ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের পথে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে। দলীয় হাইকমান্ডের টেবিলে ইতোমধ্যেই একটি খসড়া তালিকা পৌঁছেছে, তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন আগামী ৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে, আর ভোটগ্রহণ নির্ধারিত হয়েছে ১২ মে। সংসদে আসনসংখ্যার অনুপাতে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি সংরক্ষিত আসন। মনোনয়ন নিয়ে কৌশল ও অনিশ্চয়তা দলের ভেতরে এখনো একটি বড় প্রশ্ন—এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া কতটা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হবে। কারণ সরাসরি নির্বাচিত ৩০০ আসনের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে সংরক্ষিত আসনের জন্য নতুন করে সাক্ষাৎকার আয়োজন করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্র বলছে, তফসিল ঘোষণার পর আগ্রহী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হতে পারে। এরপরই প্রকাশ পাবে বহুল প্রতীক্ষিত চূড়ান্ত তালিকা। আলোচনায় শীর্ষ নামগুলো মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন দলটির মহিলা শাখা ও কেন্দ্রীয় রাজনীতির পরিচিত কয়েকজন মুখ। তাদের মধ্যে রয়েছেন আফরোজা আব্বাস, নিলোফার চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আক্তার এবং রেহানা আক্তার রানু। এছাড়া সাম্প্রতিক নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত কয়েকজন নেত্রীও সক্রিয় লবিং করছেন—ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি ও নাদিরা চৌধুরী তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। পরিবার ও পরিচয়ের প্রভাব রাজনীতির পুরোনো পরিবারগুলোর উত্তরাধিকারও এই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রয়াত নেতাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ, ব্যারিস্টার সালিমা বেগম অরুনি, মাহারীন খান, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, ফারহানা চৌধুরী বেবী, সাবরিনা খান ও খাদিজাতুল কোবরা সুমাইয়ার নাম ঘুরছে জোরালোভাবে। মাঠের রাজনীতি বনাম “হাইব্রিড” বিতর্ক দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ চাইছেন, দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা ত্যাগী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। ঢাকা মহানগরের এক নেত্রী আরিফা সুলতানা রুমার ভাষায়—দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে যারা ছিলেন, তারাই যেন মূল্যায়িত হন। অন্যদিকে “হাইব্রিড” বা হঠাৎ উঠে আসা নতুন মুখদের নিয়ে রয়েছে অসন্তোষ। অনেকেই মনে করছেন, এতে প্রকৃত ত্যাগীদের মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বহুমাত্রিক বিবেচনা মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় শুধু রাজনৈতিক অবদান নয়, আরও কিছু বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে: শিক্ষাগত যোগ্যতা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সক্ষমতা সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মনে করছেন, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া নারীদেরও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। শেষ মুহূর্তের চমক? দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত—বর্তমান আলোচিত তালিকার বাইরেও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে কয়েকজন নতুন মুখ যুক্ত হতে পারেন। ফলে শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের চমক থাকতেই পারে। সব মিলিয়ে, বিএনপির এই ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন শুধু একটি মনোনয়ন তালিকা নয়—এটি হয়ে উঠেছে ত্যাগ বনাম প্রভাব, অভিজ্ঞতা বনাম নতুনত্ব এবং রাজনীতি বনাম পরিচয়ের এক জটিল সমীকরণ। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কারা পান কাঙ্ক্ষিত সেই টিকিট।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু। সম্ভাব্য সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে অনেক নেত্রীই সংসদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ দৌড়ে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপির সক্রিয় নেত্রী মমতাজ বেগম নয়ন। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে তিনি মনোনয়ন পেতে পারেন—এমন গুঞ্জন এখন দক্ষিণাঞ্চলসহ ঝালকাঠি জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। মমতাজ বেগম নয়ন ঝালকাঠি -১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।তিনি ছাত্রদলের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা,জনতা ব্যাংক জাতীয়তাবাদী অফিসার্স কল্যান সমিতির সাবেক সহ সভাপতি,জাতীয়তাবাদী পেশাজীবি পরিষদের সাবেক নির্বাহী সদস্য,জাসাস জনতা ব্যাংকের সাবেক মহিলা সম্পাদিকা ছিলেন।সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও সমাজ সেবায় দেশ ও বিদেশে বিশেষ অবদান রেখেছেন তিনি।স্বর্নপদক প্রাপ্ত মমতাজ বেগম নয়ন সংরক্ষিত আসনে সংসদে যেতে পারলে দেশের উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখবেন বলে জানান বিএনপির নেতা -কর্মীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সক্রিয় এ নেত্রী ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার বাসিন্দা।মমতাজ বেগম নয়ন দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির পাশাপাশি ব্যাংকিং পেশায় জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বিগত ফ্যাসিসরট সরকারের সময়ে আন্দোলন -সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন। তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে দক্ষিনাঞ্চলবাসীর কাছে বেশ পরিচিত নাম মমতাজ বেগম নয়ন। স্থানীয়রা জানান, তিনি দীর্ঘ বছর যাবৎ পদ্মায় মাওয়া সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলন,মানবাধিকার,বরিশাল বিভাগ বাস্তবায়ন,বরিশাল বিমানবন্দর বাস্তবায়ন,বরিশাল শিক্ষা বোর্ড,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন আন্দোলন করেছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হন ছাত্রবস্থায়।দল যখন যে দ্বায়িত্ব দিযেছেন তা সফলতার সাথে পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। রাজনৈতিক অবস্থান : ১. সাবেক ছাত্রদল নেত্রী। (মহিলা সম্পাদিকা)। ২. সাবেক সহ সভাপতি। জনতা ব্যাংক জাতীয়তাবাদী অফিসার্স কল্যাণ সমিতি, ঢাকা। ৩. সাবেক নিবাহী সদস্য। জাতীয়তাবাদী পেশাজীবি পরিষদ ঢাকা। ৪. সাবেক সমাজ কল্যাণ সম্পাদিকা। জিয়া পরিষদ জনতা ব্যাংক শাখা, ঢাকা। ৫. সাবেক মহিলা সম্পাদিকা। জাসাস জনতা ব্যাংক প্রতিষ্ঠানিক ইউনিট। * বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা। সামাজিক অবস্থান : ১. পদ্মা মাওয়া সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলনের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য। ২. ঢাকাস্থ বরিশাল বিভাগ সমিতির সহ সভাপতি। ৩. শেরেবাংলা গবেষনা পরিষদের উপদেষ্টা। বরিশাল বিভাগীয় প্রদান। ৪. সাবেক ২নং শুক্তাগড় ইউনিয়ন পরিষদের উপদেষ্টা। রাজাপুর, ঝালকাঠি। ৫. ঝালকাঠি জেলা যুব পরিষদের মহিলা সম্পাদিকা ৬. ঢাকাস্থ বরিশাল বিভাগীয় যুব সমিতির নির্বাহী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ৭. সিনিয়র সহ সভাপতি। মানবাধিকান নির্যাতন সোসাইটি (এম এন সিএ) ৮. মহিলা সম্পাদক। বরিশাল বিভাগ অফিসার্স এসোসিয়েশন (বিবিওএ) ৯. বরিশাল বিভাগ বাস্তবায়ন কমিটির সক্রিয় কার্যকরি সদস্য। ১০. বরিশাল বিমান বন্দর বাস্তবায়ন কমিটির সক্রিয় সদস্য। ১১. বরিশাল শিক্ষা বোর্ড স্থাপনে সক্রিয় ভূমিকা। ১২. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সক্রিয় ভূমিকা। ১৩. দূর্যোগকালীন সময়ে ত্রান বিতরন এ সক্রিয় অংশ গ্রহন। প্রাপ্ত পুরস্কার : ১. আন্তজাতিক মাতৃভাষা স্বর্ণপদক। ঢাকা প্রেস ক্লাব। ২. মাদার তেরেসা গোল্ড মেডেল-২০০৯ মাদার তেরেসা রিসার্চ কাউন্সিল, ঢাকা। ৩. মহানগরী গোল্ডমেডেল-২০১২ ৪. অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক-২০১২ অতীশ দীপঙ্কর গবেষণা পরিষদ, ঢাকা। ৫. মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড-২০১৩ মহাত্মা গান্ধী পরিষদ, ঢাকা। ৬. বিশ্ব পরিবেশ সম্মাননা-২০১৩ ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ল্ড, কলকাতা, ভারত। ৭. মাদার তেরেসা এ্যাওয়ার্ড-২০১৪ শেরে বাংলা একে ফজলুল হক গবেষনা পরিষদ। ৮. হিউম্যান রাইটস শাইনিং পার্সোনালিটি এ্যাওয়ার্ড-২০১৯ বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষন সংস্থা। ৯. মহাত্মা গান্ধী কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড-২০১৯ ও বেঙ্গল এ্যাডুকেশন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। কলকাতা, ভারত। ১০. মাদার তেরেশা শাইনিং পার্সোনালিটি এ্যাওয়ার্ড-২০২২ বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষন সংস্থা। ১১. আন্তর্জাতিক জলঙ্গী বাংলা কবিতা উৎসব-২০২২ জলঙ্গী সাংস্কৃতিক মঞ্চ কলকাতা, ভারত। ১২. জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব শান্তি দিবস উপলক্ষে ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড-২০২৩ বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষন সংস্থা। ১৩. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ স্মৃতি পদক-২০২৩ বিশ্ব বিনা কবিতা ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ। ১৪. নেপাল ইন্টারন্যাশনাল এক্সসেলেন্স এ্যাওয়ার্ড-২০২৪ ১৫. নেপাল-বাংলাদেশ ফেন্ডশীপ এসোসিয়েশন (এনবিএফএ)। এছাড়া সমাজ সেবায় দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক অসংখ্য স্বর্ণ পদকে ভূষিত হোন তিনি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) হতে নারী আসনে ২০০৫ সালে সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রার্থী এবং ঝালকাঠি-১ আসনে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল হতে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। বিগত দিনে আন্দোলন- সংগ্রামের সক্রিয় ভূমিকা এবং জুলাই/ ২৪ আন্দোলনে অংশ গ্রহন করেন। মমতাজ বেগম নযন সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তিনি অবসর গ্রহণের পর এখন পুরোপুরি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে পৌঁছে দিতে দিনরাত কাজ করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মামলা-হামলা, হয়রানি ও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বহুবার। আর্থিকভাবে হয়েছেন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। এর ফলে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার রাজনৈতিক, সামাজিক দায়িত্ব পালন, গ্রহণযোগ্যতা ও সামাজিক অবদানের কারণে দলমত নির্বিশেষে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত। তার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তাকে সংরক্ষিত আসনে নারী সংসদ সদস্য পদে দেখতে চান বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে দেখতে চান দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ।তাদের আশা, তিনি সংসদে যেতে পারলে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন এবং নারী সমাজের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী মমতাজ বেগম নয়ন জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী আসন ১৯০, ঢাকা -১৭ এর গুলশান থানার প্রচার উপ-কমিটি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এসময় তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দলীয় ৩১ দফার বার্তা পৌঁছে দেন। জনগণের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। এসময় স্থানীয়দের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বেড়েছে। তার দাবি, তাকে মনোনীত করা হলে ঝালকাঠির উন্নয়ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবেন তিনি। মমতাজ বেগম নয়ন একজন মানবিক সমাজ সেবক।তিনি সংসদে যেতে পারলে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ সর্বশ্রেনীর মানুষের। একটি সমৃদ্ধশালী, আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠন এবং নারী সমাজের উন্নয়নে নিজেকে সারা জীবন সম্পৃক্ত রাখাই তার জীবনের মহান ব্রত বলে জানান মমতাজ বেগম।
বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংরক্ষিত নারী সংসদীয় আসনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে এক পরিচিত নাম—ফাতেমা রহমান। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ তাকে এই আসনে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে জেলা রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত তার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি, সংগঠন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকে তিনি নিজেকে একজন নিবেদিতপ্রাণ ও সাহসী নারী নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বরিশালের রাজনীতিতে নারী জাগরণের এক দৃঢ় প্রতীক হিসেবে পরিচিত ফাতেমা রহমান। শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বেগম খালেদা জিয়া-র আদর্শকে ধারণ করে ছাত্রজীবন থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলি প্রকাশ করেন তিনি। ১৯৮৫ সালে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তার শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হয়। তার রাজনৈতিক পথচলা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০০১ সালে, আবুল হোসেনের অনুপ্রেরণায়। সে সময় তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংগঠনে তার দক্ষতা, কর্মঠতা ও নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৩ সালে বরিশাল জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে জেলা মহিলা দলের সেক্রেটারি এবং ২০২১ সালে বরিশাল জেলা মহিলাদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে সংগঠনকে তৃণমূল থেকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তার হাত ধরে বহু নারী রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন—এমনটাই জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক হামলা ও মামলার সম্মুখীন হয়েছেন। প্রতিকূলতা, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার চাপ সত্ত্বেও তিনি রাজপথ ছাড়েননি। বরং প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করে সংগঠনের প্রতি তার অটুট আনুগত্য প্রমাণ করেছেন। নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ফাতেমা রহমান হিংসা বা প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, আদর্শভিত্তিক ও সাংগঠনিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। দল ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত নারী সংসদীয় আসনে তার নাম আলোচনায় আসায় তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সংগ্রামী মানসিকতা তাকে এই আসনের একজন যোগ্য দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছে। সব মিলিয়ে, বরিশালের রাজনীতিতে ফাতেমা রহমান আজ শুধু একটি নাম নয়—তিনি নারী নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, সাহস ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক, এবং অনেকের কাছে আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির নারী নেত্রী লায়ন আলিজা শারমিন মুন্নী জাতীয় সংসদের নারী সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাহসিকতার কারণে তিনি এ মনোনয়নের যোগ্য দাবিদার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন শারমিন মুন্নী। সময়ের পরিক্রমায় তিনি দলের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার, কারাভোগ এবং নির্যাতনের শিকার হলেও দলীয় আদর্শ থেকে একচুলও বিচ্যুত হননি বলে জানান সহকর্মীরা। একজন নারী নেত্রী হিসেবে রিমান্ডে নেওয়ার মতো কঠিন অভিজ্ঞতাও তাঁকে দমাতে পারেনি। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁর দৃঢ় অবস্থান ও নেতৃত্বগুণ তৃণমূল পর্যায়ে তাকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে বলে মনে করেন স্থানীয় নেতারা। তাঁদের ভাষ্য, “দুঃসময়ে দলের পাশে ছিলেন মুন্নী আপা, তাই সুসময়ে দলও তাঁর মূল্যায়ন করবে।” রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন লায়ন আলিজা শারমিন মুন্নী। বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং স্বাবলম্বী করে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং তৃণমূল উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। নারী সংরক্ষিত আসনে তাঁর মনোনয়ন দলকে যেমন শক্তিশালী করবে, তেমনি নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণও আরও বেগবান হবে বলে মত দেন অনেকে। এ বিষয়ে লায়ন আলিজা শারমিন মুন্নী বলেন, “দলের জন্য সবসময় কাজ করেছি। তৃণমূলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করাই আমার লক্ষ্য। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে, তাহলে আমি সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।” এখন দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন মঠবাড়িয়ার রাজনৈতিক সচেতন মহল।
ইত্তেহাদ নিউজ,বরগুনা : সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন বরগুনা জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী,বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক সফল মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফরুল হাসান ফরহাদের বড় মেয়ে এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল টিটুর সহধর্মিণী মোসাঃ শারমিন সুলতানা আসমা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দেলনে সক্রিয় ভুমিকা,রাজপথের নেত্রী এবং নারী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন শারমিন সুলতানা আসমা। অসুস্থ্যতা নিয়েও বরগুনার রাজপথে ছিলেন তিনি । শারমিন সুলতানা আসমা বরগুনা সদর উপজেলার বাসিন্দা। শুরু থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রী উপজেলা, থানা ও জেলা পর্যায়ে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। অসুস্থতা নিয়েও তিনি বরগুনার রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। শারমিন সুলতানা আসমা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সুযোগ পেলে নারীর অধিকার, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিয়ে কাজ করতে চাই। স্থানীয় মহিলা দলের নেত্রীরা জানান, “তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলকে সময় দিয়েছেন এবং তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর। আমরা মনে করি তিনি যোগ্য প্রার্থী।” তারা বলেন, “শুধু রাজনীতিবিদ নন, তিনি দক্ষ সংগঠকও। নারী উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির আদর্শে অবিচল রয়েছেন তিনি। সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে গেলে দল আরও শক্তিশালী হবে। নারী অধিকার ও সামাজিক সচেতনতায় তাঁর ভূমিকা সবসময় অগ্রগণ্য।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।