাকায় রেফার করা হয়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ড্যাবের নজরে ঘটনা ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর নজরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। হাসপাতাল সিইও যা বললেন বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ হাসান বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে দায়ীদের শোকজ করা হয়েছে। মৃত নবজাতকের চিকিৎসা বাবদ নেওয়া বিল ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ডা. আশীষ কুমার হালদার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।”
বরিশাল অফিস : বরিশালে একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে মানব পাচার ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) মিডিয়া সেল জানিয়েছে, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল গত ১৮ মে রাত প্রায় ১০টার দিকে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানার পোর্ট রোড এলাকার আবাসিক হোটেল ‘পপুলার’-এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন— মো. জাফর হোসেন (৩৫), মো. আল আমিন বেপারী (৩০), মো. শাওন সিকদার (২১), মোসা. সুমাইয়া ইসলাম (২২), মিঠুন দেবনাথ (২৮) এবং মোসা. রুনা আক্তার (২২)। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে হোটেলের কাউন্টার ও বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করা হয়। এ সময় পতিতাবৃত্তি ও দেহ ব্যবসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের যোগসাজশে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করে আসছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও ভবনে গোয়েন্দা বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিএমপি।
বরিশাল অফিস : বরিশালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায় এক চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নবজাতকের বাবা বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের মেডিকেল অফিসার এবং মা একজন এমবিবিএস ডাক্তার। ২১ দিন বয়সের নবজাতকের মৃত্যুর পর তার বাবা নিজের ফেসবুক আইডিতে এই নির্মম অবহেলা জনিত মৃত্যুর বর্ননা তুলে ধরেন।এ ঘটনায় নেট দুনিয়া সহ বরিশালের সচেতন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক পোস্ট দেখেই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বেলভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের হাসপাতাল স্টাফ বা কর্তৃপক্ষের কোন অবহেলা আছে কিনা সে বিষয়ে সঠিক তথ্য উদঘাটন ও ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতলের সিইও রিয়াজ হাসান। এদিকে পোস্টের শুরুতেই ডা. ইসতিয়াক অহমেদ রিফাত লিখেছেন, আমার ‘ইজান’ আল্লাহর হুকুমে আল্লাহর কাছে চলে গেছে। বিনিময়ে আমাকে দেখিয়ে গেছে বরিশালে শিশু চিকিৎসার করুণ অবস্থা। তাছাড়া বেলভিউ হাসপাতালে তেমন কোন চিকিৎসা না পেলেও তারা ১লক্ষ ১১ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এরপর তিনি পুরো ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে লিখেন, ২১ এপ্রিল রাত এগারটায় জরুরী ভিত্তিতে সিজারিয়ান এর মাধ্যমে মমতা হাসপাতালে আমার একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। গাইনি ম্যাম নিজেই ডা:আশিষ স্যারকে ডেলিভারির সময় বলে রাখেন। সিজার হলো। ইজান দুনিয়াতে আসলো। আশীষ স্যার প্রাইমারি রিসাসিটেশন করলেন। ইজান হালকা করে কাদলো। আশিষ স্যার প্রেসক্রিপশন করলেন আর বললেন শেবাচিম অথবা বেলভিউ হাসপাতালে নিতে পারেন। সিজারের এক ঘন্টা পর রাত বারোটার দিকে বেলভিউতে নিয়ে গেলাম। সেখানে গিয়ে আরেক ক্যাচাল। ডা:আশিষ স্যার তার প্রেসক্রিপশনে নরমাল বেড বা ইনকিউবেটরের কিছুই লিখেন নাই। আর অত রাতে স্যারকে কল দেয়া যাবে না। তাই তারা জেনারেল কেবিনে দিল। শুধু একটু অক্সিজেন লাগিয়ে দিল। আর ডাক্তার পরিচয় দেবার পরেও তাদের জঘন্য ব্যবহারের কথা আর নাই বলি। সারা রাতে একবার তারা খোজ নিতে আসলো না। হঠাত সন্ধ্যার পরে ইজান অসুস্থ্য হয়ে যায়। স্যাচুরেশন ফল করে। আবার অক্সিজেন লাগানো হলো। এরপরো অবস্থার উন্নতি না হওয়াতে আশীষ স্যারকে ডিউটি ডাক্তার কল দেয়। সে রুডলি বলে শেবাচিম বা ঢাকা নিতে। এতটুকু অসুস্থ্য একটা বাচ্চাকে ঢাকা নেয়া পসিবল? আবার বাচ্চাটি বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ার পর ডিউটি ডাক্তার কল দিল। আমি কল দিলাম। আমি কল দিয়ে পা ধরছি। তাও আশিষ স্যার আসবেন না। শেষে শেবাচিম ড্যাবের প্রেসিডেন্ট ডা:নজরুল স্যার কল দেয়াতে তিনি আসেন এবং চিকিৎসা দেন। দিন দিন বাচ্চাটা ফ্লপি হয়ে যাচ্ছে সেটা আর খেয়াল করলেন না। আমাদেরও কিছু বলেন না। কথা একটাই,উন্নতি নাই। এর বাইরে কোন কাউন্সিলিং নাই। এরপর আমরা ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। বেলভিউর রিসিপশনে বললাম আমি ডাক্তার,আমার স্ত্রী ডাক্তার। তারপরও খুবই বাজে একটা মন্তব্য পাইলাম। একদিন দুপুরে দুর্ভাগ্যক্রমে আমার বউ ডা.নুসাইবা এবং তার এক মেয়ে কাজিন হাসপাতালে ছিল। ইজানকে জরুরী একটা টেস্ট করতে দেয়। আমার স্ত্রী নুসাইবা বেলভিউর কাউন্টারে গিয়ে ডাক্তার এবং মা পরিচয় দেবার পরেও বাজে বিহাভের স্বীকার হয়। পোস্টের শেষে মন্তব্যে তিনি লিখেন, বেলভিউ কর্তৃপক্ষ ডাক্তার কাপলের সাথে যদি এরকমটা করতে পারে, তাহলে অন্যান্য মানুষের সাথে কি করবে? এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. আশীষ কুমার হালদার। তার শশুর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিশি ভোটের একাধিকবার এমপি। স্বাচিপ এর রাজনীতির সাথে জড়িত ডা. আশীষ। এক সময় তার কলমের ধারে অনেক নীরিহ পেশাদার চিকিৎসককে হয়রানী হতে হয়েছে। বরিশাল সদররোড বেলভিউতে একটি এনআইসিইউ গড়ে তুলেছেন। শুধু বিল নেওয়ার বেলায় সেটি এনআইসিইউ হলেও সেখানে আসলে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী ও ব্যবস্থাপনা নেই। মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে সেখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন ডা. আশীষ। এর পূর্বেও একাধিক বাচ্চাকে ভুল চিকিৎসা প্রদানের অভিযোগ রয়েছে ডা. আশীষের বিরূদ্ধে। এ বিষয়ে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. আশীষ কুমার হালদার বলেন, বাচ্চাটি আমার আন্ডারে বেলভিউতে ভর্তি ছিল। সাধ্যমত চিকিৎসা প্রদানের চেষ্টা করেছি, আমি আমার রাউন্ড ফি পর্যন্ত নেইনি। তাছাড়া কোন ডাক্তার ইচ্ছা করে কোন রোগীগে ভুল চিকিৎসা করেন না। বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিয়াজ হাসান বলেন, এ বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আসল তথ্য পাবো। যেহেতু আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তদন্তানাধীন তাই এর বেশি এখন বলা সম্ভব নয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা বিভাগের (এনএসআই) নতুন কার্যালয় ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। প্রায় ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীর কাশিপুর এলাকায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে প্রকল্পটি। স্থাপত্য অধিদপ্তরের নকশা অনুযায়ী ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন তহবিলের (জিওবি) অর্থায়নে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভবনটি প্রাথমিকভাবে এনএসআই’র বরিশাল সাব-স্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত হবে। পাঁচতলা বিশিষ্ট মূল ভবনের পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে দুইতলা গ্যারেজ-কাম-ব্যারাক ভবনও। বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম বলেন, বর্তমানে কাজ চলছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপত্তা সংস্থার কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও আধুনিক করতে এই অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।