Brand logo light

সাখাওয়াত আলী খান

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান।
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান এক জীবনের অফুরান প্রেরণার বাতিঘর

ড. মো. অলিউর রহমান:  তিনি নি নেই-এই সত্যটি আজও মেনে নিতে পারছিনা। তাই দুদিন ধরে মনটা খুব ভারী হয়ে আছে। মনে হচ্ছে, আমার খুব চেনা এক পৃথিবী হঠাৎ নিঃশব্দে হারিয়ে গেছে। তার চলে যাওয়া মানেই আমার একান্ত চেনাজগৎ থেকে আলো নিভে যাওয়া। যেন পরিচিত অক্ষরগুলো হঠাৎ ঝাপসা হয়ে যাওয়া। বলছি, আমার-আমাদের শিক্ষাগুরু অধ্যাপক সাখাওয়াত স্যারের কথা, যিনি আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর কয়েক দিনের চিকিৎসা শেষে রবিবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে আমার শিক্ষক, পথপ্রদর্শক ও পিতৃসম অভিভাবক 'শিক্ষাগুরু সাখাওয়াত আলী খান স্যার'। আমার একাডেমিক জীবনের প্রতিটি বাঁকেই তার স্নেহময় নির্দেশনা পেয়েছি। প্রায় ৯ বছর ধরে নানা চড়াই-উতরাই অভিজ্ঞতায় তার তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণার সময় আমি শুধু গবেষণার কর্মপদ্ধতিই শিখিনি, অধিকন্তু শিখেছি সততা, নৈতিকতা আর মানবিকতার এক নির্মল পাঠ। এমফিল অধ্যয়নকালেও তার স্নেহময় দিকনির্দেশনা আমাকে অধ্যয়ন-গবেষণার মর্মসন্ধানে অনুপ্রাণিত করেছিল। স্যারের বাসায় গিয়ে দীর্ঘ আলাপ, তার স্নেহময় পরামর্শ-সবই আজ স্মৃতির ভান্ডারে সমুজ্জ্বল। করোনাকালে খালাম্মা মালেকা খান ও স্যারের ছেলে নওশের আলী খানের কড়া অনুশাসন জারি থাকায় স্যারের সঙ্গে দেখা হতো না ঠিকই; কিন্তু স্যারের সঙ্গে মানবিক জীবনের ফোনালাপ ছিল নিয়মিত। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষার ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে সাখাওয়াত স্যারের নাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক (সম্মান) কোর্সের প্রবর্তন তারই হাত ধরে। তিনি বিভাগের চেয়ারম্যান থাকাকালে সাংবাদিকতা শিক্ষার একাডেমিক জগতের যে সম্প্রসারণ ঘটে, তা সময়ান্তরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক ধরে এ দেশে সাংবাদিকতা শিক্ষায় তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ সম্পাদনা ও ফিচার লিখন কোর্সে আমি আজও তার বিকল্প খুঁজে পাইনি-সম্পাদনার শিল্প, কৌশল ও দর্শনের গভীরতা তিনি যেভাবে বোধগম্য করে তুলতেন, তা ছিল সত্যিই অতুলনীয়। সাংবাদিকতায় ফিচার লেখাকে তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতার নিরিখে মানবিক জীবনের গল্প বলার সংবাদ-শিল্পকলায় উন্নীত করতে আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। 'সাখাওয়াত স্যার' এক উষ্ণ মানবিক সম্পর্কের নাম। তিনি ছিলেন আমার কাছে পরশ-মানবব্যক্তিত্ব। দেশ, কাল, সমাজ ও রাজনীতিসচেতন মানুষ ছিলেন তিনি, কিন্তু জাতীয় রাজনীতি তথা সুবিধাবাদী পালাবদলের পঙ্কিল রাজনীতির সামান্য কলুষতাও কোনো দিন তার পরিচ্ছন্ন ও সমুজ্জ্বল ব্যক্তিত্বকে এতটুকু কলুষিত করতে পারেনি। পরিস্থিতির শিকার হয়ে কর্মস্থলের নানা টানাপড়েন ও চড়াই-উতরাইয়ে যখন হতাশ হয়ে পড়তাম, তখন তিনি সান্ত্বনা দিতেন। পিতৃতুল্য অনুশাসনের স্বরে বলতেন- 'আর একটু ধৈর্য ধরো, সামনেই তোমার ভালো দিন অপেক্ষা করছে। তুমি আমাকে না জানিয়ে চাকরি বা দায়িত্ব ছাড়ার আর কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না কিন্তু।' তার এই স্নেহময় বাক্যগুলো আজও আমাকে নিয়ত পথ দেখায়। তার হাস্যোজ্জ্বল, যুক্তিবাদী ও সহিষ্ণু ব্যক্তিত্ব, ভিন্নমতকে শ্রদ্ধাভরে গ্রহণের গুণাবলি-এসব কাছ থেকে না দেখলে বা তার সান্নিধ্যে না এলে বোঝানো যাবে না। তিনি ছিলেন একাধারে অভিজাত পরিবারের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় সংগঠক এবং প্রগতিশীল চেতনার ধারক ও বাহক। স্যারের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষকতার জীবন অবধি বিভিন্ন পরিমণ্ডলে তার যে অপরিমেয় সান্নিধ্য আমি পেয়েছি, তা জ্ঞানচর্চার সততা ও নৈতিকতার কঠিন পাঠ, যা আজীবন আমাকে প্রেরণা জুগিয়ে যাবে। গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতা বিভাগ চালুর সময় তিনি শুরু থেকেই পাশে ছিলেন। ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর বিভাগের উদ্বোধন করেছিলেন তিনি নিজ হাতে। পাঠক্রম পরিকল্পনা থেকে ক্লাস পরিচালনা অবধি-সব ক্ষেত্রেই তার মূল্যবান পরামর্শ ছিল আমার অনন্য পাথেয়। জাতীয় জীবনে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশ্নে তিনি আমাকে প্রায়ই খোঁজ নিতে বলতেন। কে জানত, তার সেই অনুসন্ধিৎসু যোগাযোগ স্মৃতি একদিন হয়ে উঠবে এমন অফুরান প্রেরণার বাতিঘর। তিনি চলে গেছেন-এ কথা মনে হয় ভুল। কারণ, স্যার আসলে চলে যাননি। তিনি ফিরে এসেছেন আমাদের মূল্যবোধ জাগ্রত করতে-আমাদের চেতনার বর্ধিত পরিসরে। তার পরশ, তার উপস্থিতি আমরা চিরকাল টের পাব। সাংবাদিকতা শিক্ষার এই মহিরুহ, বহু শিক্ষকের শিক্ষক, আমার প্রিয় শিক্ষাগুরু অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। স্যার, আপনার কাছে আমরা চিরঋণী। লেখক: ড. মো. অলিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারপার্সন, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগ গ্রিন ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ। Ph.D. on RTI [1st Ph.D. Degree on the Right to Information Act in Bangladesh]; Title of Thesis: “Journalists’ Access to Information: Pre and Post-Situation Analysis of the Right to Information Act” Fellow of IIJ (Berlin) Germany,M. Phil. in Mass Communication, B.A (Hons.) & M. A in Mass Communication and Journalism।   এই নিবন্ধটি অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের স্মরণে তাঁর ছাত্র ড. মো. অলিউর রহমানের একটি আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি। নিবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:   এক জীবনের অফুরান প্রেরণার বাতিঘর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা: লেখক তাঁর প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁকে একজন শিক্ষক, পথপ্রদর্শক এবং 'পিতৃসম অভিভাবক' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতায় অবদান: অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদান রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ চালু করার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে তিনি এই পেশায় অসংখ্য শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন। ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ: তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল, যুক্তিবাদী এবং সহনশীল একজন মানুষ। লেখক উল্লেখ করেছেন যে, কঠিন সময়ে স্যার তাঁকে সাহস জোগাতেন এবং সততা ও নৈতিকতার সাথে পথ চলার শিক্ষা দিতেন। তাঁর সান্নিধ্য লেখকদের গবেষণায় এবং পেশাগত জীবনে গভীর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। শেষ জীবন: সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও শিক্ষা অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে।     ১. শোকের সূচনা নিবন্ধের শুরুতেই লেখক তাঁর প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, স্যারের চলে যাওয়া মানে তাঁর পরিচিত জগতের আলো নিভে যাওয়া। সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।   ২. শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে স্যার লেখক দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্যারের সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি তাঁকে শুধু শিক্ষক নয়, বরং একজন 'পিতৃসম অভিভাবক' ও পথপ্রদর্শক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ড. অলিউর রহমান তাঁর অধীনে পিএইচডি গবেষণা করেছিলেন এবং দীর্ঘ ৯ বছর স্যারের তত্ত্বাবধানে কাজ করার সময় তাঁর সততা, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলী কাছ থেকে দেখেছেন।   ৩. সাংবাদিকতা শিক্ষায় অবদান বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বিকাশে সাখাওয়াত আলী খানের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ (বর্তমানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ) চালুর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। প্রায় পাঁচ দশক ধরে তিনি সাংবাদিকতা শিক্ষার প্রসারে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। রিপোর্টিং, ফিচার লিখন এবং সংবাদ সম্পাদনার মতো জটিল বিষয়গুলোকে তিনি অত্যন্ত সহজ ও দর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতেন।   ৪. ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য লেখক স্যারের কিছু অনন্য গুণের কথা উল্লেখ করেছেন: তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও যুক্তিবাদী। কর্মক্ষেত্রের নানা চড়াই-উতরাইয়ে লেখক যখন হতাশ হতেন, তখন স্যার তাঁকে সাহস জুগিয়ে বলতেন, "আর একটু ধৈর্য ধরো, সামনে তোমার ভালো দিন অপেক্ষা করছে।" তিনি ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা জানাতেন এবং সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। পরিবার ও সমাজের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ ছিল অনুকরণীয়।   ৫. শেষ বিদায় ও কৃতজ্ঞতা নিবন্ধের শেষে লেখক অত্যন্ত আবেগপূর্ণভাবে বলেছেন যে, যদিও স্যার শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ ও শিক্ষা চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর সাংবাদিকতা বিভাগে স্যারের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। সবশেষে তিনি স্যারের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।   নিবন্ধটি শেষ হয়েছে স্যারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তাঁর প্রতি চিরস্থায়ী কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান
সাংবাদিকতার শিক্ষাগুরু অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান

ড. মো. অলিউর রহমান:  বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ শিক্ষক অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ৮ মার্চ। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে সাংবাদিকতার একাডেমিক শিক্ষাঙ্গনে আলোকবর্তিকারূপে অবদান রেখে গেছেন। তিন যুগের বেশি সময় ধরে তিনি ছিলেন আমার শিক্ষাগুরু। অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান শুধু আমারই শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বহু সফল শিক্ষকের শিক্ষক। তাঁর সান্নিধ্যেই আমার একাডেমিক ও গবেষণাজীবনের ভিত্তি নির্মিত হয়েছে। প্রায় ৯ বছর তাঁর তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণা করেছি; এমফিল অধ্যয়নকালেও তাঁর নির্দেশনায় অধ্যয়ন-গবেষণার গভীরে নিবিষ্ট হতে পেরেছি। একজন শিক্ষক কীভাবে ছাত্রকে চিন্তার স্বাধীনতা দেন, গবেষণায় ধৈর্য শেখান এবং নৈতিকতার ভিত গড়ে দেন—স্যারের কাছেই তার অফুরান বাস্তব শিক্ষা পেয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক (অনার্স) কোর্স প্রবর্তনের মাধ্যমে স্যার সাখাওয়াত আলী খান বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষায় নতুন এক যুগের সূচনা করেছিলেন। এ দেশের সাংবাদিকতা শিক্ষা, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক সময় ধরে অবদান রেখে গেছেন, যা আজ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অধ্যয়নে একটি ঐতিহ্যের ধারক হয়ে উঠেছে। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম সাংবাদিকতা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষায় দীক্ষিত করেছেন। বিশেষ করে সম্পাদনা কোর্সে তাঁর দক্ষতা ছিল অনন্য—সম্পাদনার আর্ট, ক্রাফট ও দর্শনের যে গভীরতা তিনি তুলে ধরতেন, তার বিকল্প দেখিনি এ দেশে। স্যারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গণ্ডি ছাড়িয়ে এক গভীর মানবিক গুরু-শিষ্যের বন্ধনে আবদ্ধ। নিয়মিত তাঁর বাসায় যেতাম। গবেষণা, সাংবাদিকতা শিক্ষা, গণমাধ্যমের নৈতিকতা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রশ্ন—সবকিছু নিয়েই তাঁর সঙ্গে কথা হতো। করোনা মহামারির সময় সরাসরি দেখা কম হলেও ফোনালাপ ছিল নিয়মিত। তাঁর সহধর্মিণী মালেকা খান ও তাঁর সুযোগ্য সন্তান নওশের আলী খান স্যারকে যে নিবিড় যত্নে দেখাশোনা করতেন, তা সব সময় আমাকে গভীরভাবে আমার অন্তরতল স্পর্শ করত। গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে ‘জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন’ বিভাগ চালুর সূচনা থেকেই তিনি আমাকে অকুণ্ঠ সহযোগিতা দিয়েছেন। ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করেছিলেন তিনি। পাঠক্রম নির্মাণ, বিভাগীয় পরিকল্পনা, শিক্ষাদান—সব ক্ষেত্রেই তাঁর অমূল্য পরামর্শ ছিল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ, ইউল্যাব, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও গ্রিন ইউনিভার্সিটিসহ তিনি সাংবাদিকতা শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন উদারমনস্ক, প্রগতিশীল ও গভীর মানবিকতার মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই শিক্ষাগুরু ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করতেন, অন্যের কথা মন দিয়ে শুনতেন এবং যুক্তির আলোয় আলোচনাকে প্রাণবন্ত করতেন। কর্মজীবনের নানা সংকটে তিনি আমাকে ধৈর্য ধরতে শিখিয়েছেন। বলতেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভেবে নেবে, তাড়াহুড়া কোরো না।’ তাঁর সেই মমতা ও প্রজ্ঞা আজও আমার পথচলার অপার প্রেরণা। সাখাওয়াত আলী খান স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন—এই সত্য মেনে নেওয়া কঠিন। তবু মনে হয়, তিনি হারিয়ে যাননি, তিনি ফিরে ফিরে আসবেন আমাদের মাঝে। তাঁর শিক্ষা, চিন্তা, নৈতিকতা ও মানবিকতার আলো আমাদের প্রজন্মের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবে অনাগতকাল। আমার শিক্ষাগুরু, সাংবাদিকতা শিক্ষার এই মহিরুহ ও দিশারি শিক্ষককে জানাই গভীরতম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।   ড. মো. অলিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারপার্সন, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম যোগাযোগ বিভাগ গ্রিন ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান
সাংবাদিকতা শিক্ষার পথিকৃৎ সাখাওয়াত আলী খানকে নরসিংদীতে দাফন

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষা ও গণমাধ্যম গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানকে তার নিজ গ্রাম নরসিংদীর শিবপুরে দাফন করা হয়েছে। সোমবার (১০ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে, তার মা খালিকা আক্তারের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার রাতে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে তিনি স্ট্রোক করেছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাসায় ফিরেছিলেন। কিন্তু রবিবার রাতে হঠাৎ আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গন, শিক্ষা মহল এবং নাগরিক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নরসিংদীতে শেষ বিদায় সোমবার দুপুরে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জানাজায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ এবং এলাকাবাসী অংশ নেন। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান খান, শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হারিস রিকাবদার এবং সাধারণ সম্পাদক আবু ছালেক রিকাবদার। এছাড়াও নরসিংদী আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল হান্নান ভূঁইয়া, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম শাহজাহানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। “তিনি ছিলেন নেতার নেতা” জানাজায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, “সাখাওয়াত আলী খান অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী এবং গুণী একজন বুদ্ধিজীবী ছিলেন। তিনি ছিলেন নেতার নেতা—এ কথা অনেকেই হয়তো জানেন না। তার মেধা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “শুধু ধানুয়া বা শিবপুর নয়, তিনি পুরো বাংলাদেশের কৃতী সন্তান। সাংবাদিকতা করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন এবং কলামিস্ট হিসেবেও তার লেখনী ছিল অত্যন্ত ক্ষুরধার। অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন তিনি।” অন্যদিকে সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী বলেন, “আমরা দোয়া করি, আল্লাহপাক দুনিয়াতে সাখাওয়াত আলী খান স্যারকে যে সম্মান দিয়েছেন, আখিরাতেও তাকে সেই সম্মান দান করুন। তার জীবনের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তার ভালো কাজগুলো কবুল করুন।” মুক্তিযুদ্ধের সময় আশ্রয়স্থল বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান খান বলেন, “আমরা একজন অভিভাবক হারালাম। সক্রিয় রাজনীতি না করলেও তিনি ছিলেন বিচক্ষণ বামপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার এই বাড়ি আমাদের আশ্রয়স্থল ছিল।” তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তিনি পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছিলেন। পরিবারের শোক জানাজায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মরহুমের ছেলে নওশাদ আলী খান বলেন, “বাবা আমাদের ছায়া ছিলেন। যদি কারও মনে তিনি কষ্ট দিয়ে থাকেন, ক্ষমা করে দেবেন। তার জন্য দোয়া করবেন। আর যদি কারও কোনো পাওনা থেকে থাকে, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।” তার পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী সমাজকর্মী মালেকা খান, মেয়ে সুমনা শারমীন এবং ছেলে নওশাদ আলী খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সহকর্মীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে তার মরদেহ নিজ জেলা নরসিংদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সাংবাদিকতা থেকে শিক্ষকতা সাখাওয়াত আলী খান ১৯৪১ সালে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশাগত জীবন শুরু করেন সাংবাদিকতা দিয়ে। প্রায় এক দশক দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তাকে সাংবাদিকতা শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখার সুযোগ করে দেয়। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং দীর্ঘ সময় সেখানে শিক্ষকতা করেন। ২০০৮ সালে তিনি অবসরে গেলেও পরবর্তী পাঁচ বছর “সুপারনিউমারারি” অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ওই বিভাগের অনারারি প্রফেসর হিসেবে যুক্ত ছিলেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও নাগরিক সংগঠনে ভূমিকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও তিনি দেশের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নয়, নাগরিক সমাজেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। তিনি কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট নামের একটি সামাজিক সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন। সাংবাদিকতা শিক্ষায় অবদান বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বিকাশে সাখাওয়াত আলী খানের অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তার সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করার সময় তিনি সংবাদ বিশ্লেষণ, গণমাধ্যম নীতি এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ বিষয়ে গবেষণা ও পাঠদান করেছেন। তার শিক্ষার্থীদের অনেকেই বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিতি যদিও তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে তার পরিচিতি ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র, গণমাধ্যম স্বাধীনতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ে তার বিশ্লেষণ ও মতামত বিভিন্ন সময় আলোচিত হয়েছে। তার সহকর্মীরা বলেন, তিনি বামঘেঁষা প্রগতিশীল চিন্তাধারার একজন বুদ্ধিজীবী ছিলেন, যিনি গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলতেন। একজন শিক্ষক, সাংবাদিক ও চিন্তাবিদ সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মতে, সাখাওয়াত আলী খান ছিলেন একজন শিক্ষক, সাংবাদিক এবং চিন্তাবিদ—এই তিন পরিচয়ের সমন্বয়। তার শিক্ষকতা, লেখালেখি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড তাকে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার মৃত্যুতে শুধু একজন শিক্ষাবিদ নয়, বরং সাংবাদিকতা শিক্ষা ও গণমাধ্যম চিন্তার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলে মনে করছেন অনেকেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0