ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির এক নেতা, যুবলীগের এক কর্মীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত শহরের বনানী, সবুজবাগ, কলেজ রোড এলাকা এবং বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন (৫৫), গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের মো. কবির হোসেন (৪০) এবং পটুয়াখালী পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকার মোহাম্মদ রাসেল তালুকদার (৩৪)। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাসেল তালুকদার যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে ‘হানি ট্র্যাপ’ পদ্ধতিতে ফাঁদ তৈরি করে অন্তত এক ঔষধ ব্যবসায়ী ও এক চাকরিজীবীর কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শহিদুল নামে এক ব্যক্তিকে কৌশলে ডেকে এনে নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বনানী এলাকায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে পুলিশের অভিযানে বাকি দুজনও গ্রেপ্তার হন। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “অভিযান চালিয়ে হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।” তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের তথ্য মিলেছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ হওয়া চার স্কুলছাত্রীকে গাজীপুর থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব ও পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর বুধবার সন্ধ্যায় গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গার্মেন্টসে চাকরি করার উদ্দেশ্যে তারা বাড়ি ছেড়েছিল। পারিবারিক অভিমান ও আবেগের বশে তারা সঙ্গে প্রায় ৮০ হাজার টাকা নিয়ে গাজীপুরে চলে যায়। পুলিশ জানায়, মৌচাক এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিল চার শিক্ষার্থী। পরে তারা একটি কম্পিউটার দোকানে গিয়ে চাকরির জন্য সিভি তৈরির সহযোগিতা চায়। সেখান থেকে তাদের ব্যবহৃত ফোন নম্বরের সূত্র পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে চারজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের মৌচাক পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত রোববার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তারা। এরপর থেকে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো— সানজিদা আক্তার (১২), ইসমত জেরিন (১২), সানজিদা আক্তার রায়সা (১৩) ও আয়শা আক্তার (১৫)। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলেও পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চার শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধারের খবরে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারগুলোর মধ্যে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি অফিসে ঘুস নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, কোনো অফিসে টাকা/ঘুস দেবেন না। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী টাকা/ঘুস চাইলে তার জায়গা এখানে হবে না। শুক্রবার (৮ মে) বেলা ১১টায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপজেলার নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল ও আলিম মাদ্রাসা এবং কলেজের প্রধানরা অংশ নেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিসি সম্মেলনে আমি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ওসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলেছি, শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর। মন্ত্রী-এমপিরাও কোনো না কোনো শিক্ষকের ছাত্র। তাই শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার বিষয়ে প্রশাসনকে আরও সচেতন হতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রীর অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, ছুটির আবেদন কিংবা বেতন উত্তোলনের মতো সাধারণ কাজেও অনেক সময় কেরানিদের টাকা দিতে হয়। এখন থেকে কোনো অফিসে টাকা দেবেন না। কেউ টাকা চাইলে অভিযোগ করবেন। যে কর্মকর্তা ঘুস চাইবে, তার জায়গা এখানে হবে না। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- গলাচিপা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফোরকান কবির, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাফর রানা, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান এবং জেলা যুব অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মহিবুল্লাহ এনিম।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :বাউফল উপজেলায় মাত্র দুটি শৌচাগার নির্মাণে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্পকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রকল্প-সংক্রান্ত নথির ভিত্তিতে অভিযোগ উঠেছে, একটি মসজিদ সংলগ্ন এই দুইটি টয়লেট নির্মাণে অস্বাভাবিকভাবে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সূত্র অনুযায়ী, সূর্যমনি ইউনিয়নের রামানগর গ্রামের ‘ইদু হাওলাদার বাড়ির মসজিদ’ সংলগ্ন এই শৌচাগার নির্মাণ প্রকল্পের বরাদ্দ দেখানো হয়েছে ১,৯৯,৯৯,৯৯৯.৯৩ টাকা—অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি টাকা। জনমনে প্রশ্ন ও সমালোচনার ঝড় স্থানীয় বাসিন্দা ও নেটিজেনদের প্রশ্ন—একটি গ্রামীণ এলাকার দুটি টয়লেট নির্মাণে কীভাবে এত বিপুল অর্থ ব্যয় হতে পারে? অনেকে এটিকে “অস্বাভাবিক ব্যয়” ও “অস্বচ্ছ প্রকল্প” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও দেখা গেছে—“এই টয়লেট কি সোনা দিয়ে বাঁধানো হবে?”—যা বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক বর্তমান প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্পটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের দাবি, সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতার অভাব ও অনিয়মের ইঙ্গিত রয়েছে। তাদের অভিযোগ, এমন ব্যয়বহুল বরাদ্দ উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রশ্ন তুলছে এবং দুর্নীতির অভিযোগকে আরও জোরালো করছে। কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া অনুপস্থিত প্রকল্পের ব্যয়ের যৌক্তিকতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকৃত অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা জরুরি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর গলাচিপা মহিলা কলেজ কেন্দ্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিলে প্রায় এক ঘণ্টা মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ২টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ইসলামের ইতিহাসসহ চারটি বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩০৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। কেন্দ্রটিতে সাতটি কক্ষে পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে পরীক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েন। পরে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মোমবাতির আলোয় প্রায় এক ঘণ্টা পরীক্ষা চলতে থাকে। গলাচিপা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরিদর্শক ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সজল দাস বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় কিছু সময় পরীক্ষার্থীরা মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।” অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গলাচিপা উপজেলার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই তা স্বাভাবিক করা হয়। গত দুই দিন ধরে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির কারণে গলাচিপাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন ও শিক্ষাব্যবস্থা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় শিক্ষা ক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তাঁর ব্যবস্থাপনায় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী সরাসরি জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে আয়োজিত এই শিক্ষামূলক সফরে শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঘুরে দেখানো হয়। এ সময় এমপি নিজে তাদের সঙ্গে থেকে ভবনের স্থাপত্যশৈলী, অধিবেশন কক্ষ এবং সংসদের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। সফরজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উৎসাহ, কৌতূহল ও আনন্দঘন পরিবেশ। অনেকের কাছেই এটি হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। পরিদর্শন শেষে ড. মাসুদ বলেন, দিনটি তাঁর জন্য অত্যন্ত আনন্দের। তিনি বাউফলবাসীর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই আসন কোনো ব্যক্তির নয়—পুরো এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে। শিক্ষার্থীদের সংসদ ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই অংশ। তিনি আরও বলেন, “আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাদের মধ্য থেকেই গড়ে উঠবে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব।” শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি তিনটি মূল বার্তা তুলে ধরেন—মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা, দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে আত্মউন্নয়ন, এবং দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করা। তাঁর মতে, দেশে নেতৃত্বের অভাব নেই, তবে নৈতিকতার ঘাটতি রয়েছে; তাই নৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা জরুরি। এছাড়া তিনি মাদকমুক্ত, জ্ঞানভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সংসদ পরিদর্শন তাদের সেই লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রেরণা যোগাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংসদ ভ্রমণ শেষে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়ায় ছিল উচ্ছ্বাস। কেউ এটিকে জীবনের বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছে, আবার কেউ বলেছে—এটি তাদের জন্য স্বপ্নপূরণের মতো। অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরাও উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এ ধরনের শিক্ষামূলক ভ্রমণ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলবে, যা ভবিষ্যতে একটি সচেতন ও উন্নত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর বিভিন্ন দিক থেকে চাপের মুখে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি। সম্প্রতি তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দিয়ে নিজ এলাকা পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ‘Kafi’ নামের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে কাফি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার জেরে তাকে দুই বছর ধরে ভাড়া থাকা বাসা ছাড়ার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি তার পেশাগত জীবনেও চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ভিডিও বার্তায় কাফি জানান, একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার এক বছরের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর চুক্তি ছিল, যা হঠাৎ বাতিল করা হয়েছে। তার ভাষায়, “রাজনীতিতে আসার পর অল্প সময়েই বড় দুটি ত্যাগ স্বীকার করতে হলো।” তিনি আরও দাবি করেন, নিজের বাসার ছাদে একটি সাক্ষাৎকার দেওয়াকে কেন্দ্র করে অন্য বাসিন্দাদের আপত্তি তৈরি হয়, যা তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ফল। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বাসার মালিকপক্ষ। কাফির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ট্রাভেল এজেন্সি ট্রাভেল নেক্সট বিডি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, আর্থিক চ্যালেঞ্জের কারণে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এতে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা ব্যক্তিগত কারণ জড়িত নয়। অন্যদিকে বাসার মালিক তৃষা আক্তার জানান, তাকে সরাসরি বাসা ছাড়ার কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাট মালিকরা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সম্ভাব্য ভিড় ও যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, ভবনটিতে ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়ার নিয়ম নেই, যদিও ব্যতিক্রম হিসেবে কাফিকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। নতুন পরিস্থিতিতে অন্যান্য বাসিন্দাদের উদ্বেগ থেকেই বিষয়টি উঠে এসেছে। সব চাপের মধ্যেও নিজের অবস্থান থেকে সরে না আসার কথা জানিয়েছেন কাফি। তিনি এটিকে জীবনের একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে ইতিবাচক কিছু ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন তিনি।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস.এম. দেলোয়ার হোসেন।তিনি পটুয়াখালীতে যোগদানের পুর্বে ভোলা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভোলায় থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি তহবিল অপব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পটুয়াখালীতে যোগদান করে আবারো শুরু করেছেন ভোলার কর্মরত থাকাকালীন সময়ের মত ঘুষ,অনিয়ম ও দুর্নীতি। রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ও প্রভাবের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে তোফায়েল আহমেদ-এর পালকপুত্র বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, এই সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সূত্র অভিযোগ করেছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যার মধ্যে ব্যক্তিবিশেষের জন্য অবৈধ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দেলোয়ার হোসেন তোফায়েল আহমেদের পালকপুত্র বিপ্লবকে নারী ও মদ সরবরাহের মূল দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন। সরকারি পদে থেকে এমন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। বিশেষ করে বিপ্লবের বিভিন্ন নৈশ আসরে নারী সরবরাহ ও মদের ব্যবস্থা করা ছিল তার নিয়মিত দায়িত্ব। ত্রাণ তহবিল অপব্যবহারের দাবি স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, দুর্যোগ ও ত্রাণ খাতের অর্থ বরাদ্দ থেকে নিয়মিত কমিশন নেওয়া হতো এবং সেই অর্থ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ত্রাণের জিআর (Gratuitous Relief) বরাদ্দের প্রতি টন থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ কেটে নেওয়া হতো।দেলোয়ার হোসেন দুর্যোগ ও ত্রাণ খাতের অর্থ অপব্যবহার করে তা ব্যয় করতেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতার পেছনে। অভিযোগ রয়েছে, ভোলা জেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতিকে আন্দোলন দমনে সহযোগিতার বিনিময়ে কয়েক দফায় দিয়েছেন কয়েক লক্ষ টাকা। এই অর্থ তিনি জিআর ফাইলের প্রতিটি টনের বরাদ্দ থেকে ১০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে পেতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন গত বছরের আগস্টের পর তার বদলি ভোলা থেকে পটুয়াখালীতে হওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, এই বদলির পেছনে আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে ছাত্র-সমন্বয়কের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভোলা থেকে পটুয়াখালী বদলি হন। স্থানীয় সূত্র দাবি করছে, এই বদলির পেছনে আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি প্রভাবশালী মহলের চাপও কাজ করেছে। সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি তার আত্মীয়দের সঙ্গে মিলে পরিবহন ব্যবসা গড়ে তুলেছেন এবং বরিশাল ও নিজের এলাকায় বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার বেশি হতে পারে। সরকারি চাকরির আড়ালে তিনি নিজের ভায়রা ভাইকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন পরিবহন ব্যবসা। জমি, বাড়ি, যানবাহনসহ নগদ টাকা ও সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। প্রতিক্রিয়া জানতে ব্যর্থতা এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে তার নিজস্ব ও সরকারি নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। গলাচিপায় ঘুষ কেলেঙ্কারি : ঘুষ দাবির অভিযোগ পুরোনো এস এম দেলোয়ার পটুয়াখালীর গলাচিপায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ২০২০ সালের জুন মাসে এক ঠিকাদারের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের পর আলোচনায় আসেন। সুত্র জানায়, পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি কালভার্ট নির্মাণের চূড়ান্ত বিলের জন্য ঠিকাদারের কাছে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম দেলোয়ারের বিরুদ্ধে। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ২১ জুন'২০২০ তারিখ পিআইও এস এম দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে চার লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সাইফুল ইসলাম ঠিকাদারি কাজের পাশাপাশি ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন রাস্তায় প্রায় ৩১ লাখ টাকায় ৩৬ ফুট দীর্ঘ একটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ পান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার সময়সীমা দিয়ে ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেন পিআইও এস এম দেলোয়ার হোসেন। প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন করে ঠিকাদার ৮ জুন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চূড়ান্ত বিলের জন্য আবেদন করেন। ওই দিনই পিআইও দেলোয়ার হোসেন ঠিকাদার সাইফুলের বাবা আব্দুস সালামকে ডেকে নিয়ে বিলের জন্য চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।এই ঘুষের ঘটনা জানাজানি হলে বেকায়দায় পরেন এস এম দেলোয়ার। উপায় না দেখে তখন বিনা ঘুষে ঐ ঠিকাদারের বিল দিয়ে দেন। তদন্তের প্রয়োজনীয়তা জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকদের মত। তবে এখনই নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্পষ্ট হতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গলাচিপার অন্ধকার রাত।এক নারীর নীরবতা, এক পরিবারের গোপন অপরাধ, আর একটি নবজাতকের হারিয়ে যাওয়া—যে গল্প এখনো শেষ হয়নি।পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আটখালী গ্রাম। চারদিকে শান্ত পরিবেশ, নদীর বাতাস, আর সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু এই নীরবতার ভেতরেই দীর্ঘ এক বছর ধরে জমছিল এমন এক ঘটনা, যা এখন পুরো এলাকাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ওমান প্রবাসীর স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ঘটনা কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর গলাচিপায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শ্বশুর, শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সন্তান জন্ম দেওয়া নারী। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শ্বশুরসহ দুজনকে আটক করেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে খেই হারিয়ে ফেলার দাবি করেছেন থানার ওসি। মামলায় ওই নারী অভিযোগ করেন, তিনি গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী এলাকার ওমান প্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী। স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত থেকে তাকে প্রায়ই ধর্ষণ করতেন শ্বশুর মো. রুস্তুম গাজী (৬০)। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে শ্বশুর, শাশুড়ি হাওয়া বেগম এবং ননদ খালেদা বেগম ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।এমনকি একবার গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর ওই নারী গত ২৬ মার্চ গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন। পরদিন নবজাতককে তার অজান্তে ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ অজ্ঞাতনামারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রায় এক মাস পর তিনি গলাচিপা থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে ওই নারীর শ্বশুর রুস্তম গাজী ও নবজাতক বিক্রিতে সহায়তা করার অভিযোগে বেসরকারি ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান নবজাতক উদ্ধার ও দুজন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী এলাকার ওমান প্রবাসীর স্ত্রী তার শ্বশুর মো. রুস্তম গাজীর (৬০) বাড়িতে বসবাস করতেন। তার স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাতে ধর্ষণ করেন। পরে বিভিন্ন সময় তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি অভিযুক্তরা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি গর্ভপাত করানোরও চেষ্টাও করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার কথা বলে গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়, সেখানে সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। পরদিন নবজাতককে ভুক্তভোগীর অজান্তে ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ অজ্ঞাতনামারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার এক মাস পর গত রবিবার গলাচিপা থানায় অভিযোগ করার পর ওই নারীর শ্বশুর এবং লিপি বেগমকে আটক করে পুলিশ। পরদিন করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। নিরাপত্তার জায়গাতেই শুরু ভয় তিনি একজন প্রবাসীর স্ত্রী। স্বামী ওমানে থাকেন, আর সেই সুযোগে শ্বশুরবাড়িই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু অভিযোগ বলছে—সেই আশ্রয়ই হয়ে ওঠে তার জন্য ভয়ংকর এক ফাঁদ। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত। অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিনই প্রথম তাকে ধর্ষণ করেন তার শ্বশুর, মো. রুস্তুম গাজী। একবার নয়—এরপর বারবার। নিয়মিত নির্যাতন চলতে থাকে, আর প্রতিবারই বাড়তে থাকে তার অসহায়ত্ব। তিনি চুপ ছিলেন। কারণ? ভয়, লজ্জা, আর সমাজের চাপ—যা অনেক সময় অপরাধের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। গর্ভধারণ: গোপন সত্যের প্রকাশ সময় গড়ায়। একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন—তিনি অন্তঃসত্ত্বা। এখানেই ঘটনা মোড় নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি জানার পর শ্বশুরের পাশাপাশি শাশুড়ি ও ননদ মিলে চেষ্টা করেন ঘটনাটি চাপা দিতে। গর্ভপাত করানোর চেষ্টাও করা হয়—কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। এটি শুধু একটি অপরাধ ঢাকার চেষ্টা নয়—এটি একটি সংগঠিত নীরবতা, যেখানে সত্যকে মুছে ফেলাই ছিল মূল লক্ষ্য। ক্লিনিকের ভেতরে আরেক রহস্য ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ তাকে গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। কারণ দেখানো হয় চিকিৎসা। সেখানে সিজারের মাধ্যমে জন্ম হয় একটি ছেলেসন্তানের। একটি নতুন জীবনের শুরু—কিন্তু সেটিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরদিনই নবজাতকটি নিখোঁজ। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে— একটি নবজাতক কীভাবে একটি ক্লিনিক থেকে “অজান্তে” হারিয়ে যায়? এক মাস পরে বিস্ফোরণ ঘটনার প্রায় এক মাস পর থানায় মামলা করেন ওই নারী। এই দেরি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। পুলিশও বলছে—ঘটনার অনেক দিক এখনো অস্পষ্ট। এই এক মাসে কী ঘটেছিল? • তাকে কি চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল? • নাকি ভয় এতটাই গভীর ছিল যে মুখ খুলতে পারেননি? পুলিশের অভিযান অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালায়। আটক করা হয়— • প্রধান অভিযুক্ত শ্বশুর মো. রুস্তুম গাজী • ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগম পুলিশ জানিয়েছে, নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান, এবং আরও জড়িতদের খোঁজা হচ্ছে। গলাচিপা থানার ওসি স্বীকার করেছেন— তদন্তে এখনো কিছু জায়গায় “খেই হারিয়ে যাচ্ছে” এই বক্তব্যই ইঙ্গিত দেয়—ঘটনাটি যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক জটিল হতে পারে। ‘মামলার এজাহার অনুযায়ী ধর্ষণের দায়ে প্রধান অভিযুক্ত ও বাচ্চা অপহরণে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বাচ্চাও উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে।’ এক বছরের বেশি সময় ধরে ধর্ষণ এবং নবজাতককে অপহরণের অভিযোগ কেন এক মাস পরে থানায় জানানো হলো, সে ব্যাপারে মামলাকারী নারীর কাছ থেকে পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ওসি জানান, পুলিশও বেশ কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতায় রয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের পর সব কিছু পরিষ্কার হওয়া যাবে।
বরিশাল অফিস : বাংলাদেশের বরিশাল নগরীতে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি একটি সম্পর্কজনিত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে নগরীর বগুড়া রোড এলাকায়, অক্সফোর্ড মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাসা থেকে সানজিদা কবির অনিতা (১৯) নামে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত অনিতা কলাপাড়া উপজেলা, পটুয়াখালী-এর বাসিন্দা। তিনি একটি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযুক্ত হিসেবে যাঁর নাম উঠে এসেছে, সেই মইনুল ইসলাম হিমু (৩০) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তাঁর বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। পুলিশ জানায়, তিনি আগে একটি ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করতেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ ছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনিতা ও হিমুর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হিমু অনিতাকে বাসায় ডেকে এনে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান। অভিযুক্তের মা ফাতেমা বেগম জানিয়েছেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি অসুস্থতার কারণে বাসার বাইরে ছিলেন। দুপুরে ফিরে এসে দরজা তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে ঘরে প্রবেশ করে বিছানার ওপর অনিতার নিথর দেহ দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা গেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।” এ ঘটনায় হিমুর মা ফাতেমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আব্দুল কাইয়ুম আরজু : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মদ্যপানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি হামলায় এক জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। ধুলাসার ইউনিয়নের চর ধুলাসার গ্রামের ওই ঘটনায় অভিযুক্ত আব্বাস গাজীসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী জেলে মিজান হাওলাদারের পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে স্থানীয় সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ১৪ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে মদ্যপানে বাঁধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। আব্বাস গাজীর নেতৃত্বে ছিদ্দিক ও জাবেদ গাজীসহ ২০-৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা মিজান হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় তার বাবা শাহ আলম হাওলাদারকেও বেধড়ক মারধর করা হয় এবং হাত ভেঙে দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে মেশকাত, লিমন ও বসারও রয়েছেন। গুরুতর আহত মিজান বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেন, হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অভিযুক্ত আব্বাস গাজী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "মিজানসহ অনেকেই আমার ছেলেকে মারধর করেছে। আমার ছেলের হাতের কবজি ভেঙে গেছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি, আমি কাউকে মারধর করিনি।" মিজানের বাবা শাহ আলম হাওলাদার কলাপাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই-এর তদন্তাধীন রয়েছে।
তুষার কান্তি হালদার,কলাপাড়া : অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত-এ সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোর থেকে পুণ্যস্নানে অংশ নিয়েছেন হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী। অক্ষয় পুণ্য লাভের আশায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্তরা এখানে সমবেত হন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোর ৫টা থেকে শুরু হয় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। এতে আহ্বানী ও সমবেত প্রার্থনা, মঙ্গলঘাট স্থাপন, শ্রী বিষ্ণু পূজা এবং গঙ্গা মায়ের পূজা শেষে সমুদ্রস্নানের আয়োজন করা হয়। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৈকতে ভক্তদের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। এই আয়োজনের নেতৃত্ব দেয় আন্তর্জাতিক হরিভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার নিহার রঞ্জন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রী জয়দেব ঠাকুর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন হরপ্রিয়া দেবী এবং ঋত্বিক মহারাজ ডা. রাধাস্বামীসহ অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা। হিন্দু ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, অক্ষয় তৃতীয়া একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তিথি। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে ভগবান বিষ্ণু-এর অবতার পরশুরাম জন্মগ্রহণ করেন। এছাড়া এই দিনেই মহাভারত রচনার সূচনা হয় এবং রাজা ভগীরথ গঙ্গাকে মর্ত্যে নিয়ে আসেন—এমন ধর্মীয় বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। সৈকতে দেখা যায়, অনেক ভক্ত স্নান শেষে পরিবার-পরিজন নিয়ে ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করছেন। কেউ কেউ প্রার্থনা ও পূজায় নিমগ্ন সময় কাটাচ্ছেন। ধর্মীয় আবহে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সমুদ্রসৈকত এলাকা। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ভক্ত গৌর গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, এই দিনে গঙ্গাস্নান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয় এবং জীবনের দুঃখ-কষ্ট দূর হয়—এমন বিশ্বাস রয়েছে ভক্তদের মধ্যে। অন্যদিকে, আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগত ভক্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও অক্ষয় তৃতীয়াকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
আব্দুল কাইয়ুম আরজু ,কুয়াকাটা: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পৈত্রিক বসতবাড়ির জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল ও ঘর নির্মাণের প্রতিবাদ করলে খুন জখম নানা রকম ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। পরিবার ও নিজের নিরাপত্তায় আইনী সহায়তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বরগুনা জেলার তালতলী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন। ১৮ এপ্রিল (শনিবার) বেলা ১১ টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন বলেন, এস এ ১০০০ নং খতিয়ান ভুক্ত যাহা, বিএস-৪২৪৯ নং খতিয়ানের ৫০৫৯ নং দাগের ০.৭৭ একর বিএস ২০৬২ নং দাগের ১.৫১ একর এবং বিএস ৫০৬৩ নং দাগে ০৩১ একর, মোট ২.২৮ একর ভূমি বন্দোবস্থমূলে সরকারের নিকট হইতে বিগত ৭১৯৭১ ইং তারিখের ১৭৭ নং কবুলিয়ত মূলে প্রাপ্ত জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে ৫০ বছরেরও অধিক সময়ে ভোগদখল করে আসছে। তাদের বসতবাড়ি কুয়াকাটা তুলাতলী হাসপাতাল সংলগ্ন হওয়ায় জমির গুরুত্ব বেড়ে যায়। তাই তাদের ওই জমির উপর স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমি খেকো চক্রের লোলুপ দৃষ্টি পরে। ওই চক্রটি ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশে ১৯৭১ সালে বন্দোবস্ত প্রাপ্ত জমি ২০০০ সালে পুনরায় বন্দোবস্ত দেয় ভূমি অফিস। যা সম্পুর্ন বেআইনি ভাবেকরা হয়েছে তথ্য গোপন করে। এ নিয়ে আমি এবং আমার পরিবার বাদী হয়ে কলাপাড়া সিনিয়র সহকারী বিজ্ঞ জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। যার দেওয়ানী মোকদ্দমা নং- ৪৫৫/২১। গত ১০/০৩/২০২৬ তারিখে ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালত বিরোধীয় জমির উপর স্থিতিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও গত ৩১ জুলাই তুলাতলী গ্রামের মজিবর মোল্লা, জয়নাল শেখ, শাহ আলম, মোঃ জলিল, আলাম সহ একদল লোক নিয়ে রাতের আধারে দখল করে বিরোধীয় জমিতে ঘর নির্মাণ করে। যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আরো বলেন, তিনি চাকুরির কারনে কর্মস্থল তালতলীতে ছিলেন। পরে বাড়িতে এসে গত ১৫ মার্চ ২০২৬ মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মহিপুর থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে এর সত্যতা পেলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল ও ঘর নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে কোন আইনী পদক্ষেপ না নিয়ে উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনার জন্য আগামী ২২ এপ্রিল সময় নির্ধারণ করে। জালাল উদ্দীন বলেন, তিনি সরকারি চাকুরির কারনে কর্মস্থলে থাকেন। এই সূযোগে প্রভাবশালী ওই চক্রটি আমার পরিবারকে দেখে নেয়া সহ প্রান নাশের হুমকি দিয়ে আসছে। তারা প্রশাসনের তোয়াক্কা করছেন না। তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা সব সময় আতংকের মধ্যে থাকেন। প্রভাবশালী ওই চক্রটি যে কোন সময় তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের যে কোন ক্ষতি সাধন করতে পারে। তাই তিনি আইনী সহায়তার প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শামিম হাওলাদার বলেন, তিনি গতকাল মহিপুর থানায় যোগদান করেছেন। এবিষয়ে তার কিছুই জানা নেই। খোজখবর নিয়ে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তিনি।
তুষার কান্তি হালদার,কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক ভিক্ষুকের কাছে কম দামে ওষুধ বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি ফার্মেসি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘প্রগতি মেডিকেল হল’ নামের একটি ফার্মেসিকে শুক্রবার সকাল থেকে বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়। সংশ্লিষ্ট সমিতি—কলাপাড়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশন—এমন নির্দেশনা দিয়েছে বলে দাবি দোকানটির পরিচালকের। প্রগতি মেডিকেল হলের পরিচালক সুদীপ্ত জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে এক অসহায় ভিক্ষুক তার দোকানে একটি ভিটামিন সিরাপ কিনতে আসেন। ওষুধটির নির্ধারিত মূল্য ৩৫০ টাকা হলেও ওই ব্যক্তির কাছে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় মানবিক কারণে তিনি সেটি ১০০ টাকায় বিক্রি করেন। তার অভিযোগ, এই ঘটনার পর সমিতির নেতারা ক্ষিপ্ত হয়ে এক দিনের জন্য দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। নির্দেশ অমান্য করলে বড় অঙ্কের জরিমানার হুমকিও দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলাপাড়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল দুলাল। তিনি বলেন, “দোকান বন্ধ করতে সমিতি কোনো নির্দেশ দেয়নি। ভেজাল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে প্রগতি মেডিকেল হল নিজ দায় স্বীকার করে এক দিনের জন্য দোকান বন্ধ রেখেছে।” তিনি আরও বলেন, “যদি কাউকে সাহায্য করতে হয়, তাহলে পুরোপুরি বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া উচিত। আংশিক অর্থ নেওয়া ঠিক নয়।” এদিকে, ফাতেমা মেডিকেল হলের মালিক মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, এর আগেও কম দামে ওষুধ বিক্রির কারণে তার কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তার ভাষ্য, “ওষুধের গায়ে লেখা এমআরপির চেয়ে কম দামে বিক্রির সুযোগ চেয়ে আমরা বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু সমিতি কোনোভাবেই এতে রাজি হয়নি।” আরও কয়েকজন ফার্মেসি মালিক অভিযোগ করেছেন, সমিতির মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সমিতির নির্দেশনা অমান্য করলেই বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, মানবিক কারণে সহায়তা করলে যদি শাস্তি পেতে হয়, তবে ভবিষ্যতে কেউ এমন উদ্যোগ নিতে নিরুৎসাহিত হবে। এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, “কোনো সমিতি বা সংগঠনের প্রতিষ্ঠান সিলগালা বা জরিমানা করার ক্ষমতা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কুয়াকাটা: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা—সমুদ্র, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত আর পর্যটনের জন্য পরিচিত এই উপকূলীয় জনপদ—এখন রঙিন হয়ে উঠেছে সাংগ্রাই উৎসবের জলকেলিতে। রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘সাংগ্রাই রিলং পোয়ে’ ঘিরে এখানে তৈরি হয়েছে আনন্দ, ঐতিহ্য ও বহুসাংস্কৃতিক মিলনের এক বিশেষ আবহ। তবে শুধু উৎসবের উচ্ছ্বাসেই সীমাবদ্ধ নয় এই আয়োজন। এর ভেতরে রয়েছে সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ, পর্যটন অর্থনীতি, এবং পরিচয়ের পরিবর্তনশীল বাস্তবতার গল্পও। উৎসবের সূচনা: ঐতিহ্য ও আনুষ্ঠানিকতার মেলবন্ধন বৃহস্পতিবার থেকে কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেট মাঠে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী সাংগ্রাই উৎসব। ফিতা কেটে এবং প্রতীকীভাবে পানি ছিটিয়ে উদ্বোধন করেন মহিপুর থানার ওসি মোহাব্বত খান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসীন সাদেক বলেন, “কুয়াকাটায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ ধরনের সামাজিক উৎসবই আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার প্রধান মাধ্যম।” তার মতে, সাংগ্রাই এখন আর শুধু রাখাইনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি পরিণত হয়েছে বহু জাতিগোষ্ঠীর মিলনমেলায়। জলকেলির ভেতরের প্রতীকী অর্থ সাংগ্রাই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু ‘জলকেলি’। তরুণ-তরুণীরা একে অপরের দিকে পানি ছিটিয়ে পুরোনো বছরের দুঃখ-কষ্ট, গ্লানি ও অশুভ শক্তিকে প্রতীকীভাবে বিদায় জানান। রাখাইন সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পানি পবিত্র—এটি জীবনের নেতিবাচকতা ধুয়ে নতুন আশার পথ তৈরি করে। দিনভর ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় রাখা পানি দিয়ে একে অপরকে ভেজানো, গান-বাজনার তালে অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে উৎসবটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক। স্থানীয় বাসিন্দা সীমা রাখাইন বলেন, “এই দিনে আমরা সব দুঃখ ভুলে গিয়ে একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করি। জলকেলির মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানাই।” সাংস্কৃতিক উৎসব থেকে সামাজিক প্ল্যাটফর্ম সাংগ্রাই শুধুই একটি ধর্মীয় বা ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান নয়—এটি সামাজিক যোগাযোগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। স্থানীয়দের মতে, এই উৎসব তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে এটি সম্প্রদায়ভিত্তিক সংহতি জোরদার করে। উৎসব চলাকালে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ এটিকে একটি বৃহত্তর সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত করেছে। পর্যটন ও বাণিজ্যিকীকরণের প্রশ্ন তবে এই উৎসবের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নতুন প্রশ্নও তুলছে। কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হওয়ায় সাংগ্রাই এখন পর্যটকদের জন্য একটি বড় আকর্ষণ। এতে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন চাঙা হচ্ছে, তেমনি কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, ঐতিহ্যের বাণিজ্যিকীকরণের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় আয়োজক এ মং তালুকদার বলেন, “আমরা চাই নতুন প্রজন্ম আমাদের কৃষ্টি জানুক। তবে একই সঙ্গে এই আয়োজন যেন তার মৌলিকতা হারায় না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।” সম্প্রীতির প্রতীক, নাকি পরিবর্তনের সূচনা? সাংগ্রাই উৎসব এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এটি রাখাইন সম্প্রদায়ের সীমানা ছাড়িয়ে বৃহত্তর বাংলাদেশি পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠছে। উপজেলা প্রশাসনের মতে, এটি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার একটি বাস্তব উদাহরণ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উৎসবের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো— * ঐতিহ্যের মৌলিকতা ধরে রাখা * পর্যটনের চাপ সামাল দেওয়া * স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করা স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতে সাংগ্রাই আরও বড় পরিসরে উদযাপিত হবে। তবে সেই সঙ্গে বাড়ছে দায়িত্বও—ঐতিহ্যকে শুধু প্রদর্শনের উপকরণ নয়, জীবন্ত সংস্কৃতি হিসেবে টিকিয়ে রাখার। কুয়াকাটার সাংগ্রাই তাই একদিকে যেমন আনন্দের জলকেলি, অন্যদিকে তেমনি এটি একটি সমাজ-সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি—যেখানে উৎসব, পরিচয় ও অর্থনীতির মধ্যে তৈরি হচ্ছে নতুন এক সমীকরণ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের সি অ্যান্ড বি বাজার সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার প্রকল্পকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং প্রক্রিয়াগত লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা—এভাবে কাজ চলতে থাকলে আগামী এক থেকে দুইটি বর্ষা মৌসুম পার হওয়ার আগেই সড়কটি আবার চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে। প্রকল্পের বিবরণ ও বাস্তব চিত্রের অমিল “মরিচবুনিয়া ইউপিসি হতে সিএন্ডবি বাজার (শাকরিয়া ব্রিজ) পর্যন্ত এবং বাজারঘোনা আশ্রয়ণ প্রকল্প সড়ক হয়ে পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণ কাজ (পটুয়াখালী সদর)” শীর্ষক প্রকল্পটি জিওবিএম/২০২৫-২০২৬ প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১,৬৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩ লাখ ২ হাজার ৩ টাকা, আর চুক্তিমূল্য ৫৯ লাখ ৮৬ হাজার ৯০২ টাকা ৮৫ পয়সা। কাজটি করছে মেসার্স এসটিএম কন্সট্রাকশন। চুক্তি অনুযায়ী ১২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ৭ এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি ও মান—দুইই প্রশ্নবিদ্ধ। সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি ডিজাইন, ড্রয়িং ও এস্টিমেট উপেক্ষা করে কাজ চলছে। নিম্নমানের উপকরণ ও কারিগরি ত্রুটি অভিযোগ রয়েছে— * নতুন ইটের সঙ্গে পুরাতন, ভাঙা ও পচা ইট মিশিয়ে খোয়া তৈরি করা হচ্ছে * পুরাতন রাস্তার স্তর অপসারণ না করেই তার ওপর নতুন খোয়া ফেলা হচ্ছে * সাবগ্রেডে যথাযথ কম্পাকশন করা হয়নি * নির্ধারিত ৩০০ মিমি বক্স কাটিংয়ের পরিবর্তে মাত্র ১৫০ মিমি কাজ হয়েছে * এস্টিমেট অনুযায়ী বালু ভরাট করা হয়নি এছাড়া, রাস্তার পুরুত্ব অনেক স্থানে আধা ইঞ্চি থেকে এক ইঞ্চির মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা প্রকৌশল মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অধিকাংশ স্থানে এজ ভেঙে গেছে এবং কোথাও রোড সোল্ডার দৃশ্যমান নয়। কার্পেটিংয়ের প্রস্তুতি—নিয়ম ভঙ্গের শঙ্কা বর্তমানে কার্পেটিংয়ের জন্য পিচ ঢালাই মেশিন, পাথরের গুঁড়া ও শ্রমিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে ভিত্তি স্তরের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও কার্পেটিংয়ের এই তৎপরতা প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কোনোভাবে অনুমোদন পেলেই ঢালাই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণন শিকদার বলেন, “পুরাতন ইট আর নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা বানিয়ে তার ওপর ঢালাই দিলে দুই বছরও টিকবে না।” পথচারী সুবাহান ফকিরের ভাষ্য, “সারা রাস্তায় মিশ্র ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে কাজ করলে প্রতি বছরই রাস্তা ভাঙবে, কিন্তু কখনো ভালো হবে না।” কর্তৃপক্ষের বক্তব্য—ত্রুটি স্বীকার, তবে কাজ বন্ধ নয় প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও কার্য-সহকারীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। যদিও ঠিকাদার মিজানুর রহমান দাবি করেছেন, “কিছু স্থানে পুরাতন উপকরণ ব্যবহার টেকসইতার জন্যই করা হয়েছে এবং স্থানীয় অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।” অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী স্বীকার করেছেন, কাজের মান “শতভাগ হয়নি” এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, এখনো কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি এবং কাজ নিয়মমাফিক না হলে অনুমোদনও দেওয়া হবে না। পুরনো দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি? স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্মিত এই সড়কটি দুর্নীতির কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে আবারও একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে—যা প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। জনস্বার্থে জরুরি পদক্ষেপের দাবি সচেতন মহল দ্রুত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় এই প্রকল্প শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, বরং জনদুর্ভোগের নতুন অধ্যায় তৈরি করবে—এমন আশঙ্কা এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। এই সড়কটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি স্থানীয় মানুষের চলাচল, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে অবহেলা বা অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। এখন দেখার বিষয়—অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, নাকি এই সড়কও দুর্নীতির আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
আব্দুল কাইয়ুম, ইত্তেহাদ নিউজ,কুয়াকাটা : মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাবে চলছে দেশে জ্বালানি সংকট। এতে সমুদ্রগামী জেলেদের জীবনসংগ্রামে পড়েছে বড় ধাক্কা। মা’ ইলিশসহ মাছের সুষ্ঠু প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের আরোপিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায়— নতুন করে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও হতাশা। এবার সংকট ও ঘাটতি একসাথে দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পটুয়াখালীর মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুর ও কুয়াকাটার উপকূলীয় জেলেরা। বঙ্গোপসাগরে প্রতি বছরে ন্যায়ে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠু প্রজনন নিশ্চিত করতে— ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সরকারের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাগরে কোনো ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন বা সংরক্ষণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সামুদ্রিক মৎস্য আইন, ২০২০ এবং সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী জেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে জরিমানা, জেল-জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। জীবন জীবিকার বর্ণনা করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন কুয়াকাটা উপকূলের জেলে মাসুদ মাঝি। তিনি জানান, দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে তিনি জেলে পেশায় রয়েছেন। তবে এই পেশা থেকে অদ্যবদি নিজস্ব ভিটেমাটিটুকুও করতে পারেননি। অন্যদিকে ঋণের বোজা যেন জীবন দূর্বিষহ করে তুলেছে। এখন চাইলেও পেশা পরিবর্তন করতে পারছেনা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “পোলাপান নিয়া কোনোমতে সংসার চলে। এহন তেল যা পাই এ দিয়া চরম বেকায়দায় আছি; এদিকে আবার মাছ ধরা ৫৮ দিন বন্ধ! বিগত দিনের ঘাটতি যেন মোগো পিছু ছাড়ছে না।” মহিপুরের জেলে রফিক মাঝি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে ডিজেল সংকটে সাগরে যেতে পারেনি। এখন নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে পরিবার চালাবেন কীভাবে বুঝতে পারছেন না। আলীপুরের জেলে ফারুক মাঝি বলেন, ‘সরকার মোগো যে প্রণোদনা দেয়, হ্যইয়া দিয়া সংসার চলে না। আসল জাইল্লাগো জন্য চাউলের সাহায্য বাড়ানো দরকার।’ মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদের লোকসান বাড়ছে। আলীপুর বিএফডিসি মার্কেটের মনি ফিস’র মালিক আঃ জলিল ঘরামি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময়টা বাড়তি চাপ তৈরি করে, জেলের সংসার চালাতে আড়ৎ থেকে টাকা দিতে হয়। তাদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ না থাকায় আড়ৎদার ও জেলে সবাই দুশ্চিন্তায় থাকে।’ নিষেধাজ্ঞাকালে কলাপাড়া উপজেলায় নিবন্ধিত ১৮ হাজার ৩’শ জেলেকে জনপ্রতি ৭৭ দশমিক ৩ কেজি করে চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মৎস্য বিভাগ। তবে এই সহায়তা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন জেলে সংগঠনের নেতারা। কলাপাড়া উপজেলা ফিশিং ট্রলার মাঝি সমবায় সমিতির সভাপতি আঃ মান্নান মাঝি বলেন, প্রনোদনা ঠিক সময় জেলেদের হাতে পৌঁছানো এবং পরিমাণ বৃদ্ধি করা খুবই জরুরী। পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, প্রকৃত জেলেদের সহায়তা নিশ্চিত করতে তালিকা যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের আবেদন অনুযায়ী প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে কার্যকরে সাগরে নজরদারি জোরদার থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর বাউফলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ফ্যাসিস্ট দোসররা বহাল তবিয়তে থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নীতিমালায় রয়েছে ডিলার পরপর দুই মাস নির্ধারিত তারিখের মধ্যে উপযুক্ত কারণ ব্যতিত খাদ্যশস্য উত্তোলন করতে ব্যর্থ হলে ডিলারশিপ বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু বাউফলে ৫/৬ মাস ডিলার খাদ্যশস্য উত্তোলনে ব্যর্থ হলেও এ নীতিমালার তোয়াক্কা করেন না অসাধু খাদ্য কর্মকর্তা নুরুল্লাহ। সরেজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাউফলে দুইটি খাদ্য গুদাম রয়েছে- একটি বগা খাদ্য গুদাম অপরটি কালাইয়া খাদ্য গুদাম। বগা খাদ্য গুদামে ২০২৬ সনে আমন চাল সংগ্রহ করা হয় মেসার্স সোনাই অটো রাইস মিল কালিশুরী, প্রোপ্রাইটর স্বপন চৌধুরীর মাধ্যমে। সেখান থেকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যোগসাজশে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করা হয় এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়াও বাউফল উপজেলায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি উপকারভোগীদের মাঝে চাল সরবরাহ করা হয় ফ্যাসিস্ট আমলের খাদ্য বান্ধব সহায়তা কার্ডে। যার শ্লোগান ছিল ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ম করেন উপকারভোগীদের কাছ থেকে শেখ হাসিনার শ্লোগান সম্বলিত পুরাতন কার্ড তুলে এনে বিনামূল্যে নতুন কার্ড সরবরাহ করা হবে। কিন্তু উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ বাউফলের ২০/২২ হাজার কার্ড পরিবর্তনের নাম করে প্রতিটি কার্ড থেকে ২০০-৩০০ টাকা হাতিয়ে নেন। তাতে কোটি টাকার উপরে বাণিজ্য হয়। নামপ্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, এই দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বগা-কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকে নিম্নমানের চাল বাউফল উপজেলা ডিলারগণের কাছে সরবরাহ করা হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর খাদ্য কর্মকর্তার যোগসাজসে অর্থের বিনিময়ে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট দোসরদের দিয়ে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। যাদের লাইসেন্স নবানয়ন নাই তাদের মাধ্যমে চাল বিতরণে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আভাস মিলছে। সরেজমিনে ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট দোসররা পালিয়েছে। যার কারণে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের স্থলে অন্যলোকের মাধ্যমে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল বিতরণ করে আসছে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর ফ্যাসিস্ট দোসররা এলাকায় ফিরে এসে বাউফলে খাদ্য অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ ঘুষখোরদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে স্বপদে বহালের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। বাউফলে ১৩ জন ফ্যাসিস্ট দোসর একতাবদ্ধভাবে খাদ্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। তারা হল- বাউফল ইউনিয়নে বিনা ও শাহজাহান, নাজিরপুর ইউনিয়নে সেলিম, মদনপুরা ইউনিয়নের মোতাহার, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন মৃধা, ১৪ নং নওমালা ইউনিয়নের কৃষক লীগ সভাপতি মোঃ চান মিয়া মৃধা, ১ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ ওয়াহেদ খান, ২ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সহসভাপতি নুর ইসলাম গাজী। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের গ্রামীণ হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত একটি বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যার আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ভোক্তাদের অধিকার (ন্যায্য মূল্যে ও পুষ্টিকর খাদ্য পাওয়া) রক্ষা করা। অভিযোগের বিষয়ে বাউফল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা রিপোর্ট করেন।
পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর বাউফলে তরমুজবোঝাই ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চাঁদাবাজির মামলায় মো. অলিউল্লাহ (৪৩) ওরফে অলি নামের এক উপখাদ্য পরিদর্শককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (রাত ১০টা) বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত অলিউল্লাহ মির্জাগঞ্জ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপখাদ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। তিনি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কয়েকজন কৃষক দীর্ঘদিন ধরে বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করে আসছিলেন। চলতি মৌসুমে তারা চর দিয়ারাকচুয়া এলাকায় তরমুজ চাষ করেন। তবে ফসল ফলানোর পর থেকেই ওই জমির মালিকানা দাবি করে অলিউল্লাহ কৃষকদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতে থাকেন। গত ১৬ মার্চ বেলা ১১টার দিকে প্রায় ৯ হাজার তরমুজ কেটে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে তুলে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কৃষকরা। এ সময় অলিউল্লাহর নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। কৃষকরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের কাছ থেকে তরমুজবোঝাই দুটি ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ট্রলার ফেরত দেওয়া হলেও অন্যটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক আরব আলী বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অলিউল্লাহকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, ‘অলিউল্লাহর অত্যাচারে তরমুজ চাষিরা অতিষ্ঠ ছিলেন। তাকে গ্রেফতার করায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন জেলা পটুয়াখালী-এর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ফিরে এসেছে চাঞ্চল্য। বিশেষ করে দেশের একমাত্র সমুদ্রসৈকত, যেখানে একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়—কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত—এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। পর্যটকদের ঢল ও আবাসন সংকট ঈদের আগের সপ্তাহ থেকেই কুয়াকাটামুখী পর্যটকদের চাপ বাড়তে শুরু করে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন থেকে পরবর্তী ৪–৫ দিন পর্যন্ত প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এখানে ভিড় করছেন। কুয়াকাটার প্রায় সব আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউস শতভাগ বুকড হয়ে গেছে। অনেক পর্যটককে বিকল্প হিসেবে অস্থায়ী আবাসন বা আশেপাশের এলাকায় থাকতে হচ্ছে। হোটেল মালিক সমিতির নেতারা জানান, এবারের ঈদে পর্যটকের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ তৈরি হয়েছে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ কুয়াকাটার অন্যান্য কেন্দ্র যেমন— লেবুর চর গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন ফাতরার বন এসব স্থানেও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। লেবুর চরে সাগরের মাঝে নৌকা ভ্রমণ, গঙ্গামতিতে বনভ্রমণ এবং ফাতরার বনে বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পর্যটকদের আগমনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতি। সৈকতসংলগ্ন খাবারের দোকান, সী-ফুড রেস্টুরেন্ট, ভ্যানচালক, মোটরসাইকেল চালক, ফটোগ্রাফার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “ঈদের এই সময়টুকুই আমাদের সারা বছরের বড় আয়ের সুযোগ। পর্যটক বেশি হলে আমাদের আয়ও বাড়ে।” নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা। কুয়াকাটা সৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশদের সমন্বয়ে কাজ চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা টানানো হয়েছে এবং মাইকিং করে সতর্কতা জারি রাখা হচ্ছে। এছাড়া যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়েছে। ঈদের ছুটিতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পর্যটকদের অভিজ্ঞতা রাজধানী ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক জানান, “পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় এসে খুব ভালো লাগছে। ভিড় একটু বেশি হলেও পরিবেশটা দারুণ উপভোগ করছি।” আরেক পর্যটক বলেন, “সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত একসঙ্গে দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ।” চ্যালেঞ্জও রয়েছে তবে পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। আবাসন সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া, যানজট এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক পর্যটক সৈকতে ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ করছেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সম্ভাবনার দিক সবমিলিয়ে ঈদের ছুটিতে পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা অঞ্চলের পর্যটন খাতে নতুন করে গতি সঞ্চার হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চল আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং পর্যটকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। বাড়বে পর্যটকদের সংখ্যা পর্যটকদের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। বরগুনা থেকে আসা সায়মা-শাকিল দম্পত্তি বলেছেন, পরিবারের সঙ্গে কুয়াকাটায় চলে এসেছি। বৃষ্টির মধ্যে সমুদ্রে সাঁতার কেটেছি। তখন সমুদ্রে ছোট ছোট ঢেউ ছিলো। দারুণ এক অনুভূতি হয়েছে। কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। বেশ ভালোই লেগেছে।” বরিশাল থেকে আসা হোসেন সিকদার বলেন, “আমরা বন্ধুরা মিলে কুয়াকাটায় এসেছি। বৃষ্টির কারণে কিছুটা মন খারাপ ছিল। তবে, বন্ধুরা মিলে বৃষ্টির মধ্যেই সমুদ্রে সাঁতার কেটেছি। আমরা আজ যে আনন্দ পেয়েছি, তা কোনোদিনই ভুলব না।” কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেছেন, “বৃষ্টির কারণে সকালে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও বিকেল থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। সৈকত-সংলগ্ন অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। আগামীকাল থেকে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়বে এবং আমরা শতভাগ সিট বকিংয়ের আশা করছি।” ট্যুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেছেন, “সকালে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও দুপুর থেকে পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পটে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা মাঠে তৎপর আছেন।”
পটুয়াখালীতে ১১০ দিনেই পুরো পবিত্র কুরআন মুখস্থ করে সবার দৃষ্টি কেড়েছে ১২ বছর বয়সী শিশু দ্বীন ইসলাম। সে সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার জামিয়া রহিমীয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী। অল্প সময়ে কুরআন হিফজের এই বিরল কৃতিত্বে আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসী। দ্বীন ইসলাম অত্যন্ত মেধাবী, মনোযোগী ও পরিশ্রমী একজন ছাত্র। মাত্র ১১০ দিনের মধ্যেই সে পুরো কুরআন হিফজ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্য শিশুরা যখন খেলাধুলা করত, তখন সে কুরআন শরীফ নিয়ে পড়াশোনায় মন দিত। অনেক সময় সে একদিনে ১০ পৃষ্ঠা এমনকি এক পারা পর্যন্ত সবক দিয়েছে। দ্বীন ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান। তার বাবার নাম ইয়াকুব শিকদার। স্থানীয়রা জানান, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প ছিল ইয়াকুব শিকদারের। সেই স্বপ্নেরই উজ্জ্বল প্রতিফলন দেখা গেছে দ্বীন ইসলামের এই অর্জনে। অল্প বয়সেই তার এই সাফল্য এখন এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।