Brand logo light

প্রতারণা

পিআইও অফিসের কর্মচারী মতিনের বিরুদ্ধে চাকরি রাজস্বকরণের টোপ দিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ
রাজস্বকরণের আশ্বাসে কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ, অভিযুক্ত পিআইও কার্যালয়ের কার্যসহকারী

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরাধীন সেতু/কালভার্ট প্রকল্পে নিয়োজিত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ের কার্যসহকারীদের চাকরি রাজস্বকরণের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই বিশাল প্রতারণা চক্রের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা পিআইও কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. আব্দুল মতিন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. আব্দুল মতিন সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় কর্মরত কার্যসহকারীদের নিয়ে একটি সমিতি গঠন করেন। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেই সেই সমিতির সভাপতি পদ দখল করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় তার চাঁদাবাজির মহোৎসব। চাকরি স্থায়ী বা রাজস্বকরণের আশ্বাস দিয়ে তিনি সাধারণ কর্মচারীদের মগজ ধোলাই করতে শুরু করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত এক থেকে দেড় বছর ধরে আব্দুল মতিন ‘প্রশাসনিক তদবির’ এবং ‘আদালতে মামলা পরিচালনা’র অজুহাত দেখিয়ে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছেন। প্রতিটি উপজেলা থেকে কর্মরতদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এইভাবে সারা দেশ থেকে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও চাকরির স্থায়ীত্বের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী কর্মচারী জানান, মতিন নিজেকে ওপর মহলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তারা বলেন: “আমরা সামান্য বেতনে প্রকল্পে কাজ করি। স্থায়ীকরণের আশায় ধার-দেনা করে তাকে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, মামলার নাম করে তিনি কেবল নিজের পকেট ভারী করেছেন। আমাদের কাছে তার টাকা চাওয়ার ও আশ্বাস দেওয়ার পর্যাপ্ত অডিও রেকর্ড রয়েছে।” মাঠ পর্যায়ের সাধারণ কর্মচারীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এমন সুপরিকল্পিত প্রতারণার ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সরকারি কার্যালয়ে কর্মরত থেকে একজন কর্মচারী কীভাবে এমন একটি বিশাল নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী
রাজউক অনুমোদনহীন ‘পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী’: খাস জমি দখল, জলাশয় ভরাট ও হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নরসিংদীর কান্দাইল মৌজায় রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই “পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী” নামে একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ল্যান্ড ডেভেলোপার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক হাজার একর জমি জবরদখল করে গড়ে ওঠা এ প্রকল্পে সরকারি খাস জমি, অর্পিত সম্পত্তি, খাল-বিল ও জলাশয় ভরাট করা হয়েছে অবৈধভাবে। প্রকল্পটির বিরুদ্ধে জলাধার সংরক্ষণ আইনে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। আদালত প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি সেই নির্দেশ অমান্য করে প্রকল্প সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস হয়ে পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লীর মহাব্যবস্থাপক মফিজুর রহমান মফিজ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “রাষ্ট্রের সকল নিয়ম-কানুন মেনেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।” অন্যদিকে রাজউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “আমার জানামতে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী একটি অবৈধ আবাসন প্রকল্প। এতে রাজউকের কোনো অনুমোদন নেই। প্রতিষ্ঠানটিকে সকল অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, সরকারি খাল, জলাশয় ও তিন ফসলি জমি ভরাটের দায়ে প্রকল্প এলাকায় একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থদণ্ড এবং জলাধার আইনে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়েছে। জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচল প্রবাসী পল্লীর চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে স্থানীয় কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখল, বালু ভরাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা রাজউক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। বরং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং ৬১২৯/২০১১ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে যে, সংশ্লিষ্ট মৌজায় এককভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের অধিকার তাদের রয়েছে। এ রিটের অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে। ব্যারিস্টার আক্তার-উল-আলম বলেন, “উচ্চ আদালতের আদেশের অপব্যবহার এবং আদালত অবমাননার শামিল এমন কর্মকাণ্ড। কোনো ব্যক্তি বিশেষের এককভাবে পুরো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।” সরকার পরিবর্তনের পর ফের সক্রিয় চক্র স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর কিছু সময় আত্মগোপনে থাকলেও ২০২৬ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে সংশ্লিষ্ট চক্রটি। প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তারা পুনরায় জমি দখল ও ভরাট কার্যক্রম শুরু করেছে বলে দাবি করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি মাধবদী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় প্রশাসনকে প্রবাসী পল্লীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তার অনুরোধ জানানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে পুনরায় উল্লেখ করা হয় রিট পিটিশন নং ৬১২৯/২০১১। এছাড়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার একটি তদন্তে অভিযোগ ওঠে, স্বল্প পরিমাণ জমি ক্রয়ের বিপরীতে পাঁচ থেকে ছয় হাজার প্লট বিক্রির মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের ঘটনা ঘটেছে। আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ গত ২ অক্টোবর ২০২৪ দায়ের হওয়া দেওয়ানি মামলা নং ১২১/২০২৪-এ নরসিংদীর সদর সহকারী জজ আদালত কান্দাইল মৌজার বিতর্কিত জমিতে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে এখনো সেখানে বালু ভরাট ও উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা ফসলি জমি বালু ফেলে ভরাট করায় এক সময়ের উর্বর কৃষি অঞ্চল এখন ধূধূ বালুচরে পরিণত হয়েছে। কৃষকদের দুর্দশা কান্দাইল গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা রতন মিয়া, মানিক ও সাইদুল ইসলাম জানান, একসময় এ এলাকায় ধান, গম, পাট, শাক-সবজি ও নানা কৃষিপণ্যের সমৃদ্ধ উৎপাদন ছিল। এখন সেখানে ফসল জন্মায় না। ফলে শত শত কৃষক পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, “একাধিক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও এই শক্তিশালী ভূমিদস্যু চক্রকে থামানো যায়নি। হাজার হাজার প্রবাসীর কাছ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে।” ভুক্তভোগী হারুন মিয়া জানান, “অনেক প্রবাসী গ্রাহক ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করেও বছরের পর বছর প্লট বুঝে পাননি। অনেকে অপেক্ষা করতে করতে মৃত্যুবরণ করেছেন।” স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষকদের কাছ থেকে অস্থায়ীভাবে জমি ভাড়া নিয়ে সেখানে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে প্লট বিক্রির নামে প্রতারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও কালো টাকা বিনিয়োগের অভিযোগ স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, প্রকল্পটির সঙ্গে সাবেক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তারা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির বিনিয়োগ রয়েছে এ প্রকল্পে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় ১৭ বছর ধরে “প্রবাসী পল্লী” প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভনের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
কথিত স্বামী-স্ত্রী
বরিশালে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র: আটক দুইজন রিমান্ডে চেয়ে আবেদন, জড়িত থাকতে পারে আরও সদস্য

বরিশাল মহানগরীতে কথিত ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের মাধ্যমে এক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আটক নারীসহ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। মহানগর কোতয়ালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফর রহমান জানান, গত ৫ মে ইউনুছ আলী নামে এক ব্যক্তিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে তার কাছ থেকে নগদ ২৩ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আহত অবস্থায় তাকে সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। ঘটনার পর ভিকটিম থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় অভিযুক্ত নারী ও তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটককৃতরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দাবি করলেও পুলিশের ভাষ্য, তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের সদস্য হতে পারে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা বিভিন্ন ধরনের অসংলগ্ন তথ্য দিয়েছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কললিস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একই ধরনের আরও অভিযোগ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে আটককৃতদের দাবি, তারা একতরফাভাবে অভিযুক্ত হচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, “যদি আমরা অপরাধী হই, তাহলে নারীলোভ দেখিয়ে যোগাযোগ করা ওই ব্যক্তিকেও আইনের আওতায় আনা উচিত।” তবে পুলিশ বলছে, কোনো ব্যক্তি অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা ছিনতাই করার সুযোগ নেই। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সম্পর্ক ও অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে গোপন সাক্ষাৎ বাড়ার কারণে এ ধরনের অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাইবার নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। কোতয়ালী থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও ছিনতাই চক্রের বিরুদ্ধে পৃথক ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
নৃত্যশিল্পী ফিরোজের সঙ্গে প্রেমিক বিপ্লব হোসেন।
১৭ বছর প্রেম, লিঙ্গান্তর ও প্রতারণার অভিযোগ: ফিরোজের জীবন যুদ্ধে বিপ্লবের বিরুদ্ধে বিচার দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার জোত কাদিরপুর গ্রামের নৃত্যশিল্পী ফিরোজ আহমেদ (২৯) দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা সম্পর্ককে বৈবাহিক জীবনে রূপান্তর করার আশায় জীবনের সর্বস্ব বাজি রাখেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আদায়ে ব্যর্থ হওয়া প্রেমিক বিপ্লব হোসেন (৩০)‑এর বিরুদ্ধে ফিরোজ দায়ের করেছেন প্রতারণা, অর্থ আত্মসাত ও মিথ্যা বিয়ে‑প্রতিশ্রুতি এর অভিযোগ। স্কুল জীবন থেকে শুরু প্রেম — স্বপ্ন ভাঙা বাস্তবে ফিরোজ ও বিপ্লব একই উপজেলার ইসলামী একাডেমিতে পড়াশোনা করার সময় থেকেই পরিচিত। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিপ্লবের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় বহু বছর ফিরোজের বাড়িতে থাকতে হয় তাকে, এমনকি এলাকাবাসীর চোখেও তাদের সম্পর্ক “স্বামী‑স্ত্রীর মতোই” দেখা যেত। শিশু বয়স থেকেই নৃত্যে প্রতিভা থাকা ফিরোজ পরবর্তী সময়ে সাভার শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমিতে নৃত্য শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকেন এবং “নাচের পুতুল একাডেমি” পরিচালনা করেন। পাশাপাশি তিনি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেন। ২০১৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর দু’জন ঢাকায় জড়িয়ে ওঠে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তে। রুম ভাড়া নিয়ে তারা এক ছাদের নিচে বসবাস করেন ও একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সময়ের সঙ্গে ফিরোজ নিজে একটি নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠানও শুরু করেন। বৈবাহিক জীবনের আশায় লিঙ্গান্তর ফিরোজ জানায়, বিপ্লব তাদের সম্পর্ককে শুধু “ডেটিং” হিসাবে দেখেননি, বরং দাম্পত্যে রূপ দিতে চাইতেন — এই প্রতিশ্রুতিতে তিনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ভারতে গিয়ে লিঙ্গান্তর অস্ত্রোপচার ও হরমোন চিকিৎসা নেন। বিপ্লব তাকে বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন, ভারতে চিকিৎসার জন্য মানসিক ও আর্থিক সাহয্যও করেছেন বলে ফিরোজ জানিয়েছেন। ফিরোজের চিকিৎসা ছাড়াও ঢাকায় থাকার সময়ে বিপ্লব প্রায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা হত। ভারতে থাকা অবস্থায় ফেরোজ এবং বিপ্লব শ্রীমংলে भ्रमণও করেন। দেশে ফেরার পর ঘটনা উল্টে যায় প্রায় এক বছর চিকিৎসা শেষে ২০২৫ সালে দেশে ফেরার পরই ফিরোজ জানতে পারেন বিপ্লব অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন বরিশালে। ফিরোজ দাবি করেন, এই খবর তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে। এতে শেষ নয় — তিনি অভিযোগ করেন, বিপ্লব তাঁর উপার্জিত প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সেই টাকা দিয়ে বিপ্লব ও তার পরিবার বাড়ি‑গাড়ি করেছে এবং লেনদেনের প্রায় ৩০ লাখ টাকা দালিলিক প্রমাণও রয়েছে, ফিরোজ জানান। অর্থ আত্মসাত ও প্রশাসনিক চাপের অভিযোগ ফিরোজ দাবি করেন, বিপ্লব টাকা ফেরত দেয়ার চেষ্টা না করে বরং এখন প্রশাসনিকভাবে তাকে হয়রানি করছে। সম্প্রতি বিপ্লব এক ফরমে জোর করে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করেন বলে ফিরোজের অভিযোগ, যার কারণে তাঁকে বরিশালে থাকা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রতিবাদ ও বিচার দাবি ফিরোজ জানিয়েছেন, বিপ্লব তাকে মিথ্যা বিয়ে‑প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছেলে থেকে মেয়ে হওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করেছে, যার ফলে তিনি জীবনের অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিপ্লবের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ ও ন্যায়ের বিচার চাই। প্রতিদ্বন্দ্বী বক্তব্য: বিপ্লবের পাল্টা অভিযোগ অভিযোগের বিষয়ে বিপ্লব হোসেন ঘটনা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ফিরোজ টাকাপয়সা নিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে এবং নিজেকে “হতাহত” দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে তিনি পূর্বে ফিরোজের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। পেছনের প্রেক্ষাপট: সম্পর্ক, সমাজ ও আইনি জটিলতা দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও বৈবিক দাম্পত্য প্রতিষ্ঠায় বাধা, বিশেষ করে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ক্ষেত্রে সামাজিক স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা আছে‑না, এ ধরনের প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে বিচার দাবির আলোচনায়। অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপের ঘটনায় সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর আনন্দ‑আত্মসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি সমাজে ব্যাপক সংবেদনশীল। যৌথ অবস্থান থেকে শুরু করে একতরফা প্রতিশ্রুতি, লিঙ্গান্তর সিদ্ধান্ত ও পরে জীবন‑জীবিকার বিবাদ — এই সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল ও নৈতিক, আইনি, সামাজিক দিক থেকে গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে। লিঙ্গান্তর ও বাংলাদেশে আইনি প্রেক্ষাপট লিঙ্গ পরিবর্তনের আইন বাংলাদেশে ২০১৩ সালে “হিজড়া ও তৃতীয় লিঙ্গ সনদ” সংক্রান্ত আইনি কাঠামো চালু হয়েছে। এই আইনের অধীনে একজন ব্যক্তি লিঙ্গ পরিবর্তনের পর সরকারি সনদ পেতে পারে, যা স্কুল, ব্যাংক, ভোটার নিবন্ধন ইত্যাদিতে ব্যবহারযোগ্য। চিকিৎসার মাধ্যমে লিঙ্গান্তর (মেডিকেল প্রক্রিয়া) আইনের আওতায় সম্পূর্ণ বৈধ, তবে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন। আইনি সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের বিয়ের আইন (ইসলামী, হিন্দু বা সাধারণ) সাধারণত পুরুষ ও নারী—এই সনাক্ত লিঙ্গের ভিত্তিতে বিবাহ স্বীকৃতি দেয়। লিঙ্গান্তর হওয়ার পর আগের প্রেমিক/প্রেমিকা সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ককে আইনি স্বীকৃতি দেয়া জটিল। তাই ফিরোজের  লিঙ্গান্তর হয়ে বৈবাহিক স্বীকৃতি আশা করা আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ।  প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের আইনি প্রেক্ষাপট প্রয়োগযোগ্য ধারা ফিরোজের অভিযোগ অনুযায়ী বিপ্লব: মিথ্যা আশ্বাসে লিঙ্গান্তর করানোর প্রলোভন দিয়েছে। উপার্জিত ৫০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে। বাংলাদেশের ফৌজদারি আইন (Penal Code) অনুযায়ী: ধারা ৪২০ : প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ অর্জন → শাস্তিযোগ্য। ধারা ৪০৬ : বিশ্বস্ততা ভঙ্গ করে সম্পদ হরণ → শাস্তিযোগ্য। প্রমাণ ও পদক্ষেপ ফিরোজের কাছে থাকা লেনদেনের দালিলিক কাগজপত্র, ব্যাংক ট্রান্সফার, সাক্ষী — শক্ত প্রমাণ। স্থানীয় থানায় অভিযোগ (এফআইআর) দায়েরের পর মামলা গ্রহণ ও তদন্ত শুরু হয়। আদালতে সিভিল ও ফৌজদারি মামলা উভয়ই সম্ভব। প্রশাসনিক ও পেশাগত প্রতিকার প্রশাসনিক পদক্ষেপ জোরপূর্বক স্বাক্ষর বা দলিল গ্রহণের অভিযোগে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করা। যদি প্রমাণিত হয় যে ফিরোজকে হয়রানি করা হচ্ছে, রিপোর্ট দিয়ে প্রশাসনিক নিরাপত্তা ও নোটিশ পাওয়া যায়। পেশাগত/অর্থনৈতিক প্রতিকার সিভিল মামলা: আত্মসাত করা অর্থ ফেরত আদায়। মর্যাদা ক্ষতিপূরণ: সামাজিক ও মানসিক ক্ষতি মানিয়ে আদালত ক্ষতিপূরণ দিতে পারে। সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানিক সহায়তা: তৃতীয় লিঙ্গের জন্য থাকা অধিকার সংরক্ষণকারী এনজিও/সংগঠন যেমন কর্ন ইত্যাদি, আইনগত সহায়তা বা মিডিয়েশন দিতে পারে। সামাজিক ও নৈতিক বিবেচনা লিঙ্গান্তর ব্যক্তি ও তাদের পরিবার সামাজিক বৈষম্য, মানসিক চাপ ও ভীতি সম্মুখীন হতে পারে। এই ধরনের ঘটনা আইনি ও সামাজিক শিক্ষা হিসেবে গণ্য হয়, যাতে: লিঙ্গান্তর ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও লিখিত সমঝোতা থাকে। আর্থিক লেনদেন ও প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি বা ব্যাংক রেকর্ড নিশ্চিত করা হয়। সংক্ষিপ্ত পরামর্শমূলক পথ লেনদেন ও প্রতারণার প্রমাণ হাতে রেখে ফৌজদারি মামলা দায়ের। প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ পুলিশের কাছে উপস্থাপন। সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক পুনরুদ্ধারের জন্য সিভিল মামলা। স্থানীয় তৃতীয় লিঙ্গ অধিকার সংস্থা‑র সহায়তা গ্রহণ। ভবিষ্যতের জন্য লিখিত চুক্তি বা বৈধ প্রমাণ নিশ্চিত করা। আইনজীবী নিয়োগ: ফৌজদারি ও সিভিল মামলা প্রস্তুতি। মানসিক সহায়তা: কাউন্সেলিং।   এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের অর্থ, সম্পর্ক ও মানসিক নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি
ইতালিতে কাজের প্রলোভন: লিবিয়ায় বন্দি বাংলাদেশি যুবকরা, নির্যাতন ও মুক্তিপণের অভিযোগ

বরিশাল অফিস :   ইতালিতে কাজের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুবকদের লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কয়েকজন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার বলছে, লাখ লাখ টাকা খরচ করেও তারা ইউরোপে পৌঁছাতে পারেননি; বরং মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে লিবিয়ায়।  যেভাবে শুরু হয় যাত্রা ভুক্তভোগীদের একজন মেহেদী হাসান খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইতালিতে বৈধভাবে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসে স্থানীয় এক দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিবারের দাবি, জমি বিক্রি, ঋণ ও ধারদেনা করে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা জোগাড় করে দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রথমে নগদ অর্থ এবং পরে ব্যাংকের মাধ্যমে কিস্তিতে টাকা দেওয়া হয়।  ইতালির বদলে লিবিয়া মেহেদী হাসান জানান, তাকে প্রথমে সৌদি আরব নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, সেখানে তাদের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে খাবার কম দেওয়া, শারীরিক নির্যাতন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। এক পর্যায়ে তাকে লিবিয়ার পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে বেনগাজির একটি কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি প্রায় দেড় মাস আটক ছিলেন।  ভিডিও কলে মুক্তিপণের দাবি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করিয়ে তার করুণ অবস্থা দেখানো হতো বলে জানান মেহেদী। তার পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত আট লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ করার পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন। আরও অনেকের একই পরিণতি স্থানীয় সূত্র বলছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার অন্তত পাঁচজনসহ বিভিন্ন জেলার মোট ১০৮ জন যুবক একইভাবে দালালদের মাধ্যমে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের অনেকেই এখনও লিবিয়ায় আটকা রয়েছেন এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।  মামলা ও তদন্ত এ ঘটনায় মেহেদী হাসান খান বাদী হয়ে বরিশালের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
আন্ডা রফিক
গণমাধ্যমে খবরের পর গা ঢাকা, দেশত্যাগের চেষ্টার অভিযোগ আন্ডা রফিকের বিরুদ্ধে

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আলোচিত রফিকুল ইসলাম রফিক ওরফে ‘আন্ডা রফিক’কে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ার পর হঠাৎ তার গা ঢাকা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। ‎ ‎স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগেও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকায় তাকে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তার এমন প্রকাশ্য উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তবে গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর থেকেই তিনি হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর থেকেই এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। ‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে জমি দখল, প্রতারণা, ভুয়া দলিল তৈরি, একই জমি একাধিকবার বিক্রি এবং নিরীহ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। এসব অভিযোগে একাধিক মামলা থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ‎নাওড়া এলাকার স্থানীয়রা বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই সে এলাকায় নেই। আমরা শুনতেছি, সে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছে। এখনই যদি তাকে আটক না করা হয়, তাহলে সে পালিয়ে যাবে এবং আমরা আর বিচার পাবো না। ‎ভুক্তভোগী এক পরিবার জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতির কারণে তারা হতাশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশত্যাগ করলে বিচার পাওয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ‎ ‎স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন তিনি প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এখন দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলে পুরো বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তারা। ‎ ‎এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন)  তারেক আল মেহেদী বলেন, রফিক প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে এ বিষয়টি আমি খবর নিচ্ছি। সে যেহেতু আসামি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রগণ করা হবে। আসামি কোনোভাবেই প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করতে পারবে না।  আসামির জামিন নিতে হবে নয়তো বা গ্রেফতার হতে হবে। সে জামিনে আছে কি না আমার জানা নেই। যদি প্রকাশ্যে ঘুরে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে যাবো। ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
সিআইডি
এমটিএফই প্রতারণা: বিদেশে পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়েছে সিআইডি

বাংলাদেশ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া ৪৪ কোটিরও বেশি টাকা দেশে ফিরিয়ে এনেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার (২৯ মার্চ) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বহুল আলোচিত এমটিএফই (মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ) প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছিল। এর একটি অংশ সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ ৪৪ কোটির বেশি। এই অর্থ দেশে ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল সংস্থাটি। জসীম উদ্দীন খান বলেন, “আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ধারাবাহিক তদন্তের ফলে আমরা এই অর্থ ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছি।” সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাচার হওয়া বাকি অর্থ উদ্ধারে কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্তও অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত আর্থিক প্রতারণাগুলোর মধ্যে এমটিএফই কেলেঙ্কারি অন্যতম, যেখানে বহু সাধারণ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমটিএফই কি এমটিএফই (Metaverse Foreign Exchange - MTFE) হলো একটি দুবাই ও কানাডাভিত্তিক অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, যা মূলত একটি এমএলএম (MLM) বা পনজি স্কিমের মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতারণা চালিয়েছে । শরীয়াহ-সম্মত প্ল্যাটফর্ম এবং উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ।  এই কেলেঙ্কারি সম্পর্কিত সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো: পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার: পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অতি সম্প্রতি (মার্চ ২৯, ২০২৬) এমটিএফই কেলেঙ্কারির মাধ্যমে পাচার হওয়া ৩৬ লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা) উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে । অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া: উদ্ধারকৃত এই অর্থ সুইফট (SWIFT) ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় ফেরত আনা হয়েছে । প্রতারণার কৌশল: প্রতিষ্ঠানটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ফরেক্স ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে এবং নতুন গ্রাহক যুক্ত করার বিনিময়ে কমিশন দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করত। ক্ষতির পরিমাণ: বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমটিএফই বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে ধারণা করা হয় । 

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
আরিফুল ইসলাম
বরিশালে এলপিবিএল ভুয়া কোম্পানি : কোটি টাকা হাতিয়ে পালিয়েছে প্রতারক আরিফুল ইসলাম

বরিশাল অফিস :   বরিশালে প্রতারণার অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে মুহা. আরিফুল ইসলাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিজেকে কখনো এলজিইডির অডিট কর্মকর্তা, কখনো এনএসআই কর্মকর্তা আবার কখনো বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কৌশলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। আরিফুল ইসলামের বাড়ি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নলুয়া গ্রামে।তার পিতার নাম গোলাম রাজ্জাক। প্রতারণার মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছে বরিশাল সিএন্ডবি রোডের বৈদ্যপাড়ার সজনী ভিলায়। সেখানে তিনি বিশাল অফিস ভাড়া নিয়ে এলপিবিএল  নামে একটি ডেভলপার কোম্পানির সাইনবোর্ড লাগিয়ে ভুয়া চুক্তি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।  আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দাবী করে চাকরির নাম করে তিনজনের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেন। অফিস পরিচালনার নামে তিনি ৮ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে তাদের তিন মাসের বেতন না দিয়ে অফিস তালা মেরে পালিয়ে যান। তার অফিসের ভাড়া বাবদ এক লাখ টাকা বাকি আছে বাড়িওয়ালার । এছাড়া, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলার ওয়ারেন্ট জারি রয়েছে। বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।  জানা গেছে, তার স্ত্রী সালমা বেগম, বাবা মাওলানা গোলাম রাজ্জাক (ওরফে গোলাম রাজা) এবং ভাই মহিবুল্লাহ এই প্রতারণার সাথে জড়িত ছিলেন। স্থানীয়রা সতর্ক করেছেন, কেউ যেন আরিফুল ইসলামকে ব্যবসা বা চাকরির জন্য অর্থ প্রদান না করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
তমা মির্জা
ইকরার আত্মহত্যা : তমা মির্জার খোলা চিঠি নিয়ে শোবিজে তোলপাড়

বাংলাদেশের ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ও ভ্লগার ইকরা সম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন। ইকরা শুধু একজন তারকা হিসেবে পরিচিত ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন ভ্লগার ও উপস্থাপিকা হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়। তার মৃত্যু শোবিজ অঙ্গনে একটি বড় আঘাত হয়ে এসেছে, বিশেষ করে তার একমাত্র ছেলেকে একাই রেখে চলে যাওয়া কারও কাছে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এদিকে, এই ঘটনার পর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী তমা মির্জা সামাজিক মাধ্যমে ইকরাকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি বলেছেন, যখন একজন নারী তার ভালোবাসার মানুষকে পূর্ণ সমর্থন দেয়, তার পাশে থাকে এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সাহায্য করে, তখন সেই মানুষটি যখন সফলতা পায়, তখন বেশিরভাগ সময় তাকে ঠকানো হয়, অবহেলা করা হয়, এবং মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়। তমা মির্জা তার চিঠিতে আরও বলেন, একজন নারী অনেক কিছু সহ্য করতে পারে, কিন্তু যখন তার ভালোবাসার মানুষের এই বদলে যাওয়া চেহারা সে দেখেন, তখন তার কাছে জীবন অর্থহীন হয়ে ওঠে। জীবন থেকে মুক্তি পেতে অনেক সময় এইসব পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যাওয়াই একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায়। ইকরার এই অসম্মানজনক পরিণতি, বিশেষত তার একমাত্র সন্তানের দিকে তাকালে, যেন একটি বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে পড়ছে। তমা মির্জা মনে করেন, ইকরার চলে যাওয়ার পর তার মানসিক যন্ত্রণা কিছুটা হলেও কমে গেছে, যদিও তার এই সিদ্ধান্তের ফলে কোনো উপলব্ধি বা পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা জানেন না তিনি। শোবিজ অঙ্গনে ইকরার মৃত্যু নিয়ে শোক এবং আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে, এবং অনেকেই এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছেন। তমার মতামত শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে নয়, বরং একটি বড় সামাজিক ইস্যুরও প্রতিফলন। নারী-পুরুষের সম্পর্কের নানা দিক এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপের ওপর তমার খোলা চিঠি গভীরভাবে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া, আত্মহত্যার মতো জটিল বিষয়টি নিয়ে সকলের আরও সচেতন হওয়া জরুরি, বিশেষত মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সহায়তা এবং নারীদের জন্য একে অপরকে সহায়তা করার গুরুত্ব আরও বেশি বেড়ে যায় এই ধরনের পরিস্থিতিতে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
প্রতারক দম্পতি গ্রেপ্তার
ভিক্ষুকের সিম ব্যবহার করে অভিনব প্রতারণা, দম্পতি গ্রেপ্তার

ভিক্ষুকদের সরকারি রেশন ও ভাতা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) নম্বর সংগ্রহ করে অভিনব কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল একটি চক্র। এ ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তাররা হলেন সুলতানা খাতুন ও তার স্বামী মোবারক হোসেন। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, অপরাধে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও চারটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। রাজশাহীতে অভিযান সিআইডি সূত্রে জানা যায়, এলআইসি শাখার অ্যানালাইসিস ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় গত সোমবার পবা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। যেভাবে চালানো হতো প্রতারণা তদন্তে জানা গেছে, মোবারক-সুলতানা দম্পতি তাদের বাড়িতে যাওয়া ভিক্ষুকদের সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে তাদের সিমকার্ড ও এমএফএস নম্বর সংগ্রহ করত। পরে সেই সিমকার্ড ব্যবহার করে টার্গেট ব্যক্তিদের ফোন দেওয়া হতো। প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের জানাত— তাদের মা, মেয়ে বা স্ত্রী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। জরুরি চিকিৎসার জন্য দ্রুত টাকা পাঠাতে হবে। টাকা পাঠানোর জন্য দেওয়া হতো ভিক্ষুকের এমএফএস নম্বর। ভুক্তভোগী কেউ কণ্ঠস্বর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে প্রতারকরা বলত, ঠান্ডা লাগা বা দুর্ঘটনার কারণে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। টাকা পাওয়ার পর ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল ফোন নষ্ট করে ফেলায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত। সুইডেন প্রবাসীর পরিচয়ে প্রতারণা এক ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সুইডেন প্রবাসী বোনের পরিচয় দিয়ে তার মাকে ফোন করা হয়। প্রতারক জানায়, সুইডেন থেকে দেশে এসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য জরুরি অর্থ প্রয়োজন। চিকিৎসার খরচের কথা বলে একটি এমএফএস নম্বর দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর মা বিভিন্ন সময়ে মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা পাঠান। পরে মেয়ের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এ ঘটনায় গত বছরের ২৯ এপ্রিল গোমস্তাপুর থানা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যা পরবর্তীতে মামলায় রূপ নেয়। সতর্ক থাকার আহ্বান সিআইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অচেনা নম্বর থেকে আত্মীয় পরিচয়ে জরুরি অর্থ চাওয়া হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নিজের সিমকার্ড ও এমএফএস নম্বর অন্যের কাছে হস্তান্তর না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারণা রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0