Brand logo light

messi

5-important-life-lessons-to-learn-from-messi
মেসির জীবন থেকে শেখার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, একজন খাটো, চুপচাপ, অসুস্থ ছেলেটা কীভাবে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠল? প্রশ্নটা সহজ, কিন্তু উত্তরটা যতটা বাস্তব, ততটাই অনুপ্রেরণামূলক। এই গল্পটা কারো রূপকথা নয়। এটা লিওনেল আন্দ্রেস মেসি — এক বাস্তব জীবনের কিংবদন্তির কাহিনি।   মেসির জন্ম ১৯৮৭ সালে, আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে। ছোটবেলায়ই দেখা দেয় শারীরিক সমস্যা — তার শরীরে বৃদ্ধি হরমোন স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না। চিকিৎসা ব্যয় এত বেশি ছিল যে তার পরিবার প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়ে। কিন্তু ভাগ্য বদলায় যখন স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা তার প্রতিভা চিনে নেয়, এবং দায়িত্ব নেয় মেসির চিকিৎসার। সেখান থেকেই শুরু হয় এক মহান যাত্রা—যা শুধুই ট্রফি বা গোল নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় আর নীরব সাফল্যের প্রতীক।   আমরা যখন সফলতা ভাবি, তখন চোখে ভেসে ওঠে জাঁকজমক, জয়ের উল্লাস আর গ্ল্যামার। কিন্তু মেসির গল্প আমাদের শেখায়—নীরবে কাজ করে যাও, সময় আসলে পুরো দুনিয়া তোমাকে চিনবে।   এই লেখায় আমরা মেসির জীবন থেকে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরব—যা কেবল একজন ফুটবলপ্রেমী নয়, বরং যে কেউ, যেকোনো বয়সে নিজের জীবনে কাজে লাগাতে পারে। চলো, শিখে নিই সেই শিক্ষা, যে শিক্ষা একজন খাটো ছেলেকে ফুটবলের আকাশছোঁয়া শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।   ১. ছোটখাটো সীমাবদ্ধতা দিয়ে জীবন থেমে যায় না   যখন ছোট ছিল, তখন কেউ ভাবত না এই ছেলেটা একদিন বিশ্বের সেরা ফুটবলার হবে। লিওনেল মেসির উচ্চতা স্বাভাবিক ছিল না, কারণ তার দেহে “Growth Hormone Deficiency (GHD)” ছিল। অর্থাৎ, তার শরীর ঠিকভাবে বেড়ে উঠছিল না। বয়স বাড়ছিল, কিন্তু গড়ন ছিল ছোটদের মতো। একজন ফুটবলারের জন্য যেটা সরাসরি ক্যারিয়ারে প্রতিবন্ধক।   মেসির বাবা-মা অনেক চেষ্টা করেছিলেন—চিকিৎসা চালিয়ে যেতে, খেলা চালু রাখতে। কিন্তু তখন আর্জেন্টিনায় এ চিকিৎসা খরচ এত বেশি ছিল যে তাদের পক্ষে চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।   ঠিক তখনই—মেসির জীবন বদলে দেয় বার্সেলোনা ক্লাব। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ক্লাবটি মেসির প্রতিভা দেখে তাকে স্পেনে নিয়ে আসে, তার চিকিৎসা, থাকা–খাওয়াসহ সব দায়িত্ব নেয়। এবং সেই ছোট্ট ছেলেটা নিজের সীমাবদ্ধতা সঙ্গী করেই খেলা চালিয়ে যেতে থাকে, প্রতিদিন আরও পরিশ্রম করতে থাকে।   ⏳ কেউ যখন বলত "তুমি অনেক ছোট", তখন মেসি বলত না কিছু—জবাব দিত মাঠে গোল দিয়ে।   🎯 শেখা: জীবনে সীমাবদ্ধতা থাকবে—তা শারীরিক, আর্থিক বা মানসিক। কিন্তু সেগুলোই যদি তোমাকে থামিয়ে দেয়, তাহলে তুমি হেরে যাবে। আর যদি সেই সীমাবদ্ধতা থেকেই শক্তি পাও, তাহলে একদিন সেই বাধাই হবে তোমার সাফল্যের প্রেক্ষাপট। মেসির মতো কেউ যদি ছোট শরীরে বিশাল স্বপ্ন বয়ে নিয়ে চলতে পারে—তাহলে তুমিও পারো।   ২. প্রতিদিন উন্নতি করাই বড় সাফল্য   লিওনেল মেসির জীবনজুড়ে এক জিনিস সবসময় একই থেকেছে—প্রতিদিন একটু ভালো হওয়ার চেষ্টা। সে কখনো বলে না “আমি সেরা” কিংবা “আমার আর শেখার কিছু নেই।” বরং তার প্রতিটি অনুশীলন, প্রতিটি ম্যাচ যেন আরও উন্নত হওয়ার এক নতুন সুযোগ।   ছোটবেলা থেকেই মেসি নিজেকে প্রতিদিন একটু করে গড়ে তুলেছে। ⚽ সে শুধু গোল করাকে দক্ষতা মনে করত না, বরং পাস, ড্রিবল, স্পিড, ফিটনেস—সবকিছুতে সে নিজেকে সময় দিয়েছে। আর এখানেই তার আসল জাদু। 🎥 একটা উদাহরণ দেখি:   মেসি একবার বলেছিল, “আমি কখনো নিজেকে নিখুঁত ভাবি না। আমি জানি, কালকে আরও ভালো করা যাবে।” এই মনোভাবই তাকে করেছে ইতিহাসের সবচেয়ে কনসিসটেন্ট (স্থায়ী সাফল্যমণ্ডিত) ফুটবলারদের একজন।   📚 শেখা:   আজ তুমি যেখানে আছ, সেটাই শেষ না। প্রতিদিন ১% উন্নতি হলেও, এক বছর পরে তুমি থাকবে ৩৭ গুণ উন্নত অবস্থানে। (এটা কিন্তু গাণিতিক সত্য, ১.01ⁿ = 37.78 যখন n = 365!)   মেসির গল্প বলে, “সেরা হওয়া জরুরি নয়—প্রতিদিন একটু করে ভালো হওয়াটাই আসল।” তুমি যদি নিয়ম করে নিজের পড়াশোনা, কাজ, স্কিল বা মানসিকতা একটু একটু করে ঠিক করো, তাহলে সাফল্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।   ৩. নম্রতা ও ধৈর্যই প্রকৃত শক্তি   আজকের দুনিয়ায় সফলতা মানেই যেন বাহাদুরি, শিরোনামে থাকা, ক্যামেরার সামনে নিজেকে জাহির করা। কিন্তু লিওনেল মেসি যেন এর একদম উল্টো — তিনি সবসময় শান্ত, নম্র, চুপচাপ কাজ করে যান। কখনো রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ান না, গোল করার পরও অহংকার দেখান না, কথার চেয়ে পারফরম্যান্সেই বিশ্বাস রাখেন।   তার ক্যারিয়ারে অনেক সময় এসেছে যখন তিনি চাইলেই রাগ করতে পারতেন, কথা বলতেই পারতেন।   ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালে হেরে গেছেন ৩ বার কোপা আমেরিকার ফাইনাল খুইয়েছেন ২০২1 সালের আগে দেশের জার্সিতে কোনো ট্রফিই ছিল না কিন্তু তারপরও তিনি দলের প্রতি বিশ্বাস হারাননি, অভিমান করলেও মাঠ ছাড়েননি।   তার ধৈর্য আর আত্মনিয়ন্ত্রণ তাকে করেছে "লিডার", কেবল খেলোয়াড় নয়। 🌿 শেখা:   নম্রতা কখনো দুর্বলতা নয়। বরং সেটা এমন এক শক্তি, যা তোমাকে ভিতর থেকে গড়ে তোলে। আর ধৈর্য? সেটা হলো সাফল্যের আগে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।   যখন চারপাশের মানুষ তোমাকে ছোট করে দেখে, ফল আসছে না, বারবার হেরে যাচ্ছো— তখনো যদি তুমি ভেঙে না পড়ে সামনে এগিয়ে যাও, তাহলেই একদিন জয় আসবেই।   মেসির জীবন বলে, "চুপ থেকে কাজ করো, কথা বলবে তোমার ফলাফল।"   ৪. পরিশ্রমের বিকল্প নেই   অনেকে ভাবে, মেসি হয়তো ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভার অধিকারী। ঠিক কথা। কিন্তু শুধু প্রতিভা থাকলেই কি কেউ ইতিহাসের সেরা হয়ে ওঠে? না। মেসির প্রতিভার চেয়েও বড় জিনিস হলো তাঁর নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম।   ⚽ ছোটবেলার গল্প:   মাত্র ৮ বছর বয়স থেকেই মেসি প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা অনুশীলন করতেন। বার্সেলোনায় যাওয়ার পর তিনি যখন অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের মধ্যে পড়ে গেলেন, তখনও তিনিই সবচেয়ে আগে মাঠে যেতেন, সবার পরে প্র্যাকটিস শেষ করতেন।   একবার এক কোচ বলেছিলেন— "মেসির সবচেয়ে বড় গুণ, সে খেলার পরে একাই মাঠে দাঁড়িয়ে ড্রিবলিং আর ফিনিশিং প্র্যাকটিস করত। যখন সবাই বিশ্রাম নিচ্ছে, তখন সে কাজ করত চুপচাপ।"   💼 বড় হওয়ার পরও থেমে যাননি   ইনজুরি থেকে ফিরে জিমে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রতিটি ম্যাচের ভিডিও দেখে ভুল খুঁজে বের করা নিজের খেলা নিয়ে সর্বদা সিরিয়াস — যেন সে নতুন এক শিক্ষার্থী   সে কারণেই এত বছর পরেও, এত কিছু জেতার পরেও মেসি আজও ভয়ংকর ধারাবাহিক ও কার্যকর।   🔥 শেখা:   আমরা অনেকেই সফলতার শর্টকাট খুঁজি। কিন্তু মেসি বলেন না, “আমি ছোট ছিলাম, তাই ছাড় পাচ্ছি।” তিনি বিশ্বাস করেন, “প্রতিভা যখন পরিশ্রমকে সঙ্গে পায়, তখনই সে কিংবদন্তি হয়ে ওঠে।”   তুমি যদি শুধু স্বপ্ন দেখো, কিন্তু পরিশ্রম না করো — তাহলে সেটা কেবল কল্পনা। আর যদি প্রতিদিন একটু একটু করে চর্চা করো, চেষ্টা চালিয়ে যাও — তাহলে স্বপ্ন একদিন বাস্তব হবেই।   ৫. নিজের লক্ষ্য জানলে দুনিয়া জিতে নেওয়া যায়   প্রতিভা, পরিশ্রম, নম্রতা—এসব থাকলেও যদি জীবনের লক্ষ্য পরিষ্কার না থাকে, তাহলে মানুষ মাঝপথেই হারিয়ে যায়। কিন্তু মেসি শুরু থেকেই জানতেন—তিনি শুধু ভালো খেলোয়াড় হতে চান না, তিনি দেশের জন্য, নিজের ভালোবাসার ক্লাবের জন্য ইতিহাস গড়তে চান।   🎯 বার্সেলোনার প্রতি দায়বদ্ধতা অনেক ক্লাব প্রচুর টাকায় মেসিকে নিতে চেয়েছিল। তবু তিনি বার্সেলোনায় থেকে গেছেন ২১ বছর—শুধু পেশাদারিত্ব নয়, ভালোবাসা আর লক্ষ্য ছিল দলের সঙ্গে বড় কিছু করার।   🇦🇷 আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপানো স্বপ্ন বারবার হেরেছেন—বিশ্বকাপ ফাইনাল, কোপা আমেরিকা ফাইনাল। ম্যাচ শেষে কেঁদেছেন, দেশের সমালোচনা শুনেছেন, রাগ করে অবসরও নিয়েছিলেন। তবু ফিরে এসেছেন। কেন? কারণ তাঁর লক্ষ্য ছিল দেশের হয়ে কিছু জেতা। দেশের জন্য ইতিহাস গড়া। এবং ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা আর ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতে সেটা করে দেখিয়েছেন।   📚 শেখা: আমরা জীবনে অনেক কিছুই করতে চাই—ভালো রেজাল্ট, ভালো ক্যারিয়ার, নাম, খ্যাতি। কিন্তু যদি পরিষ্কার লক্ষ্য না থাকে, তাহলে মনোযোগ ছড়িয়ে যায়, উৎসাহ হারিয়ে যায়। তুমি যদি জানো, কোথায় যেতে চাও—তাহলে রাস্তা খুঁজে পাবে। আর যদি লক্ষ্যই না ঠিক করো, তাহলে দুনিয়ার কোনো GPS-ও তোমাকে পৌঁছে দিতে পারবে না।   মেসির জীবন বলে— "কোনো কিছুই অসম্ভব না, যদি তুমি জানো তুমি কিসের জন্য লড়ছো।"     উপসংহার   লিওনেল মেসির জীবন কেবল একজন ফুটবলারের ট্রফি আর রেকর্ডের গল্প নয় — এটা এক শান্ত, আত্মবিশ্বাসী, পরিশ্রমী মানুষের গল্প, যে নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করেছে লক্ষ্যে পৌঁছাতে।   আমরা সবাই জীবনে কোথাও না কোথাও আটকে যাই— 👉 কখনো শরীর, কখনো পরিস্থিতি, কখনো নিজের ভিতরের ভয় আমাদের থামিয়ে দেয়। কিন্তু মেসি শিখিয়ে দিয়েছেন, “যদি তুমি চুপচাপ নিজের পথে থাকো, পরিশ্রম চালিয়ে যাও, এবং লক্ষ্য না ভুলো — তাহলে একদিন পুরো দুনিয়া তোমার পাশে দাঁড়াবে।”   🧠 এই লেখায় যা শিখলাম: ✅ সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা না ✅ উন্নতি করতে হয় ধীরে ধীরে ✅ নম্রতা আর ধৈর্য আসল শক্তি ✅ পরিশ্রম ছাড়া কিছুই সম্ভব নয় ✅ স্পষ্ট লক্ষ্য থাকলে হার মানে না   ✨ শেষ কথা: "জাদু নেই, shortcut নেই — আছে কেবল বিশ্বাস, পরিশ্রম আর নিজের স্বপ্নে দাঁতে দাঁত চেপে লেগে থাকা।"   তুমি যদি আজ থেকে নিজের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করো, পরিশ্রম শুরু করো—তাহলে একটা সময় এসে তুমি নিজেকেই চিনতে পারবে না। কারণ তখন তুমি আর ‘সাধারণ’ থাকবা না — তুমি হবো নিজের জীবনের ‘মেসি’।

আয়ান তাহরিম জুন ২৬, ২০২৫ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0