Brand logo light

ঘুষ

গরু
ফকিরহাটে সরকারি প্রকল্পের গরু বঞ্চনা: ঘুষ না দেওয়ায় জেলের অভিযোগ

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় সরকারি একটি প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া গরু না পেয়ে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন তারাপদ বিশ্বাস নামে এক দরিদ্র জেলে। ভুক্তভোগীর দাবি, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে গরু দেওয়া হয়নি; বরং তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি অন্যের কাছে হস্তান্তরের পর বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের ডহরমৌভোগ গ্রামের বাসিন্দা তারাপদ বিশ্বাস উপজেলা মৎস্য দপ্তরের তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের অধীনে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে তাকে একটি গরু বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বিতরণ তালিকায় নাম থাকলেও বাস্তবে তিনি কোনো গরু পাননি বলে অভিযোগ করেন। ‘ঘুষ না দেওয়ায় বঞ্চিত’ তারাপদ বিশ্বাসের অভিযোগ, স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে গরু বিতরণের প্রক্রিয়ায় তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও জেলে কার্ড নেওয়া হয়। পরে ‘অফিস খরচ’ বাবদ ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে না পারায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তার অজান্তেই তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি অন্যের কাছে তুলে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন। শুক্রবার (১ মে) তিনি জানান, তালিকার ৩৯ নম্বরে তার নামে থাকা প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি বকনা বাছুর পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি।” একাধিক বঞ্চনার অভিযোগ তারাপদ বিশ্বাস দাবি করেন, একই দিনে বিতরণ করা প্রায় ৬০টি গরুর মধ্যে একাধিক তালিকাভুক্ত জেলে প্রকৃতপক্ষে গরু পাননি। তার ছেলে প্রহলদ বিশ্বাস অভিযোগ করেন, “একইভাবে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও গরু দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।” অন্যের গোয়ালে ‘বরাদ্দের গরু’ অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই ইউনিয়নের শ্রীনাথ বৈরাগীর পরিবারের গোয়ালে ওই গরুটি রয়েছে। পরিবারটির সদস্যরা জানান, গরু পাওয়ার জন্য তাদের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা দিয়ে তারা গরুটি গ্রহণ করেন।পরে তারা জানতে পারেন, গরুটি অন্য একজনের নামে বরাদ্দ ছিল। শ্রীনাথ বৈরাগীর ছেলে বলেন, গরু গ্রহণের সময় মাস্টার রোলে তারাপদ বিশ্বাসের নামে যে স্বাক্ষর রয়েছে, তা তিনি দেননি। এছাড়া গরু নেওয়ার সময় তারাপদের কোনো পরিচয়পত্রও দেখানো হয়নি। ‘ভয়ভীতি প্রদর্শনের’ অভিযোগ অভিযোগ দায়েরের পর ভুক্তভোগীর পরিবারকে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। প্রহলদ বিশ্বাস বলেন, “অভিযোগ করার পর আমাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে।” অভিযুক্তের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোহিত বালা তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “সরকারি গরু পাইয়ে দেওয়ার কোনো ক্ষমতা আমার নেই। মৎস্য দপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কেও আমি অবগত নই।” প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ বলেন, তারাপদ বিশ্বাস তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী ছিলেন। তিনি দাবি করেন, “তিনি উপস্থিত না থাকায় পরিচয়পত্র দেখিয়ে তার ছেলে দাবি করা এক ব্যক্তির কাছে গরুটি হস্তান্তর করা হয়েছে।” তবে যথাযথ যাচাই ছাড়া গরু প্রদান করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।তিনি জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাঠ সহায়ক কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করা হবে।“অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
কাস্টমস গোয়েন্দা প্রধান নেয়াজুর রহমান
কাস্টমস গোয়েন্দা প্রধান নেয়াজুর রহমানের যুক্তরাজ্যে সম্পদের পাহাড়

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কাস্টমস শাখার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ, অর্থ পাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব অভিযোগের বিস্তৃতি শুধু প্রশাসনিক অনিয়মে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থ স্থানান্তর ও প্রভাব বলয়ের ব্যবহারের কথাও উঠে এসেছে। বর্তমান পদ ও পূর্ববর্তী দায়িত্ব বর্তমানে তিনি কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)-এর মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার ছিলেন। আরও আগে মোংলা কাস্টম হাউসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্পদ ও বিদেশ সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, নেয়াজুর রহমানের পরিবার যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন এবং তার নিজেরও ব্রিটিশ পাসপোর্ট রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাজ্যে অন্তত তিনটি বাড়িসহ উল্লেখযোগ্য সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। আরও বলা হয়, ঘুষের অর্থ দেশীয় আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে রেখে বিদেশে—বিশেষ করে লন্ডন ও দুবাইয়ে—স্থানান্তর করা হতো। ঘুষ আদায়ের অভিযোগ: পদ্ধতি ও নেটওয়ার্ক একাধিক ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, নেয়াজুর রহমান যেখানে দায়িত্বে গিয়েছেন, সেখানে বড় করদাতা ও আমদানিকারকদের একটি তালিকা তৈরি করতেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে পণ্য আটকে রেখে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাহিদামতো অর্থ না দিলে হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতো বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ ‘নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার কথাও উঠে এসেছে। এতে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ছাড়াও কিছু বহিরাগত এজেন্ট যুক্ত ছিলেন, যারা বিদেশে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন বলে দাবি করা হয়। মোংলা কাস্টম হাউস: নিলাম ও সিন্ডিকেট মোংলা কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালনের সময় গাড়ি ও কসমেটিকস আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিলাম প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ী কম মূল্যে পণ্য পেতেন, বিনিময়ে ঘুষ দেওয়া হতো। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের ওপরও আর্থিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। সিলেট ও বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অভিযোগ সিলেট ভ্যাট কমিশনারেটে থাকাকালে এলসি স্টেশন দিয়ে পণ্য আমদানিতে অনিয়ম, ওজন কারসাজি এবং শুল্ক ফাঁকির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালানে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থ পাচারের অভিযোগ সূত্রগুলো বলছে, ঘুষের অর্থ দেশে না রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে বিদেশে—বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে—পাঠানো হতো। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দুবাই হয়ে অর্থ স্থানান্তরের কথাও বলা হয়েছে। প্রভাবশালী সংযোগ নেয়াজুর রহমানকে সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিম-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে বিভিন্ন সূত্রে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক তাকে সুবিধা দিয়েছে। পালানোর চেষ্টা ও পাসপোর্ট ইস্যু ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি কঠোর হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কড়াকড়ির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তিনি তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন করেন। সরকারি প্রতিক্রিয়া? এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। নেয়াজুর রহমান নিজেও প্রকাশ্যে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুতর এবং বহুমাত্রিক—যেখানে প্রশাসনিক অনিয়ম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অর্থ পাচারের মতো বিষয়ও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত অপরিহার্য। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু একজন কর্মকর্তার দায় নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলবে।   উল্লেখ্য, মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পড়ালেখা করেছেন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। ২০০৩ সালের ২৯ মে সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) পদে যোগদান করেন নেয়াজুর রহমান। তিনি বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ২১তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সাঁটলিপিকার কামাল হোসেন
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সাঁটলিপিকার কামাল হোসেনের টাকার পাহাড়

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : কামাল হোসেন, সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর, মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারি একজন দুর্নীতিবাজ কর্মচারি। কামাল হোসেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ের ব্যক্তিগত সহকারী হওয়ার সুবাদে মহাপরিচালকের নাম ভাঙ্গিয়ে কয়েকজনের সহযোগিতায় মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের কাছ থেকে বদলি ও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ সকল অন্যায় ও দুর্নীতি দাপটের সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন। এত অন্যায় ও অবৈধ/অনৈতিক কাজের প্রমানসহ অভিযোগ থাকার পরও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।  কথায় আছে চোরের মায়ের বড় গলা, কামালের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। দুর্নীতিকে তিনি মনে করেন আলাদিনের চেরাগ। যেই চেরাগে ঘষা দিয়ে তিনি হয়েছেন অঢেল সম্পত্তির মালিক। তার হোল্ডিং নং-৫০৯, উদয়া ম্যানশন সোসাইটি, ১০নং লেন, পূর্বাঞ্চল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকায় নিয়েছেন ১২০০ স্কয়ারের ২টি ফ্ল্যাট। যার একটিতে (ফ্ল্যাট নং-ই/৪) রাজকীয়ভাবে সাজিয়ে বসবাস করছেন ও অন্যটি দিয়েছেন ভাড়ায়। উদয়া ম্যানশন সোসাইটিতে তার আরও ৫ কাঠার অংশবিশেষ জমি রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি মধুপুর, টাঙ্গাইলে কোটি টাকার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, দোকান, মার্কেট ও ফিসারিজ ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে নিজের স্ত্রীকে আরালে রেখে ২০ কোটি টাকার সম্পদ করেছেন শুধুমাত্র বোন ও শাশুড়ির নামে। শাহিনা সুলতানা (বোন) দলিল নং ৬১৮১, তারিখ: ১৬-০৬-২০২১, ঢাকা সিটি জরিপ নং-১৭২৩২, ১৭১৭৪ দাগে ০০৮৯.১৩৮ অযুতাংশ ও দলিল নং-৪৫৫৫, তারিখ: ৩০-০৩-২০২৩, ঢাকা সিটি জরিপ নং-১৭২৩২ দাগে ০০০৯. অযুতাংশ। ঢাকা শহরে প্রায় ০১ একক জমি ক্রয় করে রেখেছেন বোনের নামে এই দুর্নীতিবাজ কর্মচারি।  মোসাঃ মালেকা বেগম (শাশুড়ি) দলিল নং ৬১৮১, তারিখ: ১৬-০৬-২০২১, ঢাকা সিটি জরিপ নং-১৭২৩২, ১৭১৭৪ দাগে ০০৮৯.১৩৮ অযুতাংশ ও দলিল নং-৪৫৫৫, তারিখ: ৩০-০৩-২০২৩, ঢাকা সিটি জরিপ নং-১৭২৩২ দাগে ০০০৯. অযুতাংশ। ঢাকা শহরে প্রায় ০১ একক জমি ক্রয় করে রেখেছেন শাশুরির  নামে এই দুর্নীতিবাজ কর্মচারি। লিংক গার্ডেন, মেরুল বাড্ডা, ঢাকাতে তার স্ত্রীর নামে ১টি ফ্ল্যাট, তার শ্বশুরের নামে ১টি, শ্বাশুড়ির নামে ১টি, বোনের নামে ১টি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এছাড়াও ঢাকায় নামে-বেনামে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট ক্রয় করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।  অভিযোগ আছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে ২০২১ সালে কর্মচারি নিয়োগে কামাল হোসেন তার আপন ছোট ভাই (রবিন) কে নিয়োগ পাইয়ে দেয়ার জন্য মোটা টাকায় অন্যজনকে দিয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়ে উত্তীর্ণ করায়।  পরবর্তীতে নিয়োগ বোর্ডের মৌখিক পরীক্ষায় তার ছোট ভাই (রবিন) অংশগ্রহণ করলে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যগণ ভূয়া পরীক্ষার্থী হিসেবে বুঝতে পেরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার ছোট ভাই (রবিন) স্বীকারোক্তি দেয় যে, কামাল হোসেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়ার জন্য বদলি পরীক্ষার সকল ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। নিয়োগ বোর্ডের সদস্যগণ তার জালিয়াতির প্রমান পেয়ে গত ১৩-০২-২০২২ তারিখে বনানী থানায় এজাহার দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।  উল্লেখ্য, মোঃ কামাল হোসেন মহাপরিচালক মহোদয়কে মিথ্যা বলে তার সেই জেলখাটা ছোট ভাই (রবিন) যার মামলার বাদী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, মামলার কথা গোপন রেখে তাকে (রবিন) ০৭-০৩-২০২৩ তারিখে অত্র অধিদপ্তরাধীন সেতু/কালভার্ট শীর্ষক নির্মাণ প্রকল্পে কার্যসহকারী হিসেবে নিয়োগ পাইয়ে দেন। পরবর্তীতে নিয়োগ জালিয়াতি মামলার আসামী রবিন-কে শিক্ষা ভবন, আব্দুল গণি রোড, ঢাকাতে অফিস সহায়ক পদে আবার অন্যজনকে দিয়ে পরীক্ষা মাধ্যমে চাকুরি পাইয়ে দেন। জানা যায়, রবিন বর্তমানে কালিহাতি উপজেলা শিক্ষা অফিসে কর্মরত আছে। তার দুর্নীতির জালে আটকে পড়ে অধিদপ্তরের গাড়ি ভাড়ার টেন্ডারে এম এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ মাসুদ রানা গ-২১/১৩, মহাখালী, ঢাকা এর বৈধভাবে কাজ পাওয়ার পরও সুকৌশলে ফাইল আটকিয়ে তিন লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে কার্যাদেশ প্রদান করেন। এম এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক প্রথম মাসের বিল জমা দিলে এই দুর্নীতিবাজ কামাল হোসেন হুমকি দিয়ে বলেন, প্রতি মাসের বিলে ১০ হাজার টাকা না দিলে টেন্ডার বাতিলসহ প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে বলে হুমকি দেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি স্যারদেরকে বলে টেন্ডার বাতিল করার জন্য এম এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ মাসুদ রানাকে বাধ্য করেন টেন্ডার বাতিলের আবেদন করতে। বাধ্য হয়ে অনোন্যপায় হয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তিনি আবেদন দেন টেন্ডার বাতিলের। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও গায়েবিভাবে ধামাচাপা পড়ে যায়। ত্রাণ অনুবিভাগের কম্বল, ঢেউটিন, শুকনা খাবার ও বিভিন্ন প্রকল্পের ঠিকাদারদের কাছে রেইট কোড ও অফিসের গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মচারী কামাল হোসেন সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারীর লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছেন।  অনুসন্ধানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকের কাছ থেকে জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি (গাংগাইর বাজার, মধুপুর, টা্ঙ্গাইল) এবং শুশ্বর বাড়ির (দেউলা বাড়ী, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল) অবস্থান চাকুরির আগে তার উল্লেখযোগ্য স্থাবর সম্পত্তি কিছুই ছিল না। অভিযোগের বিষয়ে কামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার বিষয়ে যে সকল অভিযোগ করা হয়েছে সে গুলা সঠিক নয় । যে সম্পত্তি এর কথা বলা হয়েছে সে সব আমার না । আমি এখানে চাকুরি করি আমার অনেক শত্রু থাকতে পারে তারা এই মিথ্যা অভিযোগ করেছে । 

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
এস.এম. দেলোয়ার হোসাইন-পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা
পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দেলোয়ারের সম্পদের পাহাড় :ভোলা থেকে পটুয়াখালী—একই অভিযোগ!

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল:  পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস.এম. দেলোয়ার হোসেন।তিনি পটুয়াখালীতে যোগদানের পুর্বে  ভোলা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভোলায় থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি তহবিল অপব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পটুয়াখালীতে যোগদান করে আবারো শুরু করেছেন ভোলার কর্মরত থাকাকালীন সময়ের মত  ঘুষ,অনিয়ম ও দুর্নীতি।    রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ও প্রভাবের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে তোফায়েল আহমেদ-এর পালকপুত্র বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, এই সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।    অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সূত্র অভিযোগ করেছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যার মধ্যে ব্যক্তিবিশেষের জন্য অবৈধ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দেলোয়ার হোসেন তোফায়েল আহমেদের পালকপুত্র বিপ্লবকে নারী ও মদ সরবরাহের মূল দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন। সরকারি পদে থেকে এমন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। বিশেষ করে বিপ্লবের বিভিন্ন নৈশ আসরে নারী সরবরাহ ও মদের ব্যবস্থা করা ছিল তার নিয়মিত দায়িত্ব।   ত্রাণ তহবিল অপব্যবহারের দাবি স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, দুর্যোগ ও ত্রাণ খাতের অর্থ বরাদ্দ থেকে নিয়মিত কমিশন নেওয়া হতো এবং সেই অর্থ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ত্রাণের জিআর (Gratuitous Relief) বরাদ্দের প্রতি টন থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ কেটে নেওয়া হতো।দেলোয়ার হোসেন দুর্যোগ ও ত্রাণ খাতের অর্থ অপব্যবহার করে তা ব্যয় করতেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতার পেছনে। অভিযোগ রয়েছে, ভোলা জেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের  সভাপতিকে আন্দোলন দমনে সহযোগিতার বিনিময়ে কয়েক দফায় দিয়েছেন কয়েক লক্ষ টাকা। এই অর্থ তিনি জিআর ফাইলের প্রতিটি টনের বরাদ্দ থেকে ১০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে পেতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।   বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন গত বছরের আগস্টের পর তার বদলি ভোলা থেকে পটুয়াখালীতে হওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, এই বদলির পেছনে আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে ছাত্র-সমন্বয়কের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভোলা থেকে পটুয়াখালী বদলি হন। স্থানীয় সূত্র দাবি করছে, এই বদলির পেছনে আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি প্রভাবশালী মহলের চাপও কাজ করেছে।   সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি তার আত্মীয়দের সঙ্গে মিলে পরিবহন ব্যবসা গড়ে তুলেছেন এবং বরিশাল ও নিজের এলাকায় বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার বেশি হতে পারে। সরকারি চাকরির আড়ালে তিনি নিজের ভায়রা ভাইকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন পরিবহন ব্যবসা। জমি, বাড়ি, যানবাহনসহ নগদ টাকা ও সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।    প্রতিক্রিয়া জানতে ব্যর্থতা এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে তার নিজস্ব ও সরকারি নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।   গলাচিপায় ঘুষ কেলেঙ্কারি : ঘুষ দাবির অভিযোগ পুরোনো   এস এম দেলোয়ার পটুয়াখালীর গলাচিপায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ২০২০ সালের জুন মাসে এক ঠিকাদারের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের পর আলোচনায় আসেন। সুত্র জানায়, পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি কালভার্ট নির্মাণের চূড়ান্ত বিলের জন্য ঠিকাদারের কাছে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম দেলোয়ারের  বিরুদ্ধে। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ২১ জুন'২০২০ তারিখ  পিআইও এস এম দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে চার লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সাইফুল ইসলাম ঠিকাদারি কাজের পাশাপাশি ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন রাস্তায় প্রায় ৩১ লাখ টাকায় ৩৬ ফুট দীর্ঘ একটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ পান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার সময়সীমা দিয়ে ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেন পিআইও এস এম দেলোয়ার হোসেন। প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন করে ঠিকাদার ৮ জুন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চূড়ান্ত বিলের জন্য আবেদন করেন। ওই দিনই পিআইও দেলোয়ার হোসেন ঠিকাদার সাইফুলের বাবা আব্দুস সালামকে ডেকে নিয়ে বিলের জন্য চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।এই ঘুষের ঘটনা জানাজানি হলে বেকায়দায় পরেন এস এম দেলোয়ার। উপায় না দেখে তখন বিনা ঘুষে ঐ ঠিকাদারের বিল দিয়ে দেন।       তদন্তের প্রয়োজনীয়তা জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকদের মত। তবে এখনই নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্পষ্ট হতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0
বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর
বরিশালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ

বরিশাল অফিস :    বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীন (পরিচিতি নং-৩১১১৪) এর বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধারের নামে সাধারন মানুষদের হয়রানী।বাসা বাড়িতে প্রবেশ করে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি ,অর্থ আদায়, অর্থ না পেলে মাদকদ্রব্য দিয়ে আটকসহ ঘুষ বনিজ্য রমরমার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে জসীম উদ্দীনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর একটি বিভাগীয় মামলার আদেশে একজন অভ্যাসগত অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। তিন তিনটে বিভাগীয় মামলা হলেও বার বার ঘুষের বিনিময়ে ও ক্ষমতার প্রভাবে পার পেয়ে যান জসীম উদ্দিন। বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত হলেও জসীম উদ্দিনকে বদলী করা হয় বরিশালে। বরিশালে যোগদানের পরেই পুর্বের কর্মস্থলের মত ঘুষ আদায়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেন।বরিশালে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে এসে মাদক কারবারিদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দিন। মাদক বিক্রেতাদের পথ মসৃণ করে দিয়ে নিজের পকেটে ভরছেন মাসোহারা। বেপরোয়া উপ পরিদর্শক জসীম অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছ থেকে নেওয়া সেই মাসোহারার ভাগ পান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। যে কারণে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন উপ পরিদর্শক জসীম। বরিশালে যোগদান করার পর আগের রূপে ফিরেছেন জসীম উদ্দিন। একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, বরিশাল নগরীর চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সঙ্গে জসীমের দোস্তি সম্পর্ক রয়েছে। নগরীর রিফিউজি কলোনির ‘গাঁজাসম্রাট’ রফিকের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেন জসীম। কাউনিয়ার জোসনা, সুমি, কেডিসির নিলু, ডিজে লিটন, বাবু নাজু, আসমা-পারুল, মানিক, রুবেল, ময়না ও খলিলের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুসের টাকা নেন জসীম। নগরীতে চোলাই মদের ঘরগুলো থেকে মাসোহারা উঠান জসীম। অভিযোগ রয়েছে, মাদকসহ আটক করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আসামিদের ছেড়ে দেন তিনি। অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা? বরিশালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ নতুন নয়—বরং এটি একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকতার অংশ, যা প্রশাসনিক নথি, বিভাগীয় তদন্ত এবং স্থানীয় অভিযোগের মধ্যে এক অস্বস্তিকর সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। অতীতে একাধিক বিভাগীয় মামলায় অভিযুক্ত হওয়া, শাস্তি পাওয়া এবং তারপরও দায়িত্বে বহাল থাকা—এই ঘটনাপ্রবাহ এখন নতুন কর্মস্থলেও একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে দাবি উঠেছে। এই প্রতিবেদনে সরকারি নথি, বিভাগীয় তদন্তের তথ্য এবং সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে—একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ কীভাবে প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে টিকে থাকে এবং তার প্রভাব কী হতে পারে। অভিযোগের প্রকৃতি: অভিযানের আড়ালে অনিয়ম? স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে  হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ড ঘটছে। অভিযোগে বলা হয়— * বাড়িতে তল্লাশির সময় মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় * অর্থ দিলে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয় * অর্থ না দিলে “মাদক উদ্ধার” দেখিয়ে মামলা দেওয়া হয় এ ধরনের অভিযোগ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে, বিশেষ করে যখন অভিযুক্ত ব্যক্তি অতীতেও একই ধরনের অভিযোগে তদন্ত ও শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন।  নথিতে যা পাওয়া যায়: ২০২৪ সালের অফিস আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অফিস আদেশ (২০ অক্টোবর ২০২৪) অনুযায়ী, উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীন  শেরপুরে কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হন। নথিতে উল্লেখ করা হয়— * মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলা * মাসোহারা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রমে সহায়তা করা * অভিযানে জব্দ মাদক অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ * মাদকসেবীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় * অর্থের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া এছাড়া, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করলেও তিনি তা আমলে নেননি বলেও উল্লেখ করা হয়। নির্দিষ্ট একটি অভিযান: তদন্তে যা উঠে আসে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি শেরপুর সদর থানাধীন একটি এলাকায় পরিচালিত অভিযানের সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা পরবর্তীতে বিভাগীয় তদন্তের কেন্দ্রে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযানের সময় মাদক সেবনকারী মোঃ মিনালকে গাঁজাসহ আটক করে মারধর করা হয়। পরে তার স্ত্রী ১০ হাজার টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তদন্তে উঠে আসে— * প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন * অভিযানে অংশগ্রহণকারী দলের সদস্যদের সনাক্ত করা গেছে * অভিযুক্ত কর্মকর্তা ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন এই ঘটনাটি শেরপুর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচিত হয়, যা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। বিভাগীয় তদন্ত ও সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। বিভাগীয় মামলা নং-০৫/২০২৪ ।  তদন্ত শেষে অভিযোগ “প্রমাণিত” বলে উল্লেখ করা হয় এবং তাকে গুরুদণ্ডযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়— * ভুক্তভোগী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন * অর্থ গ্রহণের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে * অভিযানের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই এরপর তাকে চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি লিখিত জবাব দাখিল করলেও তা সন্তোষজনক নয় বলে বিবেচিত হয়। পূর্বের শাস্তির ইতিহাস নথিপত্র অনুযায়ী, এটি ছিল না তার বিরুদ্ধে প্রথম বিভাগীয় ব্যবস্থা। * ২০১৯ সালে একটি মামলায় তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়,(বিভাগীয় মামলা নম্বর -১৯/২০১৯) । * ২০২১ সালে তাকে তিরস্কার দণ্ড দেওয়া হয়,(বিভাগীয় মামলা নম্বর -১২৩/২০২১)। *  ২০২৪ সালে বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিতকরণ দন্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়,(বিভাগীয় মামলা নম্বর -০৫/২০২৪ )। তবুও তার আচরণে পরিবর্তন হয়নি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয় এবং তাকে “অভ্যাসগত অপরাধী” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।  চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: বরখাস্ত নয়, অবনমন যদিও তদন্তে অভিযোগ গুরুতর হিসেবে প্রমাণিত হয় এবং তাকে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ উঠে আসে, শেষ পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত করা হয়নি। নথিতে উল্লেখ করা হয়— * তার ওপর পরিবারের নির্ভরশীলতা (বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, তিন সন্তান) * আর্থিক অবস্থা * “শেষবারের মতো আত্মশুদ্ধির সুযোগ” এই বিবেচনায় তাকে বেতন গ্রেডে তিন ধাপ নিচে নামিয়ে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কঠোরতা বনাম মানবিক বিবেচনার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে—বিশেষ করে যখন অভিযোগগুলো গুরুতর এবং পুনরাবৃত্ত। বরিশালে নতুন অধ্যায়: পুরোনো অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর বরিশালে যোগদানের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আবারও একই ধরনের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ— * মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ * অভিযানে পাওয়া মাদক অন্যত্র বিক্রি * মাদকসেবীদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়  সাম্প্রতিক অভিযোগ: দুটি ঘটনার বিবরণ প্রথম ঘটনা:- বরিশাল নগরীর সার্কুলার রোড এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশির সময় মাদক না পেয়ে ঘরে থাকা ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে ইয়াবা দিয়ে আটক দেখানো হয় বলে দাবি। দ্বিতীয় ঘটনা: গোরস্থান রোডে এক ইট ও বালু ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশির সময় তার স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মাদক দিয়ে আটক করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই অভিযোগগুলো  পূর্বের নথিভুক্ত ঘটনার সঙ্গে মিল থাকায় তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেন ফেনসিডিল বিক্রেতাকে লুৎফর রহমান সড়কের ফেনসিডিল বিক্রেতা বাবুল তালুকদারকে ছয় বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেন জসীম। এর কয়েক মাস আগে বরিশাল সদর উপজেলার লাকুটিয়া সড়কে নয়ন নামের এক মাদক বিক্রেতাকে তিনশ পিস ইয়াবাসহ আটক করার পর তিন লাখ টাকার বিনিময়ে অল্প কয়েকপিস ইয়াবা দিয়ে মামলা দেন জসীম। এই ঘটনার পরপরই নগরীর পলাশপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি গাঁজা কালাম ও তার পরিবারের চারজনকে ছয় কেজি গাঁজাসহ আটক করেন তিনি। পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে তিনজনকে মুক্তি দিয়ে ছয় কেজি গাঁজার পরিবর্তে দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে গাঁজা কালামের বিরুদ্ধে মামলা দেন তিনি।  কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, তিনি তল্লাশি দলের সদস্য ছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা পূর্বের বিভাগীয় মামলা বা নতুন অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন: জবাবদিহিতা কোথায়? এই ঘটনাপ্রবাহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে— * একাধিক বিভাগীয় মামলায় দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন কঠোর শাস্তি কার্যকর হয়নি? * কেন একই ধরনের অভিযোগ নতুন কর্মস্থলেও অব্যাহত? * অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও জবাবদিহিতার কাঠামো কতটা কার্যকর? আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যখন অভিযোগের ধরন একই থাকে এবং তা সময়ের সঙ্গে পুনরাবৃত্ত হয়, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত নয়—প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার ইঙ্গিতও দিতে পারে। বৃহত্তর প্রভাব: জনআস্থা ও আইন প্রয়োগ মাদকবিরোধী অভিযান একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের সময় যদি অনিয়ম, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা জনআস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে— * স্বচ্ছ তদন্ত * দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা * জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা —এসবই অত্যন্ত জরুরি।   বরিশালের এই ঘটনাটি কেবল একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের গল্প নয়; এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, শাস্তির কার্যকারিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার একটি উদাহরণ।   অতীতের নথিভুক্ত অভিযোগ, বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত অনিয়ম এবং বর্তমানের নতুন অভিযোগ—সব মিলিয়ে একটি প্রশ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠছে: **ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তা কি যথেষ্ট?** এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর—যা শুধু একটি ব্যক্তির নয়, পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে জড়িত।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
রুমানা আফরোজ
বাকেরগঞ্জের সাবেক ইউএনও রুমানা আফরোজের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ইউএনওকে ঘিরে ‘পার্সেন্টেজ বাণিজ্য’ অভিযোগ বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ‘পার্সেন্টেজ বাণিজ্য’-এর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৫ মাস দায়িত্ব পালনের সময়কালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ত্রাণ বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্টরা। যদিও এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ওই কর্মকর্তা। অভিযোগের ধরন: বিল পাস থেকে বরাদ্দ—সবখানেই ‘নির্ধারিত হার’? অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উন্নয়ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনে নির্দিষ্ট হারে কমিশন আদায় শুরু হয়। উপজেলা পরিষদের একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ১৩ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন খাতের প্রকল্পে ৫ শতাংশ, বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পে ২ শতাংশ, এলজিইডি প্রকল্পেও ২ শতাংশ হারে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থ সরাসরি ইউএনওর নামে তার কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হতো বলে অভিযোগ। একজন ঠিকাদার জানান, “বিল তুলতে গেলে নির্ধারিত পার্সেন্টেজ না দিলে ফাইল এগোতো না।” কাবিখা ও টিআর প্রকল্পেও অভিযোগ কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একজন ইউপি সদস্যের পরিবারের সদস্যের দাবি, ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার প্রকল্পে প্রায় ১৮,৭৫০ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। অন্য ইউনিয়নগুলোর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। ‘অস্তিত্বহীন এতিমখানা’ ও বরাদ্দ প্রশ্নে বিতর্ক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫টি এতিমখানার নামে ১৫ টন জিআর (গ্র্যাটুইটাস রিলিফ) চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া: সড়ক সংস্কার ও ড্রেন পরিষ্কারের নামে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হলেও কাজের দৃশ্যমান প্রমাণ নেই বলে অভিযোগ পরিত্যক্ত ঘোষিত সরকারি বাসভবনে যাওয়ার রাস্তা মেরামতে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ের দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে পৌর প্রশাসক হিসেবেও একই অভিযোগ ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পৌর প্রশাসকের দায়িত্বেও ছিলেন রুমানা আফরোজ। এখানেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের দাবি: ঠিকাদারি বিল পেতে ৫ শতাংশ ঘুষ জামানতের টাকা ফেরত নিতেও একই হার প্রকৌশল শাখায় কাজ পেতে ২ শতাংশ কমিশন এক বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে অন্তত ৫ কোটি টাকার বিল থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ‘অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প’ ও তড়িঘড়ি দরপত্র বদলির আগে তড়িঘড়ি করে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার ছয়টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পে ৬৩ লাখ টাকার ব্যয় প্রস্তাবকে সংশ্লিষ্টরা “অস্বাভাবিক” ও “অপ্রয়োজনীয়” বলে উল্লেখ করেছেন। চাঁদা আদায়ের অভিযোগ জাতীয় দিবস উদযাপনের নামে ইটভাটা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি: প্রতি ইটভাটা থেকে ৫,০০০–৮,০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো না দিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানার ভয় দেখানো হতো নামজারি অনুমোদনেও অনিয়ম? অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকাকালে প্রায় ১,০০০ নামজারির বিপরীতে প্রতিটি থেকে ১,০০০ টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে, যা মোট প্রায় ১০ লাখ টাকার সমান। ইউএনওর বক্তব্য: “অপপ্রচার” সব অভিযোগ অস্বীকার করে রুমানা আফরোজ বলেন: “অনেকেই অনৈতিক সুবিধা নিতে চেয়েছেন। তাদের দাবি না মানায় আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। কাজের চাপে কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে, কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয়।” প্রশ্নগুলো রয়ে যাচ্ছে এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: প্রকল্প বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তদারকি কতটা কার্যকর? স্থানীয় প্রশাসনে ‘পার্সেন্টেজ সংস্কৃতি’ কতটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে? অভিযোগগুলো তদন্তে কি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত হবে?  স্থানীয় পর্যায়ে এই বিষয়টি ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ
বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল :  বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ-এর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ স্থানীয় কর্মচারী ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি বিগত সরকারের সময় তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক-এর প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, রেস্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ না করা এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের বিষয়ও সামনে এসেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা প্রদান, ঘুষের বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য, তদন্তের নামে অর্থ আদায় এবং অধীনস্ত কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মতো ঘটনাও ঘটেছে তার মাধ্যমে। কর্মচারীদের একটি অংশ দাবি করেন, নিয়মিত ছুটি ছাড়াই তিনি নিজ জেলা ঝিনাইদহে যাতায়াত করতেন, যা সরকারি বিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত রেষ্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ করেননি।নির্ধারিত বাসা থাকলেও তিনি সেখানে না থেকে রেষ্ট হাউজে বিনা ভাড়ায় বিদ্যুৎ,পানি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহন করেছেন। ব্যাংক এশিয়া পোষ্ট অফিসে নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি নিয়মিত বাজার ও অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে পোষ্ট অফিসের অভ্যান্তরে বসে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে "প" অদ্যক্ষরের এক নারীকে কু প্রস্তাব দেয়ার কারনে তিনি পোষ্ট অফিস ত্যাগ করেছেন। সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ-এর বিরুদ্ধে বাজেটের টাকা থেকে বিদ্যুৎ বিল,ও বাজার করার অভিযোগও রয়েছে। ভুয়া ভাউচার দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাত, কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরনে সকলেই অতিষ্ঠ। আব্দুর রশিদ-এর সাফ কথা আমাকে তেল দিয়ে চলতে হবে।আমার কথাই আদেশ। সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ পোষ্ট অফিসকে বানিয়েছেন ঘুষের আখড়া। তার কাছে ঘুষই প্রধান।তিনি একই লোককে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বদলী করছেন। যে সেভিংস বিভাগে আত্মসাৎ সেখানেই নুরুল কবির ও তানজিম হোসেনকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বদলী করা হয়েছে। অফিসের মধ্যে তিনি নুরুজ্জামান ও মশিউর রহমানকে নিজের লোক বনিয়েছেন, ফলে তাদের কোন বদলী নাই।  কিছু কর্মচারীর দাবি, বাজেটের অর্থ থেকে বিদ্যুৎ বিল ও ব্যক্তিগত খরচ মেটানো, ভুয়া ভাউচার ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তদন্তের মাধ্যমে হয়রানি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে  আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে।  এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশিদ-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)
বিআরটিএর উপ-পরিচালক বদলির আদেশ বাতিল, ঘুষ-বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট

ঢাকা: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক বার আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। নতুন সরকারের আগমন ও অফিসিয়াল বদলির আদেশ বাতিলের দ্রুত ঘটনাচক্রে সন্দেহ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, বিআরটিএর উপ-পরিচালক (প্রশাসন) তানভীর আহমেদ সিদ্দিক ৭ মার্চ স্বাক্ষরিত আদেশে মো. রফিকুল ইসলামকে চট্টগ্রাম ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেল থেকে রাজশাহীর বিভাগীয় অফিসে বদলি করেছিলেন। তবে কেবল একদিন পরেই, বিআরটিএর আরেক উপ-পরিচালক হেমায়েত উদ্দিন স্বাক্ষরিত নতুন আদেশে বদলি বাতিল করা হয়। কর্মচারীদের প্রশ্ন, কীভাবে একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অন্য একজন কর্মকর্তার আদেশ এত দ্রুত উল্টো যায়। ঘুষ ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বদলি বাণিজ্য, রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি এবং ঘুষ আদায়ে জড়িত। তার কথিত চাচার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকায় তার “শাহাবাস্তি বিজনেস সেন্টার” নামের অফিসটি সিন্ডিকেটের হেডকোয়ার্টার হিসেবে পরিচিত। সূত্র জানায়, এই অফিস থেকে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সরকারি সেবার স্বাভাবিক স্রোত ব্যাহত করছে। রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় রয়েছে: সিএনজি অটো-রিকশা রেজিস্ট্রেশনের নামে বড় অংকের ঘুষ আদায়। মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জালিয়াতি। সিন্ডিকেট গঠন ও দালাল চক্রের মাধ্যমে নিয়মিত অবৈধ আয়। আত্মীয়-স্বজনের নামে বিপুল সম্পত্তি অর্জন।   ঘটনার সময়রেখা:   তারিখ ঘটনা স্বাক্ষরকারী উপ-পরিচালক ৭ মার্চ ২০২৬ রফিকুল ইসলামকে চট্টগ্রাম ঢাকা মেট্রো-৪ থেকে রাজশাহী বদলি তানভীর আহমেদ সিদ্দিক ৯ মার্চ ২০২৬ বদলি আদেশ বাতিল হেমায়েত উদ্দিন   সময়ের রেখা ও প্রমাণ ২০১৫: চট্টগ্রাম মেট্রো-১ এ সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উত্তরা মোটরসের ডিলারের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ। ২০১৬: ঢাকা জেলা সার্কেলে সহকারী পরিচালক হিসেবে সিএনজি রেজিস্ট্রেশনের নামে বড় ধরনের অনিয়ম শুরু। ২০১৯ পর্যন্ত: প্রায় ৫ হাজার সিএনজি রেজিস্ট্রেশন, যেখানে অধিকাংশ মালিক ভুয়া ঠিকানার মাধ্যমে নিবন্ধন। ২০২৪: ঢাকা মেট্রো-১ থেকে বরিশাল বিভাগীয় অফিসে বদলি, এরপর বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে সিন্ডিকেট পরিচালনা।   প্রশাসনিক ব্যর্থতা  কেন একটি উপ-পরিচালকের আদেশ অন্য একজন উপ-পরিচালকের স্বাক্ষরে বাতিল হতে পারলো? রফিকুল ইসলামকে শুধু বদলি করা যথেষ্ট নয়, তার সিন্ডিকেট ও সম্পদের উত্থানও তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও জনসেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি।   রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি বিভাগ প্রক্রিয়া প্রায় ঘুষের পরিমাণ মন্তব্য সিএনজি রেজিস্ট্রেশন ঢাকার নামে ভুয়া ঠিকানা ১ লাখ টাকা প্রতি রেজিস্ট্রেশন প্রায় ৫ হাজার রেজিস্ট্রেশন ২০১৬–২০১৯ মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন আর.এম মোটরস & ইন্টারন্যাশনাল শোরুম অজানা, কোটি টাকা প্রায় আত্মীয়-স্বজনের নামে সম্পত্তি অর্জন ফিটনেস সার্টিফিকেট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আলাদা হিসাব নেই সরকারি নিয়মের চরম লঙ্ঘন   নিরাপত্তা ও আইনি প্রয়োজনীয়তা তদন্ত কমিটি গঠন, সিন্ডিকেটের উচ্ছেদ, এবং অবৈধ সম্পত্তির অনুসন্ধান জরুরি। শুধুমাত্র বদলি আদেশের মাধ্যমে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রশাসনিক প্রভাব ও প্রশ্ন কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু বদলি করে দুর্নীতি বন্ধ হবে না। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও তদন্ত ছাড়া সরকারি সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি ক্ষোভ বাড়বে। বিআরটিএর উচ্চপর্যায় থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের সিন্ডিকেট ও ঘুষ-বাণিজ্য চক্র সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়ম ও শৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি।   তদন্ত প্রয়োজনীয়তা সিন্ডিকেটের অবৈধ সম্পত্তি ও অর্থের উৎসের তদন্ত। ঘুষ-বাণিজ্য ও রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতির সম্পূর্ণ রিপোর্ট। কঠোর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
মো. আলমগীর হোসেন।
নীলফামারীতে লাখে ২০ হাজার টাকা ঘুষের অভিযোগে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন অবরুদ্ধ

নীলফামারীর সদর উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়ার সময় প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গেলে ইউপি সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ধরে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা অভিযোগ করেন, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে বরাদ্দ দেওয়ার সময় প্রতিটি প্রকল্প থেকে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৪০০টি কার্ড নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সংরক্ষিত নারী সদস্য বিলকিস বেগম বলেন, তাকে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, কাজ শেষ হলেও এখনো বিল পাননি। “কাজ দেওয়ার সময় প্রশাসক অগ্রিম ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন,” বলেন তিনি। আরেক সংরক্ষিত নারী সদস্য চম্পা রানী অভিযোগ করেন, যে সদস্যকে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে, তার কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাকে ২ লাখ ৬৩ হাজার টাকার একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমার কাছ থেকেও ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এটি নাকি তার প্রাপ্য।” ইউপি সদস্য মশিউর রহমান জানান, টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। “আমি তাকে টাকা দিয়েছি। এছাড়া ভিজিএফ চালের ৪০০টি কার্ডও তিনি নিজের কাছে রেখেছেন। এগুলো কী করা হবে সে বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি,” বলেন তিনি। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, “ইউপি সদস্যদের সঙ্গে আমার কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি।” তার দাবি, তাকে অবরুদ্ধ করা হয়নি। “আজ সবাই মিলে কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে,” বলেন তিনি। এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, অভিযোগগুলো তার আগে জানা ছিল না। তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
নির্বাচন কমিশন
৩০০ টাকা ঘুস নিয়ে চাকরি হারালেন ইসি কর্মকর্তা

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা প্রদানের সময় মাত্র ৩০০ টাকা ঘুষ গ্রহণ এবং সেই তথ্য গোপন রাখতে সাংবাদিককে ২৯ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শুধাংশু কুমার সাহাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শুধাংশু কুমার সাহা কুমিল্লায় অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালে এক সেবাগ্রহীতার এনআইডি সংশোধনের জন্য অবৈধভাবে ৩০০ টাকা গ্রহণ করেন। ওই সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা তার ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি প্রচার রোধ করার জন্য অভিযুক্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ২৯,০০০ টাকা ঘুষ প্রদানের প্রস্তাব দেন। ঘটনাটি তদন্তের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন আইডিইএ দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. ফরিদুল ইসলাম। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করলেও তার জবাব সন্তোষজনক ছিল না। সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাকে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কমিশনের এই কঠোর অবস্থান জিরো টলারেন্স নীতির অংশ। বরখাস্তের আগে তিনি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়, রংপুরে সংযুক্ত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0