Brand logo light

মব সহিংসতা

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
মব সহিংসতা ও কিশোর গ্যাং দমনে কার্যকর ভূমিকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শনিবার (৯ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। আগামীকাল ১০ মে শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরেছে।” তিনি আরও বলেন, জনগণ এখন এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রত্যাশা করে যেখানে গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না এবং মানুষ জানমাল, অবিচার বা নির্যাতনের শঙ্কামুক্ত জীবনযাপন করতে পারবে। এই পরিস্থিতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। “জনগণের আস্থা ছাড়া পুলিশের কাজ কঠিন” প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই। তবে জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে পুলিশের দায়িত্ব পালন আরও সহজ হবে। তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। তাঁর ভাষায়, পুলিশ সপ্তাহ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জনগণের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি সুযোগ হওয়া উচিত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার বিবৃতিতে সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার একটি “সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র” গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে মানুষের মনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত না হলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার।” নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উপযোগী ও অনুকূল পরিবেশ পেলে পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম—সাম্প্রতিক নির্বাচন সেই সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের উল্লেখ বাংলাদেশ পুলিশের আন্তর্জাতিক অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের ভূমিকা বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। “জননিরাপত্তায় বিনিয়োগ অপরিহার্য” প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতি একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এজন্য পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৯, ২০২৬ 0
এইচআরএসএস
৭৫ সাংবাদিক হয়রানির শিকার, মব সহিংসতায় ২২ নিহত: মানবাধিকার প্রতিবেদন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি। মঙ্গলবার (৫ মে) প্রকাশিত সংগঠনটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাসজুড়ে অন্তত ৭৫ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। মোট ৪০টি ঘটনায় সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪২ জন আহত, ১৭ জন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং ১০ জন হুমকির মুখে পড়েন। এছাড়া তিনজন সাংবাদিককে আটক করা হয় এবং চারটি মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি বলছে, একই সময়ে দেশে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৪৪টি ঘটনায় ২২ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব সহিংসতা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়। রাজনৈতিক সহিংসতাও এপ্রিলে অব্যাহত ছিল। ৯৮টি ঘটনায় ছয়জন নিহত এবং ৫৩৩ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদাবাজি এসব ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, সাতটি জনসভা ও সমাবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ৪৯ জন আহত এবং দুজন আটক হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টকে কেন্দ্র করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রও প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক হিসেবে উঠে এসেছে। এপ্রিল মাসে ২৯৪ জন নারী ও কিশোরী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৮টি ধর্ষণ এবং ৭৯টি যৌন হয়রানির ঘটনা রয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় মারা গেছেন ৬৪ জন নারী। শ্রম খাতেও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র পাওয়া গেছে। কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা ও অনিরাপদ পরিবেশে ১৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
মাজারে হামলা নেপথ্য
বার বার মাজারে হামলার নেপথ্য, উত্তেজনা, সংগঠিত সহিংসতা ও মব

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুষ্টিয়ায় একটি পীরের দরগায় হামলার ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয়—বরং সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বাড়তে থাকা ‘মব জাস্টিস’-এর একটি উদ্বেগজনক প্রতিচ্ছবি। ইসলাম বিকৃতির অভিযোগ ঘিরে গত শনিবার ‘শামীম বাবার দরবার শরিফে’ যে হামলা হয়, তার আগে-পরে ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে উঠে আসে উত্তেজনা ছড়ানো, সংগঠিত আক্রমণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধের ঘাটতির এক জটিল চিত্র।  হামলার দিন: আলোচনার বদলে আক্রমণ ঘটনার সময় দরগার ভেতরেই ছিলেন এর প্রধান আব্দুর রহমান শামিম, যিনি নিজেকে পীর হিসেবে পরিচয় দিতেন। উপস্থিত ছিলেন দরগার খাদেম জামিরন নেসাও। তার বর্ণনায়, হামলার আগে এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল—পীর ইসলামবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। জামিরন নেসা বলেন, শুরুতে ধারণা ছিল স্থানীয় মানুষ আলোচনা করতে আসবেন। “পীর বাবা বলছিলেন, আমার যদি ভুল হয়, আমি মেনে নেবো—কিন্তু তারা যেন কথা বলে,” জানান তিনি। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। এক থেকে দেড়শো মানুষ লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে দরগায় ঢুকে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শামিম আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। তিনি দুই হাত তুলে থামতে বললেও হামলাকারীরা তা উপেক্ষা করে। এলাপাতাড়ি হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি এবং পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।  ‘ধর্ম অবমাননা’—উত্তেজনা তৈরির হাতিয়ার? এই হামলার পেছনে অন্যতম ট্রিগার হিসেবে উঠে এসেছে একটি ভিডিও। অভিযোগ—পীরের পুরনো বক্তব্য কেটে সম্পাদনা করে তা ‘কোরআন অবমাননা’ হিসেবে প্রচার করা হয়। অনুসারীদের দাবি, এটি ছিল বিকৃত উপস্থাপন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি পরিচিত প্যাটার্ন। প্রথমে ‘ধর্ম অবমাননা’ বা ‘ইসলাম রক্ষার’ আহ্বান ছড়ানো হয়, এরপর তা জনরোষে রূপ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলেন, ধর্মীয় আবেগকে সামনে আনা হলে সাধারণ মানুষ দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে—কিংবা নীরব থাকে। এতে সহিংসতার ক্ষেত্র তৈরি হয়। তার ভাষায়, “ইসলাম রক্ষার নামে একটি নিয়ন্ত্রণমূলক আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই পরিকল্পিত।” লুটপাট ও অর্থনৈতিক স্বার্থ এই হামলাকে শুধুই ধর্মীয় উত্তেজনার ফল হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র ধরা পড়ে না। ঘটনাস্থলে লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে। নিহতের ভাইয়ের করা মামলায় দরগার সম্পদ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। খাদেম জামিরন নেসাও বলেন, হামলার সময় একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটে জড়িত ছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় অভিযোগকে ব্যবহার করা হয় জমি দখল বা সম্পদ লুটের আড়াল হিসেবে।  ধর্মীয় বয়ান ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে কিছু ধর্মীয় বক্তৃতায় নির্দিষ্ট পীর, মাজার বা মতাদর্শকে ‘বিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা রয়েছে। যদিও ইসলামী গবেষক ড. ওয়ালীয়ুর রহমান দাবি করেন, এসব সহিংসতার পেছনে ‘বড় আলেমদের’ নির্দেশনা থাকে না। তার মতে, অনেক সময় কম শিক্ষিত বা উত্তেজিত তরুণরাই এমন ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ধর্মীয় বয়ানে সতর্কতার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, ইমাম ও খতিবদের উচিত—ধর্মীয় সমালোচনার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে বলা যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মব সহিংসতার বিস্তার মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই দেশে অন্তত ৮৮টি মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জোবাইদা নাসরীন বলেন, “ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার কারণে সরকারসহ সব দলই এ ধরনের ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপে দ্বিধাগ্রস্ত।”  সরকারের স্বীকারোক্তি এই প্রেক্ষাপটে সরকারের অবস্থানও প্রশ্নের মুখে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান স্বীকার করেছেন, মব সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ঠেকানো সরকারের দায়িত্ব ছিল, এবং আমরা ব্যর্থ হয়েছি। তবে এখন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।” সরকার আইনের কঠোর প্রয়োগের কথা বললেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে এবং কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। একটি বিপজ্জনক ধারা কুষ্টিয়ার এই ঘটনা দেখায়, কীভাবে গুজব, বিকৃত তথ্য, ধর্মীয় আবেগ এবং সংগঠিত স্বার্থ একত্রে সহিংসতার জন্ম দেয়। আলোচনার সুযোগ না দিয়ে সরাসরি আক্রমণে যাওয়ার এই প্রবণতা শুধু আইনের শাসনকেই চ্যালেঞ্জ করছে না—বরং সামাজিক সহাবস্থানের ভিত্তিকেও দুর্বল করছে। যদি দ্রুত ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ‘ধর্ম রক্ষার’ নামে এই সহিংসতা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পরিকল্পিত হামলায় পীর শামীমকে পিটিয়ে হত্যা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পরিকল্পিত হামলায় পীর শামীমকে পিটিয়ে হত্যা :দাবি ভক্তদের, দাফন সম্পন্ন

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’-এ ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দরবারের প্রধান পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম রেজাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় দরবারের আরও তিন ভক্ত—মহন আলী, জামিরুন ও জুবায়ের গুরুতর আহত হন। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বাদ আছর স্থানীয় কবরস্থানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।  এখনো মামলা হয়নি ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। নিহতের বড়ভাই ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, পারিবারিক আলোচনা শেষে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।  হামলার কারণ কী? স্থানীয়দের দাবি, ইসলাম ও কোরআন অবমাননার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা এ হামলা চালায়। অন্যদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।  পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ নিহতের পরিবার ও অনুসারীদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হামলা। পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে উত্তেজনা তৈরি করা হয় এবং পরে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়।  আগের বিতর্ক জানা যায়, ২০১৮ সালে নিজ বাড়িতে দরবার প্রতিষ্ঠা করেন শামীম রেজা। ২০২১ সালে একটি শিশুর লাশ বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে দাফনের ভিডিও ভাইরাল হলে তিনি আলোচনায় আসেন। ওই ঘটনায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি মামলাও হয়েছিল এবং তিনি কিছুদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান।  প্রশাসনের বক্তব্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন বলেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও জনতার তুলনায় সংখ্যা কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদ বাচ্চু বলেন, “ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থাকলে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। এভাবে আইন হাতে তুলে নিয়ে মানুষ হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
শাহবাগে নাগরিক ও শিক্ষকদের ওপর হামলা (বামে) এবং কুষ্টিয়ায় মাজার ভাঙচুর ও ‘পীর’ শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে হত্যা।
বাংলাদেশে বাড়ছে মব সহিংসতা: কুষ্টিয়া ও শাহবাগের ঘটনায় নতুন উদ্বেগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে উদ্বেগজনকভাবে আবারও সামনে এসেছে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণপিটুনির বাস্তবতা। সাম্প্রতিক দুটি ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশে কি এ ধরনের সহিংসতা থামছেই না? বাংলাদেশে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণপিটুনির প্রবণতা কমছে—এমন সরকারি আশ্বাসের বিপরীতে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কুষ্টিয়া ও রাজধানী ঢাকার শাহবাগে সংঘটিত দুটি পৃথক ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, জনতার তাৎক্ষণিক বিচার ও সহিংস প্রতিক্রিয়া এখনো উদ্বেগজনকভাবে সক্রিয়।  দুটি ঘটনা, একই প্রবণতা গত ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তিকে ‘পীর’ পরিচয়ে প্রতারণা এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে স্থানীয় জনতা পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই প্রাণহানি ঘটে। এর মাত্র একদিন আগে, ১০ এপ্রিল, রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামিতার অভিযোগ তুলে একদল নারী-পুরুষের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাটি শুধু সহিংসতার নয়, বরং সামাজিক অসহিষ্ণুতার একটি জটিল প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সরকারি বক্তব্য বনাম বাস্তবতা জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ একাধিকবার বলেছেন, দেশে ‘মব কালচার’ শেষ হয়ে এসেছে। এমনকি জাতীয় সংসদেও তিনি জোর দিয়ে বলেন, “মবের মাধ্যমে দাবি আদায়ের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।” কিন্তু মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে চুরি, ছিনতাই, ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে গণপিটুনির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।  সংখ্যা যা উদ্বেগ বাড়ায় মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী: শুধু মার্চ মাসেই ২৫টি মব সহিংসতার ঘটনায় নিহত ১৩ জন, আহত ৩৮ জন গত তিন মাসে ৮৮টি ঘটনায় নিহত ৪৯ জন, আহত ৮০ জন অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা যায়: ২০২৫ সালে গণপিটুনিতে নিহত ১৯৭ জন ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১২৮ অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে এই সহিংসতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন বাড়ছে মব সহিংসতা? অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; বরং বহুমাত্রিক সামাজিক সংকটের ফল। তার মতে, “বিচারহীনতার সংস্কৃতি, রাজনৈতিক মেরুকরণ, সামাজিক অসহিষ্ণুতা এবং অনলাইন গুজব—এই চারটি কারণ মব ভায়োলেন্সকে উসকে দিচ্ছে।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য ছড়িয়ে পড়া জনমনে দ্রুত উত্তেজনা তৈরি করছে, যা মুহূর্তেই সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। আইন প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সহিংসতা চরমে পৌঁছে যাচ্ছে। এমনকি কোথাও কোথাও উপস্থিত থাকলেও উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম স্বীকার করেছেন, “মব ভায়োলেন্স পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।” তবে তিনি জানান, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকার ও সামাজিক ঝুঁকি মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করে বলছেন, এই প্রবণতা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, বরং সামগ্রিক সামাজিক স্থিতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্যও হুমকি। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা মৌলিক অধিকার। মব সহিংসতা এই অধিকারকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে।” সমাধানের পথ কোথায়? বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল আইন প্রয়োগ নয়—সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধান খুঁজতে হবে। মূল সুপারিশগুলো হলো: দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করা গুজব প্রতিরোধে কার্যকর ডিজিটাল মনিটরিং জনসচেতনতা বৃদ্ধি সামাজিক সহনশীলতা ও আইনের প্রতি আস্থা পুনর্গঠন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্বেগ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাজার ভাঙচুর ও ‘পীর’ শামীম রেজা জাহাঙ্গীর হত্যা এবং রাজধানীর শাহবাগে নাগরিক ও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। রোববার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের বিচার দাবি করেছে। বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, দিনের আলোতে মানুষ হত্যা ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্নের ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। কুষ্টিয়ার ফিলিপনগরে শামীম রেজার আস্তানায় হামলা ও তাকে হত্যার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির মতে, সম্প্রতি দেশে মব জাস্টিস বা গণপিটুনির প্রবণতা বেড়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও এ ধরণের সহিংসতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। এমনকি শাহবাগের ঘটনায় মামলা করতে গিয়েও ভুক্তভোগীরা অসহযোগিতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   মাঠ পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে কমিটির পক্ষ থেকে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো কুষ্টিয়ার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা। শাহবাগের ঘটনায় অভিযুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনা। ভিন্নমত ও লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ধর্মীয় দোহাই দিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরিকারীদের আইনের আওতায় আনা। সবার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া। মব সহিংসতা একটি পুনরাবৃত্ত সামাজিক সংকেত বাংলাদেশে মব সহিংসতা এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি পুনরাবৃত্ত সামাজিক সংকেত। রাষ্ট্র যদি দ্রুত, দৃঢ় এবং বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আইনের শাসন ও নাগরিক নিরাপত্তার জন্য আরও বড় সংকটে রূপ নিতে পারে।    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0