বরিশাল অফিস : ঝালকাঠি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগে আলোচিত হয়ে উঠেছেন ফখরুল মজিদ কিরণ—যিনি কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু-এর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে গত দেড় দশকে তিনি ঝালকাঠি-নলছিটি অঞ্চলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। ক্ষমতার ছায়ায় ‘অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ’ স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আমুর ভায়রা পরিচয়ে কিরণ কার্যত প্রশাসন, রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর অনানুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার বণ্টন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, দলীয় কমিটি গঠন এমনকি নির্বাচনী মনোনয়ন—সব ক্ষেত্রেই তার ‘কমিশন নির্ভর’ প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের ভাষ্য অনুযায়ী, আমুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও কিরণের অনুমতি প্রয়োজন হতো, যা তাকে “বেনামি মন্ত্রী” হিসেবে পরিচিতি দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রভাব খাটিয়ে তিনি অবৈধভাবে অন্তত ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে নরসিংদীতে তার বিপুল সম্পদের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের ওপর প্রভাব ও রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বিগত সরকারের শেষ সময়ে কিরণের প্রভাব এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, অনেকেই তাকে নলছিটির “অঘোষিত এমপি” হিসেবে উল্লেখ করেন। স্থানীয় প্রশাসন তার নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে বাধ্য হতো—এমন অভিযোগও রয়েছে। একইসঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, পুলিশি হয়রানি ও এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে কিরণ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সহিংসতা ও নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ঝালকাঠি শহরে বিএনপির এক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই বছর পর, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দায়ের হওয়া একটি মামলায় কিরণকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়। মামলায় মোট ৯৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে আমুর দুই এপিএসও রয়েছেন। এছাড়া ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান হোসেন খান অভিযোগ করেন, আমু ও তার এপিএস কিরণ প্রকাশ্যে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে চাপ প্রয়োগ করেছেন। পারিবারিক প্রভাব ও রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক কিরণের পারিবারিক পটভূমিও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। তার বড় ভাই নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন সাবেক শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। আরেক ভাই খায়রুল মজিদ মাহমুদ চন্দন ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পলাতক অবস্থান ও প্রশাসনের ভূমিকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও আমুর গ্রেপ্তারের পর থেকেই কিরণ পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই—কেউ বলছেন তিনি দেশ ছেড়েছেন, আবার কেউ দাবি করছেন তিনি ঢাকাতেই আত্মগোপনে আছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে, তবে দীর্ঘ সময়েও তাকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. শাহাদাত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মামলা ও এফআইআর থাকার পরও কেন অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।” তদন্তের অগ্রগতি ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিরণের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফখরুল মজিদ কিরণের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো শুধু ব্যক্তিগত দুর্নীতির নয়, বরং একটি বৃহত্তর ক্ষমতার কাঠামোর অপব্যবহারের প্রতিফলন—যেখানে রাজনৈতিক ছত্রছায়া, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং জবাবদিহিতার অভাব মিলিত হয়ে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। এখন দেখার বিষয়, চলমান তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এই অভিযোগগুলোর কতটা সত্য উদঘাটন করতে পারে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সক্ষম হয় কিনা।
দিবস তালুকদার,ইত্তেহাদ নিউজ,ঝালকাঠি : ঝালকাঠির বাসন্ডা এলাকার আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদের উন্নয়ন বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি, বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ছিল স্বচ্ছতার ঘাটতি। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু ২০১২ সালে তার মা-বাবার নামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুরু থেকেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে থাকা এই কলেজটির নামে ঝালকাঠি জেলা পরিষদ থেকে বারবার উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে রয়েছে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। বরাদ্দ সংক্রান্ত নরিপত্রে একাধিকবার কলেজটির নাম পরিবর্তন করে কখনো "আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজ", কখনো আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন কলেজ” আবার কখনো "আকলিমা মোয়াজ্জেম বিশ্ববিদ্যালয়” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঝালকাঠি জেলা পরিষদ সুত্রে জানা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কলেজটির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে এডিবির বিশেষ বরাদ্দ থেকে মসজিদ উন্নয়নের নামে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। অথচ এখানে কেন মসজিদ নির্মানই হয়নি। এছাড়া বাকি প্রায় ৬২ লাখ টাকা বালু ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল,সাইকেল স্ট্যান্ড ও শহীদ মিনার নির্মানের নামে ব্যয় দেখানো হয়েছে। ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গেইট ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একই প্রকল্পকে “সীমানা প্রাচীর” উল্লেখ করে আবারো অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে “ঝালকাঠি আকলিমা মোয়াজ্জেম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ” নামে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সময়ে শহীদ মিনার নির্মাণে ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও অডিটে সেটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পরে ২০২২ সালে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। এছাড়া মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের শেড নির্মাণে ৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানে একটি সাধারণ খোলা কক্ষ তৈরি করা হয়েছে, যার টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে সরকারি ত্রাণের ঢেউটিন দিয়ে। ২০২০-২১ অর্থবছরেও মাঠ ভরাট ও ডোবা ভরাটের নামে পুনরায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই সময়ে “আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন জামে মসজিদ” উন্নয়নের নামে আরও ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও জেলার কোথাও ওই নামে কোনো মসজিদের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের তৎকালীন এক কর্মকর্তা। জেলা পরিষদের একাধিক নথি স্টোররুম থেকে গায়েব হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, যা পুরো বিষয়টিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা মনে করছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিকে খুশি রাখতেই তৎকালীন প্রশাসক, প্রকৌশলী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে এ ধরনের অনিয়ম হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চতর প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এমনটি করা হয়েছে। বাসন্ডায় আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজকে ঘিরে উন্নয়ন বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি—বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব ছিল। সূত্রে জানায়, কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সংস্কার কাজ ও বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির জন্য জেলা পরিষদ থেকে কয়েক দফায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে কাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছু কাজ কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ—শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের কথা বলা হলেও এখনো নানা মৌলিক সমস্যায় ভুগছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বরাদ্দে অনিয়ম হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজ এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজ বর্তমানে বাসন্ডা কলেজ নামে পরিচিত হতে যাচ্ছে । ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলায় অবস্থিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । ২০১২ সালে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় অবস্থিত। কলেজটি সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য নিচে দেওয়া হলো: অবস্থান: বরিশাল-পিরোজপুর মহাসড়ক, বাসন্ডা, ঝালকাঠি সদর, ঝালকাঠি । স্থাপিত: ২০১২ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় । প্রতিষ্ঠান কোড (EIIN): ১৩৬৫৫৫ । শিক্ষাস্তর: এখানে এইচএসসি এবং ডিগ্রি (পাস) কোর্স চালু রয়েছে । নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য: আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজটি সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, কলেজটির নাম পরিবর্তন করে 'বাসন্ডা কলেজ' করার একটি প্রক্রিয়া চলছে। কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।