Brand logo light

ফায়ার সার্ভিস

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (রবিবার) দাখিল করা ওই অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নীতিমালা উপেক্ষা করে আর্থিক অনিয়ম করেছেন। সরকারি ক্রয়ে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আসবাবপত্র, কম্পিউটার, প্রশিক্ষণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাকাটায় বাজারদরের তুলনায় বেশি মূল্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বাজারে যেখানে কম্পিউটার টেবিলের দাম ২,৫০০ থেকে ২,৮০০ টাকা এবং চেয়ারের দাম ৪,০০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা, সেখানে যথাক্রমে ৬,৫০০ ও ৮,৫০০ টাকা দরে ক্রয় দেখানো হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, কম্পিউটার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ঘোষিত কনফিগারেশনের তুলনায় নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ নেওয়া হয়েছে। কোটেশন ও ঠিকাদার নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত কোটেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ঘনিষ্ঠ বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিষ্ঠানকে কোটেশনে দেখিয়ে ভিন্ন উৎস থেকে মালামাল সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে। ভবন পরিদর্শন কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বরের একটি স্মারকের ভিত্তিতে ১৬ তলা ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র সংক্রান্ত পরিদর্শন কমিটি গঠনের সময় নিয়ম ভেঙে সদস্য সচিবকে বাদ দিয়ে নিজের পছন্দমতো ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে। নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী গ্রহণে চাপের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত উন্নতমানের মসুর ডাল সরবরাহ না হলেও তা গ্রহণে চাপ দেওয়া হয়। গ্রহণ কমিটির সদস্য সচিব আপত্তি জানালেও তাকে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পারিবারিক অনুষ্ঠানে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার মেয়ের বিয়েতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ ও উপহার সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন কর্মকর্তার কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং প্রায় ২ ভরি সোনার গহনা উপহার হিসেবে নেওয়া হয়। সরকারি গাড়ি ব্যবহারে অনিয়ম অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মার্চ ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৮৭৮ কিলোমিটার সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয় এবং প্রায় ১৯৫ লিটার জ্বালানি অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ২ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৬ ঘণ্টা অননুমোদিতভাবে গাড়ি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পদ অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ২০২১ সালে একটি মাইক্রোবাস ক্রয় এবং সাভার ও ডেমরা এলাকায় জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণের তথ্য উল্লেখ করে অভিযোগে অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রশাসনিক পদ শূন্যতা ও অতিরিক্ত দায়িত্ব অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে উপ-পরিচালক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়। এ সুযোগে সহকারী পরিচালককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি নিজেকে “ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক” হিসেবে উপস্থাপন করে প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গালিগালাজ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড সরকারি আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। মাঠ পর্যায়ে এসে দেখেন। আমি অভিযোগকারীকে চিনি না। আমার কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে এসব করা হচ্ছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে আগুন
সিলেট আন্তর্জাতিক ওসমানী বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে আগুন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাত তখন প্রায় সাড়ে ১১টা। দিনের শেষ ফ্লাইটও ছেড়ে গেছে। ঠিক সেই সময় হঠাৎ করে ধোঁয়া দেখা যায় সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর ইমিগ্রেশন সার্ভার রুম থেকে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি রূপ নেয় অগ্নিকাণ্ডে—যা বড় ধরনের বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারত, যদি ঘটনাটি ঘটত ব্যস্ত সময়ে। সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে আগুন লেগেছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে আগুন লাগার খবর পেয়ে দুটি ইউনিট পাঠানোর তথ্য দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিদর্শক যিশু তালুকদার। কীভাবে শুরু হলো আগুন? বিমানবন্দর সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুনের সূত্রপাত হয় এরাইভাল ইমিগ্রেশন বিভাগের সার্ভার রুমে, যা কাস্টমস ভবনের উপরের তলায় অবস্থিত। হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত সাড়ে ১২টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও সার্ভার রুমজুড়ে ঘন ধোঁয়া রয়ে যায়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দেয়। কোনো  ফ্লাইটের ব্যাঘাত হয়নি বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিক আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও ধোঁয়া রয়েছে। রোববারের মত সব ফ্লাইট শেষ হওয়ার পরই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফলে ফ্লাইটের কোনো ব্যাঘাত হয়নি। এয়ারপোর্ট থানার ওসি সহিদুর রহমান বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন কাজ করছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা যিশু তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে পারেননি। সিলেট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার কুতুব উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এরাইভাল ইমিগ্রেশনের (কাস্টমসের উপরের তলা) সার্ভার রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন সার্ভার রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়।খবর পেয়ে মহানগর পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।ফায়ার সার্ভিসের দুটি টিম অগ্নি নির্বাপনে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বেশ কয়েকটি এসি পুড়ে যায় ও প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হয়।  ঝুঁকির মাত্রা কতটা ছিল? সার্ভার রুম সাধারণ কোনো কক্ষ নয়—এখানে সংরক্ষিত থাকে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ডাটা, ইমিগ্রেশন সিস্টেম, যাত্রী তথ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ডিজিটাল অবকাঠামো। এই ধরনের স্থানে আগুন লাগা মানে শুধু অবকাঠামোগত ক্ষতি নয়, বরং পুরো অপারেশনাল সিস্টেম ভেঙে পড়ার আশঙ্কা। যদিও বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, “সব ফ্লাইট শেষ হওয়ার পরই আগুন লাগে, তাই কোনো ফ্লাইটে ব্যাঘাত ঘটেনি,”—তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়: যদি এই ঘটনা পিক আওয়ারে ঘটত?  ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে— আগুনে কয়েকটি এসি পুড়ে গেছে সার্ভার রুমে ব্যাপক ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণ সম্ভব নয়।  তদন্তে কী উঠে আসতে পারে? ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা এখনো আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে— বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট সার্ভার বা কুলিং সিস্টেমের ত্রুটি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে: সার্ভার রুমে কি যথাযথ ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা ছিল? আগুন প্রতিরোধে অটোমেটেড সিস্টেম (যেমন গ্যাস-ভিত্তিক ফায়ার সাপ্রেশন) সক্রিয় ছিল কি? নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট করা হচ্ছিল কি না?  নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁকফোকর? বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে সাধারণত উন্নত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং থাকা বাধ্যতামূলক। এই ঘটনায় যদি দেখা যায় যে এসব ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল, তাহলে তা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত দেবে।  সামনে কী? বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি ও সার্ভার রুমের অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এই অগ্নিকাণ্ডে তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও এটি স্পষ্ট করেছে—দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে। সময়মতো আগুন লাগা (ফ্লাইট শেষে) বড় বিপর্যয় ঠেকিয়েছে, কিন্তু এটি একই সঙ্গে একটি সতর্কবার্তাও—নিরাপত্তা ব্যবস্থার যেকোনো দুর্বলতা ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুন
কেরানীগঞ্জে লাইটার কারখানায় আগুন, নিহত ৫

ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা :  ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় একটি গ্যাস লাইটার তৈরির টিনশেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ করে শনিবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। প্রথমে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরও চারটি ইউনিট যোগ দিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভানোর পর ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। আহত বা নিখোঁজের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী এনায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, আগুন লাগার পর আশপাশের অন্তত ৫০টি বাড়ি থেকে পানি সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম মামুন অভিযোগ করেন, এর আগেও একই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এরপরও কারখানাটি বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
কুমিল্লায় বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনসহ ৫ নিহত

কুমিল্লা : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি প্রাইভেটকারকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামে। একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের লাশ শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে বাড়িতে পৌঁছানো হয়। জুমার নামাজের পর নিহত মুফতি আবদুল মমিনসহ পরিবারের চারজনকে শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে। এ দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১২ বছর বয়সী আবরার গুরুতর আহত হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহতরা হলেন— খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদের ভগ্নীপতি মুফতি আবদুল মমিন, তার বোন ঝর্ণা বেগম, ভাগনি লাবিবা ও ভাগনে আবরার (যিনি পরে মারা যান বলে নিশ্চিত করা হয়েছে), এবং প্রাইভেটকার চালক জামাল (পূর্ণ পরিচয় জানা যায়নি)। নিহতদের স্বজন ফয়সাল আহমাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর ধরে শিক্ষক মুফতি আবদুল মমিন তার পরিবার নিয়ে লক্ষ্মীপুরে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। ঢাকায় কর্মরত থাকায় ঈদ উপলক্ষে তারা শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রাইভেটকারে রওনা দেন। গাড়িটি বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় মিয়ামি হোটেলের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা চট্টগ্রামগামী ‘স্টার লাইন’ পরিবহনের একটি বাস সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। খবর পেয়ে ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। আহতদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে আরশাদ নামে একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল মবিন জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের চালক পালিয়ে গেলেও বাসটি জব্দ করা হয়েছে। পলাতক চালককে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবি
দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: নিহত ২৬, জীবিত উদ্ধার ৮,লাশ উদ্ধার অভিযান সাময়িক স্থগিত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৮ জন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আপাতত উদ্ধার অভিযানে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছে। তবে নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে পুনরায় উদ্ধার অভিযান চালানো হবে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নিখোঁজদের তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি তথ্যকেন্দ্র চালু রয়েছে। কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ থাকলে স্বজনরা ইউএনও অফিস বা ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করলে উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু করা হবে। এর আগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা মাইকিং করে নিখোঁজদের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, বুধবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসটি প্রায় ৬০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে বাসটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়দের সহায়তায় ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী থাকলেও হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বাসের ভেতর থেকেই ২২ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ৫ জন শিশু (৪ জন ছেলে ও ১ জন মেয়ে) রয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করেছে ২৩ জন, স্থানীয়দের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ২ জনকে হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং নৌবাহিনীর ডুবুরিরা উদ্ধার করেন আরও ১ জন। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ও ১০ জন ডুবুরি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। বর্তমানে নিখোঁজদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে আবারও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
পদ্মায় বাসডুবি
দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: নিহত ২৫, নিখোঁজ ৮

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৮ জন। এখনও অন্তত ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ৬০ ফুট গভীরে বাসটি ডুবে যায়। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়। বাসটিতে আনুমানিক ৪০-৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও স্থানীয়দের যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী ছিলেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। উদ্ধারকারী দল বাসের ভেতর থেকে ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এছাড়া স্থানীয়দের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ২ জন এবং নৌবাহিনীর ডুবুরিদের উদ্ধার করা ১ জনসহ মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছে। ইতোমধ্যে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ২১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে এখনও প্রায় ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট, ১০ জন ডুবুরি, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।a

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবি
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ বাসডুবি: টেনে তোলা হলো বাস

রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ বাসডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় পানির নিচে ডুবে যাওয়া বাসটি টেনে তোলা হয়। বুধবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে রাত সোয়া ১১টার দিকে ডুবে থাকা বাসটির একটি অংশ দৃশ্যমান হয় এবং সাড়ে ১১টার দিকে জাহাজ ‘হামজা’র ক্রেন দিয়ে পুরো বাসটি পানির ওপরে তোলা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাসটি থেকে এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে আরও দুইজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, তখন পর্যন্ত ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে তিনজন শিশু, ছয়জন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। জানা গেছে, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারাপারের জন্য অপেক্ষমাণ ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। শুরুতে বাসটিতে মাত্র ছয়জন যাত্রী থাকলেও পথিমধ্যে বিভিন্ন কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠানো হয়। কাউন্টার মাস্টারের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে অন্তত ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সালাম জানান, ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সড়কে বাসটি দাঁড়িয়ে ছিল। ফেরি ঘাটে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ বাসটি চলতে শুরু করে এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। চালক অনেক চেষ্টা করেও বাসটি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে নিয়মিত পরিস্থিতি অবহিত করতে বলা হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কমিটিতে জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি এবং পুলিশের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় যাত্রীবাহী বাস ডুবি, নিহত বেড়ে ১৬

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা শাজাহান সিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদী থেকে  পুরুষ, নারী এবং দুই শিশুসহ মোট ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এর আগে দুর্ঘটনার পরপরই পানিতে ডুবে যাওয়া আরও তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পর কয়েকজন যাত্রী প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা চালান। তাদের মধ্যে দুই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন। ফায়ার সার্ভিস জানায়, তারা আগে ওই দুই নারীর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে অবগত থাকলেও সরাসরি তাদের উদ্ধার করেনি। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনই তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী দ্রুত বাস থেকে বেরিয়ে এসে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
শেবাচিম হাসপাতালে আগুন
বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে আগুন: ২ রোগীর মৃত্যু, তদন্ত কমিটি

বরিশাল: বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এর মেডিসিন ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (রাত ১১টা) পঞ্চম তলার একটি স্টোররুমে আগুন লাগে। এ ঘটনায় আতঙ্কে রোগী সরানোর সময় এবং অক্সিজেন সাপোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃতরা হলেন—পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর এলাকার কাজী আতাউর রহমান (৮০) এবং বরিশাল নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হোসেন হাওলাদার (৬৫)। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার সময় মেডিসিন বিভাগে মোট ৬৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের দ্রুত অন্য ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়।    মৃত্যুর অভিযোগ নিহত আতাউর রহমানের ছেলে কাজী আনসার আলী অভিযোগ করেন, আগুনের আতঙ্কে বাবাকে নিচে নামানোর সময় অক্সিজেনের অভাবে তার মৃত্যু হয়। তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে থাকা একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকেও অক্সিজেন পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, আবুল হোসেনের ছেলে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে তিনি তার বাবাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, “দুই রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। তারা গুরুতর অবস্থায় অক্সিজেন সাপোর্টে ছিলেন। আগুন লাগার পর স্বজনরা তড়িঘড়ি করে অক্সিজেন ছাড়াই নিচে নামালে এই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।”   আগুনের কারণ ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক আবুল বাশার জানান, স্টোররুমে রাখা পুরোনো ফোমের বেড থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। বিড়ি বা সিগারেটের আগুন থেকেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।  আহতদের তথ্য অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়িতে তিন আনসার সদস্য—রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল এবং একজন ওয়ার্ড মাস্টার আহত হয়েছেন।   তদন্ত কমিটি ঘটনা তদন্তে প্রথমে একটি কমিটি গঠন করা হলেও তা বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটির প্রধান করা হয়েছে সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজলে রহমান খানকে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ফায়ার সার্ভিস প্রতিনিধি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি গণপূর্ত বিভাগের প্রতিনিধি হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেসিডেন্সিয়াল সার্জন তদন্ত কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   ফায়ার সার্ভিস বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক আবুল বাশার জানান, স্টোররুমে থাকা পুরোনো ফোমের বেড থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেন। বিড়ি বা সিগারেটের আগুন থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন নেভাতে গিয়ে ও আতঙ্কিত পরিস্থিতিতে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে তিন আনসার সদস্য রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল এবং একজন ওয়ার্ড মাস্টার আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নাজমুল আহসান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
জুতার কারখানায় আগুন
পুরান ঢাকায় জুতার কারখানায় আগুন

রাজধানীর পুরান ঢাকার আগামাসি লেন এলাকায় একটি সাততলা ভবনের চারতলায় অবস্থিত জুতার কারখানায় আগুন লেগেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সর্বশেষ তথ্য পাওয়া পর্যন্ত আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছিল। তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এর আগে রাত ১০টা ২৮ মিনিটে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় একটি কাঠের দোকানসহ কয়েকটি স্থাপনায় আগুন লাগে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0