Brand logo light

চাঁদাবাজি

বাউফল থানা
বাউফলে তরমুজবোঝাই ট্রলার ছিনতাই: উপখাদ্য পরিদর্শক অলিউল্লাহ গ্রেফতার

পটুয়াখালী:  পটুয়াখালীর বাউফলে তরমুজবোঝাই ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চাঁদাবাজির মামলায় মো. অলিউল্লাহ (৪৩) ওরফে অলি নামের এক উপখাদ্য পরিদর্শককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (রাত ১০টা) বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত অলিউল্লাহ মির্জাগঞ্জ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপখাদ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। তিনি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কয়েকজন কৃষক দীর্ঘদিন ধরে বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করে আসছিলেন। চলতি মৌসুমে তারা চর দিয়ারাকচুয়া এলাকায় তরমুজ চাষ করেন। তবে ফসল ফলানোর পর থেকেই ওই জমির মালিকানা দাবি করে অলিউল্লাহ কৃষকদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতে থাকেন। গত ১৬ মার্চ বেলা ১১টার দিকে প্রায় ৯ হাজার তরমুজ কেটে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে তুলে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কৃষকরা। এ সময় অলিউল্লাহর নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। কৃষকরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের কাছ থেকে তরমুজবোঝাই দুটি ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ট্রলার ফেরত দেওয়া হলেও অন্যটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক আরব আলী বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অলিউল্লাহকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, ‘অলিউল্লাহর অত্যাচারে তরমুজ চাষিরা অতিষ্ঠ ছিলেন। তাকে গ্রেফতার করায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
আলাউদ্দিন আলো
বরিশালে ডিসির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আলোকে ঘিরে তোলপাড়

বরিশাল অফিস :   বরিশালে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের নাম ভাঙিয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ট্যাংক লরি মালিক সমিতির কথিত সভাপতি আলাউদ্দিন আলোর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপের অডিও রেকর্ড ঘিরে শহরজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই কল রেকর্ডে শোনা যায়, আলাউদ্দিন আলো পেট্রোল পাম্প মালিকদের প্রতি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতি পাম্প থেকে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, এই অর্থ জেলা প্রশাসকের জন্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এমনকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে প্রতিদিন পাম্পে অভিযান পরিচালনার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বিষয়টিকে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে সংঘটিত সুসংগঠিত চাঁদাবাজি হিসেবে দেখছেন। এদিকে আলাউদ্দিন আলোর বিরুদ্ধে বিতর্ক নতুন নয়। সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে তার আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এছাড়া সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে বিনা ভোটে ট্যাংক লরি মালিক সমিতির সভাপতির পদ দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার ছাড়াই তেল সরবরাহ, সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময়ের বিতর্কিত তেল বিল পরবর্তীতে অবৈধভাবে উত্তোলন, বিআইডব্লিউটিএ কাঁচাবাজার নামমাত্র মূল্যে টেন্ডার গ্রহণ এবং স্টিমারঘাট মসজিদের সভাপতির পদ দখলসহ নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে বলেও জানা গেছে।  এতসব গুরুতর অভিযোগের পরও জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা
বরিশালে ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

বরিশাল: বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) এক ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অবৈধভাবে অটোরিকশা স্ট্যান্ড উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ এনে নগরীর শ্রমিকরা রোববার (১ মার্চ) বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভ কর্মসূচি দুপুরে নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষুব্ধ অটোরিকশা শ্রমিকরা অভিযুক্ত টিআই আশিক রহমানকে অবরুদ্ধ করে তাকে বরখাস্ত করার দাবি করেন এবং তীব্র স্লোগান দেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির কাছাকাছি স্থায়ী স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী পরিবহন করছেন। কিন্তু কিছু দিন ধরে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আশিক রহমান প্রতি মাসে ২০,০০০ টাকা ‘মাসোহারা’ দাবি করছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের অটোরিকশা আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান বলে তারা জানান। সবশেষ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্ত টিআই স্ট্যান্ডে উপস্থিত হয়ে উচ্ছেদের হুমকি দিলে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ফেটে পড়ে। পরিস্থিতি দৃষ্টিগোচর হলে টিআই আশিক ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সরে যান এবং শ্রমিকরা সেখানে একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) রেজাউল ইসলাম রেজা শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজির কোনো তথ্য আমার জানা নেই এবং এ ধরনের কোনো সম্ভবতাও নেই। শ্রমিকরা মূলত অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ রোধ করতে এমন অভিযোগ তুলেছে।” তিনি জানান, শ্রমিকদের ক্ষোভের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আশিক রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইলেও একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।  বিক্ষোভের কারণে এলাকায় কিছু সময় যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে শ্রমিকদের শান্ত করেন। তবে শ্রমিক প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান আলম ও মোবারক হোসেন ইমন।
চট্টগ্রামে স্মার্ট গ্রুপ চেয়ারম্যানের বাসায় গুলি: শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান-ইমনকে ঘিরে নতুন আতঙ্ক

চট্টগ্রাম নগরীতে আবারও সশস্ত্র হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশি পাহারায় থাকা শীর্ষ ব্যবসায়ী স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান-এর বাসা লক্ষ্য করে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়েছে। এ ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান আলম ও মোবারক হোসেন ইমনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোরের নীরবতা ভাঙে গুলির শব্দ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের বাসার সামনে ও পেছনে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এতে কেউ হতাহত না হলেও পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী জানান, ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বাসার সামনে ও পেছনে গুলির চিহ্ন দেখা যায়। তার অভিযোগ, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা চাঁদা না পেয়ে এ হামলা চালিয়েছে। প্রথমে ১০ কোটি, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা না দেওয়ায় একাধিকবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও জানান তিনি। সিসিটিভিতে মুখোশধারী চারজন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চারজন মুখোশধারী অস্ত্রধারী একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে এসে কিছু দূরে গাড়ি রেখে হেঁটে বাসার সামনে যায়। তাদের একজনের হাতে দুটি পিস্তল, অন্যদের হাতে সাবমেশিনগান (এসএমজি), চায়নিজ রাইফেল ও শটগান ছিল। কয়েক মিনিটের মধ্যে গুলি চালিয়ে দ্রুত সরে পড়ে তারা। ‘সাজ্জাদ বাহিনী’র পুরোনো কৌশল পুলিশের ভাষ্য, চাঁদা আদায়ে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য গুলি চালানো সাজ্জাদ বাহিনীর পুরোনো কৌশল। নগরের চান্দগাঁও, বায়েজিদ ও পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন নির্মাণকাজ, ব্যবসা বা জমি লেনদেন শুরু হলেই চাঁদার দাবি আসে তাদের কাছ থেকে। বাহিনীতে অন্তত অর্ধশত শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসা এই বাহিনীর সক্রিয় কিলিং স্কোয়াডের নেতৃত্বে রয়েছেন রায়হান ও ইমন। ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন তাদের হাতেই আসে বলে দাবি পুলিশের। রায়হানের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় অন্তত আটটি হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় রায়হানের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় ডজন মামলা হয়েছে। রাউজানে যুবদল কর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলম হত্যা, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ‘ঢাকাইয়া আকবর’ খুন, গাজীপাড়ায় যুবদলকর্মী ইব্রাহিম হত্যা এবং বাকলিয়া এক্সেস রোডে জোড়া খুনের ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছে। এছাড়া চান্দগাঁওয়ে ব্যবসায়ী তাহসীন হত্যা ও অক্সিজেন-হাটহাজারী এলাকায় দুইজনকে গুলি করে হত্যার মামলাতেও তিনি আসামি। পুলিশের দাবি, রায়হান একজন দুর্ধর্ষ শুটার। টার্গেট কিলিং করে দ্রুত পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে যাওয়াই তার কৌশল। রাউজান, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তার একাধিক গোপন আস্তানা রয়েছে বলে জানা গেছে। ইমনের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির অভিযোগ অন্যদিকে, মোবারক হোসেন প্রকাশ ইমন একই চক্রের সক্রিয় সদস্য। নগরজুড়ে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সশস্ত্র হামলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। রায়হানের সঙ্গে যৌথভাবে বাহিনীর বিভিন্ন অপারেশন পরিচালনা করেন তিনি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পুলিশের বক্তব্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর উপ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানান, হামলাকারীরা একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে এসে গাড়ি কিছুটা দূরে রেখে হেঁটে বাসার সামনে গিয়ে গুলি চালায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে পালিয়ে যায়। মুখোশধারী হওয়ায় শনাক্ত করা কঠিন হলেও সাজ্জাদ আলীর সহযোগী রায়হান ও বোরহানের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর), অতিরিক্ত দায়িত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানান, গুলির ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক রায়হান ও ইমনকে ধরতে একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। নগরবাসীর উদ্বেগ পুলিশি পাহারার মধ্যেই শীর্ষ ব্যবসায়ীর বাসায় গুলির ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পলাতক সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই অগ্রগতি জানানো হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
পরিবহন খাতে চাঁদা
পরিবহন খাতে দৈনিক ১০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি: মালিক, শ্রমিক ও প্রভাবশালী নেতারা জড়িত

দেশের পরিবহন খাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। রাজধানীসহ সারা দেশে বাস, ট্রাক, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং অন্যান্য যানবাহন থেকে নানা নামে এই অর্থ আদায় করা হয়। চাঁদাবাজির পেছনে মালিক-শ্রমিক সংগঠন, রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই অর্থের বেশিরভাগই ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করা হয়। কোথাও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, পার্কিং বা পৌর টোলের নামে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হয়। অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্যও এই চাঁদার অংশ গ্রহণ করে। ফলে পরিবহন চালক ও মালিকরা বছরের পর বছর এসব চাঁদা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। চাঁদাবাজির ফলে পরিবহন ভাড়া বাড়ছে, পণ্যমূল্যও আকাশছোঁয়া হয়ে যাচ্ছে। সমঝোতা সিস্টেমের নামে এই অতিরিক্ত অর্থের বোঝা পড়ে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের বদল হলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। টিআইবি-এর ২০২৪ সালের ৫ মার্চের গবেষণা অনুযায়ী, দেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস ও মিনিবাস থেকে বছরে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়। এর ভাগ পান রাজনৈতিক নেতা, ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারী, মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং পৌর/সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি। গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশের বৃহৎ বাস কোম্পানির প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনায় রাজনীতিবিদরা জড়িত, যার ৮০ শতাংশই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত। যাত্রীকল্যাণ সমিতি জানিয়েছে, ঢাকা শহরে সিটি বাস থেকে দৈনিক ৬৪ লাখ টাকা, সিএনজি অটোরিকশা থেকে ২৭ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম থেকে ১২ লাখ টাকা, এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে দৈনিক প্রায় ৫৫ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়। সবচেয়ে বেশি চাঁদা আদায় করা হয় ট্রাক থেকে; দেশজুড়ে দৈনিক ৪ লাখ ট্রাক থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, সমঝোতা চুক্তির ভিত্তিতে কিছু টাকা মালিকরা স্বেচ্ছায় প্রদান করছেন যা ব্যবস্থাপনা খরচ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তবে তার বাইরেও সড়কে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা দাবি করেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবু কিছু টার্মিনালকেন্দ্রিক অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে। পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি বন্ধে ডিজিটাল ভাড়া পরিশোধ এবং ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা করার ব্যবস্থা জরুরি বলে মনে করেন যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারের উচিত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা এবং প্রমাণ মিললে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডের নেতারা জানান, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে জনপ্রতিনিধিদের আসনও স্থায়ী হবে না। মালিক ও চালকরা বিভিন্ন জেলায় পণ্য আনা-নেওয়ার সময় অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় পৌরসভার বা অন্যান্য সংস্থার নামে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাঁদাবাজি বন্ধ ও স্বচ্ছ হিসাব প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় ভাড়া বৃদ্ধি, পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব অব্যাহত থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
বরিশালের দুই বাস টার্মিনাল
বরিশালের দুই বাস টার্মিনালে অবৈধ চাঁদাবাজি অব্যাহত : প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায়

বরিশালের পরিবহন সেক্টর ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে পরিবর্তনের হাওয়া বইলেও, চাঁদাবাজির দৃশ্যপট অপরিবর্তিত। দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা নথুল্লাবাদ ও রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন ঘাট এখন স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কবজায়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদিন এসব খাত থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। নথুল্লাবাদে মোশাররফ গ্রুপের রাজত্ব দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন বরিশাল সদর -৫ আসনের এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারের ভাই মোশাররফ হোসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন কয়েকশো বাস থেকে বিপুল পরিমাণ চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। মোশাররফ হোসেন অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি নিয়ম মেনেই কমিটির সদস্য হয়েছেন এবং কোনো চাঁদাবাজির সাথে যুক্ত নন। তবু সাধারণ মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। রুপাতলীতে জিয়াউদ্দিন সিকদারের বলয় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। অভিযোগ আছে, তিন বছরের মেয়াদি কমিটি ভেঙে তিনি নিজের পছন্দের লোক দিয়ে নতুন বলয় গঠন করেছেন। এখান থেকে প্রতিদিন অর্ধ লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় হয়। মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিনও অভিযোগ করেছেন, জিয়াউদ্দিন সিকদার পোর্ট রোড ও স্পিড বোট ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে দখল বাণিজ্য চালাচ্ছেন। শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অসন্তোষ দলের শীর্ষ নেতাদের দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির কারণে বিএনপির সাধারণ কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র। তারা মনে করছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালীরা তা তোয়াক্কা করছেন না। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি সংকটে পড়ছে। মালিক সমিতির অবস্থান  মালিক সমিতির সভাপতি জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, “টার্মিনালে যারা কাজ করে, যেমন কাউন্টার কর্মচারী, বাসের সিরিয়াল ঠিক রাখাসহ অন্যান্য স্টাফদের বেতন দেওয়ার জন্য মালিকরা নির্দিষ্ট অর্থ দেন। তার সব হিসাব অফিসেই আছে। এর বাইরে যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারে যে অবৈধভাবে চাঁদা নেওয়া হয়েছে, আমি পদত্যাগ করব।” অব্যাহত চাঁদাবাজি স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুই টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন চাঁদা বাবদ প্রায় দুই লাখ টাকা আদায় হয়। এছাড়া পর্দার আড়ালে বিভিন্ন পদ্ধতিতে চাঁদাবাজি চলছেই। এর পরিমাণ বছরে কোটি টাকারও বেশি। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন, “সরকার বদলায়, ক্ষমতার হাতবদল হয়, কিন্তু শ্রমিকদের ভাগ্য বদলায় না। শুধু চাঁদা আদায়ের মুখগুলো পরিবর্তিত হয়।” এই অব্যাহত চক্র সাধারণ মানুষ ও বাসযাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। কেউ কেউ বলছেন, সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই অবৈধ অর্থের চক্র বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ফতুল্লায় চাঁদাবাজি
ফতুল্লায় চাঁদাবাজির অভিযোগে এনসিপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঁদাবাজির পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ফতুল্লার পঞ্চবটি গুলশান রোড এলাকায় ইয়াসিন আরাফাত ও আলিফ গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আলিফ গ্রুপের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির সংগঠক আলিফ জানান, ইয়াসিন আরাফাতের কোনো সাংগঠনিক পদ-পদবি নেই। তিনি নির্বাচনের সময় তাদের সঙ্গে থাকলেও বর্তমানে পঞ্চবটি মোড়ে ফুটপাতে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি। আলিফের দাবি, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় এনায়েতনগর ইউনিয়ন এনসিপির সংগঠক বিপ্লবকে রাস্তা থেকে ধরে ইয়াসিন আরাফাত তার রোলিং মিলে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ইয়াসিন আরাফাতের পাল্টা বক্তব্য অভিযোগ অস্বীকার করে ইয়াসিন আরাফাত বলেন, তিনি পঞ্চবটি এলাকার এমদেদিয়া রোলিং মিলের মালিক। শনিবার বিকেলে আলিফের নেতৃত্বে সাব্বির, বিপ্লব, সিয়াম ও রাসেলসহ একটি দল তার মালিকানাধীন পঞ্চবটি এমদেদিয়া রোলিং মিলে গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, চাঁদা না পেয়ে তারা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ চারজনকে মারধর করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঁদা না দিলে রোলিং মিল জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। এ বিষয়েও থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশের বক্তব্য এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের কাছ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
আদাবর থানা ঘেরাও
ব্রেকিং নিউজ: চাঁদাবাজি ও গণছিনতাই রোধের দাবিতে আদাবর থানা ঘেরাও

চাঁদাবাজি ও গণছিনতাই রোধের দাবিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর থানা ঘেরাও করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে চাঁদাবাজি ও গণছিনতাইয়ের প্রতিকার চেয়ে থানা ঘেরাওয়ের পাশাপাশি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন তারা। জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর আদাবরে চাঁদার জন্য এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকদের কুপিয়ে আহত করে স্থানীয় কতিপয় যুবক। এ ঘটনার বিচার চাওয়ার পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও গণছিনতাই প্রতিরোধের দাবিতে ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা রাতে আদাবর থানা ঘেরাও করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
বরিশালে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধের দাবি
বরিশাল নগরীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে ওয়েবসাইট ও হটলাইন চালুর জোরালো দাবি

বরিশাল নগরীতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ওয়েবসাইট ও হটলাইন চালু করার জোরালো দাবি উঠেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অপরাধীদের দমনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দাবি ভুক্তভোগীদের মতে, অনেক সময় সরাসরি অভিযোগ জানাতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হয়রানির ভয়ে পিছিয়ে আসেন। ফলশ্রুতিতে, অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। যদি একটি ডেডিকেটেড ওয়েবসাইট বা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা হটলাইন নম্বর থাকে, তবে পরিচয় গোপন রেখেও দ্রুত অভিযোগ জানানো সম্ভব হবে। তাছাড়া, ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করলে চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করা প্রশাসনের জন্য অনেক সহজ হবে। এর ফলে বরিশালের ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা ও প্রত্যাশা বরিশাল নগরীর বাসিন্দারা মনে করেন, সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণের পথ সহজ করতে হবে। অন্যদিকে, হটলাইন চালু হলে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাওয়ার পথ সুগম হবে। প্রশাসন যদি দ্রুত এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে, তবে বরিশালে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ
কুয়াকাটায় চাঁদার দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ

চাঁদার দাবিতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে দোকানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে ২২ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন তারা।   বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দুপুরে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের ‘তানিসা আচার ঘর’ নামের ওই দোকানের মালিক মনিরুল হাওলাদার মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে কুয়াকাটার হুইসেন পাড়া মহল্লার মাকসুদ আকন, শাহীন মুসল্লী, আবদুর রহিমসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয় জন এ ঘটনায় জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা কুয়াকাটা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।   দোকানের মালিক মনিরুল হাওলাদার বলেন, ‌‘চাঁদার দাবিতে লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে হঠাৎ দোকানে ঢুকে ভাঙচুর চালান স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় দোকানের কর্মচারী হাসানকে পেটানো হয়। একপর্যায়ে মাকসুদ আকন দোকানের ভেতরে ঢুকে গালাগাল করেন। পরে দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে ২২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পালিয়ে যান তারা। এ বিষয়ে জানতে মাকসুদ আকনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।   কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘অভিযুক্তরা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী-সমর্থক। দলে তাদের কোনও পদ-পদবি নেই। ওই দোকানের মালিকানা নিয়ে বিরোধ আছে। তারপরও কারও দোকানে হামলা-ভাঙচুর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখবো। এ ছাড়া দলের নেতাদের জানানো হবে। কোনও অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’   মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
পিতা লেবার সর্দার মোতালেব মোল্লা, পুত্র বিআরটিসির চালক হাফিজ
বরিশাল বিআরটিসি ডিপোতে চাঁদাবাজদের হামলা ও লুটপাট, সুপারভাইজার আহত

বরিশাল অফিস:  বরিশাল বিআরটিসি ডিপোতে বহিরাগতদের চাঁদাবাজি করতে  গিয়ে হামলা লুটপাটের অভিযোগ। অতর্কিত হামলায় ডিপোর একজন সুপারভাইজার আহত হয়েছে।এ ঘটনায় আতংকে রয়েছে বিআরটিসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বিআরটিসি ডিপো ও যাত্রী সুত্রে জানা গেছে,২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট থেকে একদল চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা বিআরটিসি ডিপো দখলের পায়তারা করে আসছিল। তাদের দাবি ডিপো থেকে বিআরটিসির বাস বের হলেই চাঁদাবাজদের নির্দিষ্টহারে চাঁদা দিতে হবে।ডিপো ম্যানেজার শক্ত অবস্থানে থাকায় চাঁদাবাজদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। ১২ ফেব্রুয়ারী বিএনপি তিনশত আসনের ২১২ টা আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে। এখন বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে  ১৬ ফেব্রুয়ারী'২৬ তারিখ বেলা দুটার দিকে  লেবার সর্দার মোতালেব মোল্লা, বিআরটিসির চালক হাফিজ,ফিসারী রোডের রাব্বিসহ সাত -আটজনের একটি  সন্ত্রাসী দল অতর্কিত হামলা করে বিআরটিসি ডিপোতে কর্মরতদের । হামলায় আহত হয়েছে বিআরটিসির সুপারভাইজার মিরাজ।এ সময় তার নিকট থেকে চাঁদাবাজরা টাকা হাতিয়েও নিয়ে যায়। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। সুত্র জানায়,লেবার সর্দার ও তার পুত্র বিআরটিসির চালক হাফিজের নেতৃত্বে একটি বড় সিন্ডিকেট নৈরাজ্য করে আসছিল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনামলে।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে কোনঠাসা হয়ে পরে।সুযোগবুঝে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে তারা বিআরটিসি ডিপো দখলে নেয়ার জন্য গত সোমবার বাপ-পুত্রের নেতৃত্বে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0