Brand logo light

খাল খনন

বরিশাল নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা: খাল দখল, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ

বরিশাল অফিস :    বরিশাল, ‘বাংলার ভেনিস’ নামে পরিচিত শহরটি এখন সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধ নগরীতে পরিণত হচ্ছে। একসময় যে খালগুলো এই শহরের প্রাণ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেগুলো দখল, দূষণ ও ভরাট হয়ে কার্যত বিলীন হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টি নামলেই নগরীর প্রধান সড়কগুলো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। সদর রোড, বগুড়া রোড, রূপাতলীসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বৃষ্টির পরপরই তীব্র ভোগান্তি দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল এবং ময়লা-আবর্জনায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। খাল হারিয়ে ভেঙে পড়েছে নিষ্কাশন ব্যবস্থা একসময় নগরীর প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের মূল ভরসা ছিল খালগুলো। তবে বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা ও দখলের কারণে এসব খাল এখন প্রায় অস্তিত্বহীন। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নর্দমার পানি উপচে বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ছে। কোটি টাকার প্রকল্প, তবু নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি জলাবদ্ধতা নিরসনে গত বছর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৭০১ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে। একইভাবে ২০২৩ সালে খাল খননের জন্য ৬ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও নগরবাসীর মতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২০১৬ সালে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে খাল খনন শুরু হলেও তা এখনো অসম্পূর্ণ। একের পর এক পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পগুলো থমকে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নতুন উদ্যোগ ও পুরোনো প্রশ্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নতুন করে ২৯টি খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে এ উদ্যোগ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন নাগরিকরা। বিসিসির প্রশাসক জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খাল পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে এবং দ্রুত ফলাফল আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ৭৫৯ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। নাগরিকদের অভিযোগ ও বাস্তবতা নগরীর বিভিন্ন এলাকা যেমন বগুড়া রোড, আমানতগঞ্জ, নবগ্রাম রোড, রসুলপুর ও পলাশপুরে বর্ষার সময় নিয়মিত জলাবদ্ধতা দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টিতে এসব এলাকা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। অটোরিকশা চালক ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষরা বলছেন, পানি জমে থাকায় যানবাহন বিকল হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের মত স্থানীয় বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, শুধুমাত্র খাল খনন নয়, একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নগর পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণ এবং খাল পুনরুদ্ধার—সবকিছুর সমন্বিত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। দুই দশকের পুরোনো সমস্যা ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন এখন দুই দশক পার করলেও জলাবদ্ধতা সমস্যা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে। বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে নগরবাসী এখনো প্রতিবার বর্ষায় একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
ঝালকাঠির রাজাপুরে খাল খননে সড়ক ধস
ঝালকাঠির রাজাপুরে খাল খননে সড়ক ধস, বর্ষায় বিচ্ছিন্নতার শঙ্কা,ভোগান্তি

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার তুলাতলা এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে খাল খননের ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পিচঢালা সড়কে ধস নেমেছে। এতে স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের পাড়ঘেঁষা সড়কের একাংশ ধসে পড়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী, ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিতে আসা মানুষ এবং জরুরি সেবার যানবাহন—যেমন ফায়ার সার্ভিস—চলাচলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। গত ২২ মার্চ এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এমপি। সম্প্রতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খননকাজ শুরু করলে তুলাতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল খননের সময় কোনো ধরনের সঠিক কারিগরি পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়নি। ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তার পাশ ঘেঁষে অতিরিক্ত গভীর করে মাটি কাটায় সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে খালের উত্তর পাশ খাড়া রেখে মাটি সরিয়ে ফেলা হলেও দক্ষিণ পাশে ঢাল রেখে খনন করা হয়েছে, যা ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে। স্থানীয় বাসিন্দা এমাদুল সরদার বলেন, “আমরা বারবার নিষেধ করলেও ভেকু চালক আমাদের কথা শোনেননি। তার মনগড়া খননের কারণে এখন আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।” সত্তোরোর্ধ ইউসুফ মোল্লা বলেন, “আমার সামনেই রাস্তার পাশ খাড়া করে কাটা হয়েছে। সতর্ক করার পরও তারা শোনেনি, এখন রাস্তা ভেঙে পড়েছে।” তবে ভেকু মেশিনের মালিক ও মঠবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তারেক দাবি করেন, “প্রথমে সামান্য ফাটল ছিল। পরে এসে দেখি বড় ধস হয়েছে। আমার ধারণা, এতে দুষ্কৃতিকারীদের হাত থাকতে পারে।” উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। খাল খননের কারণে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খনন শেষ হলে মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, “খাল খননে সংশ্লিষ্টদের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিয়েছে।” উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলায় ১৩টি খাল খনন ও ৩টি বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। তুলাতলা এলাকার খননকাজও এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। তবে স্থানীয়দের দাবি, দায়সারা সংস্কার নয়—স্থায়ী ও টেকসই পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে সড়কটি নিরাপদ করা হোক। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
রাজাপুরে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ
রাজাপুরে খাল খননে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

রাজাপুর : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকল্পের নামে নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। উপজেলার সদর এলাকার তুলাতলা এবং আংগারিয়া গ্রামের রাঢ়িবাড়ি খাল খননকে ঘিরে এই অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে, যা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের অধীনে মোট ১৩টি খাল খনন এবং ৩টি বাঁধ নির্মাণে ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত দুটি খালের ৪.৮৯ কিলোমিটার খনন কাজে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। তবে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ খনন না করে খালের মাঝখান থেকে সামান্য পলি সরিয়ে সরু নালা তৈরি করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি প্রকৃত খাল খনন নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে অর্থ অপচয়ের একটি উদাহরণ। স্থানীয়রা আরও জানান, খনন কাজ শুরুর আগে খালের দুই পাড়ের বহু ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়। খালের পাড় তির্যকভাবে কাটায় তা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে খালটি আবার ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। আংগারিয়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, নিয়ম মেনে খাল খনন করা হলে হাজারো কৃষক সেচ সুবিধা পেতেন এবং মাছ চাষের সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় প্রকল্পটি তাদের কোনো বাস্তব উপকারে আসছে না। অন্যদিকে, খাল খনন সমিতির সভাপতি আ. সালাম খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সরকারি নীতিমালা মেনেই কাজ করা হয়েছে। কিছু স্থানে বসতঘর থাকায় খালের পাড় কাটতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা দপ্তরের নির্দেশনায় করা হয়েছে।” এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।” তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
খাল খনন: জিয়া থেকে তারেক

আলম রায়হান: বর্তমান সরকারের প্রধান কর্মসূচির মধ্যে একটি হচ্ছে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন। কাগজপত্রের হিসাবে এ কাজ অতীব সহজ। বেকু দিয়ে কাটলেই হলো! উল্লেখ্য জনশক্তির ওপর নির্ভর করে এ কাজের সূচনা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বলা হয়, এটি নিছক কোনো কাজ নয়, একটি আন্দোলন। বিপ্লবও বলা চলে। দেশকে স্বনির্ভর করাই ছিল তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য। গভীরে আরও অনেক বিষয় ছিল।  পানি নিয়ে ভাবতেন প্রেসিডেন্ট জিয়া প্রেসিডেন্ট জিয়া পানি নিয়ে ভাবতেন। যে ভাবনা থেকেই ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্সার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পানি রক্ষায় নানান উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্যোগেরই আলোচিত ও আলোকিত দিক হচ্ছে খাল খনন। কয়েক দশক আগে সূচিত কাজটিই নতুন উদ্যমে হাতে নিয়েছেন জিয়াপুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিন্তু মাঝখানে পদ্মা-মেঘনা দিয়ে অনেক পানি গড়িয়েছে। ফলে জিয়াউর রহমানের পক্ষে যা বাম হাতের খেলা ছিল, তারেক রহমানের পক্ষে তা কতটা সহজ-এ নিয়ে অনেকেই ভাবছেন। সঙ্গে আরও অনেক প্রসঙ্গ নিয়ে নানান আলোচনা আছে। কিন্তু মূল কথাটি সম্ভবত এখনো তেমন আলোচনায় আসেনি। তা হচ্ছে, খাল কাটা হবে কোথায়, কীভাবে। এ প্রসঙ্গে কারও মনে পড়তেই পারে হাসন রাজার গান, ‘কী ঘর বানাইমু আমি শূন্যের মাঝার।’ এ প্রসঙ্গে অতীতের একটি ঘটনার অবতারণা করা যাক। এবং বলে রাখা ভালো, কোনো বিচারেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় নদী কমিশনের চেয়ারম্যানের তুলনা চলে না। তবে অনুমান করা যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নদী কমিশনের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ তো আনুপাতিকভাবে আসতেই পারে।    শেখ হাসিনার দিকে ফিরেও তাকাননি উল্লেখ্য শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নদী কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী। তিনি শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও বেশ পরিচিত। এরপরও মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। যামিনী না পোহাতেই জাগাবার মতো ঘটনা ঘটেছে। যদিও অন্য রকম আকুতি আছে বরীন্দ্রনাথের গানে, ‘কেন যামিনী না যেতে জাগালে না, বেলা হলো মরি লাজে।’ নদী কমিশনের উল্লিখিত চেয়ারম্যান নদী-পানি রক্ষায় নিজেকে ক্ষমতাধর মনে করেছিলেন, রথের মতো। যেটাকে সরকারের ঘনিষ্ঠ ‘নদীখোর’ সাঙাতরা খুব বেশি বাড়াবাড়ি বলে বিবেচনা করেছিলেন।  মনে রাখা প্রয়োজন, সব সরকারের আমলেই একদল সাঙাত জুটে যায়। এরা খুবই ক্ষমতাধর হয়। সরকারের সঙ্গে এদের সম্পর্কটা অনেকটা পরকীয়ার আদলে। ফলে সাঙাতদের বদনখানি মলিন হলেই সরকারের কেন্দ্রে এক প্রকার ঝাঁকুনি লাগে। যদিও নিদানকালে এসব সাঙাত কোনোই কাজে লাগে না। এটি শেখ হাসিনার পরিণতিতে দিবালোকের মতো স্পষ্ট। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যাঁরা চিরকাল থাকার সংকল্প করেছিলেন, এমনকি একত্রে কবরেও যাওয়ার কথা বলেছিলেন তাঁরা ইউটার্ন করেছেন নিমেষে। শেখ হাসিনার দিকে ফিরেও তাকাননি। কবরে যাওয়া তো অনেক দূরের বিষয়।  কবর থেকে উঠতেই চাচ্ছিলেন না মোশতাক কবর প্রসঙ্গে একটি বিষয় উল্লেখ করা যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর বাবা ইন্তেকাল করেন। তাঁকে শেষবিদায়পর্বে যাঁরা কবরে নামিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে খোন্দকার মোশতাকও ছিলেন। কিন্তু তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে কবর থেকে আর উঠতেই চাচ্ছিলেন না। কিন্তু নির্মম ইতিহাস বলে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবার কবরে পাঠানোর ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এই মোশতাক। বলাবাহুল্য এরকম অনেক বাস্তবতা আছে। কিন্তু কেউ তেমন বিবেচনায় নেন না। শিক্ষা নেওয়া তো অনেক দূরের বিষয়। ওয়ান-ইলেভেনের পরিণতি কি কেউ বিবেচনায় নিয়েছেন? অন্তত আওয়ামী লীগ নেয়নি। যদিও হাসপাতাল থেকে অচল অবস্থায় কর্মীদের কাঁধে চড়ে বের হওয়ার সময় ওবায়দুল কাদের ওয়ান-ইলেভেনকে ‘একটি শিক্ষা’ হিসেবে উচ্চারণ করেছিলেন আবেগঘন নাটকীয়তায়। কিন্তু ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি এবং তাঁর সরকার কী করেছে? আসলে এটি হচ্ছে দেশের সরকারগুলোর ইনবিল্ড প্রবণতা। আর আমাদের রাজনীতিকরা যতটা না সরকার গঠন করেন, তার চেয়ে অনেক বেশি দৈন্যে সরকার কাঠামোতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। একপর্যায়ে এই কাঠামোবলয়ে আশ্রিত হয়ে যান এবং সরকার কাঠামোকেই সুরক্ষার বর্ম হিসেবে বিবেচনার বিভ্রমে আক্রান্ত হন। হেলাল হাফিজের কবিতার প্রিয়ার গালে মাছিকে তিল ভেবে ভুল করার মতো। ফলে সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার অবস্থায় তারা থাকেন না।  শিরোমণি ছিলেন অতিবাচাল এক নারী কাজেই সরকার কাঠামোতে নদী-পানির বিষয়ে নদী কমিশনের চেয়ারম্যান তো নস্যি, মন্ত্রীও একপ্রকার তেজপাতা। কাজেই নদী কমিশনের চেয়ারম্যান যতই শেখ পরিবারঘনিষ্ঠ ও দক্ষ হন না কেন, তাতে কিছু যায় আসে না। ফলে নদী কমিশনের চেয়ারম্যানের সক্রিয় ভূমিকা বড় বেশি বাড়াবাড়ি মনে করা হয়েছিল ক্ষমতাকেন্দ্রের সাঙাতদের কাছে। তাঁর সবচেয়ে ‘বড় অপরাধ’ ছিল, তিনি ঢাকার চারদিকের চারটি নদী পরিষ্কার রাখার জন্য গোঁ ধরেছিলেন। যাকে বরিশালের স্থানীয় বয়ানে বলা হয়, ‘ছাগলের ঠেনি।’ চেয়ারম্যান এমনও বলেছিলেন, ‘নদীর পানি এমন স্বচ্ছ হবে যে ঝিনুক ফিরে আসবে, মাছ ধরার জন্য নদীর তীরে ধ্যানের মতো অপেক্ষায় থাকবে মাছরাঙা।’ কিন্তু এসবের কিছুই হয়নি। উল্টো খোদ প্রধানমন্ত্রীর রোষানলে অপমানিত হয়েই বিদায় নিয়েছেন।  তবে এ অপকর্মের জন্য খুব ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের গলদঘর্ম হতে হয়নি। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদী দখল করে ডকইয়ার্ড নির্মাণকরী এক ব্যবসায়ী মূল খেলা খেলে দিয়েছেন। এর প্রেক্ষাপট প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় ছিল পরিবেশবাদীর ছদ্মাবরণে কতিপয় ভুঁইফোঁড় এনজিও। আর এদের শিরোমণি ছিলেন নাটকীয় বচনের অতিবাচাল এক নারী। পরে তিনি ইউনূস সরকারের উপদেষ্টার আসন অলংকৃত করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারে থাকাকালে তাঁর অনেক অপকর্মের ফিরিস্তি এর মধ্যেই বেশ চাউর হয়েছে। এরপরও তিনি বাচালপ্রবণতা ত্যাগ করতে পারেননি। কয়েক দিন আগে সংসদ নির্বাচনের সময় তাঁদের তৎপরতা প্রশ্নে বচন দিয়ে জামায়াতের হাতে একটি বড় ইস্যু তুলে দিয়েছেন, সরকারকে ফেলেছেন বিব্রতকর অবস্থায়। তিনি এমনই এক জিনিস।  হাসিনার প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন ‘নদীখাদক’  এই অদম্য নারীর সঙ্গে যদি হাসিনা সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী যুক্ত হন তাহলে আর কিছু লাগে! প্রসঙ্গত এই প্রতিমন্ত্রীও ‘নদীখাদক’ হিসেবে কুখ্যাত। শুরুর দিকেই বলেছি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো কমিশন চেয়ারম্যানের তুলনা না চললেও অনুমান করা যায়। এই আলোকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার অনুকরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল কাটা উদ্যোগ পানির মতো সোজা মনে হচ্ছে না। প্রসঙ্গত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুরুতে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ছিলেন। তিনি ছিলেন একক ক্ষমতাধর। তাঁর হাতে ‘ডান্ডা’ ছিল। আর সেই সময়ে রাজনীতি ততটা কলুষিত হয়নি, যতটা হয়েছে পরবর্তী সময়ে ক্রমাগতভাবে। দ্রুত অধোগতির ধারায় রাজনীতির জার্সি গায়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের অপরাধী ও ধান্ধাবাজরা রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছেন। ফলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে রাজনীতিতে ঠগ বাছতে কম্বল উজাড় হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হতে পারে। রাষ্ট্রকাঠামোতে নানান কিসিমের অপরাধীতে গিজগিজ করে রাষ্ট্রকাঠামোর ওপর দিকের বিভিন্ন স্তর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নানান কিসিমের অপরাধীতে গিজগিজ করে। এরা নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কোনো কিছুকে বিবেচনায় নেয় না। এই অপশক্তি বিভিন্ন দলে সংযুক্ত। তাদের বাহারি পরিচয় ‘নেতা’। কথিত এই নেতারা সুযোগ পেলে পাবলিকের খাতা ধরে টানাটানি করে। বস্ত্র হরণের একাধিক খবর তো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। অনেক খবর অপ্রকাশিতই থেকে যায়। কাজেই খাল খনন করতে গিয়ে যখন উচ্ছেদ প্রসঙ্গ আসবে তখনই হবে জটিল খেলা। এ প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী প্রকারান্তরে আগাম ধারণা দিয়ে রেখেছেন। তিনি ৮ মার্চ বলেছেন, ‘খাল এবং নদীর অনেক জায়গায় দীর্ঘ সময় পলি জমে ছিল, অনেক জায়গায় দোকানপাট বাড়িঘর গড়ে উঠেছিল। আমরা সব বাধাবিপত্তি দূর করে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’ প্রশ্ন হচ্ছে, যারা দখল করেছে তারা কি সহায়তা করার জন্য মুখিয়ে আছেন? এদের তো উচ্ছেদ করতে হবে। এটি মোটেই সহজ নয়, বরং খুবই কঠিন কাজ।  পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্পর্কে মন্ত্রীর সম্যক ধারণা আছে?  প্রশ্ন আছে, খাল কাটার উদ্দেশ্য কী? এ ব্যাপারে আগিলা সময়ের একটি পাঠ্য রচনা প্রসঙ্গে আসা যাক। সেই সময় রচনাবলির মধ্যে একটি ছিল, ‘যদি লাখ টাকা পাই’। শিশুতোষ রচনায় লাখ টাকা পেলে নানা পরিকল্পার কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, সব ভাত গুড় দিয়ে খাওয়ার ভাবনা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, খাল কাটার প্রধান উদ্দেশ্যগুলো কী কী?  আতা গাছে তোতা পাখির মতো সরকারি বয়ান নিশ্চয়ই প্রস্তুত, ‘বর্ষাকালের পানি ধারণ, শুষ্ক মৌশুমে কৃষিতে সেচের ব্যবহার এবং জলাবদ্ধতা দূর করা।’ খুবই ভালো কথা। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত করার দৃঢ়তা কি সরকারের বখেদমতে হুজুরেআলাদের আছে? এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। এদিকে মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খাল কাটা কাজ হচ্ছে। কিন্তু যতটুকু জানা গেছে, খাল খননের মাঠের কাজটি করবে প্রধানত তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএডিসি। কিন্তু নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্পর্কে মন্ত্রীর কী সম্যক ধারণা আছে? বলা কঠিন!  প্রয়োজনে ক মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি হাসিনা সরকারের পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন। আবার উপমন্ত্রী বলে অবজ্ঞা করা ঠিক হবে না। কারণ এনামুল হক শামীম খুবই ক্ষমতাধর ছিলেন।  এরপরও তিনি নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছুই করতে পারেননি। আরও অনেক কঠিন বাস্তবতা আছে। এসব অতিক্রম করেই খাল কাটা কর্মসূচি সফল করতে হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। যা পাহাড় লঙ্ঘনের মতোই কঠিন কাজ। যত জটিলতাই হোক না কেন, খাল কাটায় প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য কামনা করি। কারণ দেশ বাঁচানোর প্রাণভোমরা কিন্তু পানি। আর পানির প্রথম ধাপটিই হচ্ছে খালবিল-পুকুর, পরে নদী। খাল খনন কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সামাজিক সহযোগিতা—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ—উভয়ের জন্যই জরুরি। কিন্তু পরিকল্পনা আর বাস্তবতার ব্যবধান কমানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
খাল খনন ও কৃষক উন্নয়নের অঙ্গীকারে তারেক রহমান: বাবার পথেই হাঁটার প্রত্যয়
খাল খনন ও কৃষক উন্নয়নের অঙ্গীকারে তারেক রহমান: বাবার পথেই হাঁটার প্রত্যয়

১২ জানুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হলে বিএনপি সরকার গঠন করে দক্ষিণাঞ্চলে খাল খননসহ কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করবেন—এমন ঘোষণায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বরিশালের এক জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে অনেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা সুলতান হাওলাদার বলেন, “কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা শোনার পরই মনে হয়েছে—তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সন্তান। আর যখন খাল খননের ঘোষণা দিলেন, তখন আর কোনো সন্দেহই রইল না।” তিনি আরও বলেন, ছোটবেলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারা দেশে খাল খননের যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা দীর্ঘদিন ধরে কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সুফল বয়ে এনেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে খালগুলো ভরাট হওয়ায় সেচব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে, দখল ও পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে কৃষিকাজে সংকট তৈরি হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকা ফাতেহা খানম বলেন, “উন্নয়ন দরকার, কিন্তু নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী-খাল দখল মেনে নেওয়া যায় না। ধান-নদী-খালের বরিশাল তার ঐতিহ্য হারাক, সেটাও চাই না।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমান বাবার শুরু করা জনবান্ধব কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল নগরের বেলস পার্ক মাঠে বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের নিয়ে জনসভা করেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন, “১৩ তারিখ থেকে দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে। দক্ষিণাঞ্চলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেই কাজ আবার শুরু করব।” তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “কে কে আমার সঙ্গে খাল খনন করতে যাবেন?” জনসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষ হাত তুলে সমর্থন জানান। তারেক রহমান আরও বলেন, “এই বাংলাদেশ জনগণের বাংলাদেশ। দেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে। আগামী ১২ তারিখ মানুষ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে, যারা জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবে।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলেই বরিশাল বিভাগ ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা অনেক কাজ করেছি, তবে এখনও অনেক কাজ বাকি। বিএনপির রাজনীতির মূল কথা একটাই—জনগণই সব ক্ষমতার উৎস।”

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0