Brand logo light

পুলিশ

অপরাধ দমনে মাঠে নামছে যৌথ বাহিনী
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান, এপ্রিল থেকেই মাঠে যৌথ বাহিনী

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিগগিরই দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের একটি সমন্বিত তালিকা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এপ্রিল মাস থেকেই মাঠপর্যায়ে এই অভিযান শুরু হতে পারে। এতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে একটি যৌথ বাহিনী কাজ করবে। ইতোমধ্যে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পৃথক তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রগুলো বলছে, অপরাধের ধরন অনুযায়ী অভিযানের কাঠামো ও নাম নির্ধারণ করা হবে। অতীতে পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর মতো একটি উদ্যোগের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে সরকারি মহল থেকে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকারের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। প্রস্তুত করা তালিকায় সহিংসতা, নাশকতা, মাদক ব্যবসা, অনলাইন প্রতারণা এবং সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি অতীতে সহিংস কর্মকাণ্ড বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে—এমন কিছু রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিকেও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। তবে পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, এই তালিকা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে না। বরং যারা বাস্তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে পারে—তাদেরই চিহ্নিত করা হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে তালিকাটি তৈরি করা হচ্ছে এবং এটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এবার ‘ঢালাও গ্রেপ্তার’ নয়, বরং ‘টার্গেটেড অ্যাকশন’-এ জোর দেওয়া হবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা বা নাশকতায় জড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
হাতিরঝিল থানার ওসি
‘নবীন’ পাঞ্জাবির দোকান বন্ধে চাপ: হাতিরঝিল থানার ওসি ক্লোজড, ডিএমপির তদন্ত কমিটি

রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টার মার্কেটে ‘নবীন’ ব্র্যান্ডের একটি পাঞ্জাবির দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে ক্লোজড করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনায় তদন্তে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার (২৫ মার্চ) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে একটি দোকানে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তদন্তে ডিএমপি একটি কমিটি গঠন করেছে। গত শুক্রবার (২০ মার্চ) ওই মার্কেটের একটি পাঞ্জাবির দোকানে বিশেষ মূল্যছাড়ে বিক্রির অফারকে কেন্দ্র করে মার্কেট কমিটি ও সংশ্লিষ্ট শোরুমের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এরই মধ্যে হাতিরঝিল থানার ওসিকে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে এবং এক সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা। এর আগে, ঈদুল ফিতরের আগের দিন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রির কারণে আশপাশের কিছু ব্যবসায়ী ‘নবীন ফ্যাশন’-এর দোকান বন্ধ করে দেয়। তারা এই মূল্যছাড়কে ‘রিলিফ বিতরণ’-এর সঙ্গে তুলনা করে আপত্তি জানায়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং দ্রুতই জনমনে প্রশ্ন ওঠে—বাজারে প্রতিযোগিতামূলক বিক্রি কি অপরাধ?

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ভোলায় লঞ্চের সঙ্গে অভিযান চালানো স্পিডবোটের ধাক্কা
ভোলায় লঞ্চের সঙ্গে অভিযান চালানো স্পিডবোটের ধাক্কা,নিখোঁজ পুলিশ সদস্য

ভোলার লালমোহনে যাত্রীবাহি লঞ্চের সাথে ধাক্কায় মৎস্য রক্ষা অভিযানের স্পিডবোট উল্টে এক পুলিশ কনস্টেবল নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘনায় আহত হয় স্পিডবোটে থাকা অপর ৫ জন। তাদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার প্রায় ৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর উদ্ধার হয়নি নিখোঁজ পুলিশ সদস্য। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৮টার দিকে লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটে এই ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবলের নাম মো. ফখরুল। জানা গেছে, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাটঘামী এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটে পৌঁছে। একই সময় মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা মনিটরিং করার জন্য উপজেলা মৎস্য অফিসের ৩ সদস্য ও ৩জন কনস্টেবল স্পিডবোটে অভিযানে যায়। ওই টিমে লালমোহন মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী আব্বাছ উদ্দিন, ক্ষেত্র সহকারী মনোয়ার হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সোহাগ এবং পুলিশের ৩জন কনস্টেবল ছিলেন। লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ানোর সময় লঞ্চের পেছনের প্রফেলারের সাথে ধাক্কায় স্পিডবোটটি উল্টে যায়। ঘটনার পর ৫জন সাঁতরে তীরে উঠলেও তাদের সাথে থাকা পুলিশ কনস্টেবল মোঃ ফখরুল এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ফখরুল মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরিশালে। লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, অভিযানে যাওয়া স্পিডবোটটি নদীর মধ্যেই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এসময় স্রোতের টানে বোটটি ঘাটে ধাকা লঞ্চের সাথে গিয়ে ধাক্কা লাগে এবং লঞ্চের নিচে বোটটি ঢুকে যাওয়ার সময় সবাই একদিক চলে গেলে বোটটি উল্টে যায়। ঘটনার পর কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিম নদীতে নেমে তল্লাশি চালাচ্ছে। বরিশাল থেকে আরও ডুবরি দল আসছে বলেও ওসি জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
দুটি লঞ্চের ধাক্কা
দুটি লঞ্চের ধাক্কা :স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না সোহেলের

রাজধানীর সদরঘাটে দুটি লঞ্চের মধ্যে ধাক্কা লাগার ঘটনায় সোহেল (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার সঙ্গে থাকা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার রেবা (২০) গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সোহেল বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী রেবাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য লঞ্চে উঠছিলেন। আহত রেবাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সদরঘাটে ‘আসা যাওয়া-৫’ নামের একটি লঞ্চে যাত্রী উঠছিল। ঠিক তখন ‘জাকির সম্রাট-৩’ নামের আরেকটি লঞ্চ পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। দুই লঞ্চের মধ্যে পড়ে ট্রলারে থাকা সোহেল নিহত হন, আর তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন। কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়সাল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,  “দুটি লঞ্চ সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। আহত অন্তঃসত্ত্বা নারী রেবাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।” নৌ পুলিশের সদরঘাট থানার ওসি সোহাগ রানা বলেন, “ঘটনাস্থলে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম কাজ করছে। তবে আলোর স্বল্পতা ও পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একজন নারীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি এখনও হতবিহ্বল। স্বাভাবিক হলে তার বক্তব্য পাওয়া যাবে।” ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. জহির বলেন, “ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আমরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।” এই দুর্ঘটনার পর সদরঘাট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, লঞ্চ দুটির চালক বা সংশ্লিষ্টদের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ঝিনাইদহের শৈলকুপা
ঝিনাইদহে ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত -৫০

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ভিজিএফ’র কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চরগোলকনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে মির্জাপুর ইউনিয়নের অসহায় দরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ’র চাল দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কার্ড ইস্যু করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ওই গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সায়েম আলীর কাছে কার্ড চান যুবদল নেতা শামীম হোসেন লস্কর। এ নিয়ে দু’জনের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে সন্ধ্যায় স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বররা সালিশে বসে। এরই এক পর্যায়ে সায়েম আলী ও শামীম হোসেনের সমর্থকর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাত ৮ টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন
ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি মামলায় সাবেক ওসি কারাগারে

বগুড়া:  বগুড়ায় বিএনপি নেতার দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় শাহজাহানপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে আদালতে হাজিরা দিতে এলে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু হেনা সিদ্দিকী শুনানি শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মাদকবিরোধী অভিযানের নামে শাহজাহানপুর থানার তৎকালীন ওসি আলমগীর হোসেন জেলা বিএনপির সাবেক সহপ্রশিক্ষণ সম্পাদক ও শাহজাহানপুর থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফজলুল হক উজ্জ্বলের গাড়ি ধাওয়া করে আটক করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আটক করার পর মাদকের ভয়ভীতি দেখিয়ে উজ্জ্বলের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতির চাপে পড়ে উজ্জ্বল তার স্ত্রী ও এক সহকর্মীর মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা সংগ্রহ করে ওসি আলমগীর হোসেনকে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে টাকা দেওয়ার পরও তাকে একটি অজ্ঞাত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। ঘটনার প্রায় এক দশক পর, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ফজলুল হক উজ্জ্বল আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য শাহজাহানপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুরকে দায়িত্ব দেন। তদন্ত শেষে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সোমবার মামলার শুনানির জন্য আদালতে হাজিরা দিতে আসেন সাবেক ওসি আলমগীর হোসেন। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বগুড়া আদালতের কোর্ট পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, আদালতের সমন অনুযায়ী হাজিরা দিতে এলে শুনানি শেষে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আলমগীর হোসেন দিনাজপুর পুলিশ লাইনে কর্মরত রয়েছেন। মামলার বাদী ফজলুল হক উজ্জ্বল বলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন ও চাঁদাবাজি চালিয়েছেন। তিনিও এর শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করার সাহস না পায়।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা
বরিশালে ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

বরিশাল: বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এক ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অবৈধভাবে অটোরিকশা স্ট্যান্ড উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ এনে নগরীর শ্রমিকরা রোববার (১ মার্চ) বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভ কর্মসূচি দুপুরে নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষুব্ধ অটোরিকশা শ্রমিকরা অভিযুক্ত টিআই আশিক রহমানকে অবরুদ্ধ করে তাকে বরখাস্ত করার দাবি করেন এবং তীব্র স্লোগান দেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির কাছাকাছি স্থায়ী স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী পরিবহন করছেন। কিন্তু কিছু দিন ধরে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আশিক রহমান প্রতি মাসে ২০,০০০ টাকা ‘মাসোহারা’ দাবি করছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের অটোরিকশা আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান বলে তারা জানান। সবশেষ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্ত টিআই স্ট্যান্ডে উপস্থিত হয়ে উচ্ছেদের হুমকি দিলে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ফেটে পড়ে। পরিস্থিতি দৃষ্টিগোচর হলে টিআই আশিক ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সরে যান এবং শ্রমিকরা সেখানে একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) রেজাউল ইসলাম রেজা শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজির কোনো তথ্য আমার জানা নেই এবং এ ধরনের কোনো সম্ভবতাও নেই। শ্রমিকরা মূলত অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ রোধ করতে এমন অভিযোগ তুলেছে।” তিনি জানান, শ্রমিকদের ক্ষোভের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আশিক রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইলেও একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।  বিক্ষোভের কারণে এলাকায় কিছু সময় যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে শ্রমিকদের শান্ত করেন। তবে শ্রমিক প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
সাবেক এমপি শাহ আলম
পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক এমপি শাহ আলম আটক

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানী ঢাকার রমনা থানা এলাকার ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। খবরটি নিশ্চিত করেছেন রমনা থানার ডিউটি অফিসার এসআই মনির। তিনি জানান, সাবেক সংসদ সদস্য শাহ আলমকে পাবলিক কর্তৃক আটক করা হয়। যদিও তার গ্রেপ্তারের সঠিক সময়ের বিষয়ে এসআই মনির নিশ্চিত হতে পারেননি, তবে তিনি জানান যে, রাত ৮টার দিকে ডিউটিতে এসে তিনি দেখেন যে তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে এখন পর্যন্ত আটক হওয়া সাবেক এমপি শাহ আলমের বিরুদ্ধে কোন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ঘটনার বিস্তারিত জানতে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে এবং যেকোনো মুহূর্তে আরও তথ্য প্রদান করা হতে পারে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে, শাহ আলমের আটক হওয়ার সময় সেখানে বেশ কয়েকজন স্থানীয় নাগরিক উপস্থিত ছিলেন এবং তারা সক্রিয়ভাবে এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন। এদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনার প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে এবং তার দল আওয়ামী লীগও বিষয়টি নিয়ে নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করতে আগ্রহী।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১, ২০২৬ 0
মুরাদ খান
খুলনায় যুবদল কর্মী মুরাদ খানকে কুপিয়ে হত্যা,শোকের ছায়া

খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটী মিয়া পাড়া এলাকায় শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা যুবদল কর্মী মুরাদ খান (৪৫) কে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করে। নিহত মুরাদ খান উপজেলার হাজীগ্রামের খান মুনসুর আলীর ছেলে। তিনি দিঘলিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মুরাদ খান খুলনা শহর থেকে তার নিজ বাড়ি হাজীগ্রামে ফিরছিলেন। পথে সেনহাটী মিয়া পাড়া মসজিদের কাছে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তার গতিরোধ করে। মুরাদ খান তখন দৌড়ে একটি দোকানে আশ্রয় নিলেও অস্ত্রধারীরা তাকে ধরে এনে সেখানেই এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। মুরাদ খান গুরুতর আহত হলে দুর্বৃত্তরা চলে যায়। এরপর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "মুরাদ খানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি এবং তদন্ত শুরু করেছি। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি তৎপরতা চালানো হচ্ছে।" এই হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। পরিবার এবং স্বজনরা মুরাদ খানের হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করছেন। শেষ কথা: খুলনায় যুবদল কর্মী মুরাদ খানের হত্যাকাণ্ডটি একটি ভয়াবহ ঘটনা, যা এলাকাবাসীকে স্তম্ভিত করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং শীঘ্রই আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0