ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের প্রভাবশালী সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহসেন রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জলদস্যু’ হিসেবে অভিহিত করে হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন বাহিনীর ‘কবরস্থানে’ পরিণত করার হুমকি দিয়েছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই “বিশ্বের একমাত্র জলদস্যু, যাদের বিমানবাহী রণতরী রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এমন যে তারা শত্রু যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত মাসে একটি মার্কিন F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনা, যার ধ্বংসাবশেষ ইসফাহানে পড়েছিল বলে দাবি করা হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, তাদের বাহিনীকে একই ধরনের পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কূটনৈতিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের “সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে এসেছে”। তারা দাবি করেছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ শেষ করতে তেহরান একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান বদলাচ্ছে চীন, রাশিয়া ও ইউরোপ। ১৪ দফা প্রস্তাব: কী রয়েছে? Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যার লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অবসান। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নৌ-অবরোধের অবসান মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার আঞ্চলিক সংঘাত, বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এছাড়া নির্ধারিত সময়ের পর ইরান পুনরায় ৩.৬ শতাংশ হারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে ‘শূন্য-মজুদ নীতি’ অনুসরণের শর্তে। ইরান তার পারমাণবিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জব্দকৃত অর্থ পর্যায়ক্রমে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। আলোচনার অগ্রগতি ও মধ্যস্থতা যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবুও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তা ভঙ্গুর। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। অতীতে ওমান এই আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে। জ্বালানি বাজারে প্রভাব সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। American Automobile Association (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৪.১৮ ডলার, যা একদিনে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথের অস্থিরতা সরাসরি জ্বালানি ব্যয় বাড়াচ্ছে। তেলের দাম নিয়ে মার্কিন প্রত্যাশা মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বর্তমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বাড়লেও পরিস্থিতি শান্ত হলে বছরের শেষের দিকে তা কমে আসতে পারে। তার ভাষায়, “সংঘাতের পরবর্তী পর্যায়ে তেলের দাম অনেক কম হতে যাচ্ছে।”
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎ করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই সামরিক চাপে পড়েছে, নাকি এটি কৌশলগত বিরতি? বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের তথ্য এই বিতর্ককে আরও জোরালো করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে চাপ তৈরি ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ভবিষ্যতে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ালে দেশটি স্বল্পমেয়াদে অস্ত্র সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হামলার হুঙ্কার ছেড়ে শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক রুদ্ধদার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে কি যুদ্ধাস্ত্রে টান পড়েছে বলেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ট্রাম্প? এমন প্রশ্নই উঠছে বিশেষজ্ঞ মহলে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের সঙ্গে প্রায় সাত সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৪৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত থাড সিস্টেমের অন্তত অর্ধেক এবং প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের প্রায় ৫০ শতাংশ খরচ হয়েছে। এছাড়া, পেন্টাগন-এর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের সঙ্গেও এসব তথ্যের মিল পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যুদ্ধের আগে এবং পরে তুলনা করলে দেখা যায়, টমাহক মিসাইলের প্রায় ৩০ শতাংশ, জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইলের ২০ শতাংশের বেশি এবং এসএম-৩ ও এসএম-৬ মিসাইলের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন চুক্তি করলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষক মার্ক ক্যানসিয়ান বলেছেন, অতিরিক্ত গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র থাকলেও, সমমানের প্রতিদ্বন্দ্বী, যেমন চীন-এর মোকাবিলায় বর্তমান মজুত যথেষ্ট নয় বলে বিশ্লেষণে উলেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। তিনি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো অস্ত্রের ঘাটতিতে ভুগছে না, যদিও ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট চেয়েছেন। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী, যে কোনো সময় ও স্থানে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা মার্কিন বাহিনীর হাতে রয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগেই সামরিক নেতারা প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুতের ওপর চাপ ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব অস্ত্র ইসরাইল ও ইউক্রেনকে সহায়তা করতে ব্যবহৃত হয়। সেটিই এখন বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে ট্রাম্প নিজে থেকেই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেকদের মতে, হামলা করে নিজেদের ক্ষমতার ঘাটতি দেখাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না আসায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় বসার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যেই মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্র–জ বিমানঘাঁটিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স টু’ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে শর্তাবলি বা রূপরেখা পাঠানো হয়েছিল, তার বিপরীতে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না আসায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পোস্টে লেখেন, ইরান তাদের প্রস্তাব জমা না দেওয়া পর্যন্ত এবং আলোচনা কোনো একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে না যাওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। যদিও এর আগে তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াবেন না। একই সঙ্গে ইরানে আবারও হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতিতে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন দাবি করার পর তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরান কখনও যুদ্ধবিরতি চায়নি। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও করেনি ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও করেনি ইরান। ট্রাম্পের এই ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর’ ঘোষণার কয়েকটি সম্ভাব্য অর্থ । ১. ট্রাম্প যুদ্ধটি হেরে গেছেন যুদ্ধ চলাকালীন সব ধরনের সম্ভাব্য কৌশল পরীক্ষা করেছেন ও প্রয়োগ করেছেন ট্রাম্প। তবে তিনি বুঝতে পেরেছেন যুদ্ধের মাধ্যমে কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। তাই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসাকেই সবচেয়ে ভালো পথ হিসেবে দেখছেন। এমনকি যদি তিনি ভুল সিদ্ধান্তে যুদ্ধ চালিয়ে যান, তাতেও কোনো লাভ হবে না। ২. প্রতারণার আশ্রয় যদিও যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অর্জন করতে পারেনি। তবুও ট্রাম্প নানা ধরনের কৌশল ও প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা একটি হতে পারে। ট্রাম্প দাবি করতে পারেন যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এরপর যুক্তরাষ্ট্রের একই ‘প্রশাসন’ বা তাদের আঞ্চলিক সহযোগী (ইসরাইল) আবারও ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রম চালাতে পারে। তাসনিমের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা এ ধরনের সম্ভাবনাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তারা এটি হালকাভাবে নিচ্ছেন না। ৩. প্রক্সি যুদ্ধ চালাবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে যাবে, কিন্তু ইসরাইল লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে—যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অজুহাতে। তবে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করা হয়েছে, তারা একতরফাভাবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইসরাইলকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দিতে পারবে না। ৪. নৌ অবরোধ মার্কিন বাহিনীর নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে তা মানেই শত্রুতার অব্যাহত থাকা। অবরোধ যতদিন থাকবে, ইরান অন্তত হরমুজ প্রণালী খুলবে না এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে অবরোধ ভাঙবে। ৫. যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যুদ্ধের ‘ছায়া’ বজায় রাখতে চায় এবং ইরানের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখতে চায়। ওয়াশিংটনের ধারণা, ইরানের পরিস্থিতি ১২ দিনের যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের মতোই আছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির একটি মৌলিক পার্থক্য হলো—হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধের এই ছায়া বজায় রাখতে চায়, তাহলে তাদের বুঝতে হবে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। ইরান ও রাশিয়ার সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার শিথিলতার মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভয়াবহ তেল সংকটের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যেসব দেশ তেল সংকটের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস সাবকমিটির বাজেট শুনানিতে এই ঘোষণা দেন। গত সপ্তাহে তিনি জানিয়েছিলেন যে, মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া নিষেধাজ্ঞার ছাড় আর নবায়ন করা হবে না। তবে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এখন নতুন করে ৩০ দিনের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন তিনি। বেসেন্ট জানান, গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের সময় প্রায় ১০টি দেশের অর্থমন্ত্রী ও আর্থিক নেতারা তাকে এই অনুরোধ জানিয়েছিলেন। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এসব দেশ ভয়াবহ তেল সংকটের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই শিথিলতার ফলে ইরান ১৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে বলে যে হিসাব প্রচলিত রয়েছে, তা নিয়েও কথা বলেছেন ট্রেজারি সেক্রেটারি। বেসেন্ট এই তথ্যকে কল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি এর বিপরীতে ইরান প্রকৃতপক্ষে কত আয় করেছে, সেটির কোনও বিকল্প হিসাব দেননি তিনি।ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ গড়িয়েছে চতুর্থ সপ্তাহে। এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে এখন এক নতুন বিতর্ক দানা বাঁধছে। একদিকে হোয়াইট হাউসের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবি, অন্যদিকে তেহরানের ‘টিকে থাকার’ রণকৌশল। কিন্তু খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরাই এখন প্রশ্ন তুলছেন যে, মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ কি ওয়াশিংটনকে আরেকটি ভিয়েতনাম বা ইরাকের মতো বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে? নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদকীয় বোর্ড এক নিবন্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেছে, যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যা বলা জয়কে আরও কঠিন করে তোলে। ইতিহাসের প্রতিধ্বনি: ভিয়েতনাম ও ইরাকের ছায়া ইতিহাস সাক্ষী, ইরাক ও ভিয়েতনাম যুদ্ধে সত্যকে এড়িয়ে যাওয়ার চরম মূল্য দিতে হয়েছিল মার্কিনিদের। বর্তমান যুদ্ধ শুরুর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টাদের সতর্কতা কানে তোলেননি। উপদেষ্টারা জানিয়েছিলেন, ইরান চাইলে হরমজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে; কিন্তু অতি-আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখন বিশ্ব অর্থনীতি সেই ভুলের মাশুল দিচ্ছে। নিবন্ধে সতর্ক করে বলা হয়েছে, লিন্ডন জনসন বা জর্জ ডব্লিউ বুশের মতো ট্রাম্পকেও হয়তো একদিন যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যার জন্য ব্যক্তিগত মূল্য দিতে হবে। কারণ, যুদ্ধের মতো গুরুতর সিদ্ধান্ত বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া উচিত, বিশেষ করে যখন হাজার হাজার সেনার জীবন এর সঙ্গে জড়িত। মইস্তাম্বুল জাইম ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইসলাম অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-এর পরিচালক সামি আল-আরিয়ান মনে করেন, এই যুদ্ধে দুই পক্ষের লক্ষ্য সম্পূর্ণ বিপরীত এবং এই অসামঞ্জস্যই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার মূল কারণ। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে জায়নবাদী আধিপত্যের পথে বাধা হিসেবে পরিচিত ইরানকে পুরোপুরি নির্মূল করা। কৌশলগত পার্থক্য: ‘ধ্বংস’ বনাম ‘টিকে থাকা’ এর জন্য হয় ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন ঘটাতে হবে, না হয় অঞ্চলজুড়ে তাদের প্রভাব শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। এর বিপরীতে ইরানের লক্ষ্য অত্যন্ত সহজ। আল-আরিয়ান বলেন, “ইরানকে সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করতে হবে না, কিংবা ইসরায়েলের সরকারকে এই মুহূর্তে ক্ষমতাচ্যুত করারও প্রয়োজন নেই। ইরানের শুধু ‘টিকে থাকা’ প্রয়োজন।” যদি ইরানি রাষ্ট্র কাঠামো অক্ষত থাকে এবং তাদের আঞ্চলিক জোটগুলো সক্রিয় থাকে, তবেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অক্ষশক্তির মূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। কৌশলগতভাবে যার লক্ষ্য যত সহজ, জয়ের সম্ভাবনা তার তত বেশি। যুদ্ধের কৌশলেও দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকাশপথের আধিপত্যে বিশ্বাসী। তারা মনে করে, বিধ্বংসী বোমা হামলা এবং শীর্ষ নেতাদের হত্যার মাধ্যমে শত্রুকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যাবে। অন্যদিকে ইরান বেছে নিয়েছে টিকে থাকার জন্য উত্তেজনার বিস্তৃতি। তারা সরাসরি আমেরিকার আকাশশক্তির মোকাবিলা না করে যুদ্ধের ময়দানকে ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ইসরায়েলের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে চাপ সৃষ্টি এবং জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মাধ্যমে তারা এই সংঘাতকে একটি আঞ্চলিক সংকটে রূপান্তর করছে। পেন্টাগন ইরানের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও অঞ্চলের সামগ্রিক কৌশলগত ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা: আকাশ বনাম বিস্তৃতি সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সেথ জি জোনস মনে করেন, এই যুদ্ধ মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। জাপানে বা ফিলিপাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ইরানের মতো অন্যান্য প্রতিপক্ষের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সামি আল-আরিয়ান আরও সতর্ক করে বলেছেন, এক অঞ্চলের সংকট অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগর বা তাইওয়ান প্রণালিতে কোনও ভুল পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের সঙ্গে মিশে গিয়ে বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এই ধরনের সংঘাত সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় না; বরং একপক্ষ যখন বুঝতে পারে যে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করা অসম্ভব, তখনই এর সমাপ্তি ঘটে। আল-আরিয়ান বলেছেন, “ইরান যদি টিকে থাকে, তবেই তাদের জয়। ইসরায়েল হয়তো প্রমাণ করবে যে তারা ধ্বংস করতে পারে, কিন্তু তারা কাউকে আত্মসমর্পণ করাতে পারে না।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্য তথা মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব এতদিন সৌদি আরবের হাতে থাকলেও কখনো কখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিল। তবে সারা বিশ^কে অবাক করে দিয়ে উপসাগরীয় এলাকায় নতুন বস হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান। পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই করে প্রাণ হারিয়েছে ইসলামি দেশটির সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ সামরিক-বেসামরিক শীর্ষ নেতারা। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা দেখিয়েছে ইরান। জ্বালানির গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীতে কর্তৃত্ব ধরে রেখে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে ইসলামিক দেশটি, তেল-গ্যাসের সংকটে ইরানের কাছে নতজানু তাবৎ দুনিয়া। ন্যাটো এবং ইউরোপীয় বন্ধুদেশগুলোর সমর্থন না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র একা হয়ে পড়েছে রণাঙ্গনে, দখলদার ইসরায়েলের প্ররোচনোয় ইরান আক্রমণ করে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব হারিয়ে এখন একেকবার একেক কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা করে পাকিস্তান পক্ষ-প্রতিপক্ষ সব রাষ্ট্রের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ক’টনৈতিক চাপ, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কঠিন প্রতিরোধ আর যুক্তরাষ্ট্রের চাপে লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য হয়েছে গণহত্যায় অভিযুক্ত ইসরায়েল। আর হরমুজ প্রণালীতে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নেতৃত্বে এখন ইরান। ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে কারিগরি আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল সোমবার বা মঙ্গলবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় বসার কথা। সূত্রগুলো বলছে, দুই পক্ষের কারিগরি দল ইসলামাবাদে মিলিত হবে। তাদের লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সপ্তাহব্যাপী চলা সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান চূড়ান্ত করা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তারা একবার চুক্তির খসড়া তৈরি করে ফেললে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধান চুক্তি সই করতে ইসলামাবাদে উড়ে আসবেন। ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের পাশাপাশি আঞ্চলিক আরও কয়েকটি দেশের নেতারাও এই চুক্তি সই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। সূত্রগুলো আরও জানায়, ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠকের পর থেকেই বিবদমান দুই পক্ষ ইসলামাবাদের মাধ্যমে একে অপরের কাছে বার্তা পাঠাচ্ছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই আলোচনার পরবর্তী ধাপ শুরু হওয়ার আগেই তারা একটি ‘সর্বোচ্চ বোঝাপড়ায়’ পৌঁছাতে চাইছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ইরানের হাতে কাগজে-কলমে বিশ্বেরর জ্বালানির ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হওয়ার তথ্য থাকলেও বাস্তবে এই প্রণালীর গুরুত্ব আরো বেশি। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কুয়েত, ইরাক ছাড়াও ইরানের নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানি হয় এই পথ দিয়ে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলো থেকে সার রপ্তানি হয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ইরান থেকে অঘোষিতভাবে জ্বালানি এই পথ ধরে যায় চীনসহ অনেক গন্তব্যে। এই হরমুজ প্রণালী কর্তৃত্ব পুরো ইরানের হাতে। ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের অংশ হিসেবে হরমুজ অবরোধ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজের আশপাশে ১৫টি যুদ্ধ জাহাজ এবং তিনটি বৃহৎ বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। তারপরও ইরানের আধিপত্য ভাঙতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। ইরান তার ইচ্ছামতো একবার হরমুজ খুলছে, একবার বন্ধ করছে। ইরানে মার্কিন হামলার শুরু পরেই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। বিপাকে পড়ে মার্কিন মিত্র সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কুয়েত ও ইরাক। এসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে গিয়ে আটকে পড়ে বহু দেশের জাহাজ ও নাবিকরা। যুদ্ধের সময় এসব নাবিক ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারানোর শঙ্কায় ছিল। এইসব গুলো দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটির হাজার হাজার সেনাও মহাবিপদে পড়ে। অনেক হুমকি দিয়েও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী চালু করতে পারেনি। পরে যুক্তরাষ্ট্রই হরমুজ অবরোধ করে বসে। এর মধ্যেই কিছু জাহাজ এই প্রণালী পার হয়। লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পরপরই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। তারপরও মার্কিন অবরোধ বন্ধ না হওয়ায় পরে শনিবার আবার এই প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয়। বিভিন্ন দেশের জাহাজ ও সেসবে অবস্থানকারী নাবিকরা আবারো বিপদে পড়লো, মধ্যপ্রাচ্যের ৭টি দেশে অবস্থানকারী ৫০ হাজার মার্কিন সেনাও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকটের মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যে গত শনিবার হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে গানবোট থেকে গুলি ছোড়া হয়। একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। দুটি গানবোট থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে, গানবোটগুলো ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে ‘সম্পৃক্ত’। অর্থাৎ হরমুজের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখনো ইরানের হাতে। এই শনিবারই ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আগের অবস্থায়’ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। ইরানের এ ঘোষণায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ এক বিবৃতিতে মার্কিন এ অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ কারণেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এখন থেকে এই কৌশলগত নৌপথটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি হলেও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান। ছোট নৌযান ও দ্রুতগামী বোট ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীকে চাপে রাখছে তেহরান। উপকূলের গোপন কোনো স্থান বা এসব নৌকা থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে আইআরজিসি। এগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে প্রধান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রণালীর কোথাও কোথাও ইরান মাইন পুঁতে রেখেছে বলে খবর দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো। জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম এজেন্সি জানায়, যুদ্ধ চলাকালীন অন্তত ২০টি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছিল। গার্ডস নৌবাহিনী এই হামলাগুলোর দায় খুব কমই স্বীকার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো সম্ভবত স্থলভাগ থেকে ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার থেকে ছোড়া ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয়েছিল, যা শনাক্ত করা কঠিন। বিশ্লেষকেরা বলেছেন, বোটগুলো প্রায়শই এতটাই ছোট যে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায় না এবং এগুলো পাথুরে উপকূল বরাবর খনন করা গভীর গুহার ভেতরের জেটিতে নোঙর করা থাকে। এগুলো মিনিটের মধ্যে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব। তাদের অস্ত্রশস্ত্র উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য একটি বড় হুমকি। ইরান আক্রমণকারী নৌকার জন্য কমপক্ষে ১০টি অত্যন্ত গোপন ও সুরক্ষিত ঘাঁটি নির্মাণ করেছে। শীর্ষ সব নেতাদের হারানোর পরও আজ ইরান এক আত্মবিশ্বাসী দেশ, সব হারানোর প্রস্তুতি নিয়ে দেশটি মার্কিন আধিপত্য ঠেকাতে বদ্ধপরিকর। দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসতেও ইরান এখনো রাজি হয়নি। বিশ্বের পরাক্রমশালী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তারা বলছে, শর্তের পর শর্ত দিয়ে কোনো আলোচনা সফল হবে না, শুধুই সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশি কথা বলেন বলে অভিযোগ করে ইরান জানিয়েছে, অন্তত সাত বার তিনি মিথ্যা বলেছেন। সারা বিশে^র নজর এখন পাকিস্তানের দিকে ইরান সভ্যতা ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েও ৮ এপ্রিল ইরানের ওপর পূর্বঘোষিত বড় ধরনের ‘বোমাবর্ষণ ও হামলা’ অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে রাজি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধে ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত ‘বিধ্বংসী হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য তিনি স্থগিতে রাজি হন। ট্রাম্পের এই নাটকীয় ঘোষণার পেছনে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যস্থতা বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তান সরকারের অনুরোধ এবং ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া ১০ দফার একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অবশ্য যুদ্ধবিরতির তিন দিনের মাথায় ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনও সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। ২১ ঘণ্টা ধরে চলা প্রথম দফার আলোচনায় কোনো সাফল্য না এলেও দুপক্ষের মধ্যে অনেকটা অস্বস্তি কেটেছে। পাকিস্তান প্রবল প্রচেষ্টা চালানোর কারণেই আবারও নতুন বৈঠক হতে যাচ্ছে ইসলামাবাদে। একদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সফর করেন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোতে। আর দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির ছুটে যান ইরানে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারসহ পাকিস্তানের সামরিক- বেসামরিক প্রশাসনের আপ্রাণ চেষ্টার ফলেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরেকটি বৈঠক হতে যাচ্ছে। প্রথম দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা। আলোচনায় ইরানের নেতৃত্ব দেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান আলী আকবর আহমাদিয়ান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদুল নাসের হেমমাতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা। দ্বিতীয় দফা আলোচনার মধ্য দিয়ে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের ব্যবস্থা করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ঝটিকা সফরে যান সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্কে। ইরানে গিয়ে আসিম মুনিরও অনেকটা গুছিয়ে এনেছেন দ্বিতীয় দফার আলোচনা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত ১১ এপ্রিল শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে আসা ইরানি কূটনীতিক দলকে পাকিস্তানি বিমানবাহিনী নিরাপত্তা পাহারা দিয়ে দেশে পৌঁছে দিয়েছিল। সেদিন ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়া মার্কিন কূটনীতিক দল একটি সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন শেষে দ্রুত ইসলামাবাদ ছাড়ে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যর্থ আলোচনার পর ইরানের কূটনীতিকদের আশঙ্কা ছিল, দেশে ফেরার পথে ইসরায়েল তাদের হত্যা করার চেষ্টা করতে পারে। এরপর পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর একটি বড় বহর ইরানি কূটনীতিকদের বহন করা উড়োজাহাজটিকে পাহারা দিয়ে দেশে পৌঁছে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুদের না পেলেও ইরানের পাশে ছিলো চীন-রাশিয়া ইরান গোপনে একটি চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট সংগ্রহ করেছে। এটি সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে শক্তিশালী সক্ষমতা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক অনুসন্ধানে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। ফাঁস হওয়া ইরানি সামরিক নথির বরাত দিয়ে এফটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, টিইই-০১বি নামের এই স্যাটেলাইট ২০২৪ সালের শেষের দিকে চীন থেকে মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স এটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। সময়, স্থানাঙ্ক তালিকা, স্যাটেলাইট চিত্র ও কক্ষপথ বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, ইরানি সামরিক কমান্ডাররা পরবর্তী সময়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর নজরদারি করতে এই স্যাটেলাইট কাজে লাগিয়েছিলেন। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ও পরে ওই সব জায়গার ছবি তোলা হয়েছিল। সিআইএর চীনবিষয়ক সাবেক প্রধান ডেনিস ওয়াইল্ডার বলেন, চীন ঐতিহাসিকভাবেই ইরানকে অস্ত্র ও প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করে আসছে। বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানকে চীনের দেওয়া অন্যান্য সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা, যেমন কাঁধে রেখে চালানো যায়, এমন ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও উদ্বিগ্ন। কাঁধে রেখে চালানো যায়, এমন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সম্প্রতি একটি মার্কিন এফ-১৬ বিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো চীনা কোম্পানি এভাবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারে না। চীন ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে। তবে নিজেদের সম্পৃক্ততা লুকিয়ে রাখতে চাচ্ছে। আবার রাশিয়া নিয়মিতভাবেই ইরানে ড্রোন সরবরাহ করছে বলে খবর রয়েছে, যেমনটা রাশিয়ার ইউক্রেন হামলায় ইরান বিপুল সংখ্যাক শাহেদ ড্রোন পাঠিয়ে গেছে কয়েক বছর। সেই শাহেদ ড্রোনের আরো উন্নত সংস্করণ রাশিয়া এখন ইরানকে দিচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় মিত্ররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, মার্কিন চাপেও যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ইরান যুদ্ধে সামিল হয়নি, যেমনটা তারা যুক্ত হয়েছিল ইরাক ও আফগানিস্তান আক্রমনে। অথচ ইউরোপে মাত্র ছয় সপ্তাহের জেট জ্বালানি মজুত আছে। স্পেন তো সরাসরি ইরানে মার্কিন হামলার বিরোধীতা করেছে। ইতালি ইসরায়েলের সঙ্গে করা সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করেছে। যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলে অস্ত্র পরিবহন করার সময় একটি ফ্লাইট আটকে দিয়েছে বেলজিয়াম। জাপান, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া যুদ্ধ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছে, যারা বহু বছর ধরে মার্কিন সেনা ও অস্ত্রে সুরক্ষিত হয়ে আসছে। যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছিলেন এবং অন্যদিকে দাবি করছিলেন, তেহরান নিজেই বাঁচার জন্য শান্তিচুক্তি ভিক্ষা চাচ্ছে। কিন্তু পর্দার আড়ালের হোয়াইট হাউসই একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের ওপর চাপ দিচ্ছিল, যাতে তারা ইরানকে বুঝিয়ে যুদ্ধ থামানোর ব্যবস্থা করে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়। পাকিস্তান একটি মুসলিম দেশ এবং প্রতিবেশী হওয়ার কারণে ওয়াশিংটন মনে করেছিল, তাদের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠালে ইরান সেটা সহজে মেনে নেবে। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এই গোপন তৎপরতা চালান। যার ফলে ৮ এপ্রিল রাতে দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। আসলে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এ ছাড়া ইরান যেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা-ও তাঁকে অবাক করে দিয়েছিল। ২১ মার্চ থেকেই ট্রাম্প মনে মনে যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া ছিলেন। আরো গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে ইসরায়েল লেবাননে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘আমি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে চমৎকার আলোচনা করেছি। তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিকেল ৫টা (ইস্টার্ন টাইম) থেকে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।’ এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ‘স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা’ প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচেষ্টার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান লেবাননের প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামও; আর ইসরায়েল হামলা বন্ধ করলে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার ঘোষণা দিয়েছেন লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম মুসাবি। লেবাননে নির্বিচার মানুষ হত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল। এখন পর্যন্ত লেবাননের দক্ষিণে নির্বিচার বিমান হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে বহু জনপদ, হাজার হাজার ভবন। ইসরায়েল একাধারে জল-স্থল ও আকাশ থেকে আক্রমন চালিয়ে মেরে ফেলেছে দুই হাজারের বেশি মানুষ। তাদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি নারী ও শিশুরাও। ইসরায়েলের আক্রমণে প্রাণ গেছে লেবানিজ সেনাসদস্য, এমনকি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদেরও। ইন্দোনেশিয়ার শান্তিরক্ষীরা মারা গেছে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের মধ্যে আর গত শনিবার যুদ্ধবিরতি মাঝে ইসরায়েলের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ফ্রান্সের একজন শান্তিরক্ষী। এই ধ্বংসস্তূপ থেকেই প্রতিরোধ চালাচ্ছে ইরানপন্থি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তারা লেবানন দখলকারী সেনাদের ওপর যেমন হামলা চালাচ্ছে, তেমনি রকেট ছুড়ছে ইসরায়েলের ভূখন্ডেও। ট্রাম্প লেবানন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর লেবানিজরা তাদের বাড়ি-ঘরে ফিরতে শুরু করে সেদিনই। ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতেই তারা ফিরছে, কারণ সেটাই তাদের দেশ, জন্মভূমি। এমনকি লেবাননের সেনাবাহিনীর সতর্ক বার্তাও তাদের থামাতে পারেনি। লেবানন দখলকারী ইসরায়েলকে যেমন গুনায় ধরছে লেবানিজরা, তেমনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল- লেবানন যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলকে ডাকা হয়নি। দুটিই ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যে কারণে দেশের ভেতরেই রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। আঞ্চলিক নেতৃত্বের পরিবর্তন? বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি প্রবণতা স্পষ্ট: ইরান সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে সীমাবদ্ধতা অনুভব করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান নতুন কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : ইরানের আকাশে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা মার্কিন বাহিনীর জন্য এক বিরল এবং বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম যুদ্ধের ময়দানে কোনও মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দাবি করছেন যে ইরানের সামরিক শক্তি ‘পুরোপুরি বিধ্বস্ত’ হয়ে গেছে, তখন এই ঘটনা তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতাকেই প্রমাণ করছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শুক্রবার একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এতে থাকা দুজন ক্রু সদস্যের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজনের খোঁজে এখনও তল্লাশি চলছে। এ ছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম দাবি করেছে, তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এ-১০ অ্যাটাক এয়ারক্রাফটও বিধ্বস্ত হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ফোর্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিউস্টন কান্টওয়েল জানান, এর আগে সর্বশেষ ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল। তিনি বলেন, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্র মূলত এমন সব বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে যাদের শক্তিশালী বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা ছিল না। ফলে এত দীর্ঘ সময় কোনও বিমান না হারানোটা ছিল অলৌকিক ঘটনার মতো। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা এখানে প্রতিদিন যুদ্ধের ময়দানে উড়ছি এবং তারা প্রতিদিন আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ সপ্তাহে ইরান যুদ্ধে আমেরিকান বাহিনী ১৩ হাজারের বেশি মিশন পরিচালনা করেছে এবং ১২ হাজার ৩০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। তবে রণক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র বলছে, ইরান এখনও একটি শক্তিশালী ও সংকল্পবদ্ধ প্রতিপক্ষ। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি বরং এটি এখনও সক্রিয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিস-এর পরিচালক বেহনাম বেন তালেবলু বলেন, একটি নিষ্ক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মানেই ধ্বংস হওয়া ব্যবস্থা নয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মার্কিন বিমানগুলো নিচু দিয়ে ওড়ার কারণে সেগুলো ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া সহজ হয়েছে। মার্ক ক্যানসিয়ান নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল জানান, বিমানটি ভূপাতিত করতে সম্ভবত কাঁধে রেখে ছোড়া কোনও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন এবং এটিই প্রমাণ করে যে ইরান দুর্বল হলেও এখনও প্রাণঘাতী। মার্ক ক্যানসিয়ান আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন বিমানের ক্ষতির হার ছিল ৩ শতাংশ, যা এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রায় ৩৫০টি বিমানের সমান। সেই তুলনায় এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হলেও এর একটি রাজনৈতিক দিক রয়েছে। তার মতে, আমেরিকার সাধারণ মানুষ ‘রক্তপাতহীন’ যুদ্ধে অভ্যস্ত। দেশের একটি বড় অংশ এই যুদ্ধ সমর্থন করে না, তাই তাদের কাছে যেকোনও একটি ছোট ক্ষতিও অগ্রহণযোগ্য। পাইলটদের প্রশিক্ষণে শেখানো হয় বিমান থেকে প্যারাসুট নিয়ে লাফিয়ে পড়ার পর কীভাবে নিজেদের অবস্থান উদ্ধারকারীদের জানানো যায়। তবে শত্রু পক্ষ সব সময় সেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার বা ভুল অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করে। শুক্রবারের এই উদ্ধার অভিযানে মূলত হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে, যা অন্য বিমানের তুলনায় ধীরগতির হওয়ায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ১৯৮০ সালে তেহরান থেকে মার্কিন জিম্মি উদ্ধারের ব্যর্থ অভিযানেও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আটজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : ভারত মহাসাগরের উন্মুক্ত জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে নতুন ও উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তারা “অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪” নামে এই হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিল মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ‘আর্লি বার্ক’ শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার। ইরানি সূত্র অনুযায়ী, হামলাটি ছিল দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ফল। যুদ্ধজাহাজটি যখন সমুদ্রে একটি সাপ্লাই জাহাজের সঙ্গে জ্বালানি নেওয়ার সময় স্থির অবস্থায় ছিল, তখনই আঘাত হানা হয়—যে সময়টিকে সামরিক ভাষায় সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দ্বিমুখী ক্ষেপণাস্ত্র কৌশল এই হামলায় ব্যবহৃত হয় দুটি ভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র— ‘গদ-৩৮০’: একটি হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘তালাইয়েহ’: সমুদ্রপৃষ্ঠ ঘেঁষে চলা ক্রুজ মিসাইল বিশ্লেষকদের মতে, এই সমন্বিত হামলা আধুনিক ‘Aegis’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে ফেলে, কারণ এটি একসঙ্গে আকাশ ও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আসা হুমকি মোকাবিলা করতে বাধ্য হয়। ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিক্রিয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ডেস্ট্রয়ারটির পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাপ্লাই জাহাজটিতে থাকা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি থেকে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পেন্টাগন । বিশ্লেষকদের ধারণা, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই কৌশলগত নীরবতা অবলম্বন করে। সংঘাতের বিস্তার এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই ইসরায়েলের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের দিকে ছোড়া বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ইরান অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলের প্ররোচনাতেই যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। অর্থনৈতিক প্রভাব এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী গত প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন অস্থিরতা। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরবরাহেও এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কেন বন্ধ হয়ে গেল হরমুজ প্রণালী? উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-এর সামরিক তৎপরতা, জাহাজে হামলা এবং সরাসরি হুমকির কারণে এই রুটে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে অধিকাংশ শিপিং কোম্পানি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থান ও অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল—বিশেষ করে ড্রোন, সামুদ্রিক মাইন ও দ্রুতগতির নৌযান ব্যবহার করে—এই সংকটকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ভৌগোলিক সুবিধা কীভাবে কাজে লাগাচ্ছে ইরান? হরমুজ প্রণালী সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে মাত্র ২৪ মাইল চওড়া। জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট লেন আরও সংকীর্ণ হওয়ায় এটি একটি “চোকপয়েন্ট” হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকীর্ণতার কারণে জাহাজের পক্ষে পথ পরিবর্তন বা আক্রমণ এড়ানো প্রায় অসম্ভব। ফলে ইরানের জন্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সহজ হয়ে যায়। ইরানের প্রায় ১,০০০ মাইল দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং পাহাড়ি ও দ্বীপঘেরা ভূপ্রকৃতি তাদের মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা গোপন রাখতে সাহায্য করছে। জাহাজগুলোর জন্য কী ধরনের হুমকি? বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলো হলো— সামুদ্রিক মাইন ড্রোন হামলা ছোট দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌযান বিস্ফোরক বোঝাই চালকহীন নৌকা এই পরিস্থিতিকে অনেক বিশ্লেষক “কিল জোন” হিসেবে বর্ণনা করছেন, যেখানে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ড। যুক্তরাষ্ট্র কী করছে? ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পাশাপাশি তেলবাহী জাহাজে নৌবাহিনীর এসকর্ট দেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া USS Tripoli সহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। ইরানের অর্থনৈতিক লাভ বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরান কিছু জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দিয়ে মোটা অঙ্কের ফি আদায় করছে। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতি অন্তত ১৯টি জাহাজে হামলার অভিযোগ প্রায় ২,০০০ জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা সীমিত কিছু জাহাজ এখনো পারাপার করছে বিশ্লেষকদের মতে, সম্পূর্ণ চলাচল পুনরায় শুরু হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। সামনে কী হতে পারে? পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ— উত্তেজনা কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও খাদ্য নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলার পেছনে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্টতার দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৩টি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে। বিশেষ করে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিক ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত, সেখানকার শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থাও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের সদর দপ্তরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে আসছে ইরান। তাদের মতে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এসব দাবি বারবারই অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, ইরানের এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অতিরঞ্জিত। এদিকে সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ও জল্পনা-কল্পনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলার খবর সত্য হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড খ্যাত খারগ দ্বীপের দখল নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে বাধ্য করতে দেশটির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের দখল কিংবা অবরোধ করার পরিকল্পনা বিবেচনাধীন বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। শুক্রবার এই বিষয়ে অবগত অন্তত চারটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ওই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া যুদ্ধ শেষ করতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যতক্ষণ না তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে পারছেন, ততক্ষণ যুদ্ধ শেষ করা সম্ভব নয়। এদিকে, এই সঙ্কটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়। ইরান উপকূল থেকে মাত্র ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ দখল করার যে কোনো অভিযান মার্কিন সেনাদের সরাসরি বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে। মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও কমিয়ে আনতে পারলে কেবল এই ধরনের অভিযান শুরু করা হতে পারে। খারগ দ্বীপ দখল কিংবা অবরোধের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে বলছে, ‘‘ইরানিদের আরও দুর্বল করতে আমাদের প্রায় এক মাস ধরে হামলা চালাতে হবে। এরপর দ্বীপটি দখল করে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে। যা আলোচনার টেবিলে আমাদের সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।’’ এই পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে আরও সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হবে। ইতোমধ্যে নৌবাহিনীর তিনটি ইউনিট ওই অঞ্চলের পথে রয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেছেন, হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন খুব শিগগিরই আরও অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, ‘‘তিনি (ট্রাম্প) হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত দেখতে চান। যদি এটি নিশ্চিত করতে খারগ দ্বীপ দখল করতে হয়, তাহলে তা-ই করা হবে। যদি তিনি উপকূলীয় আগ্রাসনের সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটিও হবে। তবে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’’ মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর টম কটন বলেছেন, স্থল অভিযানের সম্ভাবনা নাকচ না করে ট্রাম্প ‘বিচক্ষণতার’ পরিচয় দিয়েছেন। তবে তিনি নিজে এই অভিযানের পক্ষে কি না, তা স্পষ্ট করেননি। খারগ দ্বীপ ইরানের তেল শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি দখল করলেই যে তেহরান ট্রাম্পের শর্তে শান্তি চুক্তিতে রাজি হবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘‘এই ধরনের মিশন মার্কিন সৈন্যদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।’’ তিনি বলেন, ‘‘যদি আমরা খারগ দ্বীপ দখলও করি, তারা অন্য প্রান্ত থেকে তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। এমন নয় যে আমরা তাদের তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করি।’’ মন্টগোমারি বলেন, আরও দুই সপ্তাহ হামলা চালিয়ে ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত তাদের ডেস্ট্রয়ার ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে; যার ফলে স্থল অভিযানের প্রয়োজন পড়বে না। চলতি মার্চের শেষের দিকে চীন সফরের আগেই এই যুদ্ধ শেষ করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু হরমুজ প্রণালির এই সঙ্কট তাকে সফর পিছিয়ে দিতে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধের সময়সীমা দীর্ঘায়িত করতে বাধ্য করেছে। গত শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী খারগ দ্বীপের কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘‘ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দিতেই ওই হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে এটি ছিল দ্বীপটিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে স্থল অভিযানের ভিত্তিপ্রস্তুত করার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।’’ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আমরা যেকোনও সময় ওই দ্বীপটি দখল করতে পারি। আমি একে একটি ছোট দ্বীপ বলি; যা একদমই অরক্ষিত। আমরা পাইপলাইনগুলো বাদে বাকি সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছি। পাইপলাইনগুলো রেখেছি। কারণ সেগুলো পুনর্নির্মাণ করতে তাদের কয়েক বছর সময় লেগে যেত।’’ স্থল সেনা মোতায়েন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছেন না। তবে রহস্য রেখে তিনি বলেন, ‘‘যদি পাঠাতামও তাহলে আমি নিশ্চিতভাবেই আপনাদের বলতাম না।’’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ৫০০ সদস্যের একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে। এছাড়া সমপরিমাণ সদস্যের আরও দুটি ইউনিট ওই অঞ্চলের দিকে রওনা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সূত্র সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মেরিন সেনাদের খারগ দ্বীপ ছাড়াও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। প্রয়োজন হলে ওই অঞ্চলের দূতাবাসগুলো থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজও করতে পারেন মেরিন সেনারা।
ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের কালচারাল সেন্টারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনির স্মরণে শোকবই খোলা হয়েছে। এ বিষয়টি সোমবার (২ মার্চ) ইরান দূতাবাসের কালচারাল সেন্টার একটি বার্তায় জানিয়েছে। শোকবইয়ে শোকবার্তা লিখে স্বাক্ষর করার জন্য সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শোকবইতে অংশ নিতে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।শুক্রবার ও শনিবার এটি বন্ধ থাকবে। শোকবই খোলার ঠিকানা: বাড়ি নম্বর ৭, রোড নম্বর ১১ (পুরাতন ৩২), ধানমন্ডি, ঢাকা-১২0৯। 🕊️ কেন শোকবই খুলা হলো? ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু হয়েছে, এমন খবর আসে । এটা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সূত্রেও নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরান স্থায়ীভাবে প্রায় ৩৬ বছর রাজনীতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং দেশটির রাজনীতি, সামরিক ও নীতিনির্ধারণে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ছিল তার হাতে। হামলাটি ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে তেহরানে পরিচালিত হয় এবং এতে খামেনির সাথে-সাথে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা নিহত হন। 🌍 আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া ৪০ দিনের শোক পালন ঘোষণা করেছে এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় সমবেদনা সভা ও শোক র্যালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগে এলোমেলো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিছু দেশে খামেনির মৃত্যুতে সমর্থন ও উদযাপন চলছে, আবার কিছু জায়গায় এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে নিন্দা জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার পরিস্থিতি এখন খুবই উত্তেজনাপূর্ণ, এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ সমন্বয়ের আহ্বানও করা হচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।