ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ৫ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত কিশোর স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার (৩ মে) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে শনিবার (২ মে) রাত ১১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে পাগলা থানা পুলিশ তাকে আটক করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে শিশুটিকে টেলিভিশন দেখানোর কথা বলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় অভিযুক্ত কিশোর। পরে সেখানে শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২৭ এপ্রিল তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন চিকিৎসার পর ২৯ এপ্রিল তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর গত ৩০ এপ্রিল মধ্যরাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পাগলা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মামলার পর অভিযুক্ত কিশোর চট্টগ্রামে আত্মগোপনে গিয়েছিল। তবে পুলিশের তৎপরতায় সে আবার এলাকায় ফিরে এলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গলাচিপার অন্ধকার রাত।এক নারীর নীরবতা, এক পরিবারের গোপন অপরাধ, আর একটি নবজাতকের হারিয়ে যাওয়া—যে গল্প এখনো শেষ হয়নি।পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আটখালী গ্রাম। চারদিকে শান্ত পরিবেশ, নদীর বাতাস, আর সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু এই নীরবতার ভেতরেই দীর্ঘ এক বছর ধরে জমছিল এমন এক ঘটনা, যা এখন পুরো এলাকাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ওমান প্রবাসীর স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ঘটনা কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর গলাচিপায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শ্বশুর, শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সন্তান জন্ম দেওয়া নারী। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শ্বশুরসহ দুজনকে আটক করেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে খেই হারিয়ে ফেলার দাবি করেছেন থানার ওসি। মামলায় ওই নারী অভিযোগ করেন, তিনি গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী এলাকার ওমান প্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী। স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত থেকে তাকে প্রায়ই ধর্ষণ করতেন শ্বশুর মো. রুস্তুম গাজী (৬০)। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে শ্বশুর, শাশুড়ি হাওয়া বেগম এবং ননদ খালেদা বেগম ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।এমনকি একবার গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর ওই নারী গত ২৬ মার্চ গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন। পরদিন নবজাতককে তার অজান্তে ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ অজ্ঞাতনামারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রায় এক মাস পর তিনি গলাচিপা থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে ওই নারীর শ্বশুর রুস্তম গাজী ও নবজাতক বিক্রিতে সহায়তা করার অভিযোগে বেসরকারি ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান নবজাতক উদ্ধার ও দুজন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী এলাকার ওমান প্রবাসীর স্ত্রী তার শ্বশুর মো. রুস্তম গাজীর (৬০) বাড়িতে বসবাস করতেন। তার স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাতে ধর্ষণ করেন। পরে বিভিন্ন সময় তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি অভিযুক্তরা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি গর্ভপাত করানোরও চেষ্টাও করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার কথা বলে গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়, সেখানে সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। পরদিন নবজাতককে ভুক্তভোগীর অজান্তে ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ অজ্ঞাতনামারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার এক মাস পর গত রবিবার গলাচিপা থানায় অভিযোগ করার পর ওই নারীর শ্বশুর এবং লিপি বেগমকে আটক করে পুলিশ। পরদিন করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। নিরাপত্তার জায়গাতেই শুরু ভয় তিনি একজন প্রবাসীর স্ত্রী। স্বামী ওমানে থাকেন, আর সেই সুযোগে শ্বশুরবাড়িই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু অভিযোগ বলছে—সেই আশ্রয়ই হয়ে ওঠে তার জন্য ভয়ংকর এক ফাঁদ। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত। অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিনই প্রথম তাকে ধর্ষণ করেন তার শ্বশুর, মো. রুস্তুম গাজী। একবার নয়—এরপর বারবার। নিয়মিত নির্যাতন চলতে থাকে, আর প্রতিবারই বাড়তে থাকে তার অসহায়ত্ব। তিনি চুপ ছিলেন। কারণ? ভয়, লজ্জা, আর সমাজের চাপ—যা অনেক সময় অপরাধের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। গর্ভধারণ: গোপন সত্যের প্রকাশ সময় গড়ায়। একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন—তিনি অন্তঃসত্ত্বা। এখানেই ঘটনা মোড় নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি জানার পর শ্বশুরের পাশাপাশি শাশুড়ি ও ননদ মিলে চেষ্টা করেন ঘটনাটি চাপা দিতে। গর্ভপাত করানোর চেষ্টাও করা হয়—কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। এটি শুধু একটি অপরাধ ঢাকার চেষ্টা নয়—এটি একটি সংগঠিত নীরবতা, যেখানে সত্যকে মুছে ফেলাই ছিল মূল লক্ষ্য। ক্লিনিকের ভেতরে আরেক রহস্য ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ তাকে গলাচিপা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। কারণ দেখানো হয় চিকিৎসা। সেখানে সিজারের মাধ্যমে জন্ম হয় একটি ছেলেসন্তানের। একটি নতুন জীবনের শুরু—কিন্তু সেটিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরদিনই নবজাতকটি নিখোঁজ। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগমসহ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে— একটি নবজাতক কীভাবে একটি ক্লিনিক থেকে “অজান্তে” হারিয়ে যায়? এক মাস পরে বিস্ফোরণ ঘটনার প্রায় এক মাস পর থানায় মামলা করেন ওই নারী। এই দেরি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। পুলিশও বলছে—ঘটনার অনেক দিক এখনো অস্পষ্ট। এই এক মাসে কী ঘটেছিল? • তাকে কি চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল? • নাকি ভয় এতটাই গভীর ছিল যে মুখ খুলতে পারেননি? পুলিশের অভিযান অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালায়। আটক করা হয়— • প্রধান অভিযুক্ত শ্বশুর মো. রুস্তুম গাজী • ক্লিনিকের আয়া লিপি বেগম পুলিশ জানিয়েছে, নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান, এবং আরও জড়িতদের খোঁজা হচ্ছে। গলাচিপা থানার ওসি স্বীকার করেছেন— তদন্তে এখনো কিছু জায়গায় “খেই হারিয়ে যাচ্ছে” এই বক্তব্যই ইঙ্গিত দেয়—ঘটনাটি যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক জটিল হতে পারে। ‘মামলার এজাহার অনুযায়ী ধর্ষণের দায়ে প্রধান অভিযুক্ত ও বাচ্চা অপহরণে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বাচ্চাও উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে।’ এক বছরের বেশি সময় ধরে ধর্ষণ এবং নবজাতককে অপহরণের অভিযোগ কেন এক মাস পরে থানায় জানানো হলো, সে ব্যাপারে মামলাকারী নারীর কাছ থেকে পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ওসি জানান, পুলিশও বেশ কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতায় রয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের পর সব কিছু পরিষ্কার হওয়া যাবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, বরিশাল এর যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হকের বিরুদ্ধে "বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ”, নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যা নিয়ে এনবিআরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের হওয়ায় বিস্মিত হয়েছেন খোদ মাজেদুল হকের সহকর্মীগণও। ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর দিনাজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-এ ভুক্তভোগী পারুল নাহার (২৮) এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হকসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক ফেসবুকে পরিচয়ের সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে "প্রেমের সম্পক” গড়ে তোলেন এবং "বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে" তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক ফেসবুকে পরিচয়ের সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে "প্রেমের সম্পক” গড়ে তোলেন এবং "বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে" তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক এর নির্দেশে আনোয়ার নামে এক ব্যক্তি ২০০ থেকে ৩০০ লোক নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তার বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। জানাগেছে, মামলার পর ভুক্তভোগীর ওপর চাপ সৃষ্টি ও হুমকির অভিযোগে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় আরেকটি লিখিত এজাহার দায়ের (মামলা নং-২৩, ২০/১১/২০২৫) করা হয়েছে। এজাহারে মো. রাজন, মো. ভুট্টু, মো. মোজাফ্ফর রহমান (মনজু), মো. আহসান সহ ২০-২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলাটি তুলে নিতে কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে নিয়মিত ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। এমনকি ভুক্তভোগীকে একা দেখা না করলে অপহরণ ও গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে করে অস্ত্রসজ্জিত একটি দল দিনাজপুরের কসবা খোয়ারের মোড়ে ভুক্তভোগীর বাবার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে। এক পর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। পরে পুলিশ আসার আগেই হামলাকারীরা তাকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে রেখে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মাজেদুল হক বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আত্মীয় পরিচয়ে ক্ষমতা প্রদর্শন করেন। তার স্ত্রী মোসাম্মৎ বিলকিস আক্তার ২৮তম বিসিএস ক্যাডার। দুই সন্তানের পিতা মাজেদুল হক। মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথমবার দিনাজপুর শহরের মাজেদুলের এক বন্ধুর ভাড়া করা মেসে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে এবং অগোচরে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ভিডিও করে রাখে মাজেদুল হক। পরবর্তীতে ঐ তরুনী মাজেদুলের সাথে দেখা করতে না চাইলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আবারও খুলনা নিয়ে তাকে ৯ দিন আটকে রাখে, রংপুরে চাকরির সুবাদে একাধিকবার এবং ঢাকায় মোহাম্মদপুর আশা ইউনিভার্সিটির পাশে তার নিজের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে রেখে মাসের পর মাস তরুনীর দেহ ভোগ করে । পরবর্তীতে ঐ তরুনী বিয়ের জন্য চাপ দিলে মাজেদুল তাকে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য মিথ্যা প্রলোভন দেয়। এতেও সমাধান না হলে, মাজেদুল সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তরুনী ও তার পরিবারকে হত্যা, এমনকি নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেয়। উক্ত ঘটনায় পারুল নাহার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করলে মাজেদুল তরুনীকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি-ধামকি প্রদান করে। এতেও তাকে ক্ষান্ত করতে না পারায় তার বাবাকে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে এবং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হকের পূর্বের কর্মস্থল কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, রংপুর এর তৎকালীন কমিশনার অরুণ কুমার রায়ের কাছে ভুক্তভোগী পারুল নাহার মৌখিক অভিযোগ দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভুক্তভোগীকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয় এবং জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা। ভুক্তভোগী আরও উল্লেখ করেন, প্রাণনাশের আশঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করতে পারেননি। এমনকি বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। বিষয়টি যাতে মিডিয়াতে প্রকাশ না পায় সেজন্য কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক নানা কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্যে কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক এর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তার বর্তমান কর্মস্থল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, বরিশাল এর ল্যান্ড ফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তবে মাজেদুল হকের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, দায়েরকৃত মামলাটি গত সপ্তাহে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার বাদী পারুল নাহার বলেছেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পেশীশক্তি প্রয়োগ করে মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছে। পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে মামলা প্রত্যাহার করলেও অভিযুক্তদের শাস্তি চেয়েছেন ভুক্তভোগী। যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক এনবিআরের শাটডাউন আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহন, রাজস্ব ফাঁকিতে যোগসাজস এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, যুগ্ন কমিশনার মোঃ মাজেদুল হককে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টম ও ভ্যাট প্রশাসন -১ শাখার দ্বিতীয় সচিব মোহাম্মদ আবুল মনসুর স্বাক্ষরিত o৮.o১.oooo.ooo.o১১.০৫.০০০৪.১২-৯২ নম্বর আদেশে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট বরিশালে বদলি করা হয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দিনাজপুরের হাকিমপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিজ কার্যালয়ে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সফিউল ইসলামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে ওই কর্মকর্তাকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস চত্বর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডা. সফিউল ইসলাম রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার জারুল্যা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি বর্তমানে হাকিমপুরে ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী হাকিমপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন গরুর খামারি। গতকাল শুক্রবার রাতে তিনি হাকিমপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে উপজেলা প্রাণিসম্পদের ওই কর্মকর্তার নামে একটি মামলা করেন। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগী নারী ও হাকিমপুর থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, স্বামীর অসুস্থতা ও খামারি হওয়ার সুবাদে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয় হয় ভুক্তভোগী নারীর। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সরকারি কোয়ার্টারে বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন ডা. সফিউল। ভুক্তভোগীর দাবি, ডা. সফিউলের চাপে গত ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তিনি স্বামীকে তালাক দেন। এরপর ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু পরবর্তীতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পোস্ট অফিসের নোটিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে গোপনে তালাক দিয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই নারীকে মোবাইল ফোনে কল করে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নেন ওই কর্মকর্তা। সেখানে গেলে নিজ কক্ষের দরজা বন্ধ করে ওই নারীকে পুনরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ করেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। পরে ওই নারী হাকিমপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অভিযোগে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে জর্দা কোম্পানীর কর্মচারী রুবীনা বেগমের দায়ের করা একটি ধর্ষন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বাদী ও তার কন্যা সন্তানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই মিলন মল্লিক, ঝালকাঠি থানার পক্ষ থেকে আদালতে এ সংক্রান্ত আবেদন করেন। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার বাদী রুবীনা বেগম (৩৪) ও তার ভূমিষ্ঠ কন্যা সন্তানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ এবং পরবর্তীতে আসামীদের ডিএনএ’র সঙ্গে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। বাদী রুবীনা বেগম ঝালকাঠির চাচৈর গ্রামের আশ্রাফুল ইসলামের মেয়ে এবং তিনি শাহী জর্দা কোম্পানীর একজন কর্মচারী। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঝালকাঠি সদর থানায় জর্দা কোম্পানীর মালিক শামশুল হক মনু এবং রুবিনার সাবেক স্বামী ফরিদকে আসামী করো মামলাটি দায়ের করা হয়। আবেদনটি শুনানি শেষে ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক নওরীন কবির তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মামলার সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে বাদী ও তার কন্যার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ করতে হবে এবং ডিএনএ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আসামীদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য প্রোফাইল সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সিআইডির হেডকোয়ার্টারের ডিএনএ ল্যাবরেটরির ফরেনসিক বিভাগের চিফ ডিএনএ অ্যানালিস্টকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেছে আদালত। ঝালকাঠি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেন, 'এই ডিএনএ পরীক্ষা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সত্য উদঘাটনে সহায়ক হবে। শিঘ্রই পরবর্তী পদক্ষেপ নেযা হবে।'
মো. সিয়াম খান: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা ঝালকাঠিতে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা শামসুল হক মনুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলেও তাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার প্রায় দুই মাস পার হয়ে গেলেও প্রধান আসামিকে ধরতে না পারায় স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মামলার নথি, আদালতের নির্দেশনা এবং স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠি পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামসুল হক মনুসহ দুইজনের বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয় চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি। মামলার বাদী যিনি একটি জর্দা কোম্পানির শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, ঝালকাঠি আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগটি দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে মামলা আদালতের বিচারক শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হক অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে আমলে নিয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পর থানায় মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রুজু করা হয় এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে। আইন অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলোর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক সময় এসব মামলায় তদন্ত ধীরগতির হয়—যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তদন্তে পুলিশের অবস্থান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিলন মল্লিক গণমাধ্যমকে জানান, এজাহারভুক্ত দুই আসামির মধ্যে ফরিদ নামের একজন বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তবে প্রধান আসামি শামসুল হক মনু এখনো গ্রেফতার হননি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে “আত্মগোপনে” রয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, “আমরা তাকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।” তবে এই বক্তব্যের বিপরীতে স্থানীয়দের দাবি ভিন্ন। স্থানীয়দের দাবি: প্রকাশ্যে চলাফেরা মনুর পরিবারের একাধিক সদস্য এবং স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, তিনি ঝালকাঠি শহরের নিজ বাসাতেই অবস্থান করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে শহরের বিভিন্ন সড়কে জিপ গাড়ি নিয়ে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তিনি যদি আত্মগোপনে থাকেন, তাহলে শহরের মানুষ তাকে প্রতিদিন দেখছে কীভাবে? সবাই তো দেখছে তিনি গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছেন।” আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “এটা সবাই জানে তিনি শহরেই আছেন। তাহলে পুলিশ তাকে ধরছে না কেন—এই প্রশ্ন এখন মানুষের মধ্যে আছে।” রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সময় অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়—এমন অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। যদিও এই মামলার ক্ষেত্রে সরাসরি এমন অভিযোগ আনতে চাননি স্থানীয় অনেকেই, তবে তারা বলছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের অনীহা কখনো কখনো দেখা যায়। শামসুল হক মনু স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশের প্রতিক্রিয়া ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তদন্তের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে তিনি আসামি গ্রেফতারের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে কিছু জানাননি। আইনি বিশেষজ্ঞদের মত আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের নির্দেশে দায়ের হওয়া মামলার ক্ষেত্রে তদন্তে বিলম্ব হলে তা বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।ঝালকাঠির এক ফৌজদারি আইনজীবী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলোতে দ্রুত তদন্ত করা জরুরি। তার ভাষায়, “যদি কোনো আসামি আত্মগোপনে থাকে, তাহলে পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য আইন অনুযায়ী অভিযান চালাতে পারে। প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা যায়।” ভুক্তভোগীদের জন্য চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশে যৌন সহিংসতার মামলায় ভুক্তভোগীরা অনেক সময় সামাজিক চাপ, ভয় এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে ন্যায়বিচার পেতে সমস্যার মুখে পড়েন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এ ধরনের মামলায় দ্রুত তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ভবিষ্যৎ এখন পর্যন্ত মামলার তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—যদি আসামি সত্যিই শহরে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে তাকে গ্রেফতার করতে এত সময় লাগছে কেন। এই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। মামলার অগ্রগতি এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।