ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুড়িগ্রাম সদরের আরাজি পলাশবাড়ী গুচ্ছগ্রামের খাস জমি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের লিখিত নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকারি বন্দোবস্তকৃত জমি ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদর ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অন্তত ৭২ একর খাস জমি ধাপে ধাপে বেসরকারি মালিকানায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এতে গুচ্ছগ্রামের শতাধিক পরিবার উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পরও নামজারি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও জেলা প্রশাসনের আর এম শাখা সূত্রে জানা গেছে, আরাজি পলাশবাড়ী মৌজার এস এ দাগ ২০০১, ২০৭৩ ও ২০৭৪ নম্বর জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। এই জমির ওপরই কয়েক দশক ধরে গড়ে উঠেছে সরকারি গুচ্ছগ্রাম আবাসন প্রকল্প। গুচ্ছগ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, এসব খাস জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে “ভ্রমাত্মক রেকর্ডভুক্ত” করা হয়। পরে রেকর্ড সংশোধনের দাবিতে তারা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে জেলা প্রশাসন সদর এসি ল্যান্ডকে লিখিত নির্দেশ দেয়—আর এস রেকর্ড সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমির সব কার্যক্রম এস এ রেকর্ড অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণও সেই অনুযায়ী চালিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নির্দেশনা কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। বর্তমান এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলাম ২০২৪ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে আর এস রেকর্ডের ভিত্তিতে ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে গুচ্ছগ্রামবাসীরা আবারও জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। পরে ২০২৫ সালের মার্চে জেলা প্রশাসন একই ধরনের আরেকটি নির্দেশনা জারি করে। “টাকা নিয়ে জমি দিয়ে দিচ্ছে” গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মো. ফারুক অভিযোগ করে বলেন, “ডিসি অফিসের নির্দেশনার পর জমির খাজনা দিতে গেছি। এস এ অনুযায়ী খাজনা নিচ্ছে না। শুনতেছি তলে তলে টাকা নিয়ে অন্যদেরকে জমি দিয়ে দিচ্ছে।” আরেক বাসিন্দা হাছেন আলী বলেন, “সরকার জমি দিছে, ঘর দিছে। বন্দোবস্ত দেওয়া খাস জমি কীভাবে অন্যদের দিল, এই প্রশ্ন আমাদেরও।” একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার। দীর্ঘদিনের পুনর্বাসন প্রকল্প অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে প্রথম দফায় ১৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে রেজিস্ট্রিকৃত কবুলিয়াতের মাধ্যমে এই এলাকায় পুনর্বাসন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে আরও ২০টি পরিবারকে ব্যারাক ঘরে পুনর্বাসন করা হয়। ২০২১ সালে সরকার পাকা ঘর নির্মাণ করে আরও ২৪টি পরিবারকে সেখানে বসবাসের সুযোগ দেয়। এছাড়া ২০০৯ সালে বীর প্রতীক তারামন বিবিকেও ওই মৌজার ১ একর খাস জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি পুনর্বাসন প্রকল্প গড়ে ওঠার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী চক্র জমিগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সরকারি খাস জমিকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্ত করা হয়। “চিঠির বিষয়ে জানা নেই” পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম শেখ প্রথমে বলেন, “চিঠির বিষয়ে আমার জানা নেই। প্রয়োজনে নামজারি বাতিল করা হবে।” তবে পরে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে বলেন, “আর এস গেজেট হওয়ায় এস এ অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন কর নেওয়ার সুযোগ নেই।” অন্যদিকে এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, “আর এস রেকর্ড অনুযায়ী নামজারি করা হচ্ছে। নামজারি করার সময় আমরা এস এ রেকর্ড দেখি। সেখানে সরকারি স্বার্থ থাকলে নামজারি স্থগিত রাখা হয়।” তবে সরকারি খাস জমি কীভাবে ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি হচ্ছে—এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এমন কোনো চিঠি আমি পাইনি। পেলেও বিধিসম্মত নয় জানিয়ে উত্তর লিখতাম।” প্রশাসনের নীরবতা এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কয়েক দশক ধরে সরকারি পুনর্বাসন প্রকল্পে বসবাস করা পরিবারগুলো ভূমিহীন হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাস জমি নিয়ে রেকর্ড জটিলতা ও প্রশাসনিক অনিয়ম শুধু ভূমিহীন মানুষের নিরাপত্তাকেই হুমকিতে ফেলছে না, বরং সরকারি পুনর্বাসন নীতির বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
বরিশাল অফিস : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বরিশাল জেলায় নির্বাচন ব্যয়ের অর্থ ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জেলার রিটার্নিং অফিসার এবং বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন। একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকৃত বাস্তবতার তুলনায় দুর্গম ভোট কেন্দ্র ও ভোট কক্ষের সংখ্যা অতিরিক্ত দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে বরাদ্দকৃত অর্থের একটি অংশ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন আলোচনা প্রশাসনের অভ্যন্তরে রয়েছে। তবে এ অভিযোগের আর্থিক পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ৬২ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ১৩ কোটি টাকার বরাদ্দ ও ব্যয়ের কাঠামো চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা–১) রাশেদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি স্মারকের মাধ্যমে বরিশাল জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনার জন্য মোট ১৩ কোটি ১১ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দপত্র অনুযায়ী, সাধারণ ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহন ও ফেরত আনার জন্য কেন্দ্রপ্রতি ৫ হাজার টাকা এবং দুর্গম কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ৭ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্গম কেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যায় ভিন্নতা বরিশাল জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসারের একটি স্মারক অনুযায়ী, জেলায় দুর্গম ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৫টি এবং দুর্গম ভোট কক্ষ ১,৮৯৩টি। তবে বিভিন্ন উপজেলা নির্বাচন অফিসের নথিতে এই সংখ্যায় অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়— মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় দুর্গম কেন্দ্র প্রথমে ১০০টি উল্লেখ থাকলেও পরে তা সংশোধন করে ৫৫টি করা হয়। মুলাদীতে ৭২টি কেন্দ্রের সংখ্যা পরে কমিয়ে ৩৯টি করা হয়। হিজলায় ৪৯টি কেন্দ্র কমিয়ে ২৩টি করা হয়। বানারীপাড়া, উজিরপুর, বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ ও বরিশাল সদরে দুর্গম কেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যা ভিন্ন ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গৌরনদী উপজেলায় দুর্গম কেন্দ্র ও কক্ষ শূন্য দেখানো হয়েছে। নথিগুলোতে একাধিকবার কাটাছেঁড়া ও সংশোধনের বিষয়টি দেখা গেলেও এসব পরিবর্তনের অনুমোদন কে দিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অর্থ না পেয়েও বিল-ভাউচার জমার অভিযোগ একাধিক সূত্রের দাবি, কিছু উপজেলা পর্যায়ে এখনো নির্বাচনী ব্যয়ের অর্থ পৌঁছায়নি, যদিও সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, “জেলা অফিসে ডেকে বিল-ভাউচার জমা দিতে বলা হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো অর্থ হাতে পাইনি।” তবে এই বক্তব্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক বদলি নিয়ে প্রশ্ন সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, নির্বাচনকালীন সময়ে কিছু কর্মকর্তার পদায়ন ও বদলিকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থসংক্রান্ত তথ্য বা অনিয়ম নিয়ে জানতেন—এমন কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন শাখা বা জেলায় বদলি করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় অনীহা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অনেকেই ফোন রিসিভ করেননি বা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, “নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।” এরপর তিনি কল কেটে দেন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসন বা রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যা এখনো স্পষ্ট নয় বর্তমানে যেসব প্রশ্নের উত্তর অনিশ্চিত রয়ে গেছে— দুর্গম কেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যা কেন একাধিক নথিতে ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হলো সংশোধিত নথির অনুমোদন কে দিয়েছে বরাদ্দকৃত অর্থ মাঠপর্যায়ে পৌঁছেছে কি না এবং অভিযোগ অনুযায়ী অর্থ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না বরিশালে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয় সংক্রান্ত এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন ও অসমর্থিত। প্রশাসনের অভ্যন্তরে আলোচনা ও নথিগত ভিন্নতার বিষয়টি সামনে এলেও, এর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। এই মুহূর্তে সব অভিযোগই প্রাথমিক পর্যায়ের দাবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণের জন্য সরকারি ও স্বাধীন তদন্তের অপেক্ষা রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খোয়াসাগর দিঘি থেকে গভীর রাতে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে দালাল বাজার এলাকার দিঘিতে জেলেদের মাধ্যমে জাল ফেলে মাছ তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও হাবিবুর রহমানের নির্দেশেই এই মাছ ধরা হয় এবং পরে সরকারি গাড়িতে তা নিয়ে যাওয়া হয়। একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে জেলেদের মাধ্যমে দিঘিতে মাছ ধরার দৃশ্য দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই রাতে প্রায় দুই টন মাছ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রুই, কাতল, চিতল, আইড় ও পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ ছিল। কয়েকটি চিতল মাছের ওজন ৭-৮ কেজি পর্যন্ত হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দিঘি থেকে ধরা অন্তত ১১২ কেজি তেলাপিয়া মাছ স্থানীয় দুই ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। একজন ব্যবসায়ী ৪২ কেজি এবং অন্যজন ৭০ কেজি মাছ পেয়েছেন। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন জানিয়েছেন, দিঘি থেকে ধরা মাছ এতিমখানায় দেওয়া হয়েছে এবং কিছু মাছ বিক্রিও করা হয়েছে। তবে মোট কত মাছ ধরা হয়েছে, কত টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে বা কতটা দান করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। খোয়াসাগর দিঘি প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো, প্রায় ২৫ একর এলাকায় বিস্তৃত। একসময় এটি পৌরসভার মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হলেও প্রায় এক দশক আগে জেলা প্রশাসনের অধীনে নেওয়া হয়। এরপর থেকে দিঘির ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ রয়েছে। রাতের অন্ধকারে মাছ ধরা, সরকারি সম্পদের ব্যবহারে অস্পষ্টতা এবং যথাযথ তথ্য না দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
১৪টি জেলা পরিষদে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর আওতায় এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদের স্বাক্ষরে জারি করা এ আদেশে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকায় মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ, গাজীপুরে চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী, ফেনীতে অধ্যাপক এম এ খালেক এবং ফরিদপুরে মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ। এছাড়া নীলফামারীতে মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, লালমনিরহাটে এ কে এম মমিনুল হক, পাবনায় মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম, নড়াইলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান আলেক এবং বরগুনায় মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা দায়িত্ব পেয়েছেন। জামালপুর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, হবিগঞ্জ ও চাঁদপুর জেলাতেও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রশাসকরা জেলা পরিষদ আইনের আওতায় চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি অনুযায়ী ভাতা প্রাপ্য হবেন। সরকার জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করেছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বরিশাল: বরিশালসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে ৫টি তেল ডিপোতে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে একজন করে প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বরিশালের ২৯টি পেট্রোল পাম্পে এই কর্মকর্তারা সরেজমিনে জ্বালানির মজুত, বিক্রি ও বিপণন ব্যবস্থা তদারক করছেন। তাদের কার্যক্রম তদারকি করছেন সংশ্লিষ্ট ইউএনও এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরা। ভ্রাম্যমাণ আদালতও ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমন জানিয়েছেন, এলাকায় জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। তিনি বলেন, “ঈদের আগে বাড়তি যাত্রী পরিবহনের কারণে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, তবে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কিছু মোটরবাইকের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতায় প্যানিক তৈরি হলেও, কর্মকর্তারা বলছেন, কাগজপত্র, লাইসেন্স ও হেলমেট থাকলে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। জেলা প্রশাসকও এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাই জানিয়েছেন। বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কৃষি সেচে ডিজেল সরবরাহ। দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৪ লাখ হেক্টরের বোরো ধানের সেচে ৮৭ হাজার পাওয়ার পাম্পের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজারই ডিজেল চালিত। প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত সেচে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট দেখা দেয়নি। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটর করছে। কৃষি মন্ত্রণালয় আশাবাদী, চলতি রবি মৌসুমে ৪ লাখ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদন সম্ভব। জেলা প্রশাসক ২৮ মার্চ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে সরকারি কর্মকর্তাদের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের মনিটরিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বরিশাল মহানগরী ও সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা ও খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ট্যাগ অফিসাররা পাম্পে নিয়মিত তদারকি করবেন এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে বাধ্য থাকলেও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে ‘কনডম’ পাওয়াকে কেন্দ্র করে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিনভর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে তাঁর অফিসকক্ষে রেখেই তালাবদ্ধ করে রাখেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-এর একটি দল অস্থায়ীভাবে কলেজের ছাত্রী হোস্টেল ভবনে অবস্থান নেয়। সে সময় হোস্টেলে কোনো ছাত্রী ছিলেন না। পরবর্তীতে ভবনের বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে সেনা সদস্যরা কয়েকটি কনডমের প্যাকেট দেখতে পান বলে কলেজের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে অনৈতিক কার্যক্রমের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রিভার ভিউ পার্ক থেকে মিছিল, কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান বুধবার বেলা ১১টার দিকে জামালগঞ্জ রিভার ভিউ পার্ক এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে অবস্থান নেয়। বিকেল পর্যন্ত সেখানে চলে প্রতিবাদ কর্মসূচি। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বিষয়টি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কলেজ প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। আগে থেকেই ছিল অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রী হোস্টেলের ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। অতীতেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পদক্ষেপ, দুই শিক্ষক অব্যাহতি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে কলেজের হল সুপার মুজিবুর রহমান ও ইতিহাস বিভাগের প্রধান পঙ্কজ বর্মণকে হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল বলেন, দায়িত্বশীলরা আগে থেকেই বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতো না। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তদন্তের অগ্রগতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয়রা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।