ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাভারের আশুলিয়ার গণকবাড়ী এলাকায় ঢুকতেই দূর থেকে চোখে পড়ে সারি সারি ঝকঝকে সুউচ্চ ভবন। কাচঘেরা আধুনিক স্থাপনা, প্রশস্ত রাস্তা, গোলাকার লাইটপোস্ট, সাজানো বাগান আর আকাশছোঁয়া আবাসিক টাওয়ার—সব মিলিয়ে জায়গাটি যেন কোনো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি নগরী বা বিদেশি গবেষণা কমপ্লেক্সের অংশ। কিন্তু মূল ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। বিশাল সব ভবন দাঁড়িয়ে আছে, অথচ নেই মানুষের আনাগোনা। আধুনিক আবাসিক টাওয়ার আছে, কিন্তু সেখানে বসবাসের কেউ নেই। কোটি কোটি টাকার লিফট, ডরমিটরি, কোয়ার্টার ও অফিস ভবন যেন ব্যবহারের অপেক্ষায় নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জিন গবেষণার নামে নির্মিত জাতীয় জিন ব্যাংক প্রকল্প এখন প্রশ্নের মুখে—এটি কি সত্যিই গবেষণা অবকাঠামো, নাকি “ভবন নির্মাণকেন্দ্রিক” একটি প্রকল্প? ছোট প্রকল্প থেকে ‘মেগা অবকাঠামো’ পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি) ২০১৮ সালে “জাতীয় জিন ব্যাংক” প্রকল্প হাতে নেয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের জিন সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও গবেষণা। দেশের জিনগত সম্পদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করাই ছিল এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে প্রকল্পটি ছিল তুলনামূলক ছোট পরিসরের। প্রায় ৫০ কোটি টাকার মধ্যে একটি কার্যকর জিন ব্যাংক স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রকল্পে একের পর এক অবকাঠামো যুক্ত হতে থাকে। ল্যাব ভবনের সঙ্গে যোগ হয় কর্মকর্তাদের আবাসিক টাওয়ার, স্টাফ কোয়ার্টার, ভিআইপি ডরমিটরি, পরিচালক বাংলো, সাবস্টেশন ও অন্যান্য স্থাপনা। শেষ পর্যন্ত প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৫০৪ কোটি টাকায়। প্রশ্ন উঠেছে—একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য এত বিপুল আবাসিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনার প্রয়োজনীয়তা কতটা ছিল? গবেষণার চেয়ে বেশি ‘রিয়েল এস্টেট’? সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এনআইবির মূল ভবনের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে ১২ তলা জাতীয় জিন ব্যাংক ও ল্যাব ভবন। চকচকে দেয়ালে বড় অক্ষরে লেখা—“জাতীয় জিন ব্যাংক”। ভবনের সামনে ছোট ছোট ঝাউগাছ ও পামগাছ দিয়ে সাজানো বাগান। দূর থেকে এটি দেশের অন্যতম আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাকেন্দ্র বলেই মনে হয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ল্যাব ভবনের পাশেই রয়েছে কর্মকর্তাদের জন্য ১৪ তলা ও ১০ তলা আবাসিক ভবন। কিছুটা দূরে ২০ তলা ও ১০ তলার বিশাল স্টাফ কোয়ার্টার। আরো রয়েছে ১০ তলা ভিআইপি ডরমিটরি এবং আলাদা পরিচালক বাংলো। তবে এসব ভবনের বড় অংশই এখনো কার্যত জনমানবশূন্য। বারান্দাগুলো ফাঁকা, করিডরে নেই মানুষের শব্দ, আবাসিক ভবনের সামনে নেই কোনো দৈনন্দিন জীবনের চিহ্ন। স্থানীয়দের কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলছেন, “জিন ব্যাংকের নামে আসলে জ্বিনের আবাসস্থল বানানো হয়েছে।” ভবন আছে, নেই জনবল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের জুনে। কিন্তু এখনো পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়নি। মূল কারণ—প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব। ডিপিপি অনুযায়ী, জাতীয় জিন ব্যাংক পরিচালনার জন্য ২৫৪ জন জনবলের প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তিন ধাপে ৫৮টি পদ সৃষ্টির সম্মতি দেয়, যার মধ্যে ৩১টি পদ ছিল জিন ব্যাংকের বিভিন্ন ডিভিশনের জন্য। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৬ জুন অর্থ বিভাগ সেই সংখ্যা কমিয়ে দুই ধাপে ৪৪টি পদ অনুমোদন করে। তবে এখনো সেই ৪৪ জন নিয়োগেরও ছাড়পত্র মেলেনি। ফলে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এনআইবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে মোট জনবল ৮৬ জন। এর মধ্যে কর্মকর্তা ৫৫ জন এবং কর্মচারী ৩১ জন। অথচ আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রায় ১৮০ জনের জন্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষায়, বাস্তবে এত আবাসনের প্রয়োজনই ছিল না। কেন খালি পড়ে আছে আবাসিক টাওয়ার? এনআইবির কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আশপাশে তুলনামূলক কম ভাড়ায় বাসা পাওয়া যায়। ফলে সরকারি কোয়ার্টারে উঠতে অনেকে আগ্রহী নন। কারণ সরকারি আবাসনে থাকলে বেতন থেকে যে পরিমাণ ভাড়া কাটা হয়, বাইরে তার চেয়েও কম খরচে বাসা ভাড়া পাওয়া সম্ভব। তাঁদের মতে, জিন ব্যাংকের জন্য একটি আধুনিক গবেষণা ভবনই যথেষ্ট ছিল। মূল প্রয়োজন ছিল গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব স্থাপন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া তরুণ গবেষকদের জন্য গবেষণার সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু বাস্তবে গবেষণার চেয়ে ভবন নির্মাণেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দায় নিচ্ছে না কেউ অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রকল্প তৈরির সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না। প্রকল্প প্রণয়নের সময় এনআইবির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ছিলেন ড. মো. সলিমুল্লাহ। তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয় করেছে; আমরা শুধু বাস্তবায়ন করেছি।” অন্যদিকে এনআইবির বর্তমান মহাপরিচালক ড. মো. ছগীর আহমেদ বলেন, প্রকল্পের আওতায় নির্মিত অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ভবনগুলোর “সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে” সরকারের উচ্চ পর্যায় ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জনবলই নিশ্চিত হয়নি, সেখানে শত শত কোটি টাকার আবাসিক অবকাঠামো নির্মাণের যৌক্তিকতা কী ছিল? জাতীয় জিন ব্যাংক প্রকল্প এখন তাই শুধু একটি গবেষণা উদ্যোগ নয়; এটি বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনা, অগ্রাধিকার ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল–মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল–৪–এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলমকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একাধিক সূত্র, অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি, কমিশন বাণিজ্য এবং একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মতো অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। দরপত্র ও প্রকল্প বণ্টনে প্রভাবের অভিযোগ সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘ সময় একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সুযোগে তিনি একটি প্রভাব বলয় গড়ে তোলেন, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে বড় প্রকল্পের কাজ পেত। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের শর্ত প্রভাবিত করা এবং নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ছিল। একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বারবার বড় অঙ্কের প্রকল্প পাওয়ায় দপ্তরের ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কাজ অনুমোদন এবং বিল দ্রুত অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনিয়মের বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। পারিবারিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগের আরেকটি অংশে তার পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। বিশেষ করে তার ছোট ভাই অংকুরের নাম উল্লেখ করে কিছু সূত্র দাবি করছে, প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে ঠিকাদারি কার্যক্রমে সুবিধা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থানও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক অবস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব সূত্রগুলো আরও বলছে, তিনি ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে ছিলেন। বদলি নীতির প্রচলন থাকা সত্ত্বেও একই এলাকায় ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এর ফলে প্রকল্প বণ্টন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়তে পারে—এমন আলোচনা দপ্তরের ভেতরে রয়েছে বলে জানা যায়। মামলা ও আইনি প্রক্রিয়ার দাবি একটি অংশের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার একটি আদালতে দায়ের হওয়া একটি মামলায় (সিআর মামলা নং–১১৮/২০২৫) গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই নথিতে সরকারি তহবিল ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প বরাদ্দে অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে আদালতের নথি, অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা এবং তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনো পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি। সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ অভিযোগপত্র ও সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ই/এম সার্কেল–৪–এর অধীনে একটি সমন্বিত প্রভাব বলয় গড়ে উঠেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে— দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বিল অনুমোদনে অনিয়ম এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে অবস্থান মো. তৈমুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে তার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত নয় এবং প্রশাসনিক জটিলতা বা প্রক্রিয়াগত বিষয়কে অনেক সময় ভুলভাবে অনিয়ম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রশ্ন সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়গুলো তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো সংস্থায় প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় নজরদারি জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না, তবে প্রশাসনিক জবাবদিহি ও তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। সামগ্রিক চিত্র সব মিলিয়ে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম সার্কেল–৪–কে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ এখনো মূলত বিভিন্ন পক্ষের দাবি, নথি ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগগুলোর কতটুকু সত্য এবং কতটুকু প্রমাণযোগ্য—তা নির্ধারণ করবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া। এদিকে সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক মহলে।
ইত্তেহাদ নিউজ : রাষ্ট্রীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগকেন্দ্রিক অনিয়ম সংক্রান্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়া তীব্র আকার ধারণ করেছে। ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পিআইবি মহাপরিচালক পদে ফারুক ওয়াসিফ যোগদানের কিছুদিন পর থেকে বিধি বর্হিভূত ভাবে পরিচালক (প্রশাসন), উপ-পরিচালক, সিনিয়র রিসোর্স অফিসার, সিনিয়র প্রশিক্ষক সহ বিভিন্ন পদে অস্থায়ী ভাবে অর্থের বিনিময়ে তার বন্ধু, বান্ধবী ও আত্মীয় স্বজন নিয়োগ দিয়েছেন। আর্থিক অনিয়ম ও অস্থায়ী ভাবে পরিচালক নিয়োগ নিয়ে নিয়মের কথা বলায় মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে হিসাব রক্ষক (চ.দা.) মোঃ আলী হোসেন-কে অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক অবসরে পাঠান। অবৈধভাবে ডেপুটেশনে পাঠানো হয় পারভীন সুলতানা রাব্বী (লাকী)কে গত ১৭ বছর আওয়ামীলীগের অন্যায় অত্যাচার, পদোন্নতি বঞ্চিত ও নির্যাতনের শিকার পরিচালক (অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ, অতি.দা.) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শামসুন নাহার হলের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রেসিডেন্ট (সাবেক) পারভীন সুলতানা রাব্বী (লাকী)কে এক রাতে নোটিশে সংযুক্ত করে পাঠিয়ে দেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে।অথচ পিআইবি'র চাকুরি ডেপুটেশন বা বদলিযোগ্য নয়। পিআইবি বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রশিক্ষণ মডিউল, জেন্ডার টুলকিট, রিসোর্স পেপারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করিয়ে নানা অপবাদ দিয়ে সেই কাজ ছিনিয়ে নিয়ে তার বান্ধবী সহযোগী অধ্যাপক মনিরা পরমিন (অস্থায়ী নিয়োগ), বন্ধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল মামুন, আত্মীয় ফারুকসহ নিজের লোকদের কাছে দিয়ে নিজের নামে প্রকাশ করেছেন। স্টলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর বই দেখে রেগে যান ডিজি ফারুক ওয়াসিফ অন্তবর্তী সরকারের সময়ে জুলাই নিয়ে কিছু কাজ করলেও, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপির হাজার হাজার নেতা কর্মীদের নিপিড়ন ও নির্যাতন, মামলা -হামলা নিয়ে কোন কাজ করেননি, বরং তারুন্য উৎসবের মেলায় পারভীন সুলতানা রাব্বী পিআইবি'র বইয়ের স্টলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর উপরে লেখা কিছু বই প্রদর্শনী করতে গেলে "এটা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়" বলে ভূচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে রাগারাগি করেন ফারুক ওয়াসিফ। নতুন মলাটে পুরাতন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ২০০৩ সালে প্রকাশিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে লিখিত বইকে নতুন মলাটে ঢেকে পূণর্মুদ্রণ দেখিয়ে পুরাতন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান করেন বিএনপির মহাসচিবকে দিয়ে, অথচ গত ১৮ মাসে অফিস চেম্বারে বসে প্রতিনিয়াত বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল এবং দলের সর্বোচ্চ নেতাকে দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে পিআইবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিপীড়ন করেছেন ডিজি ফারুক ওয়াসিফ। বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর নির্যাতন নীপিড়ন ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পিআইবি মহাপরিচালক পদে ফারুক ওয়াসিফ যোগদানের পর সাবেক ছাত্রদল নেতা পারভীন সুলতানা রাব্বীর নেতৃত্বে বিএনপি ঘরানার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি তাকে সকল কাজে শতভাগ সমর্থন সহযোগিতা করেছে। কিন্তু কিছু দিন পর থেকেই প্রতারণামূলক আচরণ শুরু করে নিজের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত অযোগ্য (২৫ থেকে ৩০জনকে অবৈধ উপায়ে নিয়োগ দেন এবং ধীরেধীরে বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর নির্যাতন নীপিড়ন শুরু করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- বিএনপি সমর্থিত ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের কয়েকজন কর্মকর্তাদের কর্মবিহিন করে রাখা হয়েছে। তাদেরকে নানা ভাবে হয়রানি ও চাকুরিচ্যুত করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষক মোহাম্মদ শাহ আলম-কে শোকজ দিয়ে চাকুরিচ্যুত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এম এল এস এস মো: মাহবুব আলম-কে ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারী দেরকে নানা ভাবে তার পালিত লোকজন দ্বারা অত্যাচার, নির্যাতন ও চাকুরী খেযে নেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। সদ্য অবসর প্রাপ্ত একেএম ফরিদ উদ্দিন এর দেনা পাওনা চাইতে গেলে ডিজি ফারুক ওয়াসিফ তাকে অফিস থেকে রেব করে দেয়। স্থায়ী ভাবে কর্মরত সকলের নামে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব এর নিকট মিথ্যা বনোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে তার (ফারুক ওয়াসিফ) নিজের অনিয়ম, চুরি, দুর্নীতি, নিয়োগ বানিজ্য ও কুকীর্তি আড়াল করছেন। আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি পিআইবিতে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এক দিনে ৪ কর্মশালা: ভুয়া বিল ভাউচার,২৩ লক্ষ ৯৭ হাজার পাঁচ শত টাকা আত্মসাত ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ তারিখে তারুণ্যের উৎসব-২০২৫, জুলাই গণ অভ্যুত্থান। সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনার, গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে একই দিনে ৪-টি কর্মশালা দেখিয়ে ২৩ লক্ষ ৯৭ হাজার পাঁচ শত) টাকার ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করেছেন। এ বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, টিভি , অনলাইন পত্রিকায় অনুসন্ধানী মুলক সংবাদ ছাপা হয়েছে। নয় মাসের কর্মকান্ডের ১৭ অডিট আপত্তি সদ্য সমাপ্ত সরকারী অডিটে ফারুক ওয়াসিফ-এর ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের মাত্র নয় মাসের কর্মকান্ডের উপর ১৭-টি অডিট আপত্তি করেছে। যার মধ্যে রয়েছে আর্থিক অনিয়ম, অবৈধ নিযোগকৃত দের প্রদত্ত বেতন- বোনাস, তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ নামে ২৩,৯৭,৫০০ টাকা নগদে বিল পরিশোধ, এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয়। ফারুক ওয়াসিফ আপত্তি নিয়ে তিনি কর্মকর্তাদের বলছেন, এ সব কিছু হবে না তথ্য সচিব-কে সব অবহিত করা হয়েছে। তথ্য সচিব আমাকে বলেছেন আপনি চিন্তা করবেন না আমি অডিটের ডিজিকে বলে আপত্তি নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করব। আপনি যত দ্রুত পারেন অস্থায়ীদের স্থায়ী করার ব্যবস্থা নেন। আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির উদ্দীন চৌধুরী এই সব কাজে সহযোগিতা করছেন পিআইবির সুবিধাভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা, কর্মচারী এর মধ্যে এক জন অবসর গ্রহণকারী হিসাব অফিসার মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী যাকে বর্তমান মহাপরিচালক বিধিবর্হিভূত ভাবে অস্থায়ী ভাবে উচ্চবেতনে উপ-পরিচালক প্রশাসন পদে বসিয়ে অবৈধ ভাবে আয়ন- ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়ে চুরি, দুর্নীতি ও লুটপাট করে যাচ্ছেন। একজন অস্থায়ী ভাবে কর্মরত কর্মকর্তা কখনই সরকারী অর্থ লেনদেনের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হতে পারে না। অবৈধ কাজে সহযোগিতা করার জন্য ভয় ভীতি প্রদর্শন এ ছাড়া ফারুক ওয়াসিফ অবৈধ কাজে সহযোগিতা করা, তার পক্ষে কথা বলা, স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রুমে রুমে গিয়ে ভয় ভীতি দেখান কয়েকজন কর্মচারী-কে অবৈধ ভাবে পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, কোর্সের আর্থিক সুবিধা প্রদান করার মাধ্যমে অফিসে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করে রেখেছেন। আওয়ামী সমর্থকদের নিয়ে বিএনপি সমর্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিতাড়িত করার চেষ্টা বর্তমানে ফারুক ওয়াসিফ আওয়ামীলীগের সময়ে নিয়োগকৃতদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সমর্থিত ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিতাড়িত করার কাজে ব্যস্ত। অন্য দিকে তিনি বিএনপির উপর মহলে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজে বিএনপি সাজার চেষ্টা করছে। ২০০৯-২০২৩ পর্যন্ত প্রথমআলো ও সমকালে বিএনপির বিরদ্ধে অসংখ্য উপ-সম্পাদকীয় লিখেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ করেছেন পি়আইবির নিপিড়ীত ও নির্যাতিত কর্মকর্তা -কর্মচারীরা। পিআইবির ব্যয় ফারুক ওয়াসিফের নাম ঘিরে এই বিতর্ক সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম উন্নয়নে কাজ করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ—পিআইবির সম্প্রতি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আলোচনায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের নাম ঘিরে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে গণমাধ্যম অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠছে। পিআইবির নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উপলক্ষে কয়েকটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল একটি সংগীতসন্ধ্যা, একটি প্রদর্শনী এবং দুটি সেমিনার। চারটি কর্মসূচির জন্য মোট প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একটি জাতীয় দৈনিক। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। নথিতে উল্লেখ আছে—সেমিনার দুটিতে অংশগ্রহণকারী ২০০ জন করে মোট ৪০০ জনকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আলোচকদের সম্মানী, নাশতা ও মধ্যাহ্নভোজ, যাতায়াত ভাতা এবং সাজসজ্জাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ দেখানো হয়েছে। তালিকায় থাকা কয়েকজন সাংবাদিক ও পেশাজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, সংশ্লিষ্ট সেমিনারে তারা অংশ নেননি। কেউ কেউ তাদের নামে দেওয়া স্বাক্ষরকেও ভুয়া বলে দাবি করেছেন।এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষক ও সাংবাদিকের নাম আলোচক হিসেবে দেখানো হলেও তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, ওই সময় পিআইবির কোনো সেমিনারে তারা উপস্থিত ছিলেন না। অনুষ্ঠানগুলোর জন্য জমা দেওয়া বিভিন্ন ভাউচারও যাচাই করে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিল নিয়ে সংশ্লিষ্ট দোকান বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই ধরনের কাজ তারা করেনি বা ভাউচারের স্বাক্ষর তাদের নয়।খাবারের বিল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁর কর্মীরা জানিয়েছেন, ওই সময় এত বড় কোনো অর্ডারের তথ্য তাদের কাছে নেই। পিআইবির ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে সাধারণত প্রতিষ্ঠানটির কর্মসূচির ছবি ও তথ্য প্রকাশ করা হয়। কিন্তু বিতর্কিত সেমিনার দুটির কোনো ছবি, ভিডিও বা প্রেস বিজ্ঞপ্তি সেখানে পাওয়া যায়নি। এছাড়া পিআইবির ভবনে একসঙ্গে ২০০ জনের সেমিনার আয়োজনের উপযুক্ত কক্ষ রয়েছে কি না—সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মহাপরিচালকের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগকারীরা বলেছেন, মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ নিয়োগ বানিজ্য,অনিয়ম,দুর্নীতির বিষয়গুলো আড়াল করতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাপ দিচ্ছেন। এদিকে পিআইবি ভবনে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সুবিধা অর্জনের মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নানা অভিযোগের মুখে বর্তমানে মহাপরিচালকের বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি গবেষণা, সিনিয়র সাংবাদিক,গণমাধ্যম সংগঠন ও সাংবাদকর্মীদের তরফ থেকে করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।