Brand logo light

পিরোজপুর

পিরোজপুরে জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার ৩
পিরোজপুরের নাজিরপুরে জাল নোটসহ তিনজন গ্রেপ্তার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় জাল টাকার নোটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩ মে) বিকেলে উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের মাটিভাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাঁচটি এক হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মৃত আবু বক্কর খলিফার ছেলে রাসেল খলিফা (৪৫), পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের মো. দুলাল শেখের পুত্র মো. সাইদুল ওরফে রানা (৪৮) এবং মো. মজিবুর খানের ছেলে হাসিব খান (৪৬)। নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
১৩ নম্বর ইন্দুরকানী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
পিরোজপুরের জিয়ানগরে বিদ্যালয়ে এক শিক্ষিকাকে বেত দিয়ে পেটালেন আরেক শিক্ষিকা

পিরোজপুর: পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালীন সময়েই এক শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে অপর এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সদরের ১৩ নম্বর ইন্দুরকানী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর প্রায় ১টার দিকে শিক্ষার্থীদের খেলার জার্সি খুঁজে না পাওয়া নিয়ে সহকারী শিক্ষিকা আসমা আক্তার ও হালিমা সুলতানার মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজিত অবস্থায় আসমা আক্তার বেতের লাঠি দিয়ে হালিমা সুলতানাকে কয়েক দফা আঘাত করেন। ঘটনার সময় অফিস কক্ষে অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কয়েকজন অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষিকা আসমা আক্তারের বিরুদ্ধে এর আগেও সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একবার এক শিক্ষককে জুতা দিয়ে মারার চেষ্টা করেছিলেন এবং প্রায়ই সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা হালিমা সুলতানা এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। অভিযুক্ত আসমা আক্তার বলেন, “কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হালিমা সুলতানা আমাকে মারতে এলে আমি আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আঘাত করি।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেকান্দার আলী খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জিয়ানগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, তিনি বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
কেয়ারটেকারকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ‘মারধর ডিবির’, ঝলসে দেয়া হয় পুরুষাঙ্গ pic
পিরোজপুরে কেয়ারটেকারকে নৃশংস নির্যাতন পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ: ডিবি ওসিসহ ৩ জন ক্লোজড

পিরোজপুর : পিরোজপুরে চুরির অভিযোগে আটক এক অস্থায়ী কেয়ারটেকারকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের দাবি, তাকে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ভুক্তভোগী মো. ইউনুস ফকির (৪০) পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি পুলিশ অফিসার্স মেসে অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক কর্মকর্তার কক্ষ থেকে টাকা চুরির অভিযোগ তুলে ইউনুস ফকিরকে আটক করা হয়। কক্ষের একটি চাবি তার কাছে থাকায় তাকে সন্দেহ করা হয়। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও তাকে হাতকড়া পরিয়ে মারধর করা হয় বলে দাবি পরিবারের। তাদের ভাষ্য, নির্যাতনের অংশ হিসেবে ইউনুসকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয় এবং গরম মোম গলিয়ে শরীরের সংবেদনশীল স্থানে ঢেলে দেওয়া হয়। চিৎকার করলে তার মুখে লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবার আরও জানায়, পরে তাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ‘প্রকৃত অভিযুক্ত শনাক্ত’ ঘটনার কয়েকদিন পর নতুন মোড় আসে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মেসের এক ঝাড়ুদার শাকিল চুরির কথা স্বীকার করেন এবং টাকা ফেরত দেন বলে জানানো হয়েছে। এরপর ইউনুসের পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়। ‘ধামাচাপার চেষ্টা’ অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি গোপন রাখতে ইউনুসকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয় এবং তাকে নিজের আঘাত সম্পর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিতে চাপ দেওয়া হয়। এমনকি খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরও একই ধরনের বক্তব্য দিতে বলা হয়েছিল বলে দাবি তাদের। ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, “আমার ভাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। পুলিশের ভয়ে আমরা কোনো অভিযোগ করতে পারিনি।” পুলিশের প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিবি কর্মকর্তা সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি ছুটিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সহ তিনজনকে ক্লোজড করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রেক্ষাপট ও প্রশ্ন বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি আবারও মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এখন মূল প্রশ্ন—অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার কতটা নিশ্চিত করা যায়, এবং ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাবেন কি না।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
কেয়ারটেকারকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ‘মারধর ডিবির’, ঝলসে দেয়া হয় পুরুষাঙ্গ
পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে কেয়ারটেকারকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে মারধর , ঝলসে দেয়া হয় পুরুষাঙ্গ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরে এক কেয়ারটেকারের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে নীরবতা, প্রশ্ন আর শঙ্কা—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক গভীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একাধিক সদস্য। ভুক্তভোগীর দাবি, একটি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, এমনকি তার পুরুষাঙ্গ ঝলসে দেওয়া হয়েছে। অথচ পরবর্তীতে চুরির ঘটনায় অন্য একজনের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার সূত্রপাত ভুক্তভোগী মো. ইউনুস ফকির (৪০), যিনি দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর পুলিশ লাইন্স এলাকায় কর্মকর্তাদের মেসে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন, জানান—১৩ এপ্রিল দুপুরে হঠাৎ করেই ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম তার কাছে থাকা কক্ষের একটি চাবি ফেরত চান। চাবিটি দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ আনা হয়। ইউনুস অভিযোগ অস্বীকার করলে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। তার ভাষ্যমতে, তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিচতলায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে কয়েকজন ডিবি সদস্য মিলে মারধর শুরু করে। পরে আরও সদস্য এসে নির্যাতনে যোগ দেয়। নির্যাতনের বর্ণনা ইউনুসের অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে শারীরিকভাবে মারধরের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। চিৎকার ঠেকাতে মুখে লাঠি চেপে ধরা হয়। একপর্যায়ে তাকে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে টাকা জোগাড়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরিবার সময় চাইলে আবার তাকে মেসে ফিরিয়ে এনে নির্যাতন চালানো হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি আসে পরে—ডিবি সদস্য কাওসারের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে তার পুরুষাঙ্গে গলিত মোমবাতি ফেলে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে নির্যাতন করে। এই বর্ণনা শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, বরং মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ হিসেবে সামনে আসে। চুরির রহস্য উন্মোচন ঘটনার একপর্যায়ে ইউনুসকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী-এর কাছে নেওয়া হয়। তিনি বিষয়টি শোনার পর মেসের আরেক কর্মী শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকেন। জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল চুরির কথা স্বীকার করলে পুলিশ টাকা উদ্ধার করে। ইউনুসের কাছ থেকে নেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়। চিকিৎসা ও গোপনীয়তার অভিযোগ নির্যাতনের পর ইউনুস চিকিৎসা নিতে চাইলে তাকে প্রথমে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তার প্রকৃত আঘাতের কথা চিকিৎসকদের জানাতে দেওয়া হয়নি। পরে খুলনার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাধ্য করা হয় ভিন্ন গল্প বলতে—যেন তিনি নিজেই নিজের ক্ষতি করেছেন। নীরব প্রশাসন, অজানা ভবিষ্যৎ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম ছুটিতে আছেন বলে জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীর মানসিক অবস্থা ও দাবী এই ঘটনার পর ইউনুস মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পুলিশের ভয়ে তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করতে পারেননি। তার পরিবার জানায়, “কর্মসংস্থান নয়, আমরা চাই সুষ্ঠু বিচার।” প্রশ্নগুলো রয়ে যায় এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে— আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে জবাবদিহিতা কতটা কার্যকর? নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগের পরও কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ রয়েছে? এই ঘটনা শুধু একটি নির্যাতনের গল্প নয়—এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, ন্যায়বিচারের অনিশ্চয়তা এবং ভয়ের সংস্কৃতির একটি প্রতিচ্ছবি। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত আদৌ হয় কি না, নাকি এটি আরেকটি চাপা পড়ে যাওয়া গল্প হয়ে থাকবে। এদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম ছুটিতে আছেন বলে জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।   

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
নেছারাবাদ
নেছারাবাদে নদীর তীরে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় নদীর তীরে গলাকাটা অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠী গ্রামের মামুন মোল্লার ইটভাটার দক্ষিণ পাশে সন্ধ্যা নদী সংলগ্ন এলাকায় মরদেহটি পাওয়া যায়।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের দিকে পূর্ব সারেংকাঠী গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মামুন মোল্লার ইটভাটার দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে নদীর ধারে একটি গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন ইটভাটার শ্রমিকেরা। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশের নেছারাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিচয় শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করা হয়। পুলিশ জানায়, মরদেহটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় স্থানীয় কেউই মৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত কোনো স্থান থেকে ওই ব্যক্তিকে ধরে এনে নির্জন স্থানে হত্যা করে মরদেহটি সেখানে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সার্কেল এসপি সাবিহা মেহেবুবা। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
বলেশ্বর নদী।
বলেশ্বর নদী দখল ও ভরাটে সংকুচিত: অর্ধকিলোমিটার থেকে নেমে এসেছে ‘মাত্র চল্লিশ হাত’

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বলেশ্বর নদী দখল ও ভরাটের কবলে পড়ে নাব্য হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নদীটি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, একসময় প্রায় অর্ধকিলোমিটার চওড়া খরস্রোতা এই নদী এখন কোথাও কোথাও সঙ্কুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র চল্লিশ হাত। খালে পরিণত হচ্ছে নদীর বিস্তীর্ণ অংশ বাগেরহাট জেলার সীমান্তবর্তী অংশে দীর্ঘদিন ধরে কোনো খনন কার্যক্রম না হওয়ায় নদীর বিস্তীর্ণ অংশ কার্যত খালে পরিণত হয়েছে। চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের অশোকনগর, দক্ষিণ চরবানিয়ারী, বাওয়ালী কান্দি গ্রাম এবং পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বানোয়ারী এলাকার দুই পাড়ে জেগে ওঠা চর দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে কৃষিজমি, মৎস্যঘের ও বসতবাড়ি। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মিতভাবে নদীর চরে দখল বসিয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বাড়ছে ভাঙনের ঝুঁকি নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশে জেগে ওঠা বালুচর এখন দখলদারদের নতুন ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। নদীপথে একসময় লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল করলেও বর্তমানে তা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর বুক জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শ্যাওলা ও কচুরিপানা। “অর্ধকিলোমিটার থেকে নেমে এসেছে চল্লিশ হাতে” স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবর মোল্লা বলেন, “এই নদীটা আগে প্রায় অর্ধকিলোমিটার চওড়া ছিল। এখন অনেক জায়গায় মাত্র চল্লিশ হাত হয়ে গেছে। আমার জন্মের পর থেকে কখনো নদী খনন হতে দেখিনি। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে দ্রুত নদী খনন করা দরকার।” তার মতে, নদী খনন হলে কৃষকরা সেচের সুবিধা পাবেন এবং কৃষি উৎপাদনও বাড়বে। আরেক বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, “একসময় বলেশ্বর নদী ছিল আমাদের এলাকার প্রাণ। সারাবছর পানি থাকত, নৌকা-ট্রলার চলত অবাধে। এখন দখল ও ভরাটে নদী সংকুচিত হয়ে গেছে। দ্রুত খনন না হলে নদী মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে।” প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, নদীর চরে যে দখল চলছে তা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক মহলের অনুসারীরা নতুন চর জেগে উঠলেই আগে গিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দখল বসিয়ে দেয়। কমেছে মাছ, বেড়েছে সেচ সংকট প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, একসময় এই নদীতে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। নদী ছিল প্রশস্ত ও স্রোতস্বিনী। কিন্তু বর্তমানে নদীর নাব্য সংকট ও অবৈধ দখলের কারণে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে সেচের পানিরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রকল্প নেই, তবে নজরদারির দাবি কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বলেশ্বর নদী খননের জন্য বর্তমানে কোনো অনুমোদিত প্রকল্প নেই। তবে নদী দখলের অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নদী খনন ও দখল উচ্ছেদের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত দখল উচ্ছেদ ও নিয়মিত খনন কার্যক্রম শুরু না হলে দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এই নদী একসময় মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
মহারাজ-মিরাজ
কাগজে ১২৮ সেতু, বাস্তবে নেই একটিও! মহিউদ্দীন মহারাজ পরিবারের ২৩৬ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

* ১২৮ সেতু নির্মাণের প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের লুটপাট  *  মহারাজ পরিবারের পেটে ১২৮ সেতু   পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দীন মহারাজ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ১২৮টি সেতু নির্মাণ না করেই প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে মহিউদ্দীন মহারাজসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। পরিবারের ছয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ দুদক সূত্রে জানা গেছে, মহিউদ্দীন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলজিইডির অধীনে সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— মেসার্স হরিণপালা ট্রেডার্স (মহিউদ্দীন মহারাজ) ইফতি ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড (মিরাজুল ইসলাম) সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (মিরাজুল ইসলাম) মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজ (শামীমা আক্তার) তেলিখালী কনস্ট্রাকশন (সামসুদ্দিন) মেসার্স ঈশান এন্টারপ্রাইজ (সালাউদ্দিন) অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সেতু নির্মাণ না করেই বিল তুলে নিয়েছে। কাগজে সেতু, বাস্তবে নেই তদন্তে দেখা গেছে, এলজিইডির পিরোজপুর সদর, ভাণ্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া বিল তৈরি করে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একটি উদাহরণ হিসেবে জানা গেছে, পিরোজপুর সদরের কদমতলা ইউনিয়নের পোরগোলা মাধ্যমিক স্কুল থেকে বাঘমারা আবাসন সড়কের খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। সেতুর দৈর্ঘ্য: ৯৬ মিটার প্রাক্কলিত ব্যয়: ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা চুক্তি মূল্য: ৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা কিন্তু বাস্তবে সেখানে কোনো সেতুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ভাণ্ডারিয়ায় ১২৫টি কাগুজে সেতু দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ১২৫টি সেতু কেবল কাগজে নির্মিত হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২৬৯ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। তদন্তে আরও দেখা গেছে— এলজিইডি অফিসে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই কাজের পরিমাপ বইয়ে কোনো তথ্য নেই প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি আইবিআরপি প্রকল্প সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পুরোনো লোহার সেতুগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য Iron Bridge Rehabilitation Project (IBRP) নামে একটি প্রকল্প নেয়। প্রকল্প শুরু: ২০১৮ সাল মোট সেতু: ২,০৪৯টি প্রাথমিক ব্যয়: ১,৮৩৫ কোটি টাকা পরে ব্যয় বৃদ্ধি: ২,৩৩৪ কোটি টাকা প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং পুরোনো লোহার সেতুর পরিবর্তে আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা। রাজনীতিতে মহিউদ্দীন মহারাজ মহিউদ্দীন মহারাজের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রদলের মাধ্যমে। পরে তিনি জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে পিরোজপুরের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। তার রাজনৈতিক যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো— ১৯৯৬: আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত সহকারী ২০১৬: স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ২০২৪: পিরোজপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত মামলা ও গ্রেপ্তার দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এলজিইডির প্রকল্পে জাল কাগজপত্র তৈরি করে প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মহিউদ্দীন মহারাজসহ পাঁচজন ঠিকাদার এবং এলজিইডি ও হিসাবরক্ষণ অফিসের ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে— ৫ জন গ্রেপ্তার ১৮ জন পলাতক আত্মগোপনে মহারাজ পরিবার আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই মহিউদ্দীন মহারাজ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে এলজিইডির পিরোজপুর কার্যালয় থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0