ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন দিয়েছেন রেলওয়ের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী। গত ৫ এপ্রিল জমা দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে আফজাল হোসেনকে “দুর্নীতির সিন্ডিকেটের প্রধান”, “ঘুষখোর” এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের “পোষ্যপুত্র” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প এবং খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আফজাল হোসেন ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম করেছেন। একই সঙ্গে রেলওয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগ পেতেও তিনি ঘুষ দিয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। রমজান আলী অভিযোগ করেন, “রেলওয়েকে একটি দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে”, যেখানে ঠিকাদার, আমলা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করেছে। পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পে ‘সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম’ অভিযোগপত্রে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে। সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর দাবি, প্রকল্পের মূল চুক্তিপত্রের বিভিন্ন কাজ বাতিল করে সম্পূরক চুক্তির মাধ্যমে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়। এতে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেললাইনের এমব্যাংকমেন্ট নির্মাণে নির্ধারিত পাথরের পরিবর্তে কম খরচের ইটের খোয়া ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, এতে ঠিকাদারদের শত শত কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয় এবং বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়া হয়। রমজান আলীর দাবি, এই প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তিও রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঠিকাদারদের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং এর একটি অংশ অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়েছে, যেখানে আফজাল হোসেনের সন্তানরা বসবাস করেন। খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ খুলনা-মোংলা পোর্ট রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ গ্রহণের বিনিময়ে নিম্নমানের কাজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রূপসা সেতু প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমেও অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ‘১০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে ডিজি পদ’ রমজান আলীর অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, রেলওয়ের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেতে আফজাল হোসেন প্রায় ১০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অন্য কর্মকর্তারা এগিয়ে থাকলেও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আফজাল হোসেন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পেয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, “দুদকের ছাড়পত্র ছাড়াই” তাকে মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা সরকারি বিধিবিধানের পরিপন্থী। ‘দুর্নীতির সিন্ডিকেট’ পরিচালনার অভিযোগ অভিযোগপত্রে রেলওয়ের অভ্যন্তরে একটি প্রভাবশালী দুর্নীতির চক্রের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। রমজান আলীর ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, টেন্ডার ও সরবরাহ কাজ নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের দেওয়া হতো এবং বিনিময়ে কমিশন আদায় করা হতো। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাছ থেকে চুক্তিমূল্যের ১০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও নিম্নমানের কাজ করে পুরো বিল তুলে নেওয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় বদলের অভিযোগ অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আফজাল হোসেন সরকার পরিবর্তনের পর দ্রুত রাজনৈতিক অবস্থান বদলে বিএনপিপন্থী পরিচয়ে সক্রিয় হন। রমজান আলীর অভিযোগ, “ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অবস্থান বদলে প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন” আফজাল হোসেন। তদন্ত ও সম্পদ জব্দের দাবি দুদকের কাছে দেওয়া আবেদনে আফজাল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের অনুসন্ধান, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়ে অভিযোগকারী বলেন, “রেলওয়েকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।” এই অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে বা আফজাল হোসেনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগপত্রে উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও প্রমাণ উপস্থাপনই চূড়ান্তভাবে বিষয়টির সত্যতা নির্ধারণ করবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভুয়া রপ্তানি আদেশ, অতিমূল্যায়িত এলসি ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগে নতুন আর্থিক কেলেঙ্কারি। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আবারও সামনে এসেছে ভয়াবহ এক অর্থপাচারের অভিযোগ। ভুয়া ও অতিমূল্যায়িত রপ্তানি আদেশ দেখিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখা থেকে প্রায় ১০ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অন্তত ২৯টি প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলে প্রায় ৯৬ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার বিদেশে সরিয়ে নেয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শুধু ব্যাংকিং অনিয়ম নয়; বরং পরিকল্পিত আর্থিক জালিয়াতি, যেখানে ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত মিলেছে। কীভাবে ঘটেছে অর্থপাচার বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি একটি প্রচলিত ব্যাংকিং সুবিধা। সাধারণত রপ্তানি আদেশের বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির জন্য এই সুবিধা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, বহু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেই সীমা ভয়াবহভাবে অতিক্রম করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকৃত রপ্তানির তুলনায় ১০০ থেকে ৩৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি মূল্যের এলসি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব এলসির বড় অংশই ছিল ভুয়া, অতিমূল্যায়িত অথবা প্রকৃত ব্যবসার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশেষভাবে উঠে এসেছে। টোটাল ফ্যাশন মাত্র ৬ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও তাদের নামে খোলা হয় ২৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের এলসি। অ্যাভান্টি কালার টেক্স প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রপ্তানির বিপরীতে নেয় ১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের এলসি সুবিধা। ডোয়াস-ল্যান্ড অ্যাপারেলস ৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের রপ্তানির বিপরীতে ২০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের এলসি খোলে। আহোনা নিট কম্পোজিট ও এইচকে অ্যাপারেলসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও অন্তত ২৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই ধরনের অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমদানিকৃত কাঁচামাল কোথায় গেল? তদন্তের সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশ হচ্ছে—এলসির বিপরীতে আমদানি করা কাঁচামালের ব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল রপ্তানি পণ্য তৈরিতে ব্যবহারের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, বন্ড সুবিধায় আনা পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা পাচারই নয়, ডিউটি ড্র-ব্যাক ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহার করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকিও দেওয়া হয়েছে। “অনেক ব্যবসায়ী জানতেনই না” ঘটনায় আলোচিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দাবি করেছেন, অনেক ব্যবসায়ী জানতেনই না যে তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে এলসি খোলা হয়েছে। তার অভিযোগ, ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা রপ্তানি আয়ের অর্থ আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেছেন। এই বক্তব্য তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ এতে প্রশ্ন উঠেছে—শুধু ব্যবসায়ী নয়, ব্যাংকের ভেতরেও কি ছিল সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র? তদন্তে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে এলসি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে, পুরো সময়জুড়ে নারায়ণগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ শহীদ হাসান মল্লিক। ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী দীর্ঘ সময় একই শাখায় দায়িত্ব পালনের বিধিনিষেধ থাকলেও তিনি টানা প্রায় ১০ বছর ওই শাখায় ছিলেন। এছাড়া আরও ২৪ কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে একই শাখায় কর্মরত ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এত বড় অঙ্কের অনিয়ম এককভাবে সম্ভব নয়; বরং এতে ব্যাংকের একাধিক স্তরের কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছিল। তদন্ত শেষ, কিন্তু ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালেই তদন্ত শেষ করলেও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে চলতি বছরের মার্চ মাসে এসে প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার অনুমোদিত ডিলার (এডি) লাইসেন্স বাতিল করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের প্রভাব এবং বিভিন্ন চাপের কারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। সেই সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে সাবেক সংসদ সদস্য এইচবিএম ইকবাল যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ মূলত ইকবাল পরিবারের হাতেই ছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেন। শুধু লাইসেন্স বাতিলেই কি যথেষ্ট? বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব মনে করেন, এই ধরনের জালিয়াতির মূল উদ্দেশ্য সাধারণত নগদ প্রণোদনা ও ভর্তুকির সুবিধা নেওয়া। তার মতে, কেবল একটি শাখার লাইসেন্স বাতিল করে দায় এড়ানো যাবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা এবং সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত ও সম্পদ অনুসন্ধান জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট আরও গভীর হতে পারে।
▪️বেতন ভাতা বকেয়ার কারনে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্ম বিরতি। ▪️সিওও শাহেদ উদ্দিনকে ধাওয়া ও অবরুদ্ধ, মুচলেকা, অবশেষে উদ্ধার করলো প্রশাসন। ▪️ব্যাগ ফ্যাক্টরী বন্ধ, * সিমেন্টের অগ্রীম বিল দেয়া ডিলার, রিটেইলার, করপোরেট ক্রেতারা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে..... ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কীর্তনখোলার কোল ঘেষে ২০০২ সালে নির্মিত হয়েছিল খানসন্স গ্রুপের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী।পাঁচটি ব্রান্ডের সিমেন্ট তৈরী হতো এখানে। দিন রাত মেশিনের শব্দে জাগ্রত ছিল শতভাগ সফল হওয়া এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরী। তিন মাসের বেতন বকেয়া, উৎপাদন কার্যত বন্ধ বর্তমানে বেতন ও ঈদুল ফিতরের বেতন বোনাসসহ তিন মাসের বেতন বকেয়া। অথচ ঈদুল আজহা আসন্ন। অতিরিক্ত কাজের সম্মানীও বকেয়ারফলে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরীতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্ম বিরতির কারনে ফ্যাক্টরীর স্বাভাবিক কর্ম বন্ধ। যার কারনে সিমেন্ট উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ‘৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার উধাও’: ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি: এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরীতে স্টক রেজিষ্টারে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার জমা থাকলেও বাস্তবে কোথাও নেই এই ক্লিংকারের হিসেব।এ্যাংকর সিমেন্ট লিমিটেডের ভ্যাট কর্মকর্তা মোস্তফা জানান,ক্লিংকার যা ছিল তা দিয়ে সিমেন্ট তৈরী করা হয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্ট এর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার দিয়ে প্রায় ২৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৭ ব্যাগ সিমেন্ট তৈরী করে ডুপ্লিকেট মুসক চালানের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে শুধু ক্লিংকার থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা এছাড়া লাইমস্টোন, জিপসাম, স্লাগ ও ফ্লাই এ্যাশ থেকে আরো ২০ কোটি টাকাসহ মোট ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে বরিশালের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সুপারিনটেনডেন্ট সাজ্জাদুল আলম বলেন,আমরা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। সুত্র জানিয়েছে, ভ্যাট বিভাগে মাসে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা হচ্ছে ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য। যে কারনে বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী : অর্থপাচারের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান এ্যাংকর সিমেন্ট বানানোর উপাদান ক্লিংকার, লাইমস্টোন, স্লাগ,জিপসাম আমদানীর নামে ব্যাংকে এলসি ভ্যালু বাড়িয়ে আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করে দুবাইতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান,ও ডুপ্লেক্স বাড়ি, যুক্তরাজ্যে ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্লাট, আমেরিকায় বাড়ি ক্রয় করেছেন। দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, কিভাবে দুবাই, আমেরিকা ও লন্ডনে দোকান বাড়ি ও ফ্লাট ক্রয় করেছেন তার হিসেব জানতে চাওয়া হয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ গেল। কত টাকা বৈধ ভাবে এবং কত টাকা অবৈধভাপে পাচার করা হয়েছে তার অনসন্ধান করে দুদক প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে তারা অবৈধ ভাবে টাকা পাচার করেছে।ফলে দুদক ইতিমধ্যে নোটিশ প্রদান করেছে। লুটপাট ও অর্থপাচারের কারনের ফলে অর্থাভাবের কারনে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ ও সিমেন্ট তৈরীর প্রধান উপাদানগুলো ক্রয়ে ব্যর্থ হওয়ার কারন ও ব্যাংকের ঋন ও পাওনাদারদের দেনা পরিশোধে ব্যর্থতার কারনে বর্তমানে ব্যাগ ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ রয়েছে বর্তমানে। যে কারনে কর্মবিরতী: শ্রমিক বিক্ষোভে অবরুদ্ধ সিওও সিওও শাহেদ উদ্দিনকে ধাওয়া ও অবরুদ্ধ,মুচলেকা, অবশেষে উদ্ধার করলো প্রশাসন----- পহেলা মে এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ মে দিবসে শ্রমিকদের সম্মানে বলেছিল "মহান মে দিবস, শ্রমিকদের প্রতি অটুট থাকুক শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা " অথচ এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের শ্রমিকদের প্রতি নেই কেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। মে মাসেও তাদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে ১০ মে বিকেলে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে সিওও শাহেদ উদ্দিনকে ধাওয়া দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি দৌড়ে ফ্যাক্টরীর ভিতরে থাকা অফিসে আশ্রয় নেন। শ্রমিকরা অফিস গেটে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।পরে পুলিশ গিয়ে পরিবেশ শান্ত করেন। এসময় কর্তৃপক্ষের পক্ষে শাহেদ উদ্দিন বেতন ভাতা আগামী ২০ মে এর মধ্যে পরিশোধ করার মুচলেকা প্রদান করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ব্যাপারে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম বলেন,আমরা বেতন-ভাতা আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে। তিনি মুচলেকার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বেতন -ভাতা না দেয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতী অব্যাহত থাকবে। অলিম্পিক ফাইবার লি. এর ব্যাগ ফ্যাক্টরী বন্ধ: অনিশ্চয়তায় শ্রমিকেরা অলিম্পিক ফাইবার লি. এর ব্যাগ ফ্যাক্টরী বন্ধ রয়েছে এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ থেকে।ব্যাগ ফ্যাক্টরী সম্পর্কে কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম বলেন, ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছিল। পুনরায় ২০ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন ব্যাগ ফ্যাক্টরী বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীও।গতকাল ১০/১২ বছর ধরে কাজ করা অসহায় মহিলা কর্মচারীরা কান্নায় ভেড্গে পরেন তাদের পাওনা দাওনার কি হবে? অগ্রীম বিল দেয়া ডিলার, রিটেইলার, করপোরেট ক্রেতারা ক্ষুব্ধ:পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সিএমও ইমাম ফারুকী এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও ব্যাগ ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকার ফলে সিমেন্ট উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ফলে বিপাকে পড়েছেন সিমেন্টের অগ্রীম বিল দেয়া ডিলার,রিটেইলার,করপোরেট ক্রেতারা। তারা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। এদিকে ডিলার,রিটেইলার,করপোরেট ক্রেতাদের সিমেন্ট দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সিএমও ইমাম ফারুকী। এ ব্যাপারে ইমাম ফারুকীকে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ইয়াসমিন নিলা কমিশনের টাকা বাগিয়ে নেয়ার স্বেচ্চাচারিতায় সকল ডিলার ও রিটেইলারদের বঞ্চিত করে তার ভাই রাসেলকে এককভাবে সিমেন্ট সরবরাহের কারনে অন্যরা বঞ্চিত সিমেন্ট পাওয়া থেকে।ফলে ডিলার, রিটেইলার,করপোরেট ক্রেতারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।ফলশ্রুতিতে ডিলার, রিটেইলাররা অন্য সিমেন্ট কোম্পানীর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে।মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট থেকে। ফলে এ্যাংকর সিমেন্টের মার্কেটে বিশাল ধ্বস নেমেছে। মান নিয়েও প্রশ্ন এ্যাংকর সিমেন্ট প্রতিষ্ঠার পরে সিমেন্টের সর্বোচ্চ মান, সঠিক ওজন, সাশ্রয়ী মূল্য, দ্রুত পরিবহন, বিক্রোয়ত্তর সেবা সবকিছু নিয়ে ক্রেতার আস্থা অর্জন করলেও এখন আস্থা সম্পুর্ন বিপরীতমুখী। এ্যাংকর সিমেন্ট কমানো হয়েছে প্রধান উপাদান ক্লিংকার।একই ভাবে কম দেয়া হচ্ছে লাইমস্টোন,স্লাগ,জিপসাম।ফ্লাই এ্যাশের পরিমান বাড়ানোর ফলে কমে গেছে এ্যাংকর সিমেন্টের গুনগতমান। আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন। ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড। ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?। ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে.....
বরিশাল অফিস : বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমানের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, মানি লন্ডারিং,বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন,ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে দুবাইতে ব্যবসা,আমেরিকা ও লন্ডনে দোকান,ফ্লাট,বাড়ি ডুপ্লেক্স বাড়ি বানানোর অভিযোগ রয়েছে। তানভির আহমেদ নামে এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগে জানাগেছে, সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যানকে দুর্নীতি দমন কমিশন নোটিশ প্রদান করেছেন সম্পদ বিবরনীর তথ্য চেয়ে। বিদেশে অর্থ পাচারকারী অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃদ্বে সরকারি ১১ সংস্থার নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছিল। বিদেশে অর্থ পাচারকারী শিল্পগ্রুপের মধ্যে খান সন্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের নাম সর্বাগ্রে চলে আসে। অর্থ পাচারকারীদের মধ্যে জুলিয়া রহমানের নামও বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছিলেন,শুধু ব্যাংক খাত থেকে গত ১৫ বছরে ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার; অর্থাৎ ২ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। ধনকুবেররা এ পাচারকাণ্ডে জড়িত। এছাড়া দেশের অর্থনীতির ওপর শ্বেতপত্র তৈরির জন্য গঠিত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৫ বছরে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ২৮ লাখ কোটি টাকা। এই অর্থ পাচারকারীদের মধ্যে রয়েছেন অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমানের নামও। ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আনা ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সভাপতি করে গঠিত টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব হলেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একজন প্রতিনিধি। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, কাস্টম গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, এনবিআর-এর সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেলের (সিআইসি) একজন করে প্রতিনিধি টাস্কফোর্সের সদস্য হিসাবে কাজ করছেন। টাস্কফোর্সের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ বা সম্পদ চিহ্নিত করা ও তদন্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সহযোগিতা দেওয়া, পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে দায়ের করা মামলাগুলোর কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা ও তা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ, বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আনার উদ্যোগ গ্রহণ, জব্দ বা উদ্ধারকৃত সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ, বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ এবং পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় করা। টাস্কফোর্স প্রয়োজনে কোনো সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে এবং কোনো দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধি বা বিশেষজ্ঞকে সভায় উপস্থিত হওয়াসহ বিশেষজ্ঞ মতামত/পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ করতে পারবে। অর্থ পাচারকারী হিসাবে বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট চিহ্নিত জানা যায়, সন্দেহভাজন মোটা অঙ্কের অর্থ পাচারকারী হিসাবে টাস্কফোর্স সদস্যরা প্রাথমিকভাবে ১০/১২টি শিল্প গ্রুপ ও একক ব্যক্তি হিসাবে সাবেক একজন সাবেক মন্ত্রীকে চিহ্নিত করেছে। তালিকার আছে ব্যাংকখেকো হিসাবে আলোচিত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার কেন্দ্রের ছায়ায় থাকা এস আলম গ্রুপ, এস আলমের আশীর্বাদপুষ্ট রাজশাহীর নাবিল গ্রুপ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপ, ব্যাংক মালিকদের সংগঠনের নেতা নজরুল ইসলাম মজুমদারের নাসা গ্রুপ, প্রয়াত কাজী সাহেদের জেমকন গ্রুপ, শিকদার গ্রুপ, বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে বড় লোপাটকারী সামিট গ্রুপ,বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এবং ওরিয়ন গ্রুপ। জুলিয়া রহমানকে দুদকের নোটিশ প্রদান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যানকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে সম্পদ বিবরনীর তথ্য চেয়ে।নোটিশে দেশ ও বিদেশে স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি নগদ অর্থসহ সহায় সম্পদের হিসেব দিতে বলেছে।এছাড়া নিজের, সন্তান ও নির্ভরশীলদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব, আয়কর রিটার্ন, ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে। অবৈধ সম্পদ,অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ পাওয়ায় দুদক থেকে পাঠানো এক নোটিশে সম্পদের হিসাব দাখিল করতে বলা হয়। অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিং এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জন দুদকের সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, দুদকের অনুসন্ধানে অঢেল সম্পদ অর্জন,হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিং এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়ায় এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে অনুসন্ধানে নামে দুদক। সম্পদের নোটিশে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান করে কমিশনের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত স্বনামে/বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ/সম্পত্তির মালিক হয়েছেন । এছাড়া বিদেশে অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে জুলিয়া রহমানের বিরুদ্ধে। তাই নোটিশে জুলিয়া রহমান,তার তিন সন্তান, নিজের, নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান বারমুডা থেকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ দিয়ে তার মেয়েসহ নাগরিত্ব গ্রহন করেছেন।। বিদেশে যেভাবে অর্থ পাচার : বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ও তার সন্তান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমেন্ট বানানোর উপাদান ক্লিংকার,লাইমস্টোন,স্লাগ,জিপসাম আমদানীর নামে ব্যাংকে এলসি ভ্যালু বাড়িয়ে আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করে দুবাইতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান,যুক্তরাজ্যে ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্লাট,আমেরিকায় বাড়ি ক্রয় করেছেন। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে দোকান ,বাড়ি ও ফ্লাট ক্রয় দুদকের এক কর্মকর্তা জানান,কিভাবে দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে দোকান ,বাড়ি ও ফ্লাট ক্রয় করেছেন তার হিসেব জানতে চাওয়া হয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ গেল। কত টাকা বৈধ ভাবে এবং কত টাকা অবৈধভাপে পাচার করা হয়েছে তার অনসন্ধান করে দুদক প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে তারা অবৈধ ভাবে টাকা পাচার করেছে। অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের কর্পোরেট অফিসের এক কর্মকর্তা জানান,দুদকের জাল থেকে বের হওয়াটা সহজ হবেনা।তিনি আশ্চর্য হয়ে বলেন একটি চলমান লাভজনক প্রতিষ্ঠান কিভাবে ধুকে ধুকে বন্ধের পথে যাচ্ছে তা ভাবা মাত্র শরীর শিউরে উঠে। ব্যাংক লোন দিতে নাজেহাল অবস্থা অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড ও অলিম্পিক ফাইবার লিমিটেডের কাছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রায় ৬ শত কোটির বেশী টাকা পাওনা রয়েছে। এ ছাড়া এ দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক,ন্যাশনাল ব্যাংক,উত্তরা ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকের পাওনা রয়েছে আরো শত কোটি টাকা। অলিম্পিক ফাইবার এক মাস যাবৎ বন্ধ ব্যাংকগুলোতে ঋনের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। ইতিমধ্যে অলিম্পিক ফাইবার লিমিটেড প্রায় এক মাস যাবৎ বন্ধ রয়েছে। যেকোন মুহুর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। এছাড়া কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়া রয়েছে ঈদুল ফিতরের বোনাসসহ দু মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। সূত্রের দাবি, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আয়কর ও ট্যাক্স ফাঁকির পাশাপাশি অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত মামলার কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগও (সিআইডি) তাদের বিষয়ে তদন্ত করছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব:টিআইবি টাকা পাচার প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যবহার করে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালীরা ব্যাংক খাত ও বাণিজ্যের আড়ালে প্রতিবছর ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। যে দেশে অর্থ পাচার করা হয়েছে, সেই দেশের সঙ্গে আইনি চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বৈঠক করেছে সরকার। দুই বছরের মধ্যে যদি কোনো টাকা ফেরত আসে, তাহলে সেটাও বড় অর্জন হবে।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত একটি দৃষ্টান্ত আছে। ২০০৭ সালে পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেয় দুদক। পারস্পরিক আইনি সহায়তার মাধ্যমে ২০১৩ সালে সিঙ্গাপুর থেকে ৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ৯৩০ কোটি ডলার ফেরত আনা সম্ভব হয়েছিল। এ ব্যাপারে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান,পিএস নিলুফা ইসলাম, পিএস জুয়েল ইসলামের সাথে যোগাযোগের জন্য কল দেয়া হলেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি কল রিসিভ না করার কারনে। দুর্নীতি ও অর্থ-আত্মসাতে আরো যারা জড়িত এদিকে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। এদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হবে শিঘ্রই। চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে......
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একজন প্রকল্প পরিচালকের সম্পদের বহর ও ব্যাংক হিসাবের লেনদেন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা। তার ৯৪টি ব্যাংক হিসাবে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১২৮ কোটি টাকা। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার। আলোচিত ওই কর্মকর্তার নাম মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কক্সবাজার জোন অফিসের মাতারবাড়ী আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফ্রেন্ড পাওয়ার প্রজেক্টের (আরএইচডি) প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও সওজ প্রধান কার্যালয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ) হিসেবে কর্মরত। দুদুক এরই মধ্যে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে এবং বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শিগগির কমিশনে তার বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলার সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। আয় ও সম্পদের হিসাব প্রাপ্ত নথি থেকে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম তার আয়কর নথিতে দেখিয়েছেন ৪ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার ৭৪৩ টাকার সম্পদ। এর মধ্যে দুদকের অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ৩ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১৯২ টাকা। অনুসন্ধানকালে দুদক জাহাঙ্গীর আলমের ২৯ কোটি ২৫ লাখ ১৮৪ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ থাকার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। ব্যাংক লেনদেনের বিস্তৃতি জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলমের বৈধ আয়ের খাত অনুযায়ী সম্পদ বিবরণীতে দেখা যায়, তার অতীত সঞ্চয় ৪১ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৪ টাকা। বেতন থেকে আয় ৮২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৭৯ টাকা। ব্যাংক সুদ থেকে আয় ১ কোটি ৩০ লাখ ২৯ হাজার ৩৩ টাকা। করমুক্ত আয় ৩৮ লাখ ৪০ হাজার ৪৭৫ টাকা। রেমিট্যান্স থেকে আয় ২ লাখ ৭১ হাজার ৫২১ টাকা। মূলধনি আয় ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬০ টাকা। দায়-দেনা ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তার বৈধ মোট সম্পদ ৩ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১৯২ টাকা। ৩১ কোটি ৪৯ লাখ ৬৬ হাজার ১০৯ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন দুদক সূত্রে জানা গেছে, মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাহাঙ্গীর আলম মোট ৪৯ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩১ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৩১ কোটি ৪৯ লাখ ৬৬ হাজার ১০৯ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। এ সময় তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া যায় ৬৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৩৭ টাকা। এই ব্যয়সহ তার নিট সম্পদের পরিমাণ ৩২ কোটি ১৮ লাখ ২১ হাজার ৬৪৬ টাকা। অন্যদিকে, তার নামে প্রাপ্ত গ্রহণযোগ্য বৈধ উৎসের পরিমাণ ৩ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১৯২ টাকা। তিনি ২৯ কোটি ৭ লাখ ১১ হাজার ৪৫৪ টাকা তার আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। এই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগ-দখলে রেখে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৯৪টি হিসাবে ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ ১৩ হাজার ২২৬ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। যার পক্ষে বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। তিনি এই অবৈধ অর্থ বারবার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রদান ও উত্তোলনের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করে লেয়ারিং করেছেন। অর্থের উৎস গোপন করার মাধ্যমে বৈধ করার ছদ্মাবরণে এ অর্থের হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থের অবস্থান গোপনপূর্বক ছদ্মাবরণে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২), (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। সন্দেহজনক লেনদেন ও এফডিআর দুদক কর্মকর্তারা জানান, জাহাঙ্গীর আলম অসাধু উপায়ে ২৯ কোটি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৯৪টি হিসাবে মোট ৭৮ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩০৩ টাকা জমা ও ৪৮ কোটি ৪৭ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৩ টাকা তুলে নিয়েছেন। তার হিসাবে সর্বমোট ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ ১৩ হাজার ২২৬ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। ২০১২ সালের ৪ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ১৪ মে পর্যন্ত সময়ে তিনি এসব লেনদেন করেছেন। ব্র্যাক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সে এসব হিসাব খোলা ও লেনদেন করা হয়েছে। এসব টাকা দফায় দফায় বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রদান ও উত্তোলনের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। অর্থ লেনদেনের লেয়ারিং ঘটিয়ে অর্থের উৎস গোপন করার মাধ্যমে বৈধ করার অপচেষ্টা করেন। এসব অর্থের হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থের অবস্থান গোপনপূর্বক ছদ্মাবরণে তা বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে তিনি দুদক আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। ৭৭টি এফডিআরসহ মোট ৮২ আমানত , লেনদেন হয়েছে ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে বিএফআইইউর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী তার ব্যাংক বিবরণীতে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে প্রকল্প পরিচালক হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তার নামে বেতন-ভাতা বাবদ জমা হয়েছে ৯৮ লাখ টাকা। অথচ তার নামে ৭৭টি এফডিআরসহ মোট ৮২ আমানত হিসাবে (৫টি সঞ্চয়ী ও ৭৭টি স্থায়ী আমানত) লেনদেন হয়েছে ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লেনদেন জানা গেছে, ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর ব্র্যাক ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন জাহাঙ্গীর আলম। বিভিন্ন সময় এ হিসাবে ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা জমা হওয়ার পর সব টাকাই তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় আরেকটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর। এই হিসাবে বিভিন্ন সময় ১২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা জমা করার পর তা তুলে নেন। ২০২১, ২০২৩, ২০২৪ সালে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গুলশান করপোরেট শাখায় ১৮টি এফডিআর এবং একটি সঞ্চয়ী হিসাব খুলে জমা করেন ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সমপরিমাণ টাকা এসব হিসাবে জমা আছে। ২০১২ সালে জাহাঙ্গীর আলম আরেকটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রগতি সরণি শাখায়। এই হিসাবে ৩৮ কোটি টাকা জমা করা হয়। তুলে নেওয়া হয়েছে ৩৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ১১টি এফডিআর এবং ডিপিএস হিসাব খুলে ৮ কোটি ৮ লাখ টাকা জমা করা হয়। সমপরিমাণ টাকা জমা আছে। ২০২৪ সালের জুন-জুলাইয়ে আইডিএলসি ফিন্যান্স পিএলসি উত্তরা শাখায় ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ১৭টি এফডিআর করেন তিনি। এসব টাকার স্থিতি আছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ১৩ কোটি ৮ লাখ টাকার ৩১টি এফডিআর করেছেন ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স পিএলসি গুলশান শাখা এবং প্রিন্সিপাল শাখায়। এগুলো এখনো স্থিতি আছে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের রাজশাহী, গোপালগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও এবং ঢাকার বারিধারা শাখায় খোলা হিসাবে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা জমা করে তা তুলে নেন জাহাঙ্গীর আলম। এসব হিসাবে তিনি মোট ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লেনদেন করেন। জমা থাকা ৩০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা জব্দ করেছে দুদক ও বিএফআইইউ। কে এই জাহাঙ্গীর: মো. জাহাঙ্গীর আলম, মাতারবাড়ী আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফ্রেন্ড পাওয়ার প্রজেক্টের (আরএইচডি) প্রকল্প পরিচালক। তার বাবার নাম ছিদ্দিক মিয়া। থাকেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বি ব্লকের একটি বাসায়। তিনি ফেনী সদর উপজেলার ফতেহপুর জাহানপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। কর্মজীবনে তিনি ঠাকুরগাঁও, গোপালগঞ্জ ও রাজশাহী সড়ক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের সড়ক উন্নয়ন অংশের পিডি। গত বছরের ২৪ অক্টোবর জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার ভারপ্রাপ্ত মহানগর দায়রা জজ ইব্রাহিম মিয়া ওই আদেশ দেন। দুদক বলছে, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংসহ নিজের ও নির্ভরশীলদের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এবং তার স্ত্রী দেশ ছেড়ে বিদেশে পালানোর এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর করার চেষ্টায় আছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। সে কারণে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দুদকের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটা তো অনেক পুরোনো অভিযোগ, আমি তো বিষয়টি ভুলেই গেছি। ব্যাংক হিসাবে ১০ টাকা কয়েকবার লেনদেন হলেও অনেক বড় অঙ্ক দেখায়। দুদক কীসের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করেছে আমার জানা নেই।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কাস্টমস শাখার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ, অর্থ পাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব অভিযোগের বিস্তৃতি শুধু প্রশাসনিক অনিয়মে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থ স্থানান্তর ও প্রভাব বলয়ের ব্যবহারের কথাও উঠে এসেছে। বর্তমান পদ ও পূর্ববর্তী দায়িত্ব বর্তমানে তিনি কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)-এর মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার ছিলেন। আরও আগে মোংলা কাস্টম হাউসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্পদ ও বিদেশ সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, নেয়াজুর রহমানের পরিবার যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন এবং তার নিজেরও ব্রিটিশ পাসপোর্ট রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাজ্যে অন্তত তিনটি বাড়িসহ উল্লেখযোগ্য সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। আরও বলা হয়, ঘুষের অর্থ দেশীয় আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে রেখে বিদেশে—বিশেষ করে লন্ডন ও দুবাইয়ে—স্থানান্তর করা হতো। ঘুষ আদায়ের অভিযোগ: পদ্ধতি ও নেটওয়ার্ক একাধিক ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, নেয়াজুর রহমান যেখানে দায়িত্বে গিয়েছেন, সেখানে বড় করদাতা ও আমদানিকারকদের একটি তালিকা তৈরি করতেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে পণ্য আটকে রেখে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাহিদামতো অর্থ না দিলে হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতো বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ ‘নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার কথাও উঠে এসেছে। এতে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ছাড়াও কিছু বহিরাগত এজেন্ট যুক্ত ছিলেন, যারা বিদেশে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন বলে দাবি করা হয়। মোংলা কাস্টম হাউস: নিলাম ও সিন্ডিকেট মোংলা কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালনের সময় গাড়ি ও কসমেটিকস আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিলাম প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ী কম মূল্যে পণ্য পেতেন, বিনিময়ে ঘুষ দেওয়া হতো। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের ওপরও আর্থিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। সিলেট ও বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অভিযোগ সিলেট ভ্যাট কমিশনারেটে থাকাকালে এলসি স্টেশন দিয়ে পণ্য আমদানিতে অনিয়ম, ওজন কারসাজি এবং শুল্ক ফাঁকির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালানে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থ পাচারের অভিযোগ সূত্রগুলো বলছে, ঘুষের অর্থ দেশে না রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে বিদেশে—বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে—পাঠানো হতো। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দুবাই হয়ে অর্থ স্থানান্তরের কথাও বলা হয়েছে। প্রভাবশালী সংযোগ নেয়াজুর রহমানকে সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিম-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে বিভিন্ন সূত্রে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক তাকে সুবিধা দিয়েছে। পালানোর চেষ্টা ও পাসপোর্ট ইস্যু ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি কঠোর হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কড়াকড়ির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তিনি তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন করেন। সরকারি প্রতিক্রিয়া? এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। নেয়াজুর রহমান নিজেও প্রকাশ্যে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুতর এবং বহুমাত্রিক—যেখানে প্রশাসনিক অনিয়ম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অর্থ পাচারের মতো বিষয়ও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত অপরিহার্য। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু একজন কর্মকর্তার দায় নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলবে। উল্লেখ্য, মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পড়ালেখা করেছেন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। ২০০৩ সালের ২৯ মে সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) পদে যোগদান করেন নেয়াজুর রহমান। তিনি বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ২১তম ব্যাচের কর্মকর্তা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)-এর চেয়ারম্যান শরীফ জহিরকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন এক সময়ে, যখন তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। নিয়োগ ও বিতর্ক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে গত ২৫ এপ্রিল এই নিয়োগের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র সহকারী সচিব। এই নিয়োগের পরপরই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আনা কতটা যৌক্তিক। তদন্তের মুখে অর্থপাচারের অভিযোগ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্রে জানা গেছে, শরীফ জহিরের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তার ও সংশ্লিষ্টদের আর্থিক লেনদেন, সম্পদ ও কর-সংক্রান্ত নথি চেয়ে পাঠিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত এক দশকের কর নথি, বিদেশি সম্পদের বিবরণ এবং পরিবারের সদস্যদের আর্থিক তথ্য চাওয়া হলেও সব তথ্য এখনো জমা পড়েনি। পানামা পেপারসে নাম ২০১৬ সালে ফাঁস হওয়া পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে শরীফ জহিরের নাম আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) হাইকোর্টে যে তালিকা জমা দেয়, তাতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ আছে। ব্যাংক জালিয়াতির মামলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শরীফ জহিরের বিরুদ্ধে একটি ব্যাংক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেছে। মামলায় অভিযোগ, ইউসিবির একটি শাখা থেকে ‘ক্রিসেন্ট ট্রেডার্স’ নামে একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের একাধিক লেনদেন ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনস্থ তদন্তে অনন্ত গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ১০৩ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পণ্য রপ্তানি না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। জমি দখলের অভিযোগ ব্যক্তিগত পর্যায়েও শরীফ জহিরের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এক ভুক্তভোগী রাজধানীর একটি থানায় সাধারণ ডায়েরি করে দাবি করেছেন, তার জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে এবং সেখানে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এই অভিযোগগুলোর কিছু আদালতের নজরেও এসেছে বলে জানা গেছে। শ্রমিক অসন্তোষ ও অভিযোগ ২০১৯ সালে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক বকেয়া, ছাঁটাই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। শ্রমিকদের একটি অংশ অভিযোগ করেন, তারা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ব্যাংক হিসাব জব্দ সাম্প্রতিক সময়ে কর ফাঁকির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শরীফ জহির ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দেয়। চিঠিতে ব্যাংকগুলোকে সব ধরনের লেনদেন স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগ সমালোচকদের একটি অংশ দাবি করছেন, অতীতে ক্ষমতাসীন মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শরীফ জহিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। --- প্রশ্ন ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষকদের মতে, এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। শরীফ জহিরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর অনেকগুলোই এখনো তদন্তাধীন। ফলে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে এই নিয়োগ দেশের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং নৈতিক মানদণ্ড নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলী আইয়ুব আলীকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, টেন্ডার কারসাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল ও একাধিক সূত্র দাবি করেছে। সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঠিকাদার ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবকে ব্যবহার করে তিনি বিআইডব্লিউটিএ’র গুরুত্বপূর্ণ ড্রেজিং প্রকল্প, টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিল অনুমোদন এবং যন্ত্রপাতি ক্রয়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পরও তার প্রভাব পুরোপুরি কমেনি—এমন দাবিও উঠেছে। টেন্ডার ও ড্রেজিং প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন ড্রেজিং প্রকল্পে প্রতি ঘনমিটার মাটি অপসারণের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৪০ লাখ ঘনমিটার মাটি অপসারণে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিল পরিশোধের ঘটনায় বড় অঙ্কের অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। বঙ্গ ড্রেজার্স লিমিটেড ও কর্ণফুলী ড্রেজিং লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রকাশ্যে আসেনি। বৃহৎ প্রকল্প ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ চট্টগ্রাম–ঢাকা নৌপথ উন্নয়ন, নদী খনন, শ্মশানঘাট টার্মিনাল ও কার্গো টার্মিনালসহ একাধিক প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়, নিম্নমানের কাজ এবং বাস্তব প্রয়োজন ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। ড্রেজার, টাগবোট, সার্ভে ভেসেল ও পাইপলাইন ক্রয় প্রকল্পেও নিম্নমানের সরঞ্জাম কেনা এবং অকার্যকর যন্ত্রপাতি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন না করেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। ক্ষমতার প্রভাব ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে প্রভাব বিস্তার করে অনুগতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘুষ ছাড়া ফাইল অগ্রসর না করার অভিযোগও করেছেন একাধিক ঠিকাদার। কিছু ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের সঙ্গে বিরোধ এবং অর্থ লেনদেন নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ঘটনাও সামনে এসেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। সম্পদ ও বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ গঠনের অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর বসুন্ধরা, বারিধারা, ধানমণ্ডি, মিরপুর, আফতাবনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট থাকার কথা বলা হচ্ছে। এছাড়া সাভার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় খামার ও কৃষি বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে, লন্ডন, নিউইয়র্ক ও অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদ ও বাড়ি কেনার পাশাপাশি অর্থপাচারের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই এখনো নিশ্চিত নয়। দুদকে অভিযোগ ও তদন্তের অনিশ্চয়তা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের কতটি তদন্তাধীন বা মামলায় রূপ নিয়েছে—তা স্পষ্ট নয়। দুদকের কিছু কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন, অতীতে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে অনেক অভিযোগে অগ্রগতি হয়নি। অভিযোগ অস্বীকার ও প্রতিক্রিয়া আইয়ুব আলী অতীতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি নিজেকে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা দাবি করে অভিযোগগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, শুধু অস্বীকার যথেষ্ট নয়; বরং সম্পদের উৎস, প্রকল্প ব্যয় ও টেন্ডার প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিআইডব্লিউটিএ’র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলতে থাকলে তা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি, নৌপথ ব্যবস্থাপনা ও জনসেবায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাদের মতে, শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সিস্টেমের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
শীর্ষনিউজ: গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেরের পতন হলেও তাদের পছন্দের দুর্নীতিবাজ সৈয়দ মঈনুল হোসেন এখনো সড়ক ও জনপথের প্রধান প্রকৌশলী পদেই বহাল তবিয়তে আছেন। এ পদে থেকে মঈনুল হোসেন আওয়ামীপন্থী ও শেখ পরিবারের মদদপুষ্ঠ কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন ও পদায়ন করে চলেছেন। কোটি কোটি টাকা লুটপাট ও আত্মসাতের অভিযোগে মঈনুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুদক আইনি ব্যবস্থার নেওয়ার সুপারিশ করে। এসবে কোনো কাজতো হয়ইনি, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের পর বিএনপি আমলেও এই পদে বহাল আছেন মঈনুল আছেন। শেখ পরিবারসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচার এবং গণঅভ্যুত্থানের পর নেতাদের দেশ ছাড়তেও সহায়তা করেন এই মঈনুল হাসান এবং তার স্ত্রী ফেরদৌসী শাহরিয়ার। অভ্যুত্থানের পরও সওজে সক্রিয় আওয়ামী সিন্ডিকেট ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও সড়কে নানা অনিয়মে সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট। সরকারের অধিকাংশ দপ্তরে কমবেশি কিছুটা সংস্কার হলেও সড়ক বিভাগে পড়েনি এর ছিটেফোটা আঁচও। তিনস্তর বিশিষ্ট আওয়ামী সিন্ডিকেটে চলেছে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি। টেন্ডার অনিয়ম, কাজে ঘাপলা, বদলি বাণিজ্য ছাড়াও অর্থপাচারের সঙ্গেও এরা জড়িত। ৫ আগস্টের পর ৩০ জন কর্মকর্তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়ে পাচার করা হয় সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তার পরিবার ও সহযোগীদের শত শত কোটি টাকা, যারা গত সাড়ে পনের বছর সড়কে গড়ে তুলেছিল ‘কাদের চক্র’। সৈয়দ মঈনুল হাসান কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সক্রিয় সদস্য। আইইবি-২০২২-২৩এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের (সবুর-মঞ্জুর প্যানেল) শেখ হাসিনার মতই বিনাভোটে নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়েছিলেন কাউন্সিল মেম্বার (আইইবি মেম্বার নং ১৪৫৫০)। সে সময় তার ব্যালট নম্বর ছিল ১২১। শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে গঠিত সড়ক কমিটির উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বুয়েট ছাত্রলীগ নেতাও ছিলেন সওজের এই প্রধান প্রকৌশলী। কর্মকর্তাদের বহর নিয়ে বারবার শেখ মুজিবের মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ করে সমালোচনায় পড়েন। তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মঈনুল হাসানের আপন চাচাতো ভাই শামসুল আলম কচি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এবং নড়াইল জেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সদস্য। মঈনুল হাসানের ভাগ্নে সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মুনতাসির হাফিজ সড়ক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির আওয়ামী প্যানেলের দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি। এর আগেও ছিলেন একই সমিতির পর পর দুইবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগ রয়েছে সড়ক নিয়ন্ত্রণের জন্যই মঈনুলের বিশেষ হস্তক্ষেপই মুনতাসীরের উত্থান হয়। মধ্যম সারির যেকোন কর্মকর্তার পদায়ন বা বদলিতে মঈনুলের ভাগ্নে মুনতাসিরের আর্শিবাদপুষ্ট হতে হতো। বদলি কিংবা পদায়নে আর্থিক লেনদেনের মূল দায়িত্বে থাকতেন মুনতাসির। বদলি-পদায়নের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ পরবর্তীতে জমা দেওয়া হতো অর্থ সংগ্রাহক সিন্ডিকেট প্রধানের হাতে। বিরোধী মতাদর্শের মধ্যমসারির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শায়েস্তা করতে মুনতাসিরের ছক অনুযায়ী করা হতো ওএসডি কিংবা শাস্তিমূলক বদলি। এ কাজে তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী আর্শিবাদপুষ্ট প্রশাসন ও সংস্থাপনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আমানউল্লাহ্ ও ডিপ্লোমা সমিতির নেতা মো. মনিরুল আলম। তাদের দৌরাত্বে ঢাকা সড়ক জোন পরিণত হয় ‘মামাভাগ্নে জোনে’। প্রধান প্রকৌশলী মঈনুলের তত্ত্বাবধানে ডিপ্লোমা সমিতির ব্যানারে চলতো লোক দেখানো দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের নামে দেশব্যাপী শেখ হাসিনা বন্দনা। মঈনুল হাসান পদায়নও নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন মঈনুল হাসান সড়কের সবচেয়ে চতুর কর্মকর্তা এবং ‘ম্যানেজ মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত। নিজের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বাসভবনে কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই ঢাকা সড়ক বিভাগের ওই সময়ের আওয়ামীপন্থী নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহকে দিয়ে আড়াই কোটি টাকার আসবাবপত্র ও ইন্টেরিয়রের কাজ করান। পুরস্কার হিসাবে নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহকে প্রধান প্রকৌশলী মঈনের একক হস্তক্ষেপে গত ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগে পদায়ন করা হয়। আওয়ামী শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শাস্তির মুখে পড়ার কথা আহাদ উল্লাহর। কিন্তু এর পরিবর্তে সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়নের মাধ্যমে তাকে পুরস্কৃতই করা হয়েছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে আহাদ উল্লাহ’র স্থানে স্থলাভিষিক্ত করা হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের পিএস অশোক কুমারের ভাগ্নী জামাই রিতেশ বড়ুয়াকে। অথচ বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে দীর্ঘদিন যাবত এই রিতেশ বড়ুয়া ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের ছত্রছায়ায় কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগে কর্মরত। ইতিপূর্বে সৈয়দ মঈনুল হাসান ময়মনসিংহ সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায় তার অধীনস্থ তৎকালীন কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এই রিতেশ হয়ে উঠেন বেপরোয়া ও লাগামহীন। তৎকালীন বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের প্রায় সকল সেতুতেই লোহার পাতের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করার প্রমাণসহ প্রতিবেদন এসেছিলো। সেতুতে লোহার পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করার প্রচলনের এ খবর দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার ঝড় উঠলেও মঈনুল হাসানকে দেখা যায়নি তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা নিতে। প্রধান প্রকৌশলী মঈনুলের বিরুদ্ধে আছে আওয়ামীপন্থীদের পুনর্বাসন ও পদায়নের আরো ব্যাপক অভিযোগ। ৫ই আগষ্ট, ২০২৪ পরবর্তী সময় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নতুনত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের সংস্কারের কথা বলে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের পদায়ন করেন মঈনুল। পুনর্বাসন করেন আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত ছাত্রলীগ নেতাদের। একারণে ঠিকাদারসহ কর্মকর্তাদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক অসন্তোষ। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময় তার নানা অপকর্মের হোতা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ওরফে ম্যাক আজাদকে অপসারেণের ব্যাপক দাবি উঠলে, উল্টো তাকে ২০২৪ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর ৩৫.০২২.০৬০.০০.০০.০০৭.২০০৯(অংশ-১) ৪৯৩ নং স্মারকে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকিউরমেন্ট সার্কেল থেকে লোক দেখানো সরিয়ে দিলেও; আরো বড় দায়িত্ব সড়ক গবেষণাগারের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে পদায়ন করা হয়। এই ম্যাক আজাদ ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। ১৫ই আগস্টসহ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত যাবতীয় দিবসের সড়কের সকল প্রোগ্রামের অন্যতম আয়োজক তিনি। পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা দিতে সাধারণ ঠিকাদারদেরকে কোণঠাসা করে রাখার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তিনি ছিলেন আওয়ামী যুগের মঈনুল সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্যের অর্থ সংগ্রাহক। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্য ইসকন নেতা কুষ্টিয়া সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাস, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ও বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার চক্রবর্ত্তী, ইসকন সদস্য সাবেক পাবনা সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সমীরণ রায়, ওবায়দুল কাদেরের দীর্ঘদিনের সহচর নোয়াখালী সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ুয়া, প্রধান প্রকৌশলীর বন্ধু অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। ৩০ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের মাধ্যমে অর্থপাচার ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর ট্রেনিং ও উচ্চশিক্ষার নামে বিভিন্ন মেয়াদে ৩০ কর্মকর্তার বিদেশ গমনের অনুমোদন ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সড়ক সূত্রের তথ্যমতে, মূলতঃ সরাসরি প্রধান প্রকৌশলী মঈনের তত্ত্বাবধানে এই ৩০ জন আওয়ামী সুবিধাভোগী কর্মকর্তার মাধ্যমেই শেখ পরিবার ও ওবায়দুল কাদেরের বিপুল অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়। অর্থপাচারে সরাসরি যুক্ত ছিলেন মঈনুল হাসান। এজন্যই সড়কের একজন নিয়মিত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পরেও আওয়ামী বিশেষ মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপে তাকে অধিকাংশ সময় ডেপুটেশনে বিভিন্ন পদে স্থানান্তর করা হয়। তাকে সংযুক্ত করা হয় মিনিস্ট্রি অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্স এর ডিরেক্টর পদে। এরপর তাকে পোস্টিং করা হয় রোমের বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর পদে। আওয়ামী সরকারের অর্থপাচার আরো নির্বিগ্ন ও ত্বরান্বিত করতে তার সঙ্গে পরবর্তীতে যুক্ত করা হয় তারই স্ত্রী ফেরদৌসী শাহরিয়ারকে। ফেরদৌসী শাহরিয়ারও বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি দীর্ঘদিন ওয়াশিংটন ডিসিতে ডেপুটি চিফ অফ মিশন হিসেবে বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। সরকারের বিশেষ নেক নজর ছাড়া আমেরিকার মতো দেশের দূতাবাসে ডেপুটি চিফ অফ মিশন হিসাবে কর্মরত থাকার সুযোগ নেই। তৎকালীন সরকারের সময় তাকে আমেরিকার নানা সভা, সেমিনার ও অনুষ্ঠানে আওয়ামী তথা শেখ হাসিনা বন্দনার বক্তব্য দিতেও দেখা যায়। গুঞ্জন রয়েছে ওবায়দুল কাদেরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের আমেরিকায় অর্থপাচার করা হতো এই মঈনুলের স্ত্রী ফেরদৌসী শাহরিয়ার ও ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন নেছা কাদেরের ভাতিজি কামরুন্নেসা ও ভাস্তি জামাই এ জে এম ওবায়দুর রহমান খান ওরফে শাওনের নেতৃত্বে। সড়কের নিয়মিত অফিসার না হয়েও কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় ডেপুটেশনে অন্যত্র কর্মরত থেকেও সরাসরি অভিজ্ঞতা ছাড়াই সড়ক ও জনপথের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তরের শুধুমাত্র আওয়ামী আর্শিবাদপুষ্ট হওয়ায় রাতারাতি প্রধান প্রকৌশলী করা হয় মঈনুল হাসানকে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া ৪৪ কোটিরও বেশি টাকা দেশে ফিরিয়ে এনেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার (২৯ মার্চ) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বহুল আলোচিত এমটিএফই (মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ) প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছিল। এর একটি অংশ সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ ৪৪ কোটির বেশি। এই অর্থ দেশে ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল সংস্থাটি। জসীম উদ্দীন খান বলেন, “আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ধারাবাহিক তদন্তের ফলে আমরা এই অর্থ ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছি।” সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাচার হওয়া বাকি অর্থ উদ্ধারে কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্তও অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত আর্থিক প্রতারণাগুলোর মধ্যে এমটিএফই কেলেঙ্কারি অন্যতম, যেখানে বহু সাধারণ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমটিএফই কি এমটিএফই (Metaverse Foreign Exchange - MTFE) হলো একটি দুবাই ও কানাডাভিত্তিক অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, যা মূলত একটি এমএলএম (MLM) বা পনজি স্কিমের মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতারণা চালিয়েছে । শরীয়াহ-সম্মত প্ল্যাটফর্ম এবং উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় । এই কেলেঙ্কারি সম্পর্কিত সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো: পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার: পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অতি সম্প্রতি (মার্চ ২৯, ২০২৬) এমটিএফই কেলেঙ্কারির মাধ্যমে পাচার হওয়া ৩৬ লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা) উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে । অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া: উদ্ধারকৃত এই অর্থ সুইফট (SWIFT) ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় ফেরত আনা হয়েছে । প্রতারণার কৌশল: প্রতিষ্ঠানটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ফরেক্স ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে এবং নতুন গ্রাহক যুক্ত করার বিনিময়ে কমিশন দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করত। ক্ষতির পরিমাণ: বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমটিএফই বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে ধারণা করা হয় ।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।