বাকেরগঞ্জ পৌরসভার দরপত্রে ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা: শেষ সময়ে ‘দ্রুত উন্নয়ন’ না কি অস্বচ্ছতার আড়াল? বরিশাল অফিস : বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় ছয়টি উন্নয়ন প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান ঘিরে ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ৭ হাজার ৬৬৭ টাকা। কিন্তু কাজের ধরন, পরিসর এবং বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে এই ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে সন্দিহান স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ঠিকাদাররা। পৌর ভবনেই ব্যয়ের বড় অংশ দরপত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট ব্যয়ের বড় অংশই কেন্দ্রীভূত হয়েছে পৌরসভা ভবন এবং এর আশপাশের অবকাঠামো উন্নয়নে। ইউনিব্লক সড়ক ও প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ: ৯,৪০,১৫২ টাকা কনফারেন্স ও অফিস কক্ষের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা: ৪৩,৩৬,৭৮৮ টাকা ছাদে টাইলস স্থাপন: ১১,৪৯,১২১ টাকা এই তিনটি কাজেই ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি। অন্যদিকে, জনসাধারণের সরাসরি ব্যবহারের প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে: ১০টি বেঞ্চ স্থাপন: ৪,১৭,২২৭ টাকা (প্রতি বেঞ্চ ~৪১,৭২৩ টাকা) ৫০টি সড়ক বাতি: ২৫,৮৯,৫৭৬ টাকা (প্রতি বাতি ~৫১,৭৯২ টাকা) একটি অপেক্ষাকক্ষ নির্মাণ: ৬,৭৪,৮০৩ টাকা প্রশ্নবিদ্ধ ‘সাজসজ্জা’ খাতে বিপুল ব্যয় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে মাত্র প্রায় ৩০০ বর্গফুটের দুটি কক্ষের সাজসজ্জায় ৪৩ লাখ টাকার প্রাক্কলন নিয়ে। স্থানীয়দের মতে, এটি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ ঠিকাদার জানান, ১,৫০০ বর্গফুট ছাদে টাইলস বসাতে যেখানে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা লাগার কথা, সেখানে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে—যা বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি। ‘শেষ সময়ের কাজ’—সন্দেহের কেন্দ্রে প্রশাসনিক পরিবর্তন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পৌর কর্মচারী ইঙ্গিত দিয়েছেন ভিন্ন এক বাস্তবতার দিকে। তার দাবি, প্রশাসক (ইউএনও) এবং প্রকৌশলীর বদলির প্রেক্ষাপটে এটি তাদের দায়িত্বের শেষ সময়ের কাজ হওয়ায় ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয়ে থাকতে পারে। এই বক্তব্য প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ উত্থাপন করেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের প্রতিক্রিয়া সাবেক কাউন্সিলর আলিম জোমাদ্দারের ভাষায়, “পৌর ভবনের বেশিরভাগ কাজই অপ্রয়োজনীয়। যেখানে রাস্তা ভালো আছে, সেখানে নতুন করে নির্মাণ বা টাইলস বসানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।” একই সুরে কথা বলেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা জামাল হোসেন বিপ্লব। তার মতে, “৬৩ লাখ টাকার কাজ পৌর ভবনে—এটা স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।” ঠিকাদার জাকির হোসেন বলেন, “দরপত্রের ব্যয় আর বাস্তব কাজের মধ্যে কোনো মিল নেই। এটি পরিষ্কারভাবে অতিমূল্যায়ন।” প্রশাসনের অবস্থান: দায় এড়ানোর চেষ্টা? এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দীন জানান, প্রাক্কলন সাধারণত বাজারদর বিবেচনা করেই করা হয়। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রাক্কলন না দেখে নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে পারেননি। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক স্বীকার করেছেন, বিষয়টি তার কাছেও “অস্বাভাবিক” মনে হয়েছে। তবে তিনি দায় চাপিয়েছেন প্রকৌশল বিভাগের ওপর, যারা প্রাক্কলন নির্ধারণ করে থাকে। স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, ছোট পরিসরের কাজেও অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো একটি বৃহত্তর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়—যেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ে বরাদ্দ ব্যবহারের ধরণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি, দরপত্র প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ব্যয়ের প্রাক্কলনের স্বচ্ছতা যাচাই সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বাকেরগঞ্জ পৌরসভার এই প্রকল্পটি কেবল একটি স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়—এটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসনের একটি পরীক্ষাও বটে। দরপত্র বিক্রয়ের শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২৬। তার আগেই যদি প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক উত্তর না আসে, তাহলে এই প্রকল্প ভবিষ্যতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাস। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বে গাফিলতি ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তিনি চাকুরীর শুরু থেকেই বরিশাল জেলায় ঘুরে ফিরে রয়েছেন। চাকুরীর শুরু উপজেলা মুলাদী থেকে শুরু করে বরিশাল ও বাবুগঞ্জে বিতর্ক আর প্রতিরোধের মুখে বদলী হয়েছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নাই। বাবুগঞ্জ থেকে বাকেরগঞ্জে যোগদানের পরেই পুর্বের কর্মস্থলের মত আচরন শুরু করেন।তার ওপরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকলেই ক্ষুব্ধ। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল বাকেরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীরা। বরিশাল ও বাবুগঞ্জের মত বাকেরগঞ্জে ও তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা হয়নি। জানা গেছে, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন একই জেলায় দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় নানা অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি ও কর্মচারীদের প্রতি অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কারণে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে আলোর মুখ দেখেনি। ডা.সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ওপর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনার চিকিৎসা সেবা প্রদানের দায়িত্ব থাকলেও তিনি নিয়মিতভাবে তা পালন করছেন না। যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ। বরিশাল জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মেহবুব মোর্শেদের সাথে সু সম্পর্ক থকার কারনে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করে দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন। এতে করে সাধারন রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নিয়মিত ইউনিয়নগুলোতে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করেই ভুয়া টিএ (ভ্রমণ ভাতা) ও ডিএ (দৈনিক ভাতা) বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিকবার একই ধরণের বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাটের প্রমাণ রয়েছে বলে জানা যায়। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের পরিবার পরিকল্পনার সেবা নিতে আসা রোগীদের সাথে হরহামেশাই খারাপ আচরন করে থাকেন। এমনকি রোগীকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ব্যাপারে জানা যায়, দীর্ঘ মেয়াদি জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা ইমপ্লান্ট পড়ানো ও খোলা দুইটিই ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের দায়িত্ব থাকলেও এফডাব্লিউভি (পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা) দ্বারা জোরপূর্বক তা করিয়ে থাকেন। যার ফলে প্রায়শই ব্যবস্থাটি ত্রুটিপূর্ন হয়ে থাকে। যা নিয়ে হর-হামেশাই সেবা প্রত্যাশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাবুগঞ্জে কর্মরত থাকাকালে মাধবপাশা ইউনিয়ন থেকে ইমপ্লান্ট এর চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রাবেয়া নামে এক নারী জানিয়েছিলেন আগে দুইবার এ পদ্ধতি নিলেও এইবারের মতো কষ্ট কখোনই পাইনি। ডা.নিজে তার কাজ না করে অনভিজ্ঞদের দ্বারা ইমপ্লান্ট পড়ায়। এতে অসহ্য রকমের ব্যাথা অনুভূত হয়। এভাবেই বাকেরগঞ্জে তিনি কর্ম করে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, কর্মচারীদের টিএ বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিলের ৩০-৪০% টাকা ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনকে ঘুষ দিতে হয়। কারন হিসেবে তিনি বলেন এ অর্থ বরিশাল অফিসে ও হিসাব শাখায় জমা দিতে হয়। এ টাকা কেউ না দিতে চাইলে তাকে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের রোষাণলে পরতে হয়। এমনকি বিল আটকে দেয়ার হুমকিও প্রদান করা হয়। এছাড়াও কথায় কথায় কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার ও অসংখ্য নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়,মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা (সোনিয়া) কর্মস্থলে অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকেন, টি.এ বিল আত্মসাৎ করেন, এবং কর্মচারীদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেন, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ (খারা ৩ ও ৭)-এর পরিপন্থী। তিনি চিকিৎসা সেবা সম্পর্কেও দায়িত্বহীন আচরণ করেন, ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে বহুবার উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা, বরিশাল বরাবর মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও, তিনি অভিযুক্তদের কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ করায় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, যা দুর্নীতি দমন আইন ও সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।আবেদনকারীরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে প্রতিকার চেয়েছিলেন। প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: অন্যদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়— মুসলিম নারী কর্মীদের পোষাক নিয়ে বিদ্রুপ আচরন ধর্মীয় বৈষম্যমূলক আচরণ গর্ভবতী কর্মীদের অপমান করা হিন্দু কর্মীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া এছাড়া তিনি নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থেকে তার ঘনিষ্ঠ সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সবুর হোসেনের মাধ্যমে অফিস পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সবুর হোসেনের মাধ্যমে কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ব্যাপারে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা আমি জানিনা।তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তার জন্য আমার বিভাগ তদন্ত করে যে শাস্তি দিবে তা মেনে নিবো।তিনি বলেন, আমি কর্মস্থলেই আছি,ফাঁকি কেন দিবো। এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের মোবাইলে কল করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে “রাজনৈতিক কর্মশালা ও মিলন মেলা–২০২৬”। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আসাদ বিন রনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম কনক। সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বরিশাল জেলার আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ মুসা। অনুষ্ঠানে জেলা সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ ফেরদৌস, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আবেদ আহমেদ রনি, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ আলি ও ইমরান মৃর্ধা, মহানগর সংগঠক মোহন হোসেন, জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক বনি আমিনসহ জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি আসাদ বিন রনি বক্তৃতায় বলেন, “দেশে একটি সুস্থ ও গঠনমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে এবং জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।” বিশেষ অতিথি রফিকুল ইসলাম কনক বলেন, “গণতন্ত্র রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” সভাপতি আবু সাঈদ মুসা বলেন, “সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।” অনুষ্ঠানে বক্তারা বিরোধীদলের করণীয়, সুশাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা এবং দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সক্রিয়ভাবে মতবিনিময় করেন।
বরিশাল অফিস : গাড়ি, বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট-কী নেই বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনের। রীতিমতো গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। শুধু নিজের নামেই নয়; স্ত্রী ও স্বজনদের নামেও গড়েছেন বিপুল সম্পত্তি। এসব সম্পত্তি করেছেন জাল -জালিয়াতি,দুর্নীত ও অনিয়মের মাধ্যমে।অভিযোগ রয়েছে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ গড়ার। দুদকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি তদন্ত শুরু করেছেন দুদক বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান। দুদক প্রধান কার্যালয়,ঢাকার ০০,০১,০৬০০,৬৫২,০১,০৪৮,২৫-৫৬৯১৯, তারিখ: ২৯/১০/২০২৫ এর স্মারক, দুদক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকার ই/আর নম্বর। মল্ট তদন্ত-২/৫৭৪/২৫/বরিশাল, তারিখ: ০৮/১০/২০২৫ ও দুদক, সজেকা, বরিশালের স্মারক নম্বর: ০০.০১.০৬০০,৭৪২,০১,০২৯.২৫-১৮৭৭ তারিখ: ০৯/১১/২০২৫ এ এই অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে বরিশাল দুদক অফিস।ইতিমধ্যে অভিযোগকারী ইমন খান ও বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনকে দুদক কার্যালয়ে তদন্তের জন্য ডেকে ছিল। দুদকে বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনের বিরুদ্ধে কর ও ভ্যাট ফাঁকি,সরকারি জমি দখল,জাল জালিয়াতি,জাল বন্টন নামা সৃষ্টি,অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ,দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের দাপট দেখিয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন করে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড় এই মর্মে অভিযোগ দিয়েছিল ইমন খান নামের এক ব্যক্তি। আরও পড়ুন: বরিশালে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ইমন খানকে বঞ্চিত করার অভিযোগ ভাইদের বিরুদ্ধে ইমন খান লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন- বরিশালের বিশিষ্টি ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার খানের মৃত্যুর পরে তার মালিকানাধীন ডোষ্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন জাল বন্টননামা সৃষ্টি করে ফিলিং স্টেশনটির দখল নেয় ওয়ালী মোহাম্মাদ খান শাওন। এই ফিলিং স্টেশনটি হয় শাওনের আলাদিনের চেরাগ।ফিলিং স্টেশনে ক্রেতাদের পেট্রোল,অকটেন, ডিজেলের পরিমাপে কম দেয়া,সরকারি -বেসরকারি অফিস প্রদত্ত পেট্রোল ও অকটেনের স্লিপ ক্রয়,সরকারি রাজস্ব ফাঁকি,ডিপো থেকে তেল নিয়ে পাচার,সরকারি জমি দখল,অনিয়ম দুর্নীতি করে শাওন গড়েছেন শতকোটি টাকার সম্পদ।এছাড়া পেট্রোল ,ডিজেল ও অকটেনের অবৈধ মুজুদদারীর অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ দিনের। একটি তেলের পাম্প থেকে শাওন অসংখ্য ফিলিং ষ্টেশন গড়েছেন। এগুলো হলো,ডোষ্ট এলপিজি,মেসার্স রাব্বি ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স সারা ফিলিং ষ্টেশন, মেসার্স ইউনিক ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স কামিনী ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স তুর্য্য ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স কনা ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স পাথরঘাটা ফিলিং ষ্টেশন।এছাড়া বরিশাল বিসিকে ৩০ শতাংশ জমির ওপর মেসার্স বরিশাল আয়রন এন্ড ইলিয়েড ইন্ডাস্ট্রিজ,গড়িয়ার পাড়ে ত্রিশ শতাংশ জমি ক্রয়,কাশিপুর হাইস্কুল সংলগ্ন ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় ,সাগরদী পায়রা নার্সিং হোম নামক বিল্ডিং জমিসহ ক্রয়,কাটপট্টিতে চারতলা ভবন ও জমি,ডোস্ট পাম্পের বিপরীতে ৩০ শতাংশ জমি,ওয়াহেদিয়া স্কুলের পাশে জমি,রুপাতলী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে ২০ শতাংশ জমি,আব্দুল্লাহ পরিবহন নামে ১৮টি বাস,ঢাকা বসুন্ধরায় ৩টি প্লট ,রাজা বাহাদুর সড়কে থ্রি প্লেক্স ভবন ও জমি,৪টি প্রাইভেটকার,একটি মাইক্রোবাসসহ নামে বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদ ও নগদ অর্থ রয়েছে। এ ছাড়া দ্বিল মোহাম্মাদ খান স্বপনের রয়েছে এমভি সুপার সনিক ৩,এমভি সুপার সনিক ৬,এমভি সুপার সনিক ৭,এমভি সুপার সনিক ৮ ও সুপার সনিক ১০ নামে ৫টি লঞ্চ, একটি প্রাইভেট কারসহ নামে বেনামে শত কোটি টাকার সহায় সম্পদ। তাদের দুজনের বিরুদ্ধে রয়েছে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ। এছাড়া দ্বিল মোহাম্মাদ খান স্বপন তার পিতা মৃত আব্দুস সাত্তার খানের রেখে যাওয়া এমভি সুপার সনিক (এম -১৫০৪৮) ও এমভি গোলাম রসুল (এম -১৫০৪৯) লঞ্চ দুটি ইমন খান নাবালক অবস্থায় স্ক্রাপ হিসেবে বিক্রি করে দিয়ে নিজ নামে লঞ্চ গড়েন।অথচ ইমনসহ অংশীদারদের কাউকে কোন অংশ প্রদান করেননি।সম্পূর্ন অর্থ আত্মসাৎ করেন। দুদকের তদন্ত শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন ইমন খান।তিনি বলেন, তদন্তে সত্য বেড়িয়ে আসবে।ইমন খান বলেন,আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান মৃত্যুর সময় আমার বয়স ৮ বছর। পিতার মৃত্যুর বিশ দিন পরে আমার আপন ভাই দিল মোহাম্মদ খান স্বপন ও সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন যোগ সাজসে একটি বে আইনি আপোষ বন্টন নামা করে।আমি নাবালক হওয়া সত্ত্বেও আদালত থেকে কোন অনুমতি ছাড়াই বন্টনকৃত সম্পদ থেকে আমার প্রাপ্য অংশ রাখেনি। ইমন খান বলেন, আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান লাইন রোডে ১০ শতাংশ জমির ওপর ভবন ,সাগরদী গাউসিয়া সড়কে ৯ শতাংশ জমির ওপর ২তলা ভবন,সাগরদীতে ডোস্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন নামে একটি পেট্রোল পাম্প, এম ভি সুপার সনিক ,এম ভি গোলাম রসুল নামে দুটি লঞ্চ,ফকিরবাড়ি সড়কে একটি দোকান,লাইন রোডে একটি দোকান,পোর্ট রোডে মৎস্য বাজারে তিনটি দোকান,৪ টি ট্যাংক লরি,বাংলাদেশ বানিজ্য ভান্ডার নামে একটি চালের আড়ৎ,৪ টি তেলের লাইসেন্স,২টি গ্যাসের লাইসেন্স রেখে গেছেন।ইমন খান বলেন, আমার পিতা তিন স্ত্রী , ৮ পুত্র ও দুই কন্যা রেখে ২০০৩ সালের ১৩ মার্চ ইন্তেকাল করেন। আমার পিতার মৃত্যুর বিশ দিনের মধ্য সম্পত্তি ভাগ ভাটোয়ারা করা হয়।আমার অংশ না রেখেই।বন্টনে অনেক সম্পত্তির উল্লেখ না করে আমার পিতার সম্পত্তি গোপন রাখা হয়।আমার পিতার সম্পত্তি দিয়ে আমার ভাই দিল মোহাম্মাদ খান স্বপন ৫ টি লঞ্চ করেছে।গাড়ি রয়েছে। আমার সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন ৭টি পেট্রোল পাম্প করেছে। বিসিক শিল্প নগরী,গড়িয়ার পাড়,কাশিপুর,সাগরদী,কাটপট্টি,ওয়াহেদ স্কুল সংলগ্ন, রুপাতলীতে জমি ক্রয় করেছে।আব্দুল্লাহ পরিবহন নামে ১৮টি বাস ক্রয় করেছে।ঢাকার বসুন্ধরায় ও রাজা বাহাদুর সড়কে জমি ক্রয় ও ভবন নির্মান ও তিনটি প্রাইভেট কার ও একটি মাইক্রোবাস ক্রয় করেছে। অথচ আমার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির কোথাও আমার অংশ না রেখে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে পৈত্তিক সম্পত্তি থেকে।ইমন খান ইতিমধ্যে লঞ্চ বিক্রির বিরুদ্ধে,স্বাক্ষর জালিয়াতি করা,আপোষ বন্টন নামা ও হেবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।এ ব্যাপারে ইমন খান তিনি ন্যায় বিচার পেতে প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।
বরিশাল অফিস : বরিশাল: শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মো. সোহাগ নামে এক কর্মচারী দীর্ঘ ১২ বছর ধরে অফিস সহায়ক পদে চাকরি করছেন—যা একটি জাল সনদপত্রের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে। সোহাগ বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মগড়পাড়া গ্রামের মো. আবদুল মহিন আকন ও রহিমা খাতুনের ছেলে। সূত্র জানায়, তিনি লাকুটিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৮ম শ্রেণি পাসের সনদপত্র জমা দিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে কোনো প্রক্রিয়া বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই তিনি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, যখন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ একটি দাপ্তরিক প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেন, মো. সোহাগ কখনোই মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেননি। নথিপত্র বা রেজিস্টারও তার ছাত্রত্বের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “একজন ভুয়া সনদধারীর দীর্ঘকাল সরকারি চাকরিতে থাকা প্রশাসনিক চরম অবহেলার পরিচয়। এটি শুধু ব্যক্তিগত জালিয়াতি নয়, সরকারি ব্যবস্থার এক গভীর ফাঁক।” হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নীরবতা এবং যাচাই ব্যবস্থার ত্রুটি এই ধরনের ঘটনা জন্ম দেয়। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “ভুয়া সনদ ও দীর্ঘকাল চাকরিতে থাকার ঘটনা শুধু বরিশাল নয়, সারাদেশে সরকারি নিয়োগে সম্ভাব্য দুর্নীতির প্রতীক। সমন্বিত যাচাই-বাছাই, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ছাড়া এই ধরনের জালিয়াতি বন্ধ করা যাবে না।” এই ঘটনায় স্থানীয় সমাজে ক্ষোভের স্রোত তৈরি হয়েছে। বহু নাগরিক মনে করছেন, শুধু অভিযুক্তকে বরখাস্ত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রশাসনিক দায়িত্ব ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুনঃমূল্যায়ন জরুরি। জাল সনদ ও দীর্ঘকাল চাকরিতে থাকার এই কাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি দাবি করছে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : দেশের অন্যতম গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি,দালালি, ক্ষমতার অপব্যবহার, পদোন্নতি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ,অর্থের অপব্যবহার ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পিডিবিএফ‑এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা‑কর্মচারীরা তার দুর্নীতি ও অনিয়মে অতিষ্ঠ। পিডিবিএফের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, নিজামুল হক এক আত্মীয়ের প্রভাব ব্যবহার করে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন অভিযোগগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি বদলি, পদায়ন এবং পদোন্নতির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন, কিন্তু এখনো বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হয়নি। নিজামুল হকের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: পিডিবিএফ‑এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আত্মীয়ের প্রভাবে তিনি নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন। প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক ক্ষেত্রেও অনিয়োমের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ সমস্ত বিষয়ে অনেক অভিযোগ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে রয়েছে। একাধিক লিখিত অভিযোগ প্রধান কার্যালয়ে রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। কিন্তু তার আত্মীয় থাকার কারণে এই অভিযোগের কোন সুরাহা হয়নি এখন পর্যন্ত। এছাড়া নিজামুল হকের বিরুদ্ধে - ১. দালালি, বদলি ও নিয়োগ‑সংক্রান্ত অভিযোগ পিডিবিএফ‑এর কর্মকর্তারা জানান যে, নিজামুল হক বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেয়ার মাধ্যমে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি পিরোজপুর অঞ্চলের পিডিবিএফ কর্মচারী নাসিমা বেগম, রুমু‑দে, তুনু রানি বিশ্বাস, মন্নান হোসেন, নার্গিস আক্তার, জাহিদ হোসেন, মিলেশ নন্দী বরিশাল অঞ্চলের সেলিনা বেগম, রিতা রানী, ইয়াকুব হোসেনসহ আরো ৩ জনের কাছ থেকে বদলীর জন্য লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এদের দাবি, বদলির নামে একদিকে টাকা নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে আশ্বস্ত করা হয়েছে দ্রুত বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হবে। অথচ এখনো তাদের বদলী করা হয়নি।টাকাও ফেরৎ দেয়নি নিজামুল হক। ২. পুরাতন মালামাল বিক্রয় ও অর্থের অপব্যবহার অভিযোগে বলা হয়, পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের উপ পরিচালকের অফিসে থাকা পুরাতন মালামাল নিয়ম মেনে বিক্রয়ের বদলে তা থেকে অর্জিত অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবহারে ও অস্বচ্ছভাবে ব্যক্তিগতকরণ করা হয়েছে। কর্মচারীদের বক্তব্য, টাকা ব্যয় সংক্রান্ত ভাউচার দেখিয়ে তা অফিস খাতের ব্যয়ের মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।বিভিন্ন সময়ে পুরাতন মালামাল বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । অফিসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা বলে মোটা অংকের ভাউচার দেখিয়ে সেগুলোকে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। ৩. ঋণ ও সম্পত্তি বিরোধ এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন যে ২০১৮‑১৯ অর্থবছরে সাতক্ষীরা কর্মরত অবস্থায় তার সহকর্মীর কাছ থেকে অফিসের মাধ্যমে নেয়া ঋণে নিজামুল হকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ক্রয় করা হয়। সেই টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি, এবং ঋণ সংক্রান্ত দলিলপত্র ও ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠেছে। ৪. ব্যাঙ্ক লেনদেন ও সন্দেহজনক অর্থপ্রাপ্তি অভিযোগ অনুযায়ী, বানারীপাড়া সোনালী ব্যাংক হিসাব নম্বর ০৫০৭৮২০১০১৮৩০ থেকে চেক নং ৮৭৩১৪০৮‑এর মাধ্যমে ১,২০,০০০ টাকার বিনিময়ে বদলী করা হয়েছে। যাদের দু’জনকে স্বরূপকাঠি ও গৌরনদীর উপজেলায় পদায়ন করেন বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন। ৫. প্রশাসনিক ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য কর্মকর্তারা বলেন, উপ-পরিচালক কর্মকর্তাদের হয়রানি করেন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত কাজে অফিস সময় ও সম্পদ ব্যবহার করেন। এসব আচরণের ফলে অফিসের কর্মপরিবেশে ‘ভয়ের পরিবেশ’ সৃষ্টি হয়েছে এবং কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। পিডিবিএফ পরিচালনা পর্ষদের কাছে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ: পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবী: স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিরাপদ সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক লেনদেন, হিসাব ও ভাউচার যাচাই‑বাছাই, প্রশাসনিক শক্তির অপব্যবহার ও অনিয়মের দায়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ। তারা মনে করেন, প্রমাণ‑ভিত্তিক তদন্ত হলে “যে কেউ হোক, যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত”। উপ-পরিচালক নিজামুল হকের প্রতিক্রিয়া এ ব্যাপারে নিজামুল হক অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সব নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করি। এই অভিযোগগুলো ভুল তথ্যভিত্তিক ও অসত্য” তবে তিনি কোনো প্রমাণ তুলে ধরতে পারেননি। কর্মকর্তারা বলেন, “ভয়ের পরিবেশের কারণে কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন দেশের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এর অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয় এবং উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো প্রভাবিত হয়। তাই নিজামুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা দরকার বলে মনে করেন পিডিবিএফ বরিশাল অঞ্চলের সাধারন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বরিশাল অফিস : ইতালিতে কাজের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুবকদের লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কয়েকজন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার বলছে, লাখ লাখ টাকা খরচ করেও তারা ইউরোপে পৌঁছাতে পারেননি; বরং মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে লিবিয়ায়। যেভাবে শুরু হয় যাত্রা ভুক্তভোগীদের একজন মেহেদী হাসান খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইতালিতে বৈধভাবে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসে স্থানীয় এক দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিবারের দাবি, জমি বিক্রি, ঋণ ও ধারদেনা করে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা জোগাড় করে দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রথমে নগদ অর্থ এবং পরে ব্যাংকের মাধ্যমে কিস্তিতে টাকা দেওয়া হয়। ইতালির বদলে লিবিয়া মেহেদী হাসান জানান, তাকে প্রথমে সৌদি আরব নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, সেখানে তাদের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে খাবার কম দেওয়া, শারীরিক নির্যাতন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। এক পর্যায়ে তাকে লিবিয়ার পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে বেনগাজির একটি কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি প্রায় দেড় মাস আটক ছিলেন। ভিডিও কলে মুক্তিপণের দাবি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করিয়ে তার করুণ অবস্থা দেখানো হতো বলে জানান মেহেদী। তার পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত আট লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ করার পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন। আরও অনেকের একই পরিণতি স্থানীয় সূত্র বলছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার অন্তত পাঁচজনসহ বিভিন্ন জেলার মোট ১০৮ জন যুবক একইভাবে দালালদের মাধ্যমে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের অনেকেই এখনও লিবিয়ায় আটকা রয়েছেন এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মামলা ও তদন্ত এ ঘটনায় মেহেদী হাসান খান বাদী হয়ে বরিশালের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের চরমোনাই দরবারে অনুষ্ঠিত মাহফিলে অংশ নিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার সকালে পৌঁছেছে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। চরমোনাই পৌঁছে ফজর নামাজের পর তারা চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম-এর বয়ানে অংশ নেন। বয়ান শেষে একটি সংক্ষিপ্ত ঘরোয়া মতবিনিময় সভায়ও অংশ নেন এনসিপি নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলমসহ উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, কেন্দ্রীয় সদস্য হামজা মাহবুব এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদসহ অন্যান্য নেতারা। চরমোনাই মাহফিলের মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়াতুল্লাহ জানিয়েছেন, এনসিপি নেতারা সারাদিন চরমোনাইতে অবস্থান করবেন।
বরিশাল অফিস : বরিশালে কীর্তনখোলা নদীতে নোঙর করে রাখা একটি বিলাসবহুল লঞ্চের কেবিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বুধবার (১ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই সংলগ্ন এলাকায় নোঙর করা এমভি কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের তৃতীয় তলার একটি কেবিনে আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লঞ্চটির ৩২৫ নম্বর কেবিন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্টাফরা দ্রুত সেখানে পৌঁছান। কেবিনটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় তারা জানালার গ্লাস ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছে, অগ্নিকাণ্ডে কেবিনের ভেতরের আসবাবপত্র, বিছানা, বালিশ, ফ্যান এবং যাত্রীদের কিছু মালামাল পুড়ে গেছে। তবে আশপাশের কেবিনগুলো অক্ষত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। লঞ্চটির ব্যবস্থাপক বেল্লাল হোসেন বলেন, “ঘটনার সময় কেবিনে কেউ ছিলেন না। স্টাফরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে।” তিনি আরও জানান, লঞ্চটি ঢাকা থেকে চরমোনাই মাহফিলে অংশ নিতে আসা মুসল্লিদের বহন করে বরিশালে পৌঁছেছিল এবং মাহফিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নদীতেই নোঙর করে রাখা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা ছিল বলেও জানান তিনি।
বরিশাল : বিভাগের ৬ জেলায় শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৫২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বিভাগীয় তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় তিন, ঝালকাঠি ও ভোলায় দুইজন করে, এবং বরিশালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৭ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বরগুনায় উপসর্গ নিয়ে ৮০ শিশু ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে হাম পজিটিভ হয়েছেন ২২ জন এবং রুবেলা পজিটিভ এক শিশু। পটুয়াখালীতে ভর্তি ৩১ শিশুর মধ্যে দুইজনের হাম ধরা পড়েছে। বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৯ শিশু ভর্তি, যাদের মধ্যে ৮ জন হাম পজিটিভ এবং এক শিশুর অবস্থা মুমূর্ষু। নগরীতে আক্রান্ত শিশু ১৬, পরীক্ষা করিয়েছে ১৩ জন। হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে মার্চে ২০৬ শিশু ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭৯ জনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং ৫২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বিষয়টিকে উদ্বেগজনক আখ্যায়িত করে বলেছেন, “শিশুদের এমনভাবে হামে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা আগে দেখা যায়নি। বরগুনা ও পটুয়াখালীতে প্রকোপ বেশি। আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, টিকাদানের ঘাটতি এ পরিস্থিতির মূল কারণ হতে পারে। শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি সাত মাস বয়সী শিশু সাফওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর জানান, এক থেকে পাঁচ বছরের শিশুরা মূলত আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০০-এর বেশি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডা. বিকাশ চন্দ্র নাগ জানিয়েছেন, সাধারণত ৯ মাসের পর থেকে হামের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে তার কম বয়সের শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। টিকা কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ-এর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ স্থানীয় কর্মচারী ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি বিগত সরকারের সময় তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক-এর প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, রেস্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ না করা এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের বিষয়ও সামনে এসেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা প্রদান, ঘুষের বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য, তদন্তের নামে অর্থ আদায় এবং অধীনস্ত কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মতো ঘটনাও ঘটেছে তার মাধ্যমে। কর্মচারীদের একটি অংশ দাবি করেন, নিয়মিত ছুটি ছাড়াই তিনি নিজ জেলা ঝিনাইদহে যাতায়াত করতেন, যা সরকারি বিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত রেষ্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ করেননি।নির্ধারিত বাসা থাকলেও তিনি সেখানে না থেকে রেষ্ট হাউজে বিনা ভাড়ায় বিদ্যুৎ,পানি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহন করেছেন। ব্যাংক এশিয়া পোষ্ট অফিসে নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি নিয়মিত বাজার ও অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে পোষ্ট অফিসের অভ্যান্তরে বসে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে "প" অদ্যক্ষরের এক নারীকে কু প্রস্তাব দেয়ার কারনে তিনি পোষ্ট অফিস ত্যাগ করেছেন। সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ-এর বিরুদ্ধে বাজেটের টাকা থেকে বিদ্যুৎ বিল,ও বাজার করার অভিযোগও রয়েছে। ভুয়া ভাউচার দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাত, কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরনে সকলেই অতিষ্ঠ। আব্দুর রশিদ-এর সাফ কথা আমাকে তেল দিয়ে চলতে হবে।আমার কথাই আদেশ। সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ পোষ্ট অফিসকে বানিয়েছেন ঘুষের আখড়া। তার কাছে ঘুষই প্রধান।তিনি একই লোককে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বদলী করছেন। যে সেভিংস বিভাগে আত্মসাৎ সেখানেই নুরুল কবির ও তানজিম হোসেনকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বদলী করা হয়েছে। অফিসের মধ্যে তিনি নুরুজ্জামান ও মশিউর রহমানকে নিজের লোক বনিয়েছেন, ফলে তাদের কোন বদলী নাই। কিছু কর্মচারীর দাবি, বাজেটের অর্থ থেকে বিদ্যুৎ বিল ও ব্যক্তিগত খরচ মেটানো, ভুয়া ভাউচার ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তদন্তের মাধ্যমে হয়রানি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশিদ-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশাল: বরিশালসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে ৫টি তেল ডিপোতে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে একজন করে প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বরিশালের ২৯টি পেট্রোল পাম্পে এই কর্মকর্তারা সরেজমিনে জ্বালানির মজুত, বিক্রি ও বিপণন ব্যবস্থা তদারক করছেন। তাদের কার্যক্রম তদারকি করছেন সংশ্লিষ্ট ইউএনও এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরা। ভ্রাম্যমাণ আদালতও ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমন জানিয়েছেন, এলাকায় জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। তিনি বলেন, “ঈদের আগে বাড়তি যাত্রী পরিবহনের কারণে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, তবে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কিছু মোটরবাইকের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতায় প্যানিক তৈরি হলেও, কর্মকর্তারা বলছেন, কাগজপত্র, লাইসেন্স ও হেলমেট থাকলে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। জেলা প্রশাসকও এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাই জানিয়েছেন। বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কৃষি সেচে ডিজেল সরবরাহ। দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৪ লাখ হেক্টরের বোরো ধানের সেচে ৮৭ হাজার পাওয়ার পাম্পের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজারই ডিজেল চালিত। প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত সেচে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট দেখা দেয়নি। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটর করছে। কৃষি মন্ত্রণালয় আশাবাদী, চলতি রবি মৌসুমে ৪ লাখ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদন সম্ভব। জেলা প্রশাসক ২৮ মার্চ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে সরকারি কর্মকর্তাদের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের মনিটরিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বরিশাল মহানগরী ও সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা ও খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ট্যাগ অফিসাররা পাম্পে নিয়মিত তদারকি করবেন এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে বাধ্য থাকলেও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বরিশাল: চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে বরিশাল বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে সাত শিশুর। একই সময়ে ২০৬ শিশুর দেহে অত্যন্ত সংক্রামক হামের ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৭ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল জানিয়েছেন, হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর অধিকাংশ ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে। বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলায় টিকার সংকট থাকলেও অন্য পাঁচ জেলায় পর্যাপ্ত হামের টিকা মজুদ রয়েছে। শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এই তিন মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩০ শিশু। শুধু মার্চ মাসেই আক্রান্ত হয়েছে ৮৯ শিশু। সোমবার দুপুরে হাসপাতালে ৩৪ জন হামে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) বরিশালের বানারীপাড়ার ওমর নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া সোমবার সকালে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়। শেবাচিমের দায়িত্বরত নার্স তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-ঠিকানা জানাতে পারেননি। বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠি এলাকার রহিমা তালুকদার জানান, তার ৯ মাস বয়সী কন্যাশিশুকে সাত দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে জ্বর মনে হলেও পরে চিকিৎসকরা হামের রোগ শনাক্ত করেন। এরপরই অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা হয়। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, শিশুদের হামের টিকা সাধারণত ৯ মাস বয়সে দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে ৭ মাস বয়সের শিশুদেরও আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালের টিকা পর্যাপ্ত রয়েছে এবং ওয়ার্ডে বেড সংকটও সমাধান করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে দ্রুত ছড়ায় এবং রোগীর সঙ্গে একই ঘরে থাকলেও সংক্রমণ হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের নিরাপদ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যেকোনো বয়সে হামের সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : গাজী হাফিজুর রহমান লিকু ওরফে লিকু গাজির উত্থান ও দুর্নীতির চিত্র একটি রূপকথার গল্পের মতো, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাত্র কয়েক বছরে গড়ে তোলা হয়েছে বিপুল সম্পদের পাহাড়। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া,ঢাকা থেকে বরিশাল। কাশিয়ানী থেকে কুয়াকাটা । খুলনা থেকে সিলেট।সকল স্থানেই রয়েছে লিকু গাজির সম্পদ। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে নিয়োগের পর পিছু তাকাতে হয়নি। ছিলেন বিআরটিসির নিয়ন্ত্রকও।শেখ সেলিমের আশির্বাদে পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ।যখন তখন বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে বাসায় তলব করতেন।ঢাকা-বরিশাল -ঢাকা বিআরটিসির চলাচলরত বাসের আয় নিয়ে যেতেন নিয়মিত। বরিশাল বিআরটিসি ডিপোতে রেখেছিলেন আপন চাচাতো ভাইর পুত্র টিটু গাজি নামে একজন প্রতিনিধি।যেখানেই টাকা সেখানেই গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর হাত।বরিশালের রুপাতলীতে গড়ে তুলেন এক বিশাল সাম্রাজ্য।এক একরের ওপরে ক্রয় করেন জমি ।নির্মান করেন ডুপ্লেক্স বাড়ি। এখানে যখন আসতেন তখন সাথে থাকতো বিশাল গাড়ি বহর।রাতভর চলতো নারীদের নৃত্য। মদের এক মিনিবারও গড়ে তুলেছিলেন এখানে। লিকু গাজি ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর পালিয়ে গেছেন।সেই সাথে থেমে গেছে বরিশালের বাড়িরও কোলাহল। বাড়িটি এখন নিরব নিস্তব্ধ। চারদিকে দেয়াল দিয়ে ঘেরা বাড়িটির সন্ধান জানেনা দুদকসহ অনেকেই।বিভিন্ন স্থানে লিকু গাজির সহায় সম্পদ বাজেয়াপ্ত হলেও বরিশালের জমি ও বাড়ি বাজেয়াপ্ত হয়নি এখনো। লিকু ও স্ত্রী রহিমা আক্তার লিকুর হাজার কোটি টাকার সম্পদ: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু)। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তারপর থেকেই আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ হাতে পান। পরবর্তীতে তিনি এপিএস হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়ে কমিশন বাণিজ্য এবং প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু)। মূল বেতন পাঁচ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে শুরু। এরপর দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। শুধু নিজের নামে নয়; স্ত্রী, শ্যালক ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বিঘার পর বিঘা জমি এবং ডজনখানেক বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পর যেগুলোর সন্ধান মিলছে। মূল বেতন পাঁচ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে শুরু। এরপর দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। শুধু নিজের নামে নয়; স্ত্রী, শ্যালক ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বিঘার পর বিঘা জমি এবং ডজনখানেক বাড়ি নির্মাণ করেছেন।নিজেকে আড়ালে রাখতে সব ধরনের ছলনার আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। দালিলিকভাবে নিজ নামে সম্পদ কম দেখিয়ে বেনামে গড়ে তুলেছেন অধিকাংশ অবৈধ সম্পদ। এ ছাড়া ভিয়েতনামে শত কোটি টাকা পাচার করেছেন, শ্যালককে সেই দেশের ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বর্তমানে পালিয়ে শালা-দুলাভাই দেশটিতে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গোয়েন্দা অনুসন্ধানেও তার বিরুদ্ধে কয়েক-শ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের দালিলিক প্রমাণ মিলেছে। বাস্তবে যার মূল্য প্রায় হাজার কোটি টাকা। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে সংস্থাটি। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে তার নিজ ও আত্মীয়-স্বজনের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় কমিশন থেকে প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আয়কর ফাইলে সর্বশেষ ২০২৩-২৪ করবর্ষে মূল বেতন ৬৭ হাজার ১০ টাকা, নিট আয় নয় লাখ পাঁচ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং নিট সম্পদ এক কোটি চার লাখ ৮৭ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। আয়কর রিটার্নের বাইরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ৬০ লাখ ২১ হাজার ২৮৮ টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ২০২৩ সালের ২৫ জুন স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে ৫০ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া মেটলাইফ এলিকোতে ২৮ লাখ টাকার পলিসির সন্ধান পেয়েছে দুদক লিকু প্রথম আয়কর প্রদান করেন ২০০৯-২০১০ করবর্ষে। তার আয়কর ফাইলে সর্বশেষ ২০২৩-২৪ করবর্ষে মূল বেতন ৬৭ হাজার ১০ টাকা, নিট আয় নয় লাখ পাঁচ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং নিট সম্পদ এক কোটি চার লাখ ৮৭ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। আয়কর রিটার্নের বাইরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ৬০ লাখ ২১ হাজার ২৮৮ টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ২০২৩ সালের ২৫ জুন স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে ৫০ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া মেটলাইফ এলিকোতে ২৮ লাখ টাকার পলিসির সন্ধান পেয়েছে দুদক। লিকুর স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানাধীন রামদিয়াতে ‘মেসার্স রাফি অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফিশারিজ’ নামের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার জমির পরিমাণ ৪৭১ শতাংশ এবং দালিলিক মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা রাজধানী ঢাকা শহরের মোহাম্মদপুর থানাধীন বসিলায় ‘মধু সিটিতে’ এক বিঘা জমির ওপর ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন লিকু। যার মূল্য কোটি টাকা। এ ছাড়া ঢাকার আদাবরের ৬ নম্বর রোডের ৫৮৩ নম্বর বাড়ির এ-৬ ফ্ল্যাটটি তার স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে। ওই বাড়ির মালিক নজরুল ইসলাম রহিমা আক্তারের বন্ধু বলে জানা গেছে। ২৫ মিতালী রোড, আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক, ধানমন্ডি, ঢাকায় লিকুর বেনামে আরও একটি ফ্ল্যাটের সন্ধান মিলেছে। স্ত্রী ও অন্যদের নামে অর্ধডজন প্রাইভেট গাড়ি ও মাইক্রোবাসের খোঁজ পাওয়া গেছে। খুলনা-ঢাকা-সাতক্ষীরা-গোপালগঞ্জ রুটে ‘ওয়েলকাম এক্সপ্রেস’ নামে ৪২টি যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল করছে। এর মধ্যে সাতটি গাড়ি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। গাড়িগুলো টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কালু ও তার যৌথ মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি গাড়ির মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরে ওয়েলকাম বাস সার্ভিসেও তার শেয়ার রয়েছে। গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকুড় নিলের মাঠের পাশে ১৩ শতাংশ জমির ওপর শ্যালক শেখ মো. ইকরাম ওরফে হালিম মোল্লার নামে (বেনামে) ১০তলা কমার্শিয়াল ও আবাসিক ভবন নির্মাণ করেছেন। যা ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ নামে পরিচিত। জানা যায়, হালিম মোল্লা তার স্ত্রী স্বর্ণা খানমের নামে এটি গড়েছেন অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানাধীন কুশলা ইউনিয়নসহ গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন কাজুলিয়া গ্রামে ৪০০ বিঘা জমিতে মৎস্যঘের রয়েছে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন থানাপাড়া রোডে পৈত্রিক জমিতে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। যার মূল্য দুই কোটি টাকা। জানা যায়, লিকুর শ্যালক শেখ মো. ইকরাম ওরফে হালিম মোল্লা। তিনি গার্মেন্টস ব্যবসার আড়ালে মূলত হুন্ডি ব্যবসা করতেন। হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তিনি বিদেশে পাচার করেছেন। তিনি ভিয়েতনামে বসবাস করেন। গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর সব অবৈধ অর্থ বৈধ করার কাজে তিনি সহযোগিতা করেন। দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। নিজ বাড়ির পাশে থানাপাড়া রোডে অনির্বাণ স্কুলের দক্ষিণ পাশে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন লিকু। সেখানে তার শ্বশুর-শাশুড়ি বসবাস করছেন। গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকুড় নিলের মাঠের পাশে ১৩ শতাংশ জমির ওপর শ্যালক শেখ মো. ইকরাম ওরফে হালিম মোল্লার নামে (বেনামে) ১০তলা কমার্শিয়াল ও আবাসিক ভবন নির্মাণ করেছেন। যা ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ নামে পরিচিত। জানা যায়, হালিম মোল্লা তার স্ত্রী স্বর্ণা খানমের নামে এটি গড়েছেন। লিকুর সেজ ভাই গাজী মুস্তাফিজুর রহমান দিপুর নামে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার লাইট হাউজের পাশে ‘ওশান ব্লু’ নামের রিসোর্ট রয়েছে। এটি মূলত গড়েছেন লিকু। সেখানে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানেরও শেয়ার রয়েছে বলে জানা গেছে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লিকুর সেজ ভাই গাজী মুস্তাফিজুর রহমান দিপুর নামে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার লাইট হাউজের পাশে ‘ওশান ব্লু’ নামের রিসোর্ট রয়েছে। এটি মূলত গড়েছেন লিকু। সেখানে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানেরও শেয়ার রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গোবরা নামক স্থানে লিকুর শ্যালক হালিম মোল্লার শ্যালক রিপন ফকিরের নামে ১৫ শতক জমিতে আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ির সন্ধান মিলেছে। একই ওয়ার্ডে হালিম মোল্লার অপর শ্যালক মিল্টন ফকিরের নামে তিনতলা বাড়ি এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকুড় নামক স্থানে নিলের মাঠের পাশে ১০ শতাংশ জায়গায় একতলা বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। লিকুর আপন ছোট ভাই গাজী শফিকুর রহমান ছোটনের নামে গোপালগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২২ শতাংশ জমি, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে শ্যালকের নামে সোয়া কোটি টাকার সাত কাঠা জমি, গোপালগঞ্জের বেদগ্রাম মোড়ে স্ত্রী রহিমা বেগমের নামে ৮ শতাংশ ও ১০ শতাংশ বসতভিটা, গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫ বিঘা জমি, ভায়রাভাই ওমর আলীর নামে পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে চারতলা বাড়ি ক্রয় করেছেন বলে দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। লিকু গাজির বরিশালের বাড়ি ছবি - ইত্তেহাদ নিউজ লিকু গাজির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিবরণ: ১. শূন্য থেকে শতকোটিপতি ২০০৯ সালে মাত্র ৫,১০০ টাকা মূল বেতনের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন লিকু। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ হওয়ার পর তার সম্পদ অবিশ্বাস্য গতিতে বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কয়েকশ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২. ব্যাংকিং লেনদেন ও অর্থ পাচার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে তার এবং তার সহযোগীদের ব্যাংক হিসেবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। লিকু ও তার সংশ্লিষ্টদের নামে পরিচালিত ৩৩টি ব্যাংক হিসেবে প্রায় ১৪৪.৫৯ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদক তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার এবং অবৈধভাবে সম্পদ রূপান্তরের অভিযোগে পৃথক চারটি মামলা করেছে। ৩. বেনামী সম্পদের পাহাড় নিজের পরিচয় আড়াল করতে লিকু অধিকাংশ সম্পদ তার স্ত্রী, ভাই এবং আত্মীয়-স্বজনের নামে করেছেন: স্ত্রীর নামে সম্পদ: তার স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে প্রায় ২৩.২৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক। রিসোর্ট ও মৎস্য ঘের: কুয়াকাটায় 'ওশান ব্লু' নামক রিসোর্ট এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে 'মেসার্স রফি এগ্রো অ্যান্ড ফিশারিজ'-এর নামে কয়েকশ বিঘা জমিতে মৎস্য ঘের গড়ে তুলেছেন। স্থাপনা: ঢাকার উত্তরা ও মোহাম্মদপুরে একাধিক ফ্ল্যাট এবং প্লট ছাড়াও গোপালগঞ্জে ১০ তলা বাণিজ্যিক ভবন ও বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে তার ও তার স্বজনদের নামে। ৪. আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা মামলা: ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুদক লিকু, তার স্ত্রী এবং স্বজনসহ মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করে। সম্পদ জব্দ: ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আদালতের নির্দেশে তার উত্তরায় অবস্থিত ৩ কাঠার প্লট, গোপালগঞ্জের জমি এবং ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট কার্ড ও সঞ্চয়পত্র জব্দ করা হয়। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা: দুর্নীতির অনুসন্ধান চলাকালীন লিকু ও তার স্ত্রীর ওপর আদালত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, কমিশন গ্রহণ এবং প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমেই লিকু এই বিশাল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন বলে দুদকের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। কে এই লিকু গাজি গাজী হাফিজুর রহমান লিকু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব-২ ছিলেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায় এবং তিনি সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ার: তিনি গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভিপি এবং পরবর্তীতে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় এই পদে তার নিয়োগ নবায়ন করা হয়েছিল। পদচ্যুতি: ২০২৪ সালের ২৯ মে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব-২ পদ থেকে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়, যা ১ জুন ২০২৪ থেকে কার্যকর হয়। জন্ম ও আদি নিবাস: তিনি গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম গাজী শুকুর আহম্মেদ। স্ত্রীর নাম রহিমা আক্তার (হকি)।
বরিশাল অফিস : বরিশালে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের নাম ভাঙিয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ট্যাংক লরি মালিক সমিতির কথিত সভাপতি আলাউদ্দিন আলোর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপের অডিও রেকর্ড ঘিরে শহরজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই কল রেকর্ডে শোনা যায়, আলাউদ্দিন আলো পেট্রোল পাম্প মালিকদের প্রতি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতি পাম্প থেকে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, এই অর্থ জেলা প্রশাসকের জন্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এমনকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে প্রতিদিন পাম্পে অভিযান পরিচালনার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বিষয়টিকে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে সংঘটিত সুসংগঠিত চাঁদাবাজি হিসেবে দেখছেন। এদিকে আলাউদ্দিন আলোর বিরুদ্ধে বিতর্ক নতুন নয়। সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে তার আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এছাড়া সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে বিনা ভোটে ট্যাংক লরি মালিক সমিতির সভাপতির পদ দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার ছাড়াই তেল সরবরাহ, সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময়ের বিতর্কিত তেল বিল পরবর্তীতে অবৈধভাবে উত্তোলন, বিআইডব্লিউটিএ কাঁচাবাজার নামমাত্র মূল্যে টেন্ডার গ্রহণ এবং স্টিমারঘাট মসজিদের সভাপতির পদ দখলসহ নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এতসব গুরুতর অভিযোগের পরও জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বরিশাল অফিস : বরিশালে প্রতারণার অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে মুহা. আরিফুল ইসলাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিজেকে কখনো এলজিইডির অডিট কর্মকর্তা, কখনো এনএসআই কর্মকর্তা আবার কখনো বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কৌশলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। আরিফুল ইসলামের বাড়ি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নলুয়া গ্রামে।তার পিতার নাম গোলাম রাজ্জাক। প্রতারণার মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছে বরিশাল সিএন্ডবি রোডের বৈদ্যপাড়ার সজনী ভিলায়। সেখানে তিনি বিশাল অফিস ভাড়া নিয়ে এলপিবিএল নামে একটি ডেভলপার কোম্পানির সাইনবোর্ড লাগিয়ে ভুয়া চুক্তি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দাবী করে চাকরির নাম করে তিনজনের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেন। অফিস পরিচালনার নামে তিনি ৮ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে তাদের তিন মাসের বেতন না দিয়ে অফিস তালা মেরে পালিয়ে যান। তার অফিসের ভাড়া বাবদ এক লাখ টাকা বাকি আছে বাড়িওয়ালার । এছাড়া, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলার ওয়ারেন্ট জারি রয়েছে। বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। জানা গেছে, তার স্ত্রী সালমা বেগম, বাবা মাওলানা গোলাম রাজ্জাক (ওরফে গোলাম রাজা) এবং ভাই মহিবুল্লাহ এই প্রতারণার সাথে জড়িত ছিলেন। স্থানীয়রা সতর্ক করেছেন, কেউ যেন আরিফুল ইসলামকে ব্যবসা বা চাকরির জন্য অর্থ প্রদান না করেন।
বরিশাল : বরিশাল নগরীর শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল এবং বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয় এলাকাকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ‘২০২১ সালে নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন আজও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় এসব এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। প্রচারণায় স্থানীয় জনগণকে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ অনুযায়ী নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তুলে ধরা হয়, যেখানে বলা হয়—এটি মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অনিদ্রা, স্মৃতিশক্তি হ্রাসসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণ হতে পারে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘোষিত নীরব এলাকাগুলোতে যানবাহনের হর্ন বাজানো, উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার এবং অন্যান্য শব্দদূষণ কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল এলাকার মতো সংবেদনশীল স্থানে রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য নিরিবিলি পরিবেশ নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য ছিল, তা এখনও অর্জিত হয়নি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারণা চালানো হলেও পরবর্তী ধাপে কঠোর আইন প্রয়োগের কথা থাকলেও তা দৃশ্যমান হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণের অভাব এবং নিয়মিত তদারকির ঘাটতির কারণে উদ্যোগটি অনেকাংশেই থমকে আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল, বিধিমালা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে এবং পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে এই আইন প্রয়োগের নজির খুবই সীমিত। সচেতন মহলের মতে, শুধুমাত্র প্রচারণা নয়, কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত মনিটরিং, আইন প্রয়োগে কঠোরতা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ। অন্যথায় ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণার এই উদ্যোগ কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থানে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হলেও দীর্ঘদিনেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন না হওয়া উদ্বেগজনক। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
বরিশাল: বৃষ্টিস্নাত ভোরে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বরিশালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টায় নগরীর কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জামাতে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। সব ভেদাভেদ ভুলে মুসল্লিরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে মানবসেবায় আত্মনিয়োগের তৌফিক কামনা করা হয় আল্লাহর কাছে। নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে বৃষ্টিপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মুসল্লিদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অনেক স্থানে ঈদগাহে জামাত আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা বাতিল করে মসজিদে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। এদিকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গৌরনদী সরকারি কলেজ মসজিদে ঈদের জামাতে অংশ নিয়ে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বরিশাল নগরসহ জেলা ও বিভাগজুড়ে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বাস্থ্যখাতে শত কোটি টাকার দুর্নীতি! বরিশাল বিভাগে হাসপাতাল টেন্ডার সিন্ডিকেট মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে টেন্ডার সিন্ডিকেট, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং অতিরিক্ত দামে বিল উত্তোলনের অভিযোগে আলোচনায় এসেছে পিপলাই পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দেড় দশক ধরে তারা হাসপাতালগুলোতে সরঞ্জাম সরবরাহের নামে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং কোটি কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে পিপলাই পরিবারের বিরুদ্ধে। দুদক ইতোমধ্যে মামলা করেছে। তদন্তে বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে আরও অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে আসছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। ১৫ বছরের টেন্ডার সিন্ডিকেট দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সত্য কৃষ্ণ পিপলাই ও তার ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মালামাল সরবরাহের টেন্ডারে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অভিযোগ অনুযায়ী তারা:— নিজেদের নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দরপত্রে অংশগ্রহণ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের ভান তৈরি নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কম দামে কিনে বেশি দামে সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ এই পদ্ধতিতে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুদকের মামলা গত বছরের ২৬ নভেম্বর ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে মামলা করে দুদক। মামলার বাদী দুদকের উপসহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল। মামলায় আসামি করা হয়েছে— ডা. শামীম আহমেদ (তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক, ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল) শিপ্রা রানী পিপলাই সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই সত্য কৃষ্ণ পিপলাই দুদকের অভিযোগ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে যোগসাজশ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই পরিবারের তিন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা, ওষুধ, কেমিক্যাল, আসবাবপত্র ও কিচেন সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ছয়টি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তদন্তে দেখা যায়— চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিলেও তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা একই পরিবারের। সেগুলো হলো— আহসান ব্রাদার্স — মালিক সত্য কৃষ্ণ পিপলাই পিপলাই এন্টারপ্রাইজ — মালিক সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই বাপ্পী ইন্টারন্যাশনাল — মালিক শিপ্রা রানী পিপলাই তিন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাও একই—বরিশাল সদরের উত্তর কাটপট্টি। দুদকের মতে, কাছাকাছি দর দিয়ে দরপত্র সাজানো হয়েছিল, যা সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বরগুনা হাসপাতালে ৪ কোটি টাকার টেন্ডার বিতর্ক বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ৪ কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের দরপত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে— ছয়টি প্যাকেজে ২৪টি ফরম বিক্রি হয় জমা পড়ে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক একই পরিবারের বাবা ও ছেলে অন্য ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, দরপত্রে অপ্রয়োজনীয় ও কঠিন শর্ত যোগ করে অন্যদের অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন ঠিকাদার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন। শেবাচিম হাসপাতালে ১১ কোটি টাকার সরঞ্জাম কেলেঙ্কারি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— ২০২০ সালে টেন্ডার আহ্বানের পর চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই চারটির মধ্যেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পিপলাই পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী— অনিয়মের মাধ্যমে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহ বাবদ ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা এমএসআর সামগ্রী সরবরাহের নামে ৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা মোট প্রায় ১১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়। তদন্তে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে যে দরপত্রে অযোগ্য ঘোষিত অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে যন্ত্রপাতি এনে বেশি দামে হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র হলে সাশ্রয় হতো কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সরঞ্জাম কেনা হলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব ছিল। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান তদন্তে আরও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নতুন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সত্য কৃষ্ণ পিপলাই বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে মালামাল সরবরাহকারী একটি বিতর্কিত ঠিকাদারী পরিবারের প্রধান। তিনি মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আহসান ব্রাদার্সের মালিক হিসেবে পরিচিত এবং স্ত্রী ও সন্তানদের নামে একাধিক লাইসেন্স ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত । সত্য কৃষ্ণ পিপলাই সম্পর্কে মূল তথ্য: পেশা ও পরিচয়: তিনি বরিশালের একজন প্রভাবশালী ঠিকাদার, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করেন । দুর্নীতির অভিযোগ: তার বিরুদ্ধে স্ত্রী শিপ্রা রানী পিপলাই ও ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাইয়ের সাথে যোগসাজশে টেন্ডার বাণিজ্য, অবৈধভাবে কার্যাদেশ পাওয়া এবং সরঞ্জাম সরবরাহ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে । আইনি পদক্ষেপ: ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে ও তার পরিবারকে আসামি করে মামলা করেছে । ভূমিকা: মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আহসান ব্রাদার্সের মাধ্যমে তিনি মূলত বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে ঠিকাদারী নিয়ন্ত্রণ করেন ।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক—তিন ধাপের পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন সাংবাদিক মোঃ বেলাল হোসেন সিকদার। দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আইন পেশায় প্রবেশ করে তিনি একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন। শিক্ষাজীবনে বেলাল হোসেন সিকদার চরমোনাই আহসানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল (এমএ) সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ (অনার্স) ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর বরিশাল ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সকল ধাপের পরীক্ষায় প্রথমবারেই উত্তীর্ণ হন। পেশাগত জীবনে তিনি প্রায় এক যুগ ধরে সাংবাদিকতায় সক্রিয় রয়েছেন। এ সময়ে বরিশালের বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন সিকদার বলেন, “সাংবাদিক হিসেবে আমি সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি—সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা আমার লক্ষ্য ছিল। এখন আইন পেশায় যুক্ত হয়ে সত্য, ন্যায়বিচার, দেশ ও মানবতার পক্ষে কাজ করতে চাই।” তিনি বর্তমানে বরিশাল জজ কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের আইনি সেবা প্রদানে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক। তার পিতা প্রায় ১০ বছর আগে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন)। বর্তমানে তার পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী, মাতা, দুই ভাই ও এক বোন। নতুন এই পথচলায় সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন সিকদার।
বাংলাদেশে আরও পাঁচটি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা আগামীকাল থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। শনিবার প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বরিশাল, রাজশাহী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও রংপুর সিটি করপোরেশনে পাঁচজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া পাঁচজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতা। যাঁরা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী— বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মাহফুজুর রহমান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মো. ইউসুফ মোল্লা ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে রুকুনোজ্জামান রোকন রংপুর সিটি করপোরেশনে মাহফুজ উন নবী চৌধুরী তাদের সবাই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃস্থানীয় দায়িত্বে রয়েছেন। বিলকিস আক্তার জাহান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ)। মাহফুজুর রহমান রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মো. ইউসুফ মোল্লা কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া রুকুনোজ্জামান রোকন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এবং মাহফুজ উন নবী চৌধুরী রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব। মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন প্রশাসকেরা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪–এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (৩) অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি অনুযায়ী ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। এখন পর্যন্ত ১১ সিটিতে প্রশাসক এই পাঁচজনকে নিয়োগের মাধ্যমে দেশে মোট ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলো। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের আদেশে বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রশাসকেরা দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচন শেষে নির্বাচিত মেয়রের কাছে তারা দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। এর আগে ছয় সিটিতে প্রশাসক এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দেশের আরও ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। সেগুলো হলো— ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন – মো. আব্দুস সালাম ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন – মো. শফিকুল ইসলাম খান খুলনা সিটি করপোরেশন – নজরুল ইসলাম মঞ্জু সিলেট সিটি করপোরেশন – আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন – মো. সাখাওয়াত হোসেন খান গাজীপুর সিটি করপোরেশন – মো. শওকত হোসেন সরকার সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন আয়োজনের আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।