Brand logo light

জ্বালানি সংকট

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ, ক্ষুদ্র ব্যবসায় মুনাফা কমছে | নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনায় জ্বালানির দাম বেড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মার্কিন ক্ষুদ্র ব্যবসা। একই সময়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ইরান যুদ্ধের অভিঘাতে চাপের মুখে মার্কিন অর্থনীতি ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার নেতিবাচক প্রভাব এখন সরাসরি পড়তে শুরু করেছে মার্কিন অর্থনীতিতে। বিশেষ করে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং শ্রম খরচের চাপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে মুনাফা ধারাবাহিকভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নতুন উদ্যোক্তাদের বড় অংশ এখন অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট শুধু ব্যবসায়ী পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামগ্রিক মার্কিন অর্থনীতির জন্যও এটি একটি সতর্ক সংকেত। কারণ, গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হওয়া নতুন কর্মসংস্থানের প্রায় অর্ধেক এসেছে ২৫০ জনের কম কর্মী নিয়ে পরিচালিত ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো থেকে। মুনাফায় বড় পতন ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর মুনাফায় গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে। এক মাসেই মুনাফা কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন উদ্যোক্তারা বর্তমানে তিনটি বড় সংকটে রয়েছেন— শ্রমিকের সহজলভ্যতা সংকট উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সেটিই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হরমুজ সংকট ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর বৈশ্বিক বাজারে গ্যাস ও জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। আমেরিকার অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৩ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি। ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিলে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে গ্যাসোলিনের পেছনে ৩১ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ভোক্তাদের ব্যয় প্রবণতা এখনও শক্তিশালী থাকলেও ক্ষুদ্র ব্যবসার বিক্রি ধীরে ধীরে মন্থর হয়ে পড়ছে। ফলে বাজারে এক ধরনের “অদৃশ্য মন্দা” তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংকটের মধ্যেও বাড়ছে নতুন ব্যবসা অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ব্যবসা শুরু করার প্রবণতা থেমে নেই। বরং রেকর্ড গতিতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার নতুন ব্যবসার আবেদন জমা পড়েছে। যা করোনা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, উদ্যোক্তা হওয়ার এই প্রবণতাই এখনও মার্কিন অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধস থেকে রক্ষা করছে। নতুন হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আইআরজিসি দাবি করেছে— যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল “বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দুই সামরিক বাহিনীর পূর্ণ সক্ষমতা” ব্যবহার করেও ইরানকে দমাতে পারেনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান এখনও তার সব সামরিক সক্ষমতা প্রয়োগ করেনি এবং নতুন আগ্রাসন হলে “কল্পনার বাইরে বিধ্বংসী হামলা” চালানো হবে। ট্রাম্পের অবস্থান: ‘তাড়াহুড়ো নেই’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে তাড়াহুড়ো নেই বলে মন্তব্য করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু “তিনি যা বলবেন, সেটাই করবেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এখন অগ্রাধিকার হলেও তিনি দ্রুত কোনও সমঝোতায় পৌঁছানোর চাপ অনুভব করছেন না। এর আগে তিনি ইরানের ওপর সম্ভাব্য একটি সামরিক হামলা স্থগিত করার কথাও জানান। উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের অনুরোধেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা বর্তমান সংকট নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানা গেছে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরে ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের স্থবির কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করতে পাকিস্তান নতুন করে উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংঘাতের বিস্তার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরান-এ হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
ইস্টার্ন রিফাইনারি
ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আবার ক্রুড তেল সরবরাহ: দুই মাস পর উৎপাদন স্বাভাবিকের পথে

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাবে গত দুই মাস ধরে দেশে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি বন্ধ থাকায় সংকটে পড়েছিল বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। অবশেষে নতুন চালান পৌঁছানোয় প্রতিষ্ঠানটি আবার পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরার আশা দেখা দিয়েছে। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড তেলবাহী ট্যাংকার ‘এমটি নিনেমিয়া’ মঙ্গলবার বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। বুধবার এটি চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে ভেড়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ৭ মে থেকে ইআরএল পূর্ণোদ্যমে উৎপাদনে ফিরতে পারবে। ডেড স্টক দিয়ে টিকে থাকা নতুন তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় গত দেড় মাস ধরে পাইপলাইনে জমে থাকা ‘ডেড স্টক’ ব্যবহার করে সীমিত আকারে চালু রাখা হয়েছিল রিফাইনারিটি। সাধারণত পাইপলাইনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভেতরে যে ন্যূনতম তেল জমা থাকে, সেটি ব্যবহার করা হয় না। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে সেই তেলই কাজে লাগানো হয়। এ সময় উৎপাদন কমিয়ে আনা হয় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে। জ্বালানির ধরনও ১৩টি থেকে কমিয়ে ২টিতে নামিয়ে আনা হয়েছিল। নতুন চালান আসছে আরও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আরও এক লাখ টন ক্রুড তেল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘এমটি ফসিল’ নামের একটি ট্যাংকারে ১০ মে তেল লোড করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি ঠিক থাকলে চলতি মাসেই সেটিও দেশে পৌঁছাতে পারে। এই চালানটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফুজাইরা থেকে তেল আনতে হলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সরাসরি ভারত মহাসাগর হয়ে বাংলাদেশে আসা সম্ভব—যা নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাবে। সরবরাহ বিঘ্নের পেছনে কারণ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আগে নির্ধারিত কয়েকটি জাহাজ বাংলাদেশে আসতে পারেনি। ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামের একটি ট্যাংকার গত এপ্রিল থেকে সেখানে আটকা পড়ে আছে। একই কারণে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের আরেকটি জাহাজ তাদের যাত্রা বাতিল করে। ফলে ক্রুড তেলের সংকট তৈরি হয়ে ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়—যা এর আগে কখনও ঘটেনি। দেশের জ্বালানি খাতে ইআরএলের ভূমিকা ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইআরএল দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে প্রতিষ্ঠানটি, যা দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, যার ৯২ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ইআরএলের উৎপাদিত ডিজেল দেশের মোট ডিজেল সরবরাহের প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ। সামনে কী নতুন চালান নিয়মিতভাবে আসতে থাকলে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর এই সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
হরমুজে ইরানের ৬ গানবোট ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি মার্কিন বাহিনীর, প্রত্যাখ্যান ইরানের
ইরান যুদ্ধেও অক্ষত পারমাণবিক সক্ষমতা, ইউরেনিয়ামের হদিস নেই—চাপে যুক্তরাষ্ট্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক হামলার পরও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি বলে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ এখনো অজানা স্থানে রয়েছে। এই মজুদ ব্যবহার করে তেহরান স্বল্প সময়ের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বছরের জুনে পরিচালিত ‘অপারেশন মিড হ্যামার’-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসন ধারণা করেছিল, যৌথ হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তত এক বছর পিছিয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক দুই মাসের সংঘাত সেই সময়সীমায় বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দারা। সামরিক হামলা ও সীমিত প্রভাব নতুন দফার এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মূলত ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় ৫০ জন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তির নিহত হওয়ার দাবি করা হয়। পাশাপাশি কয়েকজন পারমাণবিক বিজ্ঞানীও নিহত হন। ইসরাইল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানে। তবুও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘রেজিম পরিবর্তন’-এর লক্ষ্যও পূরণ হয়নি। যুদ্ধবিরতি, কিন্তু উত্তেজনা অব্যাহত ৭ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তেজনা এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই পথ দিয়ে হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণভাবে অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষও বেড়েছে। কংগ্রেসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে কঠোর জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম স্মিথ বলেছেন, “ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম কার্যত অপরিবর্তিত রয়েছে।” পেন্টাগনের হিসাবে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫০০ কোটি ডলার। পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরান চাইলে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে পারে। জুনে নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহান স্থাপনায় হামলার পর এই সময়সীমা কিছুটা বাড়িয়ে ৯ মাস থেকে এক বছর ধরা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এখনো প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, এর একটি বড় অংশ ইসফাহানের ভূগর্ভস্থ টানেলে সংরক্ষিত রয়েছে। পুরোপুরি সমৃদ্ধ করা গেলে এই মজুদ দিয়ে প্রায় ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভব। কৌশলগত সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো সরাসরি পারমাণবিক কর্মসূচির বদলে ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বেশি লক্ষ্য করেছে। ফলে পারমাণবিক কর্মসূচিতে সরাসরি প্রভাব সীমিত হয়েছে। সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক এরিক ব্রুয়ার বলেন, ইরানের মূল শক্তি এখনো তাদের পারমাণবিক উপাদান। এগুলো এমন স্থানে রাখা হয়েছে, যেখানে প্রচলিত বোমা দিয়ে ধ্বংস করা কঠিন। অন্যদিকে, পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের হত্যার ফলে প্রযুক্তিগত দক্ষতায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে মত দিয়েছেন সাবেক আন্তর্জাতিক পরিদর্শক ডেভিড অলব্রাইট। সমুদ্রপথে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি দাবি হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনাও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ছয়টি ইরানি দ্রুতগামী গানবোট ধ্বংস করেছে, যা জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে করা হয়েছে। তবে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে দুটি ছোট মালবাহী জাহাজে আঘাত করেছে, যাতে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়াম সরাসরি উদ্ধার করতে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প বিবেচনা করছে। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা হলেও গোপন কার্যক্রম চালু থাকতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জলদস্যু’ বলল ইরান, নতুন ১৪ দফা প্রস্তাব

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের প্রভাবশালী সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহসেন রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জলদস্যু’ হিসেবে অভিহিত করে হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন বাহিনীর ‘কবরস্থানে’ পরিণত করার হুমকি দিয়েছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই “বিশ্বের একমাত্র জলদস্যু, যাদের বিমানবাহী রণতরী রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এমন যে তারা শত্রু যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত মাসে একটি মার্কিন F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনা, যার ধ্বংসাবশেষ ইসফাহানে পড়েছিল বলে দাবি করা হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, তাদের বাহিনীকে একই ধরনের পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কূটনৈতিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের “সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে এসেছে”। তারা দাবি করেছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ শেষ করতে তেহরান একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান বদলাচ্ছে চীন, রাশিয়া ও ইউরোপ। ১৪ দফা প্রস্তাব: কী রয়েছে? Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যার লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অবসান। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নৌ-অবরোধের অবসান মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার আঞ্চলিক সংঘাত, বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এছাড়া নির্ধারিত সময়ের পর ইরান পুনরায় ৩.৬ শতাংশ হারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে ‘শূন্য-মজুদ নীতি’ অনুসরণের শর্তে। ইরান তার পারমাণবিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জব্দকৃত অর্থ পর্যায়ক্রমে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। আলোচনার অগ্রগতি ও মধ্যস্থতা যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবুও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তা ভঙ্গুর। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। অতীতে ওমান এই আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে। জ্বালানি বাজারে প্রভাব সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। American Automobile Association (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৪.১৮ ডলার, যা একদিনে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথের অস্থিরতা সরাসরি জ্বালানি ব্যয় বাড়াচ্ছে। তেলের দাম নিয়ে মার্কিন প্রত্যাশা মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বর্তমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বাড়লেও পরিস্থিতি শান্ত হলে বছরের শেষের দিকে তা কমে আসতে পারে। তার ভাষায়, “সংঘাতের পরবর্তী পর্যায়ে তেলের দাম অনেক কম হতে যাচ্ছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
জ্বালানি তেল
জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, রপ্তানি ঋণ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে উদ্যোগে অর্থনীতিতে গতি ফেরার দাবি

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলা, রপ্তানিমুখী শিল্পে স্বল্পসুদের ঋণ চালু এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পে অগ্রাধিকারমূলক নীতিগত উদ্যোগের ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি ফিরছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা চলছে। সরকারের ভাষ্যমতে, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে বিকল্প জ্বালানি আমদানি কার্যক্রম দ্রুত করা হয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলার দাবি ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা এবং বিকল্প উৎস থেকে আমদানির উদ্যোগ নেওয়ায় সংকট নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হয়। ফলে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়নি—এমন দাবি সংশ্লিষ্টদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব উৎপাদন খাতে পড়েছে বলে তিনি মনে করেন। রপ্তানি খাতে নতুন ঋণ সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক রপ্তানিকারকদের জন্য বন্ধ থাকা প্রি-শিপমেন্ট ঋণ পুনরায় চালু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ১০ হাজার কোটি টাকার একটি রপ্তানি সহায়ক তহবিল থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো ২ শতাংশ সুদে অর্থ নিয়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে পারবে। রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের আগের ব্যয় মেটাতে এই ঋণ ব্যবহৃত হবে। ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বলছেন, এতে দীর্ঘদিনের পুঁজি সংকট কিছুটা কমবে এবং রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আসবে। শিল্প পুনরায় চালুর পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে স্বল্পসুদের ঋণ সহায়তার জন্য একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একটি ১৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা বন্ধ কারখানা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও নীতিগত সহায়তার বিষয়ে সুপারিশ দেবে। কৃষি ও অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সরকার কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গকে অ্যাগ্রো-প্রসেসিং হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বলে জানানো হয়েছে। ফল, দুগ্ধ, খাদ্য ও পোলট্রি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করা হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে, যা বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় কারণেই তৈরি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক নীতিগত উদ্যোগগুলো পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ভূমিকা রাখছে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩, ২০২৬ 0
সৌরবিদ্যুৎ
বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি: অতিরিক্ত ব্যয়, নীতিগত বিশৃঙ্খলা ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতকে একসময় জ্বালানি সংকট মোকাবিলার সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে দেখা হলেও, অভিযোগ উঠেছে যে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণে এই খাত তার গতি হারিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাত কাঙ্ক্ষিতভাবে বিকশিত হতে পারেনি। আইন ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন বিশ্লেষকদের অভিযোগ, ২০১০ সালের ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন’ এই খাতে স্বচ্ছতার ঘাটতি তৈরি করেছে। এই আইনের আওতায় প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ছাড়াই প্রকল্প অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে, পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া এবং বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনার মতো অভিযোগ সামনে আসে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এসব ক্ষেত্রে অসম চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যেখানে প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় হওয়া উচিত প্রায় ৮ কোটি টাকা, সেখানে কিছু প্রকল্পে এই ব্যয় দাঁড়িয়েছে গড়ে ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সংস্থাটি দাবি করে, মাত্র ছয়টি প্রকল্পেই প্রায় ২ হাজার ৯২৬ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া জমি অধিগ্রহণে জালিয়াতির মাধ্যমে আরও প্রায় ২৪৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। কৃষিজমিকে অকৃষি দেখানো এবং ভুয়া মৌজা দর ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সিন্ডিকেট ও প্রভাবের অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের মতে, এই খাতে উচ্চপদস্থ আমলা ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করেছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ (এলওআই) পেতে রাজনৈতিক সুপারিশ প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সরকারি নিয়মে ১৮ মাসে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও, এলওআই পেতেই লেগে যেত দুই থেকে তিন বছর। এই দীর্ঘসূত্রতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করেছে। সময়ের সঙ্গে প্রকল্প ব্যয় বাড়লেও অনুমোদন প্রক্রিয়া একই গতিতে চলেনি। অদক্ষ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ অভিযোগ রয়েছে, দক্ষ প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে প্রভাবের মাধ্যমে অদক্ষ প্রতিষ্ঠানও প্রকল্প পেয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্ট একজন উদ্যোক্তা বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে কাজ পাওয়ার পেছনে যোগ্যতার চেয়ে প্রভাব বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।” আঞ্চলিক তুলনায় পিছিয়ে বাংলাদেশ জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির খরচ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। ভারতে যেখানে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের দাম প্রায় ৩ সেন্ট, পাকিস্তানে ০.৩২ সেন্ট এবং চীনে ০.৪৫ সেন্ট, সেখানে বাংলাদেশে এই খরচ ছিল ১২ সেন্টেরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবধান নীতিগত দুর্বলতা ও অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। নীতিমালার অসংগতি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়ও অসংগতি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নীতিমালায় ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— একটিতে ২০২৩ সালে ২০% অন্যটিতে ২০৩০ সালে ১০% আবার কোথাও ২০২৫ সালে ৪০% লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এই অসামঞ্জস্য বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যৎ ভাবনা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান জ্বালানি সংকট নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। তারা মনে করেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সৌরবিদ্যুৎ খাত গড়ে তোলা গেলে বাংলাদেশ জ্বালানি নিরাপত্তায় অনেকটাই এগিয়ে থাকতে পারত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১, ২০২৬ 0
সাতীক্ষার শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে ছেলের মোটরসাইকেলের তেলের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন মা বিথিকা রানী বৈদ্য।
জ্বালানি সংকটে দীর্ঘ লাইন, বাসভাড়া বাড়ায় বাড়ছে জনভোগান্তি: ছেলের মোটরসাইকেলের তেলের জন্য মা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন তেল সরবরাহ বন্ধ থাকার পর পুনরায় বিক্রি শুরু হলেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলা। একইসঙ্গে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন খাতেও; সরকার বাসভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ। শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ডেমলা ফিলিং স্টেশনে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেননি। লাইনে দাঁড়ানোদের মধ্যে ছিলেন বিথিকা রানী বৈদ্য, যিনি তার ছেলে সাগরের মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে সকাল থেকে অপেক্ষা করছিলেন। সাগর মোটরসাইকেল চালিয়ে এবং কৃষিকাজ করে পরিবার চালান। তেল না থাকায় কাজে যেতে না পারায় বাধ্য হয়ে মা নিজেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন। বিথিকা রানী বলেন, আগের দিনও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছিল। এবার সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়ার অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তিনি। তার মতো আরও শতাধিক চালক দিনের পর দিন এমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর নিরাপত্তা উদ্বেগ কাটিয়ে পুনরায় তেল বিক্রি শুরু করে ফিলিং স্টেশনটি। এর আগে বুড়িগোয়লিনি ইউনিয়নে তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে, যেখানে স্টেশন ম্যানেজার স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর হামলার শিকার হন। এর প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার অভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট কয়েকটি ইউনিয়নের চালকদের জন্য তেল সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেকে নিয়ম ভেঙে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সংগ্রহ করছেন, ফলে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বঞ্চিত হচ্ছেন। মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার ভাড়াভিত্তিক মোটরসাইকেল রয়েছে। টানা পাঁচ দিন তেল না পাওয়ায় চালকদের জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। সরকার বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, ভাড়া বাড়লেও সেবার মানে কোনো উন্নতি হয়নি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, নির্ধারিত স্টপেজে বাস না থামানো এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মতো অনিয়ম এখনো অব্যাহত রয়েছে। মধ্যম আয়ের চাকরিজীবী মানিক হোসেন বলেন, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে পড়ে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। একইভাবে কর্মজীবী ইসমাইল জানান, আয় অপরিবর্তিত থাকলেও যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। সাভারগামী যাত্রী আকতারুজ্জামান বলেন, বাড়তি ভাড়ার কারণে পরিবারে প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো এবং সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে উঠবে। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহন খাতে কার্যকর তদারকি জোরদার করা না গেলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
সোলেমান আলী
ডিজেল সংকটে সমাধান: ঠাকুরগাঁওয়ে সোলেমান আলীর ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচযন্ত্রে কৃষকদের স্বস্তি

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের এক প্রত্যন্ত গ্রামে জ্বালানি সংকটের মধ্যে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিয়েছেন স্থানীয় এক উদ্ভাবক। সদর উপজেলার মোলানী গ্রামের কারিগর সোলেমান আলী তৈরি করেছেন একটি ‘ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচযন্ত্র’, যা এখন শত শত কৃষকের জন্য বিকল্প সেচব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে যখন সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল, তখন এই প্রযুক্তি কৃষকদের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে। সূর্যের আলোতেই সেচ গ্রামের মাঠে এখন আর ডিজেলচালিত পাম্পের শব্দ বা ধোঁয়া দেখা যায় না। চাকা সংযুক্ত কাঠামোর ওপর স্থাপিত সৌর প্যানেলে সূর্যের আলো পড়লেই চালু হয়ে যায় পাম্প। মাটির নিচ থেকে উঠে আসে পানি, যা সরাসরি ফসলের জমিতে পৌঁছে যায়। সোলেমান আলীর তৈরি এই যন্ত্রের ক্ষমতা প্রায় ২,৫০০ ওয়াট। সূর্যালোক থাকলেই এটি তিন হর্সপাওয়ারের পাম্প চালাতে পারে, যা প্রতি মিনিটে প্রায় ৭০০ লিটার পানি তুলতে সক্ষম। কৃষকদের স্বস্তি স্থানীয় কৃষকদের মতে, সেচ খরচ কমার পাশাপাশি সময়ও বাঁচছে। সদর উপজেলার এক কৃষক আবু বকর বলেন, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদ কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন দিনে সূর্যের আলো থাকতেই সেচের কাজ শেষ করা যাচ্ছে এবং খরচও কম। রাণীশংকৈল উপজেলার কৃষক মনসুর আলীর অভিজ্ঞতাও একইরকম। তিনি জানান, আগে বিদ্যুতের জন্য রাত জেগে অপেক্ষা করতে হতো, কিন্তু এখন দিনের আলোতেই সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আয় ও সম্ভাবনা বর্তমানে সোলেমান আলীর কাছে ২৬টি সৌর পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি তিনি নিজে পরিচালনা করেন এবং বাকি ২০টি মৌসুমি ভিত্তিতে ভাড়া দেন। প্রতি মৌসুমে প্রতিটি পাম্প ৩৬ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়ে তিনি নতুন একটি ব্যবসায়িক সম্ভাবনাও তৈরি করেছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, গত বছর এই উদ্যোগ থেকে তার আয় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে তা ৮ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। বিস্তৃত প্রভাব এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে শুধু ব্যক্তিগত নয়, বৃহত্তর কৃষি ব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়ছে। ভবিষ্যৎ ভাবনা সোলেমান আলী বলেন, সীমিত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কৃষকদের সমস্যার সমাধান খুঁজতে চেয়েছেন। সরকারি সহায়তা পেলে এই প্রযুক্তি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা মনে করেন, এই উদ্ভাবন জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তি কৃষিতে টেকসই উন্নয়নের পথ দেখাতে সক্ষম।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
জ্বালানি
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে: ডিজেল ১১৫, অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫ টাকা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫ টাকা। এছাড়া প্রতি লিটার কেরোসিনের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩০ টাকা। মূল্যবৃদ্ধির আগে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা ও পেট্রোলের মূল্য ১১৬ টাকা ছিল। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই দাম ঘোষণা করে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। রোববার থেকেই নতুন দর কার্যকর হবে। মন্ত্রণালয়ের বার্তায় জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে দেশের বাজারেও এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি লিটার অকটেন ১৪০.০০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫.০০ টাকা দরে বিক্রি হবে। একইসঙ্গে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫.০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কেরোসিনের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৩০.০০ টাকা। সবমিলিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দামের তুলনায় দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সমন্বয়ে ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে, এতে লিটারে ১৮ টাকা বেশি গুণতে হবে ভোক্তাকে। অন্যদিকে প্রতি লিটার অকটেন ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে, এতে লিটারে সর্বোচ্চ ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে, যেখানে লিটারে ১৯ টাকা দাম বেড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা ইরানের
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত : তেলের দাম কমল, বিশ্ববাজারে স্বস্তি-বড় পরিবর্তন

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎই এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে—যুদ্ধবিরতির সময় পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখবে ইরান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, লেবাননকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সময়কাল জুড়ে নির্ধারিত সমন্বিত রুট ব্যবহার করে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথটি বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হয় এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। সাম্প্রতিক ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা দিনের শুরুতে ৯৮ ডলারের বেশি ছিল। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুডের দামেও উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। সংঘাত শুরুর আগে যেখানে তেলের দাম ৭০ ডলারের নিচে ছিল, সেখানে মার্চের শুরুতে তা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং মাসের শেষে ১১৯ ডলারে পৌঁছায়—যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বাজারের উচ্চমাত্রার সংবেদনশীলতাকে স্পষ্ট করে। শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি শেয়ারবাজারেও এই ঘোষণার প্রভাব পড়েছে। ইউরোপের প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে প্যারিসের সিএসি ও ফ্রাঙ্কফুর্টের ডিএএক্স দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে। লন্ডনের এফটিএসই সূচকেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন শুরুর প্রথম কয়েক মিনিটেই ডাও জোনস সূচক ১.৩ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সংঘাতের পটভূমি চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়। ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে জেনেভায় আলোচনা চলাকালেই এই হামলা চালানো হয়। প্রায় ৩৯ দিন ধরে চলা এই সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমঝোতা হয়নি। মানবিক ক্ষয়ক্ষতি ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া হামলায় এ পর্যন্ত ২,০৭৬ জন নিহত এবং ২৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কৌশলগত বার্তা নাকি সাময়িক পদক্ষেপ? বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তাও বহন করে। এর মাধ্যমে ইরান একদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগ্রহী—এমন বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপ কমানোরও চেষ্টা করছে। তবে এই স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সমীকরণের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতি তাই এক ধরনের ‘অস্থায়ী স্থিতিশীলতা’—যেখানে বাজারে স্বস্তি ফিরলেও মাটির নিচে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশে তীব্র লোডশেডিং, জেলা শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে আবারও তীব্র লোডশেডিং ফিরে এসেছে—এবার তা শুধু মৌসুমি সমস্যা নয়, বরং একটি গভীরতর জ্বালানি ও সরবরাহ সংকটের প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, কোথাও কোথাও দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এই সংকটের পেছনে কী কারণ, এবং কেন তা এত দ্রুত তীব্র হয়ে উঠলো—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে উঠে এসেছে জ্বালানি সরবরাহ, উৎপাদন সীমাবদ্ধতা এবং চাহিদা বৃদ্ধির জটিল এক সমীকরণ।  চট্টগ্রাম: পরিকল্পনা বনাম বাস্তবতা চট্টগ্রামে লোডশেডিংয়ের চিত্র সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবতার বড় ফারাক তুলে ধরছে। এলাকাভিত্তিক এক ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের কথা থাকলেও বাস্তবে তা গড়ে দুই ঘণ্টা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল পিক-আওয়ারে চাহিদা ছিল প্রায় ১,৪৩২ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে ১৭০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে। বাসিন্দারা বলছেন, দিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে—যা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।  বরিশাল: অর্ধেক সরবরাহ, দ্বিগুণ ভোগান্তি বরিশালে সংকটটি আরও স্পষ্ট। চাহিদা ৯০-৯৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে—৪২ মেগাওয়াটে। এই ঘাটতি পূরণে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বারবার বিদ্যুৎ না থাকায় বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।  ময়মনসিংহ: উৎপাদন কেন্দ্রেই সংকট ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিস্থিতি বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। এখানে দৈনিক চাহিদা ১,০৭৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মাত্র ৭৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—স্থানীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম উৎপাদন করছে। একটি কেন্দ্র ২১০ মেগাওয়াটের বিপরীতে উৎপাদন করছে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট অন্য দুটি কেন্দ্র ৩১৫ মেগাওয়াটের বিপরীতে উৎপাদন করছে ৬৭ মেগাওয়াট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস ও ফার্নেস তেলের সংকট এর প্রধান কারণ।  সিলেট: পরিসংখ্যান বনাম বাস্তব অভিজ্ঞতা সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলছে, লোডশেডিং ২০-২৫ শতাংশ। তবে বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন—তাদের মতে, দিনে ৯-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। এই পার্থক্য দেখাচ্ছে যে, সরকারি হিসাব ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান থাকতে পারে।  রংপুর ও গ্রামীণ বাংলাদেশ: সংকটের গভীরতম স্তর রংপুর অঞ্চলে লোডশেডিং প্রায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে তা দিনে ১০-১২ ঘণ্টায় পৌঁছাচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় থাকা এলাকাগুলোতে সরবরাহ আরও সীমিত, ফলে গ্রাহকরা তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।  খুলনা: উৎপাদন থাকলেও সরবরাহ সংকট খুলনায় রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন করলেও, জাতীয় গ্রিডে ঘাটতির কারণে স্থানীয়ভাবে লোডশেডিং কমছে না। এটি দেখায়, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই সংকট সমাধান হয় না—বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।  মূল কারণ বিশ্লেষণ তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা যায়— ১. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ২. উৎপাদন সক্ষমতার অপূর্ণ ব্যবহার গ্যাস ও তেলের সংকটে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ৩. চাহিদার ঊর্ধ্বগতি তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে, যা বিদ্যমান সরবরাহকে চাপের মুখে ফেলেছে। ৪. শহর-গ্রাম বৈষম্য গ্রামীণ এলাকায় সরবরাহ কম থাকায় সেখানে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। কী বলছে এই সংকট? এই পরিস্থিতি শুধু সাময়িক বিদ্যুৎ ঘাটতির ইঙ্গিত নয়, বরং বাংলাদেশের জ্বালানি নির্ভরতা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হয়, তবে সামনে আরও বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে—বিশেষ করে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা আরও বাড়লে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো সীমিত সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সংকট নিরসনে জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা—সবগুলোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালি ঘিরে দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি : ইরান উত্তপ্ত, চীনের পাশে রাশিয়া—বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি। যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন নৌ অবরোধ, ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং চীন–রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ অবস্থান—সব মিলিয়ে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।  অবরোধের নেপথ্য ও সামরিক বাস্তবতা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের প্রধান বন্দরগুলো কার্যত অবরুদ্ধ। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ১৫টি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, একটি সুপার ক্যারিয়ার, ১১টি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি—ইতোমধ্যে অন্তত ছয়টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে। যদিও কিছু সূত্র বলছে একটি জাহাজ অবরোধ এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বলছে সেটিও এখন প্রণালির ভেতরে আটকে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি নয়; বরং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোরে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা। কেন হরমুজ এত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০% এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২৫% এই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এখানে সামান্য বিঘ্নও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে পরিবহন, খাদ্যপণ্য ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে।  চীন-রাশিয়া ফ্যাক্টর চীন, যা ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা, এই অবরোধে সরাসরি চাপে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুযায়ী, বেইজিং আর ইরান থেকে তেল আমদানি করতে পারবে না। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বেইজিং সফরে ঘোষণা দিয়েছেন—রাশিয়া চীনের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে প্রস্তুত এবং দুই দেশের সম্পর্ক অটুট থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল কূটনৈতিক বার্তা নয়; বরং চীনা জ্বালানি বাজারে রাশিয়ার প্রভাব বাড়ানোর কৌশল, যা যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে আংশিকভাবে নিষ্ক্রিয় করতে পারে।  ইরানের পাল্টা অবস্থান ইরান এই অবরোধকে সরাসরি ‘আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির দাবি, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে; কেবল শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ইরানের তথ্যমতে, গত ৪০ দিনে তাদের ৩৯টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে এবং ২০ জন নাবিক নিহত হয়েছেন—যা তারা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।  আইএমও বিতর্ক: নতুন কূটনৈতিক সংঘাত হরমুজ প্রণালিতে ‘নিরাপদ সামুদ্রিক করিডর’ তৈরির প্রস্তাব ঘিরে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছেআন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাতে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্থাপিত এই প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। আইএমও লিগ্যাল কমিটির বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধি পুরিয়া কলিভান্দ বলেন, প্রস্তাবটি “আইনগতভাবে ভিত্তিহীন” এবং “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজে কোনো করিডর প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইরানের সম্মতি অপরিহার্য—কারণ এটি অঞ্চলের প্রধান উপকূলীয় রাষ্ট্র।  যুক্তরাষ্ট্র বনাম আঞ্চলিক বাস্তবতা ইরানের অভিযোগ—যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে এই অঞ্চলে উত্তেজনা তৈরি করেছে, এবং কিছু উপসাগরীয় দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে এই আগ্রাসনে সহায়তা করছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে এটি একটি প্রতিরোধমূলক কৌশল—যার লক্ষ্য ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমানো এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব বজায় রাখা।   বর্তমান পরিস্থিতি একাধিক সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে: * সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে * চীন–রাশিয়া জোট আরও শক্তিশালী হতে পারে * অথবা কূটনৈতিক সমঝোতার নতুন পথ তৈরি হতে পারে তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—হরমুজ প্রণালির এই সংকট কেবল আঞ্চলিক নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। আগামী দিনগুলোতে বেইজিং, মস্কো এবং তেহরানের সিদ্ধান্ত—এবং ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ—নির্ধারণ করবে বিশ্ব কোন পথে এগোবে: সংঘাতের দিকে, নাকি সমঝোতার দিকে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধে দরিদ্র
ইরান যুদ্ধে ত্রিমুখী সংকট : জ্বালানি, খাদ্য, অর্থনীতি,বিশ্বজুড়ে ৩ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নশীল দেশগুলো।  যুদ্ধের ছায়ায় দারিদ্র্যের ঢেউ: বৈশ্বিক সংকটের গভীরে অনুসন্ধান মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধবিমানের গর্জন থেমে গেলেও তার প্রতিধ্বনি এখন শোনা যাচ্ছে আফ্রিকার শুষ্ক গ্রাম, এশিয়ার উপকূলীয় শহর এবং ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর ভাঙা অর্থনীতিতে। একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তার মধ্যেই জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) সতর্ক করেছে—ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।  ত্রিমুখী সংকট: জ্বালানি, খাদ্য, অর্থনীতি ইউএনডিপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ বাস্তবতা—বিশ্ব এখন একযোগে তিনটি সংকটের মুখোমুখি: জ্বালানি ঘাটতি, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। এই ত্রিমুখী চাপ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য হয়ে উঠেছে এক নিঃশব্দ বিপর্যয়। যুদ্ধের পরবর্তী ছয় সপ্তাহে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এর মূল কারণ হরমুজ প্রণালি-তে সরবরাহ ব্যাহত হওয়া। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে    উন্নয়নের চাকা উল্টো দিকে ইউএনডিপির প্রধান এবং বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু সতর্ক করে বলেছেন, “যুদ্ধ থেমে গেলেও এর অর্থনৈতিক অভিঘাত থেকে যায়। সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো—যারা দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছিল, তারাই আবার এতে ফিরে যাচ্ছে।” এই বক্তব্য শুধু আবেগ নয়—পরিসংখ্যানও তা সমর্থন করে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে, যদি জ্বালানি উৎপাদনে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটে, তাহলে ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে। এখানে দারিদ্র্যের মানদণ্ড ধরা হয়েছে দৈনিক ৮.৩০ ডলারের কম আয়। ### 🍞 খাদ্য নিরাপত্তা: আসন্ন সংকট জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং সার সরবরাহে ঘাটতির কারণে খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু মূল্যবৃদ্ধি নয়—বরং একটি পূর্ণাঙ্গ খাদ্য নিরাপত্তা সংকটের পূর্বাভাস। বিশেষ করে যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল—এমন ৩৭টি দেশের অর্ধেকের বেশি দারিদ্র্য বৃদ্ধি ঘটবে। এই তালিকায় রয়েছে আফ্রিকা, এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো।  সমাধান কোথায়? ইউএনডিপি একটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ৬০০ কোটি ডলারের নগদ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে, যা সরাসরি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতে পৌঁছাবে। এই ক্যাশ ট্রান্সফার দারিদ্র্য প্রতিরোধে কার্যকর হলেও সংস্থাটি সতর্ক করেছে—অযাচিত ভর্তুকি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় এবং তা ধনী শ্রেণিকেও অপ্রয়োজনীয় সুবিধা দেয়।    বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া: কমছে সহায়তা এই সংকটের মাঝেই ধনী দেশগুলো তাদের বৈদেশিক সাহায্য কমিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলো ঋণের চাপ ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৫ সালে উন্নয়ন সহায়তা প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমে গেছে—যা সংকটকে আরও গভীর করছে।    স্থায়ী ক্ষতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে—এই সংঘাতের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। ডি ক্রুর ভাষায়, “উন্নয়নে বিনিয়োগ হলো সংঘাত প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। দারিদ্র্য কমানো মানে বিশ্বকে স্থিতিশীল করা।”  যুদ্ধের আসল মূল্য যুদ্ধের ময়দানে গোলা-বারুদের হিসাব রাখা সহজ, কিন্তু এর অর্থনৈতিক অভিঘাত মাপা অনেক কঠিন। ইরানকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত আবারও দেখিয়ে দিল—আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধ শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি ছড়িয়ে পড়ে খাদ্যের থালায়, জ্বালানির দামে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। যুদ্ধ থামলেও, এর ক্ষত বহুদিন রয়ে যাবে—বিশেষ করে সেইসব মানুষের জীবনে, যারা সবচেয়ে কম দায়ী, অথচ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।      

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ইরানের সব বন্দর অবরোধ শুরু মার্কিন বাহিনীর
ইরানের উপসাগরীয় বন্দর অবরুদ্ধ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বন্দর অবরুদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অবরোধ শুরু হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড। এর আগে মার্কিন বাহিনী জানায়, বিশ্বের যে কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজের ক্ষেত্রেই এই অবরোধ কার্যকর হবে। তারা স্পষ্ট করে বলে, যেসব জাহাজ ইরানের বন্দরের দিকে যাবে বা সেখান থেকে আসবে—সেগুলোকে আটকানো হবে। যদিও উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে না। মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, “মার্কিন সামরিক বাহিনী ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির পূর্বে আরব সাগরে অবস্থানরত সকল দেশের পতাকাবাহী জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে।” পোস্টে আরও বলা হয়, অনুমতি ছাড়া অবরোধকৃত এলাকায় কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে বা সেখান থেকে বের হলে সেটিকে পথিমধ্যে আটকানো, গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা কিংবা জব্দ করা হতে পারে। তবে ইরানের বন্দর ছাড়া অন্যান্য বন্দরে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই অবরোধ কার্যকর হবে না। এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের জবাবে পাল্টা হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি। বাহিনীটির এক মুখপাত্র বলেন, “পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের সব বন্দরের নিরাপত্তা থাকতে হবে, নয়ত কোনো বন্দর নিরাপদ থাকবে না।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ এবং ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ বলেও অভিহিত করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। দেশটি জানায়, ইরানের শত্রুদের কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে সরবরাহ করা হয়। উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের উৎপাদিত তেল ও গ্যাস মূলত এই পথেই রপ্তানি করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
চীনের ঋণ সহায়তায় প্রকল্প
বাংলাদেশে আট হাজার কোটি টাকার সমুদ্র প্রকল্প: প্রস্তুত অবকাঠামো, বন্ধ অপারেশন,অবকাঠামো পড়ে আছে অচল অবস্থায়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কক্সবাজারের মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল জ্বালানি অবকাঠামোগুলোর একটি—সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (SPM) প্রকল্প। গভীর সমুদ্র থেকে সরাসরি পাইপলাইনে জ্বালানি তেল খালাস করে দেশে পরিবহনের এই আধুনিক ব্যবস্থা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে আট হাজার কোটি টাকারও বেশি। অবকাঠামো সম্পূর্ণ, পরীক্ষামূলক চালানও শেষ—তবু প্রকল্পটি কার্যত অচল পড়ে আছে। প্রায় দুই বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি এই প্রকল্প। ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশ এখনো পুরনো, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ পদ্ধতিতে চলছে।   কী ছিল এই প্রকল্পের লক্ষ্য এসপিএম প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল—গভীর সমুদ্র থেকে বড় ট্যাংকারে আসা জ্বালানি তেল সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে মহেশখালীতে আনা, সেখানে সংরক্ষণ করা এবং সেখান থেকে আবার পাইপলাইনে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পাঠানো। বর্তমানে যে পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে তা হলো লাইটারেজ সিস্টেম—বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে করে কর্ণফুলী চ্যানেল হয়ে তেল আনা। এতে সময় বেশি লাগে, খরচও বেশি এবং কিছুটা অপচয়ও ঘটে। নতুন ব্যবস্থায় এই পুরো প্রক্রিয়াটি ১১ দিনের বদলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।   কী তৈরি করা হয়েছে মহেশখালীতে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে— গভীর সমুদ্রের ভাসমান বয়া (SPM পয়েন্ট) প্রায় ২২০ কিলোমিটার পাইপলাইন ব্যবস্থা মহেশখালীতে পাম্পিং স্টেশন ও ডিজেল জেনারেটর প্রায় ১০০ একর জমিতে স্টোরেজ সুবিধা ছয়টি বিশাল স্টোরেজ ট্যাংক এই ছয়টি ট্যাংকে একসঙ্গে প্রায় ২ লাখ টন তেল সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর মধ্যে তিনটি ক্রুড অয়েল এবং তিনটি ডিজেলের জন্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মজুত ক্ষমতা দিয়ে দেশের প্রায় এক মাসের ক্রুড অয়েল এবং এক সপ্তাহের ডিজেল চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব।   এত বড় অবকাঠামো কেন চালু হয়নি? ২০২৪ সালে নির্মাণ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে কমিশনিং সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু নিয়মিত অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় অপারেটর বা ঠিকাদার নিয়োগ এখনো সম্পন্ন হয়নি। জ্বালানি বিভাগ বলছে, এই ধরনের সিস্টেম পরিচালনার জন্য দেশে অভিজ্ঞ অপারেটর নেই। তাই বিদেশি ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই প্রক্রিয়া থেমে গেছে আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে। আগে বিশেষ বিধান আইনের আওতায় সরাসরি দরপত্র ছাড়া চীনা কোম্পানির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই বিশেষ আইন বাতিল হওয়ায় অপারেশন ও মেইনটেনেন্স (O&M) চুক্তিও আটকে যায়। ফলে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নতুন অপারেটর নিয়োগের চেষ্টা শুরু হলেও এখনো তা শেষ হয়নি।   অর্থনৈতিক ক্ষতি: প্রতিদিনের বিলম্বে কী হারাচ্ছে বাংলাদেশ প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আংশিকভাবে চালু থাকলেও অন্তত ৫০০ কোটি টাকার সাশ্রয় সম্ভব বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান। বর্তমানে লাইটারেজ ব্যবস্থায়— বেশি জাহাজ ব্যবহার করতে হচ্ছে সময় বেশি লাগছে পরিবহন খরচ বাড়ছে তেল অপচয়ের ঝুঁকি থাকছে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত খরচ আসলে প্রতিদিনই দেশের জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়াচ্ছে।   বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: শুধু অবকাঠামো নয়, কৌশলগত সম্পদ ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ম তামিম মনে করেন, প্রকল্পটি শুধু একটি পরিবহন ব্যবস্থা নয়, এটি একটি কৌশলগত জ্বালানি মজুত কেন্দ্রও হতে পারত। তার মতে, পাইপলাইন চালু থাকলে— লাইটারেজ নির্ভরতা কমত পরিবহন ক্ষতি হ্রাস পেত পরিবেশগত ঝুঁকি কমত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেত তিনি আরও বলেন, দুই লাখ টন স্টোরেজকে দেশের কৌশলগত জ্বালানি রিজার্ভ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ ছিল, যা এখনো কাজে লাগানো যায়। আরেক বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, এটি আধুনিক ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা হওয়া সত্ত্বেও পড়ে থাকলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—কেন এটি চালু করা যাচ্ছে না এবং কার গাফিলতিতে দেরি হচ্ছে। প্রশাসনিক অবস্থান: আশ্বাস বনাম বাস্তবতা জ্বালানি বিভাগ বলছে, প্রকল্প দ্রুত চালুর জন্য তারা আন্তরিকভাবে কাজ করছে। নতুন করে দরপত্র মূল্যায়ন চলছে এবং পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি গঠন করা হয়েছে, যারা ভবিষ্যতে এটি পরিচালনা করবে। কর্মকর্তাদের দাবি, অপারেশন ধীরে ধীরে স্থানীয় জনবল দিয়ে হস্তান্তরের পরিকল্পনা আছে। তবে বাস্তবতা হলো—নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো কেউ দিতে পারেনি।   তদন্তের প্রশ্ন: বিলম্ব কি শুধু প্রশাসনিক জটিলতা?   প্রকল্পটি সময়মতো চালু না হওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠছে— এত বড় প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও কেন অপারেটর নিয়োগ হয়নি? বিশেষ আইন বাতিলের পর বিকল্প পরিকল্পনা কি আগে থেকে ছিল? সময়মতো রূপান্তর না হওয়ায় কি বাড়তি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে? দায়িত্বে কারা ছিলেন এবং কোথায় সিদ্ধান্তগত বিলম্ব ঘটেছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি কেবল প্রযুক্তিগত নয়—এটি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতার উদাহরণও হতে পারে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায়।   প্রস্তুত অবকাঠামো, অপূর্ণ ব্যবস্থাপনা   মহেশখালীর এসপিএম প্রকল্প এখন এক অদ্ভুত অবস্থায় দাঁড়িয়ে—একদিকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আধুনিক অবকাঠামো, অন্যদিকে অচল অপারেশন। দেশ যখন জ্বালানি সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং আমদানি ব্যয় কমানোর চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন এই প্রকল্পটি কার্যকর হলে তা বড় স্বস্তি দিতে পারত। কিন্তু এখন এটি একটি বড় প্রশ্নের প্রতীক হয়ে আছে—বাংলাদেশ কি বড় অবকাঠামো নির্মাণে এগোচ্ছে, কিন্তু তা পরিচালনায় পিছিয়ে পড়ছে?  কিন্তু দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতায় এখনো সেটি বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ফুয়েল পাস
কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু: ঢাকায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, তাদের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) পরীক্ষামূলকভাবে এ অ্যাপ চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশনে—ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশন—মোটরসাইকেল মালিক ও চালকদের জন্য অ্যাপটি ব্যবহারযোগ্য করা হয়েছে। পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি চালু করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে জ্বালানি বিতরণে বিলম্বসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি নিচ্ছেন, যা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে অটোমেশন ও রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। সিস্টেমটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এতে ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিজিটালভাবে জ্বালানির বরাদ্দ এন্ট্রি দিতে পারবেন এবং কিউআর কোড স্ক্যান করে চালকরা নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি নিতে পারবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। স্মার্টফোন না থাকলেও ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে কিউআর কোড প্রিন্ট নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। সরকারের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে, অপচয় ও অনিয়ম কমবে এবং সংকটকালীন পরিস্থিতিতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি অবরোধ: ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি, কূটনীতির নতুন অগ্নিপরীক্ষা

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :    বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিরা—হরমুজ প্রণালি—এখন কার্যত অবরুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান–ইসরায়েল সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-এর ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা এই সংকটকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য সংস্থা ইউএনসিটিএডি-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়ন বলছে—এটি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি “সিস্টেমিক শক”। জাহাজ চলাচল: এক মাসে ৯৫% পতন ফেব্রুয়ারিতে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করত, মার্চে তা নেমে এসেছে মাত্র ৬টিতে। এটি শুধু পরিসংখ্যান নয়—এটি বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থার ভেঙে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত। তেল ও গ্যাস সরবরাহে সরাসরি ধাক্কা বিকল্প রুটে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি বন্দর, বিমান কার্গো ও লজিস্টিকসে চেইন-রিঅ্যাকশন  কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ? পারস্য উপসাগরকে বিশ্ব মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। অর্থাৎ, এখানে বাধা মানে— ইউরোপে জ্বালানি সংকট দক্ষিণ এশিয়ায় আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতি  সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু: সামরিক ঝুঁকি বনাম কূটনৈতিক অচলাবস্থা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ড্রোন, মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ফলে: কোনো দেশ সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে এগোতে চাইছে না বীমা প্রিমিয়াম ও ঝুঁকি ব্যয় আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক শিপিং কোম্পানিগুলো রুট এড়িয়ে যাচ্ছে কূটনৈতিক উদ্যোগ: লন্ডনের বৈঠক কিয়ার স্টারমার-এর উদ্যোগে যুক্তরাজ্য একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে, যেখানে প্রায় ৩৫টি দেশ অংশ নিচ্ছে। সভাপতিত্ব করবেন ইভেট কুপার। আলোচনার মূল বিষয়: নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা জরুরি পণ্য সরবরাহ পুনরায় চালু যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি: নতুন ভূ-রাজনৈতিক বার্তা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়—এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট বলেছেন: “এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমেরিকার কাজ নয়।” এই অবস্থান: ন্যাটোর ভেতরে বিভাজন বাড়াচ্ছে ইউরোপকে স্বনির্ভর নিরাপত্তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বৈশ্বিক নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি করছে  ইউরোপের প্রতিক্রিয়া: বলপ্রয়োগ নয়, সমন্বয় ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরাসরি ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন: বলপ্রয়োগে সমাধান “বাস্তবসম্মত নয়” নৌবাহিনী সরাসরি হামলার ঝুঁকিতে পড়বে যুদ্ধবিরতির পর ইরানের সঙ্গে সমঝোতাই একমাত্র পথ অর্থনৈতিক অভিঘাত: সামনে কী আসছে? ইউএনসিটিএডি সতর্ক করেছে: সম্ভাব্য ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি স্থায়ী বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি → পণ্যের দাম বাড়বে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সবচেয়ে ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়া ইউরোপ ভবিষ্যৎ চিত্র: তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্য ১. দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার বাজারে স্বস্তি ২. দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকবে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি ৩. সামরিক সংঘাত বিস্তার সরাসরি যুদ্ধ → বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ধস হরমুজ প্রণালীর এই সংকট এখন কেবল একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়—এটি বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হানা এক বহুমাত্রিক সংকট। কূটনীতি, সামরিক কৌশল এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা—এই তিনের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করছে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: বিশ্ব কি সংঘাতের পথে এগোবে, নাকি সমন্বিত কূটনীতির মাধ্যমে এই শিরা আবার সচল হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
দোকান–শপিংমল
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশজুড়ে রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ দোকান ও শপিংমল

ঢাকা, ২ এপ্রিল: দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। এখন থেকে দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব মোকাবিলায় এবং সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয় উদ্যোগকে সহযোগিতা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের সব দোকান ও শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ থাকবে। তবে হোটেল, ফার্মেসি, জরুরি সেবার দোকান এবং কাঁচাবাজার এই সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি)
এলপিজি বাজারে কৃত্রিম সংকট,দামে নৈরাজ্য:ভোক্তা নিঃস্ব, নজরদারি সংস্থাগুলো নিষ্ক্রিয়

ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা :  সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৩৪১ টাকা। অথচ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২০০০ থেকে ২২০০ টাকায়। এই বিশাল ব্যবধান শুধু বাজারের অস্থিরতা নয়—বরং এটি একটি সুসংগঠিত অনিয়মের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে ভোক্তা, খুচরা বিক্রেতা এবং নীতিনির্ধারকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভয়াবহ অসামঞ্জস্য। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা: “দাম কমে না, শুধু বাড়ে” লালবাগের বাসিন্দা আকরাম হুসাইন ২১শ ৫০ টাকা দিয়ে গ্যাস কিনেছেন, যেখানে গত মাসেই তিনি দিয়েছেন ১৫শ টাকা। উত্তরা, টঙ্গী, আজিমপুর—সব জায়গাতেই একই চিত্র। নাজির, একজন নিম্ন আয়ের চাকরিজীবী, বলেন— “তিন-চার দোকান ঘুরেও কম দামে পাইনি। ২২শ টাকা দিয়ে কিনেছি। গ্যাস কিনতেই যদি দুই হাজার চলে যায়, সংসার চালাবো কীভাবে?” অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি এলাকায় ভোক্তাদের ৬০০–৭০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি: “আমরাও ভুক্তভোগী” খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা নিজেরাই ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনছেন। একজন ব্যবসায়ী বলেন— “আমাদের বলা হচ্ছে সরবরাহ কম। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বিক্রিও বেশি দামে করছি।” কুমিল্লার এলপিজি ব্যবসায়ী নেতা আমানত উল্লাহর ভাষ্য— “কোম্পানি থেকে ৪০০–৪৫০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সরকারি দামে আমরাই পাই না।” অর্থাৎ, দাম বাড়ার দায় নিচে নামতে নামতে খুচরা পর্যায়ে এসে থামছে—কিন্তু উৎস অজানা।  সরকারি দাবি বনাম বাস্তবতা: বড় অসামঞ্জস্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বলছে: মার্চে সরবরাহ হয়েছে ১.৮৫ লাখ মেট্রিক টন (সর্বোচ্চ) সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই নিয়মিত দাম নির্ধারণ ও মনিটরিং চলছে কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—  যদি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে বাজারে এই অস্বাভাবিক দাম কেন? কৃত্রিম সংকট ও ‘প্যানিক বায়িং’—কার লাভ? অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে: বাজারে “সংকট” কথাটি ছড়িয়ে দিয়ে চাহিদা বাড়ানো হচ্ছে ভোক্তারা ভয় পেয়ে বেশি দামে কিনছেন  (আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা) এতে একটি আত্ম-পূরণকারী সংকট তৈরি হচ্ছে  এই পরিস্থিতি কারা তৈরি করছে—তা নিয়ে রয়েছে বড় প্রশ্ন।  বিশেষজ্ঞ মত: “নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতা” কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন: বিইআরসি এখন পর্যন্ত একজনেরও লাইসেন্স বাতিল করেনি প্রতিযোগিতা কমিশন ও ভোক্তা অধিদপ্তর কার্যত নিষ্ক্রিয় বাজারে ‘অলিগার্কি’ তৈরি হয়েছে—গুটিকয়েক ব্যবসায়ী নিয়ন্ত্রণ করছে তার ভাষায়: “এই ব্যবসা কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক টেন্ডারে নতুন লাইসেন্স দিতে হবে।”  গভীর বিশ্লেষণ: কোথায় সমস্যা? এই অনুসন্ধান তিনটি স্তরে বড় সমস্যার ইঙ্গিত দেয়— ১. সাপ্লাই চেইনে অস্বচ্ছতা কোম্পানি → ডিলার → খুচরা—এই চক্রে কোথায় দাম বাড়ছে তা স্পষ্ট নয় কোনো পর্যায়ে কার্যকর নজরদারি নেই ২. নিয়ন্ত্রণহীন বাজার ব্যবস্থা নির্ধারিত দাম বাস্তবায়নে ব্যর্থতা লাইসেন্স বাতিল বা জরিমানার নজির নেই ৩. সমন্বয়হীনতা বিইআরসি, ভোক্তা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন—সবাই দায় এড়াচ্ছে মাঠপর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান অভিযান নেই  সম্ভাব্য সমাধান: কী করা জরুরি? বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মত অনুযায়ী— কঠোর মনিটরিং ও তাৎক্ষণিক অভিযান অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় লাইসেন্স বাতিল সাপ্লাই চেইনে ডিজিটাল ট্র্যাকিং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে নতুন লাইসেন্স ভোক্তা পর্যায়ে অভিযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি   এলপিজি এখন শুধু জ্বালানি নয়—এটি হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন টিকে থাকার লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু। সরকারি নির্ধারিত দাম কাগজে থাকলেও বাস্তবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে অদৃশ্য শক্তি।  প্রশ্ন একটাই: এই নৈরাজ্যের দায় নেবে কে—আর কবে থামবে এই ‘নিয়ন্ত্রিত বিশৃঙ্খলা’?

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, কম দামের জ্বালানি আমদানির সুযোগ এখন সীমিত হয়ে পড়েছে এবং এতে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মেলনকেন্দ্রে ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের জন্য ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ইঙ্গিত করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ফলে রাশিয়ার মতো প্রতিযোগিতাহীন উৎস থেকে কম দামে জ্বালানি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। এর ফলে অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে তিন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে—তরল জ্বালানি সংকট, গ্যাসের ঘাটতি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন। এমন পরিস্থিতিতে বাজেটের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত অর্থসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য চাপে রয়েছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল মূল্যস্ফীতি কমছে না খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ছে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা দেশের বিদ্যমান আর্থিক দুর্বলতাকে আরও প্রকট করেছে। জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি তেল আমদানি বাড়ানো এবং দাম নিয়ন্ত্রণে কর ও শুল্ক কমানোর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সরকারি ব্যয় কমানো, ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস এবং অপ্রয়োজনীয় প্রণোদনা ধাপে ধাপে কমানোর ওপর জোর দেন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পুনর্মূল্যায়নে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, “এডিপি পরিষ্কার না করলে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা বাড়বে না।” সরকারি কলকারখানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। এতে সরকারের দায় কমবে এবং আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। রাজস্ব খাতেও বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। কর অবকাশ কমানো, করজাল সম্প্রসারণ, ডিজিটালাইজেশন এবং সম্পদের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে কর অবকাশের কারণে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬.৮৭ শতাংশ। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে ৩২ হাজার ২৩০ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির তৌফিকুল ইসলাম খান ও নাজিবা মোহাম্মদ আলতাফসহ অন্যান্য গবেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
জ্বালানি তেল
জ্বালানি মজুত যথেষ্ট, তবু বাজারে অস্বস্তি : কৃত্রিম সংকটের পেছনে ‘সিন্ডিকেট’?

ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা :  সরকার বলছে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই—বরং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবু বাস্তবতা ভিন্ন: দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, তেল না পাওয়ার অভিযোগ, আর কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রির ঘটনা জ্বালানি পরিস্থিতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। জ্বালানি মজুত যথেষ্ট, তবু বাজারে অস্বস্তি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে। চলতি সপ্তাহে আরও ৫৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ডিজেল আসছে, আর এপ্রিল মাসে আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে আরও ১ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন। তাহলে সমস্যা কোথায়? সংসদেই উঠে এলো ‘তেল না পাওয়ার’ অভিযোগ জাতীয় সংসদে একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, তারা নিজেরাই পাম্পে গিয়ে তেল পাননি। অনেক এলাকায় পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ না থাকলেও বোতলে করে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি প্রকৃত সংকট নয়; বরং অতিরিক্ত কেনা, মজুত প্রবণতা এবং গুজবের কারণে তৈরি হয়েছে কৃত্রিম চাপ। কৃত্রিম সংকটের পেছনে ‘সিন্ডিকেট’? গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জ্বালানি খাতে সক্রিয় রয়েছে অন্তত দুটি বড় সিন্ডিকেট: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক চক্র ঢাকাভিত্তিক সরবরাহ ও বিতরণ চক্র তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: ট্যাংক লরি থেকে তেল চুরি ডিপোতে অতিরিক্ত তেল লোড দেখিয়ে আত্মসাৎ পাম্পে মজুত রেখে বিক্রি বন্ধ রাখা দাম বাড়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি বিশেষ করে ‘সাপ্লাই নেই’ দেখিয়ে পাম্প বন্ধ রাখার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। অভিযান: ৩ হাজারের বেশি রেইড, লাখ লাখ লিটার জব্দ সরকার ইতোমধ্যে সারা দেশে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। মার্চ মাসে: ৩,১৬৮টি অভিযান উদ্ধার: ২ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি ঢাকায় একদিনেই জব্দ প্রায় ১,২০০ লিটার চট্টগ্রাম, জামালপুর, শেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অবৈধ মজুতের ঘটনা ধরা পড়েছে। কোথাও পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখার প্রমাণও মিলেছে। নদী ও সাগরে চোরাই তেলের বড় কারবার জ্বালানি চোরাচালানের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রিত হয় নদী ও সমুদ্রপথে। জাহাজ থেকে তেল চুরি ড্রাম ও নৌযানে গোপন সংরক্ষণ সীমান্ত দিয়ে পাচার ‘সিস্টেম লস’ নামে পরিচিত একটি কাঠামোগত দুর্বলতাকে ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার তেল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। এর প্রভাব পড়ছে আমদানি-নির্ভর বাংলাদেশেও। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জটিলতা জ্বালানি খাতে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগও এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে: অতিরিক্ত মুনাফার লোভ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা প্রশাসনের ভেতরের দুর্বলতা সমাধান কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে সংকট এড়াতে প্রয়োজন: পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ডিজিটাল অটোমেশন ট্যাংক লরিতে জিপিএস ট্র্যাকিং ডিপো ও পাম্পে কড়া নজরদারি পাইপলাইনে জ্বালানি পরিবহন বাড়ানো দুর্নীতিতে জড়িতদের লাইসেন্স বাতিল   সরকারের হিসাব বলছে—সংকট নেই। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে—সমস্যা আছে, এবং তা সরবরাহ নয়, বরং ব্যবস্থাপনা, সিন্ডিকেট ও অনিয়ন্ত্রণে।   এই ব্যবধানই এখন জ্বালানি ইস্যুকে দেশের অন্যতম আলোচিত ও সংবেদনশীল বিষয়ে পরিণত করেছে।      

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0