ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্তের মুখে এবার সাইপ্রাসে বিলাসবহুল সম্পত্তি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের নিকোসিয়া জেলা আদালত লিমাসসোল জেলার পারেকলিসিয়ায় অবস্থিত সাইফুল আলম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল দোতলা বাড়ি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে Cyprus Mail। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাইপ্রাসের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিট মোকাসের আবেদনের ভিত্তিতে গত ১৯ মে আদালত এই ক্রোক আদেশ জারি করে। তদন্তটি পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহায়তা প্রক্রিয়ার আওতায়। ৮০০ কোটি ইউরো পাচারের অভিযোগ বাংলাদেশের তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিস্তৃত কোম্পানি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, এস আলম গ্রুপ প্রায় ৮০০ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ দেশ থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, ওই অর্থের একটি অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ বা সম্পদ আকারে রয়েছে। যদিও মোহাম্মদ সাইফুল আলম সব ধরনের অনিয়ম ও অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ব্যাংক খাত থেকে সাম্রাজ্য বিস্তার এস আলম গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। পরিবহন ও চিনি পরিশোধন খাত দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে ব্যাংক, বীমা, গণমাধ্যম, বিদ্যুৎ ও হোটেল খাতে ব্যাপক বিস্তার ঘটায় প্রতিষ্ঠানটি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংক খাতে প্রভাব বিস্তার, জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ, অর্থ পাচার এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে একাধিকবার আলোচনায় আসে গ্রুপটি। বাংলাদেশের বিভিন্ন আদালত ইতোমধ্যে সাইফুল আলম, তার পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ ও সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্ধান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি সাইফুল আলম বা তার পরিবারের সদস্যদের। এ সময় তার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করার খবরও সামনে আসে। সর্বশেষ গত ২১ মে ইসলামী ব্যাংক থেকে নেওয়া ৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ না করায় সাইফুল আলমসহ ১১ জনকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেয় চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করে, কারণ আসামিরা পলাতক রয়েছেন। ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ ও সাইপ্রাস সংযোগ সাইপ্রাস মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে সাইফুল আলম দেশটির বিতর্কিত ‘সিটিজেন-বাই-ইনভেস্টমেন্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব লাভ করেন। এই কর্মসূচি স্থানীয়ভাবে ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট স্কিম’ নামে পরিচিত। তবে বাংলাদেশ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে তার নাগরিকত্ব বাতিল করে সাইপ্রাস সরকার। যদিও সাইপ্রাস সরকারের ‘নিকোলাটোস কমিটি’র তদন্ত প্রতিবেদনে তার নাম সরাসরি উল্লেখ ছিল না। তদন্তে বিদেশি কোম্পানি ও অফশোর নেটওয়ার্ক সাইপ্রাস মেইলের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের তদন্তকারীরা এখন ‘একলেয়ার ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি সাইপ্রাসভিত্তিক কোম্পানির কার্যক্রমও খতিয়ে দেখছেন। ২০১৬ সালে সাইফুল আলম কোম্পানিটি কিনে নেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অর্থ স্থানান্তর ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। আদালতের নথিতে সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস এবং জার্সিভিত্তিক একাধিক কোম্পানি ও ট্রাস্টের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কাঠামো এবং আর্থিক কার্যক্রম এখন তদন্তাধীন। বাংলাদেশের তদন্তকারী সংস্থাগুলো বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও First Security Islami Bank থেকে নেওয়া বিপুল ঋণের অর্থ কোনো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছিল কিনা। আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ে সাইফুল আলম অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান Quinn Emanuel Urquhart & Sullivan–এর মাধ্যমে সাইফুল আলম দাবি করেছেন, তার বিদেশি বিনিয়োগ বৈধ উৎসের অর্থে পরিচালিত হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ‘অন্যায়ভাবে’ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি ইতোমধ্যে International Centre for Settlement of Investment Disputes–এ আইনি প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন। সেখানে তার দাবি, সম্পদ জব্দ ও ক্রোকের মতো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির লঙ্ঘন এবং এসব ব্যবস্থা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা মো. আহম্মদুল্লাহকে চলতি মাসের ১৩ তারিখে বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসে কর্মরত। তবে তার বদলিকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে বিপিসিজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং দুর্নীতির বিস্তৃত অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র সাত বছরের চাকরি জীবনে মো. আহম্মদুল্লাহ এবং তার পরিবারের সদস্যরা শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিপিসি বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। কেবল বদলির আদেশ দিয়েই বিষয়টি থামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। বিতর্কিত নিয়োগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতার উত্থান ২০১৯ সালে বিপিসিতে উপ-ব্যবস্থাপক পদে যোগ দেন মো. আহম্মদুল্লাহ। তবে তার নিয়োগ নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের ব্যক্তিগত আশীর্বাদেই তিনি চাকরি পান। আহম্মদুল্লাহ একসময় সামছুর রহমানের মেয়ের গৃহশিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক যোগাযোগও তাকে এগিয়ে দেয়। ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার দিবাকরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিনি চাকরিতে যোগ দেন ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে। অভিযোগ রয়েছে, এ জন্য তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় পরিচয়পত্রও ব্যবহার করেন। একটি প্রত্যয়নপত্রে তাকে ঝালকাঠির নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে তার পরিবারের সদস্যদেরও আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী বলা হয়। অভিযোগকারীরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় এবং ক্ষমতাসীন মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়েই বিপিসিতে দ্রুত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন আহম্মদুল্লাহ। নিয়ম ভেঙে পিএস পদে বহাল বিপিসির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব পদটি সহকারী ব্যবস্থাপক (৯ম গ্রেড) সমমানের হলেও, উপ-ব্যবস্থাপক (৬ষ্ঠ গ্রেড) পদে থেকেও দীর্ঘদিন ওই দায়িত্ব পালন করেছেন আহম্মদুল্লাহ। এমনকি বদলির আগের দিন পর্যন্তও তিনি একই পদে বহাল ছিলেন। ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর তাকে চেয়ারম্যানের পিএস পদ থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম কার্যালয়ের হিসাব বিভাগে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই আদেশ বাতিল করিয়ে তিনি পুনরায় আগের পদে ফিরে আসেন। বিপিসির নীতিমালা অনুযায়ী তিন বছর পরপর বদলির বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি সাত বছরের বেশি সময় একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। সম্পদের পাহাড় ও কেরানীগঞ্জের ‘রহস্যময়’ প্লট মো. আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ অবৈধ সম্পদ অর্জন। তার স্ত্রী নুসরাত জেবিন সিনথীর নামে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে সাড়ে তিন কাঠার একটি প্লট কেনার তথ্য মিলেছে। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর সম্পাদিত একটি সাফ কবলা দলিল অনুযায়ী, প্লটটি বিক্রি করেন চট্টগ্রামভিত্তিক বাশার গ্রুপ অব কোম্পানির মালিক আবুল বশর আবু। দলিলে জমির মূল্য দেখানো হয় ৩০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই প্লটে ইতোমধ্যে আটতলা ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভবনে ঝুলানো সাইনবোর্ডে এখনো লেখা রয়েছে—“বাশার গ্রুপ অব কোম্পানি, আলহাজ আবুল বশর (আবু)”। এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি নথিতে মালিকানা নুসরাত জেবিন সিনথীর হলেও বাস্তবে ভবনটির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওই এলাকায় প্রতি কাঠা জমির বাজারমূল্য ৪২ থেকে ৪৭ লাখ টাকা। সে হিসেবে শুধু জমির বর্তমান মূল্যই দেড় কোটি টাকার বেশি। টেন্ডার, বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ বিপিসির বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আহম্মদুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে বিপিসির টেন্ডার, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন কোম্পানি ও ডিপো থেকে অর্থ আদায় করতেন। বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউসে ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীকে বিটুমিন, ক্রুড অয়েল ও ডিজেল আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দিতে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া বিপিসির অধীন কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, বদলির ভয় দেখিয়ে ডিপো ইনচার্জদের কাছ থেকেও অর্থ আদায় করা হতো। ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, বিপিসির এফডিআর ও এসএনডি হিসাব পরিচালনায়ও প্রভাব খাটিয়েছেন আহম্মদুল্লাহ। তার পছন্দের ব্যাংকগুলোতে বিপিসির বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা রাখা হতো বলে অভিযোগ। এমনকি এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতেও বিপিসির হাজার হাজার কোটি টাকা জমা রাখার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব হিসাবের মধ্যে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা এখনো উদ্ধার করা যায়নি। ব্যাংকিং সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে আত্মীয়-স্বজনদের চাকরি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ‘নিজস্ব বলয়’ গঠনের অভিযোগ বিপিসির বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, আহম্মদুল্লাহ নিজের জেলা বরিশালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করতেন। চেয়ারম্যান, পরিচালক ও রেস্ট হাউস সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তার ঘনিষ্ঠদের বসানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের বিপিসির বিভিন্ন ডিপো ও অফিসে চাকরি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত উপ-ব্যবস্থাপক (ডিএলও) মো. আশিক শাহরিয়ারকেও নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আশিক শাহরিয়ারকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিপো ও পার্টির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হতো। দুদকের অনুসন্ধান ও সম্পদ বিবরণী অভিযোগ রয়েছে, মো. আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। যদিও সেই অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রকাশ্যে আসেনি। তবে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি দুদকে সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে মো. আহম্মদুল্লাহর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব, ভয়ভীতি এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি। এখন প্রশ্ন উঠেছে—শুধু বদলি করেই কি শেষ হবে অভিযোগের পর্ব, নাকি রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নামবে?
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ৫ আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে দেশের ব্যাংকিং খাতের গভীর সংকট সামনে আসতে শুরু করে। একের পর এক তথ্য প্রকাশ পেতে থাকে, যা আর্থিক খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তোলে। বিশেষ করে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমসহ রাজনৈতিক প্রভাবপুষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে এক ডজনেরও বেশি ব্যাংক মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যাংকের বড় অংশেই খেলাপি ঋণের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকটের কারণে অনেক ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ, আতঙ্ক এবং আস্থাহীনতা তৈরি হয়। কোথাও কোথাও ব্যাংক কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি আংশিকভাবে স্থিতিশীল হয়। তবে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ-২০২৬’ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই আইনের আওতায়, পূর্বে একীভূত বা পুনর্গঠনের আওতায় আসা ব্যাংকের পুরনো শেয়ারহোল্ডাররা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে—সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া অর্থ ফেরত, নতুন মূলধন সংযোজন, আমানতকারীদের দায় পরিশোধ, কর পরিশোধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান। এছাড়া প্রাথমিকভাবে সরকারের দেওয়া অর্থের অন্তত ৭.৫০ শতাংশ পে-অর্ডার হিসেবে জমা এবং বাকি অর্থ দুই বছরের মধ্যে সুদসহ ফেরত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, এই বিধান বাস্তবে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর পুনরায় ব্যাংক খাতে ফিরে আসার পথ তৈরি করতে পারে। এ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। ঢাকার এক গ্রাহক মুনিরা শাহরিন বলেন, নতুন আইনের খবর শুনে তিনি ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেওয়ার কথা ভাবছেন। অতীতে টাকা তুলতে গিয়ে ভোগান্তির অভিজ্ঞতার কথাও জানান তিনি। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন রুবেল নামের আরেক গ্রাহক। তিনি বলেন, আগে একীভূত হওয়া একটি ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রেখেছিলেন, কিন্তু টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। নতুন করে অনিশ্চয়তার কারণে তিনি তার আমানত তুলে নিচ্ছেন। এস আলম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অবস্থা এস আলম গ্রুপ–এর নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত নাজুক বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ~৯৬.২০% সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: ~৭০.১৭% ইউনিয়ন ব্যাংক: ~৯৬.৬৪% গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক: ~৯৫.৭০% বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক: ~৫১.৬৫% ন্যাশনাল ব্যাংক: ৫২% এর বেশি অন্যদিকে, দেশের বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি–এর মোট ঋণের অর্ধেকেরও বেশি বর্তমানে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। অর্থ পাচারের অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে উঠে এসেছে, এস আলম গ্রুপ ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পাচারের অন্যতম মাধ্যম ছিল ভুয়া এলসি (লেটার অব ক্রেডিট)। অভিযোগ রয়েছে, পণ্য আমদানির নামে এলসি খুলে অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করা হয়, কিন্তু বাস্তবে পণ্য দেশে আনা হয়নি। বিশেষভাবে আলোচিত একটি ঘটনায় প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার পর তা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়। এছাড়া অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থার অপব্যবহার করেও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রণীত আইনগুলো একদিকে সংস্কারের সুযোগ তৈরি করলেও, অন্যদিকে বিতর্কিত গোষ্ঠীর পুনঃপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি করছে। এতে সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট পুরোপুরি কাটেনি—বরং নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।