এনবিআরের এক কর্মচারীর বিপুল সম্পদ: দুদকের অনুসন্ধানে যা জানা যাচ্ছে ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক কর্মচারীর বিপুল সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, কর অঞ্চল-১৪–এ কর্মরত উচ্চমান সহকারী আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান চলছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল লতিফ কিছুদিন আগেও একই দপ্তরে পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি উচ্চমান সহকারীর দায়িত্ব পান। তবে তার বিরুদ্ধে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরির আড়ালে তিনি কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাতুয়াইলের রহমতপুর এলাকায় আব্দুল লতিফের একটি বহুতল ভবন রয়েছে। এছাড়া ডেমরার হাজী বাদশা মিয়া রোড এবং মাতুয়াইল নিউ টাউন এলাকায় নিজের ও স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ জমি কেনার তথ্যও পেয়েছে দুদক। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঢাকায় বিভিন্ন আবাসিক ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এদিকে, তদন্ত শুরুর আভাস পাওয়ার পর আব্দুল লতিফ ঢাকার কয়েকটি ফ্ল্যাট দ্রুত বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেই অর্থ দিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে নতুন করে জমি কিনছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি দুদকের নজরে আসে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আব্দুল লতিফের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কর্মস্থলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। দুদকের উপপরিচালক ফাতেমা সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, “মামলাটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি অনুসন্ধান করছি। তদন্তে অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনাটি এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর পক্ষে কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব হলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা ছাড়া এমন সম্পদ গড়ে তোলা কঠিন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার গাজীপুর ও বারিধারায় পরিচালিত একাধিক অভিযানে সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেড–এর বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের কর ফাঁকির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তদন্ত দল। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অপ্রদর্শিত তামাক ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রি করেছে এবং এর বিপরীতে প্রাপ্য ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ করেনি। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪৪৬ কোটি টাকা। গোপন তামাক ও উৎপাদনের হিসাব জালিয়াতির অভিযোগ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে স্থানীয় উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ তামাক কেনা হলেও তার বড় অংশ মূসক রিটার্নে দেখানো হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অঘোষিত তামাক ব্যবহার করে প্রায় ১১০ কোটি শলাকা সিগারেট উৎপাদন করা হয়। প্রতি শলাকার ন্যূনতম বাজারমূল্য ৫ টাকা ধরে এর মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫৫৪ কোটি টাকা, যার ওপর প্রযোজ্য কর ফাঁকি হয়েছে প্রায় ৩৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একাধিক অভিযান ও নথি জব্দ এনবিআরের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (ঢাকা উত্তর) ২০২৫ সালের আগস্টে বারিধারার অফিস এবং গাজীপুরের কারখানায় অভিযান চালায়। অভিযানে জব্দ করা হয়— ব্যাংক স্টেটমেন্ট মূসক রেজিস্টার কম্পিউটার ও পেনড্রাইভ ইমেইল সার্ভারের তথ্য তদন্তকারীরা বলছেন, এসব নথিতে গোপন লেনদেন ও হিসাব গরমিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। National Board of Revenue (NBR)–এর অধীন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি কর ফাঁকির মামলা করে। দুই মামলায় মোট দাবি ৪৪৬ কোটি টাকা তদন্ত অনুযায়ী— প্রথম মামলা: ৮৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা দ্বিতীয় মামলা: ৩৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা মোট অভিযোগিত কর ফাঁকি: প্রায় ৪৪৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা এনবিআর বলছে, এই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আদায়যোগ্য এবং এটি ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির একটি গুরুতর উদাহরণ। অভিযোগ অস্বীকার ও আইনি প্রক্রিয়া ভার্গো টোব্যাকো কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের ব্যবসার বড় অংশ রপ্তানিনির্ভর এবং প্রয়োজনীয় নথি এনবিআরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোম্পানির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাপ্ত নথি ও উৎপাদন বিশ্লেষণে গুরুতর অসংগতি পাওয়া গেছে। মাঠ পর্যায়ের বক্তব্য ও উত্তেজনা গাজীপুর কারখানায় উপস্থিত এক জেনারেল ম্যানেজার জানান, উৎপাদন ও কেনাকাটার হিসাব হেড অফিস থেকে পরিচালিত হয় এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে নেই। অন্যদিকে, কোম্পানির অভ্যন্তরে একজন পরিচয়ধারী ব্যক্তি সাংবাদিকদের প্রশ্নে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখান এবং বিষয়টি এনবিআরের আওতাধীন বলে মন্তব্য করেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট। কিন্তু ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও এই খাত ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি ও অনিয়মের চিত্র। বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কৌশলী কর ব্যবস্থাপনা, ভুয়া চালান, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেন এবং আইনের ফাঁক ব্যবহার করে একটি জটিল ‘ফাঁকি নেটওয়ার্ক’ গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই–মার্চ সময়ে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। একই সময়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা গেছে আয়কর খাতে, প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ভ্যাট খাতে ঘাটতি প্রায় ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। কাস্টমস খাতেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘাটতির বড় অংশই কাঠামোগত দুর্বলতা এবং কর ফাঁকির আধুনিক কৌশলের ফল। বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সরাসরি আইন ভাঙার চেয়ে আইনের ভেতরের ফাঁক ব্যবহার করে কর কমিয়ে দিচ্ছে। তার মতে, বিক্রয় কম দেখানো, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের অপব্যবহার এবং আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেনের মাধ্যমে করযোগ্য আয় কমিয়ে ফেলার প্রবণতা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে সবকিছু বৈধ থাকলেও বাস্তবে রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র। অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ জটিল কর কাঠামো ও একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে লেনদেন সাজানো হচ্ছে, যাতে প্রকৃত মুনাফা আড়াল করা যায়। এতে করে করের বোঝা তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ছে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর। এছাড়া আমদানি–রফতানি খাতে পণ্যের মূল্য কম বা বেশি দেখিয়ে ভ্যাট ফাঁকি এবং ট্রেড-বেইজড মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও রয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মুনাফা বিদেশে স্থানান্তরের কারণে দেশের কর ভিত্তি আরও সংকুচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নীতিনির্ধারকদের মতে, ভ্যাট কাঠামোর জটিলতা এই সমস্যাকে আরও গভীর করেছে। বিভিন্ন খাতে ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাট হার ও কর ছাড় ব্যবস্থার কারণে পুরো কাঠামো আরও দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, এনবিআরের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। রিয়েল-টাইম অডিট ও পর্যবেক্ষণের ঘাটতিতে বড় লেনদেনগুলো অনেক সময় নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে। এনবিআর বলছে, কিছু ক্ষেত্রে অভিযান ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে ই-কমার্স ও উৎপাদন খাতে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ সামগ্রিক সমস্যার তুলনায় যথেষ্ট নয়। রাজস্ব ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যেই অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ছে, যার ফলে সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে ভ্যাট কাঠামো সরল করা, ডিজিটাল ইনভয়েসিং বাধ্যতামূলক করা এবং উন্নত ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা জরুরি। তাদের মতে, শুধু অভিযান নয়—কার্যকর আইন প্রয়োগ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই ‘করপোরেট ভ্যাট ফাঁকি নেটওয়ার্ক’ ভাঙা সম্ভব নয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল কর অঞ্চলে রাজস্ব আয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পায়রা বন্দরের আয় কমে যাওয়া। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বন্দরের কার্যক্রমে ধীরগতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়েও। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে পায়রা বন্দরকেন্দ্রিক রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৪৪ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয় বরিশাল কর অঞ্চল। বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলা নিয়ে গঠিত এই কর অঞ্চলের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা গত দুই দশকে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০০১–০২ অর্থবছরে যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র ২৩ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৩০ কোটি টাকা। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১,০৭১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। পরের অর্থবছর ২০২৪–২৫-এ তা কমে দাঁড়ায় ৮৫০ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে রাজস্ব কমেছে ২২০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। পায়রা বন্দরের প্রভাব কর কর্মকর্তারা বলছেন, এই পতনের বড় কারণ পায়রা বন্দরের আয় কমে যাওয়া। বরিশালের উপ-কর কমিশনার প্রীতিশ বিশ্বাস জানান, “২০২৩–২৪ অর্থবছরে যে রাজস্ব আদায় হয়েছে, তার বড় অংশই এসেছে পায়রা বন্দর থেকে। বর্তমানে সেখানে কার্যত রাজস্ব আদায় বন্ধ রয়েছে।” পায়রা বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর নির্মাণকাজের মাধ্যমে এবং ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম বছর বন্দরে আসে ১০টি বিদেশি জাহাজ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজ আগমনের সংখ্যা কমে গেছে: ২০২৩–২৪ অর্থবছর: ১২৩টি জাহাজ ২০২৪–২৫ অর্থবছর: ৮৫টি জাহাজ ২০২৫–২৬ অর্থবছর (এপ্রিল পর্যন্ত): মাত্র ২৯টি জাহাজ কেন কমছে জাহাজ? বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নাব্যতা কমে যাওয়ায় বড় জাহাজ আসতে পারছে না। পায়রা বন্দরের সদস্য কমডোর জামাল চৌধুরী বলেন, “পূর্ণ নাব্যতা থাকাকালে আমরা রাজস্বে বড় অবদান রাখতে পেরেছি। এখন নাব্যতা কমে যাওয়ায় জাহাজ কম আসছে, ফলে রাজস্বও কমে গেছে।” একই সুর শোনা গেছে বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও। তাদের মতে, বন্দরের কার্যক্রম যত বেশি সক্রিয় থাকে, তত বেশি রাজস্ব আসে। আয়ের বড় ধস পায়রা বন্দর থেকে রাজস্ব আয়ের পরিসংখ্যান এই পতনকে স্পষ্ট করে: ২০২৩–২৪ অর্থবছর: ২৫৯ কোটি ৪ লাখ টাকা ২০২৪–২৫ অর্থবছর: মাত্র ১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় প্রায় সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর মূসক বাস্তবায়ন, সেবা ও পণ্য শাখার এক প্রথম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে ঘিরে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার আয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন। এর ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্বের বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে তিনি এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সম্পদ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার ঘোষিত আয় ও সরকারি বেতনের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার ও পরিবারের নামে একাধিক স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় তার নামে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া ঢাকার উপকণ্ঠে জমি ক্রয় এবং উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় একাধিক জমির মালিকানার নথি পাওয়া গেছে, যা বিভিন্ন সময়ে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। শুধু নিজের নামেই নয়, তার স্ত্রীর নামেও জমি থাকার তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকার আশপাশের এলাকায় কয়েক শতাংশ জমি এবং উত্তরাঞ্চলে বড় আকারের জমি তার স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে প্রায় ১৪ শতক জমির দুটি প্লটে শেয়ার কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ির তথ্যও সামনে এসেছে। এনবিআরের একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রভাব খাটিয়ে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং এনবিআরের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শাখার সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তদন্তের সুযোগ রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একজন প্রবাসী আইটি উদ্যোক্তা ফরহাদুল আলম অভিযোগ করেছেন, ৪০ লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ২০২২–২০২৩ কর বছরের জন্য ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার কর নির্ধারণ করা হয়েছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন ২৪৭ নম্বর কর জোনে আয়কর অডিট চলাকালে তিনি একাধিক অনিয়মের মুখোমুখি হন। ফরহাদুল আলম দাবি করেন, ওই জোনের একজন টাইপিস্ট জাকিরের মাধ্যমে তৎকালীন উপ-কর কমিশনার (ডিসিটি) হাসিবুল ইসলাম তার প্রতিনিধির কাছে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি জানান, বিষয়টি ইঙ্গিতপূর্ণ ও অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে একটি ক্যালকুলেটরে “৪০” লিখে ঘুষের ইঙ্গিত দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে আয় করছি এবং নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করি। আমার সব ব্যাংকিং লেনদেন ও রেমিট্যান্সের ব্যাখ্যা আমি দিয়েছি। এরপরও আমাকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।” ফরহাদুল আলম আরও জানান, তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করলেও সময় ও ব্যয়ের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুষের অর্থ না দেওয়ার পর তার ২০২২–২০২৩ কর বছরের জন্য ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার কর নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া তিনি জানান, সম্প্রতি ২০২৩–২০২৪ কর বছরের জন্য তার নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ও পিতার আয়কর রিটার্নও অডিটের আওতায় আনা হয়েছে। ফরহাদুল আলম দাবি করেন, গত এক দশকে তার প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশে কয়েক হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স এসেছে। ব্যক্তিগতভাবে তিনি কয়েকশ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এর স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কুমিল্লা জেলায় একাধিকবার শ্রেষ্ঠ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “একজন প্রবাসী উদ্যোক্তা হিসেবে এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। এতে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।” এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়িয়ে কর কাঠামোয় পরিবর্তন আনছে সরকার। নতুন স্ল্যাব ও করহার কার্যকর হলে আয় অপরিবর্তিত থাকলেও অধিকাংশ করদাতার করের পরিমাণ বাড়বে বলে বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর বেশি আয়ের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে কর প্রযোজ্য হবে—পরবর্তী ৩ লাখ টাকায় ১০ শতাংশ, এরপর ৪ লাখ টাকায় ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকায় ২০ শতাংশ, এরপর ২০ লাখ টাকায় ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ কর ধার্য হবে। আগের কাঠামোর তুলনায় কর স্ল্যাবের সংখ্যা সাত থেকে কমিয়ে ছয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি স্তরে করহার ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চ আয়ের করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। উদাহরণে বোঝা যায় পরিবর্তন ধরা যাক, একজন ব্যক্তির বার্ষিক আয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। নিয়ম অনুযায়ী, তার আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা ৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেটি করমুক্ত। এখানে এক-তৃতীয়াংশ আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা হওয়ায় এই অংশ করমুক্ত ধরা হবে। অর্থাৎ, তার করযোগ্য আয় দাঁড়ায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বিদ্যমান কাঠামোয় এই আয়ের ওপর কর দাঁড়ায় মোট ৮ হাজার টাকা (প্রথম সাড়ে ৪ লাখ টাকায় ৫%, পরবর্তী অংশে ১০%)। কিন্তু নতুন কাঠামোতে করমুক্ত সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হওয়ায় করযোগ্য আয় হবে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। এই অংশের ওপর ১০ শতাংশ কর প্রযোজ্য হওয়ায় মোট কর দাঁড়াবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা—যা আগের তুলনায় আড়াই হাজার টাকা বেশি। নতুন করদাতাদের জন্য কিছু ছাড় নতুন করদাতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথমবার রিটার্ন জমা দিলে আয়ভেদে সর্বনিম্ন ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে কর পরিশোধের সুযোগ থাকবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য করভীতি কমানো এবং করদাতা সংখ্যা বাড়ানো। কেন করমুক্ত সীমা বাড়ানো হচ্ছে না নীতিনির্ধারকদের মতে, করমুক্ত আয়সীমা বেশি বাড়ালে বিপুলসংখ্যক মানুষ করজালের বাইরে চলে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে করসংস্কৃতি গঠনে বাধা সৃষ্টি করবে। এ কারণে বিদ্যমান সীমা বহাল রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পর্যায়েই নেওয়া হবে। ‘সম্পদ কর’ চালুর পরিকল্পনা সারচার্জের পরিবর্তে ‘সম্পদ কর’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। দলিলমূল্যের বদলে জমির বাজারমূল্য বা মৌজা দরের ভিত্তিতে এই কর নির্ধারণ করা হবে। রাজধানীর অভিজাত এলাকা ও বিভাগীয় শহরের উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের আওতায় এনে রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। নীতিনির্ধারকদের ধারণা, এতে কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতা বাড়বে এবং সম্পদ বৈষম্য কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞ মত কর বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন স্ল্যাব ও করহার নির্ধারণের ফলে আয় না বাড়লেও হিসাবগত কারণে করের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। তবে সরকার চাইলে ভবিষ্যতে এই কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের কর প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নিজের নামে এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার একটি জটিল আর্থিক নেটওয়ার্ক।কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল নিজ নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৪ জনের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল—যিনি বর্তমানে বগুড়ায় অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত এবং এর আগে যুগ্ম কর কমিশনার ছিলেন। দুদকের দাবি, দায়িত্ব পালনের সময় সেবাপ্রত্যাশীদের ফাইল আটকে রেখে অবৈধ অর্থ আদায়ের মাধ্যমে তিনি এই সম্পদ গড়ে তুলেছেন, যা রাষ্ট্রের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। কী বলছে দুদক দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, ফয়সাল তার নিজের নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্তত ১৪ জনের নামে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী: * প্রায় **১৭.২১ কোটি টাকা** মূল্যের সম্পদের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায় * পরবর্তীতে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় **১৮.১৬ কোটি টাকা** * এর মধ্যে * **স্থাবর সম্পদ**: প্রায় ৬.৯৪ কোটি টাকা * **অস্থাবর সম্পদ**: প্রায় ১১.২১ কোটি টাকা দুদকের অভিযোগ, এসব সম্পদের উৎস, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন রাখতে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে একাধিক হিসাব খুলে সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। অভিযোগের সারাংশ দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফয়সাল তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রায় ১৮ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে— প্রায় ৬.৯৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ (জমি, প্লট, ফ্ল্যাট) প্রায় ১১.২১ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ (ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার) প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৭ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলেও পরবর্তী অনুসন্ধানে এর পরিমাণ আরও বেড়েছে। আত্মীয়দের নামে সম্পদের বিস্তার তদন্তে দেখা গেছে, ফয়সাল তার স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাই-বোন, শ্যালকসহ নিকটাত্মীয়দের নামে সম্পদ কিনেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো: * রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট * অভিজাত আবাসিক এলাকায় জমি, যার ঘোষিত মূল্য বাস্তব মূল্যের তুলনায় অনেক কম * শ্বশুরের নামে ঢাকায় বড় আকারের একটি ফ্ল্যাট * শাশুড়ির নামে উচ্চমূল্যের প্লট, যার দলিলে কম মূল্য দেখানো হয়েছে দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের লেনদেন “ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পদের প্রকৃত মূল্য গোপন করার কৌশল” হতে পারে।ফয়সাল ও তার সংশ্লিষ্টদের নামে প্রায় ১৭ কোটি ২১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য মিলেছে, যা তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে মোট প্রায় ১৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র ও শেয়ার বিনিয়োগ অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তার স্বজনদের নামে পাওয়া গেছে উল্লেখযোগ্য আর্থিক বিনিয়োগ: * **সঞ্চয়পত্র**: প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা * **শেয়ার বিনিয়োগ**: প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা * **ব্যাংক আমানত**: প্রায় ৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা দুদকের মতে, এসব অর্থ বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তর করে “মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা” করা হয়েছে। কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের যত সম্পদ কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের নিজ নামে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন দমন কামতা মৌজায় রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৩৭৫২; জমির পরিমাণ ৬ কাঠার ১/৭ অংশ। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন গুতিয়াব (১) মৌজায় রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-১১৬৫৭; জমির পরিমাণ ০.০৩ একর। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন হারারবাড়ি মৌজায় রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৬৬৯৫, জমির পরিমাণ ৩৩৪.৪৫ বর্গমিটার। ঢাকা জেলার খিলগাঁও থানাধীন নন্দিপাড়া মৌজায় দলিল নং-৮৯৭১, জমির পরিমাণ ০.২৭ একর এর ১/৬০ অংশ। ঢাকা জেলার ভাটারা থানাধীন বড় কাঁঠালদিয়া মৌজায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেডের প্লট নং-৫৯৯, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৯২৩১ এবং দলিল নং-১০৮৭৫; জমির পরিমাণ ০৫ কাঠা। এ জমিটি নিজের ও স্ত্রীর নামে কেনা হয়েছে। স্ত্রী আফসানা জেসমিনের যত সম্পদ এ ছাড়া কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল তার স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে ঢাকা জেলার ভাটারা থানাধীন বড় কাঁঠালদিয়া মৌজায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেডের প্লট নং-১৮৯৬, ব্লক-এম, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-১০৫০০, জমির পরিমাণ ০৫ কাঠা। এ জমির দলিল মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ১৮ লাখ টাকা। তবে বাস্তবে এ জমি ৭৫ লাখ টাকায় কেনা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন কামতা মৌজায় পূর্বাচল নতুন শহর আবাসিক প্রকল্প, সেক্টর নং-২১, প্লট নং-০১৮, রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৯৮২১, জমির পরিমাণ ২০০.১৭ বর্গমিটার। কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের শ্বশুর ও শাশুড়ির যত সম্পদ কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের শ্বশুর আহমেদ আলীর নামে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের রূপায়ণ আবাসন প্রকল্পের আওতায় ‘রূপায়ণ স্বপ্ন নিলয়’, ৫৬-৫৭, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকায় ২৯৯০ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট এবং ২৩৮ বর্গফুট কার পার্কিংসহ মোট ৩,২২৮ বর্গফুট ১১তম তলায় আই-১০ নং ফ্ল্যাট সাবরেজিস্ট্রি অফিস তেজগাঁও, ঢাকা এর দলিল নং-৪০৬২। কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের শাশুড়ি মমতাজ বেগমের নামে আফতাবনগর হাউজিং প্রকল্পের এন/এস বোড, ব্লক নং-এইচ, প্লট-এইচ-৪-এ জমির পরিমাণ ১০ কাঠার একটি প্লট। খিলগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-১৮০৫। প্লটটির ক্রয় মূল্য ৫২ লাখ টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত মূল্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা, যা নিশ্চিত করেছেন বিক্রেতা। এভাবে এ কর্মকর্তা নিজ নামে চারটি প্লট, নিজের স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে দুটি প্লট ও তাদের যৌথ নামে একটি প্লট, শাশুড়ি মমতাজ বেগমের নামে একটি প্লট ও শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে যেসব সম্পদের মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকার প্রমাণ মিলেছে। যত সঞ্চয়পত্র ও শেয়ার এ ছাড়া কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের নিজ নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বিজয়নগর শাখা ও প্রধান শাখায় যথাক্রমে ৩০ লাখ ও ২০ লাখ টাকা—মোট ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। তার স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, বিজয়নগর শাখায় ৫ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখায় ২১ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখায় ১০ লাখ টাকা, ওয়ান ব্যাংকের মগবাজার শাখায় ১৪ লাখ টাকাসহ মোট ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। শ্যালক আফতাব আলীর নামে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় ২৯ লাখ টাকা, প্রাইম ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় ১ লাখ টাকাসহ মোট ৩০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। ভাই কাজী খালিদ হাসানের নামে সোনালী ব্যাংক, খুলনা করপোরেট শাখায় ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে ঢাকা ব্যাংকের কেডিএ শাখায় ২০ লাখ টাকা, একই শাখায় আরও ১০ লাখ টাকা, একই শাখায় আরও ১০ লাখ টাকা ও ২০ লাখসহ মোট ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। খালা শাশুড়ি মাহমুদা হাসানের নামে অগ্রণী ব্যাংকের এইচএমএম রোড শাখা, যশোরে ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং খন্দকার হাফিজুর রহমানের নামে অগ্রণী ব্যাংকের স্যার ইকবাল রোড শাখা, খুলনায় ৩০ লাখ টাকা ও একই শাখায় আরও ১০ লাখ টাকাসহ মোট ৪০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। আবু মাহমুদ ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মোট ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া আবু মাহমুদ ফয়সাল তার স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে ৮৫ লাখ ৯৬ হাজার ৯১৯ টাকা মূল্যের শেয়ার ক্রয়, শ্যালক আফতাব আলীর নামে ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের শেয়ার এবং শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ১৪৩ টাকা মূল্যের শেয়ার ক্রয়সহ মোট ১ কোটি ৭০ লাখ ৪৬ হাজার ৭১২ টাকা মূল্যের শেয়ার ক্রয় করেছেন বলে তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। আবু মাহমুদ ফয়সাল নিজের নামে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে অস্থাবর সম্পদ হিসাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন হিসাবে গচ্ছিত রেখেছেন ৬ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার ৯০৮ টাকা। তিনি নিজ নামে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মোট অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০ টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে আবু মাহমুদ ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে ৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১৮ কোটি ১৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে পাওয়া তথ্য বলছে—অভিযুক্ত কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল তার অবৈধ আয়ের উৎস, প্রকৃতি, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করতে একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক জাল গড়ে তোলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি নিজের নিকটাত্মীয় ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের—স্ত্রী আফসানা জেসমিন, মা কারিমা খাতুন, বোন ফারহানা আক্তার, ভাই কাজী খালিদ হাসান, শ্বশুর আহম্মেদ আলী, শাশুড়ি মমতাজ বেগম, শ্যালক আফতাব আলী, খালা রওশন আরা খাতুন, খালা শাশুড়ি মাহমুদা হাসান, শ্যালিকা ফারহানা আফরোজ ও মামা শ্বশুর শেখ নাসির উদ্দিনসহ অন্যদের নামে সঞ্চয়পত্র ক্রয় ও বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব খোলেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজের অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বৈধ আয়ের ছদ্মাবরণ দেওয়ার চেষ্টা করেন। ব্যাংক লেনদেন ও বিনিয়োগ অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সংশ্লিষ্টদের নামে পাওয়া গেছে— ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি শেয়ার বিনিয়োগ প্রায় ৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ব্যাংক আমানত দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করে এগুলো বৈধ আয়ের ছদ্মাবরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ‘পরিকল্পিত আর্থিক জাল’ অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ফয়সাল একটি সুসংগঠিত আর্থিক কাঠামো তৈরি করেছিলেন। এতে— * আত্মীয়দের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা * সঞ্চয়পত্র ও বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেওয়া * এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর এর মাধ্যমে অবৈধ আয়ের উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া এই ঘটনায় দুদকের উপপরিচালক শেখ গোলাম মাওলা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফয়সালসহ তার পরিবারের একাধিক সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একসময়ের যুগ্ম কর কমিশনার ও বর্তমানে বগুড়ার অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব), পরিদর্শী রেঞ্জ-১ ও ২ কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল নিজ নামে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৪ জনের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৭ কোটি ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৩১৮ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখে এর অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন এবং মানি লন্ডারিংয়ের উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব খুলে সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। ১০ জন আসামি এসব অপরাধলব্ধ সম্পদ নিজেদের নামে গ্রহণ, দখলে নিয়ে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালকে মানি লন্ডারিংয়ে সহায়তা করেছেন। তিন আসামি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে হিসাব খুলে সন্দেহজনক লেনদেন করে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালকে মানি লন্ডারিংয়ে সহায়তা করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। বড় প্রশ্ন এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজস্ব প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। একজন কর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে আসায়— * কর ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা * প্রশাসনিক নজরদারি * এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হতে পারে। দুদকের তদন্ত শেষ হলে, এই অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয়—সেদিকেই এখন নজর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কাস্টমস শাখার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ, অর্থ পাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব অভিযোগের বিস্তৃতি শুধু প্রশাসনিক অনিয়মে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থ স্থানান্তর ও প্রভাব বলয়ের ব্যবহারের কথাও উঠে এসেছে। বর্তমান পদ ও পূর্ববর্তী দায়িত্ব বর্তমানে তিনি কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)-এর মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার ছিলেন। আরও আগে মোংলা কাস্টম হাউসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্পদ ও বিদেশ সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, নেয়াজুর রহমানের পরিবার যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন এবং তার নিজেরও ব্রিটিশ পাসপোর্ট রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাজ্যে অন্তত তিনটি বাড়িসহ উল্লেখযোগ্য সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। আরও বলা হয়, ঘুষের অর্থ দেশীয় আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে রেখে বিদেশে—বিশেষ করে লন্ডন ও দুবাইয়ে—স্থানান্তর করা হতো। ঘুষ আদায়ের অভিযোগ: পদ্ধতি ও নেটওয়ার্ক একাধিক ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, নেয়াজুর রহমান যেখানে দায়িত্বে গিয়েছেন, সেখানে বড় করদাতা ও আমদানিকারকদের একটি তালিকা তৈরি করতেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে পণ্য আটকে রেখে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাহিদামতো অর্থ না দিলে হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতো বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ ‘নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার কথাও উঠে এসেছে। এতে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ছাড়াও কিছু বহিরাগত এজেন্ট যুক্ত ছিলেন, যারা বিদেশে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন বলে দাবি করা হয়। মোংলা কাস্টম হাউস: নিলাম ও সিন্ডিকেট মোংলা কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালনের সময় গাড়ি ও কসমেটিকস আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিলাম প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ী কম মূল্যে পণ্য পেতেন, বিনিময়ে ঘুষ দেওয়া হতো। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের ওপরও আর্থিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। সিলেট ও বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অভিযোগ সিলেট ভ্যাট কমিশনারেটে থাকাকালে এলসি স্টেশন দিয়ে পণ্য আমদানিতে অনিয়ম, ওজন কারসাজি এবং শুল্ক ফাঁকির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালানে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থ পাচারের অভিযোগ সূত্রগুলো বলছে, ঘুষের অর্থ দেশে না রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে বিদেশে—বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে—পাঠানো হতো। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দুবাই হয়ে অর্থ স্থানান্তরের কথাও বলা হয়েছে। প্রভাবশালী সংযোগ নেয়াজুর রহমানকে সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিম-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে বিভিন্ন সূত্রে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক তাকে সুবিধা দিয়েছে। পালানোর চেষ্টা ও পাসপোর্ট ইস্যু ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি কঠোর হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কড়াকড়ির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তিনি তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন করেন। সরকারি প্রতিক্রিয়া? এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। নেয়াজুর রহমান নিজেও প্রকাশ্যে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুতর এবং বহুমাত্রিক—যেখানে প্রশাসনিক অনিয়ম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অর্থ পাচারের মতো বিষয়ও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত অপরিহার্য। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু একজন কর্মকর্তার দায় নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলবে। উল্লেখ্য, মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পড়ালেখা করেছেন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। ২০০৩ সালের ২৯ মে সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) পদে যোগদান করেন নেয়াজুর রহমান। তিনি বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ২১তম ব্যাচের কর্মকর্তা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)-এর চেয়ারম্যান শরীফ জহিরকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন এক সময়ে, যখন তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। নিয়োগ ও বিতর্ক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে গত ২৫ এপ্রিল এই নিয়োগের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র সহকারী সচিব। এই নিয়োগের পরপরই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আনা কতটা যৌক্তিক। তদন্তের মুখে অর্থপাচারের অভিযোগ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্রে জানা গেছে, শরীফ জহিরের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তার ও সংশ্লিষ্টদের আর্থিক লেনদেন, সম্পদ ও কর-সংক্রান্ত নথি চেয়ে পাঠিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত এক দশকের কর নথি, বিদেশি সম্পদের বিবরণ এবং পরিবারের সদস্যদের আর্থিক তথ্য চাওয়া হলেও সব তথ্য এখনো জমা পড়েনি। পানামা পেপারসে নাম ২০১৬ সালে ফাঁস হওয়া পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে শরীফ জহিরের নাম আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) হাইকোর্টে যে তালিকা জমা দেয়, তাতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ আছে। ব্যাংক জালিয়াতির মামলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শরীফ জহিরের বিরুদ্ধে একটি ব্যাংক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেছে। মামলায় অভিযোগ, ইউসিবির একটি শাখা থেকে ‘ক্রিসেন্ট ট্রেডার্স’ নামে একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের একাধিক লেনদেন ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনস্থ তদন্তে অনন্ত গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ১০৩ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পণ্য রপ্তানি না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। জমি দখলের অভিযোগ ব্যক্তিগত পর্যায়েও শরীফ জহিরের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এক ভুক্তভোগী রাজধানীর একটি থানায় সাধারণ ডায়েরি করে দাবি করেছেন, তার জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে এবং সেখানে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এই অভিযোগগুলোর কিছু আদালতের নজরেও এসেছে বলে জানা গেছে। শ্রমিক অসন্তোষ ও অভিযোগ ২০১৯ সালে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক বকেয়া, ছাঁটাই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। শ্রমিকদের একটি অংশ অভিযোগ করেন, তারা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ব্যাংক হিসাব জব্দ সাম্প্রতিক সময়ে কর ফাঁকির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শরীফ জহির ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দেয়। চিঠিতে ব্যাংকগুলোকে সব ধরনের লেনদেন স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগ সমালোচকদের একটি অংশ দাবি করছেন, অতীতে ক্ষমতাসীন মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শরীফ জহিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। --- প্রশ্ন ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষকদের মতে, এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। শরীফ জহিরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর অনেকগুলোই এখনো তদন্তাধীন। ফলে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে এই নিয়োগ দেশের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নৈতিক মানদণ্ড নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, বরিশাল এর যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হকের বিরুদ্ধে "বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ”, নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যা নিয়ে এনবিআরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের হওয়ায় বিস্মিত হয়েছেন খোদ মাজেদুল হকের সহকর্মীগণও। ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর দিনাজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-এ ভুক্তভোগী পারুল নাহার (২৮) এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হকসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক ফেসবুকে পরিচয়ের সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে "প্রেমের সম্পক” গড়ে তোলেন এবং "বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে" তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক ফেসবুকে পরিচয়ের সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে "প্রেমের সম্পক” গড়ে তোলেন এবং "বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে" তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক এর নির্দেশে আনোয়ার নামে এক ব্যক্তি ২০০ থেকে ৩০০ লোক নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তার বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। জানাগেছে, মামলার পর ভুক্তভোগীর ওপর চাপ সৃষ্টি ও হুমকির অভিযোগে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় আরেকটি লিখিত এজাহার দায়ের (মামলা নং-২৩, ২০/১১/২০২৫) করা হয়েছে। এজাহারে মো. রাজন, মো. ভুট্টু, মো. মোজাফ্ফর রহমান (মনজু), মো. আহসান সহ ২০-২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলাটি তুলে নিতে কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে নিয়মিত ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। এমনকি ভুক্তভোগীকে একা দেখা না করলে অপহরণ ও গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে করে অস্ত্রসজ্জিত একটি দল দিনাজপুরের কসবা খোয়ারের মোড়ে ভুক্তভোগীর বাবার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে। এক পর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। পরে পুলিশ আসার আগেই হামলাকারীরা তাকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে রেখে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মাজেদুল হক বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আত্মীয় পরিচয়ে ক্ষমতা প্রদর্শন করেন। তার স্ত্রী মোসাম্মৎ বিলকিস আক্তার ২৮তম বিসিএস ক্যাডার। দুই সন্তানের পিতা মাজেদুল হক। মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথমবার দিনাজপুর শহরের মাজেদুলের এক বন্ধুর ভাড়া করা মেসে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে এবং অগোচরে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ভিডিও করে রাখে মাজেদুল হক। পরবর্তীতে ঐ তরুনী মাজেদুলের সাথে দেখা করতে না চাইলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আবারও খুলনা নিয়ে তাকে ৯ দিন আটকে রাখে, রংপুরে চাকরির সুবাদে একাধিকবার এবং ঢাকায় মোহাম্মদপুর আশা ইউনিভার্সিটির পাশে তার নিজের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে রেখে মাসের পর মাস তরুনীর দেহ ভোগ করে । পরবর্তীতে ঐ তরুনী বিয়ের জন্য চাপ দিলে মাজেদুল তাকে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য মিথ্যা প্রলোভন দেয়। এতেও সমাধান না হলে, মাজেদুল সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তরুনী ও তার পরিবারকে হত্যা, এমনকি নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেয়। উক্ত ঘটনায় পারুল নাহার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করলে মাজেদুল তরুনীকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি-ধামকি প্রদান করে। এতেও তাকে ক্ষান্ত করতে না পারায় তার বাবাকে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে এবং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হকের পূর্বের কর্মস্থল কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, রংপুর এর তৎকালীন কমিশনার অরুণ কুমার রায়ের কাছে ভুক্তভোগী পারুল নাহার মৌখিক অভিযোগ দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভুক্তভোগীকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয় এবং জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা। ভুক্তভোগী আরও উল্লেখ করেন, প্রাণনাশের আশঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করতে পারেননি। এমনকি বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। বিষয়টি যাতে মিডিয়াতে প্রকাশ না পায় সেজন্য কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক নানা কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্যে কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হক এর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তার বর্তমান কর্মস্থল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, বরিশাল এর ল্যান্ড ফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তবে মাজেদুল হকের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, দায়েরকৃত মামলাটি গত সপ্তাহে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার বাদী পারুল নাহার বলেছেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পেশীশক্তি প্রয়োগ করে মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছে। পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে মামলা প্রত্যাহার করলেও অভিযুক্তদের শাস্তি চেয়েছেন ভুক্তভোগী। যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক এনবিআরের শাটডাউন আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহন, রাজস্ব ফাঁকিতে যোগসাজস এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, যুগ্ন কমিশনার মোঃ মাজেদুল হককে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টম ও ভ্যাট প্রশাসন -১ শাখার দ্বিতীয় সচিব মোহাম্মদ আবুল মনসুর স্বাক্ষরিত o৮.o১.oooo.ooo.o১১.০৫.০০০৪.১২-৯২ নম্বর আদেশে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট বরিশালে বদলি করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তিন মামলা এবং সরকারি কর্মচারী বিধিমালায় বিভাগীয় মামলা দায়েরের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উপ-কর কমিশনার তানজিনা সাথীকে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত সোমবার (১৬ মার্চ) এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, উপকর কমিশনার তানজিনা সাথী বর্তমানে কর অঞ্চল-ময়মনসিংহে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ মার্চ দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের মামলার পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৩(খ) বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাঁকে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন মনে করে কর্তৃপক্ষ এই আদেশ জারি করে। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন তানজিনা সাথী বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নিজ ও তার বাবা-মা’র নামে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ১০ মার্চ দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তিনটি মামলা দায়ের করে দুদক। যেখানে তিন মামলার আসামি হয়েছেন কর কর্মকর্তা তানজিনা সাথী। মামলার অপর আসামিরা হলেন তার বাবা মোঃ মোশারফ হোসেন মল্লিক ও মা রাণী বিলকিস। কর কর্মকর্তার সাড়ে ১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ পাহাড়; ফাঁসালেন বাবা-মাকেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগের সহকারী কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যার দায়িত্ব রাষ্ট্রের কর আদায় নিশ্চিত করা। কিন্তু কর আদায়ের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেই গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সচেতনভাবে দুর্নীতির কালো টাকা আড়াল করতে ব্যবহার করেছেন নিজের জন্মদাতা বাবা ও গর্ভধারিণী মাকে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে আটকা পড়েছেন তিনিসহ তার পরিবার। নিজ ও তার বাবা-মার নামে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে মামলার আসামি হয়েছেন তারা। সম্পদ কম দেখিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতেই তিনি বৃদ্ধ বাবা-মাকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে ফাঁসালেন তাদের। গত ১০ মার্চ দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেখানে তিন মামলার আসামি হয়েছেন কর কর্মকর্তা তানজিনা সাথী। দুদকের অনুসন্ধানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তানজিনা সাথীর বাবা মোশারফ হোসেন মল্লিকের নামে ৭ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৫ টাকার সম্পদের দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। যার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেন নাই তিনি। একইভাবে তার মা রাণী বিলকিসের নামে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৩ টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ মিলেছে। দুদকের প্রতিবেদন বলছে, এই বৃদ্ধ দম্পতির নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস ছিল না, মূলত মেয়ের দুর্নীতির টাকা বৈধ করতেই তারা আয়কর নথিতে মিথ্যা ঘোষণা দিয়েছিলেন। অর্থাৎ আয়কর নথি মেয়ে তানজিনা সাথী তৈরি করেছেন দুর্নীতির টাকা আড়াল করতে। বাবা-মায়ের পাশাপাশি নিজের নামেও কম সম্পদ করেননি এই কর কর্মকর্তা। রাজধানীসহ মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হদিস পেয়েছে দুদক। আর্থিক হিসাবে যার পরিমাণ ৫ কোটি ৬৬ হাজার ৯৪ টাকা। বিপরীতে বৈধ আয়ের কোনো প্রমাণ মেলেনি। সব মিলিয়ে এই পরিবারের মোট ১৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদের কারণে তানজিনা সাথী ও তার বাবা-মা দুদকের মামলার আসামি। তিন মামলার এজাহার যা বলছে সহকারী কর কমিশনার হিসাবে মোসা. তানজিনা সাথী কর অঞ্চল-৭ এর কর সার্কেল-১৩৭ ও ১৪২ এবং কর অঞ্চল-৯ এর কর সার্কেল-১৮১ কর্তব্যরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিপুল পরিমাণ উৎকোচ গ্রহণ করে নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এমন অভিযোগ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানকালে তানজিনা সাথীর নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ২ কোটি ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। সব মিলিয়ে ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯৬ টাকার সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যেখানে ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় আমলে নিলে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯২ টাকা। যার বিপরীতে তিনি ৭৯ লাখ ১৮ হাজার ২৯৮ টাকার সম্পদের পক্ষে দালিলিক প্রমাণ দেখাতে সমর্থ হয়েছেন। অর্থাৎ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৫ কোটি ৬৫ হাজার ৯৪ টাকার। যে কারণে প্রথম মামলার আসামি হয়েছেন। অন্যদিকে, তার বাবা মো. মোশারফ হোসেন মল্লিকের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৫ টাকার সম্পদের প্রমাণ পায় দুদক। মূলত মেয়ে তানজিনা সাথী অবৈধ টাকাকে বৈধ করার লক্ষ্যে তার বাবার নাম ব্যবহার করেছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায় বাবা মো. মোশারফ হোসেন মল্লিকের নামে ৩ লাখ ২৯ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৪ কোটি ৭৫ লাখ ৪ হাজার ৪২ টাকার এবং অস্থাবর সম্পদ অর্থাৎ নগদ অর্থের প্রমাণ পায় দুদক। ২০০২-০৩ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে আয়কর নথিতে ব্যয় দেখিয়েছেন ৪ কোটি ১৭ লাখ ১৫ হাজার ৫৪ টাকা। সব মিলিয়ে ৮ কোটি ৯৫ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬ টাকার সম্পদের মধ্যে বৈধ উৎস দেখাতে পেরেছেন মাত্র ১ কোটি ৭ লাখ ১৯ হাজার ৪৪১ টাকা। বাকিটুকু জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বলে দুদক প্রমাণ পেয়েছে। আর ওই সম্পদ তার কন্যা তানজিনা সাথীর ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা বৈধ করার চেষ্টা করেছেন। এই মামলায় বাবার পাশাপাশি মেয়েকেও আসামি করা হয়েছে। অনুরূপভাবে গৃহিণী মা মোসা. রাণী বিলকিসের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৩ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। নিজের অবৈধ আয়কে বৈধ করার লক্ষ্যে তার মায়ের নামে ওই সম্পদ গড়ার অপরাধে মায়ের পাশাপাশি মেয়েকেও আসামি করা হয়েছে তৃতীয় মামলায়। আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় মামলাগুলো দায়ের করে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ। তথ্য গোপন করে চাকরি : ৩৬ বিসিএসের রাজস্ব কর্মকর্তা তানজিনা সাথী। এনআইডিতে তার স্থায়ী ঠিকানা বরিশালের বাকেরগঞ্জ। কিন্তু বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি নেওয়ার সময় তিনি স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়েছেন বরগুনা জেলায়। এটি স্পষ্টতই তথ্য গোপন করার শামিল, যা তার চাকরিচ্যুতির পাশাপাশি দণ্ডনীয় অপরাধও বটে। শুধু তাই নয়, কর কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিপ্রাপ্তির তিন বছর পর তিনি তার মা-বাবার নামে টিন সনদ করিয়েছেন, যেখানে তাদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ দেখানো হয়েছে। অথচ তার মা গৃহিণী ও বৃদ্ধ বাবার দৃশ্যমান কোনো রোজগার নেই এবং এত এত অর্থকড়ির মালিক যারা (মা-বাবা), তিন বছর আগেও তারা করের তালিকাভুক্তই ছিলেন না। উপরন্তু, বিসিএস একই ব্যাচের (পুলিশ) আরেক কর্মকর্তার সঙ্গে তানজিনার ছিল খুবই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তানজিনা এই মর্মে মামলা ঠুকে দিয়েছেন যে, তিনি সেই কর্মকর্তার কাছে তিন কোটি টাকারও বেশি পাওনা আছেন। এখানেই শেষ নয়। তানজিনা থাকেন মালিবাগে। তার অফিস টাঙ্গাইলে। বরাবরই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অফিস ফাঁকি দেওয়ার। দিনের পর দিন ভোগান্তির পর সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এ বিষয়ে তানজিনাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে। এ নোটিশের জবাবও তিনি যথাসময়ে দেননি। এমন পরিস্থিতিতেও তানজিনা সাথীকে সম্প্রতি বরং পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, তানজিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা পড়েছে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা কামানোর, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে অনুসন্ধান পর্ব। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোসা. তানজিনা সাথীর বাবার নাম মো. মোশাররফ হোসেন মল্লিক, মাতা- মোসা. রানী বিলকিস। স্থায়ী ঠিকানা- গ্রাম- মধ্য নেয়ামতি, পোস্ট- নেয়ামতি, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল। বাবা, মায়ের এনআইডিতেও একই ঠিকানা। তবে বাংলাদেশ কর্মকমিশন থেকে প্রকাশিত গেজেটে তার নামের পাশে নিজ জেলার ঘরে লেখা বরগুনা। এদিকে বিসিএসে যোগদানের আগে তিনি সোনালী ব্যাংকে চাকরি করতেন। সেখানেও স্থায়ী ঠিকানা লিখেছেন বরিশাল। ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডারের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া তার ভাই মাহফুজুর রহমানের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে বাকেরগঞ্জ দেখানো হয়েছে। আপন ভাইবোনের স্থায়ী ঠিকানায় ভিন্নতা বিস্ময়করই বটে! এদিকে চাকরির আবেদনে তিনি নিজেকে সিঙ্গল দাবি করেছেন। অথচ বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণের আগে তিনি মো. শফিকুল ইসলাম নামের একজনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। কাবিননামার তথ্য অনুসারে বিবাহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩। মোহরানা দশ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষা-২০১৫ আবেদনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল- মিথ্যা তথ্য প্রদান ও অসদুপায় অবলম্বনের শাস্তি : (১) কোনো প্রার্থী আবেদনপত্রে জ্ঞাতসারে কোনো ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে বা প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করলে... তাকে উক্ত পরীক্ষাসহ কমিশন কর্তৃক অনুষ্ঠেয় পরবর্তী যে কোনো পরীক্ষার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে। (২) ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে ফৌজদারি আইনে সোপর্দ করা যাবে এবং উক্ত প্রার্থীকে সার্ভিসে নিয়োগের পর এইরূপ কোনো তথ্য প্রকাশ ও তা প্রমাণিত হলে তাকে চাকরি হতে বরখাস্তকরণ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ যে কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। তথ্য গোপনের পাশাপাশি তানজিনার বিরুদ্ধে রয়েছে অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগ। জানা গেছে, কর কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের আগে তানজিনা ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকে চাকরি করেন। তার বেতন ছিল ২২-২৫ হাজার টাকা। সেই হিসাবে বছরে তার বেতন দাঁড়ায় সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা। ৭ বছরে কোনো টাকা খরচ না করলেও তার মোট আয় হয় ১৭ লাখ টাকা। তানজিনা সাথী তার আয়কর (২০২১-২২) ফাইলে স্থায়ী ঠিকানা লিখেছেন বরিশাল। ২০২১-২২ অর্থবছরে তার নিট সম্পত্তি দেখিয়েছেন ২ কোটি ১৬ লাখ ১ হাজার ৫৯২ টাকা। এর মধ্যে তিনি শেয়ারবাজারে ৪৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। সঞ্চয়পত্র ৩৪ লাখ টাকার। এ ছাড়া ৮৩ ভরি স্বর্ণালংকার দেখিয়েছেন। এর আগের বছরের কর ফাইলে তিনি ২ কোটি ৫ লাখ টাকার সম্পদ দেখান। ২০১৮ সালে তিনি কর কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে প্রবেশকালে বিবরণীতে প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ দেখান। এ সম্পদ পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত ধরা হলে, তানজিনার দুই ভাই ও তিন বোনও সমান সম্পত্তি পাওয়ার কথা। সেই হিসেবে তার বাবা-মায়ের অন্তত ১০ কোটি টাকার সম্পদ থাকার কথা। অথচ তারা ট্যাক্স ফাইল ওপেন করেন মেয়ে তানজিনা কর অফিসে যোগদানের ৩ বছর পর। সে সময় দেখানো হয়, তার গৃহিণী মা ও বৃদ্ধ কর্মহীন বাবার মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকার সম্পদ। এত সম্পদের মালিক হয়েও তারা ২০২২ সালের আগে ট্যাক্স দেননি। আয়কর দপ্তরে তানজিনা চাকরি নেওয়ার তিন বছর পর (২০২১-২২) তার বাবা-মায়ের নামে ট্যাক্স ফাইল খোলা হয়। তারা বরিশালের বাসিন্দা হলেও ঢাকা কর অঞ্চল-৭-এর সার্কেল-১৫০ থেকে রানী বিলকিস (মা) নামের কর ফাইলে মোট ৩ কোটি ১১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬৪ টাকা মূল্যের সম্পদ বিবরণী দেখানো হয়েছে। স্বর্ণের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৩৮০ ভরি। এর মধ্য থেকে ৯৭ ভরি বিক্রি করেছেন, যার মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৪৮ লাখ ১২ হাজার ৩১ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি ভরি স্বর্ণের বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৬০৮ টাকা, যা গত তিন বছরের বাজারমূল্য থেকে খুবই কম ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া রানী বিলকিস তার স্বামীর কাছ থেকে ৮৪ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কর বিবরণীতে। এর মধ্যে বিক্রির জন্য তানজিনার এক বন্ধুকে তিনি ১৫৩ ভরি স্বর্ণ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। কর ফাইলে রানী বিলকিস তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়েছেন ঢাকার মালিবাগ। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী রানী বিলকিসের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা বরিশাল হলেও তানজিনা নিজ কর্মস্থল ঢাকায় মায়ের কর ফাইল খোলেন। একইভাবে তানজিনা তার কর্মস্থল থেকে বাবা মো. মোশাররফ হোসেন মল্লিকের নামেও একটি কর ফাইলও খুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কর কর্মকর্তা তানজিনা তার অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বৈধ করার জন্যই নিজ কর্মস্থল থেকে বাবা-মায়ের নামে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেন। তানজিনা সাথীর বর্তমান ঠিকানা, ফ্ল্যাট ৯সি, প্রমোট ব্লুবেল, ১৬১, ১৬১/১, ১৬৪, মালিবাগ, ঢাকা। তার মা রানী বিলকিসের আয়কর ফাইলেও স্থায়ী ঠিকানা মালিবাগ। সূত্রমতে, তানজিনার টাকায় উপরোল্লিখিত ঠিকানায় প্রায় ১৩শ বর্গফুটের এ ফ্লাট ক্রয় করা হয়েছে। সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, জনৈক দেলোয়ারের মাধ্যমে তানজিনা অবৈধভাবে অর্জিত টাকা বাবা-মায়ের নামে বৈধ করেন। তানজিনার টাকার উৎস নিয়ে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ আমাদের সময়কে জানান, অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। জানা গেছে, ব্যাংকে চাকরি করার সময় তানজিনা প্রথম বিয়ে করেন। কর কর্মকর্তা হওয়ার পর তানজিনা আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। সেই ব্যক্তি ৩৬তম বিসিএসের পুলিশ কর্মকর্তা (এএসপি)। তাদের চার বছরের সম্পর্ক ছিল। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এর জেরে তানজিনা মামলা করেন ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সেই মামলার নথি ও পিবিআইয়ের তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সম্পর্ক ভেঙে গেলে সেই কর্মকর্তাকে ঘর সাজানো, আইফোন, জমি ক্রয়ের টাকা, নগদ অর্থ প্রদান বাবদ মোট ৩ কোটি ২৩ লাখ দিয়েছেন বলে দাবি করেন তানজিনা এবং তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন। এ মামলার তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলায় পিবিআইয়ের কাছে তানজিনার পক্ষে সাক্ষ্য দেন ইসরাফিল হাসান। ইসরাফিলের সাক্ষ্য অনুযায়ী, এনএসআইয়ের এক ডেপুটি ডিরেক্টরকে তানজিনা ভাই হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার নাম সাইদুর রহমান লিটন। তাদের মাঝে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি সাক্ষ্যতে উঠে এসেছে। জানা গেছে, সাইদুর রহমান লিটন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক মাহবুবুর রহমানের ভাগ্নে। মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী বাংলাদেশ কর্মকমিশনের (পিএসপি) সাবেক সদস্য আনোয়ারা বেগম। ৩৬তম বিসিএসে তানজিনা সাথীর নিয়োগকালে সাইদুর রহমান লিটনের মামি আনোয়ারা বেগম পিএসসির সদস্য ছিলেন। তানিজনা সাথী গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে টাঙ্গাইলের সেই কর কার্যালয় ভাংচুর করে, আগুন দেয়। অথচ এর পরও ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সাথে সাথে তার উল্টো পদোন্নতি হয়েছে।
* পিআইবিতে ‘অদৃশ্য সেমিনার’: নথিতে খরচ, বাস্তবে অনুষ্ঠান নেই—ফারুক ওয়াসিফকে ঘিরে বিতর্ক * পিআইবিতে সেমিনার না হয়েও লাখ লাখ টাকা খরচ? ফারুক ওয়াসিফকে ঘিরে নথিপত্রে নতুন প্রশ্ন * পিআইবিতে সেমিনার জালিয়াতির অভিযোগ: ফারুক ওয়াসিফের দাবি বনাম এনবিআরের নথি — অনুসন্ধানে নতুন প্রশ্ন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)–এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে ঘিরে নতুন করে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পিআইবিতে যে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়নি—তার জন্য ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি অন্যদিকে ফারুক ওয়াসিফ এই অভিযোগকে “মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর উৎস কর সংক্রান্ত নথি ও ব্যাংক লেনদেনের তথ্য নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। এই প্রতিবেদনে সেই অভিযোগ, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অভিযোগের সূত্রপাত দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি পিআইবিতে কোনো সেমিনার হয়নি, অথচ ওই সেমিনারের নামে বিপুল অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়— ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন খাতে খরচ দেখানো হয়েছে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ তোলা হয়েছে অভিযোগ অনুযায়ী, এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে পিআইবির কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত। অভিযোগ উঠেছে— ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এমন কিছু সেমিনারের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে, যেগুলো বাস্তবে অনুষ্ঠিত হয়নি। এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তিনি অবশ্য অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু অনুসন্ধানে পাওয়া নথি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উৎস কর স্লিপ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। এই প্রতিবেদনে সেই নথি, তথ্য ও বক্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কী ঘটেছে: ঘটনাপ্রবাহ ডাটা টাইমলাইন বছর ঘটনা ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পিআইবিতে সেমিনার হয়েছে বলে নথি ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ দ্বিতীয় সেমিনারের খরচ দেখানো অক্টোবর ২০২৫ ভ্যাট ও ট্যাক্স জমা ৫ মার্চ ২০২৬ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ ৯ মার্চ ২০২৬ পিআইবির প্রতিবাদপত্র ডকুমেন্ট বক্স অনুসন্ধানে পাওয়া মূল নথি 📄 মোট উৎস কর স্লিপ: ৫৩টি 💰 উৎস কর জমা: ২,৮২,৬০০ টাকা 📅 উল্লেখিত অনুষ্ঠান: ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সেমিনার ✍ জমাদানকারী: পিআইবির কর্মকর্তা এই স্লিপগুলোতে সেমিনারের বিভিন্ন খরচের উল্লেখ রয়েছে। ফারুক ওয়াসিফের বক্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফারুক ওয়াসিফ বলেন: “ওই দুই দিনে কোনো সেমিনার হয়নি। তাই সেমিনারের নামে টাকা তোলার প্রশ্নই আসে না।” তিনি আরও দাবি করেন— প্রকাশিত নথি জাল একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। অনুসন্ধানে নতুন তথ্য তবে অনুসন্ধানী টিমের দাবি, এনবিআরের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। তদন্তে পাওয়া যায় মোট ৫৩টি “অর্থ জমা নগদ স্লিপ”। এসব স্লিপে উল্লেখ রয়েছে— সেমিনারের দাওয়াত কার্ড খাবার নাশতা স্টেশনারি গাড়িভাড়া রিসোর্স পারসন সম্মানি এই সব খাতের বিপরীতে উৎস কর জমা দেওয়া হয়েছে। সব স্লিপে পিআইবির সিনিয়র রিসার্চ অফিসার গোলাম মুর্শেদ-এর স্বাক্ষর রয়েছে। মোট উৎস কর জমা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা। নথিতে কী পাওয়া গেছে তবে অনুসন্ধানে পাওয়া উৎস কর স্লিপে উল্লেখ রয়েছে— সেমিনার খরচের খাত খাত টাকা খাবার ৭৫,০০০ দাওয়াত কার্ড ৩,০০০ স্টেশনারি ৯,০০০ ডেকোরেশন ৬,১০০ সাউন্ড সিস্টেম ৮,৩০০ নাশতা ২,৫০০ গাড়িভাড়া ১,২০০ ডাটা গ্রাফিক সেমিনার খরচ (নথি অনুযায়ী) খাবার ██████████████████████ স্টেশনারি ███████ ডেকোরেশন █████ সাউন্ড সিস্টেম ██████ নাশতা ██ গাড়িভাড়া █ সব মিলিয়ে দুই দিনের অনুষ্ঠানের বিপরীতে উৎস কর জমা দেওয়া হয়েছে ১ লাখ টাকার বেশি। রিসোর্স পারসন সম্মানি নথি অনুযায়ী— পাঁচজন বক্তা প্রত্যেকে ১০ হাজার টাকা মোট সম্মানি: ৫০,০০০ টাকা কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যাদের নাম বক্তা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে তাদের কয়েকজনই বলেছেন তারা এ ধরনের কোনো সেমিনারে অংশ নেননি। খাবারের বিল নিয়ে প্রশ্ন একটি ভাউচারে উল্লেখ রয়েছে— ১৫০ জনের খাবার প্রতি প্লেট ৫০০ টাকা মোট বিল: ৭৫ হাজার টাকা কিন্তু সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এই বিলের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ২৪ লাখ টাকার ব্যয় এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরেকটি বিতর্ক হলো ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব। ফারুক ওয়াসিফের দাবি— এই অর্থের বড় অংশ একটি তথ্যচিত্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে। প্রোডাকশন কোম্পানির বক্তব্য তথ্যচিত্রটি তৈরি করেছে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির দাবি— তাদের বিল ছিল প্রায় ২৪ লাখ টাকা ভ্যাট ও ট্যাক্স কেটে ১৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে ক্যাশে ডকুমেন্ট বক্স লেনদেনের গরমিল নথিতে দেখা যায়— 📅 ইনভয়েস তারিখ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ 🎬 তথ্যচিত্র প্রিমিয়ার: আগস্ট ২০২৫ 💰 পেমেন্ট দাবি: আগস্ট ২০২৫ এই তারিখগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনলাইনে চালান যাচাই সরকারি ওয়েবসাইটে চালান ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে এসব নথির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। একটি উদাহরণ হিসেবে: ট্র্যাকিং নম্বর: ২৫২৬-০০০৯৪৮৪০৫৯ খাত: ১৮ ফেব্রুয়ারি সেমিনারের খাবার উৎস কর: ৬,২৫০ টাকা ওয়েবসাইটে যাচাই করে এই চালানের তথ্য মিলেছে। এতে জমাদানকারী হিসেবে পিআইবির পক্ষ থেকে গোলাম মুর্শেদের নাম উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে অন্যান্য চালানও যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঢাকার এক আয়কর আইনজীবী নথি যাচাই করে বলেছেন,অনলাইন ভেরিফিকেশন অনুযায়ী এসব চালান সঠিক। অর্থাৎ এগুলো সরকারি সিস্টেমে নিবন্ধিত। ভুয়া ভাউচার অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁর নামে ১৫০ জনের দুপুরের খাবারের বিল দেখানো হয়। প্রতি প্লেট ৫০০ টাকা মোট বিল: ৭৫,০০০ টাকা তবে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এই বিলের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। সরকারি নিয়ম কী বলে সরকারি কর্মকর্তাদের মতে— সরকারি কাজের পেমেন্ট সাধারণত হয়: ব্যাংক ট্রান্সফার চেক সরকারি অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম ক্যাশে পেমেন্ট দেওয়া নিয়মবহির্ভূত হতে পারে। টেন্ডার ছাড়াই কাজ? অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে— এই প্রকল্পে কোনো টেন্ডার হয়নি কোনো ওয়ার্ক অর্ডার নেই কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি নেই যা সরকারি ক্রয় বিধির প্রশ্ন তুলছে। ব্যাকডেটিংয়ের অভিযোগ নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়— চেক ইস্যুর তারিখ ফেব্রুয়ারি টাকা তোলা হয়েছে জুনে এ ধরনের প্রক্রিয়াকে সাধারণত ব্যাকডেটিং বলা হয়। পুরনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার তদন্তে আরও জানা গেছে— টাকা উত্তোলনের জন্য এমন একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে— যা প্রায় ১০ বছর ধরে ব্যবহার হয়নি। প্রকৃত খরচ কত? অভিযোগকারীদের দাবি— অনুষ্ঠানের প্রকৃত খরচ ছিল প্রায় ৭–৮ লাখ টাকা। কিন্তু নথিতে দেখানো হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। বোর্ড মিটিং ও অডিট ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন— বোর্ড মিটিংয়ে চারজন যুগ্ম সচিব আরও কয়েকজন সদস্য সব নথি পরীক্ষা করেছেন। তার দাবি— “অডিটের পর অনিয়ম থাকার সুযোগ নেই।” এখনো যেসব প্রশ্নের উত্তর নেই এই ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রধান প্রশ্ন ১️,সেমিনার না হলে উৎস কর কেন দেওয়া হলো? ২️.ভুয়া বিল তৈরি করেছে কারা? ৩️.২৪ লাখ টাকার প্রকৃত ব্যয় কত? ৪️.ক্যাশ পেমেন্ট কেন করা হলো? ৫️.সরকারি নথিতে ব্যাকডেটিং হয়েছে কি? বিশ্লেষণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাংবাদিক প্রশিক্ষণের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ উঠলে তা শুধু প্রশাসনিক নয়—নৈতিক প্রশ্নও তৈরি করে। পিআইবি দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা দাবির মধ্যেই এখন প্রশ্ন— এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে কি?
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।