Brand logo light

ইসরায়েল

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ, ক্ষুদ্র ব্যবসায় মুনাফা কমছে | নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনায় জ্বালানির দাম বেড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মার্কিন ক্ষুদ্র ব্যবসা। একই সময়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ইরান যুদ্ধের অভিঘাতে চাপের মুখে মার্কিন অর্থনীতি ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার নেতিবাচক প্রভাব এখন সরাসরি পড়তে শুরু করেছে মার্কিন অর্থনীতিতে। বিশেষ করে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং শ্রম খরচের চাপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে মুনাফা ধারাবাহিকভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নতুন উদ্যোক্তাদের বড় অংশ এখন অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট শুধু ব্যবসায়ী পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামগ্রিক মার্কিন অর্থনীতির জন্যও এটি একটি সতর্ক সংকেত। কারণ, গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হওয়া নতুন কর্মসংস্থানের প্রায় অর্ধেক এসেছে ২৫০ জনের কম কর্মী নিয়ে পরিচালিত ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো থেকে। মুনাফায় বড় পতন ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর মুনাফায় গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে। এক মাসেই মুনাফা কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন উদ্যোক্তারা বর্তমানে তিনটি বড় সংকটে রয়েছেন— শ্রমিকের সহজলভ্যতা সংকট উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সেটিই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হরমুজ সংকট ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর বৈশ্বিক বাজারে গ্যাস ও জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। আমেরিকার অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৩ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি। ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিলে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে গ্যাসোলিনের পেছনে ৩১ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ভোক্তাদের ব্যয় প্রবণতা এখনও শক্তিশালী থাকলেও ক্ষুদ্র ব্যবসার বিক্রি ধীরে ধীরে মন্থর হয়ে পড়ছে। ফলে বাজারে এক ধরনের “অদৃশ্য মন্দা” তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংকটের মধ্যেও বাড়ছে নতুন ব্যবসা অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ব্যবসা শুরু করার প্রবণতা থেমে নেই। বরং রেকর্ড গতিতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার নতুন ব্যবসার আবেদন জমা পড়েছে। যা করোনা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, উদ্যোক্তা হওয়ার এই প্রবণতাই এখনও মার্কিন অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধস থেকে রক্ষা করছে। নতুন হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আইআরজিসি দাবি করেছে— যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল “বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দুই সামরিক বাহিনীর পূর্ণ সক্ষমতা” ব্যবহার করেও ইরানকে দমাতে পারেনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান এখনও তার সব সামরিক সক্ষমতা প্রয়োগ করেনি এবং নতুন আগ্রাসন হলে “কল্পনার বাইরে বিধ্বংসী হামলা” চালানো হবে। ট্রাম্পের অবস্থান: ‘তাড়াহুড়ো নেই’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে তাড়াহুড়ো নেই বলে মন্তব্য করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু “তিনি যা বলবেন, সেটাই করবেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এখন অগ্রাধিকার হলেও তিনি দ্রুত কোনও সমঝোতায় পৌঁছানোর চাপ অনুভব করছেন না। এর আগে তিনি ইরানের ওপর সম্ভাব্য একটি সামরিক হামলা স্থগিত করার কথাও জানান। উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের অনুরোধেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা বর্তমান সংকট নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানা গেছে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরে ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের স্থবির কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করতে পাকিস্তান নতুন করে উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংঘাতের বিস্তার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরান-এ হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
ইরান
ইরানকে ঘিরে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা: ট্রাম্পের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভেদের অভিযোগ তেহরানের

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ঘনীভূত হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বে বিভেদ সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ভাষার হুমকি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানি প্রেসিডেন্টের দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া। পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও “জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী” ইরানে হামলার মাধ্যমে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল, যাতে দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তার অভিযোগ, পশ্চিমা শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস ও বিভাজন তৈরির কৌশল অনুসরণ করছে, যাতে আঞ্চলিক ঐক্য দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়। ‘পুনরায় হামলা হলে ভয়াবহ জবাব’ এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফজল শেকারচি মার্কিন প্রশাসনকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার প্রতিক্রিয়া হবে “নজিরবিহীন”। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি আবারও ইরানে হামলার পথ বেছে নেয়, তবে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ “আকস্মিক ও তীব্র আঘাতের” মুখে পড়বে। শেকারচির ভাষায়, ইরান একটি দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা ও সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে। শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে তেহরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত কোনও বড় ছাড় দিতে রাজি হয়নি। বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানকে মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখার অনুমতি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের সামান্য অংশও ছাড় করতে রাজি হয়নি। একই সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য কোনও ধরনের ক্ষতিপূরণ নিয়েও ওয়াশিংটনের আগ্রহ নেই বলে দাবি তেহরানের। ইরানের দৃষ্টিতে এসব শর্ত “শান্তির প্রস্তাব” নয়; বরং কৌশলগত চাপ সৃষ্টির অংশ। মেহর নিউজ এজেন্সিও একই ধরনের অভিযোগ তুলে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে, যা তারা সামরিকভাবে অর্জন করতে পারেনি। ইরানের পাল্টা প্রস্তাব কী ছিল তেহরানের প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে, ইসরায়েলের লেবানন অভিযান বন্ধ, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানায় ইরান। এ ছাড়া বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করার আহ্বানও ছিল ওই প্রস্তাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ যুদ্ধের শুরু থেকেই কার্যত সীমিত অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্পের নতুন হুমকি এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে উদ্দেশ করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “সময় ফুরিয়ে আসছে। তাদের খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্যথায় আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।” একই পোস্টে বড় অক্ষরে তিনি লেখেন, “সময় অত্যন্ত মূল্যবান।” এর আগে ট্রাম্প নিজের একটি ছবি পোস্ট করে সেটির ক্যাপশনে লিখেছিলেন, “এটি ছিল ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা।” ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ফোনালাপের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইরান। যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চীনের উদ্বেগ নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার কয়েক দিন আগেই চীন সফর শেষ করেন ট্রাম্প। সফরকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও শি সরাসরি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি, তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের ভাষ্য, এটি এমন একটি যুদ্ধ “যা কখনও শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং যার অব্যাহত থাকারও কোনও যৌক্তিকতা নেই।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
ইরান সংকটে অচলাবস্থা
নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনায় কোনও সমাধান না আসায় দুই দেশই সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আগের চেয়ে আরও তীব্র ও ব্যাপক বোমাবর্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের কৌশলগত তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের বিষয়টিও বিবেচনায় আছে। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহের পরিকল্পনাও চলছে। তবে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে বড় ধরনের হতাহতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে সরাসরি সংঘর্ষের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-কে দেওয়া এক বক্তব্যে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধ প্রায় অনিবার্য ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এখন মূল নজর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের দিকে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও বুঝতে পারছে যে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা থেকে কার্যকর সমাধান আসবে না। তার ভাষায়, “আমরা কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।” এর আগে চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরান যদি দীর্ঘমেয়াদে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। যদিও আগে তিনি পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের শর্ত দিয়েছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: আরও দুই বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস। নিখোঁজ দুই বাংলাদেশির একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও আরেকজন এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার (১৩ মে) দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, গত ১১ মে রাতে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে জেলার মাইফাদুন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় সাতক্ষীরার শ্রী শুভ কুমার দাস এবং নরসিংদীর করিম মিয়ার মৃত্যুর তথ্য বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যায়। দূতাবাস বলছে, লেবানিজ আর্মি ও লেবানিজ রেডক্রসের সহায়তায় বুধবার ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি অঙ্গবিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর সেটি শ্রী শুভ কুমার দাসের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন একই এলাকায় বসবাসকারী আরেক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী রাজিব। মরদেহটি বর্তমানে নাবাতিয়ের নাযদ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে একই ভবনে অবস্থানকারী বাংলাদেশি কর্মী করিম মিয়ার মরদেহ এখনও উদ্ধার করা যায়নি। স্থানীয় সূত্রের বরাতে দূতাবাস জানিয়েছে, তার মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে। তবে চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি চালানো সম্ভব হয়নি। দূতাবাস জানিয়েছে, সম্ভাব্য দ্বিতীয় মরদেহ উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন, লেবানিজ আর্মি এবং রেডক্রসের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সংঘাতের মধ্যে ঝুঁকিতে প্রবাসীরা গত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিয়মিত বিমান হামলা ও ড্রোন আক্রমণের কারণে সেখানে অবস্থানরত বিদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের একটি অংশ জীবিকার তাগিদে সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো নতুন করে তাদের নিরাপত্তা ও জরুরি সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এর আগে গত সোমবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই বাংলাদেশি কর্মী নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সর্বশেষ দূতাবাসের নিশ্চিত তথ্যে নিহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। দূতাবাসের তৎপরতা বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, মরদেহ সংরক্ষণ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ চলছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চলমান সংঘাতের কারণে দক্ষিণ লেবাননে উদ্ধার তৎপরতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই হতাহতদের শনাক্ত ও উদ্ধারে সময় লাগছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি
ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটির দাবি, তথ্য দিলেন এক মেষপালক

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় দুর্গম মরুভূমিতে ইসরায়েলের একটি গোপন সামরিক ঘাঁটির অস্তিত্বের দাবি সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিমান হামলা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার সহায়ক কেন্দ্র হিসেবে এই ঘাঁটি ব্যবহার করা হতো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসের শুরুতে এক ইরাকি মেষপালক মরুভূমির নির্জন এলাকায় অস্বাভাবিক হেলিকপ্টার চলাচল এবং সন্দেহজনক সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকি বাহিনী সেখানে তল্লাশি অভিযান চালায়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি কমান্ডোদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত একজন ইরাকি সেনা নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় বাগদাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জাতিসংঘে অভিযোগ জানায়। তবে নতুন এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার নেপথ্যে ছিল ইসরায়েলের বিশেষ সামরিক অভিযান। সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মরুভূমির ওই ঘাঁটিটি মূলত একটি “লজিস্টিক হাব” হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন ছিল। বিশেষ করে ইরানের ভেতরে অভিযানের সময় কোনো ইসরায়েলি পাইলট বিপদে পড়লে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য এই ঘাঁটির ব্যবহার করা হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ জ্ঞাতসারেই এই স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরাক ও ইসরায়েল—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ইরাকের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তবে মেষপালকের দেওয়া তথ্য, পরবর্তী সামরিক অভিযান এবং বিমান হামলার ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি
মুজতবা খামেনিকে ঘিরে রহস্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় বদলাচ্ছে বৈশ্বিক কূটনীতি

মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, গুরুতর আহত অবস্থায় জনসমক্ষে না এলেও ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্তে এখনো প্রভাব রাখছেন মুজতবা খামেনি। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে উদ্বেগ বাড়ছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের মধ্যে।                                                                                                                                               ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের প্রভাবশালী নেতা মুজতবা খামেনিকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকলেও তিনি এখনো ইরানের যুদ্ধ ও কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শনিবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামো আগের তুলনায় আরও জটিল ও অস্বচ্ছ হয়ে উঠেছে। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মুজতবা খামেনির প্রভাব এখনো গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান অবশ্য এসব দাবি পুরোপুরি নাকচ করেছে। তেহরানের কর্মকর্তারা বলছেন, তিনি সুস্থ আছেন এবং তার আঘাত দ্রুত সেরে উঠছে। জনসমক্ষে অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন যুদ্ধ শুরুর দিকে ভয়াবহ হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। ওই হামলায় মুজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হন বলে দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের। এরপর থেকেই তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তার অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কারণ তিনি কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবহার করছেন না। বরং সীমিত পরিসরে দূত বা সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব তথ্যের বড় অংশ অস্বীকার করেছে। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি মুজতবা খামেনির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন। যুদ্ধের পর এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রথম প্রকাশ্য বৈঠক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন আলোচনা এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে দ্রুত জবাব আসতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আজ রাতেই জবাব আসতে পারে। আমরা একটি চিঠির অপেক্ষায় আছি।” তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে কী রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এর আগে ইরানের দুটি ট্যাংকার জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করায় ওই ট্যাংারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে ঘিরে বড় সামরিক সংঘাত শুরু হয়। প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা ওই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ে। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। যদিও যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেটির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন। ইউরোপে বাড়ছে উদ্বেগ বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার চাপ পড়েছে ইউরোপের অর্থনীতিতে। একই সময়ে জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা কমানোর ঘোষণা এবং ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি হ্রাসের ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, ইউরোপীয় মিত্ররা নিজেদের নিরাপত্তা ব্যয়ের যথেষ্ট অংশ বহন করছে না। মিত্রদের মধ্যে আস্থার সংকট হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরান ইস্যুতে ইউরোপের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সহায়তা দেয়নি। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সক্রিয় হচ্ছে। যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, আঞ্চলিক সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ পুরোপুরি আত্মনির্ভর হতে এখনো সময় লাগবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি তাদের নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় নতুন হিসাব মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া অনেকের কাছে যথেষ্ট কঠোর মনে হয়নি। কিছু মিত্র দেশ আশঙ্কা করছে, ইরানের সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতা হলে যা তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, তাহলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশীয় মিত্ররাও পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ও জোটভিত্তিক কূটনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন তাদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তাইওয়ান ইস্যুতে ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাত তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। সুযোগ নিচ্ছে চীন ও রাশিয়া আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে চীন ও রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের মনোযোগ বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে বেইজিং ও মস্কো নিজেদের প্রভাব আরও শক্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে চীন নিজেকে আরও নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬ 0
বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ১২
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ১২ নিহত, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হামলা অব্যাহত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চলমান যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (১ মে) নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর একাধিক হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ব্যাপক বিমান হামলায় পুরো একটি আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বহু ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এদিন টায়ার ও নাবাতিয়েহর আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকায় পৃথক হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর, একটি কনভেন্ট এবং একটি স্কুল ধ্বংস করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, হামলার আগে হাব্বুশ এলাকার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে এর আগের দিন একই এলাকায় কোনো সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২, ২০২৬ 0
ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের মতভেদ
ট্রাম্পের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে মতভেদ স্বীকার করলেন গিডিওন সার, তবে কৌশলগত ঐক্য বহাল

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে কিছু মতভেদের কথা স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই মতপার্থক্য বৃহত্তর কৌশলগত ঐক্যের ভেতরেই সীমাবদ্ধ। মঙ্গলবার রাতে ‘আমেরিকান ফ্রেন্ডস অফ লিকুদ’ গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ মন্তব্য করেন সার। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ। বৈঠকে সার জানান, গত বছরের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করেনি—যদিও এ বিষয়ে ট্রাম্প ভিন্ন দাবি করে আসছিলেন। ২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে টানা হামলা চালায়। ওই হামলায় দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীসহ শতাধিক মানুষ নিহত হন। সার বলেন, ইসরায়েল নতুন যুদ্ধ শুরু করতে চায়নি। তবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি মাটির গভীরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, যা ভবিষ্যতে সামরিকভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে উঠতে পারত। এ কারণেই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, “আমরা দেখেছিলাম তারা কর্মসূচিটি এমন স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে, যেখানে পৌঁছানো কঠিন। তাই আমাদের সামনে কার্যকর বিকল্প খুব সীমিত ছিল।” তবে এই বক্তব্য ইসরায়েলি ও মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে বলা হয়, ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হামলার জন্য চাপ দিয়েছিল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আবারও ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্প্রসারিত হয়। সার আরও বলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন এই সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য ছিল না। তবে ইসরায়েল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শাসন পরিবর্তনের দিকে যেতে পারে। তিনি স্বীকার করেন, এই ধরনের পরিবর্তন কেবল ইসরায়েলের একার পক্ষে সম্ভব নয় এবং শেষ পর্যন্ত তা নির্ভর করবে ইরানের জনগণের ওপর। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কোনো অংশ ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনাও নাকচ করেন সার। তার মতে, এমন পদক্ষেপ ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। সবশেষে, ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্যের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সার বলেন, “সামগ্রিকভাবে আমাদের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। ফাইল ছবি
ভূমধ্যসাগরে গাজামুখী সহায়তা বহর আটক, ড্রোন ও সশস্ত্র অভিযানের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজামুখী একটি মানবিক সহায়তা বহরকে আটক করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী—এমন অভিযোগ করেছে আয়োজকরা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আয়োজক কর্তৃপক্ষ ও ইসরায়েলি গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে পরিচিত এই বহরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ড্রোন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রযুক্তি এবং সশস্ত্র অভিযানের মাধ্যমে তাদের জাহাজগুলোকে থামিয়ে দেওয়া হয়। এক বিবৃতিতে আয়োজকরা অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি সামরিক স্পিডবোটগুলো বহরটিকে ঘিরে ফেলে এবং অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য করে লেজার ও সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র তাক করা হয়। এ সময় জাহাজে থাকা ব্যক্তিদের সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের ‘অবৈধভাবে’ ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং অপহরণ ও সহিংসতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বহরের মোট ৫৮টি জাহাজের মধ্যে ১১টির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে বহরের অন্তত সাতটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, বহরটি তাদের এলাকায় পৌঁছানোর আগেই থামানো হয়েছে। তিনি অংশগ্রহণকারীদের ‘মনোযোগ আকর্ষণে মরিয়া বিভ্রান্ত উসকানিদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ফ্লোটিলার মুখপাত্র গুর সাবর বলেন, ইসরায়েল থেকে শত শত মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরস্ত্র বেসামরিক জাহাজের ওপর এই অভিযান ‘সরাসরি জলদস্যুতা’। তার দাবি, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এমন পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং সমুদ্রের মাঝখান থেকে কাউকে আটক করা অপহরণের শামিল। তিনি আরও বলেন, বহরটিতে ৪০০-এর বেশি বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। “এ মুহূর্তে নীরব থাকা মানে এই অপরাধের অংশীদার হওয়া,” যোগ করেন তিনি।   ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলের সামরিক নৌযানগুলো অবৈধভাবে ফ্লোটিলাকে ঘিরে ফেলেছে। অপহরণ ও সহিংসতার হুমকি দিয়েছে।’   ওই পোস্টে আরও বলা হয়, ‘১১টি নৌযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যম দাবি করছে, ৭টি নৌযান আটক করা হয়েছে। ফ্লোটিলার সুরক্ষায় বিভিন্ন দেশকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
Amal Khalil was a journalist with the Lebanese newspaper Al-Akhbar
ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট সংঘাতে সাংবাদিক নিহতের সংখ্যা বাড়ছে: কণ্ঠরোধ করছে ইসরায়েল ? সাংবাদিকদের মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ

লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সাংবাদিকরা কি পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাচ্ছেন, নাকি তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন? লেবাননের দৈনিক আল-আখবার-এর প্রতিবেদক খলিল বুধবার এক হামলায় নিহত হন। তিনি তখন ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জেইনাব ফারাজের সঙ্গে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। লেবাননের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে “যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে চলতি বছরে লেবাননে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় অন্তত ২৯৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন—যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে লক্ষ্যবস্তু করা নিয়ে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, একাধিক ঘটনায় সন্দেহ দেখা যাচ্ছে—সাংবাদিকদের কি তাদের পেশাগত পরিচয়ের কারণেই টার্গেট করা হচ্ছে? কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক সারা কুদাহ বলেন, “এই ঘটনার অনেক প্রশ্ন এখনো উত্তরহীন রয়ে গেছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, হামলার পর কেন উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। তার মতে, চিকিৎসা সহায়তা বাধাগ্রস্ত হলে তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। ইসরায়েলের অবস্থান ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের “বৈধ সামরিক লক্ষ্য” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সিপিজে ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব দাবির পক্ষে অনেক সময় পর্যাপ্ত বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয় না। বিতর্কিত উদাহরণ ২০২৫ সালের আগস্টে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে এক হামলায় আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফ নিহত হন। পরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তিনি হামাসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সিপিজে বলছে, তারা যে তথাকথিত প্রমাণ পেয়েছে তা ছিল একটি স্প্রেডশিটে নামের পাশে একটি লোগো—যা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত নয়। একইভাবে, সাংবাদিক আলি শোয়েইবের ক্ষেত্রেও একটি ছবি প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়, যা পরে বিকৃত বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন জাতিসংঘ বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করতে হলে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানান, শুধুমাত্র “সম্পৃক্ততা”র অভিযোগ যথেষ্ট নয়—এটি স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। প্রবেশাধিকার ও আটক গাজায় আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের প্রবেশ দীর্ঘদিন ধরে সীমাবদ্ধ। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সংগঠনগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে গেলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এদিকে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের আটক নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২০০-র বেশি সাংবাদিক আটক হন, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন তখনও হেফাজতে ছিলেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আটক থাকা কিছু সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ বিভিন্ন ঘটনায় তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হলেও সেগুলোর ফলাফল খুব কম ক্ষেত্রেই প্রকাশিত হয়—এমন অভিযোগ তুলেছে সিপিজে। জাতিসংঘ বলছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কার্যকর প্রয়োগ নির্ভর করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর। তথ্যপ্রবাহে প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিক নিহত হওয়া, প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধতা এবং আটক—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে স্বাধীন তথ্যপ্রবাহকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। সংঘাতের বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য যেখানে নিরপেক্ষ তথ্য জরুরি, সেখানে প্রতিটি সাংবাদিকের মৃত্যু একটি সম্ভাব্য তথ্যসূত্র হারিয়ে যাওয়ার সমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা ইরানের
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত : তেলের দাম কমল, বিশ্ববাজারে স্বস্তি-বড় পরিবর্তন

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎই এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে—যুদ্ধবিরতির সময় পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখবে ইরান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, লেবাননকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সময়কাল জুড়ে নির্ধারিত সমন্বিত রুট ব্যবহার করে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথটি বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হয় এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। সাম্প্রতিক ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা দিনের শুরুতে ৯৮ ডলারের বেশি ছিল। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুডের দামেও উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। সংঘাত শুরুর আগে যেখানে তেলের দাম ৭০ ডলারের নিচে ছিল, সেখানে মার্চের শুরুতে তা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং মাসের শেষে ১১৯ ডলারে পৌঁছায়—যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বাজারের উচ্চমাত্রার সংবেদনশীলতাকে স্পষ্ট করে। শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি শেয়ারবাজারেও এই ঘোষণার প্রভাব পড়েছে। ইউরোপের প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে প্যারিসের সিএসি ও ফ্রাঙ্কফুর্টের ডিএএক্স দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে। লন্ডনের এফটিএসই সূচকেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন শুরুর প্রথম কয়েক মিনিটেই ডাও জোনস সূচক ১.৩ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সংঘাতের পটভূমি চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়। ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে জেনেভায় আলোচনা চলাকালেই এই হামলা চালানো হয়। প্রায় ৩৯ দিন ধরে চলা এই সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমঝোতা হয়নি। মানবিক ক্ষয়ক্ষতি ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া হামলায় এ পর্যন্ত ২,০৭৬ জন নিহত এবং ২৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কৌশলগত বার্তা নাকি সাময়িক পদক্ষেপ? বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তাও বহন করে। এর মাধ্যমে ইরান একদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগ্রহী—এমন বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপ কমানোরও চেষ্টা করছে। তবে এই স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সমীকরণের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতি তাই এক ধরনের ‘অস্থায়ী স্থিতিশীলতা’—যেখানে বাজারে স্বস্তি ফিরলেও মাটির নিচে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
লেবাননের খিয়াম ও দিব্বিন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ অব্যাহত
দক্ষিণ লেবাননে গোলাবর্ষণ ও সামরিক তৎপরতার অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে লেবাননে। দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম ও দিব্বিন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওইসব এলাকায় শুধু গোলাবর্ষণই নয়, মেশিনগান থেকেও গুলিবর্ষণ চলছে এবং সামরিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া পশ্চিম বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি নজরদারি বিমান সক্রিয় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রাশায়া অঞ্চল ও জাবাল আল-শাইখের পশ্চিমাংশে এসব ড্রোন ও নজরদারি বিমানের উড়াউড়ি লক্ষ্য করা গেছে। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরপরই এ ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধ
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি,ইসরায়েলের ব্যয় ১১.৫ বিলিয়ন ডলার

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বড় ধরনের ড্রোন ক্ষতির তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নজরদারি ও আক্রমণাত্মক ড্রোন ধ্বংস বা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, সংঘর্ষ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী মোট **২৪টি এমকিউ-৯ রিপার  ড্রোন** হারিয়েছে। এর মধ্যে মাসের শুরুতে ক্ষতির সংখ্যা ছিল ১টি, অর্থাৎ ১ থেকে ৯ এপ্রিলের মধ্যেই অতিরিক্ত আরও **৮টি ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে** বলে উল্লেখ করা হয়। এসব ড্রোন ধ্বংসে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ **৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি** হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, এসব হামলার কেন্দ্রবিন্দু ছিল মূলত ইরানের শিরাজ এবং কিশ দ্বীপের আশপাশের অঞ্চল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS News-এর বরাতে এই তথ্য সামনে আসে বলে দাবি করা হয়েছে।   উচ্চমূল্যের নজরদারি ড্রোন হারানোর অভিযোগ একই সময়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সম্পদ হারানোর আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ব্যবহৃত **MQ-4C Triton** নামের একটি উচ্চমূল্যের নজরদারি ড্রোন নিখোঁজ বা ধ্বংস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় **২৫০ মিলিয়ন ডলার**। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি ইরানি বাহিনী ভূপাতিত করেছে বলে সন্দেহ করা হলেও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়।    উদ্ধার অভিযানেও ক্ষতির দাবি আরও দাবি করা হয়েছে যে, ভূপাতিত একটি **F-15E Strike Eagle** যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটকে উদ্ধারের সময় অতিরিক্ত দুইটি MQ-9 ড্রোনও হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনাও সংঘাতের ঝুঁকি ও অপারেশনাল জটিলতা বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্যে উঠে আসে।  আঞ্চলিক ড্রোন সংঘর্ষে অন্যান্য পক্ষ একই সংঘাতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, মিত্র দেশগুলোর ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ড্রোন—যার মধ্যে ইসরায়েলের হারমিস সিরিজ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইন লং ড্রোন—ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে।    ক্ষেপণাস্ত্র সংকট ও কৌশলগত চাপের ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞদের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই উচ্চ হারে ড্রোন ক্ষতির পেছনে একটি কৌশলগত কারণ থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় তারা তুলনামূলকভাবে কম খরচের ও স্বল্পপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারে বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে ব্যয়বহুল ড্রোনগুলোকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।   ইসরায়েলের যুদ্ধ ব্যয়: বিলিয়ন ডলারের চাপ অন্যদিকে, একই সময়পর্বে **ইসরায়েল রাষ্ট্রের** যুদ্ধ-সংক্রান্ত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় **১১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার**। এই ব্যয় দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে এবং এর পূর্ণাঙ্গ প্রভাব এখনও পুরোপুরি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।   প্রতিরক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় ব্যয় সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মোট ব্যয়ের বড় অংশ গেছে প্রতিরক্ষা খাতে। প্রায় **২২ বিলিয়ন শেকেল** ব্যয় হয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও অন্যান্য নিরাপত্তা খাতে। এই ব্যয় ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের বাজেট কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   ক্ষতিপূরণ ও সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, ব্যবসায়িক ক্ষতি এবং কর্মীদের বেতনহীন ছুটির জন্য প্রায় **১২ বিলিয়ন শেকেল** বরাদ্দ ধরা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল পরিচালনা, জরুরি সেবা এবং সামাজিক খাতে অতিরিক্ত প্রায় **১ বিলিয়ন শেকেল** ব্যয় হচ্ছে।  অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়ে সরকারের বক্তব্য ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে দেশটির অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে আরও বাড়তে পারে—এমন ইঙ্গিতও বিশ্লেষণগুলোতে উঠে এসেছে।  সামগ্রিক চিত্র সব মিলিয়ে, ড্রোন যুদ্ধ, আঞ্চলিক সামরিক সংঘাত এবং বিপুল প্রতিরক্ষা ব্যয় মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একদিকে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের ড্রোন ক্ষয়ক্ষতি, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বাজেটে ক্রমবর্ধমান সামরিক ব্যয়—দুই দিক থেকেই সংঘাতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব গভীর হচ্ছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইসরায়েলের হাইফায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ভবন ধ্বংস

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফাতে ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। আরও দেখুন ফটো গ্যালারি অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্ম স্বাস্থ্য বীমা ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় একটি আবাসিক ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দেশটির জরুরি চিকিৎসা সেবার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। ইসরায়েলের হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ভবন ধ্বংস ফ্রান্সের কাছ থেকে দুঃসংবাদ পেল ইসরায়েল ঘটনার পর এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে ফ্রান্স জানিয়েছে, ইসরায়েলকে তারা কোনো আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহ করছে না। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কোনো অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে না। রোববার প্রেসটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভোত্রাঁ এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে বলেন, “না, ফ্রান্স ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে না। ” তবে তিনি উল্লেখ করেন, ফ্রান্স কিছু উপাদান বিক্রির অনুমতি দিয়েছে, যা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়। যেমন, আয়রন ডোমে ব্যবহারের জন্য প্রজেক্টাইল। সে সঙ্গে কিছু সরঞ্জাম রয়েছে যার একটি অংশ ফরাসি সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনেও ব্যবহৃত হয়। এর কয়েকদিন আগেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসনে অংশ নেবে না ফ্রান্স।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ইসরায়েলি জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা
হরমুজ থেকে হোয়াইট হাউস—এক বিস্তৃত সংঘাতের অদৃশ্য রেখাচিত্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ—হরমুজ প্রণালি—এ ইসরায়েল-সংযুক্ত একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এই ঘটনার পরই আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত বহুগুণে বেড়ে গেছে, যার প্রভাব এখন শুধু সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নেই—পৌঁছে গেছে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার কেন্দ্রেও। হরমুজে হামলা: কৌশলগত বার্তা না সরাসরি যুদ্ধঘোষণা? ইরানের দাবি অনুযায়ী, “জায়নবাদী শাসনের সঙ্গে যুক্ত” একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং ডাটাবেজ অনুযায়ী, “MSC Ishika” নামের জাহাজটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী হলেও এর মালিকানা ইসরায়েলি স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। এই হামলার গুরুত্ব তিনটি কারণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: অবস্থানগত ঝুঁকি: হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবাহিত হয়। এখানে যেকোনো সামরিক ঘটনা বৈশ্বিক বাজারে ধাক্কা দিতে পারে। টার্গেট নির্বাচন: সরাসরি ইসরায়েলি মালিকানাধীন সম্পদকে আঘাত করা মানে প্রক্সি যুদ্ধ থেকে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার ইঙ্গিত। ড্রোন প্রযুক্তি: কম খরচে উচ্চ কার্যকারিতা—ইরানের ড্রোন কৌশল এখন একটি বড় সামরিক সমীকরণ। আকাশে সংঘর্ষ: তথ্যযুদ্ধ নাকি বাস্তব ক্ষয়ক্ষতি? ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা মার্কিন একাধিক যুদ্ধযানে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে F-15 Eagle, A-10 Thunderbolt II, এবং UH-60 Black Hawk। তবে এই দাবিগুলোর স্বতন্ত্র যাচাই এখনো হয়নি। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন: এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হতে পারে অথবা আংশিক সত্যকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হচ্ছে একইসঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিমান দুর্ঘটনার ঘটনাও এই বর্ণনার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ওয়াশিংটনে অস্থিরতা: সামরিক বনাম বেসামরিক ক্ষমতা এই সংঘাতের সবচেয়ে নাটকীয় দিকটি ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎ স্থল অভিযানের নির্দেশ দিলেও, একাধিক জ্যেষ্ঠ জেনারেল তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরিণতিতে: জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসহ ১২ জন শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব মার্কিন ইতিহাসে বিরল সাংবিধানিক সংকট  মূল প্রশ্ন: এই অস্বীকৃতি কি— আইন রক্ষার চেষ্টা? (অবৈধ আদেশ মানতে অস্বীকৃতি) নাকি বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের প্রতি অবাধ্যতা?  সামরিক ক্ষয়ক্ষতি: বাস্তবতা বনাম বর্ণনা বিভিন্ন ঘটনায় মার্কিন সামরিক ক্ষয়ক্ষতির যে চিত্র উঠে এসেছে: একাধিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত (যেমন KC-135 Stratotanker) কুয়েত ও সৌদি আরবের ঘাঁটিতে হামলা E-3 Sentry ধ্বংসের দাবি F-35 Lightning II ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তবে এগুলোর অনেকগুলোরই স্বাধীন যাচাই সীমিত—যা তথ্যযুদ্ধের জটিলতা বাড়াচ্ছে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: বিশ্ব কি নতুন যুদ্ধে প্রবেশ করছে? এই সংকটের প্রভাব বহুমাত্রিক: ১. জ্বালানি বাজার হরমুজে অস্থিরতা মানেই তেলের দাম অস্থির হওয়া ২. আঞ্চলিক জোট ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ব্লক আরও দৃঢ় হচ্ছে ৩. সামরিক নীতির পরিবর্তন ড্রোন, সাইবার ও অসম যুদ্ধ কৌশল প্রধান হয়ে উঠছে ৪. যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সামরিক নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা সংঘাতের দিক কোনদিকে? বর্তমান পরিস্থিতি তিনটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে: নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা – সীমিত হামলা ও পাল্টা হামলা পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ – বহু দেশ জড়িয়ে পড়বে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ – আন্তর্জাতিক চাপের ফলে উত্তেজনা হ্রাস তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই সংকট এখন আর শুধু ইরান-ইসরায়েল বা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে একটি গ্লোবাল নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান,নিহত- ৪০

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :  মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সৌদি আরব ও লেবাননকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক ঘটনাবলীতে। সৌদি আরবের আকাশসীমায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুপুরের দিকে আকাশে চারটি অজ্ঞাত উড়োজাহাজ, কয়েকটি ড্রোন এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। একজন মুখপাত্র জানান, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সবগুলো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে একই সময়ে লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় জল, স্থল ও আকাশপথে সমন্বিত হামলায় ৪০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে স্থলবাহিনী অভিযান চালিয়ে হিজবুল্লাহর কয়েকটি সেল ধ্বংস করেছে। এছাড়া নৌবাহিনীও একটি অস্ত্র গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ইসরাইলের শতাধিক শহরে হামলা
মধ্যপ্রাচ্য-ইউক্রেন সংঘাত: জ্বালানি, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির লড়াইয়ে কে লাভবান—যুক্তরাষ্ট্র নাকি অন্য কেউ?

মাসুদ করিম: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি ধারণা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—যুদ্ধ এখন আর শুধু ভূখণ্ড দখল বা সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি অর্থনীতি, জ্বালানি এবং বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক জটিল প্রতিযোগিতা। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত—এই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পরও ইরানে সরকার পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।  জ্বালানি: যুদ্ধের আসল কেন্দ্রবিন্দু? বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সংঘাতগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি ও বাণিজ্য পথ। বিশেষ করে: হরমুজ প্রণালি কৃষ্ণসাগর অঞ্চল বৈশ্বিক তেল সরবরাহ চেইন বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।  এলএনজি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করার পর  ইউরোপ রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাধ্য হয়। এর ফলে: যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ওঠে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক ইউরোপ স্পট মার্কেটে বেশি দামে গ্যাস কিনতে শুরু করে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি পায় তবে এই লাভের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেন যুদ্ধে বিপুল অর্থ ব্যয়ও করতে হয়েছে।  লাভ বনাম ঝুঁকি: জটিল সমীকরণ যদিও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানিকারকরা লাভবান, তবুও বড় কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে: দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ অর্থনীতিকে দুর্বল করতে পারে জোট রাজনীতিতে চাপ বাড়ে সামরিক ব্যয় বাড়তে থাকে এছাড়া, কাতারের মতো দেশ যদি হরমুজ প্রণালির ঝুঁকির কারণে রপ্তানি কমায়, তাহলে বিশ্ববাজারে এলএনজি দাম আরও বাড়তে পারে—যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্বল্পমেয়াদে সুবিধা আনলেও দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।  বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ: নতুন ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাতগুলো আসলে তিনটি বিষয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণের লড়াই: জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) সমুদ্রপথ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার সহজ হয়।  বাংলাদেশ: চাপের মুখে  অর্থনীতি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন: জ্বালানির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ে ফলে বৈশ্বিক সংঘাতের সরাসরি অংশীদার না হয়েও বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে।  নিরাপত্তা বনাম নির্ভরতা দশকের পর দশক ধরে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু যদি সেই নির্ভরতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তা শুধু সামরিক নয়—একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। শেষ কথা: যুদ্ধের শেষ কোথায়? বর্তমান বাস্তবতায় একটি বিষয় পরিষ্কার— এই যুদ্ধের কোনো সহজ সমাপ্তি নেই। এটি: আঞ্চলিক সংঘাতের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে জ্বালানি বাজারকে পুনর্গঠন করছে নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি করছে অতএব, প্রশ্নটি এখন আর শুধু “কে জিতবে?” নয়— বরং “এই যুদ্ধ থেকে কে কতটা লাভবান হবে, আর তার মূল্য কে দেবে?”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
মার্কিন হামলায় ইরানের ত্রাণ সংগ্রহকারী বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত
মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমানে হামলা, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে দায়ী করল ইরান

ইত্তেহাদ অনলাইন নিউজ ডেস্ক :ইরানের মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ একটি বেসামরিক বিমানে হামলার ঘটনা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ার-এর একটি বিমান নয়াদিল্লিতে মানবিক ত্রাণ সংগ্রহে যাওয়ার আগে হামলার শিকার হয়। তেহরান এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীকে দায়ী করে বলেছে, এটি একটি পরিকল্পিত মানবিক মিশন ব্যাহত করার প্রচেষ্টা। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সরকার জানিয়েছে, বিমানটি ভারতের দিল্লি থেকে প্রায় ১১ টন মানবিক সহায়তা—যার মধ্যে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাদ্য ছিল—আনার কথা ছিল। এই ঘটনার পর পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে হামলায় একাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান ধ্বংস হয়। সে সময় ইসরায়েল দাবি করেছিল, ওই উড়োজাহাজগুলো ইরানের অভিজাত সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর এবং তাদের বিশেষ ইউনিট কুদস ফোর্স গোপনে ব্যবহার করত। তবে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে সেগুলো সাধারণ বেসামরিক বিমান বলেই দাবি করা হয়। সাম্প্রতিক ঘটনায় ইসরায়েল আরও অভিযোগ করেছে, ইরান বাণিজ্যিক ফ্লাইট—বিশেষ করে মাহান এয়ারের মতো সংস্থা—ব্যবহার করে রাশিয়ার কাছে অস্ত্র সরবরাহ করছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত। এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১৮ মার্চ ভারত প্রথমবারের মতো ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর সরকার এটিকে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ইসরাইলি সেনাপ্রধান
ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের হুঁশিয়ারি: একাধিক ফ্রন্টে চাপ বেড়ে সেনাবাহিনী সংকটে

ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির সতর্ক করেছেন যে, একাধিক ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধের চাপ ও চরম জনবল সংকটের কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ভেঙে পড়ার পথে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, গাজা, লেবানন, সিরিয়া এবং পশ্চিম তীরসহ একাধিক সক্রিয় ফ্রন্টে সেনাবাহিনী কাজ করছে, যেখানে দিন দিন সেনাসদস্যের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে জামির বলেন, “সামরিক বাহিনী গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, যার প্রধান কারণ চরম জনবলসংকট।” তিনি আরও বলেন, রিজার্ভ বাহিনী এই চাপ সহ্য করতে পারবে না। জামির হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কট্টর অর্থোডক্স বা ‘হারেদি’ ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ, রিজার্ভ আইন সংশোধন এবং বাধ্যতামূলক চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধিসহ কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের ব্যর্থতা সেনার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বৈঠকে বলেন, “আমি ১০টি লাল পতাকা দেখাচ্ছি।” পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে, যা আগে থেকেই চাপে থাকা সেনাদের ওপর আরও ধকল তৈরি করছে। জামির সতর্ক করে বলেন, এই চাপ অব্যাহত থাকলে সেনাবাহিনী এমনকি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও তাদের মিশনগুলো সম্পন্ন করতে পারবে না। তিনি এটিকে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ধস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক ফ্রন্টে চাপ বেড়ে যাওয়ায় ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি ও রিজার্ভ নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর জ্বালানি বাণিজ্যে বৈশ্বিক সংকট

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলমান এই অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজে সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ—উভয় ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বর্তমানে প্রণালির উভয় পাশে প্রায় দুই হাজার জাহাজ আটকে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ইরানের অবরোধ, হুমকি এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং তেলবাহী জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় পারাপারের পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে এখনো কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছে ইরান। এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে—ভৌগোলিক অবস্থান, অপ্রচলিত সামরিক কৌশল এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ। ভৌগোলিক সুবিধা পারস্য উপসাগরের এই প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২৪ মাইল প্রশস্ত। ফলে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করতে হয়। এই ‘চোকপয়েন্ট’ পরিস্থিতি ইরানকে সহজে নজরদারি ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে বাড়তি সুবিধা দেয়। ইরানের দীর্ঘ উপকূলরেখা ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিও প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণ—উভয় ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অন্যতম বড় শক্তি তার অপ্রচলিত সামরিক কৌশল। ড্রোন, দ্রুতগামী ছোট নৌযান, বিস্ফোরকবোঝাই মানববিহীন নৌযান এবং সমুদ্র মাইন ব্যবহার করে তারা বড় নৌবাহিনীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া সাধারণ জাহাজ থেকেও মাইন পেতে রাখার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, যা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা ইরানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু জাহাজকে নিরাপদে পারাপারের জন্য অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বৈশ্বিক উদ্বেগ হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা দ্রুত সমাধানের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতি আরও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের সেনা সদর দপ্তরে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দক্ষিণ লেবাননে উত্তেজনা বৃদ্ধি

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ নতুন করে ইসরায়েলের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হিজবুল্লাহ-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা তেল আবিবের কিরিয়া এলাকায় অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর এবং তেল আবিবের উত্তরে অবস্থিত একটি সামরিক গোয়েন্দা স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলা স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে চালানো হয়েছে। কিরিয়া অঞ্চলটি ইসরায়েলের সামরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এদিকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দক্ষিণ লেবানন সীমান্তেও পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে তাদের যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। পাল্টা হিসেবে ইসরায়েল জানিয়েছে, ওই সংঘর্ষে তাদের একজন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন হয়ে পরেছে সম্ভাব্য বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0