Brand logo light

আন্তর্জাতিক খবর

সেন্টমার্টিন দ্বীপের কাছাকাছি বাংলাদেশের আকাশসীমায় ড্রোন উড়তে দেখা
সেন্টমার্টিনের আকাশে ড্রোন: মিয়ানমার সীমান্তে নতুন উদ্বেগ, নজরদারির আশঙ্কা

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের আকাশে অজ্ঞাত ড্রোন উড়তে দেখা যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দ্বীপের জেটি সংলগ্ন পূর্ব আকাশে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে লাল-সবুজ রঙের দুটি ড্রোন উড়তে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি জানাজানি হলে আশপাশের মানুষজন জড়ো হন এবং পরে বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, তিনি নিজেও ড্রোন দুটি দেখতে পেয়েছেন এবং ধারণা করছেন সেগুলো মিয়ানমারের দিক থেকে আসতে পারে। তার মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নজরদারির অংশ হিসেবেও ড্রোনগুলো ব্যবহৃত হতে পারে। দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ আজিম জানান, রাতে আকাশে ড্রোন উড়তে দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, এগুলো সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, এ ধরনের ড্রোন কার্যক্রম দেশের আকাশসীমা ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন দ্বীপের বাসিন্দারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান,নিহত- ৪০

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :  মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সৌদি আরব ও লেবাননকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক ঘটনাবলীতে। সৌদি আরবের আকাশসীমায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুপুরের দিকে আকাশে চারটি অজ্ঞাত উড়োজাহাজ, কয়েকটি ড্রোন এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। একজন মুখপাত্র জানান, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সবগুলো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে একই সময়ে লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় জল, স্থল ও আকাশপথে সমন্বিত হামলায় ৪০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে স্থলবাহিনী অভিযান চালিয়ে হিজবুল্লাহর কয়েকটি সেল ধ্বংস করেছে। এছাড়া নৌবাহিনীও একটি অস্ত্র গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
মার্কিন সামরিক জাহাজ
ওমান উপকূলে মার্কিন সামরিক জাহাজে ইরানের হামলা

ওমান উপকূলের কাছে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তাকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। আইআরজিসির খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওমান-এর সালালাহ বন্দরের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত একটি মার্কিন সামরিক সহায়তাকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মার্কিন পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ ওমানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং এ হামলা কোনোভাবেই ওমানের বিরুদ্ধে নয়। বরং এটি নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো, এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
গ্রিস উপকূল
গ্রিস উপকূলে নৌকায় ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, জীবিত উদ্ধার ২১ বাংলাদেশি

উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় আবারও বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গ্রিসের উপকূলে একটি রাবারের নৌকায় ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড। শনিবার (২৮ মার্চ) জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। গ্রিক কোস্টগার্ড জানায়, ইউরোপীয় সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা ফ্রনটেক্সের একটি জাহাজ শুক্রবার গভীর রাতে Crete দ্বীপের কাছে অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন নারী ও একজন নাবালক রয়েছে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ জানায়, বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। আহত দুইজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার বন্দর শহর তোবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এই রুটটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত। যাত্রাপথে নৌকাটি দিক হারিয়ে ফেলে এবং যাত্রীরা খাবার ও পানীয় ছাড়াই টানা ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে থাকেন। এতে চরম ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও অনাহারে একে একে ২২ জনের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বরাতে কোস্টগার্ড জানায়, মৃতদের মরদেহ একজন পাচারকারীর নির্দেশে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গ্রিক কর্তৃপক্ষ দুইজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। তাদের বয়স ১৯ ও ২২ বছর। তাদের মানবপাচারকারী সন্দেহে আটক করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ ও অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত চলছে। কোস্টগার্ডের এক মুখপাত্র জানান, যাত্রাপথে নৌকাটি প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। এদিকে, আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৫৫৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর আগে, গত ডিসেম্বরে ক্রিটের  দক্ষিণ-পশ্চিমে ডুবে যাওয়া একটি নৌকা থেকে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন মাত্র দুইজনকে জীবিত পাওয়া যায় এবং আরও ১৫ জন নিখোঁজ থাকেন, যাদের মৃত বলে ধারণা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ, দারিদ্র্য এবং উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা অব্যাহত থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ইসরাইলি জাহাজ ও জ্বালানি ট্যাংকে ইরানের হামলা
ইসরাইলে জাহাজ ও জ্বালানি ট্যাংকে ইরানের হামলা

ইরানে মার্কিন ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসনের ২৭তম দিন চলছে। একইসঙ্গে ইরান তার সামর্থ্যানুযায়ৗ পাল্টা হামলা করে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আজকের এই দিনে ইসরাইলে বিভিন্নস্থানে জাহাজ ও জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ করে হামলা চালিয়ে ইরান। খবর আলজাজিরার। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক জাহাজ এবং হাইফা বন্দরে থাকা যুদ্ধবিমানের জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম যুলফাকারি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর রহমতে সব ধরনের আগ্রাসন ও অশুভ শক্তির উৎসকে শক্তভাবে লক্ষ্যবস্তু করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ তবে এ হামলার বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।                                                        বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা
ইরান ও লেবাননে যুদ্ধ : ৪০ লাখ বাস্তুচ্যুত, ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়

ইরান ও লেবাননে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার ফলে নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দুই দেশে মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মানবিক সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে দেশটির প্রায় ৩২ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। একই সময়ে লেবাননে ইসরাইলি স্থল অভিযানের মুখে আরও প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।  ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি গত ২৭ দিনের যুদ্ধে ইরানে অন্তত ১,৫০০ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে— ৮৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ২৮২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত ৬০০টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৬৫ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত রাজধানী তেহরানেই অন্তত ১৪ হাজার আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ দেশের ভেতরেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছে। যদিও পাকিস্তান, তুরস্ক ও আজারবাইজান সীমান্ত এখনো পুরোপুরি অস্থিতিশীল হয়নি, তবে দেশত্যাগী মানুষের চাপ দ্রুত বাড়ছে।  কোম ও উরমিয়ায় নতুন হামলা বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে ইরানের কোম শহরের পারদিসান এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। তিনটি আবাসিক ভবন পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া উরমিয়া শহরে হামলায় আরও কয়েকটি বেসামরিক ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একই রাতে তেহরান, ইসফাহান, কাশান, ইয়াজদ, কোম, তাবরিজ ও আহভাজসহ একাধিক শহরে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।  লেবাননে নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর স্থল অভিযান পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। লিটানি নদী থেকে জাহরানি নদী পর্যন্ত এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ফলে দেশটির প্রায় ১৪ শতাংশ ভূখণ্ড এখন জনশূন্য। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের তথ্যমতে— প্রতি ৫ জনে ১ জন এখন বাস্তুচ্যুত আশ্রয়ের অভাবে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে গত দুই সপ্তাহে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ লেবানন ছেড়ে সিরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে, যাদের অর্ধেকই শিশু।  সেতু ধ্বংস, বিচ্ছিন্ন দক্ষিণ লেবানন যুদ্ধ কৌশলের অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। কাসমিয়েহ, আল-কানতারা ও খর্দালিসহ একাধিক সেতুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি দক্ষিণাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরির পরিকল্পনা। তিনি সতর্ক করে বলেন, এতে সাধারণ মানুষের পালানোর পথ সংকুচিত হচ্ছে এবং ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ফিলিপাইনে ‘জরুরি অবস্থা’
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে ফিলিপাইনে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে থাকলেও এর সবচেয়ে তীব্র প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে। জ্বালানি সংকট চরমে পৌঁছানোয় দেশটিতে ‘ন্যাশনাল এনার্জি ইমার্জেন্সি’ বা জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক নির্বাহী আদেশে এই ঘোষণা দেন তিনি। এতে বলা হয়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইন তাদের মোট জ্বালানির প্রায় ৯৮ শতাংশ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আমদানি করে থাকে। কিন্তু চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দেশটিতে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে সরকার বিশেষ ক্ষমতা অর্জন করেছে। এর আওতায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি জ্বালানি আমদানি, মজুত বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা সম্ভব হবে। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফিলিপাইনের জ্বালানি মন্ত্রী শ্যারন গেরিন জানিয়েছেন, বর্তমান ব্যবহারের হারে দেশটির হাতে মাত্র ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু ফিলিপাইন নয়, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ইসরাইলে মিসাইল হামলা
ইসরাইলে ইরানের ভয়াবহ মিসাইল হামলা: শতাধিক আহত, অবস্থা গুরুতর : বন্ধ স্কুল, জরুরি নির্দেশনা জারি

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান থেকে ছোড়া শক্তিশালী মিসাইল হামলায় ইসরাইল-এর বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দিমোনা ও আরদ এলাকায় এই হামলার প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। শুধু আরদ শহরেই আহত হয়েছেন অন্তত ৮৪ জন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের বরাতে জানা যায়, একটি ক্লাস্টার মিসাইল রিশন লেজিওন শহরের তিনটি স্থানে আঘাত হানে। শহরটি বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শনিবার মধ্যরাতে এই হামলা সংঘটিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তীব্র গতিতে ছুটে এসে মিসাইলটি বিস্ফোরিত হচ্ছে, যার ফলে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পরপরই দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। দেশটির সেনাবাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ড নতুন নির্দেশনায় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি মানুষ একত্রিত হতে পারবেন না। একই সঙ্গে যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নিকটস্থ বোমা শেল্টার সক্রিয় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় রোববার ও সোমবার দেশের সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাস্টার মিসাইল অত্যন্ত বিপজ্জনক। সাধারণত একটি ক্লাস্টার মিসাইলে প্রায় ২০টি ছোট বোমা থাকে, যার প্রতিটির ওজন প্রায় আড়াই কেজি। বিস্ফোরণের পর এসব বোমা বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষে বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে ৩ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষে বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে ৩ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে ইসরাইলের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। বুধবার ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, গত কয়েক দিনের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজগুলোর মালিকানা বা কোন এয়ারলাইনের তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের প্রধান বিমানবন্দর বেনগুরিয়নে থাকা তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজে আগুন ধরে যায়। ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বুধবার জানায়, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলি প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানায়, গত কয়েক দিনের মধ্যে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজগুলোর মালিকানার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে আকাশপথে দেশটির প্রধান এই প্রবেশদ্বারে সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ইসরাইলি উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে কিছু ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দরটি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরাইলের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রায় অর্ধেকই ছিল ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমা। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট অনেক বোমা বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, একটি বিমানে ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আগুন ধরে গেছে এবং অন্যগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করে বলেন, “ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
সংযুক্ত আরব আমিরাত
স্বপ্নপুরী সংযুক্ত আরব আমিরাত: মরুভূমি থেকে আধুনিকতার বিস্ময়

তেলের অফুরান সম্পদ, আভিজাত্যপূর্ণ নগরজীবন এবং আধুনিক স্থাপত্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাত। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি আজ উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও পর্যটনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। মরুভূমির বুকে গড়ে ওঠা এই দেশটি গত কয়েক দশকে অভূতপূর্ব উন্নয়নের নজির স্থাপন করেছে। গগনচুম্বী অট্টালিকা, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শহর পরিকল্পনা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিশ্বে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। সাত আমিরাতের ফেডারেশন সংযুক্ত আরব আমিরাত মূলত সাতটি স্বাধীন আমিরাত নিয়ে গঠিত একটি ফেডারেশন। এগুলো হলো আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ, আজমান, উম্ম আল ক্বাইওয়াইন, রাস আল খাইমাহ এবং ফুজাইরাহ। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর ছয়টি আমিরাত একত্র হয়ে ফেডারেশন গঠন করে। পরে ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাস আল খাইমাহ এতে যোগ দেয়। দেশটির রাজধানী আবুধাবি এবং সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় শহর দুবাই। রাজধানী আবুধাবির প্রাধান্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৃহত্তম আমিরাত হলো আবুধাবি। দেশের মোট আয়তনের প্রায় ৮৭ শতাংশই এই আমিরাতের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে সবচেয়ে ছোট আমিরাত হলো আজমান, যার আয়তন প্রায় ২৫৯ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যায় এগিয়ে দুবাই যদিও আয়তনের দিক থেকে আবুধাবি সবচেয়ে বড়, তবে জনসংখ্যা ও পর্যটনের দিক থেকে দুবাই অনেক এগিয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটক ও কর্মজীবীরা এখানে বসবাস করেন। ফলে দুবাইকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম আন্তর্জাতিক শহর বলা হয়। ভিনদেশিদের আধিক্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনসংখ্যার বড় অংশই বিদেশি নাগরিক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ ভারতীয়, প্রায় ১২ শতাংশ পাকিস্তানি এবং প্রায় ৭ শতাংশ বাংলাদেশি নাগরিক। স্থানীয় আমিরাতিদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার তুলনায় অনেক কম। বিলাসবহুল পুলিশের গাড়ি দুবাই পুলিশের বহরে রয়েছে বিশ্বের কিছু বিলাসবহুল ও দ্রুতগতির গাড়ি। এর মধ্যে ল্যাম্বরগিনি, বেন্টলি এবং ফেরারির মতো সুপারকার রয়েছে, যা পুলিশের টহল কার্যক্রমেও ব্যবহৃত হয়। গোল্ড এটিএম দুবাইয়ের অন্যতম বিস্ময়কর প্রযুক্তি হলো গোল্ড এটিএম। এই মেশিনে টাকা প্রবেশ করালে সোনা, স্বর্ণালংকার বা সোনার ঘড়ির মতো মূল্যবান পণ্য পাওয়া যায়। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন দুবাইয়ে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফা। এই ভবনের উচ্চ তলায় বসবাসকারীদের রমজান মাসে ইফতার করতে নিচের তলার বাসিন্দাদের তুলনায় দুই থেকে তিন মিনিট বেশি অপেক্ষা করতে হয়, কারণ তারা সূর্যাস্ত কিছুটা পরে দেখতে পান। পরিবেশবান্ধব মাসদার শহর আবুধাবিতে গড়ে উঠেছে মাসদার সিটি নামে একটি পরিবেশবান্ধব শহর। এটি মূলত সৌরশক্তি ও বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এখানে ব্যক্তিগত জ্বালানিচালিত গাড়ি নিষিদ্ধ এবং পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয় বৈদ্যুতিক যানবাহন। বুর্জ খলিফার নামকরণ বুর্জ খলিফা নির্মাণের সময় এর নাম ছিল বুর্জ দুবাই। পরে আবুধাবির আর্থিক সহায়তার স্বীকৃতিস্বরূপ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের নামে ভবনটির নাম পরিবর্তন করা হয়। বিশ্বের বৃহত্তম ইনডোর পার্ক আবুধাবিতে অবস্থিত ফেরারি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইনডোর থিম পার্ক হিসেবে পরিচিত। এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। নির্মাণে ব্যস্ত দুবাই দুবাইকে প্রায়ই “নির্মীয়মাণ শহর” বলা হয়। বিশ্বের কর্মরত ক্রেনের প্রায় ২৫ শতাংশই একসময় দুবাইয়ে ব্যবহৃত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এটি দেশটির দ্রুত উন্নয়ন ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রতীক।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
৩ মার্কিন সেনা নিহত
মার্কিন সেনাদের উপর প্রতিশোধমূলক আঘাত, ৩ মার্কিন সেনা নিহত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার নতুন এক বিপর্যয় ঘটেছে। সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা যাচ্ছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু। খামেনির মৃত্যু ইরানের জন্য এক গুরুতর আঘাত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অপরদিকে, ইরানের প্রতিশোধমূলক আঘাতে অন্তত তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া, পাঁচজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। রোববার (১ মার্চ) পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা ‘যুদ্ধে নিহত’ হয়েছে এবং পাঁচজন ‘গুরুতর আহত’ হয়েছে। তবে এই হামলায় আরও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনা মার্কিন সেনাদের মধ্যে প্রথম কোনও হতাহতের খবর, যা ইরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যার পর ঘটে। এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে, যার ফলস্বরূপ দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু হয়। ইরানের তরফ থেকে এ ঘটনার পর মার্কিন সেনাদের উপর প্রতিশোধমূলক আঘাত দেওয়া হয়, যার ফলে তিন সেনা নিহত এবং পাঁচ সেনা গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে আবারও তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী ও ইরান সরকারের মধ্যে এ ধরনের উত্তেজনা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বরাজনীতিতে এই পরিস্থিতি কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে, এই পরিস্থিতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
জলবায়ু পরিবর্তন
জলবায়ু পরিবর্তনে প্রতি মিনিটে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ২.৫ লাখ ডলার

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি প্রতি মিনিটে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি। নতুন এক জরিপে বলা হয়েছে, জলবায়ু সংকট এখন আর ভবিষ্যতের সমস্যা নয়। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। খবর এনডিটিভির। এফআইসিসিআই-ইওয়াই রিস্ক সার্ভে ২০২৬ অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বছরে জলবায়ুজনিত ক্ষতির পরিমাণ ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ঝড়, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও পরিবেশের অবনতিই এই ক্ষতির প্রধান কারণ। প্রতিবেদন বলছে, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এরইমধ্যেই সরবরাহ ব্যবস্থা, খাদ্য উৎপাদন ও শ্রম উৎপাদনশীলতাকে ব্যাহত করছে। ২০০০ সালের পর থেকে ধারাবাহিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষতি ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন সরাসরি অর্থনীতি, ব্যবসা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে প্রভাবিত করছে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0