Brand logo light

অবকাঠামো উন্নয়ন

বরিশাল সরকারি মহিলা পলিটেকনিক : ৬ তলা ভবন নির্মাণে গুণগত মান নিশ্চিতে কড়া নজরদারি ও সময়সীমা নির্ধারণ

বরিশাল অফিস :  বরিশালে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের চলমান বৃহৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ৬ তলা প্রশাসনিক ভবন। আসন্ন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ভবনটির কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সম্প্রতি ভবনটির চলমান নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।   গুণগত মান বনাম সময়সীমার চাপ পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন—প্রতিটি নির্মাণকাজ অবশ্যই অনুমোদিত নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। ভবনের অসম্পূর্ণ কাজ, ফিনিশিং, বৈদ্যুতিক সংযোগ, স্যানিটারি ব্যবস্থা, রং, দরজা-জানালা স্থাপন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের মতে, সময়মতো কাজ শেষ করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের টেকসই ও মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করা।     কঠোর মনিটরিংয়ের বার্তা পরিদর্শন শেষে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। কাজের মান খারাপ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তিনি বলেন, প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার জন্য একাধিক স্তরে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।   বরিশালে ৭০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল জেলায় বর্তমানে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। গত অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা। এছাড়া ১১টি বড় প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ এবং উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ চলছে। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প ইতোমধ্যে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।   জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক প্রকল্প বরিশালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের জন্য নির্মিত ১০ তলা ভবনের কাজও এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে দুটি ফ্লোরে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রকল্পের আওতায় সাতটি ভবনের মধ্যে তিনটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি চারটির কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে।   শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রত্যাশা স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের মতে, এসব অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বরিশালের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। জরাজীর্ণ ভবনের জায়গায় আধুনিক বহুতল ভবন তৈরি হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   বড় চিত্র: উন্নয়ন নাকি বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ? যদিও প্রকল্পের পরিমাণ ও অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক, তবে মাঠপর্যায়ে গুণগত মান বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। একাধিক স্তরের মনিটরিং ও কঠোর নির্দেশনার মধ্যেও বাস্তবায়ন তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বরিশালের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে চলমান এই বিশাল কর্মযজ্ঞ'র  মান এবং স্বচ্ছতা রয়েছে।। 

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
দক্ষিণাঞ্চলসহ ১০ জেলা রেল যোগাযোগে আসছে, ঢাকার সঙ্গে সংযোগহীন জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণের নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলসহ আরও ১০ জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যেসব জেলার সঙ্গে এখনো ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ নেই, সেসব এলাকাকে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দেশের ৬৪টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন ১০ জেলায় রেলসেবা সম্প্রসারণের সম্ভাব্য রুট ও প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন রেললাইন নির্মাণ ও বিদ্যমান নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর সঙ্গে রেল সংযোগবিহীন জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনায় রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে শেখ রবিউল আলম বলেন, কয়েকটি বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এর মধ্যে আখাউড়া-সিলেট এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ধীরাশ্রমে একটি আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যা পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বর্তমানে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ উভয় ধরনের রেললাইন বিদ্যমান থাকায় পরিচালনাগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-সিলেট অংশে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সম্প্রসারণ? রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পারলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সড়কপথের ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল ও অপেক্ষাকৃত কম সংযুক্ত জেলাগুলোতে রেলসেবা সম্প্রসারণ দীর্ঘদিনের দাবি। নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সঙ্গে এসব অঞ্চলের যোগাযোগ সময় ও ব্যয়ের দিক থেকে আরও সাশ্রয়ী হতে পারে। তবে ঘোষিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, অর্থায়ন এবং সময়সীমা নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পরিকল্পনাগুলো কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পায়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৬, ২০২৬ 0
নির্মিত সড়কের ইট তুলে নিল ঠিকাদার
বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে নির্মিত সড়কের ইট তুলে নিল ঠিকাদার,এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা

ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় একটি সড়কে অস্থায়ীভাবে বসানো ইট সফর শেষে তুলে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি ছিল মূল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেওয়া একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়কে সফরের আগে ইট ও বালু ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হয়। সফর শেষ হওয়ার পর ওই সড়ক থেকে ইটগুলো অপসারণ করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সড়কটি পাকাকরণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গত অর্থবছরে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করেনি। এমন পরিস্থিতিতে সফর উপলক্ষে দ্রুত অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হলেও পরে তা সরিয়ে নেওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলে আবারও দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কে স্থায়ী উন্নয়নকাজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই অস্থায়ী সোলিং করা হয়েছিল। এ বিষয়ে এলজিইডি বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান জানান, সড়কে স্থায়ীভাবে ইট বসানো হয়নি; বরং ভাড়া করা ইট ব্যবহার করে অস্থায়ী সোলিং করা হয়েছিল। মূল প্রকল্পের কাজ শুরু করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরে সেই ইট অপসারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইট ক্রয়ের পরিবর্তে ভাড়া নেওয়ার কারণে ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। পাশাপাশি সড়কটির স্থায়ী কার্পেটিং কাজ বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রকৌশল কর্মকর্তাদের দাবি, পুরো বিষয়টি একটি পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ এবং অস্থায়ী ব্যবস্থাকে স্থায়ী উন্নয়নকাজের বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্থায়ী কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কাঁচা সড়কে চলাচলের ভোগান্তি থেকে তাদের মুক্তি মিলছে না। ফলে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং কাজ শুরুর সময়সূচি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
নসরুল হামিদ বিপু
এসপিএম প্রকল্প ও ইআরএল-২ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ: জ্বালানি খাতে ব্যয়, সিদ্ধান্ত ও বিতর্কের বিশ্লেষণ

এসপিএম প্রকল্প: সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর চালু হয় কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত সিঙ্গেল পয়েন্ট মোরিং (এসপিএম) প্রকল্প। এটি গভীর সমুদ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ট্যাংক ফার্মে জ্বালানি তেল পরিবহনের ব্যবস্থা। সরকারি দাবি অনুযায়ী— আগের ১২–১৪ দিনের পরিবর্তে ৪৮ ঘণ্টায় তেল খালাস সম্ভব বছরে ৮০০–১০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮,৩৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়। তবে প্রকল্পটি চালুর পরপরই এটি পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার না হওয়া এবং অপারেশনাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।  ব্যয় বৃদ্ধি ও ঠিকাদারি নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কিছু নথি ও সূত্রের দাবি অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত ব্যয় ও পরবর্তী চূড়ান্ত ব্যয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে— প্রকল্পের ব্যয় কয়েক ধাপে বৃদ্ধি পায় অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে খরচ বাড়ানো হয় প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই চূড়ান্ত চুক্তি দেওয়া হয় একজন জ্বালানি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা যাচাই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন এগিয়ে যায়। ইআরএল-২ প্রকল্প: থমকে থাকা রিফাইনারি সম্প্রসারণ দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এর দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) নির্মাণ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে— জ্বালানি আমদানির চাপ কমবে পরিশোধিত তেলের খরচ কমতে পারে রিফাইনারি সক্ষমতা বাড়বে তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটি একাধিকবার প্রক্রিয়াগত জটিলতা, দরপত্র ও অংশীদার নির্বাচন সংক্রান্ত বিতর্কের কারণে বাস্তবায়িত হয়নি। কিছু সূত্র দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কোম্পানির অংশগ্রহণ নিয়ে মতবিরোধ এবং উচ্চ ব্যয়ের প্রস্তাব প্রকল্পটিকে ধীর করে দেয়।    দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রভাব প্রকল্প সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়। একজন জ্বালানি খাত বিশ্লেষক বলেন, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকলে এমন বিতর্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা এসপিএম প্রকল্প বর্তমানে আংশিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে বলে জানা যায় ইআরএল-২ প্রকল্প এখনো চূড়ান্ত বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি কিছু অংশে যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো অচল অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে   এসপিএম ও ইআরএল-২ প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এগুলোর ব্যয়, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রকল্পের পূর্ণ কার্যকারিতা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও গভীর পর্যালোচনা প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
পায়রা বন্দর।
পায়রা বন্দরে ৪২ কোটি টাকার ক্রেন ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্যতম কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্প পায়রা বন্দরে একটি মোবাইল হারবার ক্রেন (এমএইচসি) কেনাকে ঘিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রয় প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রশ্নে বিতর্কের মুখে পড়েছে। পটুয়াখালীতে অবস্থিত এই বন্দরের জন্য ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে মোবাইল হারবার ক্রেন উৎপাদনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং গত এক দশকে বিভিন্ন দেশে অন্তত ১০টি ক্রেন সরবরাহের প্রমাণ দেখাতে হতো। পাশাপাশি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের সন্তোষজনক সনদ এবং পারফরম্যান্স রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচিত চীনা কোম্পানি এক্সসিএমজি (XCMG)-এর ক্ষেত্রে এসব শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালিত হয়নি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তাদের ওয়েবসাইটে এই ধরনের ক্রেন উৎপাদন বা আন্তর্জাতিক সরবরাহের উল্লেখযোগ্য রেকর্ড পাওয়া যায় না।  নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ‘এক্সসিএমজি-এইচপি’ নামের একটি জয়েন্ট ভেঞ্চারকে নির্বাচিত করা হয়। প্রস্তাবিত মডেল ‘XMHC 3840’-এর মূল্য ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ ৪২ হাজার ৬২২ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ কোটি টাকা। স্থানীয় খরচ যোগ করলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৪২ কোটি ১৯ লাখ টাকারও বেশি। বন্দর সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রেখেছে। তাদের দাবি, দরপত্রের নথিপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হলে অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।  ঝুঁকির আশঙ্কা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পায়রা বন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে ব্যবহৃত সরঞ্জামের নির্ভরযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞতাহীন বা কম সক্ষম কোম্পানি থেকে যন্ত্রপাতি কেনা হলে ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং অপারেশনাল কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশ্বব্যাপী এই ধরনের ক্রেন উৎপাদনে ইতালির Gottwald, জার্মানির Liebherr এবং চীনের ZPMC-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সুনাম থাকলেও তাদেরকে এই দরপত্রে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।  অতিরিক্ত ব্যয়ের আরেক চুক্তি এমএইচসি ক্রয় নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই আরও একটি বড় আর্থিক চুক্তির তথ্য সামনে এসেছে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ‘এইচপি-এনজে’ জয়েন্ট ভেঞ্চারের সঙ্গে দুটি শিপ-টু-শোর (STS) ক্রেন সরবরাহের চুক্তি করেছে। প্রতিটি ক্রেনের মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ডলার, যা মোট প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা। স্থানীয় ব্যয়সহ প্রকল্পটির মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৫৮ কোটি টাকার বেশি। এই ক্রয় প্রক্রিয়াতেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।  কর্তৃপক্ষের নীরবতা অভিযোগের বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। সংশ্লিষ্ট সদস্যরা দায়িত্ব এড়িয়ে প্রকল্প পরিচালকের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তবে অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।  বিশেষজ্ঞ মত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, “দরপত্রের শর্ত পূরণ না হলে কার্যাদেশ বাতিল করে পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বাড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
স্পিকার
ভোলা-বরিশাল সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস, শিল্প সম্ভাবনার কথাও বললেন স্পিকার

ভোলা: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা জেলা খাদ্য উদ্বৃত্ত ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ভোলা-বরিশাল সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভোলা সার্কিট হাউজে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার জানান, প্রধানমন্ত্রী বরিশালে নির্বাচন-পরবর্তী এক জনসভায় ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতীয় সংসদেও সেতুমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিল্পায়নের সম্ভাবনা ভোলায় শিল্পায়নের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি বলেন, গ্যাসভিত্তিক সার কারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখানে গড়ে তোলা যেতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বেকারত্ব হ্রাস পাবে। তার ভাষায়, “হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হলে শুধু ভোলাই নয়, জাতীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।” নদী ভাঙন নিয়ে উদ্বেগ মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে বালু উত্তোলনের কারণে নদী ভাঙনের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্পিকার। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া জ্বালানি তেল উত্তোলন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম রোধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি, যাতে সাধারণ মানুষ কোনোভাবে বঞ্চিত না হয়। এ সময় ভোলা জেলার প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
মেট্রোরেলে
রাজধানীর নতুন দুই মেট্রো প্রকল্পে ব্যয় দ্বিগুণের বেশি, কিলোমিটারে খরচ ৩,৬১৮ কোটি টাকা

ঢাকা: রাজধানীর নতুন দুটি মেট্রো রেল প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। সংশ্লিষ্ট সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)–এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সীমিত দরপত্র প্রতিযোগিতা ও ঋণশর্তের কারণে প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোর (এমআরটি লাইন-৬) নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছিল ১,৫৭৪ কোটি টাকা। কিন্তু নতুন দুই প্রকল্পে কিলোমিটারে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩,৬১৮ কোটি টাকা। ফলে মোট অনুমোদিত ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এমআরটি লাইন-১: কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর     নতুন প্রকল্পগুলোর একটি হলো MRT Line-1, যা কমলাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। দৈর্ঘ্য: ৩১ কিলোমিটার অনুমোদন: ডিসেম্বর ২০১৯ প্রাথমিক ব্যয়: ৫২,৫৬১ কোটি টাকা ঠিকাদারদের দর অনুযায়ী সম্ভাব্য ব্যয়: ৯৬,৫০০ কোটি টাকা ডিএমটিসিএলের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দরপত্রে সীমিত প্রতিযোগিতার কারণে প্রকল্প ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর): হেমায়েতপুর–ভাটারা     অন্য প্রকল্পটি হলো MRT Line-5 (North), যা হেমায়েতপুর থেকে মিরপুর ও গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত যাবে। দৈর্ঘ্য: ২০ কিলোমিটার অনুমোদন: অক্টোবর ২০১৯ প্রাথমিক ব্যয়: ৪১,২৩৮ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় (দর অনুযায়ী): ৮৮ হাজার কোটি টাকা বিশেষ করে মিরপুর–কচুক্ষেত এবং কচুক্ষেত–ভাটারা অংশে ঠিকাদারদের অস্বাভাবিক ব্যয় প্রস্তাবের কারণে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির কারণ কী? ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, দরপত্রে প্রতিযোগিতা মূলত জাপানি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সীমিত ছিল। কারণ, প্রকল্পগুলোর বড় অংশের অর্থায়ন করছে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা  জাইকা। ঋণের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদার নিয়োগে জাপানি প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকার থাকায় উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা হয়নি। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে দরপত্রে উন্মুক্ত ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশ অনেক বেশি ব্যয়বহুল ডিএমটিসিএলের তথ্যমতে, বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যয় অত্যন্ত বেশি। ভারতে মেট্রো রেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয় ১৫০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকার মধ্যে—যা বাংলাদেশের তুলনায় কয়েকগুণ কম। বিশেষজ্ঞ মতামত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, ঠিকাদার নিয়োগে প্রকৃত প্রতিযোগিতা না থাকাই ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ। নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে ঋণের শর্ত পুনর্বিবেচনা করে ব্যয় কমানো। সম্প্রসারণ প্রকল্পেও উচ্চ ব্যয় উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোর সম্প্রসারিত অংশ কমলাপুর পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। দৈর্ঘ্য: ২১.২৬ কিলোমিটার ব্যয়: ৩৩,৪৭২ কোটি টাকা এই ব্যয়ও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।   রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে মেট্রোরেল গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হলেও ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণের শর্ত শিথিল করে এবং উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া নিশ্চিত করলেই কেবল ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। অন্যথায় ভবিষ্যৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোও একই ধরনের উচ্চ ব্যয়ের ফাঁদে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0