ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ওবায়দুল ইসলামকে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে একদল শিক্ষার্থী তার কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলিয়ে এ অবরোধ সৃষ্টি করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তিনি মুক্ত হন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, দুপুরে নিজ কার্যালয়ে অবস্থানকালে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী তার কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। শিক্ষার্থী এইচ এম সামিউল নাসে অভিযোগ করেন, প্রকল্প পরিচালক মাসে দু-একবার এসে কাজ পরিদর্শন করে চলে যান এবং অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেন। তার দাবি, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। এসব বিষয় প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি পাল্টা দাবি করেন, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চলমান প্রকল্পের বিল থেকে ১ শতাংশ অর্থ দাবি করেন। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়। একই দাবিতে গত ৭ এপ্রিলও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, ছাত্রদলের নেতারা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক দুর্নীতি করছেন। কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করার অনুরোধ উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তিনি দাপ্তরিক কাজে বরিশালে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানার পর তিনি প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। উপাচার্য আরও জানান, ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যার প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেশ কিছু কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ৯১ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে ২৯টি ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এসব কমিটি অনুমোদন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল, রবীন্দ্র, কিশোরগঞ্জ ও পুণ্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আংশিক কমিটি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত কমিটি এবং ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুর মেডিকেল কলেজে আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম—এই চার ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, জামালপুর মহানগর এবং নেত্রকোনা, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি ও মানিকগঞ্জ জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও মহানগরে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কলেজ পর্যায়ে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং জয়পুরহাট সরকারি কলেজ, হাজী মিছির আলী ডিগ্রি কলেজ ও নারায়ণগঞ্জ কলেজে আংশিক কমিটি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানীর ঢাকা কলেজে নতুন করে বর্ধিত কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। সংগঠনের গতিশীলতা বাড়াতেই এই ব্যাপক রদবদল ও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।
আব্দুল কাইয়ুম আরজু : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পৌর যুবদলের নবগঠিত ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পৌর এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদকসহ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা “পকেট কমিটি মানি না, মানবো না” স্লোগান দেন এবং বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের দাবি জানান। সমাবেশে বক্তব্য দেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, পৌর যুবদল নেতা হারুন মুসুল্লি, আবুবকরসহ আরও অনেকে। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে গঠিত এই কমিটি দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক নীতিমালার পরিপন্থী। তাদের দাবি, নতুন কমিটিতে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সংগঠনের জন্য বিব্রতকর ও প্রশ্নবিদ্ধ। ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রলীগের পদে থাকা শাকিব নামের একজনসহ বহিষ্কৃত অন্তত তিনজনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, শাকিব পূর্বে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং জেলা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিকে পৌর ছাত্রদলের রানিং আহ্বায়ক জুবায়ের আহমেদ রিয়াজকে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আহমেদ বলেন, সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একাধিক সংগঠনে দায়িত্বে থাকতে পারেন। তবে দল চাইলে যেকোনো একটি পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিতে পারে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ ফারুক মীর। তিনি বলেন, ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেই ৭১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সবাইকে পদ দেওয়া সম্ভব নয়। যারা পদ পাননি, তাদের অনেকেই ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন। উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি কুয়াকাটা পৌর যুবদলের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন। সংগঠনের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। নতুন কমিটিতে সৈয়দ মো. ফারুককে সভাপতি এবং মো. জহিরুল ইসলাম মিরনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলের মাধ্যমে একটি আংশিক (সুপার ফাইভ) কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যা প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, দাবি মানা না হলে তারা কমিটি থেকে পদত্যাগসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। কুয়াকাটা পৌর যুবদলের নতুন কমিটি ঘিরে সৃষ্ট এই বিতর্ক এখন স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তৃণমূলের ক্ষোভ এবং নেতৃত্বের অবস্থানের মধ্যে তৈরি এই দূরত্ব কত দ্রুত কমে—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘গুপ্ত’ শব্দকে কেন্দ্র করে ছাত্ররাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও অন্যান্য ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি গ্রাফিতি এবং মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। মূলত ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল এবং বিরোধী দল-সংশ্লিষ্ট ছাত্রশিবিরের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ধারাবাহিকতায় নতুন করে এই উত্তেজনার সূচনা হয়। দুই পক্ষই একে অপরকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ ও সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ করছে। গত কয়েক দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা ও মুছে দেওয়াকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একই সময়ে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে দেয়াল লেখা নিয়ে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। এসব ঘটনায় দেশীয় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগও উঠেছে। চট্টগ্রামের ঘটনার পর শাহবাগ, পাবনার ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি প্রচারণা চালাচ্ছে। ছাত্রদল অভিযোগ করছে, শিবির ‘গুপ্তভাবে’ ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের ভেতরে প্রবেশ করে রাজনৈতিক সহিংসতা চালিয়েছে। অন্যদিকে শিবির এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তারা প্রকাশ্য রাজনীতি করতে না পারার কারণে দীর্ঘদিন আড়ালে ছিল এবং এখন তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে জাতীয় রাজনীতিতেও। সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আলোচনার সময় দুই পক্ষের সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় ও হট্টগোল হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ক্যাম্পাসভিত্তিক এই সংঘর্ষ এখন আর শুধু শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা জাতীয় রাজনৈতিক উত্তেজনায় রূপ নিচ্ছে। সাবেক সাংবাদিক মাসুদ কামাল মনে করেন, “গুপ্ত শব্দ ঘিরে বিতর্কের সমাধান রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে হতে পারত। কিন্তু পরিস্থিতি যেভাবে সহিংসতার দিকে যাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক।” অন্যদিকে দুই ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতারা একে অপরকে দোষারোপ করে পরিস্থিতির জন্য দায় চাপাচ্ছেন।
ইবরাহীম সোহেল, বরগুনা : বরগুনা সরকারি কলেজের দেয়ালজুড়ে গুপ্ত গুপ্ত সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখার ঘটনা ঘটেছে। এসব স্লোগানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের প্রধান ফটক সহ বিভিন্ন একাডেমিক ভবন এবং আশপাশের দেয়ালে একাধিক রাজনৈতিক স্লোগান লেখা হয়েছে। স্লোগানগুলোতে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, সকালে ক্যাম্পাসে এসে হঠাৎ করেই এসব লেখা দেখতে পান তারা। তবে কে বা কারা এসব লিখেছে, তা নিশ্চিতভাবে কেউ বলতে পারছেন না। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসটি অনেক সুন্দর ছিলো এখন অনেক নোংরা কথাবার্তা লিখে অসুন্দর করে তুলছে। তবে দেয়ালে লেখার প্রবণতা দীর্ঘদিনের হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। শুভঙ্কর নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজের সুন্দর দেয়াল গুলো বিভিন্ন শ্লোগান লিখে নষ্ট করে রেখেছে আসলে এটা দুঃখজনক। আমরা কলেজের সুন্দর একটা পরিবেশ চাই। এসময় তিনি আরও বলেন, ছাত্র দলের নেতারা এমন কর্মকাণ্ড করে আবার সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে পোস্টও করে। তবে এবিষয়ে ছাত্রদল নেতা ও কলেজ ছাত্র দলের আহবায়ক আবু হানিফের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করা হয় "গুপ্তের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও মব কালচারের প্রতিবাদে দেয়াল লিখন কর্মসূচি! আর নয় গুপ্ত ক্যাম্পাস থাকবে মুক্ত। ২২-০৪-২০২৬" এবিষয়ে বরগুনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.মো. মতিউর রহমান বলেন, আমি কলেজটিকে সুন্দর করে সাজিয়ে ছিলাম। তবে কলেজ ছাত্রদের আর সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্বও তাদের সেখানে তারা লেখালেখি করলে আমাদের করার কিছু নাই। কারন ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ নয় তাই সকলের জন্য উন্মুক্ত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম। তবে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট এক নেতার ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ৩৬ জন মনোনীত প্রার্থীর তালিকায় নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম রয়েছে ৩২ নম্বরে। নাদিয়া বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মরহুম আনোয়ার হোসেন এবং জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে। শিক্ষাজীবনে তিনি দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকার বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। রাজনৈতিকভাবে নাদিয়া পাঠান পাপন ২০০০ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কলেজে পড়াকালীন তিনি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য। দলীয় সূত্র বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার পুলিশি অভিযান ও হামলার মুখে পড়েন। এদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা তার ফেসবুক পোস্টে নাদিয়ার মনোনয়নকে “রাজনীতিতে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের উদাহরণ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি নাদিয়ার মায়ের দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার কথা তুলে ধরে লিখেছেন, ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান সত্ত্বেও বিজয়নগরের সন্তান হিসেবে নাদিয়াকে অভিনন্দন জানানো উচিত। স্থানীয় পর্যায়ে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে অনেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে নানা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, কিন্তু তখন এসব প্রশ্ন তোলা হয়নি। তার দাবি, দলীয় নেতৃত্ব যাচাই-বাছাই করেই তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখন তার লক্ষ্য দলের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করা।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সিনিয়র সাংবাদিককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক কালাম তালুকদারকে রাতে গোপালগঞ্জের ২৫০-শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত কালাম তালুকদার কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। তিনি রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীফলবাড়ি গ্রামের প্রয়াত জবেদ আলী তালুকদারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিক কালাম তালুকদার জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার খবর সংগ্রহ করতে তিনি হলরুমে যান। সভা চলাকালে কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ, সদস্য সচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা এবং ধারাবাশাইল সরকারি আদর্শ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হামিম বিশ্বাসসহ ১০-১২ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং টেনে-হিঁচড়ে নিচতলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা সাংবাদিক কালামকে উপজেলায় না যাওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোরা আর সাংবাদিকতা করতে পারবি না। তোদের যেন আর কোথাও না দেখি।’ পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বারবার ফোন করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গোপালগঞ্জের জেলা-উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ-জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বরিশাল: বরিশালের বানারীপাড়ায় পুরনো সরকারি ব্রিজের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত মালামাল চুরির অভিযোগে সদর ইউনিয়নের ছাত্রদল ও যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিহাদ আকন (২০) এবং ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. সানি (২২)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতের দিকে বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের গাভা এলাকা থেকে ব্রিজ নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল চুরি করে ট্রলারযোগে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিদ্ধার্থের নেতৃত্বে পুলিশ বানারীপাড়া ফেরিঘাট সংলগ্ন নতুন ব্রিজের নিচে, সন্ধ্যা নদীর মোহনায় অবস্থান নেন। রাত প্রায় ৩টার দিকে সন্দেহভাজন ট্রলারটি সেখানে পৌঁছালে পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে চারটি লোহার রেলপাট, একটি ডিজেল ইঞ্জিন, একটি অক্সিজেন গ্যাস সিলিন্ডার, ব্রিজের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাব এবং চুরির সরঞ্জামসহ ট্রলারটি জব্দ করে। এসময় ট্রলারে থাকা জিহাদ আকন ও সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছেন, তারা গাভা এলাকা থেকে এসব মালামাল চুরি করে নিয়ে আসছিলেন। ঘটনার বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার জিহাদ ও সানিসহ চারজনকে নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গ্রেপ্তারদের বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলমান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল গণপূর্ত বিভাগীয় কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া-এর রুহের মাগফিরাত কামনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের হিসাব সহকারী ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হাসান রুপক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মজিবর রহমান সারোয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব নুরুল আমীন, বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালেদ হোসাইন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মানিক লাল দাস, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম, মো. আবুল বাসার ও শাহ আলম। এছাড়া বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তরিক, সাকিবুল হাসান রাসেল, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেলসহ বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, দেশ পরিচালনায় তার অবদান এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।
মাত্র ৪৭ বছরের জীবনে তারুণ্যের পুরো সময়টাই কেটেছে মামলা, জেলখানা, আদালতের বারান্দা আর লুকিয়ে-পালিয়ে। ১৭ বছরের শাসনামলে তার বিরুদ্ধে হয়েছে ১৩০টিরও বেশি মামলা। রিমান্ডে নিয়ে ১৭ বছরে ১২৩ দিন পুলিশি নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে গুম বা খুন হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক ছিল নিত্যসঙ্গী। আজন্ম বিএনপির রাজনীতি করা সেই রাজিব আহসান এখন বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী। দায়িত্ব পেয়েছেন সড়ক-সেতু-রেলপথ ও নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের। বরিশাল অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ অবহেলার প্রেক্ষাপটে তার এ নিয়োগে আশাবাদী দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। শৈশব ও শিক্ষা জীবন বরিশালের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জে জন্ম রাজিব আহসানের। বাবা মিজানুর রহমান ছিলেন স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পাতারহাট জুবলী ও টিটিসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। পরে জুবলী ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিক এবং পাতারহাট আরসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় আরসি কলেজ থেকেই। কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ক্যাম্পাসে ছিলেন তুখোড় ছাত্রনেতা—প্রথমে কবি জসীম উদদীন হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের হেলাল-বাবু কমিটিতে সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে প্রচার ও সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০১৫ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হন। বর্তমানে তিনি এ দায়িত্বে রয়েছেন। নির্যাতন, কারাবাস ও সংগ্রামের দিনগুলো রাজিব আহসান আওয়ামী শাসনামলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত রাজনৈতিক নেতাদের অন্যতম হিসেবে পরিচিত। ১৭ বছরে প্রায় প্রতিদিনই তার বাসায় চলতো পুলিশের হানা। দুই বোন ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ছোট্ট পরিবারটি ছিল আতঙ্কে। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়ে প্রায় চার বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। রিমান্ডে নিয়ে চালানো হয়েছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। তার ঘনিষ্ঠরা জানান, আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে কত রাত যে নদীর মধ্যে ভাসমান জেলে নৌকায় কাটাতে হয়েছে, তার হিসাব নেই। একবার পটুয়াখালীতে গ্রেফতারের পর তাকে গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল হত্যার পর গুম করার। গণমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখাতে বাধ্য হয় পুলিশ। জাতীয় সংসদ সদস্য থেকে প্রতিমন্ত্রী সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান রাজিব আহসান। ৫৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তীতে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে সড়ক-সেতু-রেলপথ ও নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। বরিশালের মানুষের প্রত্যাশা বরিশাল নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, সড়ক ও নৌ-যোগাযোগে বরিশাল বিভাগ সব সরকারের আমলেই অবহেলিত। এ জেলা থেকে আগে কখনো সড়ক, সেতু বা নৌ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাননি কেউ। নতুন প্রতিমন্ত্রীর কাছে তাই অনেক প্রত্যাশা। বিশেষ করে— ঢাকা-কুয়াকাটা এক্সপ্রেস সড়ক কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন ভোলা-বরিশাল সেতু ঢাকা-কুয়াকাটা রেল সংযোগ এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া রাজিব আহসান বলেন, “প্রথমেই কৃতজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি। আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার যোগ্য মনে করেছেন। কতদূর কী পারব জানি না, তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে মানুষের ইচ্ছা পূরণের।” দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় দীর্ঘ নির্যাতন-সংগ্রামের পথ পেরিয়ে দায়িত্বের আসনে বসা রাজিব আহসানকে ঘিরে বরিশাল অঞ্চলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পুরোটা সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকা এই নেতার কাছে উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।