Brand logo light

এসএসসি পরীক্ষা

বরিশালে বিদ্যুৎ সংকট ও এস এস সি পরীক্ষার মাঝে নিষিদ্ধ স্থানে বিতর্কিত বাণিজ্য মেলার আয়োজন!
বরিশালে বিদ্যুৎ সংকট ও এস এস সি পরীক্ষার মাঝে নিষিদ্ধ স্থানে বিতর্কিত বাণিজ্য মেলার আয়োজন!

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল:  এসএসসি পরীক্ষা চলমান।বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারনে জ্বালানী ও বিদ্যুত সংকটের মাঝে বরিশালের জিলা স্কুলের পশ্চিম পাশ্বের মাঠে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের মেলা পরিপত্র উপেক্ষা করে অবৈধভাবে শুরু হতে যাচ্ছে এ  বানিজ্য মেলা। বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের রপ্তানী -৭ শাখা থেকে ২০২৪ সালের ২৩ জুন "মেলা পরিপত্র " জারি করে। মেলা পরিপত্রের ৫ নম্বরে মেলা আয়োজনের শর্তাবলীর অন্যতম হল - কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন করা যাবেনা। অথচ এস এস সি পরীক্ষার মাঝেই স্কুল মাঠে অবৈধ ভাবে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের মেলা পরিপত্র উপেক্ষা করে শুরু হতে যাচ্ছে বানিজ্য মেলা। সমাজ সচেতন ও ছাত্র -জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে অবৈধ মেলার আয়োজন দেখে। বরিশালে বানিজ্য মেলার আয়োজক কমিটির নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাকারী তাদের বিতর্কিত ও সহিংস ভূমিকা রাখা ও  জুলাই বিপ্লবের সময় মিরপুরে ছাত্র-জনতার ওপর বর্বরোচিত হামলা পরিচালনাকারী  সবুজ হোসেন।  মেলার আয়োজক কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সবুজ হোসেন ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক বিতর্কিত এমপি এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে মিরপুর-১০ এলাকায় মাইনুল হোসেন নিখিলের প্রত্যক্ষ নির্দেশে সবুজের নেতৃত্বেই ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, শুধু মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকাই নয়, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের নিয়মিত অস্ত্র, খাবার ও অর্থের জোগানদাতা  হিসেবে সবুজের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা  বরিশালে চলমান এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের একাংশ অভিযোগ করছেন—সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই আয়োজন করা হচ্ছে, যা পরীক্ষার্থীদের জন্য বিরূপ পরিবেশ তৈরি করতে পারে। মাঠ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক মেলার জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বরিশাল জিলা স্কুলের পশ্চিম পাশের মাঠ। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৩ জুন জারি করা ‘মেলা পরিপত্র’-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে—কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা যাবে না। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এই নির্দেশনা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও কীভাবে স্কুল প্রাঙ্গণে মেলার প্রস্তুতি শুরু হলো, বিশেষ করে যখন একই সময়ে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। একজন অভিভাবক বলেন, “পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের জন্য শান্ত পরিবেশ সবচেয়ে জরুরি। সেখানে মেলা হলে শব্দ, ভিড়—সবকিছুই তাদের ক্ষতির কারণ হতে পারে।” অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন পরিপত্র অনুযায়ী, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ছাড়া দেশের অন্য কোনো স্থানে মেলা আয়োজন করতে হলে অন্তত দুই মাস আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। জেলা পর্যায়ে আয়োজনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তিপত্রও বাধ্যতামূলক। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই প্রক্রিয়াগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে অনুমোদনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আয়োজকদের পরিচয় ও অতীত নিয়ে অভিযোগ মেলার আয়োজক কমিটির পেছনে থাকা সবুজ হোসেন'র ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে মেলার আয়োজক কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সবুজ হোসেন ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক বিতর্কিত এমপি এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে মিরপুর-১০ এলাকায় মাইনুল হোসেন নিখিলের প্রত্যক্ষ নির্দেশে সবুজের নেতৃত্বেই ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, শুধু মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকাই নয়, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের নিয়মিত অস্ত্র, খাবার ও অর্থের জোগানদাতা হিসেবে সবুজের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন—এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। চেম্বার অব কমার্সের নাম ব্যবহারের অভিযোগ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সবুজ হোসেন দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভোল পাল্টে বরিশালে এসে ঘাঁটি গেড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এর শীর্ষ কর্তাদের কাছে নিজের পরিচয় গোপন করে সবুজ কৌশল করে বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের নাম ব্যবহার করে বানিজ্য মেলা আয়োজন করতে যাচ্ছে। বরিশালের জিলা স্কুলের মাঠে এই মেলার আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, একটি শিক্ষাবান্ধব এলাকায় ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের এই চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।। সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না আসায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রতিবাদ মেলার প্রস্তুতি শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। কিছু ছাত্র সংগঠন ও স্থানীয় নাগরিক মেলার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একজন ছাত্র প্রতিনিধি বলেন, “যদি নিয়ম ভেঙে এই আয়োজন চালানো হয়, তাহলে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এর প্রতিবাদ করব।” সরকারি নির্দেশনায় কী আছে ‘মেলা পরিপত্র ২০২৪’-এ আরও যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন নিষিদ্ধ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশি শিল্পী অংশ নিতে পারবেন না অবৈধ বা আমদানিনিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি করা যাবে না অশালীন বা অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কিছু প্রচার করা যাবে না এছাড়া মেলার ধরন ও সময় অনুযায়ী নির্ধারিত ফি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা। বিশেষ করে— অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না স্থান নির্বাচন নিয়মসম্মত কি না আয়োজকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। একদিকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, অন্যদিকে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে বরিশালের পরিস্থিতি এখন স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন এখন একটাই: নিয়ম ভেঙে মেলা আয়োজনের অভিযোগ কতটা সত্য, আর প্রশাসন কীভাবে এ পরিস্থিতি সামাল দেয়—সেটিই নির্ধারণ করবে পরবর্তী পরিস্থিতির গতিপথ। বাণিজ্য মেলা করা যাবে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে বাণিজ্য মেলা নিষিদ্ধ ১ জুলাই ২০২৪ থেকে কার্যকর 'মেলা পরিপত্র ২০২৪' অনুযায়ী, দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা বা কোনো ধরনের বাণিজ্যিক প্রদর্শনী আয়োজন করা যাবে না । শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, পড়াশোনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে । তবে, স্থানীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতিভিত্তিক মেলা (যেমন: বইমেলা, বৈশাখী মেলা) এর আওতামুক্ত । মূল নির্দেশনাসমূহ:     নিষিদ্ধ স্থান: স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ ।     সাংস্কৃতিক অনুমতি: কোনো মেলায় বিদেশি শিল্পী বা মডেলের অংশগ্রহণ করতে হলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে ।     পণ্য ও পরিবেশ: মেলায় কোনো ধরনের অবৈধ, আমদানিনিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি বা অসামাজিক, অশালীন কার্যক্রম চালানো যাবে না ।     মাশুল (ফি): স্থানীয় পর্যায়ে মেলা আয়োজনের মাশুল দিনভেদে ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত ।       

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
বরিশাল জিলা স্কুল
বরিশাল জিলা স্কুলে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম,তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

বরিশাল অফিস :    বরিশালের একটি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রকে ঘিরে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, নির্দিষ্ট কিছু কক্ষে পরীক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যা মেধাভিত্তিক মূল্যায়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশাল জিলা স্কুল কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় ১১১, ১১২ ও ১১৩ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ধরনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এসব কক্ষে নকল করার সুযোগ, পরস্পরের খাতা দেখার সুযোগ এবং কক্ষ পরিদর্শনে শিথিলতা দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, একই কেন্দ্রে অন্য কক্ষগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর পরিবেশ বজায় রাখা হলেও নির্দিষ্ট কক্ষগুলোতে ভিন্ন আচরণ করা হচ্ছে। এতে করে যারা নিয়ম মেনে প্রস্তুতি নিয়েছে, তারা অসুবিধায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, কেন্দ্রটির প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় এসব অনিয়ম ঘটছে। তারা বলেন, বিষয়টি জানাতে প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে তিনি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। এমনকি অনিয়মের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন জড়িত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, কিছু অভিভাবক এ ধরনের অভিযোগ তুলেছেন এবং বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তবে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ছাড় দেওয়া হলে তা অন্য অভিভাবকদের অজানা থাকার কথা নয়। এছাড়া প্রতিদিন ভিন্ন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেন—সেক্ষেত্রে সবার পক্ষ থেকে এমন শিথিলতা দেওয়া সম্ভব কি না, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের পরীক্ষাগুলোতে যাতে এ ধরনের অভিযোগ না ওঠে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা পারভীন বিষয়টিকে “অত্যন্ত স্পর্শকাতর” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়মের কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাবলিক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
বরিশালে ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা
বরিশালে ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা: কেন্দ্রসচিবসহ দুই শিক্ষক অব্যাহতি

বরিশাল অফিস :   বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রসচিবসহ দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার হাবিবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন কেন্দ্রসচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন এবং কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক খগেন মণ্ডল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি; বরং ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বলা হয়। ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রশ্নপত্র পেয়ে তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং অনেকে ঠিকভাবে উত্তর লিখতে পারেননি। এতে তাদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া অথবা ফলাফলে বিশেষ বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের গাফিলতিতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে সংশ্লিষ্টদের এসএসসি পরীক্ষার সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বি এম জাহিদ হাসান বলেন, একটি কক্ষে অনিয়মিত আটজন শিক্ষার্থী ছিল, যারা ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। পরবর্তীতে কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। হল সুপার আবু ইউসুফকে ধামুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং সেখানকার হল সুপার সেকান্দার আলী হাওলাদারকে হাবিবপুর কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রসচিব হিসেবে নতুনভাবে দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, “পাবলিক পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।” ঘটনার পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
বিদ্যুতের লোডশেডিং
পেকুয়ায় বিদ্যুতের লোডশেডিং ,এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ

সাজ্জদুল ইসলাম,পেকুয়া : এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালে কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গৃহিণী ও ব্যবসায়ীরা। গত ২১ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু হলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় পড়ালেখায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। দিনে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে, তাও আবার দীর্ঘ সময় নয়, বারবার লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা জানান, রাত ১টার আগে অনেক সময় বিদ্যুতের দেখা মেলে না। মাঝেমধ্যে এলেও আধাঘন্টার বেশি স্থায়ী হয় না। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থী সুবর্ণা শাওরিন বলেন, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না। রাতে পড়তে বসলে বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমে ঘুমানোও যায় না, পড়ালেখাও সম্ভব হয় না। মাঝেমধ্যে উঠানে পাটি বিছিয়ে মোবাইলের আলো দিয়ে পড়তে হয়। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি খুব খারাপ হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ও আব্দু শুক্কর বলেন, বিদ্যুতের অভাবে দোকানে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে গেছে। ফ্যান চলে না, কাস্টমার বসতে চায় না। ফ্রিজে রাখা পানীয় ও অন্যান্য পণ্য নষ্ট হওয়ার উপক্রম। অভিভাবক ও সচেতন মহল বলছেন, পরীক্ষা চলাকালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত লোডশেডিং কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে পল্লীবিদ্যুত জোনাল অফিস পেকুয়ার এজিএম ফিরোজ কবীর এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
সিজারের তিনদিন পর নবজাতক রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন কুড়িগ্রামের হাওয়া আক্তার

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে সন্তান জন্মের মাত্র তিনদিন পর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক শিক্ষার্থী দৃঢ় মনোবল ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। হাওয়া আক্তার নামের ওই পরীক্ষার্থী কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বাবা হযরত আলী। গত ১৮ এপ্রিল তার সিজারিয়ান অপারেশন হয়। শারীরিক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও তিনি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে নবজাতক সন্তানকে পরিবারের কাছে রেখে তিনি কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে উপস্থিত হন। সেখানে নির্ধারিত সময়ে ‘কুরআন মাজিদ ও তাজভীদ’ বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। পরিবারের এক সদস্য নবজাতককে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ফলে পরীক্ষার সময়ও সন্তানের দেখভালের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ নুর বখত মিঞা জানান, তাদের কেন্দ্রে প্রায় ১,১০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থী সিজারের তিনদিন পর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, যা “অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক”। স্থানীয়দের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও লক্ষ্যে অবিচল থাকার এই ঘটনা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষণীয়। হাওয়া আক্তারের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দেয়, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
বান্ধার পলাশবাড়ীতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
প্রবেশপত্র না পেয়ে পলাশবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার আগের দিন প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার পলাশবাড়ী ফিলিং স্টেশন এলাকায় অবস্থান নিয়ে গিরিধারীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষার্থী এই অবরোধ শুরু করেন। অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরীক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার জন্য সোমবার রাত পর্যন্ত প্রবেশপত্র হাতে না পাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। পরে তারা বাধ্য হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। ঘটনাস্থলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান এবং পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা দ্রুত প্রবেশপত্র পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। একই উপজেলার জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের আরও ৩৬ জন পরীক্ষার্থীও বিকেল পর্যন্ত প্রবেশপত্র না পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান করে প্রতিবাদ জানান। এদিকে জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় কঞ্চিপাড়া এমইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে একাধিক গুরুতর ভুল ধরা পড়ে। কারও বিভাগ পরিবর্তন, কারও ছবির গরমিল এবং কারও অভিভাবকের নাম ভুল থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ জানিয়েছেন, পরীক্ষার্থীরা যাতে সময়মতো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। প্রশাসনের আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত তারা বাড়ি ফিরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
গাইবান্ধায় অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী পায়নি এসএসসির প্রবেশপত্র
গাইবান্ধায় এসএসসি পরীক্ষার আগে প্রবেশপত্র জটিলতা: অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। তবে পরীক্ষার মাত্র একদিন আগে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার তিনটি বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী এখনো প্রবেশপত্র হাতে পায়নি। এতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা এবং তাদের অভিভাবকরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থীকে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বারান্দায় প্রবেশপত্রের অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফুলছড়ি উপজেলার জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়, কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় এবং পলাশবাড়ী উপজেলার গৃরিধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র পায়নি। এর মধ্যে শুধু জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৬ জন এবং গৃরিধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অন্যদিকে কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে একাধিক ভুল ধরা পড়েছে। কোথাও বিভাগ পরিবর্তন হয়ে গেছে, কোথাও লিঙ্গ সংক্রান্ত ভুল, আবার কারও বাবা-মায়ের নামও ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র এখনও বিতরণই করা হয়নি। পরীক্ষার্থী সিয়াম, আরেফা খাতুন, জিহাদ ও জুঁই বলেন, “আগামীকাল পরীক্ষা। আমাদের এখন বইয়ের পাশে থাকার কথা। কিন্তু আমরা সকাল থেকে ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশপত্রের অপেক্ষায় আছি। জানি না আমরা আদৌ পরীক্ষা দিতে পারব কি না।” অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীর অবহেলা এবং গাফিলতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, এতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহ আলম সরকার দাবি করেন, প্রবেশপত্রের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে অর্থ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা সরবরাহ করা হয়নি। তবে সহকারী শিক্ষক মোক্তার আলী জানিয়েছেন, পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পাবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার বলেন, “সব শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষা দিতে পারে, সে চেষ্টা চলছে। ভুলগুলোও সংশোধন করা হচ্ছে।” পলাশবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন জানান, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং রাতের মধ্যেই প্রবেশপত্র বিতরণের আশ্বাস পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠিও দেওয়া হচ্ছে।” ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ভুক্তভোগী দুই পরীক্ষার্থী জিহান ও রিহান।
যশোরে বিজ্ঞান বিভাগের দুই এসএসসি পরীক্ষার্থী পেল মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ঘিরে গুরুতর প্রশাসনিক অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের ভুলে বিজ্ঞান বিভাগের দুই পরীক্ষার্থীকে মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তাদের নির্ধারিত বিভাগে পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী হলেন মাছনা গ্রামের যমজ ভাই জিহান ও রিহান। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় তাদের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিদ্যালয় থেকে দেওয়া প্রবেশপত্রে দেখা যায়, সেখানে তাদের বিভাগ হিসেবে ‘মানবিক’ উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রায় এক সপ্তাহ আগেই বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেনকে জানানো হয়েছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সমাধানের আশ্বাস দিলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। বরং নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসলেও শেষ পর্যন্ত সংশোধিত প্রবেশপত্র দিতে ব্যর্থ হন। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আব্দুল মতিন। তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রায় এক বছর আগে বিদ্যালয়ে পৌঁছেছিল। তখনই ভুল সংশোধন করা উচিত ছিল। তিনি প্রধান শিক্ষকের অবহেলাকে ঘটনার জন্য দায়ী করে কঠোর জবাবদিহিতার হুঁশিয়ারি দেন। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী ২১ এপ্রিল পরীক্ষার আগেই সমস্যার সমাধান করা হবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের নির্ধারিত বিজ্ঞান বিভাগেই পরীক্ষা দিতে পারবে। এদিকে পরীক্ষার মাত্র তিন দিন বাকি থাকায় যমজ দুই ভাইয়ের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা। তারা বলেন, সময়মতো সমাধান না হলে দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন স্বীকার করেন যে এটি একটি ভুল। তিনি বলেন, বিষয়টি সংশোধনের চেষ্টা চলছে। এখন নজর শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তের দিকে—শেষ মুহূর্তে এই প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
স্বপ্নীল বর্মন, স্বর্ণালী বর্মন ও সেঁজুতি বর্মন
একই দিনে জন্ম, একসঙ্গে এসএসসি: ঠাকুরগাঁওয়ের তিন বোনের অনন্য যাত্রা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর গ্রামের তিন বোন—স্বপ্নীল বর্মন, স্বর্ণালী বর্মন ও সেঁজুতি বর্মন—জীবনের প্রতিটি ধাপেই যেন একে অপরের প্রতিচ্ছবি। ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একই দিনে জন্ম নেওয়া এই তিনজন এবার একসঙ্গেই অংশ নিচ্ছেন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায়, যা শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল)। শৈশব থেকে তাদের বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন জীবন—সবই একসঙ্গে। পরিবারের সদস্যদের কাছেও তারা বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তাদের বাবা ঠান্ডারাম বর্মন ও মা ময়না রানী সেনের চার সন্তানের মধ্যে এই তিন বোনই আলাদা করে নজর কাড়েন। পরীক্ষার আগের দিন তাদের বাড়িতে দেখা যায়, পাশাপাশি বসে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তিনজনই। লক্ষ্য একটাই—ভালো ফলাফল করে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করা। প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয় একটি কিন্ডারগার্টেনে। পরে তারা ভর্তি হন স্থানীয় আরাজী কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। একই রকম চেহারা ও অভ্যাসের কারণে শিক্ষক-সহপাঠীদের জন্য তাদের আলাদা করে চেনা ছিল কঠিন। ২০১৮ সালে স্বপ্নীল ও স্বর্ণালী ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। পরে একই বিদ্যালয়ে যোগ দেন সেঁজুতি। যদিও তারা একই শিফটে পড়েছেন, স্বর্ণালীকে পড়তে হয়েছে ভিন্ন শাখায়। এবার তিনজনই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। পড়াশোনায় তারা সবাই মনোযোগী এবং নিয়মিত ভালো ফল করে আসছেন। তবে পছন্দের বিষয়ে রয়েছে কিছু পার্থক্য—স্বপ্নীলের আগ্রহ জীববিজ্ঞান ও বাংলা সাহিত্যে, স্বর্ণালীর জীববিজ্ঞান ও রসায়নে, আর সেঁজুতির পছন্দ জীববিজ্ঞান। পড়াশোনার বাইরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তারা সক্রিয়। ঠাকুরগাঁও বেতার কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত শিশুশিল্পী হিসেবে দেশাত্মবোধক গান গাইতে ভালোবাসেন তিনজনই। অবসরে তারা উপন্যাস ও বিজ্ঞান কল্পকাহিনি পড়েন, গান শোনেন ও গেয়ে সময় কাটান। ভবিষ্যৎ নিয়েও তাদের স্বপ্ন আলাদা—স্বপ্নীল চান বিসিএস ক্যাডার হতে, স্বর্ণালীর লক্ষ্য চিকিৎসক হওয়া এবং সেঁজুতি শিক্ষক হতে আগ্রহী। তাদের দৈনন্দিন জীবনও অনেকটা একই ছন্দে বাঁধা—একই ঘরে থাকা, একসঙ্গে স্কুলে যাওয়া, পড়াশোনা করা ও খেলাধুলা। ছোটখাটো মনোমালিন্য হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাপস দেবনাথ জানান, একই ইউনিফর্মে তাদের আলাদা করা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে যেত, তাই মাঝে মাঝে আলাদা চিহ্ন ব্যবহার করতে হতো। মা ময়না রানী সেন বলেন, “একসঙ্গে তিন মেয়েকে বড় করা সহজ ছিল না। তবে তাদের ভালোবাসাই সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়।” বাবা ঠান্ডারাম বর্মন জানান, শুরুতে তিনি যমজ সন্তানের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু তিন কন্যার জন্ম তাকে চিন্তায় ফেলেছিল। এখন তাদের সাফল্যে তিনি গর্বিত এবং তাদের স্বপ্নপূরণে সর্বোচ্চ সহায়তা করতে চান।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0