Brand logo light

কুয়েত

সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ, ইরানের ড্রোন হামলার দাবি ঘিরে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলার পেছনে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্টতার দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৩টি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে। বিশেষ করে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিক ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত, সেখানকার শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থাও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের সদর দপ্তরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে আসছে ইরান। তাদের মতে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এসব দাবি বারবারই অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, ইরানের এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অতিরঞ্জিত। এদিকে সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ও জল্পনা-কল্পনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলার খবর সত্য হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের তেল শোধনাগার
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের তেল শোধনাগারে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার সময় ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ গিয়ে শোধনাগারে পড়ে এবং সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নির্দেশ করছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাত পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ও মধ্য ইসরায়েলসহ জেরুজালেম এলাকায় বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বাজার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য জানা যায়নি। এটি প্রথম ঘটনা নয়। গত বছর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত চলাকালেও হাইফার এই শোধনাগারটি হামলার শিকার হয়েছিল। অন্যদিকে, কুয়েতেও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মিনা আবদুল্লাহ তেল শোধনাগারের একটি অপারেশনাল ইউনিটে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি)। এর আগে মিনা আল আহমাদি শোধনাগারেও একই ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এদিকে, বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে ইসরায়েল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিমান হামলা চালায়। এটি বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র, যার একটি অংশ কাতারের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত। এই হামলার জবাবে ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে আগুন লাগে। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকদিনের ব্যবধানে এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে। এতে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে এটি ‘জ্বালানি যুদ্ধ’-এ রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত
কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত

কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন কর্মী হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রবাসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে পররাষ্ট্র দপ্তর। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘নিরাপদে সম্ভব হলে কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকেরা বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো উপায়ে দ্রুত দেশ (কুয়েত) ত্যাগ করুন। যারা দেশ (কুয়েত) ত্যাগ করতে পারছেন না, তাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’ সূত্র: বিবিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে যুদ্ধ জোরদার,মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে প্রতিহত করছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে তীব্র যুদ্ধ, তেহরান ছেড়ে যাচ্ছে লক্ষাধিক মানুষ ,ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার জবাবে কঠোর পাল্টা হুমকি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার পর ইরান যুদ্ধ ত্যাগের অঙ্গীকার জোরদার করেছে। খাতাম আল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় দপ্তরের ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল কিওমারস হেইদারি বলেন, তার দেশ লক্ষ্য পূরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তীব্র আঘাত না হানা পর্যন্ত যুদ্ধ ত্যাগ করবে না। ২৮শে ফেব্রুয়ারি হামলার পর তেহরান প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে। ইরান এখন পর্যন্ত ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিব ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ ইরানের পাশে সরাসরি যুদ্ধে নেমেছে। উভয়ে মিলে তেল আবিবে হামলা চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত মহাসাগরে যুদ্ধের ছড়িয়ে পড়া ভূমধ্যসাগরের উত্তেজনা ভারত মহাসাগরে পৌঁছেছে। সাইপ্রাসে ফ্রান্স রণতরী মোতায়েন করেছে, যুক্তরাজ্য অ্যান্টি-মিসাইল সরঞ্জাম পাঠিয়েছে, এবং জার্মানি মৌন সমর্থন দিয়েছে। বুধবার ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত ইরানের জাহাজে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হিসেবে ইরান একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের সমর্থিত কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে পারবে না। এদিকে যুদ্ধের তীব্রতায় স্কুল ও হাসপাতালেও ক্ষতি হচ্ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত অন্তত ১০৫টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে তেহরান ছাড়ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দুইদিনে লক্ষাধিক মানুষ দেশ ছাড়েছে। ইরানের তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় পরিবর্তন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ অভিযান শুরু করার মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানের শাসনব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তন। তবে, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরানের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হয়নি। উল্টো, ইরান ও হিজবুল্লাহ পাল্টা আঘাত চালাচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হলে ইরান আলোচনায় যেতে রাজি নয়। আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তার মতে, তথ্য বিকৃতি পরমাণু আলোচনাকে ব্যর্থ করেছে। হতাহতের সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত ইরানে ১২৩০ জন নিহত হয়েছেন। মিনাবে স্কুলে হামলায় ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলে ১১ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ জন, কুয়েতে দুই সেনা নিহত হয়েছেন। লেবাননে ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন ও ওমান উপকূলের কাছে এক জন নিহত হয়েছেন। ট্রাম্পের যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ মার্কিন কংগ্রেসের সিনেটে ট্রাম্পের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব ৪৭-৫২ ভোটে খারিজ হয়েছে। রিপাবলিকানরা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর ফলে ট্রাম্পের সামরিক আকাঙ্ক্ষা কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণে আনা ব্যর্থ হলো এবং যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের সমর্থন স্পষ্ট হলো।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
কুয়েতে ইরানের হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত
কুয়েতে ইরানের হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত

কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত আমেরিকান সেনার সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত রোববার (১ মার্চ) এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তিন সৈন্য নিহতের খবর জানিয়েছিল। তবে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।   পরবর্তী তিনজনের মধ্যে একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে মারা যান। বাকি দুইজনের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক বিবৃতিতে জানান, কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো একটি মার্কিন বাঙ্কারে সরাসরি আঘাত হানে। ওই সময় মার্কিন বাহিনীর পাল্টা হামলা পরিচালনা করার প্রস্তুতির মধ্যেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।   তিনি আরও জানান, ইরানি এই হামলায় কুয়েতের বায়ানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং হতাহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।মার্কিন প্রশাসন এই ঘটনার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করে ইরান
মার্কিন ঘাঁটিই হামলার লক্ষ্য,প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নয় : ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধ অবস্থায় নেই ইরান। আমাদের সামরিক হামলা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে (মার্কিন ঘাঁটি) লক্ষ্য করে করা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর উচিত ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চাপ দেওয়া।  যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক প্রতারণা করেছে অভিযোগ এনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যখন আলোচনা চলছিল তার মধ্যেও তারা ইসরায়েলের সঙ্গে মিলিতভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে। অথচ সামরিক সংঘাত এড়ানোর জন্য এ আলোচনা করা হচ্ছিল। এসময় আব্বাস আরাগচি হুঁশিয়ার করে বলেন, উপসাগরীয় যে দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সে ঘাঁটিই ইরানের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালাচ্ছি না, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছি। হোটেলে আশ্রয় নেওয়া মার্কিন সৈন্যদের আমাদের লক্ষ্যবস্তু থেকে বাঁচাবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস কার্ল ভিনসন
মধ্যপ্রাচ্যে ১৯টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্যে ১৯টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি: ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় কোন কোন ঘাঁটি ঝুঁকিতে? মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। বর্তমানে অঞ্চলজুড়ে অন্তত ১৯টি স্থানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে। সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সদস্য এসব ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা নতুন করে বাড়ায় এই ঘাঁটিগুলো সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। তেহরান ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে বা হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এসব ঘাঁটি মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড United States Central Command (সেন্টকম)-এর অধীনে পরিচালিত হয়। কাতার: আল উদেইদ—সবচেয়ে বড় ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি কাতারের Al Udeid Air Base। এখানে সেন্টকমের ফরওয়ার্ড হেডকোয়ার্টার ও বিমান বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড রয়েছে। ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানে এই ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখানে মার্কিন বিমান বাহিনীর ৩৭৯তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং মোতায়েন রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা এখানে অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়াতে ঘাঁটি থেকে বহু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাহরাইন: পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর বাহরাইনে অবস্থিত United States Fifth Fleet-এর সদরদপ্তর পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর ও আরব সাগরে মার্কিন নৌ তৎপরতা পরিচালনা করে। এই ঘাঁটি ‘ন্যাভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন’ নামে পরিচিত। প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা এখানে মোতায়েন রয়েছে। এ অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ USS Carl Vinson-এর মতো সুপারক্যারিয়ারও চলাচল করে। এছাড়া রয়েছে মাইন বিধ্বংসী জাহাজ ও কোস্টগার্ডের দ্রুতগামী নৌযান। কুয়েত: লজিস্টিক ও অপারেশনাল হাব কুয়েত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি কেন্দ্র। এখানে অবস্থিত Camp Arifjan সেন্টকমের লজিস্টিক হাব হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে Ali Al Salem Air Base ঘাঁটিতে মার্কিন ৩৮৬তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং মোতায়েন রয়েছে। শুধু এই দুই ঘাঁটিতেই প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। এখানে ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোনও মোতায়েন রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত: আল ধাফরা ঘাঁটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের Al Dhafra Air Base একটি কৌশলগত বিমান ঘাঁটি। এখানে মার্কিন ৩৮০তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং রয়েছে, যা গোয়েন্দা নজরদারি ও যুদ্ধ বিমান অভিযানে সহায়তা করে। ইরাক: সীমিত কিন্তু কৌশলগত উপস্থিতি ইরাকে একসময় এক লাখ ৬০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে প্রায় আড়াই হাজারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন বাহিনী মূলত Islamic State-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে কাজ করছে। তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয় Al Asad Airbase ও Erbil Air Base থেকে। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এসব ঘাঁটি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সিরিয়া: পুনরুত্থান ঠেকাতে সীমিত উপস্থিতি সিরিয়ায় প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য ইসলামিক স্টেটের পুনরুত্থান ঠেকানো। ২০২৪ সালের শেষদিকে Bashar al-Assad ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সিরিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ঝুঁকি ইসরায়েল–ইরান উত্তেজনা, লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথিদের হামলা এবং গাজা সংঘাত—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন অস্থির সময় পার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ালে এসব ঘাঁটি তাৎক্ষণিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতের ঘাঁটিগুলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ঝুঁকিও বেশি।   মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় এই অঞ্চলে মার্কিন সেনা সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আবারও এসব ঘাঁটির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির বড় নজরকাড়া বিষয়।   মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বহু দশকের পুরোনো এবং বর্তমানে তা মূলত United States Central Command (সেন্টকম)-এর অধীনে পরিচালিত হয়। ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, ইসরায়েল–ইরান সংঘাত, এবং ইয়েমেনের হুথিদের হামলার প্রেক্ষাপটে এসব ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নিচে প্রধান দেশভিত্তিক মার্কিন ঘাঁটি ও উপস্থিতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো: 🇶🇦 কাতার আল উদেইদ এয়ার বেস: অঞ্চলের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি। এখানে সেন্টকম ও মার্কিন বিমান বাহিনীর ফরওয়ার্ড হেডকোয়ার্টার রয়েছে। অতীতে ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তান অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রায় ১০,০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাব্য ইরানি হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় কিছু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়। 🇧🇭 বাহরাইন মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এখানে অবস্থিত। স্থাপনাটির নাম ন্যাভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর ও আরব সাগর এলাকায় মার্কিন নৌ তৎপরতা এখান থেকে পরিচালিত হয়। প্রায় ৯,০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। গভীর জলে সুপারক্যারিয়ারসহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ চলাচল করে। 🇰🇼 কুয়েত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম বড় কেন্দ্র। ক্যাম্প আরিফজান: সেন্টকমের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও লজিস্টিক হাব। আলী আল-সালেম এয়ার বেস: ৩৮৬তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং মোতায়েন রয়েছে। মোট প্রায় ১৩,৫০০ মার্কিন সেনা (এই দুটি ঘাঁটিতে) অবস্থান করছে। ড্রোন ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম মজুদ রয়েছে। 🇦🇪 সংযুক্ত আরব আমিরাত আল ধাফরা এয়ার বেস: গোয়েন্দা নজরদারি ও কমব্যাট এয়ার অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ। ৩৮০তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং মোতায়েন রয়েছে। উন্নত ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হয়। 🇮🇶 ইরাক মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি: কোথায় ও কেন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ক্ষেত্রে Iraq এখনো একটি কৌশলগত কেন্দ্র। যদিও ২০০৩ সালের পরের সময়ের তুলনায় বর্তমানে মার্কিন সেনা সংখ্যা অনেক কম, তবুও দেশটিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ইরাকে মোতায়েন আছেন। তাদের প্রধান মিশন জঙ্গি গোষ্ঠী Islamic State-এর পুনরুত্থান ঠেকানো এবং ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করা। 🔹 ১. আল আসাদ বিমান ঘাঁটি (Al Asad Airbase) Al Asad Airbase ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের আনবার প্রদেশে অবস্থিত। এটি ইরাকে মার্কিন বাহিনীর অন্যতম বৃহত্তম ঘাঁটি। ড্রোন, নজরদারি বিমান ও সামরিক অভিযানের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০২০ সালে ইরান এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, যা দুই দেশের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ দূতাবাস কুয়েত
কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশেষ সতর্কতা

উপসাগরীয় এলাকায় সম্প্রতি যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রেক্ষিতে কুয়েতে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস। ২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে নিম্নলিখিত নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে: সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি না যাওয়া: কুয়েতের সামরিক স্থাপনার আশপাশে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নিজ বাসায় অথবা নিরাপদ স্থানে অবস্থান: বিপদ কাটার আগ পর্যন্ত সবাইকে তাদের নিজ নিজ বাসায় বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিপদ কাটার আগে বাইরে না যাওয়া: অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে রাখা: নগদ টাকা, কুয়েতের সিভিল আইডি, স্বাস্থ্য বীমা কার্ড, প্রয়োজনীয় ঔষধ, মোবাইল ফোন, মোবাইল চার্জার, শুকনো খাবার এবং পানি সবসময় সঙ্গে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা: কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস সকল প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিককে কুয়েতি আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। জরুরি যোগাযোগের জন্য: দূতাবাসের হটলাইন নম্বর: +965 69920013 +965 66516404 কুয়েতের আইন এবং সরকারের নির্দেশনা মেনে চলতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আবারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ  বিমান
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা:বাহরাইন-কুয়েত ও কাতারে বাংলাদেশ থেকে বিমান চলাচল বন্ধ

ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা চালানোর পর প্রতিরোধ গড়ে তোলে তেহরান। এরই অংশ হিসেবে ইসরাইলে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। একইসঙ্গে বাহরাইন, আরব আমিরাত, কুয়েত ও কাতারে মার্কিন সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরান। একইসঙ্গে সৌদি আরবের রিয়াদে হামলার খবরও পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে বাংলাদেশ থেকে বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, কাতারে থাকা নাগরিকদের নিরাপদে থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0